শিক্ষা

বিষয় ৩: জল ও আত্মার সুসমাচার

[3-6] (যাত্রাপুস্তক ১২: ৪৩-৪৯) সত্যিকারের আত্মিক ত্বকচ্ছেদ

(যাত্রাপুস্তক ১২: ৪৩-৪৯)
""আর সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে কহিলেন, নিস্তারপর্ব্বীয় বলির বিধি এই; অন্য জাতীয় কোন লোক তাহা ভোজন করিবে না। কিন্তু কোন ব্যক্তির যে দাস রৌপ্য দ্বারা ক্রীত হইয়াছে, সে যদি ছিন্নত্বক হয়, তবে খাইতে পাইবে। প্রবাসী কিম্বা বেতনজীবী তাহা খাইতে পাইবে না। তোমরা এক গৃহমধ্যে তাহা ভোজন করিও; সেই মাংসের কিছুই গৃহের বাহিরে লইয়া যাইও না; এবং তাহার এক অস্থিও ভগ্ন করিও না। সমস্ত ইস্রায়েল-মণ্ডলী ইহা পালন করিবে। আর তোমার সহিত প্রবাসী কোন বিদেশী লোক যদি সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিস্তারপর্ব্ব পালন করিতে চাহে, তবে সে নিজ পুরুষ পরিবারের সহিত ছিন্নত্বক হইয়া ইহা পালনার্থে আগমন করুক, সে দেশজাত লোকের তুল্য হইবে; কিন্তু অচ্ছিন্নত্বক কোন লোক তাহা ভোজন করিবে না। দেশজাত লোকের নিমিত্তে ও তোমাদের মধ্যে প্রবাসকারী বিদেশীয় লোকের নিমিত্তে একই বিধি হইবে।''
 
 
পুরাতন নিয়মে ইস্রায়েলীয়দের
ঈশ্বরের সন্তান হবার জন্য অপরিহার্য্য
শর্ত কি ছিল?
তাদের ত্বকচ্ছেদ করতে হত৷
 
আমরা যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, তাদের জন্য বাইবেলে পুরাতন ও নুতন উভয় নিয়মের বাক্যই গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান৷ এমন কি আমরা ঐ বাক্যগুলির একটি শব্দও অবহেলা করতে পারি না, কেননা ঈশ্বরের বাক্য হলো জীবনের বাক্য৷
আজকের অনুচ্ছেদ আমাদের বলে যে, যদি কেউ, সে নিস্তারপর্ব পালন করতে চায় তবে তাকে পূর্ব থেকেই ছিন্নত্বক হতে হবে৷ ঈশ্বর আমাদের বলেছেন, আমাদের এই কারণ সমন্ধে চিন্তা করা উচিত৷ একজন ছিন্নত্বক হওয়া না পর্যন্ত, সে নিস্তারপর্ব পালন করতে পারে না৷
যদি আমরা যীশুতে বিশ্বাসী হই, তাহলে আমাদের ঈশ্বর দত্ত এই অনুশাসনের উদ্দেশ্য বোঝা উচিত৷ ত্বকচ্ছেদ হল পুরুষ লিঙ্গের অগ্রভাগ চ্ছেদ করা৷ কেন ঈশ্বর অব্রাহম ও তার বংশধরদের ত্বকচ্ছেদের কথা বলেছিলেন? এটার কারণ তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে কেবলমাত্র যারা তাদের পাপ ছিন্ন করে তারাই তাঁর লোক হয়৷
এ কারণে পুরাতন নিয়মে তিনি ইস্রায়েল লোকদের ছিন্নত্বক হতে বলেন৷ ঈশ্বরের লোক হওয়ার জন্য, ইস্রায়েল লোকদের ছিন্নত্বক হতে হবে৷ এটা ছিল তাঁর অধ্যাদেশ, উত্সর্গীকরণের ভিত্তি, আর তিনি তাদের ঈশ্বর হতেন যারা বিশ্বাসে ছিন্নত্বক হবার মাধ্যমে তাদের পাপ হতে পৃথক হত৷ বস্তুতঃ নুতন নিয়মে, তিনি তাদের ঈশ্বর হন যারা বিশ্বাসে তাদের পাপ ছিন্ন করেছে৷
 
 
নিস্তার পর্ব পালন
 
নিস্তারপর্ব কি ছিল?
এদিন ছিল ইস্রায়েলের স্মরন ও
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেওয়ার
দিন যে দিন তারা মিশর থেকে
যাত্রা করেছিলেন৷
 
ইস্রায়েলের লোকেদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছুটির দিন ছিল নিস্তারপর্ব পালনের দিন৷ মিশর থেকে যাত্রা করার জন্য এদিন ছিল স্মরন ও ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেওয়ার দিন, যেখানে ইস্রায়েলীযরা ৪০০ বছরের কাছাকাছি দাসরূপে বসবাস করেছিল৷ ঈশ্বর ফরৌনের নির্দয় হৃদয় পরিবর্তনের জন্য দশটি কঠিন সংক্রামক ব্যাধি দিয়েছিলেন৷ এর অর্থ ছিল যে, তিনি ইস্রায়েলের লোকেদের মিশর থেকে বার করার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং তাদের কনানে আনতে চেয়েছিলেন৷
ইস্রায়েলের লোকেরা শেষ মহামারী, প্রথম জাতের মৃত্যু থেকে রক্ষা পেয়েছিল, হোমবলি, মেষের রক্ত ও ছিন্নত্বকের মাধ্যমে৷ এজন্য, ঈশ্বর তাঁর অনুগ্রহ মনে রাখার জন্য তাদের জাতির মধ্যে নিস্তারপর্ব পালন করতে বলেছিলেন৷
 
 
ইস্রায়েলীয়দের নিস্তারপর্ব পালন করার জন্য কি করতে হয়েছিল?
 
ইস্রায়েলীয়দের
নিস্তারপর্ব পালন করার নিমিত্ত
কি করতে হয়েছিল?
তাদের ত্বকচ্ছেদ
করতে হয়েছিল৷
 
আমাদের বুঝতে হবে যে, আত্মিকভাবে নিস্তারপর্ব পালনের জন্য, আমাদের হৃদয়ে ছিন্নত্বক হতে হবে৷ এমনকি ইস্রায়েলের লোকেদেরও নিস্তারপর্ব উদযাপনের জন্য ছিন্নত্বক হতে হত৷
 এটা যাত্রাপুস্তক ১২: ৪৩-৪৯ পদে লেখা আছে৷ “আর সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে কহিলেন, নিস্তারপর্ব্বীয় বলির বিধি এই; অন্য জাতীয় কোন লোক তাহা ভোজন করিবে না। কিন্তু কোন ব্যক্তির যে দাস রৌপ্য দ্বারা ক্রীত হইয়াছে, সে যদি ছিন্নত্বক হয়, তবে খাইতে পাইবে। প্রবাসী কিম্বা বেতনজীবী তাহা খাইতে পাইবে না। তোমরা এক গৃহমধ্যে তাহা ভোজন করিও; সেই মাংসের কিছুই গৃহের বাহিরে লইয়া যাইও না; এবং তাহার এক অস্থিও ভগ্ন করিও না। সমস্ত ইস্রায়েল-মণ্ডলী ইহা পালন করিবে। আর তোমার সহিত প্রবাসী কোন বিদেশী লোক যদি সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিস্তারপর্ব্ব পালন করিতে চাহে, তবে সে নিজ পুরুষ পরিবারের সহিত ছিন্নত্বক হইয়া ইহা পালনার্থে আগমন করুক, সে দেশজাত লোকের তুল্য হইবে; কিন্তু অচ্ছিন্নত্বক কোন লোক তাহা ভোজন করিবে না। দেশজাত লোকের নিমিত্তে ও তোমাদের মধ্যে প্রবাসকারী বিদেশীয় লোকের নিমিত্তে একই বিধি হইবে।'' এভাবে তিনি ইস্রায়েলদের ছিন্নত্বক করার পর নিস্তারপর্ব পালন করতে বলেছিলেন৷
করা নিস্তারপর্বের মেষের মাংস ভোজন ও নিস্তারপর্ব পালনের জন্য অনুমোদিত ছিল? কেবলমাত্র তারাই নিস্তারপর্ব পালন করতে পারত যারা ছিন্নত্বক ছিল৷
নিস্তারপর্বীয় মেষ, যেমন আমরা সবাই জানি, যীশু খ্রীষ্ট যিনি জগতের পাপ তুলে নিয়েছিলেন৷
তাহলে, পুরাতন ও নুতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদ কি? ত্বকচ্ছেদ মানে হল লিঙ্গের অগ্রভাগ চ্ছেদ করা৷ যীশু খ্রীষ্টও এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করার আট দিন পর ত্বকচ্ছেদ করেছিলেন৷ ঈশ্বর নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যারা নিস্তারপর্বের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে তাদের সবাইকে ত্বকচ্ছেদ করতে হবে, এবং নিশ্চিত হতে হত যে কেউ অচ্ছিন্নত্বক তারা কখনও নিস্তারপর্বে অংশগ্রহন করবে না৷
এ কারণে, ঈশ্বরের আদেশ ছিল ঠিক তেমনি প্রত্যেকের ত্বকচ্ছেদ করতে হত৷ যদি আপনি যীশুকে বিশ্বাস করেন, তবে আপনাকে নুতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদের অর্থ বুঝতে হবে৷
 
 
ত্বকচ্ছেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান কি ছিল যা ঈশ্বর অব্রাহমকে সম্পাদন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন?
 
অব্রাহম ও তাঁর বংশধরেরা কিভাবে
ঈশ্বরের সন্তান হয়েছিলেন?
ত্বকচ্ছেদের দ্বারা
 
আদিপুস্তকে, ঈশ্বর অব্রাহমের নিকটে উপস্থিত হয়েছিলেন আর তিনি অব্রাহম ও তার বংশধরদের সাথে তাঁর নিয়ম স্থাপন করেছিলেন৷ ১৫ অধ্যায়ে, ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, অব্রাহমের বংশধরেরা আকাশের তারার মত হবে আর তিনি তাদেরকে উত্তরাধিকার সুত্রে কনান দেশ দেবেন৷
আর ১৭ অধ্যায়ে, তিনি অব্রাহমকে বলেছিলেন, যে যদি তিনি ও তাঁর বংশধরেরা তাঁর স্থাপিত নিয়ম পালন ও ত্বকচ্ছেদ করে, তবে তিনি তাদের ঈশ্বর হবেন ও তারা তাঁর সন্তান হবে৷ এটা ছিল ঈশ্বরের নিয়ম অব্রাহম ও তার বংশধরদের সহিত৷ ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, যখন তারা তাঁর নিয়ম বিশ্বাস ও ত্বকচ্ছেদ করে, এটার অর্থ হল তারা তাঁর লোক হয়েছেন, আর তিনি তাদের প্রকৃত ঈশ্বর হয়েছেন৷
আদিপুস্তক ১৭:৭-৮ পদে বলা হয়েছে, “আমি তোমার সহিত ও পুরুষানুক্রমে তোমার ভাবী বংশের সহিত যে নিয়ম স্থাপন করিব, তাহা চিরকালের নিয়ম হইবে; ফলতঃ আমি তোমার ঈশ্বর ও তোমার ভাবী বংশের ঈশ্বর হইব। আর তুমি এই যে কনান দেশে প্রবাস করিতেছ, ইহার সমুদয় আমি তোমাকে ও তোমার ভাবী বংশকে চিরস্থায়ী অধিকারার্থে দিব, আর আমি তাহাদের ঈশ্বর হইব।”
ঈশ্বরের ত্বকচ্ছেদ নিয়মের ভিত্তি প্রস্থর ছিল অব্রাহম ও তার বংশধরদের সাথে৷
 
 
আত্মিক ত্বকচ্ছেদের দ্বারা কি বুঝায়?
 
আত্মিক ত্বকচ্ছেদ কি?
এটার অর্থ হল যীশুর বাপ্তিস্ম দ্বারা
আমাদের হৃদয়ের সমস্ত
পাপ ছিন্ন করা
 
কেননা, অব্রাহম ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করেছিলেন, ঈশ্বর তাকে ধার্মিক ও তাঁর সন্তান করেছিলেন৷ এটা ছিল ত্বকচ্ছেদ যা ঈশ্বর ও অব্রাহমের মধ্যে নিয়ম স্থাপন করেছিল৷
“তোমাদের সহিত ও তোমার ভাবী বংশের সহিত কৃত আমার যে নিয়ম তোমরা পালন করিবে, তাহা এই, তোমাদের প্রত্যেক পুরুষের ত্বকচ্ছেদ হইবে” (আদিপুস্তক ১৭: ১০)৷
শারীরিক ত্বকচ্ছেদের অর্থ হল লিঙ্গের অগ্রভাগ ছিন্ন করাঃ আত্মিকভাবে, এটাও নির্দেশ করে যীশুর বাপ্তিস্মে ও বিশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের সকল পাপ তাঁর উপর বর্তায়৷ আমরা আত্মিকভাবে ত্বকচ্ছেদ করি, যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্মের পরিত্রাণ গ্রহণ করে আমাদের সমস্ত পাপ ছিন্ন করি৷ নুতন নিয়মে ত্বকচ্ছেদ হল যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে সমস্ত পাপ ছিন্ন করা৷
একারণে, পুরাতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদ হল নুতন নিয়মের যীশুর বাপ্তিস্ম, আর উভয়েই ঈশ্বরের নিয়ম যা আমাদের তাঁর লোক তৈরী করে৷ এজন্য পুরাতন নিয়মে, ত্বকচ্ছেদ এবং নুতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্ম এক ও অভিন্ন৷
যেমন অব্রাহমের বংশধরেরা যখন ত্বকচ্ছেদ করেছিলেন তখন তারা ঈশ্বরের লোক হয়েছিলেন, তেমন আমরা ঈশ্বরের সন্তান হই যখন আমরা আমাদের হৃদয় থেকে সমস্ত পাপ ছিন্ন করি৷ আমরা বিশ্বাসের দ্বারা এটা করি যে, পৃথিবীতে কোনো পাপ নেই, কেননা যীশু আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন যখন তিনি যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন৷
যীশুর বাপ্তিস্ম সমস্ত পাপীদের তাদের পাপ ছিন্ন করার দ্বারা ধার্মিক তৈরী করে৷ কেবলমাত্র এক টুকরো চামড়া ছেদ করার পদ্ধতি ছিল ত্বকচ্ছেদ, তাই মানবজাতির সমস্ত পাপ তাদের হৃদয় থেকে ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল যখন তিনি যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা যর্দনে অবগাহিত হয়েছিলেন৷ যারা এটা বিশ্বাস করে তাদের জন্য এটা আত্মিক ত্বকচ্ছেদ এবং তারা ধার্মিক ও ঈশ্বরের লোক হয়৷
 
