শিক্ষা

বিষয় ৩: জল ও আত্মার সুসমাচার

[3-4] (১ পিতর ৩: ২০ – ২২ পদ) যীশুর বাপ্তিস্ম পাপীর পরিত্রাণের প্রতিরূপ

(১ পিতর ৩: ২০ – ২২ পদ)
 ‘‘যাহার পূর্বকালে, নোহের সময়ে, জাহাজ প্রস্তুত হইতে হইতে যখন ঈশ্বরের দীর্ঘসহিষ্ণুতা বিলম্ব করিতেছিল, তখন অবাধ্য ছিল। সেই জাহাজে অল্প লোক, অর্থাৎ আটটি প্রাণ, জল দ্বারা রক্ষা পাইয়াছিল। আর এখন ইহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম- অর্থাৎ মাংসের মালিনত্যাগ নয়, কিন্তু ঈশ্বরের নিকট সৎসংবেদের নিবেদন-তাহাই যীশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা তোমাদিগকে পরিত্রাণ করে।”
 
 
কিসের মাধ্যমে আমরা
ধার্মিক গণিত হয়েছি?
ঈশ্বরের অনুগ্রহ
 
 আমরা এই পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণের আগে থেকেই ঈশ্বর আমাদের জানতেন। তিনি জানতেন যে আমরা পাপী হিসাবে জন্ম গ্রহণ করব। এই জন্য তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে সকল পাপ তুলে নিলেন এবং বিশ্বাসীদের উদ্ধার করলেন। বিশ্বাসীদের উদ্ধার করে নিজের সন্তান করলেন।
 এসব ঈশ্বরের অনুগ্রহের ফল। গীতসংহিতায় যেমন লেখা আছে, ‘‘মনুষ্য কি যে তুমি তার স্মরণ লও?” যারা পাপ থেকে মুক্ত হয়ে তাঁর অনুগ্রহ পেয়েছে, তারা তাঁর বিশেষ প্রেম পেয়েছে। তারা তাঁর সন্তান।
       শুধুমাত্র জল ও আত্মায় বিশ্বাস করে ঈশ্বরের সন্তান হওয়ার পূর্বে, ধার্মিকগণিত হওয়ার পূর্বে, পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার পূর্বে এবং তাঁকে পিতা হিসাবে ডাকার অধিকার পাওয়ার পূর্বে আমরা কি ছিলাম? আমরা পাপী ছিলাম। এই জগতে ৬০-৭০ বছর, বড়জোর ৭০-৮০ বছর বাঁচার জন্য জন্ম গ্রহণ করেছি।
 আমাদের পাপ ধৌত হওয়ার পূর্বে, যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তের সুসমাচারে বিশ্বাসী করার পূর্বে আমরা অধার্মিক ছিলাম, নিশ্চিত ধ্বংসের পথে যাচ্ছিলাম।
 প্রেরিত পৌল বলেন, তিনি যা ছিলেন তা ঈশ্বরের অনুগ্রহে ছিলেন। আমরা যা আছি তার জন্য ঈশ্বরের অনুগ্রহের ধন্যবাদ করি। তাঁর করুণার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দেই। সৃষ্টিকর্তা নিজেই পৃথিবীতে নেমে এলেন এবং আমাদিগকে রক্ষা করলেন। তাঁর সন্তান ও তাঁর প্রজা করলেন। তাঁর অনুগ্রহের জল ও আত্মার সুসমাচারের জন্য আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
 কি কারণে তিনি আমাদের তাঁর সন্তান করলেন, ধার্মিক গণিত করলেন? আমরা দেখতে সুন্দর এই জন্য কি? আমরা খুব মুল্যবান এই জন্য কি? অথবা এই জন্য কি যে আমরা খুব ভাল? আসুন আমরা এই বিষয়ে চিন্তা করি এবং যার যা প্রাপ্য তাকে তা দেই।
আমাদিগকে তাঁর প্রজা করার জন্য এবং আমরা যেন তাঁর সাথে স্বর্গেরাজ্যে একত্রে বাস করতে পারি এই জন্য ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করছেন। আমরা যেন চিরকাল তাঁর সঙ্গে থাকতে পারি এই জন্য ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন। অন্য আর কোন উদ্দেশ্যে ঈশ্বর আমাদিগকে অনন্ত জীবন দিয়ে আশীর্বাদ করেন নাই। আমরা অন্যদের চেয়ে দেখতে সুন্দর, বেশী মুল্যবান, অথবা বেশী পবিত্র জীবন যাপন করি এই কারণে তিনি আমাদের তাঁর প্রজা করেছেন, তা নয়। এর একমাত্র কারণ তিনি আমাদের প্রেম করেন। ‘‘এখন উহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম … যা তোমাদিগকে পরিত্রাণ করে” (১ পিতর ৩ : ২১ পদ)। ‘‘সেই জাহাজে অল্প লোক, অর্থাৎ আটটি প্রাণ, জল দ্বারা রক্ষা পাইয়াছিল” (১ পিতর ৩ : ২০ )।
 অল্প লোক, সারা শহরে একজন এবং এক পরিবারের দুই জন রক্ষা পেয়েছে। আমরা কি তাদের চেয়ে কোন অংশে ভাল? মোটেই না। আমরা বিশেষ কেউ নই, কিন্তু জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করার মাধ্যমে আমরা রক্ষা পেয়েছি।
 আমরা যে রক্ষা পেয়েছি তা অলৌকিকের চেয়েও অলৌকিক কাজ। এই ঈশ্বরের নিঃশর্ত দান এবং কখনও অস্বীকার করতে পারি না। যদি আমরা পাপীই থাকি, তাহলে কি ভাবে তাঁকে আমাদের পিতা, বা প্রভু বলে ডাকতে পারি?
যখন আমরা বুঝতে পারি যে আমরা পাপ থেকে উদ্ধার পেয়েছি তখন আমরা তাঁর প্রেম উপলদ্ধি করতে পারি। আমরা কি তাঁকে ধন্যবাদ দিতে পারি না? তাঁর প্রেম, তাঁর আশীর্বাদ না পেলে আমাদের জন্ম ও বেঁচে থাকা অর্থহীন হত। এবং আমরা নরকে যেতাম। তাঁর আশীর্বাদ এবং প্রেম আমাদিগকে তাঁর সন্তান হওয়ার অধিকার দিয়েছে এবং তাঁর দৃষ্টিতে আমাদিগকে মূল্যবান করেছে, এইজন্য আমরা তার ধন্যবাদ জানাই।
 
