শিক্ষা

বিষয় ৩: জল ও আত্মার সুসমাচার

[3-10] (যোহন ৪:১-২৪ পদ ) কে আত্মায় ও সত্যে ভজনা করে?

(যোহন ৪:১-২৪ পদ)
“প্রভু যখন জানিলেন যে, ফরীশীরা শুনিয়াছে, যীশু যোহন হইতে অধিক শিষ্য করেন এবং বাপ্তাইজ করেন- কিন্তু যীশু নিজে বাপ্তাইজ করিতেন না, তাঁহার শিষ্যগণই করিতেন- তখন তিনি যিহূদিয়া ত্যাগ করিলেন, এবং পুনর্বার গালীলে চলিয়া গেলেন, আর শমরিয়ার মধ্য দিয়া তাঁহাকে যাইতে হইল। তাহাতে তিনি শুখর নামক শমরিয়ার এক নগরের নিকটে গেলেন; যাকোব আপন পুত্র যোষেফকে যে ভূমি দান করিয়াছিলেন, সেই নগর তাঁহার নিকটবর্তী। আর সেই স্থানে যাকোবের কূপ ছিল। তখন যীশু পথশ্রান্ত হওয়াতে অমনি সেই কূপের পার্শ্বে বসিলেন। বেলা তখন অনুমান ষষ্ঠ ঘটিকা। শমরিয়ার এক জন স্ত্রীলোক জল তুলিতে আসিল। যীশু তাহাকে বলিলেন, আমাকে পান করিবার জল দেও। কেননা তাঁহার শিষ্যেরা খাদ্য ক্রয় করিতে নগরে গিয়াছিলেন। তাহাতে শমরীয় স্ত্রীলোকটি বলিল, আপনি যিহূদী হইয়া কেমন করিয়া আমার কাছে পান করিবার জল চাহিতেছেন? আমি ত শমরীয় স্ত্রীলোক। -কেননা শমরীয়দের সহিত যিহূদীদের ব্যবহার নাই।– যীশু উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, তুমি যদি জানিতে, ঈশ্বরের দান কি, আর কে তোমাকে বলিতেছে, ‘আমাকে পান করিবার জল দেও’, তবে তাঁহারই নিকটে তুমি যাচ্ঞা করিতে এবং তিনি তোমাকে জীবন্ত জল দিতেন। স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, জল তুলিবার জন্য আপনার কাছে কিছুই নাই, কূপটিও গভীর; তবে সেই জীবন্ত জল কোথা হইতে পাইলেন? আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোব হইতে কি আপনি মহান? তিনিই আমাদিগকে এই কূপ দিয়াছেন, আর ইহার জল তিনি নিজে ও তাঁহার পুত্রগণ পান করিতেন, তাঁহার পশুপালও পান করিত। যীশু উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, যে কেহ এই জল পান করে, তাহার আবার পিপাসা হইবে; কিন্তু আমি যে জল দিব, তাহা যে কেহ পান করে, তাহার পিপাসা আর কখনও হইবে না; বরং আমি তাহাকে যে জল দিব, তাহা তাহার অন্তরে এমন জলের উনুই হইবে, যাহা অনন্ত জীবন পর্যন্ত উথলিয়া উঠিবে। স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, সেই জল আমাকে দিউন, যেন আমার পিপাসা না পায়, এবং জল তুলিবার জন্য এতটা পথ হাঁটিয়া আসিতে না হয়। যীশু তাহাকে বলিলেন, যাও, তোমার স্বামীকে এখানে ডাকিয়া লইয়া আইস। স্ত্রীলোকটি উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিল, আমার স্বামী নাই। যীশু তাহাকে বলিলেন, তুমি ভালই বলিয়াছ যে, আমার স্বামী নাই; কেননা তোমার পাঁচটি স্বামী হইয়া গিয়াছে, আর এখন তোমার যে আছে, সে তোমার স্বামী নয়; এই কথা সত্য বলিলে। স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, আমি দেখিতেছি যে, আপনি ভাববাদী। আমাদের পিতৃপুরুষেরা এই পর্বতে ভজনা করিতেন, আর আপনারা বলিয়া থাকেন, যে স্থানে ভজনা করা উচিত, সে স্থানটি যিরূশালেমেই আছে। যীশু তাহাকে বলেন, হে নারি, আমার কথায় বিশ্বাস কর; এমন সময় আসিতেছে, যখন তোমরা না এই পর্বতে, না যিরূশালেমে পিতার ভজনা করিবে। তোমরা যাহা জান না, তাহার ভজনা করিতেছ; আমরা যাহা জানি, তাহার ভজনা করিতেছি, কারণ যিহূদীদের মধ্য হইতেই পরিত্রাণ। কিন্তু এমন সময় আাসিতেছে, বরং এখনই উপস্থিত, যখন প্রকৃত ভজনাকারীরা আত্মায় ও সত্যে পিতার ভজনা করিবে; কারণ বাস্তবিক পিতা এইরূপ ভজনাকারীদেরই অন্বেষণ করেন। ঈশ্বর আত্মা; আর যাহারা তাঁহার ভজনা করে, তাহাদিগকে আত্মায় ও সত্যে ভজনা করিতে হইবে।’”
 
 
আত্মায় ও সত্যে ঈশ্বরের ভজনা করার বিশ্বাস থাকার অর্থ কি?
 
আজকে আমি এই কথাটির অর্থ বোঝাতে চেষ্টা করব। প্রভু বলেছেন, “আর যাহারা তাঁহার ভজনা করে, তাহাদিগকে আত্মায় ও সত্যে ভজনা করিতে হইবে” (যোহন ৪:২৪ পদ)। এর অর্থ হল- যখন আমরা ঈশ্বরের ভজনা করব, তখন আমাদেরকে অবশ্যই আত্মায় পরিচালিত হতে হবে- অর্থাৎ আমাদেরকে ঈশ্বর কর্তৃকই পরিচালিত হতে হবে। তাহলে আত্মায় ও সত্যে ঈশ্বরের ভজনা করতে হলে কোন্ ধরণের বিশ্বাস আবশ্যক? ঈশ্বরের ভজনা করার জন্য আমাদের এই বিশ্বাস থাকতে হবে যে, প্রভু যর্দন নদীতে যোহন বাপ্তাইজকের নিকট বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন এবং তিনি এই সমস্ত পাপের দন্ড ভোগ করেছেন। অন্য কথায়, পবিত্র আত্মা দানের দ্বারাই আমরা আত্মায় ও সত্যে ঈশ্বরের ভজনা করি, যা আমরা বিশ্বাসে আমাদের হৃদয়ে পাপের ক্ষমা লাভের জন্য ঈশ্বর থেকে পেয়েছি। যেহেতু আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করি, তাই আমরা আমাদের বিশ্বাস স্বীকার করতে বাধ্য এবং বলতে বাধ্য যে, “ঈশ্বরই আমার প্রভু এবং আমার ঈশ্বর।”
আমাদের প্রভু বলেছেন, “আর যাহারা তাঁহার ভজনা করে, তাহাদিগকে আত্মায় ও সত্যে ভজনা করিতে হইবে” (যোহন ৪:২৪ পদ)। এর অর্থ হল- আমাদেরকে অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা আমাদের পাপ থেকে ধৌত হতে হবে এবং তারপর আত্মিকভাবে ঈশ্বরের ভজনা করতে হবে। অন্য কথায়, প্রভু আমাদেরকে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা ঈশ্বরের ভজনা করতে বলেছেন। 
আসুন আমরা মথি ৩:১৩-১৭ পদ থেকে বোঝার চেষ্টা করি যে, আমরা কি করে এইভাবে ঈশ্বরের ভজনা করতে পারি। যখন যীশু বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তখন কি ঘটেছিল- এই অনুচ্ছেদটিতে তার বর্ণনা করা হয়েছে। আপনাদের জন্য এই অংশটুকু পড়ি- “তৎকালে যীশু যোহন দ্বারা বাপ্তাইজিত হইবার জন্য গালীল হইতে যর্দনে তাঁহার কাছে আসিলেন। কিন্তু যোহন তাঁহাকে বারণ করিতে লাগিলেন, বলিলেন, আপনার দ্বারা আমারই বাপ্তাইজিত হওয়া আবশ্যক, আর আপনি আমার কাছে আসিতেছেন? কিন্তু যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেনে, এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত। তখন তিনি তাঁহার কথায় সম্মত হইলেন। পরে যীশু বাপ্তাইজিত হইয়া যখন জল হইতে উঠিলেন; আর দেখ, তাঁহার নিমিত্ত স্বর্গ খুলিয়া গেল, এবং তিনি ঈশ্বরের আত্মাকে কপোতের ন্যায় নামিয়া আপনার উপরে আসিতে দেখিলেন। আর দেখ, স্বর্গ হইতে এই বাণী হইল, ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।”
এখানে আমরা যীশুকে যর্দন নদীতে আসতে দেখি। এর আগে যোহন বাপ্তাইজক চিৎকার করতে করতে ইস্রায়েল সন্তানদেরকে বলেছিলেন, “মন ফিরাও, হে সর্পের বংশেরা! ঈশ্বরের প্রতি ফির! স্বর্গ-রাজ্য সন্নিকট হল, এখনই গাছগুলির মূলে কুড়াল লাগান আছে। যে কেহ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের প্রতি ফিরে না আসবে, তাকে কেটে আগুনে ফেলে দেয়া হবে। তাই হৃদয়ে অনুতপ্ত হও! ঈশ্বরের প্রতি ফির!” যোহন বাপ্তাইজকের কাছে এসে যীশু তাঁকে (যীশুকে) বাপ্তিস্ম দিতে বললেন। কিন্তু যোহন বাপ্তাইজক প্রথমে অসম্মত হলেন, তিনি বললেন, “আপনি কি করে আমাকে আপনাকে বাপ্তিস্ম দিতে বলেন? আমার নিজেরই তো আপনার দ্বারা বাপ্তাইজিত হওয়া উচিৎ।” যোহনের কাছে এক কথাটি পালন করার মত ছিল না। 
 
