説教集

বিষয় ৩: জল ও আত্মার সুসমাচার

[3-5] (যোহন ৩:১-৬) নূতন জন্ম সমন্ধীয় মূল সুসমাচারের অর্থ

(যোহন ৩:১-৬)
“ ফরীশীদের মধ্যে একজন ব্যক্তি ছিলেন, তাঁহার নাম নীকদীম; তিনি যিহুদীদের একজন অধ্যক্ষ৷ তিনি রাত্রিকালে যীশুর নিকটে আসিলেন, এবং তাঁহাকে কহিলেন, রব্বি, আমরা জানি, আপনি ঈশ্বরের নিকট হইতে আগত গুরু; কেননা আপনি এই যে সকল চিহ্ন-কার্য্য সাধন করিতেছেন, ঈশ্বর সহবর্তী না থাকিলে এ সকল কেহ করিতে পারে না৷ যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, সত্য,সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, নূতন জন্ম না হইলে কেহ ঈশ্বরের রাজ্য দেখিতে পায় না৷ নীকদীম তাঁহাকে কহিলেন, মনুষ্য বৃদ্ধ হইলে কেমন করিয়া তাহার জন্ম হইতে পারে? সে কি দ্বিতীয়বার মাতার গর্ভে প্রবেশ করিয়া জন্মিতে পারে? যীশু উত্তর করিলেন, সত্য, সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, যদি কেহ জল ও আত্মা হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারে না৷ মাংস হইতে যাহা জাত, তাহা মাংসই; আর আত্মা হইতে যাহা জাত, তাহা আত্মাই৷”
 
 
বাইবেল অনুসারে নূতন জন্মগ্রহণ করার অর্থ কি?
 
এই পৃথিবীতে অনেকেই আছেন, যারা শুধুমাত্র যীশুকে বিশ্বাস করেই নূতন জন্মগ্রহণ করতে চান৷ যাহোক, প্রথমত, আমি আপনাদের বলতে চাই যে, নূতন জন্মগ্রহণ করা এটা আমাদের নিজেদের উপর নির্ভর করে না, অন্য কথায়, এটা এমন কিছু যা আমাদের নিজেদের কাজের ফল থেকে আসে না৷
 
নূতন জন্ম কি শারীরিক
 কোনো পরিবর্তন ও আবেগের
 সাথে সম্পর্কযুক্ত?
না, নূতন জন্ম হচ্ছে আত্মিক পরিবর্তন
এর সাথে সম্পর্কযুক্ত পাপীর জন্য এটা
হচ্ছে পাপমুক্ত নূতন জীবন
 
অধিকাংশ খ্রীষ্টিয়ানের এই ভ্রান্ত ধারণা আছে৷ তারা বিশ্বাস করে, তারা অবশ্যই পুনরায় জন্ম লাভ করবে৷ অনেকেই এরূপ বিশ্বাস করে কারণ- তাদের মধ্যে কেউ কেউ নতুন গীর্জাঘর নির্মান করে পরিত্রাণের চেষ্টা করে, কেউ কেউ যেসব এলাকায় যীশুর কথা পৌঁছায়নি সে সব এলাকায় লোকেদের মধ্যে যীশুর বাক্য প্রচারের জন্য নিজেদেরকে মিশনারী প্রচারক হিসাবে উত্সর্গ করে, এবং এখনও অনেকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে অস্বীকার করে এবং ঈশ্বরের কাজে বিশ্বাস করে তাদের সমস্ত শক্তি ব্যয় করে৷
এটাই সব নয়৷ আরো অনেক লোক আছে যারা বড় অঙ্কের টাকা তাদের গীর্জাঘরের জন্য উত্সর্গ করে, অথবা সম্ভবত তারা প্রতিদিন গীর্জাঘরের মেঝে ঝাড়ু দেয়৷ মোটের উপর তারা গীর্জাঘরের জন্য তাদের সময় ও সম্পদ সবই উত্সর্গ করে৷ আর তারা বিশ্বাস করে এই চেষ্টা তাদের জীবন মুকুট অর্জনে সাহায্য করবে৷ তারা আশা করে ঈশ্বর তাদের কাজগুলিকে সনাক্ত করবেন এবং নূতন জন্ম পাবার অনুমোদন দেবেন৷
এভাবে উত্সর্গীকৃত অনেক লোক নূতন জন্ম পেতে চান৷সব জাযগায় এদের মতো লোক পাওয়া যায়৷ তারা কঠোর পরিশ্রম করে, আশা করে যে ঈশ্বর তাদের একদিন আশীর্বাদ করবেন এবং নূতন জন্ম পাবার অনুমোদন দেবেন৷ এদেরকে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, সেমিনারে এবং হাসপাতালে পাওয়া যায়৷ এটা এতই হতাশাজনক যে, সত্যিকার নূতন জন্ম সমন্ধে তারা জানে না৷
তাদের কাজের এই সময়টায় তারা চিন্তা করে “আমি যদি এটা সঠিকভাবে করি, তাহলে আমি নূতন জন্ম লাভ করব”৷ যার জন্য তারা তাদের সমস্ত চেষ্টা এই কাজের পিছনে প্রয়োগ করে বিশ্বাস করে যে, নূতন জন্মগ্রহনের প্রয়োজনীয় ভিত্তি তারা সস্থাপন করেছে, এবং চিন্তা করে “আমিও একদিন রেভাঃ ওয়েলেসলির মত নূতন জন্ম লাভ করব৷” যোহন ৩:৮ পদ পড়ে তারা এই পদের ব্যাখ্যা করে যে, কেউ বলতে পারে না কোথা থেকে নূতন জন্মের আশীর্বাদ আসে আর কোথায় চলে যায়৷
এজন্য, তারা শুধু কঠোর পরিশ্রম করে আশা করে যে, একদিন যীশু তাদের নূতন জন্মের অনুমোদন দেবেন৷ অনেকে, যারা চিন্তা করে, “যদি আমরা এরূপ চেষ্টা করতে থাকি, একদিন যীশু আমাকে নূতন জন্মের অনুমতি দেবেন৷ এটির বিষয়ে অবগত না হয়েই আমি নূতন জন্ম গ্রহণ করব৷ স্বাভাবিকভাবেই আমি একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠব এবং জানব যে, আমি স্বর্গের জন্য নির্বাচিত হয়েছি৷” কি ফলহীন এরূপ আশা ও বিশ্বাস!
এভাবে আমরা কখনই নূতন ভাবে জন্মগ্রহণ করতে পারি না৷ অথবা কখনই মদ, ধুমপান থেকে দুরে থেকে কিম্বা গীর্জায় নিয়মিত উপস্থিত থেকেও নূতন জন্ম গ্রহণ করতে পারি না৷ যীশু যেমন বলেছিলেন, ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে আমাদের “ জলে ও আত্মায় নূতন জন্ম গ্রহণ করতে হবে৷” নুতন জন্মের জন্য জল ও আত্মা হল ঈশ্বরের একমাত্র শর্ত৷
জল ও আত্মা হতে নূতন জন্ম গ্রহণ না করা পর্যন্ত একজনের ধার্মিক হওয়ার সমস্ত চেষ্টা যীশুর সম্মুখে অসার হয়ে যায়৷ নৈবেদ্য, আত্মোত্সর্গ অথবা দান করে একজন কখনও নূতন জন্ম পেতে পারে না৷ কেউ হয়ত চিন্তা করেন যে কারণ একমাত্র ঈশ্বরই জানেন কে নূতন জন্ম গ্রহণ করে, সে জানতে পারে না, সে নূতন জন্ম লাভ করে কি না৷
এভাবে চিন্তা করা কিছুটা স্বস্তিজনক, কিন্তু নূতন জন্মের জন্য টেবিলের নিচে লুকানোর প্রয়োজন হয় না৷ একজনকে তার নিজেকে সঠিকভাবে জানতে হবে, এবং অন্যেরাও সেটা অনুভব করবে৷
সম্ভবত, আমরা শারীরিকভাবে এটা অনুভব করি না, কিন্তু আমরা আত্মিক্ব্ভাবে এটা খুব ভালোভাবে অনুভব করি৷ যেসব বিশ্বাসীরা ঈশ্বরের বাক্য জল, রক্ত এবং আত্মার মাধ্যমে পুনরায় জন্ম গ্রহণ করেছেন সত্যিকারের সেটাই হল নূতন জন্ম৷ যাহোক যারা নূতন জন্ম গ্রহণ করেনি তারা এটা বুঝতে পারে না, যেমন নীকদীম বুঝতে পারছিলেন না৷
এ কারণে যীশু বাপ্তিস্ম ও রক্তের মাধ্যমে যে প্রায়শ্চিত্ত করেছিলেন করেছিলেন আমাদের সেই সত্য বাক্য শুনতে হবে৷ যেমন ভাবে আমরা ঈশ্বরের বাক্য শুনি এবং শিখি তেমনভাবেই আমরা তার মধ্যে সেই বাক্যের সত্যতা খুঁজতে পারি৷ যার জন্য আমাদের অন্তর খোলা এবং মনোযোগ দিয়ে শোনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷
“বায়ু যেদিকে ইচ্ছা করে সেই দিকে বহে, এবং তুমি তাহার শব্দ শুনিতে পাও; কিন্তু কোথা হইতে আইসে, আর কোথায় চলিয়া যায়, তাহা জান না; আত্মা হইতে জাত প্রত্যেকে সেইরূপ” (যোহন ৩:৮)৷
একজন ব্যক্তি যে এখনও নূতন জন্ম লাভ করেনি সে যখন এই অনুচ্ছেদটি পড়বে, সে তখন চিন্তা করবে, “ আহা! যীশু বলেছিলেন যে আমি জানিনা যে আমি কখন নুতন জন্ম গ্রহণ করব! কেউই জানে না!” এই চিন্তা তাদের স্বস্তি দেয়৷ কিন্তু এটা সত্যি নয়৷ আমরা সম্ভবত জানি না যে বাতাস কোথা থেকে আসে আর কোথায় চলে যায়; কিন্তু ঈশ্বর সবই জানেন৷
এমন কি যারা নূতন জন্ম লাভ করেছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রথমে এটা বুঝতে পারে না, এটা বোধগম্য৷ কিন্তু এরূপ ব্যক্তির অন্তরে; যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তের মাধ্যমে প্রায়শ্চিত্তের সুসমাচার থাকে৷
নূতন জন্মের সাক্ষ্য হল এটা৷যারা সুসমাচার শোনে এবং বোঝে তখন তারা বলে, “ওহ, আমি পাপ মুক্ত৷ আমি মুক্ত হয়েছি এবং নূতন জন্ম গ্রহণ করেছি৷” যখন তারা বিশ্বাস করে এবং জল ও আত্মার সুসমাচার তাদের অন্তরে থাকে, তখন তারা ধার্মিক হয়ে যায়, ঈশ্বরের একজন সন্তান হয়৷
কেউ কেউ সম্ভবত জিজ্ঞাসা করে, “তুমি কি নূতন জন্ম লাভ করেছ?” এবং সে উত্তর দেয়, “এখনও না”৷ “তারপর তুমি কি পাপ মুক্ত?” হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি আমি পাপমুক্ত৷” কিন্তু সে একটি প্রতিবাদমূলক বিবৃতি তৈরী করে; করে কি না? সে এরূপ করে, কারণ সে চিন্তা করে যে, যখন একজন নূতন ব্যক্তি নূতন জন্ম লাভ করে, তখন তার অবশ্যই মাংসিকভাবেও পরিবর্তিত হওয়া উচিত৷
এরূপ লোকেরা মনে করে নূতন জন্ম হল এমন কিছু যা স্বাভাবিক জীবনযাপনের আমূল পরিবর্তন করে৷ কিন্তু সত্য হলো এই যে, তারা জল ও আত্মার সুসমাচারে নূতন জন্ম লাভ করাকে বুঝতে পারেনা৷
অনেক লোক আছে যারা নূতন জন্মের অর্থ বোঝে না৷ এটা এমনই একটি দুঃখের বিষয়৷ শুধুমাত্র সাধারণ জনগণ নয় অধিকাংশ গীর্জার নেতারাও এই ভ্রান্তির মধ্যে কাজ করে৷ আমরা যারা নূতন জন্মগ্রহণ করেছি আমাদের হৃদয় এইসকল লোকের জন্য শোকার্ত হয়৷
আমরা যখন এমন অনুভব করি, তখন আমাদের স্বর্গীয় ঈশ্বর যীশুর কাছে এটা আরো কত ব্যথার কারণ হতে পারে? তাই আসুন আমরা সবাই যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশীয় রক্তের সুসমাচারে বিশ্বাসপূর্বক নূতন জন্ম গ্রহণ করি৷
নূতন জন্ম লাভ করা এবং পাপমুক্ত হওয়ার অর্থ একই৷যাহোক অনেকে আছে যারা এই সত্য জানেনা৷নূতন জন্মের অর্থ হল যে, একজনের অন্তরে যে পাপ আছে তা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করার মাধ্যমে ধুয়ে ফেলা৷এটার অর্থ হল যীশুর বাপ্তিস্ম এবং তাঁর ক্রুশীয় বলিদানকে বিশ্বাসের মাধ্যমে ধার্মিক হওয়া৷
নূতন জন্মের মানে হল যীশুর বাপ্তিস্মের কাপড় পরা, তাঁর সঙ্গে ক্রুশের উপরে রক্ত সেচন করা এবং তাঁর সাথে পুনরুজ্জীবিত হওয়া; এটার অর্থ হল যে, বাপ্তিস্ম ও ক্রুশীয় বাক্যের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ধার্মিক হয়৷
একজন ব্যক্তি যখন তার মাতৃগর্ভ থেকে ভুমিষ্ট হয়, তখন সে পাপী হয়৷কিন্তু সে যখন জল ও আত্মার নূতন জন্মের সত্য সুসমাচার শোনে, তখন সে নূতন জন্ম লাভ করে ও ধার্মিক হয়৷
বাহ্যিকভাবে এরূপ ব্যক্তিকে আলাদা দেখায় না, কিন্তু ভিতরে, অর্থাৎ আত্মায় সে নূতন জন্ম লাভ করে৷এটা তাই, যার অর্থ হল নূতন জন্ম লাভ করা৷ কিন্তু খুবই কম লোক, যারা এই সত্য জানে; এমনকি দশ হাজারের বেশী নয়৷ আপনি কি আমার সাথে একমত হতে পারেন যে, খুব কম লোকই আছে যারা নূতন জন্মে প্রাপ্তির সত্য অর্থ বুঝতে পারে?
যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে এবং নূতন জন্ম লাভ করে, তারাই সাধারণ খ্রীষ্টিয়ানদের থেকে সত্যিকার নূতন জন্ম প্রাপ্তদের পৃথক করতে পারে৷
 