 
ভ্রান্ত বিশ্বাস যে লোকেদের ঈশ্বরের কাছ থেকে ছিন্ন করে
                 
ঈশ্বরের কাছ
থেকে ইস্রায়েলীযদের
কি ছিন্ন করেছিল?
অছিন্ন ত্বক৷
 
ঈশ্বর অব্রাহমকে বলেছিলেন, যে কোনো অচ্ছিন্নত্বক লোকের তাঁর লোকেদের থেকে পৃথক হওয়া উচিত৷ তাহলে ত্বকচ্ছেদ কি? আর আত্মিক ত্বকচ্ছেদ কি? যদি শরীরের একটা অংশ থেকে চামড়ার একটি অংশ ছিন্ন করা মাংসিক ত্বকচ্ছেদ হয়, তাহলে আত্মিক ত্বকচ্ছেদ হল আমাদের হৃদয় থেকে সমস্ত পাপ ছিন্ন করা এবং তা যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তাঁর উপর প্রেরণ করা৷
যীশুর বাপ্তিস্ম হল মানবজাতির আত্মিক ত্বকচ্ছেদ, যা দ্বারা জগতের সমস্ত পাপ আমাদের থেকে ছিন্ন হয়েছিল এবং যীশুর উপরে বর্তেছিল৷ এ কারণে যীশু যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন৷ সমগ্র মানবজাতিকে আত্মিক ত্বকচ্ছেদের মাধ্যমে মুক্ত করতে, যা সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিল৷
মানবজাতির সমস্ত পাপ যীশুর উপরে বর্তেছিল৷ ঈশ্বর, অব্রাহমের ঈশ্বর হলেন, ইসহাকের ঈশ্বর, যাকোবের ঈশ্বর, এবং তাদের সমস্ত বংশধরদের ঈশ্বর, অব্রাহমের সাথে একটি নিয়ম স্থাপন করলেন এবং তাদের ছিন্নত্বক করলেন৷ এভাবে, তিনি ঈশ্বর হয়েছিলেন, সকলের ত্রাণকর্তা যারা ত্বকচ্ছেদের মাধ্যমে তাদের পাপ ছিন্ন করেছিলেন৷
ত্বকচ্ছেদ কি যা পাপ ছিন্ন করে? এটা হল অব্রাহম ও অন্যান্য সকলে যারা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যু তাদের পরিত্রাণ রূপে বিশ্বাস দ্বারা নুতন জন্ম লাভ করেছেন, তাদের সাথে ঈশ্বরের নিয়ম৷ এমনি করে, তিনি আমাদের তাঁর লোক হবার অধিকার প্রদান করেছিলেন৷ এভাবে, তিনি তাদের ঈশ্বর হয়েছেন যারা ত্বকচ্ছেদ করেছেন৷
ঈশ্বর অব্রাহমকে বলেছিলেন, “পুরুষানুক্রমে তোমাদের প্রত্যেক পুত্রসন্তানের আট দিন বয়সে ত্বক্‌ছেদ হইবে, এবং যাহারা তোমার বংশ নয়, এমন পরজাতীয়দের মধ্যে তোমাদের গৃহে জাত কিম্বা মূল্য দ্বারা ক্রীত লোকেরও ত্বক্‌ছেদ হইবে। তোমার গৃহজাত কিম্বা মূল্য দ্বারা ক্রীত লোকের ত্বক্‌ছেদ অবশ্য কর্ত্তব্য; আর তোমাদের মাংসে বিদ্যমান আমার নিয়ম চিরকালের নিয়ম হইবে। কিন্তু যাহার লিঙ্গাগ্রচর্ম্ম ছেদন না হইবে, এমন অচ্ছিন্নত্বক্ পুরুষ আপন লোকদের মধ্য হইতে উচ্ছিন্ন হইবে; সে আমার নিয়মভঙ্গ করিয়াছে।” (আদিপুস্তক ১৭:১২-১৪)৷
যে কেউ আত্মিক ত্বকচ্ছেদ ব্যতীত যীশুর কাছে আসতে চেষ্টা করে, সে তাঁর লোকেদের থেকে ছিন্ন হয়ে যাবে৷ নুতন নিয়মে আত্মিক ত্বকচ্ছেদ হল যীশুর বাপ্তিস্ম, যা দ্বারা জগতের সমস্ত পাপ তাঁর উপর বর্তেছিল৷
যে কেউ যীশুতে বিশ্বাস করে তাদের উচিত পুরাতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদ; এবং নুতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্মেও বিশ্বাস করা, তাহলে তারা পবিত্র আত্মা গ্রহণ করবে, সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হবে, এবং ঈশ্বরের একজন সন্তান হবে৷ আমরা যারা যীশুকে বিশ্বাস করি, আমাদের জন্য পুরাতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদ এবং নূতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্ম হল একই জিনিস৷
যদি আমরা ত্বকচ্ছেদের প্রকৃত অর্থ বুঝতে ব্যর্থ হই অথবা আত্মিক ত্বকচ্ছেদের মাধ্যমে পরিত্রাণ যা আমাদের নুতন জন্মের অনুমোদন দেয় তা আমাদের হৃদয়ে গ্রহণ করতে না পারি, তবে আমাদের সমস্ত বিশ্বাস অসার হয়ে যাবে৷ আমরা সম্ভবত চিন্তা করি আমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত, কিন্তু এটা হল বিশ্বাসের বালির উপর গৃহ নির্মান করার মতন৷
ঈশ্বর বলেছেন যারা তাঁকে বিশ্বাস করে তাদের ত্বকচ্ছেদ করতে হবে, যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আত্মিক ত্বকচ্ছেদের পাপ মোচনে বিশ্বাস করতে হবে৷ ত্বকচ্ছেদ ব্যতীত, আমরা তাঁর লোক হতে পারি না৷ ত্বকচ্ছেদ ব্যতীত, আমরা তাঁর লোকদের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাই৷ এজন্য, ঈশ্বর আদেশ দিয়েছিলেন, যে কেউ, সে ক্রীতদাস বা পরজাতীয় হোক না কেন তাকে নিস্তারপর্বের ভোজের অনুষ্ঠানের পূর্বেই ত্বকচ্ছেদ করতে হত৷
এমনকি ইস্রায়েলের গৃহজাত লোক তাঁর লোকেদের থেকে বাদ পড়ত যদি তারা ত্বকছিন্ন না করত৷ ইস্রায়েলীযদের সাথে ঈশ্বরের নিয়ম যারা যীশুতে বিশ্বাস করে তাদের ক্ষেত্রেও আরোপিত হওয়া উচিত৷
যাত্রাপুস্তক ১২ অধ্যায়ে, ইস্রায়েলের লোকের যারা নিস্তারপর্বীয় ভোজের মাংস ও তিক্তশাক ভোজন করত, তাদেরকে ইতিমধ্যেই ত্বকচ্ছেদ করতে হত৷ কেবলমাত্র তাদেরকেই নিস্তারপর্বের মাংস ভোজন করবার অধিকার দেওয়া হয়েছিল যাদের ত্বকচ্ছেদ করা ছিল৷
এটা আমাদের জন্য জানা গুরুত্বপূর্ণ যে, যখন ইস্রায়েলের লোকেরা মাংস ভোজন করেছিল এবং মেষের রক্ত তাদের গৃহদ্বারের বাজুতে ও কপালীতে লেপন করেছিল, তখনই তারা ছিন্নত্বক হয়ে গিয়েছিল৷
ঈশ্বরের ব্যবস্থায়, যদি একজন ব্যক্তি ত্বকচ্ছেদ না করত, তাহলে সে ঈশ্বরের লোকেদের থেকে বাদ পড়ত এবং সে ঈশ্বরের একজন সন্তান হবার অধিকার হারাত৷ এর অর্থ হল আত্মিক ত্বকচ্ছেদের অবিশ্বাসের পাপ লোকেদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেত৷ শুধুমাত্র যারা যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আত্মিক ত্বকচ্ছেদ করেছে, তারাই পাপমুক্ত হতে পারবে৷
“আর এখন উহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম যা দ্বারা আমরা মুক্ত হই” (১ পিতর ৩:২১)৷ আপনি কি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, আপনার সমস্ত পাপ যীশুর যর্দনে বাপ্তিস্ম গ্রহনের দ্বারা তাঁর উপরে বর্তেছিল? যদি আপনি সত্যই বোঝেন এবং এই সত্যে বিশ্বাস করেন, যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনি আত্মিকভাবে ত্বকচ্ছেদ করেছেন এবং একজন ধার্মিক ব্যক্তি হয়েছেন৷ আর আপনি আত্মিক সত্যেও বিশ্বাস করবেন যে, যীশুর বাপ্তিস্ম ব্যতীত তাঁর ক্রুশীয় রক্ত অর্থহীন হত৷
আপনি যদি আত্মিক ত্বকচ্ছেদের মাধ্যমে যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস ব্যতীত যীশুর ক্রুশে বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনি নিজেকে ঈশ্বরের অনুগ্রহের বাইরে দেখতে পাবেন৷ আপনি দেখতে পাবেন যে আপনার হৃদয়ে এখনও পাপ আছে৷
আমাদের এ সত্যে বিশ্বাস করতে হবে যে, ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিমের মধ্য দিয়ে পাপমোচন শুরু করেছিলেন এবং তাঁর ক্রুশে রক্ত সেচন দ্বারা তা সম্পাদন করেছিলেন৷ এরূপে, সত্য বাক্য যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশে রক্ত সেচনকে পরিত্রাণের স্বরূপ আমাদের হৃদয়ে গ্রহণ করতে হবে৷
এই বিশ্বাসে, আমরা অন্ধকারের শক্তি থেকে মুক্ত হতে পারি এবং আলোর সন্তান হই৷ এই বিশ্বাস আত্মিকভাবে পৃথক করে যারা সত্যিকারের নুতন জন্ম লাভ করেছেন, তাদেরকে সাধারণ বিশ্বাসীদের তালিকা থেকে৷
আমাদের প্রভু, যীশু, আমাদেরকে তাঁর প্রতিক্ষা করতে বলেছেন৷ তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশীয় রক্ত দ্বারা জগতের পাপ ধৌত করেছেন৷ এজন্য ঈশ্বরের লোকেরা চিহ্ন বহন করার জন্য, আমাদের যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করতে হবে৷ যদি আমরা এরূপ করতে ব্যর্থ হই তাহলে আমরা তাঁর কাছ থেকে বাদ পড়ে যাব৷
পাপ মোচনের পরিত্রাণ নুতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্ম ও পুরাতন নিয়মে ত্বকচ্ছেদ ব্যতীত আর অন্য কিছুই নয়৷ পরিত্রাণ সম্পন্ন হয় কেবল তখনই যখন আমরা উভয়ই যীশুর বাপ্তিস্ম (আত্মিক ত্বকচ্ছেদ) এবং তাঁর ক্রুশীয় রক্তে (নিস্তারপর্বীয় মেষের রক্ত) বিশ্বাস করি৷
পুরাতন নিয়মে মাংসিক ত্বকচ্ছেদ নুতন নিয়মে যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত৷ যিশাইয় ৩৪:১৬ আমাদের বলে যে, বাইবেলের প্রত্যকে বাক্যেরই সম্পুরক বাক্য রয়েছে৷ “তোমরা সদাপ্রভুর পুস্তকে অনুসন্ধান কর, তাহা পাঠ কর, ইহার একেরও অভাব হইবে না, তাহারা কেহ সঙ্গিনীবিহীন থাকিবে না; কেননা আমার মুখ [দ্বারা] তিনিই ইহা আজ্ঞা করিয়াছেন, এবং তিনিই আপন আত্মা দ্বারা তাহাদিগকে সংগ্রহ করিয়াছেন৷”
বাইবেলের পুরাতন নিয়মের প্রতিটি বাক্যই নুতন নিয়মের সাথে সম্পর্কযুক্ত৷ ঈশ্বরের একটি বাক্যেরও প্রতিরূপের অভাব হয় না৷
 
 
যারা বোকার মত ভ্রান্ত রীতিতে বিশ্বাস করে, তাদের অবস্থা কি হবে?
 
জগতের সমস্ত
বিশ্বাসীদের মধ্যে কারা
নরকে যাবে?
যারা আত্মিক ত্বকচ্ছেদে
বিশ্বাস করে না
 
বর্তমানে অনেকে আছে যারা কেবল নিস্তারপর্বের মেষের রক্তে বিশ্বাস করে৷ তারা জিজ্ঞাসা করে, “আপনি ত্বকচ্ছেদ বলতে কি বোঝেন? এটা শুধুমাত্র পুরাতন নিয়মে যিহুদিদের সময়ে আরোপিত ছিল৷ নুতন নিয়মে আমাদের সময়ে লিঙ্গাগ্র ছেদ করতে হবে না ”
অবশ্যই এটা সত্য৷ আমি এটা পরামর্শ দিচ্ছি না যে, আমাদের শারীরিক ত্বকচ্ছেদ করা উচিত৷ প্রেরিত পৌল আত্মিক ত্বকচ্ছেদ সম্পর্কে খুব স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন, আর এটা হল হৃদয়ের ত্বকচ্ছেদ যা এখন আমি নির্দেশ করছি৷
আমি আপনাকে শারীরিক ত্বকচ্ছেদের কথা বলছি না৷ আমাদের জন্য মাংসিক ত্বকচ্ছেদের কোনো মানে নেই, কিন্তু আমাদের যীশুর কাছে আসতে হবে এবং যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হবার জন্য আত্মিকভাবে ত্বকচ্ছেদ করতে হবে৷
কারো নুতন জন্ম গ্রহণ করার জন্য, আত্মিকভাবে তাদের ত্বকচ্ছেদ করতে হয়৷ আমাদের পাপ ছেদ করার এটাই একমাত্র উপায়, ধার্মিক হবার একমাত্র পথ৷ কেবলমাত্র আত্মিক ত্বকচ্ছেদের পর আমরা সম্পূর্ণভাবে পাপ মুক্ত হই৷ এজন্য যীশুর বাপ্তিস্ম দ্বারা আত্মিক ত্বকচ্ছেদকে আমাদের হৃদয়ে গ্রহণ করতে হবে৷
প্রেরিত পৌলও আত্মিক ত্বকচ্ছেদের গুরুত্বে বিশ্বাস করেছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন, “ত্বকচ্ছেদ হল আত্মিক ত্বকচ্ছেদ” (রোমীয় ২:২৯)৷ পাপ থেকে মুক্ত হবার জন্য আমাদের প্রত্যেককে আত্মিকভাবে ত্বকচ্ছেদ করতে হবে৷
আপনার পাপ ছিন্ন হবার পর সত্যিই কি এটি যীশুর উপরে বর্তেছিল? এমনকি নুতন নিয়মেও যে কেহ একবার যীশুকে বিশ্বাস করে তাদের যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস দ্বারা হৃদয়ে ত্বকচ্ছেদ করতে হয়৷
প্রেরিত পৌল তার ইফিষীয়দের পত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন৷ ঈশ্বর সমগ্র মানবজাতিকে জগতের পাপ থেকে মুক্ত করেছে, তাদের তাঁর লোক করেছেন৷ ইস্রায়েলের লোক তাদের ত্বকচ্ছেদ দ্বারা ঈশ্বরের লোক হয়েছে এবং আমরা তাঁর সন্তান হই, যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপর দিয়ে দিই৷
ঈশ্বর যখন যীশুর বাপ্তিস্মে ও তাঁর ক্রুশীয় রক্তে আমাদের বিশ্বাস দেখবেন তখন তাঁর সন্তানরূপে গ্রহণ করবেন৷ এই বিশ্বাস আমাদের আত্মিকভাবে ত্বকচ্ছেদ করতে সাহায্য করে এবং আমাদের পরিত্রাণের দিকে নিয়ে যায়৷
 
 
যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের মাধ্যমে পাপীদের পরিত্রাণ নিহিত থাকে
 
যীশু দ্বারা কিভাবে পরিত্রাণ
সম্পন্ন হয়েছিল?
তাঁর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে
রক্তের মাধ্যমে
 
 যীশু খ্রীষ্ট জলে বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশে রক্তের মাধ্যমে পরিত্রাণ সম্পন্ন করেছিলেন পাপীদের জন্য৷ মেষের রক্ত ছিল দন্ডাজ্ঞা, আর যীশুর বাপ্তিস্ম ছিল আত্মিক ত্বকচ্ছেদ যা আমাদের পাপ তাঁর উপর স্থানান্তর করেছিল৷
বর্তমানে খ্রীষ্টিয়ান গীর্জাগুলিতে আত্মিক ত্বকচ্ছেদের ধারণার উপর আলোকপাত করা উচিত নয়৷ এমনকি আজকের দিনে পুরাতন নিয়মের আত্মিক ত্বকচ্ছেদের অর্থ আমাদের কাছে ক্ষুদ্র, তথাপি যীশুর বাপ্তিস্মকে কখনও অবজ্ঞা করা উচিত নয়৷
আমি আপনাকে বলেছিলাম যে, যীশুর বাপ্তিস্মের দ্বারা আপনার সমস্ত পাপ তুলে নেওয়া হয়েছে, এবং যীশুর বাপ্তিস্ম আপনার সমস্ত পাপ থেকে আপনাকে মুক্ত করেছে৷ আপনি কি এটা বিশ্বাস করেন? যদি আপনি যীশুর বাপ্তিস্মকে অবজ্ঞা করেন, তাহলে আপনি কখনও নুতন জন্মের সুসমাচার সমন্ধে জানতে পারবেন না, যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে পাপমোচনের সম্পূর্ণ সুসমাচারকে৷
কিভাবে আমরা যীশুর বাপ্তিস্মকে অবজ্ঞা করতে পারি, আত্মিক ত্বকচ্ছেদ যা ঈশ্বর আমাদের বলেছেন? যদি আমরা বাইবেল পড়ি, তবে আমরা দেখি যে, ত্বকচ্ছেদ ও নিস্তারপর্বীয় মেষের রক্ত ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কযুক্ত৷ এটা হচ্ছে আত্মিক ত্বকচ্ছেদ, যীশুর বাপ্তিস্মের গোপনীয়তা৷
প্রেরিত যোহনের দ্বারা যে সুসমাচার প্রচার করা হয়েছিল তা যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশীয় রক্ত ভিন্ন আর কিছুই নয়৷ তিনি ১ যোহন ৫:৬ পদে বলেছিলেন, “তিনি সেই, যিনি জল ও রক্ত দিয়া আসিয়াছিলেন, যীশু খ্রীষ্ট; কেবল জলে নয়, কিন্তু জলে ও রক্তে৷”
তিনি বলেছিলেন যে, যীশু জল, রক্ত ও আত্মা দ্বারা এসেছিলেন৷ শুধু জলে নয়, ও শুধু আত্মায় নয়, কিন্তু জল, রক্ত ও আত্মায় একত্রে৷ এই তিনটি উপাদান, যীশুর বাপ্তিস্ম, যীশুর ক্রুশীয় রক্ত এবং তাঁর মৃত্যু থেকে পুনরুত্থান, একই, আমাদের পরিত্রাণের প্রমান৷
 
 
বাইবেল কেন যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের কথা বলে?
 