 
যোহন বাপ্তাইজকের দেওয়া বাপ্তিস্মের দু’টি অর্থ
 
যোহন বাপ্তাইজক দুই ধরণের বাপ্তিস্ম দিয়েছিলেন। প্রথম বাপ্তিস্ম হল অনুতাপের বাপ্তিস্ম- তিনি জগতের প্রত্যেককে আহ্বান করছেন ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসতে। আর দ্বিতীয় বাপ্তিস্ম হল যীশুর বাপ্তিস্ম- যার দ্বারা প্রভু জগতের সমস্ত পাপ একেবার চিরতরে নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন। এই বাপ্তিস্মের দ্বারা যোহন বাপ্তাইজক এই জগতের সমস্ত মানুষের পাপ এক মুহূর্তে যীশুর উপরে তুলে দিলেন। প্রথমে, যোহন বাপ্তাইজক যীশুকে বাপ্তিস্ম দিতে অসম্মত হলেন, বললেন, “আপনার দ্বারা আমারই বাপ্তাইজিত হওয়া আবশ্যক, আর আপনি আমার কাছে আসিতেছেন?” কিন্তু যীশু তাঁকে বললেন, “এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত।” এর অর্থ হল- যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে জগতের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়ে মানব জাতিকে তাদের পাপ হতে ‘একেবারে চিরতরে’ উদ্ধার করাই ছিল যীশুর জন্য ঈশ্বরের ধার্মিকতা। 
যাইহোক, অনেক খ্রীষ্টানই বাক্যের এই অংশটুকু সম্পূর্ণভাবে বোঝে না। তাই তারা বলে, “বাইবেলে কোথায় এটা লেখা আছে যে, যখন যোহন বাপ্তাইজক কর্তৃক যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, তখন আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল?” তাহলে, চলুন আমরা যাচাই করে দেখি যে, যখন যীশু যোহন বাপ্তাইজক কর্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তখন জগতের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল কি না। মথি ৩:১৩-১৫ পদে এই কথাগুলি যীশু নিজেই বলেছেন। আর যীশু যদি এই কথা বলে থাকেন, তাহলে এর এই একটাই অর্থ দাঁড়ায় যে, এই জগতের সমস্ত পাপ তাঁর শরীরে অর্পিত হয়েছিল তখন, যখন তিনি যোহন বাপ্তাইজক কর্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। কিন্তু এই সত্যের পরও অনেক মানুষ জিজ্ঞেস করে, এর প্রমাণ কোথায়। আমি তাদেরকে নিশ্চিত করে করে বলতে পারি যে, যদি তারা বাইবেল ঠিকভাবে পড়ে, তাহলে মথি ৩ অধ্যায়ে এই প্রমাণ পাবে যে, যখন যীশু খ্রীষ্ট যোহন বাপ্তাইজক কর্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তখন জগতের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল। তখন সন্দেহবাদীদের আর কোন সন্দেহ থাকবে না। 
এই সময়ে আমি আর কয়েকটি মিনিট নিতে চাই আপনাদেরকে আরো একবার এটা বোঝানোর জন্য যে, যোহন বাপ্তাইজকের নিকট বাপ্তিস্ম গ্রহনের দ্বারাই যীশু এই জগতের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নিয়েছিলেন। আমি আপনাদেরকে বলব আপনারা এটা নিরপেক্ষভাবে আরো একবার ভাবুন। যোহন বাপ্তাইজকের নিকট বাপ্তাইজিত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে যীশু তাঁকে বলেছিলেনঃ “এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পকেষ উপযুক্ত।” এখানে “এইরূপে” এই শব্দটি যোহন বাপ্তাইজকের যীশুকে বাপ্তিস্ম প্রদানের কার্যটিকে নির্দেশ করে- অর্থাৎ, যীশু বলেছিলেন, যোহন বাপ্তাইজক কর্তৃক বাপ্তাইজিত হওয়ার মাধ্যমে এই জগতের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নেওয়াটাই ছিল তাঁর (যীশুর) জন্য যথাযথ। এখানে “সমস্ত ধার্মিকতা” এই কথাটির অর্থ হল- এই জগতে করা আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়ে যীশু আমাদেরকে পাপমুক্ত করবেন। অন্য কথায়, প্রত্যেককে পাপমুক্ত করাই হল ঈশ্বরের ধার্মিকতা। আমাদের মাংসের নিজস্ব ধার্মিকতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঈশ্বরের ধার্মিকতার বিপক্ষে যাওয়াটা আমাদের জন্য খুবই মারাত্মক একটা ভুল। 
আমরা  দেখি, একটা ন্যাকড়ার যে দিকটা ব্যবহার করা হয়, সেই দিকটা সবসময় ময়লা থাকে, আর যে দিকটা ব্যবহার করা হয় নাই, সেই দিকটা পরিষ্কারই থাকে। কিন্তু মানব জাতির ধার্মিকতা এর চেয়েও বেশ নোংরা। তৎসত্ত্বেও, মানুষ মনে করে যে, যেহেতু সে কিছু ভাল কাজ করেছে, তাই সে তার বিবেকের কাছে পরিষ্কার; মানুষ এভাবে নিজেকে বিভ্রান্ত করে। যাইহোক, একটা ন্যাকড়া যত পরিষ্কারই দেখান না কেন, আপনি সেটা দিয়ে আপনার মুখমন্ডল মুছবেন না, তেমনি আপনি আপনার নিজস্ব মানবীয় ধার্মিকতার উপর নির্ভর করে স্বর্গ রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাই, যেহেতু মানবীয় ধার্মিকতা একটা ন্যাকড়ার মত, তাই মানুষ যত ভাল কাজই করুক না কেন, এই কাজগুলো দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে পাপমুক্ত হতে পারে না। আমরা আদমের বংশে জন্মগ্রহণ করেছি, আমরা নিজস্ব চেষ্টায় ঈশ্বরের সন্তান হতে পারি না। এই জন্যই, মানুষ যত ভাল কাজই করুক না কেন, তারা প্রাকৃতিকভাবেই পাপে জন্মগ্রহণ করেছে। 
মানবীয় ধার্মিকতার বিপরীত দিকে ঈশ্বরের ধার্মিকতা; ঈশ্বরের ধার্মিকতা হল নিখুঁত। ঈশ্বরের ধার্মিকতা হল- যেহেতু মানবজাতি ঈশ্বরের ব্যবস্থা অনুসারে চলতে অক্ষম, তাই যীশু যোহন বাপ্তাইজকের নিকট বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা এই জগতের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিলেন এবং ক্রুশীয় শাস্তি ভোগের মাধ্যমে জগতের সমস্ত পাপ মোচন করলেন। এটাই ঈশ্বরের ধার্মিকতা। যখন যীশু যোহন বাপ্তাইজকের নিকট বাপ্তিস্ম নিতে আসলেন, তিনি তাঁকে বললেন, “কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত” (মথি ৩:১৫ পদ)। এই কথাটির অর্থ কি? এর অর্থ হল- যখন যীশু যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা অবগাহিত হলেন, তখন তিনি তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে (আমাদের জন্ম থেকে এই পর্যন্ত করা সমস্ত পাপ এবং আমাদের মরণ দিন পর্যন্ত আমরা যে সমস্ত পাপ করব) সে সমস্ত পাপ একেবারে তাঁর নিজের উপরে তুলে নিলেন। 
মূল ভাষা গ্রীক- এর প্রকৃত শব্দগুলোর মাধ্যমেই আমি এই বিষয়টি আরো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করব। মথি ৩:১৫ পদের “এইরূপে...উপযুক্ত” বাক্যাংশটুকু গ্রীক ভাষায়  “ουτως (হুতোশ)”এবং “πασαν δικαιοσυνην,”- এভাবে লেখা হয়েছে। যীশু তাঁর  বাপ্তিস্মের দ্বারা বললেন যে, “ঈশ্বরের সমস্ত ধার্মিকতা সাধনের জন্য যোহন বাপ্তাইজকের তাঁকে (যীশুকে) বাপ্তিস্ম দিতে হতো এবং যীশুকে এই বাপ্তিস্ম গ্রহণ করতে হতো।” গ্রীক ভাষায় “ουτως (হুতোশ)” এবং “πασαν δικαιοσυνην (পাসান ডিক-আ-ইয়োস-ও’-নেইন)” এই শব্দগুলো দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে। “ουτως (হুতোশ)” শব্দটির ইংরেজিতে অনুবাদিত রূপ হল “এইরূপে,” যার অর্থ দাঁড়ায় “এইভাবে,” “সবচেয়ে উপযুক্ত উপায়ে,” এবং “ঠিক এইভাবেই”। পরবর্তী “πασαν δικαιοσυνην (পাসান ডিক-আ-ইয়োস-ও’-নেইন)” শব্দটির মানে হল “সবচেয়ে সঠিক।” এটি আমার নিজস্ব মনগড়া অনুবাদ নয়, কিন্তু গ্রীক ভাষায় (সবচেয়ে পরিষ্কার ভাষাগুলোর মধ্যে অন্যতম) প্রকৃতভাবে এটাই লেখা হয়েছে। 