 
যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদিগকে মূল্যবান পরিত্রান দান করা হয়েছে
 
নোহের সময়ে লোকেরা
কেন ধ্বংস হল?
কারণ তারা জল (যীশুর বাপ্তিস্ম) এ
বিশ্বাস করে নাই
 
 আর এখন পরিত্রাণের প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম, যা আমাদিগকে পাপ থেকে উদ্ধার করে। ১ পিতরে লেখা আছে যে, মাত্র আটটি আত্মা জল দ্বারা রক্ষা পেয়েছিল। নোহের সময়ে কত লোক ছিল? আমরা তা কোন ভাবে জানতে পারি না। কিন্তু মনে করুণ তখন ১০ লক্ষ লোক ছিল। এই ১০ লক্ষ লোকের মধ্যে মাত্র নোহের পরিবারের আট জন লোক রক্ষা পেয়েছিল।
 বর্তমান কালের অনুপাতও ঐ একই রকম হবে। বর্তমানে পৃথিবীতে পাঁচশত কোটির ও বেশী মানুষ আছে। তাদের মধ্যে যীশুতে বিশ্বাস করে এমন কত জোন লোক আছে, যারা পাপ থেকে ধৌত হয়েছে? আমরা যদি শুধু একটি শহরের হিসাবে নেই, তাহলে অল্প লোক খুঁজে পাব।
 এক শহরে যদি ২৫০,০০০ লোক থাকে, তাদের মধ্যে কত জন পাপের ক্ষমা পেয়েছে- সম্ভবত: ২০০ জন? তা হলে অনুপাত কি হবে? অর্থাৎ হাজারের মধ্যে একজনেরও কম পরিত্রাণের আশীর্বাদ পেয়েছে। কোরিয়াতে ক্যাথলিক সহ এক কোটি বিশ লক্ষ খ্রীষ্টিয়ান বাস করে। তাদের মধ্যে কতজন জল ও আত্মার সুসমাচার পেয়েছে? মনে রাখতে হবে নোহের সময়ে এক লক্ষ লোকের মধ্যে থেকে মাত্র আটজন লোক রক্ষা পেয়েছিল। আমাদের মনে রাখতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে যীশুর বাপ্তিস্মে যারা বিশ্বাস করে, যীশু তাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন। তাঁর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় রক্তে, যীশু আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করেছেন, - খুব কম লোক এই সত্য বিশ্বাস করে। ‘‘যীশুর পুনরুত্থান” ছবিতে কতজন লোক পুনরুত্থিত হয়েছে বলে দেখান হয়েছে। আমরা দেখতে পাই তারা যিরুশালেমের প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে দুই হস্ত প্রসারিত করে যীশুর দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের মধ্যে কতজন ধর্মতত্ত্ববিদ ছিলেন?
 বর্তমান পৃথিবীতে অনেক ধর্মতত্ত্ববিদ আছেন, যাদের মধ্যে খুব অল্প জনাই যীশুর প্রায়শ্চিত্তের বাপ্তিস্ম সম্পর্কে জানে এবং তাতে বিশ্বাস করে। অনেক ধর্মতত্ত্ববিদ বলে, যীশু নম্র ছিলেন বিধার তিনি বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন, আবার অনেকে বলে অন্য মানুষের মত হওয়ার জন্য বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন। কিন্তু বাইবেলের লেখা আছে যে, পিতর এবং যোহন সহ সব প্রেরিতগণই বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশুর উপর পাপ অর্পণ হওয়ার বিষয় সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তারা তা বিশ্বাস করতেন।       
       শাস্ত্রে প্রেরিতগণ এই সাক্ষ্য দেন যে, বাপ্তিস্মে যীশুর উপর সমস্ত পাপ অর্পণ করা হয়েছে। ঈশ্বরের অনুগ্রহের এটা এমন এক বিস্ময়কর সাক্ষ্য যে যখনই আমরা তাঁতে বিশ্বাস করি তখনই পাপ থেকে মুক্ত হই।
 