ইস্রায়েলের লোকেরা কি
 শুধুমাত্র নিস্তারপর্বের মেষের রক্ত
 দ্বারা পাপ মুক্ত হয়েছিল?
না৷ তারা নিস্তারপর্ব পালনের পূর্বেই
ত্বকচ্ছেদ করেছিল৷
 
যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত হল তাই যা আমাদের জল ও আত্মা থেকে পুনরায় জন্ম নেওয়ার অনুমোদন দেয়৷ যাত্রাপুস্তক ১২ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, “তোমার জন্য একটি মেষ নাও, এবং কিছু রক্ত নাও আর তোমার গৃহের দ্বারের দুই বাজুতে ও কপালীতে লেপে দাও৷ যখন আমি রক্ত দেখব, তখন তোমাদের ছেড়ে অগ্রে যাব৷”
এই জেনে, এটা কি সম্ভব যে, কেবলমাত্র নিস্তারপর্বীয় মেষের রক্তে বিশ্বাস করে আমরা আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হতে পারি? তাহলে নুতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্ম সমন্ধে কেন এত কথা বলা হয়েছে? প্রেরিতেরা বলেছেন, “বাপ্তিস্মে তাঁহার সহিত সমাধিপ্রাপ্ত হইয়াছ” (কলসীয় ২:১২)৷ “কারণ তোমরা যত লোক খ্রীষ্টের উদ্দেশে বাপ্তাইজিত হইয়াছ, সকলে খ্রীষ্টকে পরিধান করিয়াছ” (গালাতীয় ৩:২৭)৷ “------- আমাদের এখন যা মুক্ত করে, বাপ্তিস্ম” (১ পিতর ৩:২১)৷
প্রেরিত পৌল এবং যীশু খ্রীষ্টের অন্যান্য শিষ্যেরা সকলে যীশুর বাপ্তিস্ম সমন্ধে কথা বলেছিলেন৷ এটা যীশুর যর্দনে বাপ্তিস্ম যা তারা নির্দেশ করেছিলেন, আর এটা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস যা জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের স্বীকৃতি৷
আপনাকে সত্য বলতে, আমি যীশুকে বিশ্বাস করেছি, কিন্তু দশ বছর ধরে, শুধুমাত্র তাঁর রক্তে, এমনকি যীশুর বাপ্তিস্মের সত্যতা স্বীকার করা ব্যতীত৷ কিন্তু এই জ্ঞান আমার হৃদয়ের পাপ পরিস্কার করতে পারে নি৷ আমি যীশুকে আমার সমস্ত অন্তঃকরণ দিয়ে বিশ্বাস করেছি, কিন্তু তখনও আমার হৃদয় পাপে পূর্ণ ছিল৷
দশ বছর পর, আমি আবিস্কার করেছিলাম আত্মিক ত্বকচ্ছেদের অর্থ (যীশুর বাপ্তিস্ম) তখন নুতন জন্ম লাভ করেছিলাম কেবলমাত্র তখন আমি সত্যতা বুঝেছিলাম: পুরাতন নিয়মের আত্মিক ত্বকচ্ছেদের প্রতীক হল নুতন নিয়মের যীশুর বাপ্তিস্ম৷ আমি এটা বিশ্বাস করেছিলাম এবং এখনও করি৷
নুতন নিয়মে, যীশুর রক্ত ও তাঁর বাপ্তিস্ম উভয়ে বিশ্বাস করা এটা কি সঠিক সত্য? বাইবেল অনুসারে আমার বিশ্বাস কি সঠিক? আমার নুতন জন্মের পর আমি এই বিষয়গুলোর সমন্ধে চমত্কৃত হয়েছিলাম৷
যদিও আমি যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের বার্তায় বিশ্বাস করেছিলাম, তথাপি আমার হৃদয়ে প্রশ্ন থেকে গিয়েছিল৷ “এটা বিশ্বাস করা কি ঠিক যে, আমার সমস্ত পাপ যীশুর উপর বর্তেছিল, যখন তিনি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, অথবা এটা বিশ্বাস করা কি ঠিক যে, যীশু কেবলমাত্র ক্রুশে মৃত্যুর মাধ্যমে আমাকে পাপ মুক্ত করেছেন৷ এটা এটা বিশ্বাস করা কি যথার্থ নয় যে, যীশু আমার ঈশ্বর এবং ত্রাণকর্তা?” আমি মনে মনে এটা ধ্যান করেছিলাম যখন আমি যাত্রাপুস্তক ১২ অধ্যায় পড়েছিলাম৷
বর্তমানে অনেক লোক যাত্রাপুস্তক ১২ অধ্যায় পড়ে এবং এই ঘোষণা সমন্ধে দুবার চিন্তা করে না যে, যীশু খ্রীষ্ট ক্রুশে প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের ত্রাণকর্তা রূপে৷ তারা চিন্তা করে খ্রীষ্টের রক্তে বিশ্বাস করা ঠিক, আর তারা তাদের দৃঢ়বিশ্বাসের সত্যতা যাচাই করে৷ তারা সম্ভবত অবিচলিত ভাবে বিশ্বাস করে আর বলে যে প্রভু হয় খ্রীষ্ট ও ঈশ্বরের পুত্র কিন্তু তারা এখনও পাপী৷ তারা চিন্তা করে যে যদি তারা বিশ্বাস করে যে, যীশু খ্রীষ্ট ত্রাণকর্তা, তাহলে তারা পাপমুক্ত হবে এমনকি যদি তাদের হৃদয়ে এখনও পাপ থাকে৷
এ ধরনের বিশ্বাস সত্য বিশ্বাস নয়৷ এই বিশ্বাস একাকী নুতন জন্ম লাভের জন্য তাদেরকে সাহায্য করতে পারে না৷ কেবলমাত্র যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত আমাদেরকে ধার্মিক বানায়৷
তাহলে, যাত্রাপুস্তক ১২ অধ্যায়ের সত্যিকারের অর্থ কি? আমি বাইবেল দেখেছি, “এখানে কি কোনো সমস্যা হয় না যখন যীশুর বাপ্তিস্মে অবজ্ঞা করে কেবলমাত্র তাঁর রক্তে বিশ্বাস করা হয়?” এমন কি যাত্রাপুস্তক পড়ে শেষ করার পূর্বেই আমি সত্য আবিস্কার করেছি যে, কেবলমাত্র খ্রীষ্টের রক্তেই পরিত্রাণ নয় কিন্তু তাঁর বাপ্তিস্মেও৷ বাইবেলের মাধ্যমে, আমি নিশ্চিত যে, যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্তের মাধ্যমে আমরা অন্তরে আমাদের ত্বকচ্ছেদ করেছি৷
 
অধিকাংশ খ্রীষ্টিয়ান
কেন এখনও পাপী?
কারণ তারা যীশুর বাপ্তিস্মে
বিশ্বাস করে না৷
 
আমি যাত্রাপুস্তক ১২:৪৭-৪৯ পদ পড়ে বুঝতে পেরেছি যে, একজনকে নিস্তারপর্বের মাংস ভোজন করবার অনুমুতি দেবার পূর্বেই, তাকে ত্বকচ্ছেদ করতে হত৷ এ কারণেই ঈশ্বর ৪৯ পদে বলেছেন যে, “দেশজাত লোকের নিমিত্তে ও তোমাদের মধ্যে প্রবাসকারী বিদেশীয় লোকের নিমিত্তে একই বিধি হইবে।”
এজন্য, যে কেউ ত্বকচ্ছেদ করত না, তারা নিস্তারপর্বের মাংস ভোজন করতে পারত না৷ এই সত্যই আমি খুঁজে পেয়েছি৷ একইভাবে, যীশুকে যখন আমরা আমাদের ত্রাণকর্তা রূপে বিশ্বাস করি, তখন আমাদের প্রথম প্রকৃত ঘটনা গ্রহণ করতে হবে যে, যর্দনে তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সকল পাপ যীশুর উপরে বর্তেছিল, এবং এরপর প্রকৃত ঘটনা গ্রহণ করতে হবে যে, এই পাপের জন্য যীশু খ্রীষ্ট ক্রুশে প্রাণ দিয়েছিলেন৷
যখন আমি বুঝতে পারলাম যে, যীশু বিচারিত হবার জন্য ক্রুশে প্রাণ দিয়েছিলেন বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সকল পাপ তুলে নিয়ে, তখন আমি আত্মিক ত্বকচ্ছেদের অর্থও বুঝতে পারলাম যা আমাদের সমস্ত পাপ ও জগতের সমস্ত অপরাধ থেকে মুক্ত করে৷
এই মুহুর্তে, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমার সমস্ত পাপ চলে গেছে৷ আমার অন্তর তুষারের মত সাদা হয়ে গেছে এবং আমি শেষে জল, রক্ত ও আত্মার সুসমাচার আমার হৃদয়ে গ্রহণ করেছি৷
আমি বুঝতে পেরেছি যে, দুটো জিনিস আমাদের পাপ মুক্ত করে, পুরাতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদ ও মেষের রক্ত আর নুতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্ম যার মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে বর্তেছিল এবং তাঁর ক্রুশীয় রক্ত৷ পুরাতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদ আর নুতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্ম সত্যিকারে এদুটো এক ও অভিন্ন৷
যীশু খ্রীষ্ট বিচারিত হয়েছিলেন কারণ তাঁর নিজের কোনো পাপের জন্য নয়, কিন্তু কেননা তিনি জগতের সমস্ত পাপভার তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তুলে নিয়েছিলেন৷ যারা বিশ্বাস করে যে, যোহন বাপ্তাইজক, মানব জাতির প্রতিনিধিরূপে যীশুকে বাপ্তাইজিত করেছিলেন এবং যীশুর উপরে জগতের সমস্ত পাপ বর্তিয়ে ছিলেন, তারা উভয়ে যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্তকে বিশ্বাস করে৷
অনেক লোক যীশুর বাপ্তিস্ম যদিও এটা বাইবেলে বার বার বার বর্ণনা করা হয়েছে, তারপরেও কেন অস্বীকার করে? এমন করে কারণ তারা এখনও পাপী রয়েছে এমনকি যদিও তারা যীশুকে বিশ্বাস করে৷ তারা সম্ভবত যীশুকে বিশ্বাস করে কিন্তু এখনো ঈশ্বর থেকে বাদ পড়ে রয়েছে৷ তারা হল করুনাপ্রাপ্ত পাপী, যারা নরকে যাবে, যদিও তারা সম্ভবত যীশুকে বিশ্বাস করে৷
কিভাবে তারা এখনো পাপী, যদি তারা যীশুকে বিশ্বাস করে? কেন তারা পাপী রূপে বাস করে? কেন তারা বিনাশের পথের দিকে ধাবিত হচ্ছে? এটা খুবই করুনা দায়ক৷ তারা নিয়মিত পাপী থাকবে কেননা তারা প্রকৃত ঘটনায় বিশ্বাস করে না যে, পৃথিবীর সমস্ত পাপ যীশু খ্রীষ্টের উপরে বর্তেছিল, যিনি তাঁর আত্মিক বাপ্তিস্মের মাধ্যমে সমস্ত লোকেদের নিমিত্ত শাশ্বত পরিত্রাণ এনেছিলেন৷
লোকেরা চিন্তা করে, যীশুর রক্তে বিশ্বাস করার দ্বারা তাদের সমস্ত পাপ মোচন হয়ে গেছে, কিন্তু এই প্রকার বিশ্বাস তাদের কখনও সম্পূর্ণ পাপ মুক্ত করে না৷ কেন? কারণ তারা যীশুর উপর তাদের সমস্ত পাপ বর্তাতে ব্যর্থ হয়েছে৷
আমরা পাপমুক্ত হতে পারি শুধুমাত্র জলে বিশ্বাসের দ্বারা (খ্রীষ্টের বাপ্তিস্ম) আর তাঁর রক্তে যা ঈশ্বর আদেশ দিয়েছিলেন: আত্মিক ত্বকচ্ছেদের পরিত্রাণ৷ তাহলে শুধুমাত্র তাহলেই, আমরা ঈশ্বরের প্রকৃত সন্তান হতে পারি৷
আমাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে৷ “যদি আমরা কেবল যীশুর রক্তকে আত্মিক ত্বকচ্ছেদ হিসাবে বিশ্বাস করি, তাহলে কি আমাদের পাপ সম্পূর্ণরূপে ধৌত হয়ে যাবে? এর উত্তর খুঁজতে আমাদের হৃদয়ের গভীরে অনুসন্ধান করতে হবে৷ আমরা যেমন যীশুর বাপ্তিস্ম তাঁর ক্রুশীয় রক্তের মাধ্যমে পরিত্রাণ লাভ করি, তেমনি পুরাতন নিয়মের লোকেরা ত্বকচ্ছেদ ও নিস্তারপর্বীয় মেষের রক্ত দ্বারা পাপ মুক্ত হত৷ এভাবে আমরা ঈশ্বরের দন্ডাজ্ঞা এবং এই পাপপূর্ণ পৃথিবী থেকে পাপমুক্ত হয়েছি৷ যারা বিশ্বাস করে তারা ঈশ্বরের সন্তান হয়, এবং ঈশ্বর তাদের পিতা হন৷
একজন ব্যক্তি পাপমুক্ত হয় এবং ঈশ্বরের নিজের একজন সন্তান হয় এদুটো জিনিস বিশ্বাস করে: ত্বকচ্ছেদ ও নিস্তারপর্বীয় মেষের রক্ত, যেমন যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত৷ যীশুর মতানুসারে এটাই হল সত্য৷ এটাই হল জল, রক্ত ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভ করার প্রকৃত অর্থ৷
 
 
বাইবেলে উল্লিখিত জল ও আত্মায় পাপমোচন কি?
 
পাপীরা কি কেবলমাত্র
যীশুর রক্তে বিশ্বাসের দ্বারা
ধার্মিক হতে পারে?
কখনও না
 
যীশু স্বর্গে তাঁর সিংহাসন পরিত্যাগ করেছিলেন এবং পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন৷ জগতের সমস্ত পাপ তুলে নেবার জন্য ৩০ বছর বয়সে যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন৷
যীশুর ক্রুশীয় রক্ত ছিল তাঁর জগতের সমস্ত পাপীদের দন্ডাজ্ঞা৷ যীশু খ্রীষ্ট এ জগতে ত্রাণকর্তারূপে এসেছিলেন এবং জল ও আত্মার মাধ্যমে সমস্ত পাপীদের পাপ থেকে তাদের উদ্ধার করেছিল৷
আমরা কি একাকী রক্তে নুতন জন্ম লাভ করতে পারি? না৷ আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত দ্বারা পাপ থেকে মুক্ত হয়েছি৷ আমি তাদেরকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে চাই, যারা শুধুমাত্র যীশুর রক্তে বিশ্বাস করে৷ “ পাপীরা কি শুধুমাত্র খ্রীষ্টের রক্তে বিশ্বাসের দ্বারা ধার্মিক হতে পারে, না কি এটা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্ত উভয়ে বিশ্বাস করা? এটা কি শুধু বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের সকল পাপ তাঁর উপর বর্তায় না কি শুধুমাত্র তাঁর রক্তের মাধ্যমে কোনটি সত্য, আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি৷”
প্রকৃতপক্ষে জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভ করতে হলে, আমাদের নিম্নলিখিত জিনিসগুলি সম্পন্ন করতে হবে৷ আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, যীশু মাংসে এ জগতে এসেছিলেন, যর্দনে তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা জগতের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপর তুলে নিয়েছিলেন আর আমাদের সমস্ত পাপের নিমিত্ত ক্রুশে দন্ডিত হয়েছিলেন৷ এভাবে, যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের দ্বারা আমাদের প্রকৃত, আমরা সত্যিকারের নুতন জন্ম লাভ করতে পারি৷
আমি আপনাকে আবার জিজ্ঞাসা করছি৷ বাইবেলে কিরূপে বিশ্বাসের ব্যাখ্যা করা হয়েছে? এটা কি যীশুর রক্তে বিশ্বাস, নাকি উভয়ই যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত?
যীশুর রক্তে বিশ্বাস হল এটা অনুসরণ করা৷ যীশু জগতের সমস্ত পাপের নিমিত্ত দোষারোপিত ও বিচারিত হয়েছিলেন৷ তিনি আমাদের পাপের নিমিত্ত আহত ও নিষ্পেষিত হয়েছিলেন, আমরা এই ভয়ঙ্কর দন্ডাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়েছি৷ কিন্তু এটা সম্পূর্ণ সত্য না৷ আমাদের এই শিক্ষা গ্রহনের পূর্বেই, আমাদের একটি বিষয় স্পষ্টরূপে বুঝতে হবে৷ কেন যীশুকে ক্রুশারোপিত হতে হয়েছিল?
বাইবেলে স্পষ্টরূপে বলা হয়েছে যে, পাপের বেতন মৃত্যু৷ যীশু এই পৃথিবীতে কখনও কোনো পাপ করেন নি৷ মরিয়মের মাধ্যমে তিনি মনুষ্যরূপে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁর লোকেদের কাছে ঈশ্বরের পবিত্র পুত্রের প্রতিমূর্তিতে এবং পাপীদের ত্রাণকর্তারূপে প্রকাশিত হয়েছিলেন৷ এ কারণে তাঁকে ক্রুশে মৃত্যুবরণের পূর্বেই যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তাইজিত হতে হয়েছিল৷ যখন তিনি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তখন তিনি আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন৷ এভাবে, বাপ্তিস্ম ব্যতীত, তিনি ক্রুশে রক্ত সেচনের দন্ডাজ্ঞা পেতেন না৷
 