এই জন্যই ঈশ্বর নূতন নিয়ম গ্রীক ভাষায় লিপিবদ্ধ করিয়েছেন। নূতন নিয়মের সমস্ত লেখাই গ্রীক ভাষায় লেখা হয়েছিল। অন্যদিকে, পুরাতন নিয়ম হিব্রু ভাষায় লেখা হয়েছিল, যেটি একটি সিরিয় ভাষা। ইংরেজিতে “প্রেম” শব্দটি দ্বোরা সব ধরণের প্রেম-ভালবাসাই বোঝায়। এটির দ্বারা একদিকে যেমন সন্তানদের প্রতি পিতা-মাতার প্রেম বোঝায়, অন্যদিকে যুগলদের মধ্যস্থিত প্রেমও বোঝায়। কিন্তু গ্রীক ভাষায় ঈশ্বরের প্রেমকে বোঝাতে “agape” শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এই শব্দটি ঈশ্বরের নিঃশর্ত প্রেমকে নির্দেশ করে। মানুষের মধ্যে যে প্রেম থাকে, তার থেকে এই শব্দটির ব্যবহার ভিন্ন। “প্রেম” শব্দটি ইংরেজিতে সব ধরণের প্রেমকে বোঝাতে ব্যবহৃত য়। সব ধরণের প্রেম যেমন- পিতা-মাতার প্রেম থেকে শুরু করে রোমান্টিক প্রেম এবং এমনকি এক জনের নিজের প্রতি প্রেম বোঝাতেও এই একই শব্দ (“প্রেম” শব্দটি) ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, গ্রীক ভাষা আমাদের প্রেম থেকে ঈশ্বরের প্রেমকে আলাদা করেছে “agape” শব্দটির মাধ্যমে। বন্ধুদের মধ্যবর্তী প্রেমকে বলা হয় “philia.” অন্য লিঙ্গের প্রতি রোমান্টিক প্রেমকে বলা হয় “eros.”
তাই বাইবেলে এই যে বাক্যটি আছে, “এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত”-গ্রীক ভাষায় যেটি লেখা হয়েছে এইভাবে-“ουτως (hutos)” এবং “πασαν δικαιοσυνην (pasan dik-ah-yos-oo’-nayn)”- এর অর্থ হলো- বাপ্তিস্মের মাধ্যমে মানব জাতির সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নেওয়াই ছিল যীশুর জন্য ঈশ্বরের ধার্মিকতা। অন্য কথায়, যীশু যোহন বাপ্তাইজককে বলছিলেন, “তোমার কাছে বাপ্তিস্ম নেওয়াই হলো আমার পক্ষে সবচেয়ে উপযুক্ত। তোমার কাছে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে মানবজাতির সমস্ত পাপ আমার উপরে একেবারে তুলে নেওয়া ছাড়া আমার কাছে অন্য আর কোন উপায় নেই। তাই, আমাকে তোমার কাছে বাপ্তাইজিত হতেই হবে। তোমার কাছে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমেই আমি মানবজাতির উপযুক্ত পরিত্রাণ সাধন করব।” যীশু যখন বললেন, “কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত” (মথি ৩:১৫), তখন তিনি ঈশ্বরের ধার্মিকতা সাধন করার জন্য তাঁর আকাঙ্খা ব্যক্ত করছিলেন। যোহন বাপ্তাইজক যখন যীশুকে এটা বলতে শুনলেন, তখন তিনি সম্মত হলেন। 
যীশু যখন জল থেকে বাপ্তাইজিত হয়ে উঠলেন, তখন ঈশ্বরের স্বর শোনা গেল, তিনি বলছিলেন, “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।” এই কথাটির অর্থ কি? পিতা ঈশ্বর বলছিলেন, “সবচেয়ে উপযুক্ত উপায়ে অর্থাৎ যোহন বাপ্তাইজকের নিকট বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা মানবজাতির প্রতিনিধি আমার পুত্র মানবজাতির উপযুক্ত পরিত্রাণ সাধনের জন্য তাদের সমস্ত পাপ নিজে গ্রহণ করল।” অন্য কথায়, ঈশ্বর বলছিলেন যে, তাঁর পুত্র মানবজাতির সমস্ত পাপ গ্রহণ করেছে। আর তিনি তাঁর পুত্রের উপর খুবই প্রীত হয়েছিলেন। পুত্র যদি তাঁর আজ্ঞা পালন না করতেন, তাহলে ঈশ্বর প্রীত হতেন না। কিন্তু যেহেতু পুত্র তাঁর ইচ্ছার বাধ্য হয়ে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তাই ঈশ্বর প্রীত হয়েছিলেন।  
যেহেতু যীশু খ্রীষ্ট সবচেয়ে উপযুক্ত উপায়ে অর্থাৎ বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে- আপনি এবং আমি আমাদের দেহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা, আমাদের হৃদয় দ্বারা এবং আমাদের দূর্বলতা দ্বারা যে সমস্ত পাপ করেছি, সে সমস্ত পাপ তাঁর শরীরে গ্রহণ করেছিলেন, তাই এখন তাঁকে আমাদের এই সমস্ত পাপ ক্রুশে বহন করে নিতে হতো এবং এর উপরে দন্ড ভোগ করতে হতো। ক্রুশীয় এই মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার আগে যীশু পিতা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, “পিতা, যদি সম্ভব হয়, তবে এই পানপাত্র তুমি আমার নিকট থেকে দূর কর। কিন্তু তোমার ইচ্ছাই সাধিত হোক, আমার ইচ্ছা নয়। আমি বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা মানবজাতির সমস্ত পাপ আমার উপরে গ্রহণ করেছি। আর যেহেতু আমি এটা করেছি, তাই এখন আমাকে মানবজাতির সমস্ত অভিশাপ অবশ্যই বহন করতে হবে। পিতা, আমি শঙ্কিত। যদি অন্য কোন উপায় থাকে, তাহলে সেটাই কর, আমি ক্রুশারোপিত হতে চাই না। আমাকে স্বর্গে তুলে নেওয়ার দ্বারা কি তুমি মানবজাতির সমস্ত পাপ দূর করতে পারবে না? তাহলে কি আমাকে ক্রুশারোপিত হতে হবেই?”
আমাদের প্রভু এইরকম নিদারুণ যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়েছিলেন। যাইহোক, যেমনটি বাইবেল বলে, “যে ব্যক্তিকে গাছে টাঙ্গান যায়, সে শাপগ্রস্ত (গালাতীয় ৩:১৩),” – সেইজন্য সবচেয়ে জঘন্য এবং অভিশপ্ত লোকদের জন্য ঈশ্বরের আইন হলো তারা ক্রুশারোপিত হবে এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাদের রক্ত পাত করবে। সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাপীদের এইভাবে শাস্তি দেওয়া হবে- এটিই ছিল ঈশ্বরের আইন। তাই পিতা ঈশ্বর যীশুকে বললেন, “আমার পুত্র, তুমি কি মানবজাতির সমস্ত পাপ গ্রহণ কর নাই? তুমি কি যোহন বাপ্তাইজকের কাছে বলো নাই যে, এইভাবে তুমি সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করবে? তুমি কি এইভাবে যোহন বাপ্তাইজকের নিকট বাপ্তাইজিত হও নাই, এবং সেই সময় মানবজাতির সমস্ত পাপ গ্রহণ কর নাই? যেহেতু তুমি একবার মানবজাতির পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছো, তাই তাদের সমস্ত অভিশাপ তোমার উপরে এসে পড়েছে। তাই তোমাকে তোমার দেহে এই সমস্ত অভিশাপ বহন করতে হবে।” আমাদের প্রভু তখন পিতার এই ইচ্ছা পালনের জন্য নিজেকে স্থির করলেন। 
আমাদের প্রভুর এই সিদ্ধান্ত নিতে এতটা যন্ত্রণা হচ্ছিল, আর অন্যদিকে শিষ্যেরা যাঁরা তাঁকে প্রার্থনায় সাহায্য করার জন্য সঙ্গ দিয়েছিলেন, তাঁরা চরম ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাই প্রভু তাঁদেরকে বললেন, “তোমরা কি এতটাই পরিশ্রান্ত? তোমরা কি অল্প কিছুক্ষণের জন্যও জেগে থাকতে পারলে না? আত্মা ইচ্ছুক বটে, কিন্তু মাংস দূর্বল। যাও গিয়ে ঘুমাও, বিশ্রাম নাও। আমি আমার বাপ্তিস্মের দ্বারা মানবজাতির পাপ আমার উপরে গ্রহণ করেছি, আর এই বাপ্তিস্মের দ্বারাইআমি তোমাদের সম্পূর্ণ পরিত্রাণ সাধন করব।” এটা বলার অল্প কিছুক্ষণ পরই যিহুদার বিশ্বাসঘাতকতার সাহায্যে রোমীয় সৈন্যরা আমাদের প্রভুকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে পীলাতের আদালতে নেয়া হয়েছিল, তাঁকে চাবুক মারা এবং বিদ্রূপ-ঠাট্টা করা হয়েছিল, আর তাঁকে তাঁর কাঁধে করে একটা ভারী কাঠের ক্রুশ বহন করে নিতে হয়েছিল। ৩৯টা বেত্রাঘাতে যীশুর শরীর ক্ষততে ভরে গিয়েছিল। তথাপি এতকিছুর পরও তাঁকে তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী তাঁর দন্ডভোগের হাতিয়ারটি (ক্রুশ কাঠ) বহন করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ক্রুশের ওজনে তাঁর নিদারুণ যন্ত্রণা হচ্ছিল। এটা দেখে শিমোন নামে  একজন কুরীণীয় ব্যক্তির সমবেদনা জন্মেছিল, তাই তিনি যীশুকে তাঁর ক্রুশ বহন করতে সাহায্য করেছিলেন।
 