 
প্রায়শ্চিত্তের বাপ্তিস্মের কোন ‘সম্ভবত’: নাই
 
ঈশ্বরের সিমাহীন প্রেম কে পায়?
যে ব্যক্তি যীশুর বাপ্তিস্ম ও
রক্তে বিশ্বাস করে
   
 আমাদের ধারনা শুধু যীশুকে বিশ্বাস করলে আমরা পাপ থেকে মুক্ত হয়ে যাব। প্রত্যেক মন্ডলীর পরিত্রাণ সমম্ন্ধে নিজের একটা ধারনা আছে, যীশুর বাপ্তিস্ম সম্পর্কে তাদের ধারনা সাধারণের মতই।
 কিন্তু এটা সত্য নয়। আমি কয়েক হাজার বই পড়েছি, তাদের মধ্যে একটিও বই পাই নাই যেখানে যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশীয় রক্তকে সম্পর্কিত হিসাবে দেখান হয়েছে।
 নোহের সময় মাত্র আটজন রক্ষা পেয়েছিল। বর্তমানে কতজন রক্ষা পাবে আমি জানি না। সম্ভবত বেশি নয়। যারা যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তে বিশ্বাস করে তারাই কেবল রক্ষা পাবে। অনেক মন্ডলী ঘুরে আমি বার বার একটি বিষয় দেখেছি যে খুব কম মন্ডলীতে সত্য সুসমাচার অর্থাৎ যীশুর বাপ্তিস্মের সুসমাচার প্রচার করা হয়। আমরা যদি যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তের সুসমাচারে বিশ্বাসী না করি আমরা পাপী থেকে যাব (যত নিয়মিত এবং বিশ্বস্তভাবে গির্জায় যোগ দেই না কেন)। সারা জীবন আমরা বিশ্বস্তভাবে মন্ডলীতে যোগ দিতে পারি ।তারপরেও আমাদের হৃদয়ে পাপ থাকতে পারে, আমরা পাপী থাকতে পারি।
 পঞ্চাশ বছর আমরা গির্জায় যোগ দিয়েছি কিন্তু তার পরেও আমাদের হৃদয়ে পাপ রয়েছে? তাহলে এই পঞ্চাশ বছরের বিশ্বাস একটা ভ্রান্ত বিশ্বাস। এর চেয়ে সত্যিকার বিশ্বাসের একদিনের জীবন অনেক ভাল। যারা যীশুকে বিশ্বাস করে তাদের মধ্যে যারা প্রকৃত যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তে তাৎপর্যে বিশ্বাস করে, তারা স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে।
 প্রকৃত বিশ্বাস হল, ঈশ্বরের পুত্র এই জগতে নেমে এসেছিলেন এবং বাপ্তিস্ম দ্বারা জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন – এই সত্যে বিশ্বাস। এই বিশ্বাসই স্বর্গরাজ্যের দিকে চালিত করে। আমাদের এটাও বিশ্বাস করা উচিত যে আপনার এবং আমার জন্য যীশু ক্রুশে রক্ত দিয়েছেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য আমাদের এটা জানা উচিত।
 আমরা কারা? আমরা মনুষ্য সন্তান, যাদের তিনি তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্তের মাধ্যমে উদ্ধার করেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ না দিয়ে আমরা কিভাবে পারব। আমাদের রক্ষা করার জন্য যীশু ৩০ বছর বয়সে যর্দ্দনে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন। এবং ক্রুশে আমাদের পক্ষে বিচারিত হয়েছেন।
 এ বিষয়ে চিন্তা করলে আমরা বিনীতভাবে তাঁর ধন্যবাদ না দিয়ে পারি না। আমাদের জানা উচিত, এই পৃথিবীতে যীশু যা কিছু করেছিলেন সবই আমাদের পরিত্রাণের জন্য করেছেন। প্রথমত তিনি পৃথিবীতে এলেন, বাপ্তাইজিত হলেন, ক্রুশবিদ্ধ হলেন, তৃতীয় দিবসে পুনরুত্থিত হলেন এবং এখন ঈশ্বরের দক্ষিণে বসে আছেন।
 নিঃর্বিশেষে প্রত্যেকের জন্যই ঈশ্বরের প্রায়শ্চিত্ত সাধন করা হয়েছে। আপনার এবং আমরা জন্য দেওয়া ঈশ্বরের এই পরিত্রাণ। তাঁর পরিত্রাণ ও তাঁর আশীর্বাদের জন্য আমরা তাঁর প্রশংসা করি।
 সুসমাচার সম্পর্কিত এই রকম একটা গান আছে। ‘‘ একটা সুন্দর গল্প আছে। পৃথিবীতে অনেক লোকের মধ্যে আমি একজন তাঁর প্রেম ও পরিত্রাণ পেয়েছি। তাঁর প্রেম কি বিস্মকর! আমার জন্য তাঁর প্রেম, আমার জন্য তাঁর প্রেম। একটা সুন্দর গল্প আছে জগতে অনেক লোকের মাঝে আমরা উদ্ধার পেয়েছি, আমরা তাঁর প্রজা হয়েছি। আমরা তাঁর প্রেম পরিধান করেছি। ঈশ্বরের প্রেম ঈশ্বরের অনুগ্রহ। কি বিস্মকর তাঁর প্রেম! আমার জন্য তাঁর প্রেম।”
 আপনাকে এবং আমাকে উদ্ধার করার জন্য তিনি পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন। এবং পাপ থেকে মুক্তির জন্য তাঁর বাপ্তিস্মও আপনার এবং আমার জন্য। সুসমাচার কোন রূপকথার গল্প নয়, এটা সেই সত্য যা আমাদের নিরস একঘেঁয়ে জীবনকে ঈশ্বরের সুন্দর রাজ্যে আনয়ন করে। ঈশ্বর এবং আপনার মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক। আমাদিগকে উদ্ধার করার জন্য তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন। আমাদের পাপ ধৌত করার জন্য তিনি বাপ্তাইজিত হলেন এবং আমাদের পক্ষে ক্রুশে বিচারিত হলেন। ঈশ্বরকে পিতা সম্বোধন করতে পারা কতনা আশীর্বাদের বিষয়! আমার কিভাবে যীশুকে বিশ্বাস করতে পারি এবং বিশ্বাসে পাপ থেকে মুক্ত হতে পারি? তাঁর অযাচিত প্রেমের কারণে আমরা তা পারি। তিনি প্রথমে আমাদের প্রেম করেছেন বলেই আমরা পাপ থেকে মুক্ত হয়েছি।
 