 
পুরাতন নিয়মে বলিদানের রীতি
 
হোমবলির জন্য অপরিহার্য
শর্তগুলি কি ছিল?
(১) একটি জীবিত নির্দোষ পশু
(২) হস্তার্পণ
(৩) রক্ত
 
আসুন আমরা পবিত্র সমাগম তাম্বুর এই প্রকৃত হোমবলির রীতিতে দৃষ্টিপাত করি৷ পুরাতন নিয়মে, একজন পাপী কি একজন প্রধান যাজক বলির মেষ অথবা ছাগের উপর হস্তার্পণ করত তার বা ইস্রায়েলের পাপ এটার মাথার উপর স্থানান্তরের জন্য৷ তারপর উপহারটি হত্যা করা হত এবং বেদীর সম্মুখে উত্সর্গীকৃত হত৷ পুরাতন নিয়ম ছিল নিয়মের অগ্রদূত৷ আর যীশু খ্রীষ্ট ছিলেন হোমবলির মেষ, ঈশ্বর তাঁকে পাঠানোর জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলেন৷
কখন আপনারা যীশুর উপরে আপনাদের সমস্ত পাপ দিয়েছেন? আমি চাই আপনি চিন্তা করুন এ সমন্ধে এবং প্রশ্নটির উত্তর দিন৷ পুরাতন নিয়মে, পুরাতন নিয়মে ইস্রায়েলীয়রা হস্তার্পণ ব্যতীত পশুটি হত্যা করতে পারত না (হস্তার্পণ অর্থ হল পাপার্থক বলির উপর পাপ আরোপ করা)৷ পাপার্থক বলিটি বেদীর সামনে আনার পূর্বেই, হোমবলি পশুর উপর পাপ হস্তান্তরের জন্য হস্তার্পণ করা হত৷
“ পরে হোমবলির মস্তকে হস্তার্পণ করিবে, আর তাহা তাহার প্রায়শ্চিত্তরূপে তাহার পক্ষে গ্রাহ্য হইবে” (লেবীয়পুস্তক ১:৪)৷ এটা লেবীয়পুস্তকে লেখা আছে যে, সব উপহারের উপরে হস্তার্পণ করা আবশ্যক৷ উপহারের মস্তকে তাদের হস্তার্পনের দ্বারা, ইস্রায়েলের লোকেরা তাদের পাপ এটার উপরে স্থানান্তর করতে সক্ষম হত, আর এর রক্ত ও মাংস বিশ্বাসে ঈশ্বরের সম্মুখে উত্সর্গীকরণের দ্বারা, তারা তাদের পাপ থেকে মুক্ত হতে পারত৷ পুরাতন নিয়মের সময় ইস্রায়েলীয়রাও বিশ্বাসে পাপ মুক্ত হত৷
যখন পাপার্থক বলিটি ঈশ্বরের সম্মুখে দেওয়া হত, তখন একজন পাপীকে এর মাথার উপর হস্তার্পণ করতে হত, যেন পাপীর পাপ এর উপরে স্থানান্তরিত হয়৷ পরে উপহারটি পাপীর পক্ষে হত্যা করা হত৷ বেদীর চার শৃঙ্গে এর রক্ত ছিটানো হত এবং বাকিটুকু মেঝেতে বেদীর ভিত্তিমূলে ঢেলে দেওয়া হত৷ এমন ভাবে পাপীরা পাপমোচন করত৷
নুতন নিয়মে পাপীরা যীশুর জল ও রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে তাদের সমস্ত পাপ মোচন করতে পারে৷ ১ যোহন ৫:১-১০ পদে বলা হয়েছে যে, একজন পাপীর পাপমোচন হয়, যখন সে যীশুর বাপ্তিস্মে ও মেষের রক্তে (ক্রুশে) বিশ্বাস করে৷
এজন্য যে কোনো পাপী পাপমোচন করতে পারে যখন সে উভয়ই যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস করে৷ যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত, একত্রে পবিত্র আত্মা, জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের জন্য অপরিহার্য৷
প্রিয়, আপনি কি শুধুমাত্র যীশু খ্রীষ্টের রক্তে বিশ্বাসের দ্বারা পাপমোচন করতে পারেন? যারা চিন্তা করে তারা কেবল ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাসের দ্বারা নুতন জন্ম লাভ করতে পারে, তাদের অন্তরে এখনও পাপ রয়েছে৷ কিন্তু আমরা আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হতে পারি৷ যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাসের দ্বারা নুতন নিয়মের আত্মিক ত্বকচ্ছেদের মত, যা শেষকালে পুরাতন নিয়মের সমতুল্য ত্বকচ্ছেদের বর্ণনা করে৷
সকল সম্প্রদায়ের তাদের নিজস্ব শিক্ষার রীতি আছে৷ আমরা জানি যে, তারা তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত নরকের যাতনা ভোগ করার জন্য নির্দিষ্ট হয়ে রয়েছে৷ প্রেসবিটারিয়ান গীর্জায় পূর্ব মনোনয়নের মতবাদের উপর জোর দেওয়া হয়৷ মেথডিস্ট চার্চের আরমেনিয় অর্থাৎ মানবতায় জোর দেওয়া হয়, ব্যাপ্টিস্ট মন্ডলীতে বাপ্তিস্মের উপরে হোলিনেস চার্চে পবিত্র জীবনযাপনের উপর জোর দেওয়া হয়, এরা সকলে সত্য বাক্য থেকে সরে এসেছে৷
কিন্তু বাইবেল নুতন জন্মের সত্যতা সমন্ধে কি বলে? বাইবেল যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের সত্যতা সমন্ধে বলে৷ যে কেহ ঈশ্বরের বাক্য বিশ্বাস অনুসরণ করে এবং জল ও আত্মার নুতন জন্মে বিশ্বাস আছে সে পাপমোচনের পথ খুঁজে পাবে৷
 
 
যীশুর বাপ্তিস্মের গোপন বিষয় কি?
 
নুতন নিয়মে আত্মিক
ত্বকচ্ছেদ কি?
যীশুর বাপ্তিস্ম
 
যীশুর বাপ্তিস্ম ছিল আত্মিক ত্বকচ্ছেদ৷ পুরাতন নিয়মে, ঈশ্বর বলেছিলেন যে, যে কেউ ত্বকচ্ছেদ না করে সে তাঁর লোকেদের থেকে পৃথক হয়ে যায়৷
আমাদের জানতে ও বিশ্বাস করতে হবে যে, বস্তুতঃ যীশুর বাপ্তিস্ম হল নুতন নিয়মের আত্মিক ত্বকচ্ছেদ৷ কেননা যীশু তাঁর প্রকাশ্য কার্যের আরম্ভেই যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, আমরা তাঁর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করে আত্মিকভাবে ত্বকচ্ছেদ করতে পারি৷ যীশুকে কেন যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তাইজিত হতে হয়েছিল, আমাদের এর কারণ সতর্কতার সহিত বিবেচনা করা উচিত৷
“তৎকালে যীশু যোহন দ্বারা বাপ্তাইজিত হইবার জন্য গালীল হইতে যর্দ্দনে তাঁহার কাছে আসিলেন। কিন্তু যোহন তাঁহাকে বারণ করিতে লাগিলেন, বলিলেন, আপনার দ্বারা আমারই বাপ্তাইজিত হওয়া আবশ্যক, আর আপনি আমার কাছে আসিতেছেন? কিন্তু যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্ম্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত। তখন তিনি তাঁহার কথায় সম্মত হইলেন”
(মথি ৩: ১৩-১৫)
যীশু যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা “মৃত্যুনদী” যর্দনে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন৷ যোহন বাপ্তাইজক যীশুর মাথার উপর হস্তার্পণ করেছিলেন এবং তিনি পরিপূর্ণভাবে নিমজ্জিত হয়েছিলেন৷ বাপ্তিস্ম গ্রহণ করার এটাই সঠিক পথ (বাপ্তিস্ম জলে নিমজ্জিত হওয়া)৷ জগতের সমস্ত পাপ তুলে নেবার জন্য যীশুকে পুরাতন নিয়মের উল্লিখিত হস্তার্পণ এই একইভাবে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করতে হয়েছিল৷
যারা যীশুকে বিশ্বাস করে তাদের জন্য যীশুর বাপ্তিস্ম হল আত্মিক ত্বকচ্ছেদ৷ “কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্ম্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত”। (মথি ৩:১৫)৷ এটা উপযুক্ত ছিল যে, যীশু জগতের সমস্ত পাপভার তুলে নিয়েছিলেন এবং আমাদের ঈশ্বর ও ত্রাণকর্তা হয়েছিলেন৷ এভাবে এটা উপযুক্ত ছিল যেমন লিখিত আছে, যে তিনি আমাদের সমস্ত পাপভার নিজের মস্তকে তুলে নিয়ে ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছিলেন৷
সমস্ত পাপীদের নুতন জন্ম গ্রহণ করাতে যীশুর বাপ্তিস্মের শক্তি রয়েছে৷ এটাই হল জল ও আত্মার সুসামাচারের গোপন বিষয়৷
যীশু তাঁর প্রকাশ্য কার্যের প্রথমে যা করেছিলেন তা হল সমস্ত পাপীদের পাপ থেকে মুক্ত করার জন্য যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ৷ বাপ্তিস্ম মানে হল, “ধৌত করা, সমাধিস্থ করা, প্রবাহিত করা৷”
বাপ্তিস্ম গ্রহণ করার রীতি ঈশ্বর কর্তৃক আজ্ঞা ছিল, যা দ্বারা যীশু জগতের সমস্ত পাপ তাঁর কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন৷ ঐ দেখ! ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান! (যোহন ১:২৯)৷ যীশুর বাপ্তিস্মের অর্থ হল যে, জগতের সমস্ত লোক যারা যীশুতে বিশ্বাস করে তারা আত্মিকভাবে ত্বকচ্ছেদ করে৷
পরে, তিনি ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন ঈশ্বরের মেষশাবকরূপে, যিনি জগতের সমস্ত পাপভার তুলে নিয়েছিলেন এবং সকল পাপীদের জন্য দন্ডাজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন৷ এভাবে, তিনি সমগ্র মানবজাতিকে পাপমুক্ত করেছিলেন৷
এজন্য যারা যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করে, তারা পুরাতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদ এবং তাঁর ক্রুশীয় রক্ত তাদের পরিত্রাণ স্বরূপ সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করে এটাও বিশ্বাস করে৷ যীশু খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত দ্বারা সমস্ত পাপীদের পাপমুক্ত করেছেন৷ এটাই হল আত্মিক ত্বকচ্ছেদের স্বীকৃতি৷
 
 
কেবলমাত্র রক্ত দ্বারাই কি পরিতার্ন হয়? না, তা নয়
 
যীশু কিসের দ্বারা
জগতে এসেছিলেন?
জল ও রক্ত দ্বারা
 
১ যোহন ৫:৪-৮ পদে বলা হয়েছে, “কারণ যাহা কিছু ঈশ্বর হইতে জাত, তাহা জগৎকে জয় করে; এবং যে জয় জগৎকে জয় করিয়াছে, তাহা এই, আমাদের বিশ্বাস। কে জগৎকে জয় করে? কেবল সেই, যে বিশ্বাস করে, যীশু ঈশ্বরের পুত্র। তিনি সেই, যিনি জল ও রক্ত দিয়া আসিয়াছিলেন, যীশু খ্রীষ্ট; কেবল জলে নয়, কিন্তু জলে ও রক্তে। আর আত্মাই সাক্ষ্য দিতেছেন, কারণ আত্মা সেই সত্য। বস্তুতঃ তিনে সাক্ষ্য দিতেছেন, আত্মা ও জল ও রক্ত, এবং সেই তিনের সাক্ষ্য একই।”
প্রিয় খ্রীষ্টিয়ান, আপনার ত্রাণকর্তারূপে তাঁর কি সাক্ষ্য আপনার কাছে আছে? ঈশ্বরের পুত্রে বিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই নয় যিনি জল ও রক্তে এসেছিলেন৷
কি বিজয় যা জগতকে জয় করেছে? এটা জল ও রক্তে বিশ্বাসের শক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়৷ আর এটা আত্মা যা সাক্ষ্য বহন করে, আত্মার সত্যতার জন্য৷
তিনিটি জিনিস যা পৃথিবীতে সাক্ষ্য বহন করে: জল, রক্ত ও আত্মা৷ আর এই তিনটি মত একই রূপ৷ যীশু মাংসে এই জগতে এসেছিলেন, তিনি বাপ্তিস্ম গ্রহণ ও ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছিলেন অনন্ত নরক থেকে আমাদের উদ্ধার করার জন্য৷ এই প্রমান যে, ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টিকর্তা, জল ও আত্মার সুসামাচারের সমস্ত পাপীদের ত্রাণকর্তা হয়েছিলেন- যা আমাদের সবাইকে পাপমুক্ত করে৷
এটা আমাদের প্রমান যে, যীশু, যিনি এই পৃথিবীতে আত্মা-রূপে মাংসে এসেছিলেন, আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপর তুলে নিয়ে যর্দনে বাপ্তিস্ম গ্রহণ ও ক্রুশে রক্ত সেচন করে আমাদের পাপের দন্ডাজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন৷ এভাবে, তিনি সবাইকে মুক্ত করেন যারা তাঁকে বিশ্বাস করে৷ এটা হল জল ও আত্মার মূল সুসামাচার৷
 
 
জল ও রক্ত কি, যা ঈশ্বরের পরিত্রাণের সাক্ষ্য বহন করে?
 
পুরাতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদের
প্রতিরূপ কি?
যীশুর বাপ্তিস্ম৷
 