 
যীশুর বাক্য
 
যীশু নিজেই যোহন বাপ্তাইজককে বললেন, “যদি আমি তোমার কাছে বাপ্তাইজিত না হই, তাহলে আমি মানবজাতির পরিত্রাণ সাধন করতে পারব না। তাই আমাকে সবচেয়ে সঠিক ও উপযুক্ত উপায়ে তোমার কাছে বাপ্তিস্ম অবশ্যই নিতে হবে।” তারপর তিনি যোহন কর্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। আর পিতা ঈশ্বর এই ঘটনার সাক্ষী হলেন। যীশু যখন তাঁর বাপ্তিস্ম গ্রহণের পর জল থেকে উঠছিলেন, তখন ঈশ্বর বললেন, “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।” যখন আমরা এই বাক্যাংশটি মূল ভাষায় পাঠ করি, তখন আমরা এই বিষয়টা বুঝতে পারিঃ “সবচেয়ে সঠিক ও উপযুক্ত উপায়ে এই বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা যীশু আমাদের সম্পূর্ণ ও যথাযথ পরিত্রাণ সাধন করেছেন। আমাদের পাপ অক্ষুণ্ন থাকা সত্বেও তিনি আমাদের শুধু পাপমুক্ত গণনা করলেন না, কিন্তু যোহন বাপ্তাইজক, পুরাতন নিয়মের শেষ ভাববাদী ও প্রধান যাজকের মাধ্যমে যীশু মানবজাতির সমস্ত পাপ, আমাদের হৃদয় অথবা মাংস দ্বারা করা সমস্ত পাপ সত্যিকারভাবেই গ্রহণ করলেন। ঠিক সেইভাবে, যেভাবে পুরাতন নিয়মে প্রধান যাজক জীবিত পাপার্থক প্রাণীর উপরে হস্তার্পণ করতেন এবং ইস্রায়েল সন্তানদের সমস্ত পাপ সেই সেই জীবিত পাপার্থক প্রাণীর উপরে অর্পিত হতো। 
সত্যিকারভাবেই, প্রভু এই বাপ্তিস্মের দ্বারা যথাযথ পরিত্রাণ সাধন করলেন। বাইবেলের মূল ভাষা গ্রীক, গ্রীক ভাষায় বাইবেলে এই অর্থটা পরিষ্কাভাবে বোঝানো হয়েছে। তাই আমি এই বিষয়টি আমাদের বইগুলিতে এবং আমাদের চিঠিগুলিতে খুব পরিষ্কার করে দিয়েছি। আমি এটা করেছি অন্যথায় পিছনে লোকে ভিত্তিহীন দাবী করে বলে, “বাইবেলের কোথায় লেখা আছে যে, যখন যীশু যোহন বাপ্তাইজক কর্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তখন আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল?” এখন আর এই প্রশ্ন থাকার কথা না। যীশু সবচেয়ে সঠিক ও উপযুক্ত উপায়ে বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারাই যথাযথ পরিত্রাণ সাধন করেছেন। 
যীশু কি তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে গ্রহণ করে আমাদের সকলকে আমাদের সমস্ত পাপ হতে মুক্ত করলেন? যদি আমাদের পাপসমূহ যীশুর উপরে অর্পিত না হয়েই থাকে এবং আমাদের হৃদয়ের মধ্যে সেই পাপগুলো অক্ষতই থেকে থাকে, তাহলে আমরা কি করে এই ভিত্তিহীন দাবী করতে পারি যে, আমরা পাপের ক্ষমা লাভ করেছি, এবং আমরা কি করে ঈশ্বরের সামনে দাবী করতে পারি যে, আমরা ধার্মিক, অথবা আমরা কি করে তাঁকে আমাদের পিতা বলে সম্বোধন করতে পারি? যীশু উপযুক্ত উপায়ে বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন- শুধুমাত্র এই কারণেই আমরা যীশুকে আমাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে সত্যিকারভাবে বিশ্বাস করতে পারি এবং শুধুমাত্র এই কারণেই আমরা পিতা ঈশ্বর হতে ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা লাভ করতে পারি। এই জন্যই আমরা প্রভুর এই আজ্ঞা পালন করতে পারি যে, “আত্মায় ও সত্যে ভজনা কর।” আমরা বিশ্বাস করি যে, যীশু যখন বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন তখন আমাদের সমস্ত পাপ, আমাদের জন্মদিন থেকে শুরু করে আমাদের মৃত্যুদিন পর্যন্ত আমরা যে সমস্ত পাপ করব, সেই সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল; আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের স্থলে যীশুই আমাদের প্রতিনিধিরূপে ক্রুশে শাস্তি ভোগ করেছিলেন; ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমরা পুরাতন নিয়মের ও নূতন নিয়মের সমস্ত বাক্য সম্পূর্ণচিত্তে বিশ্বাস করি; আর আমরা আমাদের পাপের ক্ষমা লাভ করেছি এবং আমরা সত্যে ও আত্মায় ঈশ্বরের ভোজনা করি। আত্মায় ও সত্যে ঈশ্বরের ভোজনা বলতে এটাই বোঝানো হয়েছে।
এখন এই সময়ে আমি আপনাদেরকে একটা প্রশ্ন করতে চাই। যীশু যখন বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, তখন আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল কি না? অবশ্যই হয়েছিল। এটা স্রেফ একটা অন্ধ মতবিশ্বাস না, কিন্তু এটাই মৌলিক সত্য! এটা হলো ঈশ্বরের লিখিত বাক্যে বিশ্বাস করা। এটা হলো সত্যে বিশ্বাস করা। একা কোন উপদলীয় মতবাদ না। তৎসত্বেও, আজকের দিনের অনেক পাস্টরই মূল ভাষা সম্বন্ধে জানে না, এমনকি তারা এটা খুলেও দেখতে চায় না, আর তারা এটা প্রয়োগও করতে পারে না। যখন এই বাক্য অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করা হয়, তখন কোন ধরণের শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর ভিত্তি করে এর অর্থ ভয়ানকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যখন আমি বলছি- যীশু যখন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন তখন আমাদের পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল, আমি কিন্তু এটা “pass” (এক জনের উপর থেকে অন্য জনের উপর অর্পণ) শব্দটির অনুবাদিত যে শব্দ তার উপরে ভিত্তি করে বলছি, এটার ভিন্ন অর্থও হতে পারে। কোরিয়ান ভাষায় আমাকে এই “passing” (এক জনের উপর থেকে অন্য জনের উপর অর্পণ) শব্দটির সঠিক কোরিয়ান শব্দটিই ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু অনেক সময় অনুবাদক একটু ভিন্ন ধরণের শব্দ ব্যবহার করতে পারেন, যার কারণে সেই বিষয়টির মূলভাবই পরিবর্তিত হয়ে যায়। 
ঠিক এইভাবে, শুধুমাত্র যে শাস্ত্রের মূল ভাষা (হিব্রু) জানে, সেই এটির সঠিক ব্যবহার করতে পারে। যখন কেউ মূল ভাষা (হিব্রু) পাঠ করে, সে বুঝতে পারে বাইবেল প্রকৃতরূপে কি বলতে চাচ্ছে। যদি আমি সব ভুলেও যাই, তাহলেও আমি এই শব্দগুলি কখনেই ভুলব না- “ουτως (এইরূপে),” “πασαν δικαιοσυνην (সবচেয়ে সঠিক উপায়).” আমি এই শব্দগুলো মনে রাখব তাদের অর্থ বোঝার জন্য। এই শব্দগুলোর মানে হলো- “সবচেয়ে সঠিক,” “সবচেয়ে উপযুক্ত,” অথবা “এইরূপেই।” শব্দগুলোর মানে হলো- যীশু সবচেয়ে যথাযথ উপায়েই (যোহন বাপ্তাইজকের নিকট বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা) আমাদের সমস্ত পাপ মোচন করেছেন। এটিই হলো যীশুর বাপ্তিস্মের অর্থ। আর এই বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ যীশুর উপরে অর্পিত হয়েছিল, এবং এটি উপলব্ধি ও বিশ্বাসের দ্বারাই আমরা আমাদের প্রকৃত পরিত্রাণে পৌঁছেছি। এই জন্যই যীশু যোহন ৪ অধ্যায়ে বলেছেন, “ঈশ্বর আত্মা; আর যাহারা তাঁহার ভজনা করে, তাহাদিগকে আত্মায় ও সত্যে ভজনা করিতে হইবে।” যারা যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাসের দ্বারা পাপ ক্ষমা লাভ করেছে এবং যারা তাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মার দান লাভের মাধ্যমে ঈশ্বরের সন্তান হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই আত্মায় ও সত্যে ঈশ্বরের ভজনা করতে পারে। ঈশ্বর এই রকম লোকদের ভজনায় খুবই প্রসন্ন হন। যারা এই সঠিক উপায়ে ভজনা করে, তিনি তাদেরই অন্বেষণ করেন। 
আজকের শাস্ত্রাংশটিতে আমরা দেখি, যীশু গালীলে যাওয়ার জন্য যিহূদীয়া ত্যাগ করলেন, আর তাঁকে শমরিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হলো। ঐ সময়ে, ইস্রায়েলের মধ্যে শমরিয়া অঞ্চলটি বাবিল ও সিরিয়া থেকে আসা বিদেশীদের কঠিন উপদ্রবের শিকার হয়েছিল। তাই, শমরিয়ার মহিলাদেরকে এই বিদেশীদের উপদ্রবে নিদারূপ কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল, ঠিক যেমন জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনামলে যন্ত্রণা ভোগ করেছিল। ফলে, শমরিয়রা খাঁটি ইহুদি বংশধর ধরে রাখতে পারে নাই। এই পৃথিবীতে এখনো অনেক জাতি আছে যারা দাবী করে যে, তারা নৃতাত্ত্বিকভাবে সমজাতীয় ও নির্ভেজাল। কিন্তু বাস্তবে, এটা সত্য নয়। যেভাবেই হোক, যীশুকে শমরিয়ার এই অঞ্চলটির মধ্য দিয়েই গালীলে যেতে হতো। 
তাঁর যাওয়ার পথে তিনি শুখর নামক এক নগরের মধ্যে পৌঁছলেন, সেখান যাকোবের কূপ ছিল। বেলা তখন আনুমানিক ষষ্ঠ ঘটিকা। এটাই দিনের সবচেয়ে গরম সময়। যীশু তাঁর যাত্রা থামিয়ে সেই কূপের পাশে বসলেন। তখন সেই প্রচন্ড গরমের মধ্যে শমরিয়ার এক জন স্ত্রীলোক জল তুলতে আসল। যীশু তখন সেই স্ত্রীলোকটিকে জল চাইলেন। শিষ্যেরা নগরে রুটি কিনতে গিয়েছিলেন, তাই শমরিয়ার স্ত্রীলোকটি যখন আসল, তখন যীশু একা ছিলেন। আসুন, আমরা নিজেদেরকে এই শমরিয়া স্ত্রীলোকটির জায়গায় বসিয়ে দেখি। সেই স্ত্রীলোকটি এটা ভাবতে ভাবতে কূপের কাছে এসেছিল যে, কূপের কাছে কেউ থাকবে না। কিন্তু সেখানে একজন যুবক মানুষ বসেছিলেন। আর এই যুবকটি তাকে বললেন, “আমাকে পান করবার জল দেও।” তখন স্ত্রীলোকটি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, “আপনি যিহূদী হয়ে কেমন করে আমার কাছে পান করবার জল চাচ্ছেন? আমি তো শমরীয় স্ত্রীলোক।” যীশু তখন তাকে বললেন, “তুমি যদি জানিতে, ঈশ্বরের দান কি, আর কে তোমাকে বলিতেছে, ‘আমাকে পান করিবার জল দেও’, তবে তাঁহারই নিকটে তুমি যাচ্ঞা করিতে এবং তিনি তোমাকে জীবন্ত জল দিতেন” (যোহন ৪: ১০ পদ)।
স্ত্রীলোকটি যীশুকে বলল, “আপনি কিভাবে আমাকে জল দিবেন, আপনি নিজেই তো জল চাচ্ছেন? আপনার কাছে কি জল তোলার বালতি আছে? আপনার কাছে এমনকি জল তোলার পাত্রও নেই, তাহলে আপনি কিভাবে আমাকে জল দেবেন? আপনি অজ্ঞানের মতো কথা বলছেন!” আমরা এই বিষয়টি যোহন ৪:১১-১৪ পদে দেখতে পাই, “স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, জল তুলিবার জন্য আপনার কাছে কিছুই নাই, কূপটিও গভীর; তবে সেই জীবন্ত জল কোথা হইতে পাইলেন? আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোব হইতে কি আপনি মহান? তিনিই আমাদিগকে এই কূপ দিয়াছেন, আর ইহার জল তিনি নিজে ও তাঁহার পুত্রগণ পান করিতেন, তাঁহার পশুপালও পান করিত। যীশু উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, যে কেহ এই জল পান করে, তাহার আবার পিপাসা হইবে; কিন্তু আমি যে জল দিব, তাহা যে কেহ পান করে, তাহার পিপাসা আর কখনও হইবে না; বরং আমি তাহাকে যে জল দিব, তাহা তাহার অন্তরে এমন জলের উনুই হইবে, যাহা অনন্ত জীবন পর্যন্ত উথলিয়া উঠিবে।” প্রতিদিন যে এতটা পথ হেটে আসতে হয়, এ নিয়ে স্ত্রীলোকটি খুব বিরক্ত ছিল। তাই সেই স্ত্রীলোকটি যীশুকে বলল, “মহাশয়, সেই জল আমাকে দিউন, যেন আমার পিপাসা না পায়, এবং জল তুলিবার জন্য এতটা পথ হাঁটিয়া আসিতে না হয়” (যোহন ৪:১৫ পদ)। 
অন্যভাবে বললে, কূপের কাছে যীশুর এবং সেই মহিলাটির মধ্যে একটা ছোট তর্ক শুরু হয়ে গেল। যীশু স্ত্রীলোকটিকে বললেন, “আমাকে জল দেও।” মহিলাটি উত্তর দিল, “এক জন যিহূদী হয়ে আপনি কি করে আমার কাছে পানি চাচ্ছেন?” তখন যীশু তাকে বললেন, “তুমি যদি জানতে আমি কে, তাহলে আমার কাছেই জল চাইতে, আর আমি তোমাকে জীবন্ত জল দিতাম।” মহিলাটি বলল, “যখন আপনার কাছে জল তোলার জন্য বালতিই নেই, তখন আপনি কি করে আমাকে জল দিবেন?” তখন যীশু মহিলাটিকে তার স্বামীকে আনতে বললেন। প্রথম কিছু রাউন্ড ড্র হয়েছিল। তৃতীয় রাউন্ডে যীশু কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু চতুর্থ রাউন্ডে যীশু স্ত্রীলোকটিকে বললেন, যাও, তোমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে আসো।
ধরা পড়ে গিয়ে স্ত্রীলোকটি হঠাৎ তার গুপ্ত কথাটি বলে ফেলল, “আমার স্বামী নাই।” তখন যীশু তাকে বললেন, “তুমি ভালই বলিয়াছ যে, আমার স্বামী নাই; কেননা তোমার পাঁচটি স্বামী হইয়া গিয়াছে, আর এখন তোমার যে আছে, সে তোমার স্বামী নয়; এই কথা সত্য বলিলে” (যোহন ৪:১৭-১৮ পদ)।  স্ত্রীলোকটি মনে মনে ভাবল, “তিনি আমার অতীত জীবন সম্পর্কে এবং আমার আগের পাঁচ জন স্বামী সম্পর্কে সব কিছুই জানেন। আর এখন যে ষষ্ঠ মানুষটির সাথে আমি বাস করছি, সেও আমার স্বামী নয়, ইনি এ সমস্তই জানেন।” এখন দু’জনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব শেষ হয়ে গিয়েছিল। নিজের পরাজয় স্বীকার করে, স্ত্রীলোকটি শেষে যীশুকে বলল, “আপনি একজন সাধারণ মানুষ নন, কিন্তু আপনি একজন ভাববাদী। ঈশ্বর বিভিন্ন সময়ে ইস্রায়েল সন্তানদের কাছে তাঁর ভাববাদীদের পাঠিয়েছেন। যেহেতু, আপনি আমার সম্বন্ধে সমস্ত কিছুই জানেন, তাই এটি পরিষ্কার যে, আপনি একজন ভাববাদী।” 
এই সময়ের মধ্যেই এই স্ত্রীলোকটির পাঁচজন প্রাক্তন স্বামী হয়ে গিয়েছিল, এবং এখন সে তার ষষ্ঠ স্বামীর সাথে বাস করছিল। যখন প্রভু তাকে বললেন যে, এখন যে লোকটির সাথে সে আছে, এমনকি সেও তার স্বামী নয়, তখন স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল যে, “আপনি একজন ভাববাদী! আপনি কিভাবে আমার সম্পর্কে সমস্ত কিছু জানেন? আপনি সঠিক।” এখানে যীশু বললেন যে, যে লোকটির সাথে এই শমরীয় স্ত্রীলোকটি বাস করছিল, সেও তার স্বামী নয়। এটি ইঙ্গিত করে যে, স্ত্রীলোকটির প্রকৃত স্বামী ছিল যীশু খ্রীষ্ট। বাইবেলে, স্বামী শব্দটি অনেক সময় যীশু খ্রীষ্টকে বোঝানোর জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও এই স্ত্রীলোকটি ছয় জন ভিন্ন ভিন্ন লোকের সাথে বাস করেছে, কিন্তু তাদের মধ্যে একজনও তার প্রকৃত স্বামী ছিল না। এসবের মানে কি? এই পৃথিবীতে, অনেক মানুষ আছে যারা অর্থকে তাদের স্বামী হিসেবে এবং তাদের ঈশ্বর হিসেবে বিশ্বাস করে। তারা মনে করে, অর্থই তাদের স্বামী এবং তাদের ঈশ্বর। কিন্তু এই অর্থ কখনই কারো ঈশ্বর হতে পারে না। অর্থ চিরকাল থাকে না। এটা আসে এবং যায়। আপনাকে রক্ষা করা তো দূরের কথা, এটা বরং আপনাকে ধ্বংস করতে পারে। একবার সম্পদ জড়ো করার পর লোকেরা সাধারণত খ্যাতির অন্বেষণ করে। এই লোকদের জন্য খ্যাতিই তাদের ঈশ্বর হয়ে যায়, আর তারা এই খ্যাতি অর্জনের জন্য এমনকি তাদের জীবন দিতেও পিছুপা হয় না।   
 