 
যীশু, যিনি বাতাসও নিয়ন্ত্রণ করেন
 
কে জানে সে পাপমুক্ত?
শুধুমাত্র নূতন জন্মপ্রাপ্ত ব্যক্তি
 
“বায়ু যেদিকে ইচ্ছা করে সেই দিকে বহে, এবং তুমি তাহার শব্দ শুনিতে পাও; কিন্তু কোথা হইতে আইসে, আর কোথায় চলিয়া যায়, তাহা জান না; আত্মা হইতে জাত প্রত্যেকে সেইরূপ”৷ যারা নূতন জন্ম গ্রহণ করেনি যীশু তাদের সমন্ধে কথা বলছিলেন৷ নূতন জন্ম প্রাপ্তেরা নূতন জন্ম সমন্ধে জানে, কিন্তু নীকদীম জানত না৷ ঈশ্বর জানেন করা নূতন জন্ম গ্রহণ করেছে এবং যারা নূতন জন্ম গ্রহণ করেছে তারাও এটা জানে৷
যাহোক, যারা নূতন জন্ম লাভ করেনি তারা জানেনা যে কিভাবে একজন ব্যক্তি নূতন জন্ম লাভ করে যেমন তারা জানেনা বায়ু কোথা থেকে আসে এবং কোথায় চলে যায়৷
আপনি কি এটা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন? কে বাতাস প্রবাহিত করেন? ঈশ্বর করেন৷ কে বায়ু সৃষ্টি করেছেন? স্বর্গীয় ঈশ্বর করেছেন৷কে পৃথিবীর জলবায়ু, জল এবং বায়ুপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ করেন? এবং কে সমস্ত জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে প্রাণবায়ু দিয়েছেন? অন্য কথায়, কে বিশ্বব্রম্ভান্ডের সব জীবন সৃষ্টি করেছেন এবং এদের সমৃদ্ধশালী করেছেন? যীশু খ্রীষ্ট ছাড়া আর কেউই নন৷ এবং যীশুই ঈশ্বর৷
যখন আমরা জল, রক্ত ও আত্মার সুসমাচার না জানি, তখন আমরা নূতন জন্ম লাভ করতে পারি না এবং এই দুটি না জেনে আমরা অন্যদেরকে শিক্ষা দিতে পারি না৷ যীশু আমাদের বলেছিলেন যে, জল ও আত্মা হতে জন্মগ্রহণ না করে কেউ নূতন জন্ম পেতে পারে না৷
আমাদের অবশ্যই জল ও আত্মার সুসামাচারে বিশ্বাস করতে হবে, এবং এই শক্তিশালী সুসমাচার আমাদের নূতন জন্ম লাভ করাবে৷ যারা জল ও আত্মার সুসামাচারে বিশ্বাস করে, তাদের অন্তরে এই শক্তি প্রবেশ ও বসবাস করে৷
যীশু মানবজাতির সমস্ত পাপ ধৌত করার জন্য বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাদের পাপের দেনা পরিশোধের জন্য তিনি ক্রুশের উপর রক্ত সেচন করেছিলেন৷ তিনি সমগ্র মানবজাতির অন্তরে পরিত্রাণের জন্য নূতন জন্মের এই ধারণা ধীরে ধীরে প্রবেশ করিয়েছিলেন৷যখন আমরা এই সুসামাচারে বিশ্বাস করি, তখন আমাদের আত্মায় শক্তি প্রবেশ করে৷ এটা হল নূতন জন্মের পরিত্রাণ৷ যখন আমরা বিশ্বাস করি যীশুর বাপ্তিস্ম এবং রক্তের মাধ্যমে আমাদের সকল পাপ ধৌত হয়েছে, তখনই আমরা প্রকৃতভাবে নূতন জন্ম লাভ করি৷
আদিপুস্তক ১:২ পদে এটা লেখা আছে, “পৃথিবী ঘোর ও শূন্য ছিল, এবং ঈশ্বরের আত্মা জলধির উপরে ছিল, এবং ঈশ্বরের আত্মা জলের উপর অবস্থিতি করিতেছিলেন৷” এটা লেখা আছে যে ঈশ্বরের আত্মা জলের উপর অবস্থান করছিলেন৷ ঈশ্বরের আত্মা পৃথিবীর বহির্ভাগে অবস্থান করছিল৷
এটার অর্থ হল যে, আত্মা পাপীদের অন্তরে প্রবেশ করতে পারে না৷ নূতন জন্ম লাভ না করা একটি হৃদয় জড়পিন্ডবৎ, এটা পাপের অন্ধকারে আচ্ছন্ন৷ যার জন্য ঈশ্বরের আত্মা এরূপ ব্যক্তির হৃদয়ে বাস করতে সক্ষম হন না৷
ঈশ্বর পৃথিবীতে তাঁর সুসমাচারের আলো পাঠিয়েছিলেন পাপীদের অন্তর আলোকিত করতে৷ ঈশ্বর বলেছিলেন, দীপ্তি হউক, এবং দীপ্তি হয়েছিল৷ তখন এবং শুধুমাত্র তখনই, ঈশ্বরের আত্মা সব লোকের হৃদয়ে বাস করতে পেরেছিলেন৷
এজন্য, যারা জল ও আত্মার সুসামাচারে বিশ্বাস করে নূতন জন্ম লাভ করে, ঈশ্বরের আত্মা তাদের হৃদয়ে বাস করেন৷ এটাই হল তাদের “নূতন জন্মের” অর্থ৷ তারা হৃদয়ে নুতনভাবে জন্ম লাভ করে, কারণ তারা জল ও আত্মার পরিত্রাণের বাক্য শুনেছিল এবং তারা এতে বিশ্বাস করেছিল৷
কিভাবে একজন নূতন জন্ম লাভ করে? যীশু এটা নীকদীমের কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন, ফরীসীকে বলেছিলেন, “যদি কেহ জল ও আত্মা হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারে না৷” নীকদীম বলেছিলেন, কিভাবে জল ও আত্মা হতে নূতন জন্ম হতে পারে৷ আমরা কি আবার মাতৃগর্ভে প্রবেশ করে নুতন জন্ম লাভ করব? স্পষ্টতঃ সে এটি পুঁথিগত ভাবে নিয়েছিল এবং বুঝতে পারছিল না কিভাবে একজন মানুষ নূতন জন্ম লাভ করতে পারে৷
যীশু তাকে বলেছিলেন, “তুমি একজন গুরু, আর তুমি এসকল বুঝছ না?” যীশু তাকে বলেছিলেন জল ও আত্মা হতে নুতন জন্ম লাভ না করা পর্যন্ত, সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে না এমনকি দেখতেও পারে না৷যীশু নীকদীমকে নুতন জন্মের সত্যতা বলেছিলেন৷
এটা সত্য যে অনেক লোক আছে যারা নুতন জন্ম ছাড়াই যীশুকে বিশ্বাস করে৷ অধিকাংশ খ্রীষ্টিয়ান নীকদীমের মত প্রকৃত নুতন জন্ম লাভ করে নি৷
সেই সময় নীকদীম আজকাল দিনের ধর্মীয় নেতাদের মত ইস্রায়েলের আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন৷ বর্তমান সময়ে একজন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সে তুলনীয়৷ধর্মীয় মর্যাদায় সে ছিল একজন অধ্যক্ষ, ইব্রীয় ভাষায় একজন গুরু, তিনি ছিলেন যিহুদীদের ধর্মীয় নেতা৷ তিনি একজন গুনান্বিত বিদ্বানও ছিলেন৷
তখনকার দিনে ইস্রায়েলে কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না যাকে আজকের দিনের স্কুলের সাথে তুলনা করা যায়, তাই সব লোক মন্দির অথবা যিহুদীদের ধর্মীয় সভায় যেত “শিক্ষিত লোকেদের” কাছে অধ্যয়নের জন্য৷ তারা লোকদের শিক্ষক ছিল৷ এখনকার দিনের মত তখনও অনেক ভ্রান্ত শিক্ষিত ছিল৷ এবং তারা নিজেরা নুতন জন্ম প্রাপ্ত হওয়া ছাড়াই অন্যদেরকে শিক্ষা দিত৷
বর্তমানে অনেক ধর্মীয় গুরু, গীর্জার উচ্চপদস্থ কর্মচারী, শিক্ষক, যাজক, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং পাদ্রী আছেন, যারা নুতন জন্ম লাভ করেন নি৷ নীকদীমের মত তারা নূতন জন্মের সত্যতা জানে না৷ এমনকি অনেকে চিন্তা করে যে নূতন জন্মের জন্য দ্বিতীয়বার তাদের মাতৃগর্ভে প্রবেশ করতে হবে৷ তারা জানে যে, তাদের নুতন জন্ম গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু কিভাবে তা তারা জানে না৷
এর কারণ তাদের অজ্ঞতা, একটি অন্ধব্যাক্তির হাত দিয়ে হাতি ছুঁয়ে উপলব্ধি করার অনর্থক চেষ্টার মতন, তাদের শিক্ষা, তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভুতির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে৷ তারা বৈদেশিক অর্থে গীর্জায় প্রচার করে৷ এই জন্য অনেক বিশ্বাসী মানুষ নুতন জন্ম লাভ করার ক্ষেত্রে বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছে৷
আমাদের কোনো কাজ দিয়ে নূতন জন্ম লাভ করা যায় না৷ ঈশ্বর আমাদেরকে যে জল, রক্ত ও আত্মার বাক্য দিয়েছেন তা বিশ্বাস করার মাধ্যমে আমরা নূতন জন্ম লাভ করি৷ এটা ঈশ্বরের সুসমাচার যা আমাদের একজন পাপী থেকে ধার্মিকে পরিবর্তিত করে৷
যীশু এই কথাগুলি বলেছিলেন, “আমি পার্থিব বিষয়ের কথা কহিলে তোমরা যদি বিশ্বাস না কর, তবে স্বর্গীয় বিষয়ের কথা কহিলে কেমন করিয়া বিশ্বাস করিবে?” বস্তুতঃ যীশু যখন তাদের এই সত্য বলেছিলেন যে, তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সকল পাপের প্রায়শ্চিত্তের কথা, তখন তারা বিশ্বাস করছিল না৷ তারা কি বিশ্বাস করছিল না? তারা বিশ্বাস করছিল না যে, যীশুর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় মৃত্যুবরণ দ্বারা তাদের পাপমোচন করা সম্ভব৷ এটার অর্থ হল যখন তিনি লোকেদের বলেছিলেন তখন তারা বিশ্বাস করে নি, যদি তিনি স্বর্গী
আমাদের সকল পাপ পরিস্কার করার জন্য, যীশু যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ ও ক্রুশের উপর মৃত্যুবরণ করেছিলেন, এবং এরপর তিনি পাপীদের নুতন জন্মের পথ শান বাঁধানোর জন্য মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন৷
যার জন্য যীশু এটা নীকদীমের কাছে পুরাতন নিয়মের উদ্বৃতি দিয়ে ব্যাখ্যা করেছিলেন৷ “আর স্বর্গে কেহ উঠে নাই; কেবল যিনি স্বর্গ হইতে নামিয়াছেন, সেই মনুষ্যপুত্র, যিনি স্বর্গে থাকেন৷ আর মোশি যেমন প্রান্তরে সেই সর্পকে উচ্চে উঠাইয়াছিলেন, সেইরূপ মনুষ্যপুত্রকেও উচ্চীকৃত হইতে হইবে, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে অনন্তজীবন পায়” (যোহন ৩:১৩-১৫)৷ মোশি যখন প্রান্তরে সেই সর্পকে উচ্চে উঠিয়েছিলেন, এমনকি মনুষ্যপুত্রকেও তেমনিভাবে উচ্চীকৃত হতে হয়েছিল, যেন যেকেউ তাতে বিশ্বাস করে তারা অনন্তজীবন পায়৷
যীশু কি মনে করেছিলেন, যখন তিনি বলেছিলেন, “আর মোশি যেমন প্রান্তরে সেই সর্পকে উচ্চে উঠাইয়াছিলেন, সেইরূপ মনুষ্যপুত্রকেও উচ্চীকৃত হইতে হইবে?” তিনি বাইবেলের পুরাতন নিয়ম থেকে এই অংশটি উল্লেখ করে ব্যাখ্যা করেছিলেন, কিভাবে তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্ত মানুষের সকল পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে৷
যীশুর ক্রুশের উপর মৃত্যুবরণ করা, তাঁর জন্য উচ্চীকৃত হওয়া, তাঁকে প্রথমে পৃথিবীর সমস্ত পাপ তুলে নেওয়ার জন্য যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করতে হয়েছিল৷ কারণ যীশু ছিল পাপমুক্ত ক্রুশবিদ্ধ হতে পারতেন না৷তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার জন্য যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করতে হয়েছিল, এবং এভাবে তিনি নিজে পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নিয়েছিলেন৷
কেবলমাত্র আমাদের পাপভার তুলে নিতে এবং এর মূল্য দিতে তিনি নিজ রক্ত দিয়ে সকল পাপীদের পাপের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করলেন৷ যীশু আমাদের পরিত্রাণের জল ও আত্মার নূতন জন্ম দিয়েছিলেন৷
এজন্য যারা যীশুকে তাদের ত্রাণকর্তারূপে বিশ্বাস করে, তারা তাঁর বাপ্তিস্মের সজ্জায় সজ্জিত হয়৷ তাঁর সাথে মৃত্যুবরণ করে, আবার নুতন জন্ম লাভ করে৷ পরে, নীকদীম এটা বুঝতে পেরেছিল৷
 
 
সর্পটিকে যেমন উচ্চে উঠানো হয়েছিল
 
যীশু কেন ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন?
কারণ তিনি তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে
 সকল পাপ তুলে নিয়েছিলেন
 