জল যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মের কথা উল্লেখ করে৷ পুরাতন নিয়মে, যীশুর বাপ্তিস্মের অর্থ হল ত্বকচ্ছেদ৷ পুরাতন নিয়মে ত্বকচ্ছেদ হল নুতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্মের প্রতিরূপ৷ প্রমান এই যে, জগতের সমস্ত পাপ যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তাঁর উপর বর্তেছিল৷
যে কেউ এই সত্য বিশ্বাস করে সে ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়াবার যোগ্যতা অর্জন করে এবং আত্মসচেতনতার সহিত বলে, “তুমি আমার ত্রাণকর্তা, আমার প্রভু কেননা আমি তোমার বাপ্তিস্ম ও রক্ত জল ও আত্মার সুসামাচারে বিশ্বাস করি৷ এজন্য, আমার পাপ নেই৷ আমি ঈশ্বরের একজন সন্তান আর তুমি আমার ত্রাণকর্তা৷” আমরা এটা সত্য বিশ্বাসে প্রকাশ্যে ব্যক্ত করতে সক্ষম৷ এটা বলতে আমরা সক্ষম হয়েছি কারণ আমাদের বিশ্বাস যীশুর বাপ্তিস্মে ও তাঁর রক্তে৷
কোন শব্দ আমাদের নুতন জন্ম লাভ করার অনুমোদন দেয়? এটা হল যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্ত, যা আমাদের অন্তরের পরিত্রাণের সাক্ষ্য৷ এটা হল জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভ করার সুসামাচার৷
প্রিয় খ্রীষ্টিয়ান, আমি আপনাকে আবারও জিজ্ঞাসা করছি, একজন পাপী কি একাকী খ্রীষ্টের রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে পাপমুক্ত হতে পারে? না পরিত্রাণের জন্য শুধু তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যুতে বিশ্বাসের প্রয়োজন নেই৷ এটা কেবলমাত্র উভয় জল ও রক্ত- জল ও আত্মার সুসামাচার বিশ্বাসের মাধ্যমে পাপীরা নুতন জন্ম লাভ করতে পারে৷ এখন আমাকে বাইবেল থেকে বলতে দিন, যা জল অথবা ভিন্ন কথায় যীশুর বাপ্তিস্মের কথা বলে৷
১ পিতর ৩:২১-২২ পদে বলা হয়েছে, “আর এখন উহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম —অর্থাৎ মাংসের মালিন্যত্যাগ নয়, কিন্তু ঈশ্বরের নিকটে সৎসংবেদের নিবেদন—তাহাই যীশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা তোমাদিগকে পরিত্রাণ করে। তিনি স্বর্গে গমন করিয়া ঈশ্বরের দক্ষিণে আছেন; দূতগণও কর্ত্তৃত্ব সকল ও পরাক্রমসমূহ তাঁহার বশীকৃত হইয়াছে”।
প্রেরিত পিতর সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, যীশুর বাপ্তিস্ম হল প্রতিরূপ যা আমাদের পাপমুক্ত করে, আর এটা পাপ থেকে পরিত্রাণও জ্ঞাত করেছিল৷ যীশুর বাপ্তিস্ম হল পুরাতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদের সমতুল্য৷ পুরাতন নিয়মের সময়ে যেমন ইস্রায়েলের লোকেরা ঈশ্বরের বাক্য বিশ্বাস করেছিল এবং ঈশ্বরের সন্তান হবার জন্য তাদের ত্বকচ্ছেদ করেছিল, তেমন নুতন নিয়মের সময়ে যীশুর বাপ্তিস্ম আমাদের সমস্ত পাপ মুক্ত করে৷
এ কারণে, পুরাতন নিয়মে ত্বকচ্ছেদ এবং নুতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্ম এক ও অভিন্ন৷ এখন আপনারা কি সকলে বিশ্বাস করেন যে, যীশুর বাপ্তিস্ম বস্তুতঃ ত্বকচ্ছেদের মত একই? যেমন এটা ১ পিতর ৩: ২১ পদে লেখা আছে, আর এখন উহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম, যা আমাদের রক্ষা করে, আপনি কি ঈশ্বরের লিখিত বাক্যের সাথে বাদানুবাদ করতে পারেন?
আমরা যারা এ জগতে বাস করছি, তারা কেমন করে পাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারি? এর কারণ হল যীশু খ্রীষ্ট বাপ্তিস্ম দ্বারা যে ধার্মিকতা সাধন করেছিলেন, আমরা তার জন্য পাপ থেকে পরিত্রাণ পাই৷ মথি ৩:১৫ পদে আছে, “কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্ম্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত”।
কেননা জগতের সমস্ত পাপ যীশুর উপরে বর্তেছিল, এখন যারা তাঁকে বিশ্বাস করে তারা সকলে পাপমুক্ত৷ আমরা সকলে এই বিশ্বাস গ্রহনের দ্বারা ধার্মিক হতে পারি যে, আমাদের সমস্ত পাপ যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তাঁর উপর বর্তেছিল৷ যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন এবং আমাদের সমস্ত দন্ডাজ্ঞা থেকে মুক্ত করে ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছিলেন৷
প্রিয় বন্ধুগণ, দুটো জিনিস যা সমস্ত পাপীদের তাদের পাপ থেকে মুক্ত করে তা হল জল ও রক্ত৷ আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নেওয়া এবং আমাদের জন্য ক্রুশের উপরে মৃত্যুবরণ করা এ দুটো প্রধান কাজ যীশু তাঁর এ জগতে তিন বছর রাজত্বকালে আমাদের জন্য করে গিয়েছিলেন৷
যোহন ১:২৯ পদে বলা হয়েছে, “ঐ দেখ! ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান!” যীশু খ্রীষ্ট বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন জগতের সমস্ত পাপ নিজের উপর তুলে নেবার জন্য আর আমাদের অপরাধের প্রায়শ্চিত্তের জন্য তিনি ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছিলেন৷ যীশু ঈশ্বরের পুত্র, আর স্রষ্টারূপে, জগতের সমস্ত পাপভার তুলে নিয়ে তিনি ত্বকচ্ছেদের চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন, যা ঈশ্বর পুরাতন নিয়মে তৈরী করেছিলেন৷
যে কেহ তার হৃদয়ে যীশুর বাপ্তিস্মের সুসমাচার, জল ও রক্তে বিশ্বাস করে, সে জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভ করবে৷ আর যারা বিশ্বাস করে প্রভু তাদের সকলের ত্রাণকর্তা হবেন৷ ধন্যবাদ প্রভু, হাল্লেলুয়া! যীশু আমাদের পরিত্রাণ সম্পন্ন করেছেন যেমন ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, এবং তিনি জগতের সমস্ত পাপ থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন৷
 
 
মাংসের মালিন্যত্যাগ নয়
 
এ সময়ে মাংস কি পবিত্র হবে?
না, আমার মৃত্যু পর্যন্ত মাংস পাপ
করতে থাকবে৷
 
১ পিতর ৩:২১-২২ পদে বলা হয়েছে, “আর এখন উহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম —অর্থাৎ মাংসের মালিন্যত্যাগ নয়, কিন্তু ঈশ্বরের নিকটে সৎসংবেদের নিবেদন—তাহাই যীশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা তোমাদিগকে পরিত্রাণ করে”।
যখন কেউ যীশুকে তার ত্রাণকর্তারূপে বিশ্বাস করে, তখন এটার মানে এই নয় যে, সে তার মাংসিক পাপ থেকে বিরত থাকবে৷ আমরা সম্ভবত পাপ করতে থাকব, কিন্তু যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস দ্বারা আমরা জগতের সমস্ত পাপ যীশুর উপর বর্তাতে পারি, যিনি এগুলোর মূল্য তাঁর ক্রুশীয় রক্ত দিয়ে পরিশোধ করেছিলেন৷ আমাদের পরিত্রাণের জন্য এ দুটি জিনিস অপরিহার্যরূপে বিশ্বাস করে, আমরা পাপমুক্ত হয়েছি৷
নুতন জন্মের অর্থ হল যীশুকে সমস্গ্র মানবজাতির ত্রাণকর্তারূপে আমাদের হৃদয়ে স্বাগত জানানো৷ আমাদের হৃদয়ে পাপের ক্ষমাও পেতে হবে৷ যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস করি, তখন আমরা হৃদয়ে নুতন জন্ম লাভ করি, কিন্তু আমরা নিয়মিত পাপ এবং মাংসিক অপরাধ করতে থাকি৷ কিন্তু, আমাদের সমস্ত মাংসিক পাপের ইতিমধ্যেই ক্ষমা হয়ে গিয়েছে৷
যীশুর বাপ্তিস্ম হল তাদের জন্য সাক্ষ্য যারা পাপমুক্ত হয়েছে৷ আমরা পাপমুক্ত হই যখন আমরা বিশ্বাস করি খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা হয়েছে৷ আমরা নুতন জন্ম লাভ করি যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে সত্য পরিত্রাণ আমাদের হৃদয়ে গ্রহণ করি আর জল ও আত্মার সুসামাচারের মাধ্যমে ধার্মিক হই৷
এটা হল পুরাতন নিয়মে অব্রাহমের বিশ্বাস, প্রেরিত পৌলের বিশ্বাস যা তিনি ধার্মিক হবার জন্য বলেছিলেন, এবং পরিত্রাণের প্রতিরূপ যা প্রেরিত পিতর সাক্ষ্য দিয়েছিলেন৷
যেমন অব্রাহম শুনেছিলেন ও বিশ্বাস করেছিলেন ঈশ্বরের বাক্যে আর ধার্মিক হয়েছিলেন, তেমন আমরাও পাপমুক্ত হই যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস করি৷
যোহন ১:১২ পদে বলা হয়েছে, “কিন্তু যত লোক তাঁহাকে গ্রহণ করিল, সেই সকলকে যাহারা তাঁহার নামে বিশ্বাস করে তাহাদিগকে, তিনি ঈশ্বরের সন্তান হইবার ক্ষমতা দিলেন৷” আপনি কি যীশু খ্রীষ্টকে গ্রহণ করেছেন, যিনি আপনার ত্রাণকর্তারূপে তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্তের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করেছেন? আমাদের অবশ্যই ঈশ্বরের পুত্র যীশু খ্রীষ্টের জল ও রক্তের মাধ্যমে প্রদত্ত পরিত্রাণ গ্রহণ করতে হবে৷
পরিত্রাণ কি কেবল যীশু খ্রীষ্টের রক্তের দ্বারা হয়? না৷ এটা যীশুর জল ও রক্তের দ্বারা হয়৷ বাইবেলে, এটা স্পষ্টভাবে নিরুপিত আছে যে, পরিত্রাণ একাকী যীশুর রক্তের দ্বারা হয় না৷ এটা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের দ্বারা হয়৷
নুতন নিয়মে, যীশুর বাপ্তিস্ম হল আত্মিক ত্বকচ্ছেদ৷ এটা হল পরিত্রাণের সত্যতা যা দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ আমাদের থেকে ছিন্ন হয়৷ প্রকৃত ঘটনা হল যে, তিনি জগতের পাপের জন্য দন্ডিত হয়েছিলেন, আমার এবং আপনার জন্য৷
যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের দ্বারা পাপের ক্ষমার সুসমাচার গ্রহনের মাধ্যমে, আমরা আমাদের সমস্ত পাপের দন্ডাজ্ঞা থেকে মুক্ত হই৷ আমাদের বিশ্বাস দিয়ে, যত পাপ আমরা এ জগতে করি তা থেকে মুক্ত হয়েছি৷ যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত আমাদের পরিত্রাণরূপে গ্রহণ করি, তখন আমাদের হৃদয়ে সমস্ত পাপ ধৌত হয়ে যায়৷ আপনি কি বিশ্বাস করেন ও বোঝেন এটা সত্য হতে পারে? আমি আন্তরিকভাবে আশা করি যে, আপনারা সকলে জল ও আত্মার সুসামাচারে বিশ্বাস করবেন৷ বিশ্বাস করুন এবং অনন্তজীবন লাভ করুন৷
প্রেরিত পৌল বলেছিলেন, “হৃদয়ের যে ত্বকচ্ছেদ” (রোমীয় ২:২৯)৷ কিভাবে আমরা হৃদয়ের ত্বকচ্ছেদ করতে পারি? যখন আমরা যীশু খ্রীষ্টের মাংসে এই জগতে আসা, তাঁর বাপ্তিস্মে আমাদের সকল পাপ নিজের উপরে তুলে নেওয়া, আমাদের পাপের জন্য ক্রুশের উপরে তাঁর মৃত্যুবরণ এবং মৃত্যু থেকে তাঁর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করি, তখন আমরা আত্মিকভাবে ত্বকচ্ছেদ করতে পারি৷
প্রেরিত পৌল বলেছিলেন যে, হৃদয়ের ত্বকচ্ছেদ৷ হৃদয়ের ত্বকচ্ছেদ মানে হল যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে বিশ্বাস করা৷ যদি আপনি হৃদয়ে ত্বকচ্ছেদ করতে চান, তাহলে আপনাকে যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের সুসমাচার আপনার হৃদয়ে গ্রহণ করতে হবে৷ কেবলমাত্র তাহলেই, আপনি প্রকৃত ঈশ্বরের সন্তান হতে পারেন৷
 
 
যোহন বাপ্তাইজক কি ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত হয়েছিলেন?
 
যোহন বাপ্তাইজক কে ছিলেন?
হারোনের কুল অনুসারে তিনি ছিলেন
মানবজাতির প্রতিনিধি এবং
শেষ প্রধান যাজক
 
এখানে আমাদের জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন যে, যোহন বাপ্তাইজক কে ছিলেন, যিনি যীশুকে বাপ্তাইজিত করেছিলেন৷ যোহন বাপ্তাইজক ছিলেন সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধি৷ মথি ১১:১১-১৪ পদে বলা হয়েছে, “আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, স্ত্রীলোকের গর্ভজাত সকলের মধ্যে যোহন বাপ্তাইজক হইতে মহান্‌ কেহই উৎপন্ন হয় নাই, তথাপি স্বর্গ-রাজ্যে অতি ক্ষুদ্র যে ব্যক্তি, সে তাঁহা হইতে মহান্‌। আর যোহন বাপ্তাইজকের কাল হইতে এখন পর্য্যন্ত স্বর্গ-রাজ্য বলে আক্রান্ত হইতেছে, এবং আক্রমীরা সবলে তাহা অধিকার করিতেছে। কেননা সমস্ত ভাববাদী ও ব্যবস্থা যোহন পর্য্যন্ত ভাববাণী বলিয়াছে। আর তোমরা যদি গ্রহণ করিতে সম্মত হও, তবে জানিবে, যে এলিয়ের আগমন হইবে, তিনি এই ব্যক্তি।”
প্রিয় খ্রীষ্টিয়ান, যীশু বলেন যে, নারীদের গর্ভজাতদের মধ্যে যোহন বাপ্তাইজকের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউই নেই৷ পুরাতন নিয়মে ঈশ্বরের প্রথম নিয়ম, যোহন বাপ্তাইজকের জন্মের শেষ হয়েছিল৷ এটা শেষ হয়েছিল কারণ যীশু খ্রীষ্ট যিনি সবশেষে এসেছিলেন, তাঁকে ঈশ্বরের নিয়ম সম্পন্ন করতে হয়েছিল৷
তারপর ইনি কে ছিলেন, যাকে ঈশ্বরের নিয়ম সম্পন্ন করতে হয়েছিল? যীশু খ্রীষ্ট এবং যোহন বাপ্তাইজক৷ যোহন বাপ্তাইজক জগতের সমস্ত পাপ যীশুর উপরে বর্তিয়ে ছিলেন৷ পুরাতন নিয়মে শেষ প্রধান যাজক কে ছিলেন? হারোনের বংশধর কে ছিলেন? যীশু খ্রীষ্ট নিজেই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, ইনি যোহন বাপ্তাইজক ছাড়া আর কেউ নন৷ যোহন বাপ্তাইজক মানবজাতির প্রতিনিধি যিনি নারীদের গর্ভজাতদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন৷
আসুন এসব ঘটনাগুলি আমরা বিবেচনা করি৷ মোশি, অব্রাহম, ইসহাক এবং যাকোব সকলে নারীদের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন৷ কিন্তু নুতন ও পুরাতন উভয় নিয়মের লোকেদের মধ্যে নারীদের গর্ভজাতদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কে ছিল? ইনি হলেন যোহন বাপ্তাইজক৷
পুরাতন নিয়মে পাপের প্রায়শ্চিত্তের দিনে হারোন যেমন হোমবলির মস্তকে হস্তার্পণ করতেন, ঠিক তেমন ভাবেই পুরাতন নিয়মের শেষ যাজক হারোনের বংশধর যোহন বাপ্তাইজক নুতন নিয়মে ঈশ্বরের মেষশাবককে বাপ্তাইজিত করেছিলেন৷ তিনি যীশু খ্রীষ্টকে অবগাহিত করেছিলেন এবং যীশুর উপরে জগতের সমস্ত পাপ বর্তিয়ে ছিলেন৷ তিনি ঈশ্বরের একজন সেবক ছিলেন৷ তিনি যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মের দ্বারা সমগ্র মানবজাতির হৃদয়ে আত্মিক ত্বকচ্ছেদ সম্পন্ন করেছিলেন৷
যীশুর বাপ্তিস্মের সাথে, অবশ্যই আমাদের তাঁর রক্ত আমাদের পরিত্রাণের সাক্ষ্যস্বরূপ বিশ্বাস করতে হবে৷ যীশু খ্রীষ্ট জগতের সমস্ত পাপ তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তুলে নিয়েছিলেন এবং এগুলোর জন্য দন্ডিত হয়েছিলেন৷ আর আমাদের শুধুমাত্র করণীয় হচ্ছে স্বাভাবিকভাবে এটাতে বিশ্বাস করা৷ এটা ঈশ্বরের ইচ্ছা যে, যীশু যা করেছিলেন তাতে আমাদের বিশ্বাস করা৷
একবার আপনি যদি নুতন জন্ম লাভ করেন এবং জল ও আত্মার সুসামাচার আপনার হৃদয়ে গ্রহন করেন, তাহলে আপনি অব্রাহমের বংশধর এবং ঈশ্বরের একজন সন্তান হতে পারবেন৷ খ্রীষ্টে আছে এমন লোকের সংখ্যা খুব কম, খ্রীষ্টকে গ্রহন করে নি, এমন লোক অনেক আছে৷
দিন প্রায় শেষ এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আসছে৷ যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করুন এবং তাঁকে আপনার হৃদয়ে প্রবেশ করার অনুমুতি দিন৷ আপনার যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে বিশ্বাস আপনাকে আত্মিক পরিত্রাণের সহিত আশীর্বাদযুক্ত করবে৷
সর্বদা মনে রাখবেন যে, যখন আপনি পরিত্রাণের সুসমাচার, যীশুর জল ও তাঁর রক্তের সুসামাচারে বিশ্বাস করেন তখন আত্মিক প্রায়শ্চিত্ত আসে৷ আমি আপনাকে জানাতে চাই যে, যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের সুসমাচার বিশ্বাস দ্বারা আপনি আত্মিক প্রদীপ (গীর্জা) ও তেল (শক্তি) প্রস্তুত রাখতে পারেন৷ সেই সুবুদ্ধি কুমারীদের মত (মথি ২৫:৪)৷ যারা যীশুকে বিশ্বাস করে তারা হৃদয়ে পবিত্র শক্তি নিয়ে গীর্জায় যায়৷
 
 
কার জন্য যীশু বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন?
 