 
খ্যাতির বিভ্রান্তিকর পশ্চাদ্ধাবন
 
এমনকি খ্রীষ্টানরাও বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর কারণে খ্যাতির অন্বেষণ করে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, একজন ধর্মতাত্ত্বিক ছিল, যে এমনকি যীশুর ঈশ্বরত্বে বিশ্বাস করত না। এই লোকটি খ্রীষ্টান হওয়ার কারণে একবার কারারুদ্ধ হয়েছিল। আর শেষ পর্যন্ত, যীশুর জন্য শহীদ হতে হয়েছিল। কিন্তু তার এই শহীদত্বের কারণ ছিল সম্পূর্ণরূপে ভুল। সে তার জীবন দিয়েছিল শুধুমাত্র ধর্মতাত্ত্বিক হিসেবে তার যে সুনাম, সেটাকে রক্ষা করার জন্য। সে মনে মনে ভেবেছিল, “আমি একজন ধর্মতাত্ত্বিক। যীশুতে বিশ্বাসের কারণে আজ আমাকে মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু যদি আমি আজকে আমার শহীদ হওয়াকে এড়িয়ে যাই, তাহলে ধর্মতাত্ত্বিক হিসেবে আমার যে সুনাম, সেটি আমি হারিয়ে ফেলব। তাই আমার সম্মান রক্ষার জন্য আমাকে আমার শহীদত্ব বরণ করতেই হবে।”
প্রথম দিকের মন্ডলীর নেতাগণ, যারা যীশুর বারো জন শিষ্য, বারো প্রেরিতদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন, তাদেরকে মন্ডলীর পিতা বলা হয়ে থাকে। এই মন্ডলীর পিতাদের মধ্যে কয়েকজন- যেমন ওরিগেন প্রকৃতপক্ষে যীশুর ঈশ্বরত্বকে অস্বীকার করেছিলেন। তথাপি, এই লোকেরা তাদের শহীদত্বকে বরণ করেছিলেন শুধুমাত্র তাদের নিজেদের সুনামকে ধরে রাখার জন্য। এই রকম ঘটনা সব সময় ঘটে। কোরিয়ান যুদ্ধের সময় ছুডাল বে নামে এক ব্যক্তি ছিল। উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের আজ্ঞা অমান্য করার জন্য তারা তাকে মেরে ফেলে। উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা বে-এর গ্রাম দখল করার পর, জায়গা-জমির মালিকদেরকে কারাবন্দি এবং অনেককে মেরে ফেলে, কিন্তু ভাড়াটিয়াদেরকে ছেড়ে দেয়। যাইহোক, যখন উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা জানতে পারল যে, বে তার খ্রীষ্টিয় বিশ্বাসের কারণে রবিবারে কোন কাজ করে না, তারা তাকে পরীক্ষা করে দেখতে চাইল। তাই তারা এক রবিবারে তাকে উঠান ঝাড়ু দিতে বলল, কিন্তু সে তা করল না। সে বলল যে, সে বিশ্রামদিনে কাজ করে না। উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা তার বিশ্বাস নিয়ে উপহাস করে বলল, একবার উঠান ঝাড়ু দেওয়ার জন্য ঈশ্বর দুঃখিত হবেন না। তারা তাকে এই হুমকিও দিল যে, সে যদি তাদের আজ্ঞা মান্য না করে, তাহলে তারা তাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু, এরপরও বে তাদের আজ্ঞা অমান্য করল। 
বে-এর একগুঁয়েমিতে উত্তেজিত হয়ে কোরিয়ান সৈন্যরা তাকে একটি গাছে ঝুলিয়ে দিল এবং বলল, “এটাই তোমার শেষ সুযোগ। হয় উঠান ঝাড়ু দিয়ে বাঁচ, না হয় ঝাড়ু না দিয়ে আজকে মর। তোমার পছন্দ কোনটি?” কিন্তু, এরপরও বে তাদের আজ্ঞা মানতে অস্বীকার করল, আর তাই শেষে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা তাকে গুলি করে মেরে ফেলল। তার মৃত্যুর পর, তার মন্ডলীর বিশ্বাসীরা তার শহীদত্ব বরণের জন্য এবং বিশ্রামবার পালনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেওয়ার জন্য প্রশংসিত করে এবং তাকে মরণোত্তর উপপুরোহিত হিসেবে নির্বাচন করে। এই যুবক শুধুমাত্র খ্যাতি লাভের জন্য একটা অর্থহীন মৃত্যুবরণ করল। সর্বোপরি, যদি আমরা রবিবারে ভোজন করি, বিশ্রাম নিই, অথবা উঠান ঝাড়ু দিই- তাতে কি আসে যায়? 
বিশ্রামবার প্রকৃতপক্ষে আমাদেরকে আমাদের এই বিশ্বাস রক্ষা করতে শিক্ষা দেয় যে, প্রভু আমাদের পাপ মোচন করেছেন। এটি আমাদেরকে বিশ্বাস করতে শেখায় যে ঈশ্বর আমাদের পাপ মোচন করেছেন। বিশ্রামবার আমাদেরকে এই সুসমাচার বিশ্বাস করতে ও রক্ষা করতে শেখায়। ঈশ্বরের বাক্য সর্বদা আত্মিকভাবে ব্যাখ্যা করা উচিৎ, আক্ষরিকভাবে নয়। যদি আমাদেরকে বিশ্রামবার কঠোরভাবে পালন করতে হয়, তাহলে আমাদের এই দিনে এমনকি বিদ্যুৎও ব্যবহার করা উচিৎ নয়। সর্বোপরি, পুরাতন নিয়ম বলে যে, বাড়ির প্রত্যেকে, স্ত্রীলোক, পুরুষ, ভৃত্য এমনকি গবাদিপশুদেরকেও বিশ্রামবারে অবশ্যই বিশ্রাম করতে হবে। 
কোরিয়ান যুদ্ধের সময় বিশ্রামবার পালনের জন্য অনেক কোরিয়ান ধর্মতাত্ত্বিক মৃত্যুবরণ করেছিলেন। কোরিয়ার কোসিন প্রেজবিটেরিয়ান চার্চের এই রকম অনেক শহীদ রয়েছে। আর এর আগে কোরিয়াতে প্রেজবিটেরিয়ান চার্চের সাধারণ সমাবেশ হতো। এই ডিনোমিনেশনগুলোতে এমনকি সাধারণ মানুষেরাও বিশ্রামবারের কারণে সাক্ষ্যমর হয়েছে। তাই কোরিয়াতে যে ডিনোমিনেশনগুলো বিশ্রামবার পালন করে বলে নিজেরা খুব দম্ভ করে তারা হলো সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট চার্চ এবং কোরিয়ার জেইগুন প্রেজবিটেরিয়ান চার্চ। কোরিয়ার জেইগুন প্রেজবিটেরিয়ান চার্চের অনুসারীরা রবিবারে এমনকি আগুনও জ্বালায় না। তারা ভাবে যে, রবিবারে যদি চিমনি দিয়ে ধোঁয়া বের হয়, তাহলে সেটা খুব কলঙ্কজনক। কিন্তু তারা তাদের খাবার ঠিকই খায়। তারা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি দিয়ে রান্না করে।  তারা শুধুমাত্র যে বিষয়টা খেয়াল করে তা হলো- অন্য কেউ যেন তাদের চিমনি দিয়ে ধোঁয়া দেখতে না পায়। 
কোরিয়াতে জেইগুন প্রেজবিটিরিয়ান চার্চ ভেঙ্গে গিয়ে আর একটি চার্চ তৈরী হয় যার নাম কোরিওপা প্রেজবিটিরিয়ান চার্চ, আর এই নামকরণের কারণ হলো- তারা দাবী করে যে, তারা পুরাতন নিয়ম অনুসরণ করে। আর সেখান থেকে আরো একটি ডিনোমিনেশনের তৈরী হয় যার নাম হাপদোংপা প্রেজবিটেরিয়ান চার্চ, আর এর এই নামকরণের কারণ হলো এটা একতাকে নির্দেশ করে। এই রকম ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের কারণে ডজন খানেক ভিন্ন ভিন্ন প্রেজবিটিরিয়ান ডিনোমিনেশন তৈরী হয়েছে। কসিন থেকে কোরিওপ, কোরিওপ থেকে পূণর্গঠিত কসিন, পূণর্গঠিত কসিন থেকে হোনাম কসিন ইত্যাদি ইত্যাদি। এভাবেই এই ভিন্ন ভিন্ন প্রেজবিটিরিয়ান চার্চগুলোর উৎপত্তি হয়েছে। যাইহোক, যখন আমরা এই ডিনোমিনেশনগুলোরি সমর্থকদের প্রতি একটু খেয়াল করে দেখি, আমরা দেখতে পাব- তারা শহীদত্বের জন্য নাম করা। আমরা দেখতে পাই তারা তাদের নিজেদের সুনামের জন্য মৃত্যুবরণ করেছে। এই রকম মৃত্যুকে আমরা অর্থহীন মৃত্যু বলি। আমরা কখনোই এইরকম অর্থহীন এবং তুচ্ছ বিষয়ের জন্য আমাদের জীবন বিসর্জন দিব না। যদি আমাদেরকে বিশ্রামবারে উঠান ঝাড়ু দিতে বলা হয়, তাহলে আমরা উঠানটা ঝাড়ু দিব এবং তারপর বিশ্রাম নিব। এই রকম তুচ্ছ বিষয়ের জন্য জীবনকে সঙ্কটাপন্ন করে তোলার কোন মানেই হয় না।
প্রশিক্ষণ কলেজে কিছু ছাত্র বিখ্যাত পাস্টর হওয়ার জন্য কঠোরভাবে পড়াশোনা করে। কিন্তু তাদের মধ্যে কিছু ছাত্র গ্রাজুয়েশন শেষ হওয়ার আগেই চরম নিঃশেষিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। এর কারণ হলো- তারা খ্যাতির পিছনে ছুটত। কিছু মানুষ খ্যাতি-যশের জন্য তাদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে, আবার কিছু মানুষ তাদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে অর্থের জন্য। কিছু মানুষ সোকা গাক্কাই-এর অনুসরণ করে, এটি হলো জাপান থেকে উদ্ভূত একটি নতুন ধর্মীয় দল। সূর্য যখন পূর্বে উঠে, তখন তারা পদ্ম সূত্রের (Lotus Sutra) গুণকীর্ত্তন করে। তারা বিশ্বাস করে যে, এটা তাদেরকে সমৃদ্ধি এনে দিবে। ক্যাথলিকদের বিষয়টা কেমন? তারা প্রার্থনার সময় সব সময়  মরিয়মের বন্দনা করে। তারা প্রার্থনা করে, “ধন্যা মরিয়ম, আপনি আশীর্বাদপূর্ণ, প্রভু আপনার সহবর্ত্তী… পবিত্র মেরী, ঈশ্বরের মাতা, আমাদের জন্য এই পাপীদের জন্য প্রার্থনা করুন।” বৌদ্ধরাও অনবরত তাদের আবৃত্তি এইভাবে করতে থাকে, “নমো অমিতাভা বৌদ্ধায়া।”