আপনি সেই কাহিনী জানেন, মোশি কিভাবে প্রান্তরে পিত্তলের সর্প উঠিয়েছিলেন? এই কাহিনীটি গণনাপুস্তক ২১ অধ্যায়ে লেখা আছে৷ এখানে বলা হয়েছে যে, ইস্রায়েলীয়দের মিশর থেকে যাত্রার পর তাদের প্রাণ বিরক্ত হয়েছিল, যার কারণে তারা ঈশ্বর ও মোশির বিরুদ্ধে কথা বলেছিল৷
এর ফলস্বরূপ, ঈশ্বর লোকেদের মধ্যে অগ্নিময় সাপ পাঠিয়েছিলেন, যেগুলি তাদের তাম্বুর মধ্যে প্রবেশ করেছিল এবং দংশন করে তাদের মেরে ফেলেছিল৷ দংশনের পর তাদের শরীর ফুলে উঠতে শুরু করেছিল এবং অনেকেই মারা পড়েছিল৷
যখন লোকেরা মরতে শুরু করল, মোশি তাদের নেতা, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন৷ “ঈশ্বর কৃপা করে আমাদের রক্ষা কর”৷ ঈশ্বর তাঁকে বলেছিলেন পিতল দিয়ে একটি অগ্নিময় সর্প নির্মান করতে এবং এটিকে পতাকার উর্দ্ধে স্থাপন করতে৷ তিনি তাকে বলেছিলেন যে, যে কেহ এটার উপরে দৃষ্টিপাত করবে, সে বেঁচে উঠবে৷ ঈশ্বর যেমন বলেছিলেন মোশি তেমন করেছিলেন এবং লোকেদের কাছে তাঁর একথা প্রচার করেছিলেন৷
যারা তাঁর বাক্যে বিশ্বাস করল তারা পিতলের সাপের দিকে তাকিয়েছিল এবং আরোগ্য লাভ করেছিল৷ একই ভাবে, আমাদেরকেও শয়তানের বিষাক্ত ছোবল থেকে আরোগ্য লাভ করতে হবে৷ ইস্রায়েলের লোকেরা মোশির কথা শুনেছিল এবং খুঁটির উপরে পিতলের সাপের দিকে দৃষ্টিপাত করেছিল, আর এভাবে তারা আরোগ্য লাভ করেছিল৷
খুঁটির উপরে সাপের প্রত্যাদেশ ছিল সমগ্র মানবজাতির পাপের যন্ত্রণা যা বাপ্তিস্ম গ্রহণ ও ক্রুশে মৃত্যুবরণ করার মাধ্যমে যীশুর উপরে বর্তেছিল৷ তিনি নিজের উপরে এটা তুলে নিয়েছিলেন পৃথিবীর সমস্ত পাপীর পাপের দন্ড পরিশোধ করবার জন্য৷ এভাবে, তিনি আমাদের সকল পাপের শাস্তির সমাপ্তি করেছিলেন৷
যীশু খ্রীষ্ট এই পৃথিবীতে সকল লোককে মুক্ত করতে এসেছিলেন, যারা শয়তানের প্রলোভনে “সর্পবিষ” দ্বারা মরবার জন্য নির্ধারিত ছিল৷ আমাদের সকল পাপের দেনা শোধ করতে, তাঁকে বাপ্তিস্ম গ্রহণ ও ক্রুশে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল, পুনরুত্থানের পূর্বেই যারা তাঁকে বিশ্বাস করেছিল তাদের মুক্ত করার জন্য৷
বাইবেলের পুরাতন নিয়মে ইস্রায়েলীয়রা শুধু খুঁটির উপরে সাপের দিকে তাকিয়ে রক্ষা পেয়েছিল, তেমনি বর্তমানে যারা যীশুকে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাস আছে যে, যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ ও তাঁর রক্তের মাধ্যমে আমাদের পাপের মূল্য পরিশোধ করেছেন, তারা মুক্ত হবে ও নূতন জন্ম লাভ করবে৷
যীশু যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা যর্দন নদীতে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করে, ক্রুশের উপরে মৃত্যুবরণ করে, এবং তাঁর পুনরুত্থানের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল পাপের মূল্য পরিপূর্ণভাবে পরিশোধ করেছিলেন৷ এখন, যারা তাঁকে বিশ্বাস করে তারা তাঁর কৃপার মাধ্যমে পরিত্রাণের আশীর্বাদ পাবে৷
 “আর স্বর্গে কেহ উঠে নাই; কেবল যিনি স্বর্গ হইতে নামিয়াছেন, সেই মনুষ্যপুত্র, যিনি স্বর্গে থাকেন (যোহন ৩:১৩)৷ আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য, যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ ও ক্রুশের উপর রক্ত সেচন করে আমাদের জন্য স্বর্গের দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন৷ যোহন ১৪:৬ পদে যীশু বলেছিলেন, “আমিই পথ ও সত্য ও জীবন; আমা দিয়া না আসিলে কেহ পিতার নিকটে আইসে না৷”
কেননা আমাদের জন্য স্বর্গের দ্বার উন্মুক্ত করতে যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ ও ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, এজন্য যারা তাঁর মাধ্যমে পরিত্রাণে বিশ্বাস করবে, তারা মুক্ত হবে৷ যীশু ইতিমধ্যে আমাদের পাপের সব মূল্য পরিশোধ করে দিয়েছেন, তাই যারা তাঁর জল, রক্ত ও আত্মার এই সত্য বিশ্বাস করে, তারা স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে৷
যীশু আমাদের জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা রক্ষা করেছেন৷ বাস্তবিকপক্ষে যীশুই ঈশ্বর, তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্তে বিশ্বাস থেকেই নূতন জন্ম হয়৷
“আর মোশি যেমন প্রান্তরে সেই সর্পকে উচ্চে উঠাইয়াছিলেন, সেইরূপ মনুষ্যপুত্রকেও উচ্চীকৃত হইতে হইবে,” (যোহন ৩:১৪)৷ এই পদটির অর্থ কি? কেন যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হয়েছিল? তিনি কি আমাদের মত পাপ করেছিলেন? আমরা যেমন দুর্বল তিনি কি তেমন দুর্বল ছিলেন? আমরা যেমন অসম্পূর্ণ তিনি কি তেমন অসম্পূর্ণ ছিলেন? না, তিনি তেমন ছিলেন না৷
তাহলে কেন তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হয়েছিল? আমাদের রক্ষা করতে এবং সকল পাপের খেসারত দিতে তাঁকে এটা করতে হয়েছিল৷ আমাদেরকে আমাদের সকল পাপ থেকে উদ্ধার করতে তিনি বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন ও ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন৷
পরিত্রাণের স্বীকৃতি হল এটা, জল ও আত্মা হতে নূতন জন্ম লাভ করা৷ যীশু তাদের নূতন জন্ম দিয়েছেন যারা তাঁর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে মৃত্যুবরণ বিশ্বাস করেছেন, যেটা ছিল আমাদের পাপের খেসারত৷
 
 
জল ও আত্মার অর্থ
 
জল ও আত্মা দ্বারা কি বুঝিয়েছেন?
জল অর্থ যীশুর বাপ্তিস্ম এবং আত্মা ঈশ্বর
 
বাইবেল আমাদের বলে যে, যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে রক্ত সেচনে বিশ্বাস করি, তখন আমরা নূতন জন্ম লাভ করি৷ ঈশ্বরের সন্তান হওয়া, নূতন জন্ম লাভ করা, এ সবই ঈশ্বরের লিখিত বাক্যের দ্বারা অর্জিত, জল, রক্ত ও আত্মার সুসমাচার যা আমাদের পাপের জন্য খেসারত দেয়৷
বাইবেল অনুসারে, “জল” হল যীশুর বাপ্তিস্ম (১পিতর ৩:২১), এবং “আত্মা” হল যীশুই ঈশ্বর৷ আর এটা হল নূতন জন্মের স্বীকৃতি যে, যীশু মানুষরূপে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্তের মাধ্যমে আমাদের পাপের ঋণ শোধ করতে৷
তিনি বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন, এবং ক্রুশে মৃত্যুবরণ করে আমাদের পাপের মূল্য পরিশোধ করেছিলেন৷ বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশে রক্ত সেচন দ্বারা যারা তাঁকে বিশ্বাস করে, তিনি তাদের রক্ষা করেছিলেন৷
আমাদের বুঝতে হবে যে, যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্ত আমাদের পরিত্রাণের প্রতিনিধিত্ব করে, আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছে৷শুধুমাত্র তারাই স্বর্গরাজ্য দেখতে ও তাতে প্রবেশ করতে পারবে, যারা জল ও আত্মা হতে নূতন জন্ম গ্রহণ করেছেন৷ যীশু আমাদের তাঁর বাপ্তিস্মের জল, রক্ত ও আত্মা দ্বারা রক্ষা করেছেন৷ আপনি কি এতে বিশ্বাস করেন?
যীশু হচ্ছেন স্বর্গীয় প্রধান ধর্মযাজক, তিনি পৃথিবীর পাপের মূল্য পরিশোধ করতে পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন৷ তিনি বাপ্তাইজিত হয়ে, ক্রুশে রক্তসেচন করেন এবং পুনরুত্থিত হন, এভাবে তিনি সকলের ত্রাণকর্তা হয়েছেন যারা তাঁকে বিশ্বাস করে৷
যীশু যোহন ১০:৭ পদে বলেছিলেন, “আমিই মেষদিগের দ্বার৷” যীশু স্বর্গের দ্বারে দাঁড়িয়ে আছেন৷ কে আমাদের জন্য দরজা খুলে দেবেন? তিনি যীশু খ্রীষ্ট৷
তিনি তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন যারা তাঁর পরিত্রাণের সত্য না জেনেই তাঁকে বিশ্বাস করেছে৷ তিনি তাদেরকে অনুমোদন করেন না, যারা তাঁর বাপ্তিস্ম, রক্ত ও আত্মায় নূতন জন্ম বিশ্বাস করে না৷ তিনি যে কারো কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, যারা তাঁর লিখিত বাক্যে বিশ্বাস করে না, তাঁর পবিত্রতা স্বীকার করে না আর তাঁকে ঈশ্বর বলে চেনে না৷
লিখিত সত্য হল যে, তিনি মনুষ্যরূপে জগতে এসেছিলেন, বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন আর পৃথিবীর সমস্ত পাপের খেসারত দিয়ে ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, আর তিনদিন পরে ক্রুশারোহন থেকে তিনি পুনরুত্থিত হয়েছিলেন৷ যে কেউ এই সত্য বিশ্বাস করতে অস্বীকার করবে, সে তাঁর দ্বারা বহিস্কৃত এবং ধবংস হয়ে যাবে৷ যেমন লেখা আছে “পাপের বেতন মৃত্যু৷”
যাহোক, যারা তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্তের মাধ্যমে পাপমোচনের এই আশীর্বাদে বিশ্বাস করে, যারা তাদের অন্তরে পবিত্র হয়, তারা স্বর্গরাজ্যে প্রবেশের জন্য অনুমোদিত হয়৷এটা হল নূতন জন্ম লাভের সত্য সুসমাচার, যা জল, রক্ত ও আত্মার দ্বারা আমাদের কাছে এসেছে৷ কেবল তারাই জল ও আত্মার নূতন জন্ম লাভ করতে পারে যারা যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্ত আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে; তারাই হল একমাত্র ব্যক্তি যারা সত্যিকারের নূতন জন্ম লাভ করে৷
বর্তমানে অধিকাংশ লোকই নীকদীমের মত সত্য সমন্ধে অবগত নয়, তারা সত্য সুসমাচার না জেনেই যীশুকে বিশ্বাস করে৷ নীকদীম কেমন একজন সমাজের উচ্চপদস্থ লোক ছিল! যাহোক সে যীশুর কাছে সত্য সুসমাচার শুনেছিল, এবং পরে, যখন যীশু ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, তখন সে যীশুর দেহ কবর দিতে এসেছিল৷ সেই সময় থেকে নীকদীম সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করেছিল৷
বর্তমানে, আমাদের অনেকে আছে, যারা যীশুর জল ও আত্মার সত্যতা সমন্ধে জানে না৷ অধিকন্তু, অনেক লোক আছে যখন তারা সত্য সুসমাচার শোনার সুযোগ পায় তখন তারা তা গ্রহণ করে না৷ এটা এরূপই মর্মান্তিক৷
আমাদের সকলের নূতন জন্মের জন্য যীশু এটা সম্ভব করেছিলেন৷ কিসের দ্বারা আমরা নূতন জন্ম পাই? এটা ছিল জল, রক্ত ও আত্মা৷ যীশু আমাদের পাপ তুলে নিয়েছিলেন, যখন তিনি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন৷ তিনি ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং তারপর তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন৷
আর যারা তাঁকে বিশ্বাস করে তিনি তাদেরকে নূতন জন্মের আশীর্বাদ দিলেন৷ যীশু হলেন ত্রাণকর্তা যারা তাঁকে বিশ্বাস করে, তিনি তাদেরকে নুতন জন্মের অনুমোদন দেন৷ প্রার্থনা করুন যে, আপনি সর্বদা যীশুর সঙ্গে থাকবেন, যিনি স্বর্গমর্ত্ত্য ও এর মধ্যকার সব কিছু সৃষ্টি করেছেন৷
যোহন ৩:১৬ পদে আছে, “ যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্তজীবন পায়৷” আমরা যীশুকে বিশ্বাস করে অনন্তজীবন পেয়েছি৷ জল ও আত্মায় বিশ্বাস করে আমরা নূতন জন্ম লাভ করেছি৷ এটা সত্য যে, যদি আমরা যীশুর পরিত্রাণের সুসামাচারে, বাপ্তিস্মে ও রক্তে এবং যীশুই যে একমাত্র ত্রাণকর্তা ও ঈশ্বর এতে বিশ্বাস করি, তাহলে আমরা রক্ষা পাব৷
যদি আমরা এই সত্যে বিশ্বাস না করি, তাহলে আমরা অনন্তজীবন থেকে অনন্ত নরকে নিক্ষিপ্ত হবো৷ এই জন্যে যীশু নীকদীমকে বলেছিলেন, “আমি পার্থিব বিষয়ের কথা কহিলে তোমরা যদি বিশ্বাস না কর, তবে স্বর্গীয় বিষয়ের কথা কহিলে কেমন করিয়া বিশ্বাস করিবে?”
ঈশ্বর আমাদের জন্য কি করেছিলেন? যীশুর মাধ্যমে পরিত্রাণ, যা আমাদের নূতন জন্মের অনুমোদন দিয়েছে৷ যীশু আমাদের এই জগৎ, জগতের শয়তান ও পাপ থেকে রক্ষা করেছেন৷ এই জগতের পাপীদের পাপের দন্ডাজ্ঞা সকল তুলে নিয়েছিলেন, ক্রুশবিদ্ধ আর তারপর মৃত্যু থেকে পুনরুজ্জীবিত হলেন৷
আমরা এই পরিত্রাণে বিশ্বাস করব কিনা সেটা আমাদের সিদ্ধান্ত৷ পরিত্রাণের নূতন জন্মের বিশ্বাস আসে যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তের পরিত্রাণের মাধ্যমে৷
এটা বলা হয়েছে যে, ঈশ্বর আমাদের দুটি আশীর্বাদ দান করেছেন৷ একটি সাধারণ আশীর্বাদ, যার মধ্যে প্রকৃতির সবকিছু যেমন সূর্য্য, বাতাস প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত৷ এটা জানা যায় যে যেহেতু এটি সাধারণ আশীর্বাদ, তাই এটি পাপী বা ধার্মিক যে হোক না কেন সবাইকে দেওয়া হয়েছে৷
তাহলে এই বিশেষ আশীর্বাদটি কি? বিশেষ আশীর্বাদটি হল জল ও আত্মায় নূতন জন্ম, যা সকল পাপীকে তাদের পাপের মৃত্যু থেকে রক্ষা করবে৷
 
 
বিশেষ আশীর্বাদ
 
ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদটি কি?
তাঁর বাপ্তিস্ম, ক্রুশারোহন ও পুনরুত্থানের
মাধ্যমে আমাদের নূতন
জীবন/নূতন জন্ম
 