কি উদ্দেশ্যে যীশু বাপ্তাইজিত
হয়েছিলেন?
মানবজাতির সমস্ত পাপ
ধৌত করার জন্য৷
 
কিন্তু যোহন তাঁহাকে বারণ করিতে লাগিলেন, বলিলেন, আপনার দ্বারা আমারই বাপ্তাইজিত হওয়া আবশ্যক, আর আপনি আমার কাছে আসিতেছেন? কিন্তু যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্ম্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত। তখন তিনি তাঁহার কথায় সম্মত হইলেন” (মথি ৩:১৪-১৫)৷
যীশু মানবজাতির সমস্ত পাপ ধৌত করার জন্য বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন৷ যীশু খ্রীষ্ট ঈশ্বরের পুত্র এবং আমাদের ত্রাণকর্তা৷ তিনি সৃষ্টিকর্তা যিনি আমাদের নির্মান করেছেন৷ যীশু খ্রীষ্ট পিতা, ঈশ্বরের ইচ্ছায় এসেছিলেন আমাদেরকে তাঁর লোক তৈরী করার জন্য৷
পুরাতন নিয়মের সকল যাজকেরা কার সমন্ধে কথা বলেছিলেন? তারা যীশুর কথা বলেছিলেন৷ পুরাতন নিয়মের সকল যাজকেরা যীশুর এই জগতে এসে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নেওয়া এবং চিরদিনের জন্য পাপ থেকে মুক্ত করার কথা বলেছিলেন৷
পুরাতন নিয়মের ভবিষ্যদ্বাক্যরূপে এবং মানবজাতির আদম ও হবা থেকে শুরু করে পৃথিবীর শেষ ব্যক্তির পাপ তুলে নেবার জন্য যীশু এই জগতে নেমে এসেছিলেন৷
এখন, যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের মাধ্যমে পরিত্রাণ আপনার হৃদয়ে গ্রহণ করুন৷ আপনি কি এখনও অনিশ্চিত যে এটা সত্য? আপনার হৃদয়ে কি এখনও পাপ রয়েছে? “কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্ম্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত”। যীশু সমস্ত ধার্মিকতা সম্পন্ন করার জন্য যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা অবগাহিত হয়েছিলেন৷
“বাপ্তিস্ম” শব্দের অর্থ হল “ধৌত করা”৷ পুরাতন নিয়মে যেমন হস্তার্পনের বর্ণনা করা হয়েছিল তেমনি ভাবে যীশু যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা অবগাহিত হয়েছিলেন৷
মানবজাতির সমস্ত পাপ নেবার পর তিনি যর্দনে নিজেকে নিমজ্জিত করেছিলেন৷ নদী পাপীদের মৃত্যু ও দন্ডাজ্ঞার চিহ্ন জ্ঞাত করে৷ খ্রীষ্টের জলে নিমজ্জিত হওয়া তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যুর প্রতীক৷ তাঁর জল থেকে নির্গত হওয়া হল পুনরুত্থানের জন্য স্থির থাকা৷ যীশু ক্রুশীয় মৃত্যুর তিনদিন পর পুনরুত্থিত হয়েছিলেন৷
যীশু আমাদের ঈশ্বর ও ত্রাণকর্তা৷ প্রকৃত ঘটনা হল যে, যীশু এই জগতে এসেছিলেন বাপ্তাইজিত হওয়া, ক্রুশে রক্ত সেচন করার জন্য, তিনদিন পর তিনি পুনরুত্থিত হয়েছিলেন, আর এখন তিনি ঈশ্বরের দক্ষিণ দিকে বসে আছেন, এটা স্পষ্ট পপ্রমান করে যে, তিনি সমগ্র মানবজাতিকে মৃত্যু থেকে উদ্ধার করেছেন৷ আপনি কি আন্তরিকভাবে এই সত্যকে বিশ্বাস করেছেন?
যীশুর বাপ্তিস্ম হল নুতন নিয়মের আত্মিক ত্বকচ্ছেদ৷ “হৃদয়ে ত্বকচ্ছেদ”৷ হৃদয়ে ত্বকচ্ছেদ তখনই সম্পন্ন হয়, যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম, আমাদের সকল পাপ যীশুর উপরে বর্তেছিল এই সত্যে বিশ্বাস করি৷ হৃদয়ের ত্বকচ্ছেদ হল যীশুর বাপ্তিস্মের সত্যতা, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সকল পাপ যীশুর উপরে বর্তাতে পারি৷
আপনি কি হৃদয়ে ত্বকচ্ছেদ করেছেন? যদি আপনি হৃদয়ের ত্বকচ্ছেদে বিশ্বাস করেন, তাহলে একেবারে আপনার সকল পাপ ধৌত হয়ে গেছে ও ধৌত হয়ে যাবে৷ এই উদ্দেশ্যে যীশু সমস্ত ধার্মিকতা সম্পন্ন করেছিলেন এবং সমস্ত পাপীর পরিত্রাণ নিশ্চিত করেছিলেন৷
প্রিয় খ্রীষ্টিয়ান, পরিত্রাণের এই প্রমান আপনার হৃদয়ে ও মনে গ্রহণ করুন৷ এটাই হল সত্য৷ এক কথায় আপনি যীশুর পরিত্রাণ আপনার হৃদয়ে গ্রহণ করুন, আপনি আপনার সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হবেন৷ “কিন্তু যত লোক তাঁহাকে গ্রহণ করিল, সেই সকলকে যাহারা তাঁহার নামে বিশ্বাস করে তাহাদিগকে, তিনি ঈশ্বরের সন্তান হইবার ক্ষমতা দিলেন৷” (যোহন ১:১২)৷
আপনি কি এখন বুঝছেন কেন যীশুকে এই পৃথিবীতে বাপ্তাইজিত হবার জন্য আসতে হয়েছিল? আপনি কি এখন এটা বিশ্বাস করেন/ যীশু সমগ্র মানবজাতির পাপ তুলে নেবার জন্য বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন৷ এটা ছিল ত্বকচ্ছেদের বাপ্তিস্ম৷ যীশুর বাপ্তিস্ম আমাদের আত্মিক ত্বকচ্ছেদ প্রদান করে এজন্য প্রেরিত পৌল আমাদের হৃদয়ের ত্বকচ্ছেদ করার কথা বলেন৷ যীশু আমাদের এতই স্পষ্টভাবে অত্ন্র বাপ্তিস্ম ও রক্ত দিয়ে মুক্ত করেছেন যে আমাদের অন্তরে এটা বিশ্বাস করা ছাড়া আর কোনো পছন্দ থাকতে পারে না৷ ঈশ্বরের বাক্য আমাদের হৃদয়ে নিয়ে, আমাদের বলা উচিত “হ্যাঁ”৷ “আমেন”৷ এটা কি সত্য নয়? আপনি কি এটা বিশ্বাস করেন?
 
 
আপনি কি আপনার হৃদয়ে এই সত্য গ্রহণ করেন?
 
যীশুর আরাধনা করার পূর্বে
আমাদের কি করতে হবে?
আমাদের হৃদয়ে জল ও আত্মার
সত্যতা গ্রহণ করতে হবে৷
 
প্রায় ২০০০ বছর গত হয়েছে যীশু এই জগতে এসেছিলেন৷ এই দিন ও সময় ঈশ্বরের অনুগ্রহের, আমাদের হৃদয়ে অবশ্যই এই সত্য, যীশুর জল ও রক্তের সত্য গ্রহণ করতে হবে৷ এটা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই৷
“হৃদয়ে যে ত্বকচ্ছেদ৷” হৃদয়ে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের ত্বকচ্ছেদ করতে হবে৷ শুধুমাত্র বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা পাপমুক্ত হতে পারি৷ পুরাতন নিয়মে ইস্রায়েলীয়রা ত্বকচ্ছেদের মাধ্যমে ও নিস্তারপর্বীয় রক্ত যা তারা তাদের গৃহের দ্বারের দুই বাজুতে ও কপালীতে লেপন করত তার মাধ্যমে পাপমুক্ত হত৷
যারা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত পরিত্রাণরূপে বিশ্বাস করে তারা ঈশ্বরের দন্ডাজ্ঞার ভয় করে না কারণ এটা তাদের উপেক্ষা করবে৷ কিন্তু ঈশ্বরের দন্ডাজ্ঞা তাদের সকলের উপরে পড়বে, যারা এ সত্য তাদের হৃদয়ে গ্রহণ না করে৷ অনেকেই আছে যারা যীশুকে ভুল বিশ্বাস করে, এবং এভাবে তারা এখনও তাদের পাপের দাস হয়ে রয়েছে৷
কিভাবে তারা এই পর্যায়ে পৌছেছে? কেন তারা এখনও পাপ ভোগ করে? এটার একমাত্র উত্তর হল তারা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের সত্যতা সমন্ধে জানে না৷ তারা কেবল যীশুর রক্তে বিশ্বাস করে তাঁর বাপ্তিস্মকে উপেক্ষা বা তাচ্ছিল্য করে৷
পরিত্রাণ কি সাধারণ কেবল যীশুর রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রাপ্ত হতে পারে? বাইবেল আমাদের কি বলে যে এটা এমনই৷ পুরাতন ও নুতন নিয়ম আমাদের কি বলে? বাইবেল অনুসারে এটা কেবল ঈশ্বরের মেষের রক্ত নয় কিন্তু যীশুর বাপ্তিস্ম যার দ্বারা পরিত্রাণ অর্জিত হয় (১ যোহন ৫:৩-৬)৷
আপনি কি একাকী যীশুর রক্তকে বিশ্বাস করেন? যারা করে, তাদের হৃদয়ে এখনও পাপ রয়েছে৷ তাদের অবশ্যই এই অসত্য বিশ্বাসের উপর জয় লাভ করতে হবে, এবং সত্য সুসামাচারের দিকে ফিরে আসতে হবে৷
যারা বিশ্বাস করে না, তাদের অবশ্যই এখন স্বীকার করতে হবে যে, তারা বিপথে চালিত হচ্ছে, না জেনেই যে, যীশু যর্দনে বাপ্তিস্মের মাধ্যমে সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন৷ তাদের অবশ্যই মেনে নিতে হবে যে, যীশুর বাপ্তিস্মকে অবহেলা করে তারা ভুল করেছে৷ তাদের হৃদয়ে এটা গ্রহণ করতে হবে, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে এ জগতের সকল পাপ তুলে নিয়েছিলেন৷ পরিত্রাণ কেবলমাত্র তখন পাওয়া যায়, যখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্ত উভয়ে বিশ্বাস করি৷ অন্য কথায়, শুধুমাত্র জল ও আত্মার সুসামাচারের মাধ্যমে আমরা অনন্তজীবন লাভ করার যোগ্য হই৷
প্রিয় খ্রীষ্টিয়ান, আপনি কি এখনও পর্যন্ত কেবলমাত্র যীশুর রক্তে বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন? যদি এই ঘটনাই হয়, তবে নিশ্চিতভাবে আপনার হৃদয়ে এখনও পাপ রয়েছে৷ যদি আপনি পাপ করেন, তবে আপনার হৃদয়ে পাপ আছে৷ আপনি যদি মনে করেন যখন আপনি ঈশ্বরের নিয়মের মধ্যে বাস করছেন তখন আপনি পাপমুক্ত, এটা কেবলমাত্র একটি অনুভুতি যা আপনার আবেগ থেকে আসে৷ ঈশ্বরের বাক্য অনুযায়ী এই দৃঢ় বিশ্বাস সঠিক হয় না৷
 
 
আর বেশী দেরী নেই
 
সত্য কি থেকে আমাদের
মুক্ত করে?
পাপের নিয়ম ও মৃত্যু থেকে
 
আর বেশী দেরী নেই৷ আপনাদের সবাইকে অবশ্যই যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, আর আপনাকে হৃদয়ের ত্বকচ্ছেদ করতে হবে ও সমস্ত পাপ থেকে অবশ্যই মুক্ত হতে হবে৷ সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হবার অর্থ হল যে, আপনি যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের সুসামাচারে বিশ্বাসের দ্বারা পাপ মুক্ত হয়েছেন৷
আপনি কি যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে আপনার পাপের পরিত্রাণের জন্য বিশ্বাস করতে ইচ্ছুক? এতে একবার আপনি বিশ্বাস করুন, তাহলে আপনি এটা শিখবেন এটা কিরূপ পরিত্রাণ৷ আপনি অন্তরে শান্তি পাবেন৷ কেবল এবং কেবলমাত্র তখনই আপনি ধার্মিক হবেন৷ কাজের মাধ্যমে নয়, কিন্তু ঈশ্বরের বাক্যে আপনার বিশ্বাসের মাধ্যমে৷ যদি আপনাদের কেউ এখন পরিত্রাণের জন্য কেবল যীশুর রক্তের উপর নির্ভর ও বিশ্বাস করেন, তাহলে আমি আপনাকে সনির্বদ্ধ অনুরোধ করছি যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে উভয়ে বিশ্বাস করার জন্য৷
প্রিয় খ্রীষ্টিয়ান, যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের সুসামাচারের মাধ্যমে মানবজাতির পাপ থেকে সম্পূর্ণ পরিত্রাণ সাধিত হয়েছিল৷ ঈশ্বরের আত্মা৷ ঈশ্বর মনুষ্যরূপে মাংসে এ জগতে নেমে এসেছিলেন৷
ঈশ্বর ভাববাদীদের মাধ্যমে বলেছিলেন যে, আমাদের যীশুর নামে তাঁকে ডাকা উচিত, এজন্য তাঁকে তাঁর লোকেদের তাদের পাপ থেকে মুক্ত করতে হয়েছিল৷ ঈশ্বর বলেছিলেন, “আর তিনি পুত্র প্রসব করিবেন, এবং তুমি তাঁহার নাম যীশু [ত্রাণকর্তা] রাখিবে; কারণ তিনিই আপন প্রজাদিগকে তাহাদের পাপ হইতে ত্রান করিবেন৷ এই সকল ঘটিল, যেন ভাববাদী দ্বারা কথিত প্রভুর এই বাক্য পূর্ণ হয়, “দেখ সেই কন্যা গর্ববতী হইবে, এবং পুত্র প্রসব করিবে, আর তাহার নাম রাখা যাইবে ইম্মানুয়েল,” অনুবাদ করিলে ইহার অর্থ, ‘আমাদের সহিত ঈশ্বর’ (মথি ১:২১-২৩)৷”
ঈশ্বর পাপীদের পাপমুক্ত করার জন্য এই পৃথিবীতে এসেছিলেন৷ জগতের সমস্ত পাপ তুলে নেবার জন্য তিনি বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন আর এভাবে সমস্ত পাপীদের পাপমুক্ত করেছিলেন৷ জল ও রক্তে এটাই হল সত্যতা ও পরিত্রাণ৷ আপনাকে এটা বলার জন্য আমি এখানে৷ আমরা কি শুধুমাত্র যীশুর রক্তে পাপমুক্ত হয়েছি? অবশ্যই না৷ আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্তের দ্বারা পাপ মুক্ত হয়েছি৷
বর্তমানে অনেক ভ্রান্ত ভাববাদী ও বিরুদ্ধবাদী রয়েছে যারা যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করে না৷ যীশু বলেছিলেন, “ আর তোমরা সেই সত্য জানিবে, এবং সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে”৷ (যোহন ৮:৩২)৷
আমাদের অবশ্যই সত্য জানতে হবে৷ যীশু কেন তাঁর বাপ্তিস্ম সমন্ধে কথা বলেছিলেন, এবং আমাদেরকেও এটাতে বিশ্বাস করা উচিত কেন ঈশ্বর পুরাতন নিয়মে ইস্রায়েলের লোকেদের ত্বকচ্ছেদ এবং নিস্তারপর্বীয় মেষের রক্ত সমন্ধে বলেছিলেন৷
যখন আমরা এ গল্পের শুধুমাত্র একটি অংশ জানি, তখন আমরা কখনও সত্য বুঝতে পারি না৷ যীশু বলেছিলেন, সত্য সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, যদি কেহ জল ও আত্মা হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারে না (যোহন ৩:৫)৷
 
 
যীশুতে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করা
 
কিভাবে আমরা যীশুর মৃত্যুর
সহিত একীভূত হতে পারি?
যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের
সকল পাপ তাঁর উপর
অর্পণ করে৷
 