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, মানুষের ধর্ম এই রকম। এটা তার অনুসারীদেরকে এইরকম অর্থহীন জিনিস চর্চা করতে বলে। এইভাবেই, অনেক মানুষ ঈশ্বরকে শুধুমাত্র একটা ধর্ম হিসেবে আরাধনা করে। আজকের শাস্ত্রাংশের এই শমরীয় স্ত্রীলোকটির ছয়টি স্বামী ছিল, আর সে তাদের প্রত্যেককে তার ঈশ্বর হিসেবে ভাবত। যাইহোক, কোন অর্থ, কোন খ্যাতি, কোন আনন্দ এবং কোন পরাক্রমই কখনোই কারো ঈশ্বর হতে পারে না। তাই প্রভু তাকে বললেন, “এখন তোমার যে স্বামী আছে, সেও তোমার স্বামী নয়।” আর স্ত্রীলোকটি উত্তর দিয়ে বলল, “আপনি সঠিক। আপনি সব কিছুই জানেন। প্রকৃতপক্ষেই আপনি সঠিক।” 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, আমরা যতই অর্থের, আনন্দের অথবা খ্যাতির আরাধনা করি না কেন, সেগুলো আমাদের প্রকৃত ঈশ্বর হতে পারে না। শুধুমাই যীশু খ্রীষ্টই আপনার এবং আমার প্রকৃত ত্রাণকর্তা ও ঈশ্বর। এইজন্যই যখন যীশু সেই শমরীয় স্ত্রীলোকটিকে বললেন যে, এখন যে লোকের সাথে সে বাস করছে, সে তার স্বামী নয়, তখন সেই স্ত্রীলোকটি এটা স্বীকার করল। আর এই সত্য প্রকাশের জন্য যীশুকে ভাববাদী বলে অভিহিত করল। স্ত্রীলোকটি তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করল, “আপনি একজন যিহূদী, আর আমি একজন শমরীয়। শমরীয়রা পর্বতে ভজনা করে, আর যিহূদীরা বলে, যে স্থানে ভজনা করা উচিত সেই স্থান নাকি যিরূশালেমেই আছে।” এটা বোঝার জন্য একটু ইতিহাস জানা জরুরী। আপনারা হয়তো রাজা রহবিয়াম এবং যার যারবিয়ামের কথা স্মরণ করতে পারছেন, যারা শলোমনের রাজত্বের পর যিহূদা রাজ্য ও ইস্রায়েল রাজ্য শাসন করেছিলেন। রহবিয়াম প্রকৃতপক্ষে শলোমনের পুত্র ছিলেন। শলোমনের মৃত্যুর পর ইস্রায়েল ভেঙ্গে দু’টো রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। দশ জাতি রহবিয়ামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে যারবিয়ামের অধীনে একটা পৃথক রাজ্য তৈরী করল। যারবিয়াম শলোমনের একজন ভৃত্য ছিল। উত্তরের এই রাজ্যটি নিজেদের নাম দিয়েছিল ইস্রায়েল, এটি শমরিয়া হিসেবেও পরিচিত। অন্যদিকে, রহবিয়ামের রাজ্য যিহূদা ও বিন্যামীন এই দুই জাতির আনুগত্য নিয়ে টিকে রইল, আর এই রাজ্যের নাম হল যিহূদা রাজ্য।
এইভাবেই, ইস্রায়েল যিহূদা এবং শমরিয়া- এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। এর পরে, শমরীয়রা অষ্টম মাসের পঞ্চদশ দিনটিকে উৎসবের দিন হিসেবে নিরূপণ করল, আর স্বর্ণময় একটা গোবৎস এনে শমরীয়ার একটি পর্বতের উপরে এটার আরাধনা করতে লাগল। অন্যদিকে, যিহূদা রাজ্যটি সপ্তম মাসের দশম দিনে ঈশ্বরের আরাধনা করত। এই ঐতিহাসিক পটভূমির কারণে শমরীয়া স্ত্রীলোকটি বলল, “যিহূদীরা কি যিরূশালেমে ভজনা করে না?” যীশু উত্তরে কি বললেন? চলুন বাইবেল থেকে দেখা যাক।  “যীশু তাহাকে বলেন, হে নারি, আমার কথায় বিশ্বাস কর; এমন সময় আসিতেছে, যখন তোমরা না এই পর্বতে, না যিরূশালেমে পিতার ভজনা করিবে। তোমরা যাহা জান না, তাহার ভজনা করিতেছ; আমরা যাহা জানি, তাহার ভজনা করিতেছি, কারণ যিহূদীদের মধ্য হইতেই পরিত্রাণ। কিন্তু এমন সময় আাসিতেছে, বরং এখনই উপস্থিত, যখন প্রকৃত ভজনাকারীরা আত্মায় ও সত্যে পিতার ভজনা করিবে; কারণ বাস্তবিক পিতা এইরূপ ভজনাকারীদেরই অন্বেষণ করেন। ঈশ্বর আত্মা; আর যাহারা তাঁহার ভজনা করে, তাহাদিগকে আত্মায় ও সত্যে ভজনা করিতে হইবে’” (যোহন ৪:২১-২৪ পদ)। এইসবের মানে কি? এর অর্থ হলো- ঈশ্বর তাদের অন্বেষণ করেন, যারা আত্মায় ও সত্যে ভজনা করে। অন্যভাবে বললে, আপনি কোথায় ঈশ্বরের ভজনা করছেন, সেটি কোন বিষয় নয়, অথবা আপনি কোন ডিনোমিনেশনে ঈশ্বরের ভজনা করছেন, সেটিও বিষয় নয়। এইসব বিষয়গুলো কোন বিষয়ই নয়। 
শমরীয় স্ত্রীলোকটি যীশুকে আরো জিজ্ঞেস করল, “যাকোব আমাদেরকে এই কূপটি দিয়েছিলেন। আপনি কি যাকোব হইতেও মহান?” আত্মিকভাবে বললে, এটা ডিনোমিনেশনগুলোর মধ্যকার পার্থক্যকে নির্দেশ করে। স্ত্রীলোকটি যীশুকে বলছিল, “যাকোবের এই কূপটি বছরের পর বছর ধরে আছে। আপনি কি বলছেন যে, আপনার জল এই কূপের জল থেকেও অধিক মিষ্টি? আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোব এই গভীর কূপটি খনন করেছিলেন যেন, আমরা এবং আমাদের পশুপাল এখান থেকে পানি পান করতে পারি। এই কূপের জল খুবই ভাল। আপনি কি এর থেকেও ভাল জল আমাদের দিতে পারবেন?” মহিলাটি প্রকৃতপক্ষে এটিই বলছিল। এই কথা কি নির্দেশ করে? এই কথাটি এটাই নির্দেশ করে যে, শমরীয় স্ত্রীলোকটি যীশুকে ধর্মীয় এই বিভিন্ন উপদলের বিষয়ে বলছিল। 
আজকের অনেক খ্রীষ্টানই কি এই রকম নয়? কিভাবে ঈশ্বরে বিশ্বাস করা উচিত, অথবা যীশু খ্রীষ্ট তাদেরকে কিভাবে উদ্ধার করেছেন- এইসব না জেনেই তারা শুধুমাত্র নিজেদের ডিনোমিনেশন নিয়ে দম্ভ করে বেড়ায়। তারা এমনকি জল ও আত্মার সুসমাচারও জানে না। যাকোবের এই কূপটি হাজার বছরের পুরনো ছিল। অনেক খ্রীষ্টান তাদের ডিনোমিনেশনের লম্বা ইতিহাস নিয়ে দম্ভ করে। প্রেজবিটিরিয়ানরা এমনভাবে কথা বলে যেন, তাদের চার্চ হাজার বছরের পুরনো। কিন্তু বাস্তবে, প্রেজবিটিরিয়ানদের ইতিহাসের বয়স এমনকি ৫০০ বছরও হয়নি।
সেমিনারিগুলো ১৮শতকে সারা পৃথিবীতে উদ্ভূত হতে শুরু করে। শুধুমাত্র ১৮শতকেই প্রটেষ্টান্ট ধর্মতত্ত্ব, যেমন-ব্যাপ্টিস্ট এবং প্রেজবিটিরিয়ান ধর্মতত্ত্বের উৎপত্তি হয়। এর ইতিহাস খুব লম্বা নয়, এটা শুধুমাত্র ৩০০ বছরের পুরনো। ১৩১৩ খ্রীষ্টাব্দে, সম্রাট কনস্ট্যান্টাইন মিলানের ডিক্রি জারি করেন, যা ক্যাথলিক চার্চকে রোমান সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তখন থেকে ১৫শতকে লুথারেনের উৎপত্তির আগ পর্যন্ত পুরো পৃথিবী অন্ধকার যুগে বাস করছিল। এই সময়ে, ক্যাথলিক চার্চ, লোকদেরকে ধর্মভ্রষ্টতার অপবাদ দিয়ে নিয়মিতভাবে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করত। এইভাবেই, ক্যাথলিক চার্চ প্রচন্ড ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিল। মধ্যবর্ত্তী এই বছরগুলোতে ক্যাথলিক চার্চের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারত না এবং বাঁচতেও পারত না, এমনকি রাজারাও না।
ইংল্যান্ডের রাজা তার তখনকার বিয়েকে বাতিল করাতে চেয়েছিলেন যেন তিনি পুনরায় বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু পোপ এই অনুরোধ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এতে ইংল্যান্ডে একটি পৃথক চার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। আপনারা সবাই এই ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন। ক্যাথলিক চার্চ রাজা হেনরি-৮ কে তার বিয়ে বাতিলের অনুমতি দেয়নি- এই চার্চটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সম্পূর্ণ তার ফলোশ্রুতিতে। আর এই চার্চের নাম হল- অ্যাঙলিকান চার্চ। অ্যাঙলিকান চার্চ হল ক্যাথলিক এবং প্রটেষ্টান্ট-এর সংমিশ্রণ। এর মধ্যে একদিকে অধিকাংশ ক্যাথলিক রীতি-নীতিই থেকে গেছে, আবার অন্যদিকে এর মধ্যে নতুন প্রটেষ্টান্ট মতবাদ যুক্ত হয়েছি। আরো একটি প্রটেষ্টান্ট চার্চ আছে, যার নাম হল রিফর্মন্ড চার্চ। এই চার্চ আরো প্রগতিবাদী এবং তারা ক্যাথলিকদের খুব করেই অগ্রাহ্য করে। 
আপনার ডিনোমিনেশনের ইতিহাস কত দীর্ঘ, এতে কি আসে যায়? যাকোবের কূপ কত গভীর ছিল, এতে কি এসে যেত? যাকোবের কূপ যতই গভীর হতো না কেন লোকেরা এখান থেকে জল খেলে সেই জল নিঃশেষিত হয়ে যেত, আর তাদের আবার পিপাসা লাগত। একদিনের জন্য যে জল তারা তুলত, তা দিন শেষে শেষ হয়ে যেত। পরের দিন তাদেরকে জল আনার জল সেই কূপের কাছে আবার যেতে হতো। এই জল দিনের পর দিন তুলতেই হতো, এর কোন অন্ত ছিল না। ডিনোমিনেশনগুলোরও একই দশা। একটা ডিনোমিনেশনের ইতিহাস যতই দীর্ঘ এবং ঐতিহ্যবাহী হোক না কেন, এর মানব-সৃষ্ট তত্ত্ব কখনোই মানুষের হৃদয়ের পিপাসা নিবারণ করতে পারে না। এটা সত্যিকারের জীবন্ত জল দিতে পারে না। শুধুমাত্র যারা জল ও আত্মা হতে পূণর্জন্ম লাভ করেছে, যাদের হৃদয়ে যীশুর বাক্য রয়েছে, শুধুমাত্র তারাই অনন্তজীবনের ঝর্ণার জল পেতে পারে।
অন্যকথায়, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা সবচেয়ে উপযুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত উপায়ে আমাদের সমস্ত পাপ বহন করেছেন আর তিনি ক্রুশের উপরে তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে সে সমস্ত পাপ মোচন করেছেন- শুধুমাত্র যখনই আমরা আমাদের হৃদয়ে এটা বিশ্বাস করে আমাদের পাপের ক্ষমা লাভ করব, শুধুমাত্র তখনই আমরা পরিত্রাণে পৌঁছতে পারব এবং অনন্ত জল লাভ করতে পারব। আপনি কখনোই আপনার ডিনোমিনেশন নিয়ে দম্ভ করবেন না। আজকের শাস্ত্রাংশটিতে এই শমরীয় স্ত্রীলোকটি তার দল নিয়ে দম্ভ করছিল, কিন্তু যখন যীশু তাকে বললেন যে, তিনি তাকে অনন্ত জীবনের জল দিবেন, আর এই জল পান করলে তার আর কখনোই পিপাসা হবে না, তখন সেই স্ত্রীলোকটি তাঁকে সেই জল চাইল। প্রভু তখন তাকে তার স্বামীকে ডেকে আনতে বললেন। 
 