যোহন ৩:১৬ পদে লেখা আছে, “ ঈশ্বর জগতকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্রকে দান করিলেন, যেন যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্তজীবন পায়৷” এটা ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদের কথা বর্ণনা করে: যীশু মানুষরূপে এই পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন এবং আমাদের পাপের জন্য ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে আমাদের সকল পাপ ধৌত করলেন৷ এটা হল ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ, সত্য হল যে, আমরা সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়েছি৷
এটা হল প্রকৃত ঘটনা যে, যীশু আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছেন এবং পাপী থেকে ধার্মিকে পরিবর্তিত করেছেন৷ স্বাভাবিকভাবে আপনিও এই সত্যে বিশ্বাসের দ্বারা ঈশ্বরের এই বিশেষ আশীর্বাদ পেতে পারেন৷ আপনি কি সব বিশ্বাস করেন?
আপনার সব বিশ্বাস অসার হয়ে যাবে, যদি আপনি ঈশ্বরের এই বিশেষ আশীর্বাদ অস্বীকার করেন৷ এটা কোনো ব্যাপার নয় যে আপনি সারা জীবন কেমন বিশ্বাসে জীবনযাপন করলেন৷
আমি সব সময় প্রচার করি এবং কখনো প্রচার করতে ভুলে যাই না যে, যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে রক্ত সেচনে বিশ্বাস হল নুতন জন্ম লাভের একমাত্র উপায়৷ বাইবেলের যেকোনো পুস্তকই প্রকাশ করে যে, যীশুর মাধ্যমে নুতন জন্ম লাভ হল “ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ” যে বিষয়ে আমরা কথা বলছি৷ যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশারোহনের মাধ্যমে পাপীদের পরিত্রাণ লাভ, ঈশ্বরের আশীর্বাদ ব্যাখ্যা করার মত এর চেয়ে আর উত্তম কিছু নেই৷
যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশারোহন হল ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ৷ ভ্রান্ত প্রচারকদের এ জগতে এটা সমন্ধে বলার কিছুই নেই৷ এই ভ্রান্ত প্রচারকেরা খ্রীষ্টধর্ম ও মানবতার নৈতিকতায় সশস্ত্র হয়ে উজ্বল দুতের বেশে আবির্ভুত হয়৷ হ্যাঁ, এটাই সত্য৷ অসুস্থের আরোগ্য লাভের মত যে অলৌকিক কাজ তারা করে, যদি তাদের সঙ্গে ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদের কোনপ্রকার সম্পর্ক না থাকে তাহলে সেগুলি সবই অশুভ ব্যাপার৷
এটা হল ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ যা আমাদের মত পাপীদের প্রায়শ্চিত্তের সুসমাচার দিয়েছে৷ তাঁর বিশেষ আশীর্বাদের দ্বারা ঈশ্বর আমাদের নূতন জন্মের অনুমোদন দিয়েছেন৷ তিনি তাঁর বাপ্তিস্ম, রক্ত, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে আমাদেরকে নুতনীকৃত করেছেন৷ তিনি আমাদেরকে তাঁর পাপমুক্ত সন্তান করেছেন৷
আপনি কি এতে বিশ্বাস করেন? হ্যাঁ- আপনি কি সত্যিই আশীর্বাদ প্রাপ্ত? হ্যাঁ- যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত, মৃত্যু ও পুনরুত্থান হল বিশেষ আশীর্বাদ যা ঈশ্বর আমাদের জল ও আত্মার মাধ্যমে দিয়েছেন৷ এটা হল আশীর্বাদের সুসমাচার৷ ঈশ্বরের প্রসংসা করি যে তিনি আমাদের তাঁর বিশেষ আশীর্বাদের মাধ্যমে পাপ থেকে রক্ষা করেছেন৷
এটা এরূপই দুঃখের যে, আজকে অনেক বিশ্বাসী খ্রীষ্টিয়ান ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ, বাপ্তিস্ম ও রক্তের সুসমাচার, জল ও আত্মা থেকে নূতন জন্মের বিষয়ে অবগত নয়৷ তারা থিওলজি ও ধর্মীয় নৈতিকতায় অন্ধভাবে পথ খোঁজার চেষ্টা করছে৷ কি অজ্ঞ তারা!
খ্রীষ্টীয় ধর্ম অনেক দিন থেকে আমাদের সাথে আছে এবং পাঁচ হাজার বছরের কাছাকাছি এটা পুনর্গঠিত হচ্ছে, কিন্তু এখনও কোরিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে অনেকে আছে যারা নূতন জন্ম ও ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদের সত্য সমন্ধে অজ্ঞ৷
তথাপি, আমি আশা ও বিশ্বাস করি যে, তিনি তাদেরকে সত্য সমন্ধে জানাবেন, কারণ আমরা যে যুগে আছি তা পৃথিবীর শেষ সময়৷
পাপীদের ধার্মিক হওয়ার জন্য নুতন জন্ম লাভ করতে হবে ও জল ও আত্মার এই সত্য গ্রহণ করতে হবে এবং স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে হবে৷ অনেক খ্রীষ্টিয়ান নুতন জন্ম লাভ করবার জন্য কঠোর চেষ্টা করছেন৷
যাহোক, যদি তারা নুতন জন্মের প্রকৃত অর্থ না জেনে চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিশ্বাস বৃথা হয়ে যাবে৷ তারা বলে যে, স্বর্গরাজ্যে প্রবেশের জন্য তাদের নুতন জন্ম লাভ করতে হবে, কিন্তু তাদের নুতন জন্ম সমন্ধে সত্য সুত্র জানা নেই৷
অতঃপর তারা শুধু মনে করে যে, যেহেতু তারা খুবই বিশ্বস্ত ভাবে বিশ্বাস করে, তারা তাদের অন্তরে উত্তাপ অনুভব করে যা দ্বারা তারা নুতন জন্ম পেতে পারে৷ কিন্তু ব্যক্তিগত অনুভুতি বা উষ্ণ ধর্মীয় কাজের উপর ভিত্তি করে নুতন জন্মের চেষ্টা শুধুমাত্র অসত্য বিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে৷
 
 
ঈশ্বরের বাক্য যা আমাদের সত্যিকারের নুতন জন্ম লাভ করতে চালনা দেয়
 
বিশ্বাস ও ধর্ম এ দুইয়ের
মধ্যে পার্থক্য কি?
যীশু আমাদের পাপ থেকে রক্ষা
করতে যা করেছিলেন তাই হল বিশ্বাস;
ধর্ম একজনের নিজের চিন্তা ও
কাজের উপর নির্ভর করে
 
এটা স্পষ্টভাবে ১ যোহন ৫: ৪-৮ পদে লেখা আছে, যে কেবলমাত্র আমরা জল, রক্ত ও আত্মায় বিশ্বাস দ্বারা নুতন জন্ম লাভ করতে পারি৷ যদি আমরা নূতন জন্ম লাভ করি, আমাদের মনে রাখা উচিত যে, কেবলমাত্র ঈশ্বরের লিখিত বাক্য, বাক্যের সত্যতা দ্বারা আমরা নূতন জন্ম লাভ করতে পারি৷ আমাদের সেই দর্শন জানা উচিত, মুখের কথা বা চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতা কখনই আমাদের নুতন জন্মের নেতৃত্ব দিতে পারে না৷
যীশু যোহন ৩ অধ্যায়ে বলেছেন যে, একমাত্র জল ও আত্মা হতে নুতন জন্ম লাভ না করা পর্যন্ত সে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারে না৷ যদি একজনকে নুতন জন্ম পেতে হয়, সাধারনভাবে তাকে যীশুকে দু’বার বিশ্বাস করতে হয়, ঈশ্বরের নিয়মের মাধ্যমে তাঁর পাপ চিহ্নিত করতে হয়৷ প্রথমে একজন ঈশ্বরের নিয়মের মাধ্যমে যীশুকে বিশ্বাস করে, এবং এটা বোঝার পর সে উপলব্ধি করে প্রকৃতপক্ষে, সে কি ভয়ানক পাপী৷
পৃথিবীর অন্য অনেক ধর্ম অনুযায়ী আমাদের যীশুতে বিশ্বাস করা উচিত নয়৷ খ্রীষ্টীয় বিশ্বাস শুধুমাত্র অন্যান্য একটি ধর্মের মত না৷ এটা হল বিশ্বাস দ্বারা অনন্তজীবন অর্জন করার একমাত্র পথ৷ যে কেহ যীশুকে একটি ধর্মের মত বিশ্বাস করে সে খালি হাতে ফিরে যাবে৷ সে পাপপূর্ণ হৃদয় নিয়ে শূন্য ও পিত্তাকার অবস্থায় পড়ে থাকবে৷ এটাই কি সত্যি না? আপনি নিশ্চয় বাইবেলে বর্ণিত ভন্ড ফরীশীদের মত শেষ হয়ে যেতে চান না৷
প্রত্যেকে একজন নুতন জন্ম প্রাপ্ত খ্রীষ্টিয়ান হতে চায়৷ তথাপি, যখন একজন খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসকে একটি সাধারণ ধর্ম হিসাবে বিশ্বাস করে তখন সে কপটতা পূর্ণ হৃদয় নিয়ে শেষ হয়ে যায়৷ আমাদের অবশ্যই নূতন জন্মের সত্যতা জানতে হবে৷
যে কেহ নুতন জন্ম ব্যতীত খ্রীষ্টধর্মকে একটি সাধারণ ধর্ম হিসাবে বিশ্বাস করে সে অবশ্যই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও শুন্যতার হৃদয় নিয়ে তার জীবন শেষ করে৷ যদি কেউ যীশুকে বিশ্বাস করে কিন্তু নুতন জন্ম লাভ না করে, তবে তার বিশ্বাস অসত্য৷ যার জন্য সে মেকী রূপে শেষ হয়, কঠোর চেষ্টা করে সবার সুম্মুখে পবিত্র হবার, কিন্তু করুণভাবে পরাজিত হয়৷
যতদিন আপনি খ্রীষ্টধর্মকে একটি সাধারণ ধর্ম হিসাবে বিশ্বাস করেন, ততদিন আপনি সবসময় একজন পাপী, ভন্ড হয়ে থাকবেন এবং আপনি পাপের জন্য বিলাপ করে দিন যাপন করবেন৷ যদি আপনি আপনার পাপ থেকে রক্ষা পেতে চান তাহলে আপনাকে লিখিত সত্য জল, রক্ত ও আত্মার সুসামাচারে বিশ্বাস করতে হবে৷
 
 
যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে পাপমোচনের গোপনীয়তা খুঁজে বের করা
 
কি আমাদেরকে নুতন জন্ম দেয়?
যীশুর বাপ্তিস্ম, ক্রুশে মৃত্যুবরণ
এবং তাঁর পুনরুত্থান
 
বাইবেল আমাদের বলে যে, ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে যে কেহ নুতন জন্ম গ্রহণ করতে, যা কখন পরিবর্তন হয় না৷ এখন, আসুন আমরা পিতরের বাক্য থেকে দেখি ১পিতর ৩:২১ পদ৷ “আর এখন উহার প্রতিরূপ যা আমাদের মুক্ত করে অর্থাৎ বাপ্তিস্ম৷”
বাইবেলে, এটা লিখিত আছে যে, বাপ্তিস্ম হল যীশুর প্রতিরূপ যা আমাদের রক্ষা করে৷ যারা যীশুকে বিশ্বাস করে তাদের আমাদের বাপ্তিস্ম সমন্ধে নয় কিন্তু যীশুর বাপ্তিস্ম সমন্ধে জানা উচিত৷ আমাদের মত পাপীদের যীশুর বাপ্তিস্ম নুতন জন্ম দেয়৷ বিশ্বাস করুন, আর আপনি নুতন জন্ম গ্রহণ করবেন এবং পরিত্রাণের আশীর্বাদ পাবেন৷
আর পরিত্রাণ বোঝার দ্বারা আমরা যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে বিশ্বাস লাভ করি, আমরা রক্ষা পাই, ধার্মিক হই এবং অনন্তজীবন প্রাপ্ত হই৷ অন্য কথায়, যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে পরিত্রাণের সত্যে বিশ্বাস করি, তখন থেকে সব সময়ের জন্য আমাদের পাপ পরিস্কৃত হয়ে যায়৷
নুতন জন্ম হলো দ্বিতীয়বার জন্ম লাভ করা৷ সাধারণত আমাদের অধিকাংশ আমরা যীশুকে একটি সাধারণ ধর্মের মতো বিশ্বাস করতে আরম্ভ করি এবং যখন আমরা সত্য বুঝ্ত্ব পারি তখন বিশ্বাসের মাধ্যমে নুতন জন্ম হই৷ যীশু নামের অর্থ, “তিনিই আপন প্রজাদিগকে তাহাদের পাপ হইতে ত্রান করিবেন” (মথি ১:২১)৷
যখন আমরা যীশুকে বিশ্বাস করি এবং সঠিকভাবে জানি তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য কি করেছেন, তখন আমরা আমাদের পাপমুক্ত হই এবং জলন্ত কাষ্ঠখন্ডের মতো নুতন মানুষরূপে নুতন জন্ম লাভ করি৷ প্রথমে আমরা যীশুকে একটি সাধারণ ধর্মের মতো বিশ্বাস করি, তারপর যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের সুসমাচার শুনি ও বিশ্বাস করি, তখন আমরা নুতন জন্ম লাভ করি৷
কি সত্য যা আমাদের নুতন জন্ম দেয়? প্রথম, যীশুর বাপ্তিস্ম, তারপর তাঁর ক্রুশে রক্তসেচন এবং শেষে মৃত্যু থেকে তাঁর পুনরুত্থান৷ নুতন জন্মের অর্থ হল যীশুকে আমাদের ত্রাণকর্তা, ঈশ্বর রূপে বিশ্বাস করা৷ আসুন আমরা দেখি কিভাবে বাইবেলে পুরাতন নিয়মের লোকেরা নুতন জন্ম লাভ করত৷
 
 
বাইবেলের পুরাতন নিয়মে পাপের ক্ষতিপূরণ: হোমবলি উত্সর্গীকরণ ও তার মস্তকে হস্তার্পণ
 