বাইবেল পরিত্রাণের গোপন বিষয় সমন্ধে সাক্ষ্য দেয়৷ এটা কি শুধুমাত্র যীশুর রক্তের দ্বারা? না৷ এটা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে একত্রে৷ প্রেরিত পৌল এ সমন্ধে এ সমন্ধে প্রায়ই বলেছিলেন রোমীয় ৬ অধ্যায়ে এবং আবার অন্যান্য অনকে পত্রেও৷
আসুন আমরা রোমীয় ৬:৩-৮ পদ পর্যন্ত পড়ি৷ “অথবা তোমরা কি জান না যে, আমরা যত লোক খ্রীষ্ট যীশুর উদ্দেশে বাপ্তাইজিত হইয়াছি, সকলে তাঁহার মৃত্যুর উদ্দেশে বাপ্তাইজিত হইয়াছি? অতএব আমরা তাঁহার মৃত্যুর উদ্দেশে বাপ্তিস্ম দ্বারা তাঁহার সহিত সমাধিপ্রাপ্ত হইয়াছি; যেন, খ্রীষ্ট যেমন পিতার মহিমা দ্বারা মৃতগণের মধ্য হইতে উত্থাপিত হইলেন, তেমনি আমরাও জীবনের নূতনতায় চলি। কেননা যখন আমরা তাঁহার মৃত্যুর সাদৃশ্যে তাঁহার সহিত একীভূত হইয়াছি, তখন অবশ্য পুনরুত্থানের সাদৃশ্যেও হইব। আমরা ত ইহা জানি যে, আমাদের পুরাতন মনুষ্য তাঁহার সহিত ক্রুশারোপিত হইয়াছে, যেন পাপদেহ শক্তিহীন হয়, যাহাতে আমরা পাপের দাস আর না থাকি। কেননা যে মরিয়াছে, সে পাপ হইতে ধার্ম্মিক গণিত হইয়াছে। আর আমরা যখন খ্রীষ্টের সহিত মরিয়াছি, তখন বিশ্বাস করি যে, তাঁহার সহিত জীবনপ্রাপ্তও হইব।”
আসুন আমরা ৫ পদ পড়ি, এখানে বলা হয়েছে, “কেননা যখন আমরা তাঁহার মৃত্যুর সাদৃশ্যে তাঁহার সহিত একীভূত হইয়াছি, তখন অবশ্য পুনরুত্থানের সাদৃশ্যেও হইব। ”
তাঁর মৃত্যু ছিল আমাদের মৃত্যু কেননা আমাদের সকল পাপ বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তাঁর উপর অর্পিত হয়েছিল৷ সুতরাং যীশুর বাপ্তিস্ম আমাদেরকে তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যুর সাথে সংযুক্ত করে৷
যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে আমাদের বিশ্বাস যীশুর সাথে আমাদের সংযুক্ত হওয়ার অনুমুতি প্রদান করে৷ “কেকনা পাপের বেতন মৃত্যু” (রোমীয় ৬:২৩)৷ যার জন্য যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যু ছিল আমাদের মৃত্যু৷ আমাদের সকল পাপ তিনি তুলে নিতে তিনি বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন৷ যীশু খ্রীষ্ট, আমাদের ত্রানকর্তার সাথে একীভূত হবার জন্য আমাদের এই সত্য বিশ্বাস করতে হবে৷
 
 
আমাদের ধর্মীয় জীবনের একটি সাধারণ অংশের মত যীশুকে বিশ্বাস করা উচিত নয়
 
“তিনি বিশ্বস্ত ও ন্যায়বান” এর
দ্বারা কি বুঝিয়েছেন?
এর অর্থ হল যে, একদা যীশু আমাদের
সকলের পাপ ধৌত করেছিলেন এবং যে
কেহ এই সত্য বিশ্বাস করে তাদের
পাপ মুক্ত করেছিলেন৷
 
অনেক লোক যীশুকে ধর্মীয় জীবনের একটি অংশরূপে বিশ্বাস করে, তাই তারা গীর্জায় যায় এবং চোখের জলে প্রার্থনা ও অনুতাপ করে৷ তারা তাদের পাপস্বীকার করে এবং প্রতিদিন ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করে৷ তারা প্রার্থনা করে, যীশু, আমি জানি ও বিশ্বাস করি যে, তুমি আমার জন্য ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছিলে৷ হ্যাঁ আমি বিশ্বাস করি৷
স্পষ্টভাবে, তারা নিচের অনুচ্ছেদটি ভুল বোঝে৷ “যদি আমরা আপন আপন পাপ স্বীকার করি, তিনি বিশ্বস্ত ও ধার্মিক, সুতরাং আমাদের পাপ সকল মোচন করিবেন, এবং আমাদিগকে সমস্ত অধার্মিকতা হইতে শুচি করিবেন৷ যদি আমরা বলি যে, পাপ করি নাই, তবে তাঁহাকে মিথ্যাবাদী করি, এবং তাঁহার বাক্য আমাদের অন্তরে নাই” (১ যোহন ১:৯)৷ তারা দাবি করে যে প্রতিদিন পাপস্বীকারের মাধ্যমে তাদের পাপের ক্ষমা লাভ করা উচিত৷ কিন্তু উপরের অনুচ্ছেদে পাপ বলতে প্রতিদিনের নগন্য অপরাধ বোঝায় না৷ অনুচ্ছেদটি যা বুঝিয়েছে তা হল আমরা চিরতরে আমাদের পাপের ক্ষমা পাই যখন আমরা স্বীকার করি যে, এখনো পাপমুক্ত হই নি৷
“অতএব বিশ্বাস শ্রবণ হইতে এবং শ্রবণ খ্রীষ্টের বাক্য দ্বারা হয়” (রোমীয় ১০:১৭)৷ “ আর তোমরা সেই সত্য জানিবে, এবং সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে”৷ (যোহন ৮:৩২)৷
প্রিয় খ্রীষ্টিয়ান, সত্য পরিস্কার৷ যদি আপনি বিশ্বাস করেন যে, যীশু যর্দনে তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নেওয়া ব্যতীত ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছিলেন তাহলে আপনার বিশ্বাস ভুল৷ যদি কোনো খ্রীষ্টিয়ান তার সমস্ত পাপমুক্ত হতে চায়, তবে তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, যীশুর যর্দনে বাপ্তিস্ম গ্রহনের মাধ্যমে তার পাপ চিরকালের নিমিত্ত যীশুর উপরে বর্তেছিল আর আমাদের সকল পাপের দন্ডাজ্ঞা তিনি ক্রুশের উপর তুলে নিয়েছিলেন৷ অন্য কথায়, আমাদের যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত উভয়ে বিশ্বাস করা উচিত৷
“কেননা আকাশের নীচে মনুষ্যদের মধ্যে দত্ত এমন আর কোনো নাম নাই যে নামে আমাদিগকে পরিত্রাণ পাইতে হইবে” (প্রেরিত ৪:১২)৷ যীশু খ্রীষ্ট বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সকল পাপ তুলে নিয়েছিলেন এবং আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন৷ আমাদের অনন্ত নরক থেকে মুক্ত করার জন্য যীশু জল ও রক্ত দ্বারা এসেছিলেন৷ “কারণ লোকে হৃদয়ে বিশ্বাস করে, ধার্মিকতার জন্য, এবং মুখে স্বীকার করে, পরিত্রাণের জন্য” (রোমীয় ১০:১০)৷ আপনি কি একজন ধার্মিক নাকি পাপী ব্যক্তি?
গালাতীয় ৩:২৭ পদ বলে, কারণ তোমরা যত লোক খ্রীষ্টের উদ্দেশে বাপ্তাইজিত হইয়াছ, সকলে খ্রীষ্টকে পরিধান করিয়াছ৷ এই পদটি আমাদের এই সত্য বলে যে, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে জগতের সমস্ত পাপ তুলে নেবার পর ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন৷ তিনি মৃত্যুর তিনদিন পর পুনরুত্থিত হয়েছিলেন, আর এখন তিনি ঈশ্বরের দক্ষিণ পাশে বসে আছেন৷ তিনি তাদের সকলের জন্য পরিত্রাণের প্রভু হয়েছেন, যারা তাঁকে বিশ্বাস করে৷
যদি যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ না করতেন, তিনি যদি ক্রুশে রক্ত সেচন না করতেন, তবে তিনি আমাদের ত্রাণকর্তা হতেন না৷ আমরা কেবলমাত্র তখনই পাপমুক্ত হতে পারি যখন আমরা জল ও আত্মার সুসমাচার বিশ্বাস করি৷
 
 
এমনকি মোশির পুত্রও
 
ঈশ্বর কেন মিশরের পথে মোশিকে
বধ করতে চেষ্টা করেছিলেন?
কারণ তিনি তার পুত্রের ত্বকচ্ছেদ
করেন নি
 
প্রিয়, যীশুর জল ও রক্তের মাধ্যমে আপনি আপনার সকল পাপমোচনের গোপন বিষয় শুনেছেন৷ আপনি ঈশ্বরের এই বাক্য শুনতে সক্ষম হয়েছেন, এটা হল একটি চমত্কার আশীর্বাদ৷
এটা কি কেবলমাত্র যীশুর রক্ত? পুরাতন নিয়মের সময়ে লোকেরা ত্বকচ্ছেদ ও নিস্তারপর্বীয় মেষের মাধ্যমে অব্রাহমের বংশধর হয়েছিলেন৷ এখন আমরা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে বিশ্বাসের দ্বারা ঈশ্বরের লোক হই৷ ঈশ্বর পুরাতন নিয়মে মোশির মাধ্যমে আমাদের এই প্রমান দেখিয়েছিলেন৷
ইস্রায়েলের লোকেদের উদ্ধার করার জন্য, ঈশ্বর মোশির সাথে কথা বলেছিলেন, আর তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর লোকেদের মিশর থেকে বার করে আনতে৷ তাই মোশি, তার যিথ্রোর অনুমতি নিয়েমিদিয়ন ত্যাগ করলেন আর তার স্ত্রী পুত্রের সাথে মিশরের দিকে অগ্রসর হলেন৷ যখন তিনি তার পরিবারকে একটি গাধার পিঠে চড়ালেন, তখন সদাপ্রভু তার শিবিরে তার সাথে সাক্ষাত করলেন এবং তাকে বধ করতে চেষ্টা করলেন৷
কিন্তু তার বুদ্ধিমতী স্ত্রী সিপ্পোরা এর কারণ জেনেছিলেন৷ তিনি একটি পাথরের ছুরি নিয়ে ছিলেন এবং তার পুত্রের ত্বকচ্ছেদ করলেন আর তিনি তা মোশির চরণে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, “সত্যই আমার পক্ষে তুমি রক্তের বর!” সুতরাং ঈশ্বর তখন তাকে যেতে দিলেন৷
এটা তাঁর বলার ধরন ছিল যে, তিনি সত্যই যে কাউকে বধ করতে পারেন, এমনকি মোশির পুত্রকেও, যদি সে ত্বকচ্ছেদ না করে৷ ইস্রায়েলের লোকেদের জন্য ত্বকচ্ছেদ ছিল ঈশ্বরের নিয়মের চিহ্ন৷ তারা জেনেছিল যে, ঈশ্বর যে কাউকে তাঁর লোকদের থেকে বাদ দিতে পারতেন, এমনকি তাঁর নেতার পুত্রকেও, যদি সে অচ্ছিন্নত্বক হত৷ যার জন্য, এমনভাবে তার পুত্রকে পৃথক করতে, ঈশ্বর মোশিকে এভাবে সতর্ক করেছিলেন৷
বাইবেল আমাদের বলে যে, সিপ্পোরা তার পুত্রের ত্বকচ্ছেদ করেছিল এবং মোশির চরণে সেটিকে নিক্ষেপ করে বলেছিল, “ত্বকচ্ছেদ সমন্ধে তুমি রক্তের বর”! কারণ তাকে ঈশ্বরের দাবি ত্বকচ্ছেদের জন্য সম্মত হতে হয়েছিল৷ (যাত্রাপুস্তক ৪:২৬)৷
ইস্রায়েল লোকেদের মধ্যে যে কেউ ত্বকচ্ছেদ না করত, তাকে তাঁর লোকেদের থেকে বাদ পড়তে হত৷ মাত্র যারা ত্বকচ্ছেদ করত তারা নিস্তারপর্বীয় মেষের মাংস ভোজনের জন্য অনুমোদিত হত, এবং ঈশ্বরের লোকরুপে অনুষ্ঠানে যোগ দিত৷
প্রেরিত পৌল একজন ইব্রীয় লোক ছিলেন৷ তার জন্মের ৮ দিন পর তাকে ত্বকচ্ছেদ করানো হয়েছিল, শ্রেষ্ঠগুরু গমলিয়েলয়ের অধীন অধ্যয়ন করেছিলেন, এবং সত্যিকারে বুঝেছিলেন কেন যীশু খ্রীষ্ট যর্দনে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন আর কেন তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হয়েছিল৷ তাই প্রেরিত পৌল তার সব পত্রেই যীশুর বাপ্তিস্ম সমন্ধে লিখেছিলেন৷
প্রেরিত পৌল আমাদের পরিত্রাণের পরিপূর্ণতার জন্য প্রায়ই যীশুর রক্তের কথা বলেছিলেন৷ রক্ত হল পাপমুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়, সত্যিকারের আত্মিক ত্বকচ্ছেদ বলতে যীশুর বাপ্তিস্মকে বোঝায়৷ যীশুর বাপ্তিস্ম ছাড়া শুধু তাঁর রক্তকে গুরুত্ব দিলে হবে না৷
প্রেরিত পৌল প্রায়ই সরাসরি যীশুর ক্রুশ সমন্ধে বলেছিলেন৷ কেন এটা এরূপ হয়েছিল? কারণ এটা ছিল আমাদের পরিত্রাণের চূড়ান্ত প্রমান৷ যদি যীশু জগতের সমস্ত পাপ তাঁর উপর তুলে নিতেন কিন্তু ক্রুশে রক্ত সেচন করে আমাদের জন্য দন্ডাজ্ঞা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হতেন, তবে আমরা সম্পূর্ণ পাপমুক্ত হতাম না৷ এজন্য প্রেরিত পৌল প্রায়ই যীশুর ক্রুশ সমন্ধে বলেছিলেন৷ ক্রুশই হচ্ছে আমাদের পরিত্রাণের চূড়ান্ত ধাপ৷
কারণ তাদের বিশ্বাস কেবলমাত্র সুসামাচারের শূন্যতার মধ্যে, যত দীর্ঘসময়ই তারা যীশুতে যত দৃঢ় বিশ্বাস করুক না কেন৷ তারা তাদের ধর্মীয় জীবনের ১০ বছর পরে এমনকি ৫০ বছর পরেও পাপী থেকে যাবে৷
 
 
আমার সাক্ষ্য
 
ঈশ্বর কি পাপীকে ধার্মিক
বিবেচনা করেন?
না৷ তিনি ন্যায়বান৷ ধার্মিক হল তারা,
যারা পাপমুক্ত, যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে
যারা তাদের সমস্ত পাপ যীশুর
উপর স্থানান্তর করেছে৷
 