 
পাপ ক্ষমা লাভের পূর্বশর্ত
 
পাপের ক্ষমা লাভ করতে হলে আপনাকে সর্বপ্রথমে অবশ্যই এটা উপলব্ধি করতে হবে যে, আপনি একজন পাপী। এবং আপনি অবশ্যই এটা উপলব্ধি ও স্বীকার করবেনে যে, আপনি যা জেনেছেন, যা বিশ্বাস করেছেন, যা অনুসরণ করেছেন- তা প্রকৃতপক্ষে আপনার প্রকৃত ঈশ্বর নয়। আপনাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, একমাত্র যীশু খ্রীষ্টই আপনার ঈশ্বর এবং ত্রাণকর্তা। যদি আপনি না জেনে থাকেন যে, আপনি ঈশ্বরের সাক্ষাত লাভ করেছেন কি না, তাহলে প্রভু আপনাকে পাপ ক্ষমা এবং জল ও আত্মা হতে পূণর্জন্ম লাভের আশীর্বাদ দিতে চাইলেও পারবেন না। যদি আপনি একবার ঈশ্বরের সাক্ষাত লাভ করে থাকেন, তাহলে আপনার আর তাঁর সাক্ষাত লাভের জন্য পুনরায় কোন উপায় খোঁজার দরকার হবে না। আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হল- যারা একবার পাপের ক্ষমা লাভ করেছে, তাদের আর দ্বিতীয়বার এটা লাভের প্রয়োজন পড়ে না। পাপের ক্ষমা একবারে চিরকালের জন্য লাভ করা হয়। এর কার্যকারীতা অনন্তকালস্থায়ী। যখন আপনি ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ করেন, তখন এটা আপনার মধ্যে ঝর্ণাতে রূপান্তরিত হয়ে যায়, যা নিজে থেকেই পুনরায় সরবরাহ দিতেই থাকে। 
আমরা আমাদের মাংস দিয়ে যে সমস্ত পাপ করি, সে সমস্তই যীশুর উপরে অর্পিত হয়েছিল। তাহলে কি আমরা এখনো পাপী না কি পাপমুক্ত? অবশ্যই আমরা পাপমুক্ত! এই পৃথিবীতে যে প্রত্যেকটি খুটি-নাটি পাপ আপনি করেন, সবই যীশুর উপরে অর্পিত হয়েছিল। ঠিক এই কারণেই আমরা প্রকৃত বিশ্বাসে ঈশ্বরের ভজনা করতে পারি। জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসীরা এখন প্রকৃত বিশ্বাসে ঈশ্বরের ভজনা করতে পারে। যেহেতু যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ একেবারে চিরতরে তুলে নিয়েছেন, তাই আমাদের আর কোন পাপ নেই। তিনি আমাদের প্রকৃত ত্রাণকর্তা হয়েছেন। এইজন্য, যদি আপনি যীশু থেকে প্রকৃত পপ ক্ষমা লাভ করতে চান, তাহলে আপনাকে প্রথমে পরিষ্কারভাবে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, কোন ধরণের পাপ আপনি আপনার পিতা-মাতা থেকে জন্মসূত্রে পেয়েছেন, এবং সাথে এটাও পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করতে হবে যে, আপনি একজন পাপী যে এই পৃথিবীতে যত দিন থাকবে ততদিন পাপ করবেই, পাপ না করে পারবে না। 
 
 
প্রভু শমরীয় স্ত্রীলোকটিকে বললেন, “যাও, তোমার স্বামীকে এখানে ডাকিয়া লইয়া আইস।”
 