বাইবেলে পুরাতন নিয়মে নুতন জন্মের সুসমাচার কি? আসুন প্রথমে, আমরা লেবীয় প্রথম অধ্যায় পড়ি এবং নুতন জন্ম সমন্ধে সেখানে কি বলা হয়েছে তা দেখি৷
লেবীয় ১:১-৫ পদ, “পরে সদাপ্রভু মোশিকে ডাকিয়া সমাগম তাম্বু হইতে এই কথা কহিলেন, তুমি ইস্রায়েল সন্তানগণকে কহ, তাহাদিগকে বল, তোমাদের কেহ যদি সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে উপহার উত্সর্গ করে, তবে সে পশুপাল হইতে অর্থাৎ গোরু কিম্বা মেষপাল হইতে আপন উপহার লইয়া উত্সর্গ করুক৷ যদি সে গোপাল হইতে হোমবলির উপহার দেয়, তবে নির্দোষ এক পুংপশু আনিবে; সদাপ্রভুর সম্মুখে গ্রাহ্য হইবার জন্য সমাগম তাম্বুর দ্বারসমীপে আনয়ন করিবে৷ পরে হোমবলির মস্তকে হস্তার্পণ করিবে; আর তাহা তাহার প্রায়শ্চিত্তরূপে তাহার পক্ষে গ্রাহ্য হইবে৷ পরে সে সদাপ্রভুর সম্মুখে সেই গোবত্স হনন করিবে, ও হারোনের পুত্র যাজকগণ তাহার নিকটে রক্ত আনিবে, এবং সমাগম তাম্বুর দ্বারসমীপে স্থিত বেদীর উপরে সেই রক্ত চারিদিকে প্রক্ষেপ করিবে৷”
লেবীয় পুস্তকে ঈশ্বর আমাদের বলেছেন কিভাবে ইস্রায়েলীয়রা হোমবলি উত্সর্গীকরণের মাধ্যমে ঈশ্বরের নিকটে একত্রিত হতেন, এটা হল সত্য যা আমাদের সকলের জানা ও বোঝা উচিত৷ যার জন্য আসুন আমরা এই বাক্য পর্যবেক্ষণ করি৷
ঈশ্বর মোশিকে সমাগম-তাম্বু থেকে ডেকেছিলেন এবং তার সাথে কথা বলেছিলেন৷ তখন ছিল ইস্রায়েলীয়দের পাপের প্রায়শ্চিত্তের সময়৷ জজ্খ্ন ইস্রায়েলের লোকেরা ঈশ্বরের অবাধ্য হয়ে পাপ করত তখন তারা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নির্দোষ পশু বলিদানের দ্বারা পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারত৷
এই হোমবলির পশুবলি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে হতে হত৷ এদের ঈশ্বর কর্তৃক স্থাপিত রীতিনীতি অনুসারেও উত্সর্গীকৃত হতে হত৷ হোমবলি এই নিয়ম অনুসারে হত৷
বাইবেলে পুরাতন নিয়মে, যদি সেই সময় কেউ পাপ করত, তাহলে তাদেরকে ঈশ্বরের সম্মুখে পাপ ক্ষমার জন্য একটি হোমবলি উত্সর্গ করতে হত৷ প্রথমত: হোমবলিটিকে নির্দোষ হতে হবে, আর তারপর পাপীকে সেটির উপরে হস্তার্পণ করতে হত যাতে তার পাপ এটির (পশুটির) উপরে বর্তায়৷
এটা হননের পর, এটার রক্ত যজ্ঞবেদীর উপরে রাখতে হত এবং বাকি রক্ত চারিদিকে নিক্ষেপ করতে হত৷ এটা ছিল পবিত্র সমাগম তাম্বুর ধর্মীয় রীতি যা ঈশ্বর তাঁর লোকদের পাপমোচনের আশীর্বাদ রূপে দিয়েছিলেন৷
তাদের “কি করা উচিত” আর “কি করা উচিত নয়” সেই সম্বলিত ঈশ্বরের নিয়ম ও আজ্ঞা ৬১৩ টি অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা আছে৷ ঈশ্বর তাঁর নিয়ম ও আজ্ঞা ইস্রায়েলের লোকেদের জন্য দিয়েছিলেন৷ যদিও লোকেরা জেনেছিল যে, ঈশ্বরের আদেশ ও আজ্ঞা সঠিক ছিল, কিন্তু তারা এগুলো মেনে চলত না কারণ প্রত্যকে আদমের বংশজাত বারো রকমের পাপ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল৷
এজন্য, তারা ঈশ্বরের সম্মুখে ভালো কিছু করার যোগ্যতা হারিয়েছিল৷ ইস্রায়েলীয়রা ধার্মিক হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছিল৷ বরং তারা প্রতিকার করত না কিন্তু পাপ করতে থাকত, এমন কি তখন তারা কঠোর চেষ্টা করত পাপ থেকে মুক্ত থাকার৷ এটা হল সমগ্র মানবজাতির অদৃষ্ট পাপী রূপে জন্মগ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করা৷
কিন্তু ঈশ্বর তাঁর অসীম কৃপায় তাঁর লোকেদের হোমবলির নিয়ম দিয়েছিলেন যা দ্বারা তারা তাদের পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে পারত৷তিনি পবিত্র সমাগম-তাম্বুর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সংস্থান করেছিলেন যাতে ইস্রায়েল ও সমগ্র পৃথিবীর মানুষ তাদের পাপ থেকে মুক্ত হতে পারে৷ তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য হোমবলির রীতির মাধ্যমে তাঁর ধার্মিকতার ভালবাসা প্রকাশ করে তিনি পৃথিবীকে পরিত্রাণের পথ দেখিয়েছিলেন৷
ঈশ্বর লোকেদের হোমবলির রীতি দিয়েছিলেন এবং লেবীয় যাজকদের ঘরে হোমবলির রীতি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন৷ ইস্রায়েলের বারোটি উপজাতির মধ্যে শুধুমাত্র ইস্রায়েলের লেবীয় যাজকদের মধ্যে এই রীতি প্রতিষ্ঠিত ছিল৷
মোশি ও হারোন ছিল লেবীয় বংশধর৷ এবং বাইবেলে পবিত্র সমাগম-তাম্বুর হোমবলি পরিচালনা করাবার নিয়ম-কানুন, হস্তার্পনের দ্বারা প্রায়শ্চিত্তের সুসমাচার লিখিত আছে৷
এজন্য, যখন আমরা সত্যিকারে লেবীয় হোমবলি উত্সর্গীকরণের ধর্মীয় রীতি বুঝতে পারি তখন আমরা নুতন জন্ম লাভ করি৷ এ কারণে আমাদের ঈশ্বরের বাক্য যা পবিত্র সমাগম-তাম্বুর হোমবলি নিয়ে লেখা তা পড়তে হবে৷ এটা হল বাইবেলের পুরাতন নিয়মের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ শেষে আমরা যখন নুতন নিয়মে আসি, তখন আমরা জল ও আত্মার মাধ্যমে নূতন জন্ম লাভ করি৷
 
 
পুরাতন নিয়মে পাপের প্রায়শ্চিত্ত
 
ঈশ্বরের গুণগুলো কি?
ন্যায়বিচার ও প্রেম
 
লেবীয় বংশ থেকে ঈশ্বর মোশিকে ডাকলেন, পবিত্র সমাগম-তাম্বু হতে, এবং তাঁর ভাই হারোণকে প্রধান যাজক রূপে প্রতিষ্ঠিত করলেন৷ হারোণকে লোকেদের পাপ হোমবলির উপরে বর্তাতে হত৷
এটা হল তাই যা ঈশ্বর মোশিকে বলেছিলেন, যা লেবীয় ১:২ পদে লিখিত আছে৷ “তুমি ইস্রায়েল সন্তানগণকে কহ, তাহাদিগকে বল, তোমাদের কেহ যদি সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে উপহার উত্সর্গ করে, তবে সে পশুপাল হইতে অর্থাৎ গোরু কিম্বা মেষপাল হইতে আপন উপহার লইয়া উত্সর্গ করুক৷” ঈশ্বর এখানে হোমবলির উপহার নির্দেশ করেছেন৷ যদি কেউ তার পাপের প্রায়শ্চিত্তের পথ খুঁজত তবে তাকে তার পশুপাল থেকে একটি গরু বা একটি মেষ উপহার দিতে হত৷
ঈশ্বর তাদের আরো বলেছিলেন, যদি সে গোপাল হইতে হোমবলির উপহার দেয়, তবে নির্দোষ এক পুংপশু আনিবে; সদাপ্রভুর সম্মুখে গ্রাহ্য হইবার জন্য সমাগম তাম্বুর দ্বারসমীপে আনয়ন করিবে (লেবীয় ১:৩)৷
হোমবলির তখনই ঈশ্বর কর্তৃক গ্রাহ্য হত যখন কোনো ব্যক্তি মনে করত যে, জীবনে সে তার পাপের জন্য মৃত্যুবরণ করে৷ ইস্রায়েলীয়রা তাদের পাপ পশুর মস্তকে হস্তার্পনের দ্বারা হস্তান্তরিত করতে পারত৷ সেই ব্যক্তির নিজের ইচ্ছার উপরে হোমবলির উপহার উত্সর্গীকৃত হতে হত৷ এখন, আসুন আমরা দেখি ৪ পদে কি বলা হয়েছে৷
“পরে হোমবলির মস্তকে হস্তার্পণ করিবে; আর তাহা তাহার প্রায়শ্চিত্তরূপে তাহার পক্ষে গ্রাহ্য হইবে৷”
এভাবে ঈশ্বর কর্তৃক উপহার গ্রাহ্য হত৷ যখন একজন পাপী তার হাত হোমবলির মস্তকে রাখত, তখন তার পাপ হোমবলির মস্তকে হস্তান্তরিত হত৷ এভাবে একজন পাপীকে তার হাত ঈশ্বরের সম্মুখে তার হাত উপহারের মস্তকে রাখতে হত, তারপর তিনি এটা গ্রহ্য করতেন এবং তাকে প্রায়শ্চিত্তের অনুমোদন দিতেন৷
সে উপহার নির্মানের পর পশুটিকে হত্যা করত এবং বেদীর উপরে সেই রক্ত রাখা হত আর বাকি রক্ত চারিদিকে নিক্ষেপ করা হত, তার পাপের মূল্য এবং পাপ থেকে মুক্ত হবার জন্য ঈশ্বরের আইন অনুযায়ী তাকে হোমবলি উত্সর্গ করতে হত৷
লেবীয়পুস্তক ১:৫ পদে এটা লেখা আছে, “ পরে সে সদাপ্রভুর সম্মুখে সেই গোবত্স হনন করিবে, ও হারোনের পুত্র যাজকগণ তাহার নিকটে রক্ত আনিবে, এবং সমাগম তাম্বুর দ্বারসমীপে স্থিত বেদীর উপরে সেই রক্ত চারিদিকে প্রক্ষেপ করিবে৷” সমাগম-তাম্বুর ভিতরে দ্বারের নিকটে অবস্থিত বেদীর শৃঙ্গের উপরে উপহারটি থাকত৷
হোমবলির উপরে হস্তার্পনের পর তার পাপ এটার উপর বর্তাত, পাপীকে উত্সর্গীকৃত পশুটিকে বলি দিতে হত, এবং যাজক এটার রক্ত শৃঙ্গের উপর ছিটিয়ে দিত৷ বেদীর শৃঙ্গে পাপের দন্ডাজ্ঞা আরোপিত হত৷ এভাবে, বেদির শৃঙ্গে এই রক্ত রাখার অর্থ ছিল যে, পশুটিকে পাপীর পক্ষে পাপের মূল্য দেবার জন্য রক্ত সেচন করতে হত৷ যখন ঈশ্বর বেদীর শৃঙ্গের রক্তের দিকে দৃষ্টিপাত করতেন, তখন তিনি পাপীদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেন৷
কেন পাপের উপহার রক্ত হল? কারণ “পাপের বেতন মৃত্যু” (রোমীয় ৬:২৩)৷ আর মাংসের জীবন হল রক্তের৷ এজন্য ইব্রীয়তে এটা লেখা আছে, “রক্তসেচন ব্যতিরেকে পাপের মোচন হয় না” (ইব্রীয় ৯:২২)৷ এভাবে পাপের উপহার রক্ত সেচনে ঈশ্বরের নিয়মের পরিপূর্ণতা হয় যা বলা হয়েছে যে, পাপের বেতন মৃত্যু৷
এরূপভাবে, উপহারকৃত রক্ত পাপীর দিক থেকে আসা উচিত, কিন্তু তার স্থানে পাপের উপহার রক্ত সেচন করে প্রায়শ্চিত্তের জন্য৷ তারপর যাজক বেদীর শৃঙ্গে রক্ত রাখে, চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করার জন্য যে, পাপের মূল্য পরিশোধিত হয়েছে৷
যদি আমরা বাইবেলে নুতন নিয়মে প্রকাশিত বাক্য ২০: ১১-১৫ পদ পর্যন্ত পড়ি তাহলে আমরা দেখি যে, শৃঙ্গের চিহ্ন জীবন পুস্তক৷ এজন্য শৃঙ্গের উপর রক্ত সেচন রাখা হল জীবনপুস্তকে রাখা৷ এটা প্রমান করার জন্য যে, পাপের দন্ডাজ্ঞা হস্তার্পনের দ্বারা সম্পন্ন করা হত, এবং রক্ত হল পাপের উপহার৷
 
 
দুই স্থানে পাপ লিপিবদ্ধ করা আছে
 
ঈশ্বরের সম্মুখে মানব জাতির পাপ দুই স্থানে লিপিবদ্ধ করা আছে৷ একটি তাদের চিত্তফলকে আর একটি জীবনপুস্তক ঈশ্বরের সম্মুখে খোলা আছে৷
যিরমিয় ১৭:১ পদে এটা লেখা আছে, “যিহূদার পাপ লৌহ লেখনী ও হীরকের কাঁটা দিয়া লিখিত হইয়াছে, তাহাদের চিত্তফলকে ও তাহাদের যজ্ঞবেদীর শৃঙ্গে তাহা ক্ষোদিত হইয়াছে৷”
লেবীয়পুস্তক ১৭:১১ পদে, এটা বলা হয়েছে, “কেননা রক্তের মধ্যেই শরীরের প্রাণ থাকে৷” রক্ত হল শরীরের প্রাণ, আর আমাদের পাপের মূল্য কেবল রক্ত দিয়ে শোধ হতে পারে৷ এজন্য বেদীর শৃঙ্গের উপর রক্ত রাখা হত৷ আর ব্যাবস্থানুসারে প্রায় সকলই রক্তে শুচিকৃত হয়, এবং রক্তসেচন ব্যতিরেকে পাপের মোচন হয় না (ইব্রীয় ৯:২২)৷
“ আর সে ঐ হোমবলির চর্ম্ম খুলিয়া তাহাকে খন্ড খন্ড করিবে৷ পরে হারোণ যাজকের পুত্রগণ বেদীর উপরে অগ্নি রাখিবে, ও অগ্নির উপরে কাষ্ঠ সাজাইবে৷ আর হারোণের পুত্র যাজকেরা সেই বেদীর উপরিস্থ অগ্নিও কাষ্ঠের উপরে তাহার খন্ডসকল এবং মস্তক ও মেদ রাখিবে৷ কিন্তু তাহার অন্ত্র ও পদ জলে ধৌত করিবে; পরে যাজক বেদীর উপরে সে সমস্ত দগ্ধ করিবে; ইহা হোমবলি, সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে সৌরাভার্থক অগ্নিকৃত উপহার” (লেবীয়পুস্তক ১:৬-৯)৷
তারপর যাজক হোমবলিটিকে খন্ড খন্ড করত এবং এগুলোকে বেদীর আগুনের উপরে সাজিয়ে রাখত৷ বর্তমানে এই ধর্মীয় রীতির অর্থ হল যে, যখন লোকেরা ঈশ্বরের সম্মুখে পাপ করত, তখন তাদের ঐভাবে মরতে ও রক্ত সেচন করতে হত আর নরকের আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে হত৷ যাহোক, হোমবলিই পাপের দন্ডাজ্ঞার ভার বহন করত, যাতে লোকেরা তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারত৷
ঈশ্বরের ব্যবস্থার ধর্মীয় রীতির দন্ডাজ্ঞা ছিল ধার্মিকের হোমবলির উপহার৷ ঈশ্বর তাঁর উত্তম ব্যবস্থাগুলি একত্রিত করেছিলেন, ধার্মিকতা ও প্রেমের ব্যবস্থা, ধর্মীয় রীতির দ্বারা সমগ্র মানব জাতির পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা৷
কেননা ঈশ্বর ধার্মিক, তাঁকে বিচার করতে হত এবং তাদের মৃত্যুর রায় দিতে হত৷ কিন্তু, কেননা তিনি তাঁর লোকেদের প্রেম করতেন, এজন্য তিনি তাদের পাপ উপহারের উপর প্রবাহিত হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন৷ নুতন নিয়মে, কারণ প্রভু আমাদের প্রেম করতেন, তাই বাপ্তাইজিত ও ক্রুশবিদ্ধ হয়ে আমাদের, পাপীদের পাপের জন্য উপহার দিয়েছিলেন৷ যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে তাঁর মৃত্যুবরণ জগতের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছিল৷
 