 
আমাদের সকল পাপ যীশু চিরকালের তরে একেবারে ধুয়ে দিয়েছেন
 
‘‘কারণ খ্রীষ্টও একবার পাপসমুহের জন্য দুঃখভোগ করিয়াছিলেন সেই ধার্মিক ব্যক্তিখ্রীষ্টের অধার্মিকদের নিমিত্ত- যেন আমাদিগকে ঈশ্বরের নিকট লইয়া যান। তিনি মাংসে হত, কিন্তু আত্মায় জীবিত হইলেন।”(১ পিতর ৩ : ১৮ পদ) আপনার এবং আমার মত অধার্মিক এবং পাপীদের পক্ষে প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য, আমাদের উদ্ধার করার জন্য যীশু খ্রীষ্ট বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং একবারই ক্রুশীয় মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
 
আমরা কি একবারই পাপমুক্ত হই,
নাকি ক্রমান্বয়ে পাপমুক্ত হই?
একবারেই
 
 আমাদের পাপের জন্য আমরা যেন ঈশ্বরের বিচার এড়াতে পারি, তাই যীশু আমার পক্ষে একবারই মরলেন। তিনি মাংসময় দেহে এই পৃথিবীতে এলেন এবং তাঁর বাপ্তিস্ম, ক্রুশীয় মৃত্যুর এবং তাঁর পুনরুত্থান দ্বারা সমস্ত পাপ থেকে আমাদের মুক্ত করলেন, যেন আমরা স্বর্গরাজ্যে ঈশ্বরের সাক্ষাতে থাকতে পারি।
 আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, যীশু তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্ত দ্বারা আমাদিগকে পাপ থেকে সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার করেছেন? তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্তের সুসমাচারে বিশ্বাস না করলে আপনি উদ্ধার পাবেন না। আমরা খুবই দূর্বল, তাই আমরা যদি বিশ্বাস না করি যে, তিনি তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্ত দ্বারা আমাদিগকে সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার করেছেন, তবে আমরা নিজেরা নূতন জন্ম লাভ করতে পারি না।
 আমরা মানুষ তাই প্রতিটি পাপের জন্য প্রতিবার অনুতাপ করে ভাল হওয়া বা পরোপকারী হওয়া মন্ডলীতে অনেককিছু দান করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।
 তাই পরিত্রাণ পাবার জন্য যীশুর বাপ্তিস্ম এবং তাঁর ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস করা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক নূতন জন্ম পাবার জন্য শুধু ভাল কাজ করলেই হবে না।
 গরীবদের জন্য বাড়ী কিনে দেওয়া বা পালকদের ভাল ভাল খাওয়ানোতে কোন লাভ নেই। যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তে যারা বিশ্বাস করে তাদেরকেই যীশু উদ্ধার করেন। যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তে একবারেই ঈশ্বর আমাদের উদ্ধার করেছেন, - এই বিশ্বাসেই আমরা পরিত্রাণ পাই।
 অনেকের ধারনা–যদিও ঈশ্বর পরিত্রাণের জন্য বাইবেলে আমাদের জন্য এই পথটি নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এর সাথে আরও চিন্তা যোগ করা উচিত। এটা তাদের বিষয়। কিন্তু তাঁর লিখিত বাক্যেই আমাদের বিশ্বাস করা উচিত।
 ইব্রীয় ১০ : ১–১০ পদে বলা হয়েছে যে, তিনি আমাদের একবারেই উদ্ধার করেছেন। এটা সত্য যে, যারা যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তে বিশ্বাস করে, তাদের ঈশ্বর একবারই উদ্ধার করেছেন। এই গানটির মত করে আমাদের বিশ্বাস করা উচিত, ‘‘তিনি একবার মরলেন, আমাদের সকলকে একবারই রক্ষা করলেন! হে ভ্রাতৃগণ বিশ্বাস ক’রে পাপমুক্ত হও। যীশুর বাপ্তিস্মের নিচে তোমার বোঝা ফেলে দাও।” একবার বাপ্তিস্ম নিয়ে, একবার রক্ত সেচন করে যীশু আমাদের সকলকে একবারে আমাদের পাপ ও অধর্ম থেকে মুক্ত করেছেন।
 ‘‘ধার্মিক ব্যক্তি অধার্মিকদের নিমিত্ত” (১ পিতর ৩:৩৮)। যীশু নিষ্পাপ ঈশ্বর, যিনি কখনও পাপ করেননি। মানুষকে পাপ থেকে উদ্ধার করার জন্য তিনি মাংসময় দেহে নেমে এলেন। তিনি বাপ্তাইজিত হলেন এবং অধার্মিকদের পাপ তুলে নিলেন। পাপ ও অধর্ম থেকে আমাদের উদ্ধার করলেন।
 যীশুর বাপ্তিস্মের সময়ে, পাপীর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পণ করা হলো এবং ক্রুশে রক্তসেচন ও মৃত্যুর মাধ্যমে তিনি পাপীকে বিচার থেকে রক্ষা করলেন। পাপীদের জন্য বাপ্তাইজিত হলেন এবং পাপীদের পক্ষে মৃত্যু বরণ করলেন।
 এটাই বাপ্তিস্মের প্রায়শ্চিত্ত।আমরা যারা পাপী ছিলাম, আমাদের সকলকে যীশু একবারেই উদ্ধার করলেন। আমরা প্রত্যেকে ভীষণ দূর্বল। যীশু ক্রুশে বিচারিত হওয়ার সময়ে আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কৃত সমস্ত পাপ থেকে আমাদের উদ্ধার করলেন। যারা আমরা যীশুকে বিশ্বাস করি, তাদের এই বিশ্বাস করা উচিত যে, একেবারেই তাঁর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশীয় মৃত্যু দ্বারা তিনি আমাদের উদ্ধার করছেন। আমার দূর্বল কিন্তু যীশু দূর্বল নন। আমরা বিশ্বস্ত নই, কিন্তু তিনি বিশ্বস্ত। ঈশ্বর একবারেই আমাদের উদ্ধার করলেন। ‘‘কারণ ঈশ্বর জগতকে এমন প্রেম করলেন, যে আপনার একজাত পুত্রকে দান করলেন; যেন যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অন্তন জীবন পায়” (যোহন ৩:১৬ পদ)। ঈশ্বর তাঁর একজাত পুত্রকে আমাদের জন্য দিলেন। যেন তাঁর পুত্র সকল মানুষের পক্ষে ক্রুশে বিচারিত হন এজন্য ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে উপর সমস্ত পাপ অর্পণের অনুমোদন করলেন।
 বিস্ময়কর পরিত্রাণ! বিস্ময়কর প্রেম, তাঁর প্রেম ও পরিত্রাণের জন্য আমরা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। যীশুর জল ও বাপ্তিস্মে যে বিশ্বাস করে, ঈশ্বর তাকে উদ্ধার করেন, অর্থাৎ যীশুর বাপ্তিস্ম ও যীশু যে তাঁর পুত্র এই সত্য বিশ্বাস করে, ঈশ্বর তাকে উদ্ধার করেন।
 সুতরাং যীশুতে যারা বিশ্বাস করে, যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তে তাদের বিশ্বাস করা উচিত; তাহলেই তারা উদ্ধার পাবে এবং অনন্ত জীবন পেয়ে ধার্মিকগণিত হবে। আমাদের সকলকে এটা বিশ্বাস করতে হবে।
কে আমাদের উদ্ধার করেছেন? ঈশ্বর নিজেই, নাকি তাঁর কোন সৃষ্টি আমাদের উদ্ধার করেছে? যীশু, যিনি ঈশ্বরও, তিনি আমাদের উদ্ধার করেছেন। প্রায়শ্চিত্তে, ঈশ্বরের প্রায়শ্চিত্তের পরিত্রাণে বিশ্বাস করেই আমরা উদ্ধার পেয়েছি।
 