আমার বয়স যখন ২০ বছর তখন থেকে আমি যীশুকে বিশ্বাস করতে শুরু করি৷ ঐ সময়ের পূর্বে, আমি আমার জীবনে পাপ করেছি তার সমন্ধে আমার কোনো ধারণা ছিল না, কারণ আমি ঈশ্বরের নিয়ম জানতাম না৷ ঈশ্বরকে কখনও না জেনেই আমি আমার নিজের মত করে জীবন যাপন করতাম সেই সময় পর্যন্ত৷
এরপর আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম৷ আমি এতই অসুস্থ ছিলাম যে, আমি ভেবেছিলাম আমি মরতে চলেছি৷ সুতরাং, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, অনন্ত পক্ষে মৃত্যুর পূর্বে আমার সমস্ত পাপের মোচন হওয়া উচিত৷ কারণ আমি শুনেছিলাম যে, যীশু আমার মত পাপীর জন্য মৃত্যুবরণ করেছিলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম তাঁকে বিশ্বাস করতে৷ প্রথমে, আমি খুব আনন্দে ও কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ ছিলাম৷
কিন্তু কিছুদিন পর এই অনুভুতি ম্লান হতে শুরু করল৷ কয়েক বছর পর, আমি প্রতিদিন নতুন নতুন পাপ না করে থাকতে পারলাম না৷ আমি পুনঃ পাপী হলাম৷ দশ বছর পর, তখনও আমি একজন পাপী ছিলাম, আসলে পূর্বের চেয়ে আমি বেশী একজন পাপী হলাম৷ আমি দশ বছর ধরে যীশুকে বিশ্বাস করেছিলাম, এবং প্রকৃত ঘটনা হল যে, আমি পাপী ছিলাম ও কখনও পরিবর্তিত হই নি৷ আমি একজন বিশ্বাসী ও একজন পাপী উভয়ই ছিলাম৷
যদিও আমি গান করতাম, “কান্না আমাকে বাঁচাতে পারবে না৷ আমার মুখ যদি অশ্রুতে ভেসেও যায়, তাতে আমার ভয় দূর হবে না, বছরের পাপ দূর হবে না৷ কান্না আমাকে বাঁচাতে পারবে না!” প্রতি সময় আমি কাঁদতাম, যতবার আমি পাপ করতাম৷
“প্রিয় ঈশ্বর, অনুগ্রহ করে আমার এই একটি পাপ তুমি ক্ষমা করে দাও৷ আমাকে একবার ক্ষমা কর, আর আমি কখনও পাপ করব না৷” আমি পাপ করার পর, তিন দিন ধরে প্রার্থনা করতাম৷ আমি একটি ঘরের কোনে নিজেকে আবদ্ধ করতাম এবং তখন উপবাস থেকে তিন দিন ধরে প্রার্থনা করতাম৷ কারণ আমার বিবেক খুব ভারী ছিল, আমি কাঁদতাম এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতাম৷ তিন দিন পর, আমি ভালো অনুভব ও চিন্তা করেছি, আমি তাঁর উপস্থিতিতে প্রবেশ করতে পেরেছি৷
“পুনরায় আমি আমার পাপ ধৌত করেছিলাম৷ হাল্লিলুয়া!” সুতরাং আমি বেড়িয়ে এসেছিলাম এবং কিছুদিনের জন্য সুন্দর জীবন যাপন করেছিলাম৷ কিন্তু আমি শ্রীঘ্র আবার পাপ করেছিলাম আর আমার বেপরোয়া ভাব বেড়ে গিয়েছিল৷ আমি বার বারই এই অন্ধকার পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি করতাম৷ প্রথম দিকে যীশুকে বিশ্বাস করায় খুব ভালো লাগত, কিন্তু বিশ্বাসে যত দিন যেতে লাগল, ততই অব্যবহৃত ঘরের মধ্যে জমা ধুলার মত আমার পাপ জমতে থাকল৷
দশ বছর পর, শুরুতে আমি যা ছিলাম তার চেয়ে আরো বেশী খারাপ পাপী হয়ে গিয়েছিলাম৷ “কেন আমি যীশুকে তাড়াতাড়ি আমার জীবনে বিশ্বাস করলাম? যীশুকে বিশ্বাস করা আরো বেশী সহজ হত যদি আমি ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম, অর্থাৎ আমার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত৷ তাহলে আমাকে আমার পাপস্বীকার করতে হত না এবং প্রতিদিন পাপক্ষমার জন্য অনুতাপ করতে হত না৷” আমি ভেবেছিলাম ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী জীবনযাপন করা উচিত, কিন্তু তা অসম্ভব আমার মনে হত যে আমি মনের বিরুদ্ধে কাজ করছি৷
আমি নতুন করে আবার ঈশ্বরকে খুঁজতে শুরু করলাম৷ আমি ধর্মতত্ব অধ্যয়ন করতে বহু অর্থ ব্যয় করলাম, কিন্তু কয়েক বছর পর আমার হৃদয় আরো নীরস হয়ে গেল৷ ধর্মতত্বের বই পড়া শুরু করার আগে আমি বলতাম আমি সাধু দামিয়নের মত জীবনযাপন করব, কখনই উষ্ণ বিছানায় ঘুমাবো না৷ আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে, নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উত্সর্গ করব, কখনও নিজেকে প্রশয় দেব না৷
যেমন আমি এই সাধুর জীবন সমন্ধে পড়েছিলাম, তেমনি আমি তাঁর মত জীবনযাপন করার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলাম৷ আমি নিজের জন্য একটি কঠোর সংযমী জীবন তৈরী করার চেষ্টা করেছিলাম৷ আমি শক্ত সিমেন্টের মেঝের উপর নতজানু হতাম এবং একটানা ঘন্টার পর ঘন্টা প্রার্থনা করতাম৷ তারপর আমার মনে হত, আমার প্রার্থনার যেন আরো অর্থ ছিল, আর এরপর আমি নিজের সমন্ধে ভাল অনুভব করতাম৷
কিন্তু ১০ বছর পর, এটা আমি এমনভাবে আরও চালাতে পারলাম না৷ তাই আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতাম৷ “প্রিয় স্বর্গের ঈশ্বর, অনুগ্রহ করে আমাকে পাপমুক্ত কর৷ আমি সর্বান্তঃকরণে তোমাকে বিশ্বাস করি, তথাপি কেন আমি এখনো আমার হৃদয়ের ভিতরে শূন্যতা অনুভব করি? কেন আমি এখনো এত হতাশাগ্রস্ত? আমি কেন আগের চেয়ে আরো অধিক পাপী হয়ে যাচ্ছি? আমি পূর্বে কখনও পাপ সমন্ধে এত চিন্তা করি নি৷ আমি তোমাকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম আর এখন আমি বিবেচনা করি কেন আমি তোমাকে বিশ্বাস করার পর এই বছরগুলিতে এত খারাপ হলাম?”
এটা এমন একটা মুহূর্ত ছিল যে, আমি এর কারণ জানতে পেরেছিলাম৷ আমার পাপ থেকে মুক্ত হওয়া ব্যতীতই আমি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করেছিলাম৷ আমি সে সময় সত্য জানি নি৷ আর এটা আমাকে পাগল করার জন্য যথেষ্ট ছিল৷
আমার হৃদয়ে পাপ নিয়ে, কিভাবে আমি অন্যদের ঈশ্বরের করুনার পাপ মোচনের কথা বলতে পারতাম? কিভাবে আমি অন্যদেরকে যীশুকে বিশ্বাস করার কথা বলতাম? আমি বার বার প্রার্থনা করতাম৷ “প্রিয় ঈশ্বর, আমি শীঘ্র শিক্ষাস্থল থেকে ডিগ্রী গ্রহণ করব এবং গীর্জার পুরোহিত পদে প্রতিষ্ঠিত হব৷ কিন্তু যদি আমি পাপে ভারাক্রান্ত হয়ে গীর্জার প্রধান হই তবে কিভাবে আমি অন্য পাপীদের পাপমোচনের কথা বলার যোগ্য হব? আমি নিজে একজন পাপী আর যখন আমি প্রেরিত পৌলের পত্রগুলি পড়ি, তখন আমি দেখতে পাই যে, যদি কারো খ্রীষ্টের আত্মার শক্তি না থাকে, তবে সে ঈশ্বরের সন্তান হয় না৷ কিন্তু এটা কোনো ব্যাপার না, কতটা আগ্রহের সাথে আমি সন্ধান করেছি, কারণ আমার মধ্যে পবিত্র আত্মার শক্তি নেই৷ আমি অনুভব করেছিলাম যে, এটা প্রথম অবস্থায় ছিল, কিন্তু এখন এটা অদৃশ্য হয়ে গেছে৷ কি ঘটেছিল? প্রভু অনুগ্রহ করে আমাকে বল কেন?”
প্রকৃত পক্ষে, এটার কারণ ছিল যে, আমার নিজের চিন্তার মধ্যে প্রতারণা ছিল, আমি সাধারনভাবে যীশুকে বিশ্বাস করে পাপমোচন করেছিলাম৷ এটার জন্য আমি অনেকদিন ধরে অত্যাধিক যন্ত্রণা ভোগ করেছিলাম৷ ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যারা তাঁকে আগ্রহের সহিত সন্ধান করে তিনি নিজেকে তাদের কাছে প্রকাশ করেন৷ অবশেষে তিনি তাঁর সত্যে আমার সাথে সাক্ষাত করেছিলেন৷ যীশুকে বিশ্বাস করার দশ বছর পর তখনও আমি একজন পাপী ছিলাম, কিন্তু যখন আমি যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের গোপন বিষয় সমন্ধে শিক্ষা গ্রহণ করলাম, পুরাতন নিয়মের ত্বকচ্ছেদ ও নুতন নিয়মের আত্মিক ত্বকচ্ছেদের অর্থ আবিস্কার করলাম, যখন আমি বুঝলাম ও বিশ্বাস করলাম খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মের মাধ্যমে পরিত্রাণের গোপন বিষয় তখন আমার সমস্ত যন্ত্রণা শেষ হয়ে গিয়েছিল৷ আমার আত্মা তুষারের মত সাদা হয়ে গিয়েছিল৷
আপনার জন্য এটা একইরকম হবে৷ যদি আপনি যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের সুসামাচারে বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনিও পাপমুক্ত হবেন৷ সম্ভবত আপনি এখনও অসম্পূর্ণ, কিন্তু আপনি ধার্মিক হবেন৷ যখন এই সত্য আপনি আপনার হৃদয়ে গ্রহণ করেন এবং অন্যদেরকে এটা জানান, তখন তারাও পাপমুক্ত হবে আর ঈশ্বরের প্রশংসা করে “হাল্লিলুয়া” বলে উচ্চধ্বনি করবে!
আমি সে সকল ভাই ও ভগ্নিদেরকে অভিনন্দন জানাতে চাই, যারা পাপ মোচন করেছেন৷ আমাদের সকলকে পাপমুক্ত করার জন্য আমি যীশুর ধন্যবাদ করি৷ হালিল্লুয়া! আমরা আনন্দের সাথে আমাদের সকল পাপ মোচন করেছি৷
এটা এমন একটা আশীর্বাদ যে আমরা আমাদের সমস্ত আনন্দ শুধুমাত্র কথা দিয়ে প্রকাশ করতে অসক্ষম৷ আসুন আমরা একসঙ্গে একটি গান করি, “তাঁর নাম একটি শক্তি, প্রতিটি সৃষ্টির জন্য একটি সৃষ্টি, নির্মাণকারীর পাথরের মত তাকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে; কিন্তু আমার হৃদয়ে মুক্তার চেয়েও দামী হয়েছে তাঁর নাম৷”
 
 
যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত পাপীদেরকে তাদের পাপ থেকে উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনের চেয়েও বেশী
 
আমাদের হৃদয় থেকে কি
সমস্ত পাপ পৃথক করে?
যীশুর বাপ্তিস্ম
 
যীশু খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্ম ও রক্তের মাধ্যমে জগতের সমস্ত পাপ ধৌত করেছিলেন৷ তিনি আমাদের আত্মিকভাবে ত্বকচ্ছেদ ও তাঁর লোক তৈরী করেছিলেন৷ তিনি নুতন জন্মের ঈশ্বর৷
পাপের জন্য সর্বদা দন্ডাজ্ঞা রয়েছে৷ কিন্তু আমাদের মুক্ত করার জন্য যীশু বাপ্তাইজিত ও দন্ডিত হয়েছিলেন৷ তাঁর রক্ত দ্বারা, তিনি আমাদের সকলকে পাপমুক্ত করেছিলেন আর তিনদিন পর তিনি পুনরুত্থিত হয়েছিলেন৷ ইনি ছিলেন পিতা ঈশ্বর, যিনি মৃত্যু থেকে যীশুকে উঠিয়েছিলেন৷
যীশুর জীবন হচ্ছে আমাদের জীবন ও ঈশ্বরের সন্তানরূপে আমাদের বেঁচে থাকা৷ তাঁর বাপ্তিস্মে তিনি আমাদের সকল পাপ তুলে নিয়েছিলেন, আর ক্রুশে যীশুর মূল্যবান রক্ত প্রমান করে যে, আমাদের পক্ষে তিনি দন্ডাজ্ঞা বহন করেছিলেন৷
প্রিয় বন্ধু, আপনার হৃদয়ে কি যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের এই প্রমান আছে? আমি আপনাকে আবারও জিজ্ঞাসা করছি৷ আমাদের পরিত্রাণ কি কেবলমাত্র যীশুর রক্তের মাধ্যমেই আসে? না৷ এটা একমাত্র যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের মাধ্যমে আসে৷
 
 
বিরুদ্ধবাদী কে?
 
বিরুদ্ধবাদী কে?
সে, যে যীশুর বাপ্তিস্মকে
বিশ্বাস করতে নিজেকে অনুপযুক্ত
বলে মনে করে৷
 
প্রিয় বন্ধু, আপনি কি এখনও আপনার প্রতিদিনের জীবনে যীশুকে বিশ্বাস করা স্বত্তেও একজন পাপী রয়েছেন? যীশুকে বিশ্বাস করা স্বত্তেও যদি আপনি পাপী থাকেন, তবে আপনি একজন বিরুদ্ধবাদী৷ বিরুদ্ধতা হচ্ছে ঈশ্বরের সত্যে অবিশ্বাস করা৷ তীত ৩:১০-১১ পদ বিরুদ্ধতা সম্পর্কে বলে, “যে ব্যক্তি দলভেদী তাহাকে দুই একবার চেতনা দিবার পর অগ্রাহ্য কর; জানিও, এরূপ ব্যক্তি বিগড়াইয়া গিয়াছে, এবং সে পাপ করে, আপনি আপনাকেই দোষী করে৷”
একজন দোষী ব্যক্তি বলে, “প্রিয় ঈশ্বর! আমি একজন পাপী, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি, কিন্তু আমি এখনও একজন পাপী৷ কে কি বলল এটা কোনো বিষয় নয়, আমি একজন পাপী এবং আমি জানি এটা সত্য৷”
ঈশ্বর তাকে বলেন, “ তুমি কি এখনও একজন পাপী আর এখনও আমার একজন সন্তান নও? তাহলে তুমি একজন দলভেদী, আর তুমি নরকের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে৷”
যদি আপনি যীশুর বাপ্তিস্মের সুসামাচারে বিশ্বাস করা ব্যতীত যীশুকে আপনার হৃদয়ে বিশ্বাস করেন, যদি নিজেকেএকজন পাপী রূপে সব্যস্ত করেন, এবং ঈশ্বরের কাছে স্বীকার করেন যে, আপনার আত্মা পাপে পূর্ণ, তাহলে ঈশ্বরের সম্মুখে আপনি একজন বিরুদ্ধবাদী৷
 
 
সত্যিকারের বিশ্বাসী কারা?
 
পরিত্রাণ সমন্ধে ঈশ্বরের
সাক্ষ্য কি?
জল, রক্ত ও আত্মা
 
যারা যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের সুসামাচারে বিশ্বাস করে, যারা ঈশ্বরের লোক হয়েছেন এবং যারা তাদের পাপ ধৌত করেছেন তারা ধার্মিক৷ কিভাবে এখন আপনি একজন পাপী থাকতে পারেন যখন আপনি যীশুকে বিশ্বাস করেছেন? একজন পাপী ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে না৷
যারা যীশুকে বিশ্বাস দ্বারা ধার্মিক হয়েছেন, তাদের হৃদয়ে ঈশ্বরের সাক্ষ্য রয়েছে৷ সাক্ষ্যটি হল যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্ত যীশু খ্রীষ্ট এ জগতে যা করেছিলেন তাই হলো পরিত্রাণের কাজ৷
যার জন্য, যে কেউ বাপ্তিস্মের সুসমাচার যার মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন, বিশ্বাস করতে অস্বীকার করবে সে ঈশ্বরের কাছ থেকে পৃথক হয়ে যাবে৷
বিশ্বাসে প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনি কি আপনার হৃদয়ে সুসামাচারটি গ্রহণ করেছেন যা পাপীদের পরিত্রাণ করবে শুধুমাত্র যীশুর রক্ত দিয়ে নয়, কিন্তু জল দিয়েও যা যীশুর বাপ্তিস্ম?
যে কেউ বিশ্বাস করে যা যীশু এ জগতে করে গিয়েছিলেন এবং জল, রক্ত ও আত্মা গ্রহণ করে, সে সকল পাপ থেকে মুক্ত হবে৷ এটাই হল জল, রক্ত ও আত্মার সুসামাচারের বিজ্ঞতা৷
যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের পাপ সম্পূর্ণরূপে পরিস্কৃত করেছিলেন যাতে সমগ্র মানবজাতি তাঁর মাধ্যমে পাপমুক্ত হতে পারে৷ এখন যদি আপনি সত্যিকারে যীশুকে বিশ্বাস করেন, তবে আপনার পাপী হয়ে থাকার কোনো পথ নেই৷
যীশু আমাদের মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত করেছিলেন৷ তিনি সমস্ত আত্মাগুলিকে পাপমুক্ত করেছেন৷ যা বিতারিত হয়ে গিয়েছিল আর শয়তানের বঞ্চনার কারণে ঈশ্বরের থেকে দুরে সরে গিয়েছিল৷ যীশু সমস্ত হারানো আত্মাগুলিকে খুঁজতে চান৷ ঈশ্বর যীশুর জল, রক্ত ও আত্মার সুসামাচারের মাধ্যমে কাজ করেন৷ তিনি আমাদের ডেকেছেন এবং এখন আমরা পাপমোচন করতে পেরেছি আর তাঁর দ্বারা পাপমুক্ত হয়েছি৷
আপনি কি এই নিগুঢ় সত্য বিশ্বাস করেন? আমি আপনাকে বলছি যে, কেবলমাত্র রক্তের দ্বারাই পরিত্রাণ হয় না, কিন্তু উভয়ই যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্ত দ্বারা হয়৷ যারা বলে যে, তারা কেবলমাত্র যীশুর রক্ত দ্বারা পাপমুক্ত হয়েছে তাদের বুঝতে হবে যে, তাদের হৃদয়ে পাপ রয়েছে৷
আমরা সকলে চিন্তা করতাম যে আমাদের পরিত্রাণের জন্য যীশুর রক্তে বিশ্বাস করাই যথেষ্ট৷ এরূপ আমরা আগে চিন্তা করতাম, কিন্তু এখন আমাদের বোঝা উচিত যে এটা যথেষ্ট নয়৷ আমরা পাপের মুক্তি ও নুতন জন্ম লাভ করেছি যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস দ্বারা, যিনি জল, রক্ত ও আত্মা দ্বারা এসেছিলেন৷
প্রত্যেক পাপী যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে নুতন জন্ম লাভ করতে পারে (১ যোহন ৫:৫-১০)৷ আসুন আমরা ঈশ্বরের প্রশংসা করি৷ হাল্লিলুয়া!*