 
পুরাতন নিয়মে একদিনের পাপের প্রায়শ্চিত্ত
 
পুরাতন নিয়মে কাকে
নির্দোষ পাপের উপহারের প্রতীক
বলা হয়েছে?
যীশু খ্রীষ্ট
 
আসুন আমরা লেবীয়পুস্তক ৪:২৭ পদ থেকে পড়ি৷ “ আর সাধারণ লোকেদের মধ্যে যদি কেহ প্রমাদবশতঃ সদাপ্রভুর কোনো আজ্ঞানিষিদ্ধ কর্ম দ্বারা পাপ করিয়া দোষী হয়, তবে সে যখন আপনার কৃত পাপ জ্ঞাত হইবে, তখন আপনার কৃত সেই পাপের জন্য আপনার উপহার বলিয়া পালের মধ্য হইতে এক নির্দোষ ছাগী আনিবে৷ পরে ঐ পাপার্থক বলির মস্তকে হস্তার্পণ করিয়া হোমবলির স্থানে সেই পাপার্থক বলি হনন করিবে৷ পরে যাজক অঙ্গুলি দ্বারা তাহার কিঞ্চিত রক্ত লইয়া হোমবলির শৃঙ্গের উপরে দিবে, এবং তাহার সমস্ত রক্ত বেদীর মূলে ঢালিয়া দিবে৷ আর মঙ্গলার্থক বলি হইতে নীত মেদের ন্যায় তাহার সকল মেদ ছাড়াইয়া লইবে; পরে যাজক সদাপ্রভুর উদ্দেশে সৌরাভার্থে বেদীর উপরে তাহা দগ্ধ করিবে; এইরূপে যাজক তাহার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করিবে, তাহাতে তাহার পাপের ক্ষমা হইবে”৷ (লেবীয়পুস্তক ৪:২৭-৩১)
আদমের বংশধর ইস্রায়েল লোকেরা, এবং এই জগতের সমস্ত লোক, পাপে পূর্ণ হয়ে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিল৷ যার জন্য আমাদের হৃদয় পাপে পূর্ণ৷ একজন ব্যক্তির হৃদয়ে সব রকমের পাপ আছে: অশুভ চিন্তা, ব্যভিচার, খুন, চুরি, অপরাধ এবং বোকামী৷
যখন একজন পাপী একদিনের পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইত; তখন তাকে একটি নির্দোষ পশু পবিত্র সমাগম-তাম্বুতে আনতে হত৷ তারপর সে পশুটির উপর হস্তার্পণ করত যেন তার পাপ পশুটির উপর প্রবাহিত হয়, এরপর পশুটিকে হত্যা করা হত এবং এটার রক্ত যাজককে ঈশ্বরের সম্মুখে উপহারের জন্য দেওয়া হত৷ পরে যাজক হোমবলির বাকি কাজ সম্পাদন করত যাতে পাপী তার পাপের জন্য ক্ষমা পায়৷
ঈশ্বরের বিধি ও আজ্ঞা ব্যতীত, লোকেরা জানতে পারত না যে তারা পাপ করেছিল কিনা৷ যখন আমরা ঈশ্বরের বিধি ও আজ্ঞার মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে দেখি, তখন আমরা আমাদের পাপ শনাক্ত করতে পারি৷ আমাদের পাপের দন্ডাজ্ঞা আমাদের আদর্শে নয়, কিন্তু ঈশ্বরের বিধি ও আজ্ঞা দ্বারা হয়৷
ইস্রায়েলের সাধারণ লোকজন পাপ করতে চেয়েছিল বলে যে পাপ করেছিল তা নয়, বরং, যেহেতু তারা তাদের হৃদয়ে সব প্রকারের পাপ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল তাই তারা পাপ করেছিল৷ মানুষ পাপ করে তার দুর্বলতার কারণে যাকে লঙ্ঘন বলা হয়৷ মানব জাতির আদেশ লঙ্ঘন ও অপরাধ পাপের অন্তর্ভুক্ত৷
সকল মানুষই অসম্পূর্ণ স্বত্তা৷ যেমন ইস্রায়েলের লোকেরা অসম্পূর্ণ ছিল, তারা পাপী ছিল এবং পাপ করত৷ আমাদের সকল পাপ ও অপরাধ আমরা এই একই শ্রেণীভুক্ত করতে পারি৷ যখন আমাদের মনে অশুভ চিন্তা আসে, তখন এদের পাপ বলা হয়, আর যখন আমরা সেগুলিকে কাজে প্রকাশ করি, তখন এদের বলা হয় গন্ডি অতিক্রম করা৷ এই জগতে উভয় প্রকার পাপই অন্তর্ভুক্ত৷
পুরাতন নিয়মে, হোমবলির মস্তকে হস্তার্পণ দ্বারা পাপ হস্তান্তর করা হত৷ এরপর পাপী মুক্ত হত এবং তাকে এর জন্য মরতে হত না৷ এভাবে হোমবলি পদ্ধতি ঈশ্বরের ন্যায় বিচার ও প্রেমের অবিচ্ছেদ্য অংশ৷
কেননা প্রথমে আমরা ধুলিমাত্র ছিলাম, ঈশ্বর পৃথিবীতে আমাদের সৃষ্টি করেছিলেন৷ বেদীর শৃঙ্গে রক্ত ঢালা এবং বাকি অংশ বেদীর উপরে রাখার অর্থ ছিল যে, ইস্রায়েলীয়রা তাদের পাপের খেসারত দিয়েছিল ও তাদের চিত্তফলক থেকে সমস্ত পাপ মুছে ফেলেছিল৷
পরে যাজক ঈশ্বরের উদ্দেশে সৌরাভার্থক অগ্নিদগ্ধকৃত উপহারের জন্য বেদীর উপরে মেদ দগ্ধ করবে৷ বাইবেলে মেদ-এর অর্থ হল পবিত্র আত্মা৷ এ কারণে আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য ঈশ্বর যেভাবে আদেশ করেছিলেন আমাদের এটা সেভাবে করতে হবে৷ ঈশ্বর যেভাবে বিবেচনা করেন আমাদের অন্তরেও পাপের প্রায়শ্চিত্ত সেভাবে গ্রহণ করতে হবে৷
ঈশ্বর ইস্রায়েলের লোকেদের বলেছিলেন, পাপের উপহার হওয়া উচিত একটি মেষ, ছাগল বা গরু৷ পুরাতন নিয়মে পাপের উপহার একটি মনোনীত প্রাণী হতো৷গোবত্স নিস্পাপ প্রাণী৷ পাপের উপহার হতে হত এর কারণ ছিল যে, এগুলো ছিল যীশু খ্রীষ্টের প্রকাশ করা যিনি সমগ্র মানবজাতির পাপের উপহার হবার জন্য পবিত্র আত্মার শক্তিতে গর্ভে ধারিত হয়েছিলেন৷
পুরাতন নিয়মে, লোকেরা নিস্পাপ উপহারের উপরে হস্তার্পনের দ্বারা তাদের পাপ হস্তান্তর করেছিল৷ যাজকরা তাদের পাপের খেসারতের জন্য হোমবলি করত৷ এভাবেই ইস্রায়েলের লোকেরা তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছিল৷
 
 
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রায়শ্চিত্তের দিন
 
কেন ইস্রায়েলের
লোকেরা প্রায়শ্চিত্তের দিনে
হোমবলি উত্সর্গ করত?
কেননা তারা মৃত্যু পর্যন্ত পাপ করত
প্রতিদিনের উপহার ঈশ্বরের সম্মুখে
তাদের পাপমুক্ত করত না৷
 
যাহোক, তাদের যেমন পাপের জন্য সব সময় হোমবলি করতে হত, তেমন তাদের প্রায়শ্চিত্তের জন্য যত হোমবলি লাগত তা সরবরাহ করাও অসম্ভব ছিল ৷ সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই তারা অবহেলিত হত৷ তাদের প্রতিদিনের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা এটা তাদের কাছে একটা অশেষ কাজের মত মনে হত, এবং মনে করত যে, তারা সকলে একত্রে এই ধর্মীয় রীতি থেকে দুরে সরে যাবে৷
আমরা কতটা কঠোর চেষ্টা করি এটা কোনো ব্যাপার না, আমরা কখনও আমাদের সকল পাপের জন্য যথেষ্ঠ হোমবলি উত্সর্গ করিনি৷ এজন্য আমাদের পাপের জন্য সত্য ক্ষতিপুরন আমাদের আন্তরিক বিশ্বাসের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে, ঈশ্বরের পরিত্রাণের নিয়মে, যা ঈশ্বর আমাদের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন৷
কারণ আমাদের দুর্বলতায়, এটা কোনো বিষয় নয় আমরা ঈশ্বরের নিয়ম অনুযায়ী কতটা কঠোর চেষ্টা করি বাঁচার জন্য, আমরা কেমন দুর্বল ও অসম্পূর্ণ এজন্য আমাদের শুধু আরো সতর্ক থাকতে হবে৷ এজন্য ঈশ্বর ইস্রায়েলের লোকেদের জন্য একটি সারা বছরের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার উপায় দিয়েছিলেন (লেবীয়পুস্তক ১৬:১৭-২২)৷
এটা লেবীয়পুস্তকে লেখা আছে, “ তোমাদের নিমিত্ত ইহা চিরস্থায়ী বিধি হইবে; সপ্তম মাসের দশম দিনে স্বদেশী কিম্বা তোমাদের মধ্যে প্রবাসকারী বিদেশী, তোমরা আপন আপন প্রাণকে দুঃখ দিবে ও কোনো ব্যবসায় কর্ম করিবে না৷ কেননা সেই দিন তোমাদিগকে শুচি করণার্থে তোমাদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করা যাইবে; তোমার সদাপ্রভুর সম্মুখে আপনাদের সকল পাপ হইতে শুচি হইবে৷ তাহা তোমাদের বিশ্রামার্থক বিশ্রামদিন; এবং তোমরা আপন আপন প্রাণকে দুঃখ দিবে; ইহা চিরস্থায়ী বিধি” (লেবীয়পুস্তক ১৬:২৯-৩১)৷
এভাবে, বছরে একবার ইস্রায়েলের লোকেরা মনে শান্তি পেত, যখন প্রধান যাজক সপ্তম মাসের দশম দিনে, সারাবছর ইস্রায়েলের লোকেরা যা পাপ করত তার প্রায়শ্চিত্তের নিমিত্ত হোমবলি উত্সর্গ করত৷ তাদের পাপ ধৌত হয়ে যেত, ঐ দিন তারা মনে শান্তি পেত৷
সপ্তম মাসের দশম দিনে, প্রধান যাজক হারোণকে সকল ইস্রায়েলের প্রতিনিধিস্বরূপ প্রায়শ্চিত্তের হোমবলি উত্সর্গ করতে হত৷ এ সময়, অন্যান্য যাজকগণ পবিত্র সমাগম তাম্বুতে প্রবেশ করতে পারত না৷ প্রথমত হারোনকে তার নিজের ও পরিবারের হোমবলি উত্সর্গ করতে হত, ইস্রায়েলের বাকি লোকেদের প্রায়শ্চিত্ত করার পূর্বেই কারণ সে ও তার পরিবারও পাপ করেছিল৷
তিনি এরূপ লোকেদের জন্য হোমবলি উত্সর্গ করতেন, “ পরে সেই দুইটি ছাগ লইয়া সমাগম-তাম্বুর দ্বারসমীপে সদাপ্রভুর সম্মুখে উপস্থিত করিবে৷ পরে হারোণ ঐ দুইটি ছাগের বিষয়ে গুলিবাঁট করিবে; এক গুলি সদাপ্রভুর নিমিত্ত, ও অন্য গুলি ত্যাগের নিমিত্তে হইবে৷ গুলিবাঁট দ্বারা যে ছাগ সদাপ্রভুর নিমিত্তে হয়, হারোণ তাহাকে লইয়া পাপার্থে বলিদান করিবে৷ কিন্তু গুলিবাঁট দ্বারা যে ছাগ ত্যাগের নিমিত্তে হয়, সে যেন ত্যাগের নিমিত্তে প্রান্তরে প্রেরিত হইতে পারে, তন্নিমিত্ত তাহার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করণার্থে সদাপ্রভুর সম্মুখে তাহাকে জীবিত উপস্থিত করিতে হইবে” (লেবীয়পুস্তক ১৬:২৭-৩১)৷
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নিজের ও নিজের কুলের প্রায়শ্চিত্তের কাজ সম্পাদনের পরে, হারোণ “দুইটি ছাগের বিষয়ে গুলিবাঁট করত৷” একগুলি ছিল সদাপ্রভুর নিমিত্তে এবং অন্য গুলিটি ছিল ত্যাগের নিমিত্ত ""Azazel'' অ্যাজাজেল৷
প্রথম, দুইটি ছাগের মধ্যে একটি ঈশ্বরের উদ্দেশে উত্সর্গ করতে হত৷ এখানে, লোকেরা সারাবছর যে পাপ করেছে তা হস্তান্তরের জন্য তাদের পক্ষ থেকে প্রধান যাজক ছাগের উপরে হস্তার্পণ করতেন৷
মহাপবিত্র স্থানের ভিতরে অনুগ্রহের সিংহাসনে রক্ত আনা হত, এবং সাতবার ছিটানো হত৷ ইস্রায়েলের লোকেরা তাদের গত সারা বছরের সমস্ত পাপের ক্ষমা পেত৷ ইস্রায়েলের লোকেদের পাপের নিমিত্ত মৃত্যুর পরিবর্তে প্রধান যাজক হারোণ পাপার্থক বলির উপরে হস্তার্পণ করতেন এবং এই পাপার্থক বলিটি তাদের পাপের দন্ডাজ্ঞা বহন করত৷ তারপর তিনি অন্য জীবিত ছাগলটিকে ঈশ্বরের সম্মুখে বলি দিতেন৷ এটাই ছিল হোমবলি যা লোকেরা চালিয়ে যেত৷
 