 
যীশুই পরিত্রাণের প্রভু
 
‘‘খ্রীষ্ট অর্থ কি?”
যাজক, রাজা, ভাববাদী
 
 যীশুই ঈশ্বর, যীশু মানে ত্রাণকর্তা, খ্রীষ্ট মানে ‘অভিষিক্ত’। পুরাতন নিয়মে শমূয়েল যেমন শৌলকে অভিষেক করেছিলেন; রাজাদের অভিষেক করা হতো, যাজকদের অভিষেক করা হতো, ভাববাদী হিসাবে ভাববাণী বলার জন্য ভাববাদীদের অভিষেক করা হতো।
 যীশু পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং তিনি কর্তব্য পালনের জন্য অভিষিক্ত হয়েছিলেন। একাধারে যাজক, রাজা ও ভাববাদীর কর্তব্য পালনের জন্য অভিষিক্ত হয়েছিলেন। স্বর্গীয় যাজক হিসাবে সমস্ত সৃষ্টির পাপ নিজের কাঁধে নেওয়ার জন্য তিনি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন।
 পিতার ইচ্ছা পালনের উদ্দেশে, পাপার্থক বলিরূপে পিতর সাক্ষাতে নিজেকে উপস্থিত করলেন। ‘‘আমি পথ সত্য ও জীবন। আমাদিয়া না আসিলে কেহ পিতার নিকট যাইতে পারেনা।” আমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করি যে, বাপ্তিস্মে যীশু সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন এবং আমাদের পাপের জন্য ক্রুশীয় মৃত্যু দ্বারা আমাদের পক্ষে বিচারিত হয়েছেন, যীশু তাদেরকে উদ্ধার করেছেন।
 ‘‘কেননা রক্তের মধ্যেই শরীরের প্রাণ থাকে” (লেবীয় ১৭ : ১১ পদ)। বাপ্তিস্ম গ্রহণের পর যীশু ক্রুশে রক্তসেচন করেছিলেন, এই ভাবে ঈশ্বরের সাক্ষাতে নিজেকে আমাদের পাপের মূল্য রূপে উৎসর্গ করলেন, যেন আমরা যারা বিশ্বাস করি তারা উদ্ধার পাই।
ক্রুশে মৃত্যুবরণের তিন দিন পর তিনি পুনরুত্থিত হলেন এবং কারাবন্দী আত্মাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করলেন। যারা এখনও পাপের মুক্তি পায়নি, তারা পাপের কারায়বন্দী আছে। তাদের কাছে যীশু সত্য- সুসমাচার, জল ও রক্তের সুসমাচার প্রচার করলেন। আমাদিগকে উদ্ধার করার জন্যই ঈশ্বর জল ও আত্মার সুসমাচার দান করেছেন। যে কেউ এই সত্যে বিশ্বাস করে, সে নুতন জন্ম লাভ করে।
 
 
যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্ত পাপীকে উদ্ধার করে
 
১পিতর ৩ : ২১ পদে বলা হয়েছে যে, যীশু খ্রিষ্ট আমাদের ত্রাণকর্তা। আর এখন উহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম (মাংসের মালিন্য ত্যাগ নয়, কিন্তু ঈশ্বরের নিকটে সৎসংবেদের নিবেদন); পাপীর পরিত্রাণের জন্য যীশুর বাপ্তিস্মে জল একটি অপরিহার্য বিষয়।
 
ঈশ্বরের কাছে আমরা
কিভাবে সৎসংবেদ পেতে পারি?
যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে
বিশ্বাসের মাধ্যমে
 
 বাপ্তিস্মের সময়ে পাপীদের সমস্ত পাপ নিজ কাঁধে নিয়ে যীশু সমস্ত পাপ ধুয়ে দিলেন। যীশুর বাপ্তিস্ম কি আপনি বিশ্বাস করেন? যীশুর বাপ্তিস্মে আমাদের সমস্ত পাপ ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে গেছে, তাকি আপনি বিশ্বাস করেন? আমাদের হৃদয় ধৌত পরিষ্কৃত হয়ে গেছে, কিন্তু মাংস এখনও পাপ করে।
 ‘কেউ পাপ মুক্ত হয়েছে’-তার মানে এই নয় যে, সে আর পাপ করে না। আমরা পাপ করি। তাঁর বাপ্তিস্মের বিশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের হৃদয় পাপমুক্ত থাকে। তার অর্থ এই নয় যে, ‘‘মাংসের মলিনত্যাগ নয়, কিন্তু ঈশ্বরের নিকটে সৎসংবেদের নিবেদন” (১পিতর ৩ : ২১ পদ)।
 যখন যীশু আমার পাপ ধুয়ে দিলেন, আমার বিচার ঈশ্বর নিজে গ্রহণ করলেন, তখন তাঁকে বিশ্বাস না করে পারি? যখন জানতে পারছি যে, যীশু তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্ত দ্বারা আমার সমস্ত পাপ থেকে আমাকে উদ্ধার করেছেন, তখন তাঁকে বিশ্বাস না করে পারি কিভাবে! আমরা ঈশ্বরের সাক্ষাতে রক্ষা পেয়েছি, আমাদের বিবেক পরিষ্কার। ঈশ্বর আমাদের ভালোবাসেন না বা যীশু আমাদের পাপ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করেননি, - একথা এখন আমরা বলতে পারি না।
 আমাদের বিবেক খুব সংবেদনশীল, আমরা ভুল করলেই আমাদের ভুল ধরিয়ে দেয়। আমাদের হৃদয় যদি কিছুটা অসন্তুষ্টও হয়, তথাপি যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস ছাড়া আমরা পাপ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হতে পারিনা। সৎ বিবেক লাভের জন্য এটাই একমাত্র পথ।
 বিবেক যখন অসন্তুষ্ট হয়, আমরা বুঝতে পারি কিছু একটা ভুল হয়েছে। যীশুর বাপ্তিস্মের জল পাপের সমস্ত ময়লা ধুয়ে পরিষ্কার করে। বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন এবং আমাদের ধৌত পরিষ্কৃত করেছেন। প্রকৃতভাবে এই সত্য বিশ্বাস করলে আমাদের বিবেক কিভাবে পরিষ্কৃত হয়? যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে। জন্ম থেকেই প্রত্যেকের নোংরা ও ময়লা বিবেক থাকে। কিন্তু যদি বিশ্বাস করি যে, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মে আমাদের পাপ তুলে নিয়েছেন, তাহলে তার দাগ মুছে যায়।
 এটা নূতন জন্ম প্রাপ্তদের বিশ্বাস। সচেতন ভাবে স্বীকার করার মত বিষয় নয়? আমাদের বিবেক কি পরিষ্কার? সৎ জীবন যাপন করার কারণেই কি এটা পরিষ্কার? অথবা আপনি কি বিশ্বাস করেছেন যে, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আপনার পাপ তুলে নিয়েছেন, সেই জন্য পরিষ্কার? একমাত্র বিশ্বাসের মাধ্যমেই আপনি শুদ্ধ বিবেক লাভ করতে পারেন।
 জীবনের কথাও আছে, মরণের কথাও আছে! সকল মানুষের বিবেক কিভাবে পরিষ্কার করা যেতে পারে? যীশুর পূর্ণ প্রায়শ্চিত্তে বিশ্বাস করার মাধ্যমেই কেবলমাত্র ধার্মিকগনিত ও শুদ্ধ হওয়া যায়।
 যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করার মাধ্যমে যখন আমরা পবিত্র হই, তার মানে এই নয় যে, আমাদের মাংসের মালিন্য দূর হয় বা ঈশ্বরের কাছে আমরা সৎসংবেদের নিবেদন করতে পারি। সেই জন্য তিনি এলেন, বাপ্তিস্ম নিলেন, ক্রুশে হত হলেন, মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হলেন এবং এখন ঈশ্বরের দক্ষিণে বসে আছেন।
 যথাসময়ে তিনি আবার পৃথিবীতে আসবেন। ‘‘তিনি পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার, বিনা পাপে, তাহাদিগকে দর্শন দিবেন, যাহার পরিত্রাণের নিমিত্ত তাঁহার অপেক্ষা করে” (ইব্রীয় ৯:২৮ পদ)। আমরা বিশ্বাস করি, যারা আকুলভাবে তাঁর আগমনের প্রতিক্ষায় আছে, যারা তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্তে বিশ্বাস করে, তিনি তাদের নিতে আসবেন।
 