 
মানুষের নিমিত্ত
 
লোকেদের সামনে হারোণ ছাগের উপরে হস্তার্পণ করত এবং ঈশ্বরের সম্মুখে দোষ স্বীকার করত৷ “প্রভু ইস্রায়েলের লোকেরা খুন, চুরি, লোভ, প্রতারণা করেছে.... এবং তারা মূর্তির সম্মুখে মাথা নত করেছে৷ তারা বিশ্রামদিন পবিত্র করেনি, তারা তোমাকে আমার নাম বলেছে এবং তারা তোমার নিয়ম ও আজ্ঞার সমস্ত অনুচ্ছেদ ভেঙ্গে ফেলেছে৷” তারপর তিনি হাত উঠিয়ে নিতেন৷ এইভাবে লোকেদের সারা বছরের পাপ, পাপার্থক বলির উপরে হস্তান্তরিত হত৷
আসুন আমরা লেবীয়পুস্তক ১৬:২১ পদ পড়ি৷ “ পরে হারোণ সেই জীবিত ছাগের মস্তকে আপনার দুই হস্ত অর্পণ করিবে, এবং ইস্রায়েল সন্তানগনের সমস্ত অপরাধ ও তাহাদের সমস্ত অধর্ম অর্থাৎ তাহাদের সর্ববিধ পাপ তাহার উপরে স্বীকার করিয়া সেসমস্ত ঐ ছাগের মস্তকের উপরে অর্পণ করিবে; পরে যে প্রস্তুত হইয়াছে, এমন লোকের হস্ত দ্বারা তাহাকে প্রান্তরে পাঠাইয়া দিবে৷” এরপর ত্যাগের নিমিত্ত ছাগটি প্রান্তরে বেড়াতে এবং ইস্রায়েলের লোকেদের পাপভার মাথায় নিয়ে মারা যেত, “অ্যাজাজেল” হীব্রুতে, অর্থ “নির্বাসিত করা”৷ এর অর্থ হল যে, পাপার্থক বলি ইস্রায়েলের সমস্ত লোকেদের স্থানে ঈশ্বরের সম্মুখে বাহিরে নিক্ষিপ্ত হত৷
এ কারণে, ইস্রায়েলের পাপ ত্যাগের নিমিত্ত প্রান্তরে প্রেরিত ছাগের উপরে বর্তাত, হারোণের হস্তার্পনের মাধ্যমে৷ এভাবে ইস্রায়েলীয়রা তাদের পাপের নিমিত্ত ক্ষমা পেত৷ যখন তারা, দেখত প্রধান যাজক ছাগের উপরে হস্তার্পণ করেছে এবং এটি প্রান্তরে প্রেরিত হয়েছে, তখন ইস্রায়েলের সব লোক যারা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রায়শ্চিত্তে বিশ্বাস করত, তারা নিশ্চিত হত যে তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়েছে৷ পুরাতন নিয়মের সমস্ত ধর্মীয় রীতি ছিল নুতন নিয়মের নুতন জন্মের সুসমাচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ৷
পুরাতন নিয়মে, হস্তার্পণ ও হোমবলির রক্ত ছিল পাপ থেকে পরিত্রাণের সুসমাচার৷ মৌলিকভাবে নুতন নিয়মেও এটা একইভাবে উল্লিখিত৷
 
 
 নুতন নিয়মে পাপমোচনের সুসমাচার
 
নুতন নিয়মে, কিভাবে মানুষের সকল পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়েছে?
এটা মথিতে লিখিত আছে, ১:২১-২৫ পদ “ আর তিনি পুত্র প্রসব করিবেন, এবং তুমি তাঁহার নাম যীশু [ত্রাণকর্তা] রাখিবে; কারণ তিনিই আপন প্রজাদিগকে তাহাদের পাপ হইতে ত্রান করিবেন৷ এই সকল ঘটিল, যেন ভাববাদী দ্বারা কথিত প্রভুর এই বাক্য পূর্ণ হয়, “দেখ সেই কন্যা গর্ভবতী হইবে, এবং পুত্র প্রসব করিবে, আর তাঁহার নাম রাখা যাইবে ইম্মানুয়েল;” অনুবাদ করিলে ইহার অর্থ, ‘আমাদের সহিত ঈশ্বর’৷ পরে যোষেফ নিদ্রা থেকে উঠিয়া, প্রভুর দূত তাঁহাকে যেরূপ আদেশ করিয়াছিলেন, সেইরূপ করিলেন, আপন স্ত্রীকে গ্রহণ করিলেন; আর যে পর্যন্ত ইনি পুত্র প্রসব না করিলেন, সেই পর্যন্ত যোষেফ তাঁহার পরিচয় লইলেন না, আর তিনি পুত্রের নাম যীশু রাখিলেন৷”
সমগ্র মানবজাতিকে পাপ থেকে রক্ষা করতে আমাদের প্রভু এই পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন ইম্মানুয়েল নামে৷ যার কারণে, তাঁর নাম যীশু হয়েছে৷ যীশু এই জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিতে এসেছিলেন৷ তিনি মানুষরূপে এসেছিলেন, মানবজাতির ত্রাণকর্তা হয়ে৷ তিনি আমাদের পরিত্রাণ সম্পূর্ণ করেছেন এবং চিরদিনের জন্য পাপ থেকে মুক্ত করেছেন৷
 
 
নুতন জন্মের সুসমাচার
 
আর কিভাবে যীশু আমাদের সকল পাপ থেকে মুক্ত করেছেন? তিনি এটা তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে করেছেন৷ আসুন আমরা মথি ৩: ১৩ পদ দেখি৷
“তত্কালে যীশু যোহন দ্বারা বাপ্তাইজিত হইবার জন্য গালীল হইতে যর্দ্দনে তাঁহার কাছে আসিলেন৷ কিন্তু যোহন তাঁহাকে বারণ করিতে লাগিলেন, বলিলেন, আপনার দ্বারা আমারই বাপ্তাইজিত হওয়া আবশ্যক, আর আপনি আমার কাছে আসিতেছেন? কিন্তু যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত৷ তখন তিনি তাঁহার কথায় সম্মত হইলেন৷ পরে যীশু বাপ্তাইজিত হইয়া অমনি জল হইতে উঠিলেন; আর দেখ তাঁহার নিমিত্ত স্বর্গ খুলিয়া গেল, এবং তিনি ঈশ্বরের আত্মাকে কপোতের ন্যায় নামিয়া আপনার উপরে আসিতে দেখিলেন৷ ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাতেই আমি প্রীত৷”’
নুতন নিয়মে, যখন যীশুর ত্রিশ বছর বয়স হল, তখন তিনি যর্দনে যোহন বাপ্তাইজকের নিকটে এসেছিলেন৷ তিনি তার দ্বারা বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং সমস্ত পাপীর পাপ তুলে নিয়েছিলেন৷ এটা করার দ্বারা, তিনি ঈশ্বরের ধার্মিকতা পরিপূর্ণ করেছিলেন৷
 
 
যীশু কেন যর্দনে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন?
 
সুসামাচারে কি প্রকাশিত হয়েছে?
ঈশ্বরের ধার্মিকতা
 
এখন আসুন আমরা জ্ঞাত হই কখন স্বর্গীয় মহাযাজক মানবজাতির শেষ মহাযাজকের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন৷ এখানে, আমরা বাপ্তিস্মের মাধ্যমে ঈশ্বরের ধার্মিকতা দেখতে পারি, যা জগতের সমস্ত পাপের প্রায়শ্চিত্তের নিমিত্ত করা হয়েছিল৷
যোহন বাপ্তাইজক, যিনি যীশুকে বাপ্তিস্ম দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন স্ত্রীলোকের গর্ভজাত সকলের মধ্যে মহান৷ যীশু এটা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন মথি ১১:১১ পদে, “স্ত্রীলোকের গর্ভজাত সকলের মধ্যে যোহন বাপ্তাইজক হইতে মহান কেহই উত্পন্ন হয় নাই৷” প্রায়শ্চিত্তের দিনে মহাযাজক হারোণ যখন পাপার্থক বলির উপরে হস্তার্পণ করতেন যেমন লোকেদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেন, নুতন নিয়মে ঠিক তেমনি পাপীদের সমস্ত পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়েছে যখন যীশু যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন৷
নুতন জন্মের সুসমাচার আমাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল পাপের সম্পূর্ণ প্রায়শ্চিত্তের সুসমাচার৷ এজন্য, ঈশ্বর তাঁর ধার্মিকতার পরিপূর্ণতার জন্য এই সুসমাচার, যা জগতের সমস্ত মানুষকে রক্ষা করেছে৷ যীশু জগতের পাপের প্রায়শ্চিত্তের নিমিত্ত সবচেয়ে সঠিক নিয়মে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন৷
“সমস্ত ধার্মিকতার” সম্পূর্ণ অর্থ কি? এর অর্থ হল ঈশ্বর সবচেয়ে সঠিক নিয়মে জগতের সকল পাপ ধৌত করেছিলেন৷ সমগ্র মানবজাতির পাপ ধৌত করার জন্য যীশু বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন৷
“ কারণ ঈশ্বর দেয় এক ধার্মিকতার সুসমাচার প্রকাশিত হইতেছে, তাহা বিশ্বাসমূলক ও বিশ্বাসজনক” (রোমীয় ১:১৭)৷
ঈশ্বরের ধার্মিকতা তাঁর সংকল্পের মধ্যে দেখা যায়, যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ ও ক্রুশে মৃত্যুবরণের মাধ্যমে জগতের সমস্ত পাপ ধৌত করেছিলেন তাঁর নিজ পুত্রকে পাঠিয়ে৷
নুতন নিয়মে, যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তের মাধ্যমে ঈশ্বরের ধার্মিকতা প্রকাশিত হয়েছে৷ আমরা ধার্মিক হয়েছি কারণ যীশু প্রায় দুহাজার বছর আগে সমগ্র মানবজাতির পাপ যর্দনে নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন৷ যখন আমরা ঈশ্বরের পরিত্রাণ আমাদের অন্তরে গ্রহণ করি, তখন ঈশ্বরের ধার্মিকতা সত্যিকাররূপে পরিপূর্ণতা লাভ করে৷
“কিন্তু যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত৷ তখন তিনি তাঁহার কথায় সম্মত হইলেন৷ পরে যীশু বাপ্তাইজিত হইয়া অমনি জল হইতে উঠিলেন; আর দেখ তাঁহার নিমিত্ত স্বর্গ খুলিয়া গেল, এবং তিনি ঈশ্বরের আত্মাকে কপোতের ন্যায় নামিয়া আপনার উপরে আসিতে দেখিলেন৷ ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাতেই আমি প্রীত৷”’ (মথি ৩:১৫-১৭)৷
এই অনুচ্ছেদটি প্রকাশ করে যে, ঈশ্বর নিজেই প্রকৃত ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তাঁর পুত্রের বাপ্তিস্ম সমস্ত ধার্মিকতার পরিত্রাণ সম্পন্ন করে৷ তিনি আমাদের বলেছিলেন, “যীশু, যিনি যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তিনি এখন সত্যিকারে আমার পুত্র৷” ঈশ্বর সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, সমগ্র মানবজাতির প্রায়শ্চিত্তের নিমিত্ত তাঁর পুত্র, যীশুর পবিত্র কাজ বিফল না হয়৷
যীশু ঈশ্বরের পুত্র এবং জগতের পাপীদের ত্রাণকর্তা৷ ঈশ্বর বলেছিলেন, “ইহাতেই আমি প্রীত”৷ এটাই সত্য যে, যীশু তাঁর পিতার ইচ্ছার বাধ্য ছিলেন এবং বাপ্তিস্মের মাধ্যমে মানবজাতির সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন৷
বাপ্তিস্ম শব্দের অর্থ “ধৌত করা”, “প্রবাহিত করা”, “সমাধিস্থ করা”৷ কেননা যীশু যখন বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, আমাদের সব পাপ তাঁর উপরে বর্তে ছিল, আমাদের সকলকে বিশ্বাস করতে হবে সুসমাচার যা আমাদের পৃথিবীর সকল পাপ থেকে উদ্ধার করেছিল৷
পুরাতন নিয়মের পরিত্রাণের সব ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণভাবে সম্পাদিত হয়েছিল নুতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে৷ এজন্য চূড়ান্তভাবে ভবিষ্যদ্বাণী শেষ অংশ নুতন বাইবেলের নূতন নিয়মে পাওয়া যায়৷ পুরাতন নিয়মে, যেমন বছরে একবার ইস্রায়েলের লোকেরা তাদের পাপের নিমিত্ত প্রায়শ্চিত্ত করত, তেমনি নুতন নিয়মে, চিরদিনের জন্য মানুষের পাপ ও প্রায়শ্চিত্ত যীশুর উপরে বর্তেছিল৷
লেবীয়পুস্তক ১৬:২৯ পদ হচ্ছে মথি ৩:১৫ পদের অনুরূপ৷ যীশু জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিয়ে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন৷ তাঁর বাপ্তিস্মের জন্য ধন্যবাদ জানাই; যারা তাঁর অনন্ত ক্ষমায় বিশ্বাস করেন, তারা পাপ মুক্ত হয়েছেন; তাদের চিত্তফলক হতে সমস্ত পাপ মুছে গেছে৷
আপনি যদি আপনার অন্তর দিয়ে জানতে ও বিশ্বাস করতে না পারেন, যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে মৃত্যুবরণ, তাহলে আপনি কখনই আপনার পাপ পরিস্কৃত করতে পারবেন না, এটা কোনো বিষয় নয় যে, আপনি কতটা ধার্মিক জীবনযাপন করেন৷ শুধুমাত্র যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে ঈশ্বরের বাক্য সম্পন্ন হয়েছে এবং আমাদের পাপ মুছে গেছে৷ আমাদের সকল পাপের ক্ষতিপূরণ সত্য পরিত্রাণের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, অন্য কথায়, যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে৷
এই মন নিয়ে আপনি কি করবেন? আপনি কি অন্তরে এই পরিত্রাণ গ্রহণ করবেন? না-কি করবেন না? এটা মানুষের বাক্য না, কিন্তু ঈশ্বরের বাক্য৷ যীশু ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, কারণ তিনি আমাদের সকল পাপ তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তুলে নিয়েছিলেন৷ আপনি কি একমত নন যে, তাঁর বাপ্তিস্মের ফল ছিল ক্রুশবিদ্ধ হওয়া?
এটা রোমীয় ৮:৩-৪ পদে লেখা আছে, “কারণ ব্যবস্থা মাংস দ্বারা দুর্বল হওয়াতে যাহা করিতে পারে নাই, ঈশ্বর তাহা করিয়াছেন, নিজ পুত্রকে পাপময় মাংসের সাদৃশ্যে এবং পাপার্থক বলিরূপে পাঠাইয়া দিয়া মাংসে পাপের দন্ডাজ্ঞা করিয়াছেন, যেন আমরা যাহারা মাংসের বশে নয়, কিন্তু আত্মার বশে চলিতেছি, ব্যবস্থার ধর্মবিধি সেই আমাদিগেতে সিদ্ধ হয়৷”
কেননা আমরা মাংসিক দুর্বলতার কারণে ঈশ্বরের নিয়ম ও আজ্ঞা পালন করিতে পারি না, যীশু আমাদের সমস্ত মাংসিক পাপ তাঁর নিজের দ্বারা তুলে নিয়েছিলেন৷ এটাই হল যীশুর বাপ্তিস্মের সত্যতা৷ যীশুর বাপ্তিস্ম পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল তাঁর ক্রুশের মৃত্যুবরণের জন্য৷ এটা হচ্ছে ঈশ্বরের মূল সুসামাচারের বিচক্ষণতা৷
আপনি যদি শুধুমাত্র যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যুবরণে বিশ্বাস করেন, তাহলে এখন ফিরে আসুন ও আপনার অন্তরে যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে পরিত্রাণের সুসমাচার গ্রহণ করুন, তখন, শুধুমাত্র তখনই, আপনি ঈশ্বরের প্রকৃত সন্তান হতে পারেন৷
 