 
বিশ্বাসের ডাক্তারী পরীক্ষা
 
যীশুর বাপ্তিস্ম ছাড়া
আমরা কি উদ্ধার পেতে পারি?
কখনো না
 
 অপ্রত্যাশিতভাবে আমরা আমাদের তেজন চার্চে একটা ডাক্তারী পরীক্ষা করেছিলাম।
 রেভাঃ পার্ক তেজন চার্চের এক দম্পতিকে বললেন যে, জগতে আর পাপ নেই, কিন্তু তিনি বাপ্তিস্মের তাৎপর্য বুঝতে পারেননি। অনান্য গীর্জার পালকেরা যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে প্রায়শ্চিত্তের সুসমাচার প্রচার করতেন না, তাই স্বামীটি গীর্জার উপদেশের সময় ঘুমাত এবং প্রতিদিন পাপের জন্য ক্ষমা চাইতে তাকে জোর করা হতো।
 কিন্তু তেজন চার্চে যখন প্রচার হচ্ছিল যে, যীশুর উপরে তার সমস্ত পাপ অর্পণ করা হয়েছে, তখন সে চোখ বড় বড় করে সেই প্রচার শুনছিল। এতে তার স্ত্রীর সুবিধা হয়েছিল তাকে গীর্জায় আনার জন্য।
 একদিন গীর্জায় বসে সে রোমীয় ৮:১ পদ শুনছিল। ‘‘ফলত এখন যাহারা খ্রীষ্টে আছে, তাহাদের উপর কোন দন্ডাজ্ঞা নাই।” তৎক্ষনাত সে ভাবল, যদি কেউ যীশুতে বিশ্বাস করে সে পাপ থেকে মুক্ত হয়। যেহেতু আমি ও যীশুতে বিশ্বাস করি, তাই আমিও পাপ থেকে মুক্ত হয়েছি।
 কাজেই সে তার শ্যালককে এবং অনান্য বন্ধুদেরকে ফোন করে বললেন, ‘‘তোমদের হৃদয়ে কি পাপ আছে? তাহলে তোমাদের বিশ্বাস যর্থাথ নয়।” এ ঘটনায় রেভাঃ পার্ক বিহবল হয়ে পড়লেন। স্বামীটি যীশুর বাপ্তিস্মের তাৎপর্য জানত না, অর্থাৎ সে সবার কাছে বলে বেড়াচ্ছে যে সে পাপ মুক্ত হয়েছে।
 তারপর থেকে দম্পতিটির সমস্যা হতে লাগল। স্ত্রীটি বেশি বিশ্বাসাবলম্বী ছিল, কিন্তু তার হৃদয়ে পাপ ছিল, তার স্বামীটি কয়েকদিন মাত্র গীর্জায় যোগ দিয়েছিল, তাতেই সে পাপ থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছিল।
স্ত্রী নিশ্চিত ছিল যে, তাদের উভয়ের হৃদয়েই পাপ ছিল। এ বিষয়ের তারা তর্কাতর্কি শুরু করল। স্বামী জোর করেই নিজেকে পাপ থেকে মুক্ত বলছিল, কারণ ‘‘ যাহারা খ্রীষ্টে আছে তাহাদের প্রতি কোন দন্ডাজ্ঞা নাই।” স্ত্রী বলছিল তার নিজের হৃদয়ে এখনো পাপ রয়েছে।
কাজেই একদিন স্ত্রীটি এমন উত্তেজিত হয়ে পড়ল যে, সে পালকের কাছে গিয়ে জানতে চাইল -যীশুর উপর সমস্ত পাপ অর্পণ করা হয়েছে বলতে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন।
তারপর একদিন বিকালের গীর্জার পর সে তার স্বামীকে বাড়ী পাঠিয়ে দিয়ে রেভাঃ পার্ককে সে বলল, ‘‘আমি জানি আপনি আমাদের কিছু বলতে চেষ্টা করছেন। আমি নিশ্চিত যে, একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অপ্রকাশ্য থেকে যাচ্ছে। দয়া করে সেই বিষয়টি আমাকে বলুন।” তখন রেভাঃ পার্ক তাকে জল ও আত্মার মাধ্যমে নূতন জন্মের কথা বললেন।
তারপর সেই স্ত্রী বুঝতে পারল কেন রোমীয় ৮:১ পদে এই কথা লেখা রয়েছে, ‘‘ফলত এখন যাহারা খ্রীষ্টেতে আছে, তাহাদের উপর কোন দন্ডাজ্ঞা নাই।” তখনই সে বিশ্বাস করল এবং মুক্ত হল। সে বুঝতে পারল যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তাঁর উপর সমস্ত পাপ অর্পণ করা হয়েছে, যেন যে কেউ খ্রীষ্টে থাকে তার উপর দন্ডাজ্ঞা না থাকে।
লিখিত বাক্য গুলো সেই স্ত্রী বিশ্বাস করতে শুরু করল। অবশেষে সে বুঝতে পারল পাপ থেকে মুক্তির মূল চাবিকাঠি যীশুর বাপ্তিস্ম এবং এই বাপ্তিস্মের প্রায়শ্চিত্ত দ্বারাই পাপমুক্তি পাওয়া যায়।
স্বামী ঘরে না গিয়ে বাইরে তার জন্য অপেক্ষা করছিল। সে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল, ‘‘এখন কি তুমি পাপ মুক্ত হয়েছো?”
পালক তার স্ত্রীকে যা যা বলেছিলেন সেগুলো সে শুনল এবং নিজেই দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ল। যীশুর বাপ্তিস্মের সুসমাচার সম্পর্কে সে আগে কখনো শোনেনি। সে নিশ্চিত ছিল যে, যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস না করলেও তার হৃদয়ে পাপ ছিলনা। ঘরে ফিরে তারা আবার নিজেদের মধ্যে তর্ক শুরু করল।
এটা ছিল পূর্বের সেই ঘটনার বিপরীত। স্ত্রী স্বামীকে বারবার চাপ দিতে লাগল। স্বামীর হৃদযে কোন পাপ আছে কিনা-এ বিষয়ে। সে স্বামীর কাছে জানতে চাইলো, যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস না করে সে নিজেকে কিভাবে পাপ মুক্ত বলছে! গভীর মনোনিবেশ সহকারে স্বামীকে তার বিবেকের কাছে প্রশ্ন করতে বলল। স্বামী বিবেকের দ্বারা এবার বুঝতে পারল যে তার হৃদয়ে সত্যি সত্যি পাপ রয়েছে।
সুতরাং সে রেভাঃ পার্কের কাছে এসে স্বীকার করল যে, তার হৃদয়ে পাপ রয়েছে। সে রেভাঃ পার্ককে প্রশ্ন করল, ‘‘তারা যে পাপার্থক বলির উপর হস্তাপর্ণ করত, সেটা কি ছাগলটিকে হত্যা করার আগে করত নাকি হত্যার পরে করত?” সে আগে কখনো জল ও আত্মার সুসমাচার সম্পর্কে শোনেনি। সুতরাং সে ভয়ানক ভাবে দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ল। আত্মিক পর্যবেক্ষণের এটাই ছিল মূল পয়েন্ট। নিজের কাঁধে জগতের সমস্ত পাপ নেওয়ার জন্য যীশুকে বাপ্তাইজিত হতে হয়েছিল। তারপরেই কেবল ক্রুশে মরতে পারলেন; কারণ পাপের বেতন মৃত্যু।
‘‘হত্যা করার পূর্বে না পরে তারা বলির উপর হস্তাপর্ণ করত?” এই প্রশ্নটির কারণে সে যীশুর বাপ্তিস্ম ও হস্তার্পণ সমন্ধে দিধান্বিত ছিল। কাজেই রেভাঃ পার্ক তার কাছে যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে পাপ মুক্তির বিষয় ব্যাখ্যা করলেন।
ঐদিনই প্রথম স্বামীটি যীশুর জল ও আত্মার সুসমাচার সমন্ধে জানতে পারল এবং পাপ মুক্ত হল। একবারই মাত্র সে এই সুসমাচার শুনল এবং পাপ থেকে মুক্ত হল।
যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস ছাড়া কি হয় – এটা ছিল তারই পরীক্ষা। আমরা হয়তো বলতে পারি আমাদের কোন পাপ নেই, কিন্তু যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস না করলে হৃদয়ে পাপ থেকেই যায়। মানুষ সাধারণ বলে যে, ক্রুশীয় মৃত্যুর মাধ্যমে যীশু পাপ ধুয়ে দিয়েছেন, কিন্তু যারা কেবল যীশুর বাপ্তিস্মে ও রক্তে বিশ্বাস করে তারাই বলতে পারে ঈশ্বরের সাক্ষাতে তাদের কোন পাপ নেই।
রেভাঃপার্ক এই দম্পতির কাছে প্রমান করলেন যে, যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস না করা পর্যন্ত আমরা পাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারি না।
 
 
পরিত্রাণের প্রতিরূপ যীশুর বাপ্তিস্ম
 
পরিত্রাণের প্রতিরূপ কি?
যীশুর বাপ্তিস্ম
 
 ‘‘আর এখন উহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম, যা তোমাদিগকে পরিত্রাণ করে,” জগতের সমস্ত পাপ ধুয়ে দেওয়ার জন্য এবং আমাদের বিবেককে তুষারের মত সাদা করার জন্য যীশু এই জগতে এলেন। যীশু তাঁর বাপ্তিস্মে নিজের কাঁধে সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন বিধায় আমরা পাপ থেকে পরিষ্কৃত হয়েছি। তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্ত দ্বারা আমরা উদ্ধার পেয়েছি। সুতরাং সমস্ত সৃষ্ঠিকে তাঁর কাছে জানু পাততে হবে।
 যীশুতে বিশ্বাস করে আমরা রক্ষা পেয়েছি।যীশুতে বিশ্বাস করে আমরা ঈশ্বরের সন্তান হয়েছি এবং আমরা স্বর্গে যাব। যীশুতে বিশ্বাস করে আমরা ধার্মিকগণিত হয়েছি। আমরা রাজকীয় যাজক। ঈশ্বরকে আমরা পিতা বলে ডাকতে পারি। এই জগতে বাস করছি ঠিকই, কিন্ত আমরা রাজা।
 আপনি কি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, আমরা যারা যীশুর জল ও রক্তের প্রায়শ্চিত্তে বিশ্বাস করি, ঈশ্বর তাদের উদ্ধার করেছেন? যীশুর বাপ্তিস্ম ছাড়া আমাদের পাপ মুক্তি কখনই সম্পূর্ণ হতো না। ঈশ্বর এবং যীশু যে বিশ্বাসকে স্বীকৃতি দিয়েছেন তা হল, যীশুর তাঁর বাপ্তিস্ম, ক্রুশ ও আত্মা দ্বারা আমাদিগকে উদ্ধার করেছেন। এটাই প্রকৃত সত্য বিশ্বাস।
 যীশুর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের পাপ ধুয়ে গেছে এবং তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যু দ্বারা আমাদের পাপের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। খ্রীষ্ট যীশু জল ও আত্মা দ্বারা আমাদের উদ্ধার করেছেন। হ্যাঁ। আমরা বিশ্বাস করি।