 
মূল সুসমাচার
 
মূল সুসমাচার কি?
জল ও আত্মার সুসমাচার
 
মূল সুসমাচার হচ্ছে, পাপের প্রায়শ্চিত্তের সুসমাচার৷ এই সুসমাচার হল যীশুর বাপ্তিস্ম, মৃত্যু এবং পুনরুত্থানে যা ঈশ্বর আমাদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন৷ যীশু খ্রীষ্ট একসময় যর্দনে বাপ্তাইজিত হয়ে আমাদের সকল পাপ ধৌত করেছিলেন, এবং তাঁর দত্ত এই পরিত্রাণ তাদের জন্য যারা তাঁর এই সত্যে বিশ্বাস করে৷ আমাদের বিশ্বাসের কারণে, আমাদের ভবিষ্যতের সকল পাপও ধৌত হয়ে গেছে৷
এখন, যে কেউ যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশে রক্ত সেচনে বিশ্বাস করে, সে চিরদিনের জন্য জগতের সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়েছে৷ আপনি কি বিশ্বাস করেন? যদি আপনার উত্তর হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি, আপনি প্রকৃতই ধার্মিক হবেন৷
আসুন আমরা সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করি করি যা যীশুর বাপ্তাইজিত হবার পর ঘটেছিল৷ যোহন ১:২৯ পদে, এটা লিখিত আছে, “ঐ দেখ! ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান!”
যোহন বাপ্তাইজক সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, যীশু ঈশ্বরের মেষশাবক ছিলেন, যিনি জগতের পাপভার তুলে নিয়েছিলেন৷ যোহন বাপ্তাইজক যখন যর্দনে যীশুকে অবগাহিত করেছিলেন তখন তিনি জগতের সমস্ত পাপ যীশুর উপর দিয়েছিলেন বস্তুতপক্ষে, কেননা যোহন বাপ্তাইজক নিজে যীশুকে অবগাহিত করেছিলেন, তাই তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, “ঐ দেখ! ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান!” যীশু বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন ও জগতের পাপ তুলে নিয়েছিলেন এবং এটাই হল নুতন জন্মের সুসমাচার৷
 

“ঐ দেখ! ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান!” (যোহন ১:২৯)৷ যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে জগতের সমস্ত পাপভার তুলে নিয়েছিলেন৷
আপনি আপনার জন্ম থেকে দশম জন্মদিন পর্যন্ত সে সকল পাপ করেছিলেন তা সবই এই জগতের পাপের অন্তর্ভুক্ত৷ আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, আপনার ঐ সকল পাপ যীশুর উপর বর্তেছিল? হ্যাঁ, আমি করি৷- আপনার ১১ থেকে ২০ বছরের পাপের খবর কি? আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, আপনার ঐ ঐ পাপগুলোও যীশুর উপর বর্তেছিল? হ্যাঁ, আমি করি৷
জগতের যে পাপ আছে আপনি কি ভবিষ্যতে তা করবেন? হ্যাঁ সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত৷- তাহলে, সেগুলো কি যীশুর উপর বর্তাবে? আপনি কি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, আপনার সমস্ত পাপই যীশুর উপর বর্তেছিল? হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি৷- আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে জগতের সকল পাপ তাঁর উপর বর্তেছিল? হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি৷-
আপনি কি সত্যিই জগতের পাপ থেকে রক্ষা পেতে চান? যদি আপনি চান, তাহলে যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচনের সুসামাচারে বিশ্বাস করুন৷ একবার আপনি বিশ্বাস করুন, আপনি পাপমুক্ত হবেন৷ এটা কি আপনি বিশ্বাস করেন? পরিত্রাণের নুতন জন্মের সত্য হল এটা৷ যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত সেচন হল নুতন জন্মের মূল সুসমাচার৷ এটা হল জগতের সমস্ত পাপীদের জন্য ঈশ্বর প্রদত্ত আশীর্বাদ৷
যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশীয় রক্তের মাধ্যমে পরিত্রাণের নুতন জন্মে বিশ্বাস করা, তাঁর প্রেমের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়েছে, সত্য বিশ্বাস ও প্রকৃত ভাবে নুতন জন্ম লাভ করা৷ নুতন জন্মের প্রতীক হল যীশুর জল ও রক্ত৷ আপনাকে শুধু বাইবেলে লিখিত বাক্যের সত্যতা গ্রহণ করতে হবে৷
 
 
ধর্ম ও বিশ্বাস
 
নুতন জন্মের কি সাক্ষ্য
আমাদের হৃদয়ে আছে?
যা যীশু তাঁর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে রক্ত
সেচনের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত
পাপ মুছে দিয়েছিলেন
 
ঈশ্বরের শুদ্ধ বাক্য প্রত্যাহার করে, একজনের মতে, ধর্ম বিশ্বাস হল তার নিজের চিন্তাধারা৷ যাহোক পাপ থেকে পরিত্রাণ হল তার নিজের চিন্তাধারার একটি অংশ৷ একজনের মতে, বিশ্বাস হল বাইবেলের নুতন ও পুরাতন নিয়মের সব বাক্যে বিশ্বাস করা, অন্যকারো মতে, এই চিন্তাধারা অস্বীকার করা৷ বাইবেলে যেমন লেখা আছে এটা সেভাবে নেওয়া এবং জল ও রক্তের মাধ্যমে পরিত্রাণ গ্রহণ করা; যীশুর বাতিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্ত সেচনে৷ মূল সুসমাচারের সত্যতা অন্তরে গ্রহণ করার দ্বারা একজন পাপ থেকে রক্ষা পেতে পারেন৷
যীশুর বাপ্তিস্ম ব্যতীত আমাদের পাপ ধৌত হয় না, আর যীশুর ক্রুশে রক্ত সেচন ব্যতীত আমাদের পাপের ক্ষমা হয় না৷ যীশুকে ক্রুশে দেওয়া ও তাঁর ক্রুশে রক্ত সেচনের পূর্বেই আমাদের সকল পাপ তাঁর উপর বর্তেছিল৷ যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশে রক্ত সেচনে বিশ্বাস করি, নুতন জন্মের সুসমাচার দ্বারা তখন আমরা জগতের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হই৷
সত্য বিশ্বাস হল যে, যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সমস্ত পাপ সম্পূর্ণরূপে পরিস্কৃত করেছিলেন বাপ্তাইজিত হয়ে; এটা বিশ্বাস করা যে, তিনি আমাদের সমস্ত পাপের দন্ডাজ্ঞা ক্রুশে তুলে নিয়েছিলেন৷ আমাদের ঈশ্বরের পরিত্রাণের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করতে হবে৷ ঈশ্বর আমাদের সবাই কে এতই ভালবাসেন যে, তিনি যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্তের মাধ্যমে আমাদেরকে পাপমুক্ত করেছিলেন৷ যখন আমরা এই সুসামাচারে বিশ্বাস করি, তখন আমরা আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হই, দন্ডাজ্ঞা থেকে রেহাই পাই এবং ঈশ্বরের সম্মুখে ধার্মিক হই৷
“প্রভু, আমি বিশ্বাস করি৷ আমি পরিত্রাণের অনুপযুক্ত, কিন্তু আমি যীশুর বাপ্তিস্ম, তাঁর ক্রুশারোহন ও পুনরুত্থানের সুসামাচারে বিশ্বাস করি৷” আমাদের কেবল প্রভুকে তাঁর আশীর্বাদের নুতন জন্মের সুসামাচারের জন্য ধন্যবাদ দিতে হবে৷ সত্য বিশ্বাস হল নুতন জন্মের মূল সুসামাচারে বিশ্বাস করা৷
নুতন জন্মের সত্যতা হল এই ; “অতএব বিশ্বাস শ্রবণ হইতে এবং শ্রবণ খ্রীষ্টের বাক্যের দ্বারা হয়” (রোমীয় ১০:১৭)৷ “ আর তোমরা সেই সত্য জানিবে, এবং সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে” (যোহন ৮:৩১)৷ আমাদের সঠিকভাবে সত্য জানতে হবে এবং আমাদের জল, রক্ত ও আত্মার সত্যে বিশ্বাস করতে হবে যা এর সাক্ষ্য বহন করে (১ যোহন ৫:৫-৮)৷
“সত্য আপনাকে স্বাধীন করবে৷” এই বাক্যগুলো হল যীশুর জল ও রক্ত সমন্ধে৷ আপনি কি স্বাধীন হয়েছেন? আপনি কি ধার্মিক না বিশ্বাসী? যীশু কেবল তাদেরকেই চান, যাদের জল ও আত্মার নুতন জন্মের সুসামাচারে বিশ্বাস আছে৷
যদি আপনি যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের সুসামাচারে বিশ্বাস করেন, তবে আপনি হৃদয়ে পাপমুক্ত হয়েছেন৷ যাহোক, আপনি যদি যীশুকে শুধুমাত্র ধর্মের একটি অংশ হিসাবে বিশ্বাস করেন, তাহলে এখনও আপনি পাপের ভেতরে বাস করছেন, কেননা যীশুর পরিত্রাণে আপনার সম্পূর্ণ বিশ্বাস নেই৷ ধার্মিক লোক সবসময় অনুতাপের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে তাদের পাপ মোচনের চেষ্টা করে৷
এভাবে এরূপ মানুষ সম্পূর্ণভাবে কখনো তাদের পাপ থেকে মুক্ত হতে পারে না৷ এমনকি যদি তারা সারাজীবন অনুতাপ করে, তাহলে এটা কখনো সম্পূর্ণরূপে যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশে রক্ত সেচনের মাধ্যমে পাপের ক্ষমাকে স্থানান্তর করতে পারে না৷ আসুন আমরা যীশুর সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পাপমুক্ত হই, যা এ জগতের সমস্ত পাপ ধৌত করেছিল, এমনকি ভবিষ্যতের পাপও৷
আমি আপনাকে আবারও বলব, প্রতিদিনের অনুতাপ কখনও নুতন জন্মের সুসমাচার প্রতিস্থাপন করতে পারে না৷ সব খ্রীষ্টিয়ানদের এখন বিশ্বাস করা উচিত যে, নুতন জন্মের সুসামাচারের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা হয়৷
আমরা কখনো পুরোপুরিভাবে আমাদের পাপের জন্য অনুতাপ করতে পারি না৷ কারো মিথ্যা অনুতাপ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাতে পারে না, কিন্তু সে তার আত্মাকে স্বান্তনা দেয় মাত্র৷ ভ্রান্ত অনুতাপ হল একপক্ষের পাপ স্বীকার যা কখনো ঈশ্বরের ইচ্ছার মধ্যে গণিত হয় না৷ এটা এমন কি নয় যা ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে আশা করেন৷
সত্য অনুতাপ কি? এটা হল ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসা৷ যীশুর পরিত্রাণের বাক্যে ফিরে আসা এবং এই বাক্য যেভাবে লেখা আছে সেভাবে বিশ্বাস করা৷ যে সুসমাচার আমাদের পাপমুক্ত করে তা হল যীশুর বাপ্তিস্ম, ক্রুশারোহনের ও পুনরুত্থান সুসমাচার৷ যখন আমরা এই সুসমাচার সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করি, তখন আমরা পাপমুক্ত হই এবং অনন্তজীবন লাভ করি৷
এটা হল নুতন জন্মের সুসামাচারের বিজ্ঞতা; এটা বিশ্বাস করা যীশুর বাপ্তিস্ম তাঁর রক্ত এবং ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার যা আমাদের নুতন অনুমোদন দেবে৷
যখন যীশু আমাদের বলেছিলেন যে, আমাদের জল ও আত্মায় নুতন জন্ম গ্রহণ করা উচিত, তখন তিনি এটা বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, আমাদের তাঁর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে রিক্ত সেচন বিশ্বাস দ্বারা নুতন জন্ম গ্রহণ করা উচিত৷ তাহলে আমরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ ও সেখানে বাস করার যোগ্য হব৷ আমাদের তাঁর বাক্যে বিশ্বাস করতে হবে৷ দুটি জিনিস যা আমাদের পাপমোচনের সাক্ষ্য বহন করে, যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশে রক্ত সেচন, এই দুটি বাক্য আমাদের নুতন জন্মের অনুমোদন দেয়৷
আপনি কি এখন নুতন জন্মের সুসমাচার ও পাপ মোচনে বিশ্বাস করেন? যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস আমাদেরকে জগতের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করে৷ এই বিশ্বাসে আমরা নুতন জন্ম গ্রহণ করতে পারি৷ যেহেতু বাইবেল আমাদের বলেছে যে, যীশু এই জগতের সমস্ত পাপীদের পাপ ধৌত করেছিলেন, সেহেতু কেন আমরা বিশ্বাস ও নুতন জন্ম গ্রহণ করি না?
যারা এই দুটি জিনিসে বিশ্বাস করে যা আমাদের নুতন জন্মের সাক্ষ্য বহন করে, যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশারোহন, তারা সত্যিকারে নুতন জন্ম লাভ করে৷ কেননা যিনি ঈশ্বরের পুত্রে বিশ্বাস করেন, তিনি নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন (১ যোহন ৫:৩-১০)৷ যখন আপনি যীশুকে বিশ্বাস করেন, তখন আপনার জল ও রক্তের সুসমাচার ত্যাগ করা উচিত নয়৷
যেমন সেনাপতি নামান কুষ্ঠরোগ হতে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভের জন্য যর্দনে সাতবার স্নান করেছিলেন (২য় রাজাবলী ৫ অধ্যায়), তেমন আমাদের বিশ্বাস করা উচিত যে, যীশু একদা জগতের সমস্ত পাপ, সকলের জন্য যর্দনে ধৌত করেছিলেন এবং তার ফলস্বরূপ আমাদের অনন্ত পরিত্রাণ দিয়েছেন৷
কেননা ঈশ্বর আমাদের প্রেম করেন, আমরা জগতের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়েছি, আর পাপ ক্ষমার সুসামাচারে বিশ্বাস দ্বারা অনন্তজীবন পেয়েছি৷ আসুন আমরা সকলে নুতন জন্মের সুসমাচারে বিশ্বাস করি এবং ঈশ্বরের পরিত্রাণ অর্জন করি৷