স্ত্রীলোকটি বলল, “আমার স্বামী নাই।” যীশু বললেন, “তুমি ঠিক বলেছো। তোমার পাঁচটি স্বামী হয়ে গিয়েছে, আর এখন তোমার যে আছে, সে তোমার স্বামী নয়।” স্ত্রীলোকটি তখন এটা স্বীকার করল এবং বলল, “আপনি ঠিক বলেছেন।” আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, এই জগতে আপনি হয়তো অর্থ, খ্যাতি, আনন্দ, ধর্ম অথবা নিজের উপরে বিশ্বাস করে চলেছেন, কিন্তু এর মধ্যে একটিও কি আপনাকে প্রকৃত অর্থে উদ্ধার করতে পেরেছে? অর্থ কি আপনার পাপ মোচন করেছে? পরাক্রম কি আপনার পাপ মোচন করেছে? না, অবশ্যই না! না অর্থ, না খ্যাতি, না ক্ষমতা, না ধর্ম, এবং এমনকি আপনি নিজেও আপনাকে উদ্ধার করতে পারেন নাই। এই সমস্ত জিনিস আপনাকে কখনোই আপনার পাপ থেকে মুক্ত করতে পারবে না। না অর্থ, না খ্যাতি- কোনটিই আপনাকে পরিত্রাণ এনে দিতে পারবে না। আপনাকে পরিষ্কারভাবে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, আপনি গীর্জা অথবা মন্দিরে যত অর্থই দান করেন না কেন, এমনকি যদি আপনি আপনার সমস্ত সম্পত্তিও দান করে দেন, তবুও এটা আপনার পাপ মোচন করতে পারবে না। অর্থ কখনোই আপনার ঈশ্বর হতে পারে না। এটা কখনোই আপনার ত্রাণকর্তা হতে পারে না। কিন্তু, তথাপি, অনেক মানুষ চিন্তা করে যে, তাদের শুধুমাত্র অর্থ দরকার। মরণেও মানুষ ভাবে তাদের অর্থ দরকার। একবার দেখুন, বর্তমান দিনে কিভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য এমনকি হাজার হাজার ডলার খরচ করা আর যদি দামি কফিন হয় এবং ধনাঢ্য সমাধি-ফলক হয়, তবে যে খরচ কোথায় চলে যাবে তার কোন হিসেব নেই। 
আপনি স্বর্গে যাবেন না কি নরকে যাবেন- অর্থের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। আপনার পার্থিব সহায়-সম্পত্তি কিছুই করতে পারবে না; আপনার সুখ-বিলাস কিছুই করতে পারবে না; আপনার খ্যাতি কিছুই করতে পারবে না। এমনকি আপনি নিজেও কিছুই করতে পারবেন না। আপনি স্বর্গে যেতে পারেন- শুধুমাত্র যদি আপনি যীশুতে, তাঁর বাপ্তিস্মে এবং ক্রুশে বিশ্বাস করেন। আপনার যত ক্ষমতাই থাকুক না কেন, আপনি আপনার ক্ষমতা দিয়ে স্বর্গে প্রবেশ করতে পারবেন না। যখন প্রেসিডেন্ট পার্ক চুং-হি মৃত্যু বরণ করলেন, তখন বৌদ্ধধর্ম, প্রটেষ্টান্ট এবং ক্যাথলিক ধর্ম থেকে অনেক প্রতিনিধি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে আসল। আর তারা পালাক্রমে তার জন্য প্রার্থনা করল। এটা করা হয়েছিল এই কারণে- যাতে এতগুলো দেবতার মধ্যে কোন একজন দেবতা পার্ককে তার পরলোকে নিয়ে যান। 
যাইহোক, একজন পাস্টর বাক্য পাঠ করার পর বললেন যে, “আপনি যা বুনবেন, তাই কাটবেন।” অনেক কোরিয়ান করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানালো। কারণ প্রেসিডেন্ট পার্ক একনায়ক হিসেবে শাসন করেছেন এবং তার জীবনকালে অনেক মানুষকে মেরেছেন। তাই সে সময় লোকেরা বলল, “পার্ক মানুষদের গুলি করে মারত, তাই তাকেও গুলি করে মারাই হবে ন্যায্য।” প্রবোধের দিন হওয়া সত্ত্বেও দিনটি দোষারোপের দিন হয়ে গেল। একজন ক্যাথলিক যাজক তখন ধূপ জ্বালাল এবং প্রার্থনা করল, “পবিত্র সাধুগণ, এই আত্মার জন্য প্রার্থনা করুন। সাধু পিতর, এই আত্মার জন্য মিনতি করুন।” আমি যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, তখন প্রায়ই এরকম আচারানুষ্ঠান দেখতাম। এটা শেষ কৃত্যানুষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি। এখানে সভাপতিত্ব করা যাজক দেহ ত্যাগ করে যাবে, এই আত্মার জন্য দীর্ঘ প্রার্থনা করেন। আমি তাদেরকে অনেকবার এটা করতে দেখেছি, আর আমি দেখতে দেখতে অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে গেছি। এগুলো কোন ধরণের প্রার্থনা? এই প্রার্থনায় যারা ইতোমধ্যেই স্বর্গে আছেন, তাদেরকে এই ব্যক্তির আত্মার জন্য পিতা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে অনুরোধ করা হয়, যাতে এই আত্মা নরক থেকে রক্ষা পায়। 
এটাই ধর্ম। কিন্তু যতই আন্তরিকভাবে এইরকম প্রার্থনা করা হোক না কেন, এই ধর্ম কি কাউকে রক্ষা পারে? অর্থ কি আমাদের রক্ষা পারে? খ্যাতি কি আমাদের রক্ষা পারে? ক্ষমতা কি আমাদের রক্ষা পারে? আমরা নিজেরা কি নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারি? না, এগুলোর কোনটিই আমাদেরকে রক্ষা করতে পারে না। তথাপি, অনেক মানুষ মনে করে যে, তারা তাদের নিজস্ব উপায়ে স্বর্গে যেতে পারবে। বাস্তবে, এই রকম বিশ্বাস হাস্যকর। 
যোহন ৪:১৮-১৯ পদে লেখা আছে, “যীশু তাহাকে বলিলেন, তুমি ভালই বলিয়াছ যে, আমার স্বামী নাই; কেননা তোমার পাঁচটি স্বামী হইয়া গিয়াছে, আর এখন তোমার যে আছে, সে তোমার স্বামী নয়; এই কথা সত্য বলিলে। স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, আমি দেখিতেছি যে, আপনি ভাববাদী।’” আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, আমরা যেদিন জন্মগ্রহণ করেছিলাম, সেদিনই আমাদের ঠিকানা ঠিক হয়ে গিয়েছিল ধ্বংস। আমাদের ভাগ্যে লেখা ছিল অনন্ত নরকে নিক্ষিপ্ত হওয়া। দায়ূদ গীতসংহিতায় কি বলেছেন? চলুন আমরা গীতসংহিতা ৫১:৫ পদ দেখি। এখানে তিনি বলেছেন, “দেখ, অপরাধে আমার জন্ম হইয়াছে, পাপে আমার মাতা আমাকে গর্ভে ধারণ করিয়াছিলেন।” এই পদটির অর্থ কি? দায়ূদ এখানে বলেছেন যে, তাঁর জন্ম হয়েছিল পাপে, এবং তাঁর মাতা তাঁকে পাপে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। এর অর্থ হলো- মানুষ জন্ম থেকেই তার পিতা-মাতার পাপ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে থাকে। আর তারা হৃদয়ে তাদের পিতৃপুরুষদের পাপ ধারণ করেই এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তাই এটাকে মৌলিক পাপ (আদি পাপ) বলা হয়ে থাকে। কারণ, প্রত্যেকেই আদমের বংশে জন্মগ্রহণ করেছে, তাই এই পাপ আদম থেকেই সকলের মধ্যে এসেছে। 
যেহেতু, সমস্ত মানুষই এই মৌলিক পাপ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে, তাই তারা সবাই তাদের জীবনে অনবরত বারো ধরণের পাপ করে থাকে। বছরে চার ঋতুতে এবং বারো মাসে এই পাপগুলো প্রস্ফুটিত হয়- নরহত্যা থেকে শুরু করে লোভ, চুরি, ব্যভিচার এবং মূঢ়তা। মানুষ যত কঠোর চেষ্টাই করুক না কেন যে, তারা এআ পাপ আর আগামী বছরে করবে না, কিন্তু তারা ঠিকই আগামী বছরে সেই পাপ আবার করে। বছরে যেমন বারোটি মাস আছে, আমরাও তেমনি সারা বছর ধরে বারো ধরণের পাপ করি, আর আমরা পরবর্তী বছরেও সেই একই পাপগুলো আবার করি। আমরা আমাদের মরণ দিন পর্যন্ত এইভাবে পাপ করেই যাব, এটাই আমাদের মানবীয় প্রকৃতি।
দায়ূদ এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ঈশ্বরে সম্পূর্ণ আকুল চিত্তে বিশ্বাস করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস কেমন শক্তিশালী ছিল? এটা এতো শক্তিশালী ছিল যে, তিনি তাঁর প্রকৃত রূপ ঈশ্বরের সামনে প্রকাশ করলেন এবং বললেন যে, পাপে তাঁর জন্ম হয়েছিল, পাপে তাঁকে গর্ভে ধারণ করা হয়েছিল। এটাই হলো দায়ূদের বিশ্বাসের স্বীকারোক্তি। তিনি আরো বলেন, “অতএব তুমি আপনার বাক্যে ধর্মময়, আপনার বিচারে নির্দোষ রহিয়াছ” (গীতসংহিতা ৫১:৪ পদ)। অন্যভাবে বললে, দায়ূদ নিম্নোক্ত উপায়ে তাঁর বিশ্বাসের স্বীকারোক্তি করছেন, “প্রভু, আমি বিশ্বাস করি যে, তোমার বিচার সঠিক। যদি তুমি বল যে, তুমি আমার পাপ মোচন করেছ, তাহলে তুমি বাস্তবিকই তা করেছ; যদি তুমি বল যে, তুমি আমার পাপ মোচন কর নাই, তাহলে তুমি তা মোচন কর নাই। যেহেতু আমি এই পাপগুলো নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছি, তাই আমি পাপ না করে পারি নাই। তোমার বিচার সম্পূর্ণরূপে সঠিক। আমি সম্পূর্ণরূপে তোমাতে বিশ্বাস করি।”
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, যদি আপনারা পাপের ক্ষমা লাভ করতে চান, তাহলে আপনাদেরকে সর্বপ্রথমে ঈশ্বরের বাক্যে সম্পূর্ণ ১০০% বিশ্বাস করতে হবে। যতক্ষণ না আপনারা এতে বিশ্বাস করবেন, আপনারা আপনাদের নিজস্ব ভ্রান্ত চিন্তায় নিমজ্জিত থাকবেন। সেনাপতি নামান কুষ্ঠরোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছিলেন, প্রভুকে ধন্যবাদ। কিন্তু প্রথমে তাকে যখন যর্দন নদীতে গিয়ে স্নান করতে বলা হল, তখন তার চিন্তা কেমন ছিল? তিনি ভেবেছিলেন যে, “প্রভু আমাকে যর্দন নদীতে স্নান করতি বললেন, কিন্তু আমি নিশ্চিত, আমার নিজ দেশের নদীগুলো যর্দন নদী থেকে আরো ভাল। এই যর্দন নদীতে স্নান না করে আমি বরং ঐ নদীগুলোর কোন একটিতে স্নান করব।” যদি প্রভু আপনাকে যর্দন নদীতে স্নান করতে বলেন, তবে আপনার যর্দন নদীতেই স্নান করা উচিত। অন্য কথায়, আপনার নিজস্ব চিন্তা ত্যাগ করতে হবে এবং প্রভুর বাক্যে বিশ্বাস করতে হবে। 
প্রভু আপনাকে এবং আমাকে বলেছেন যেন আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে পূণর্জন্ম লাভের আশীর্বাদ লাভ করি। যর্দন নদীতে বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা যীশু আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিলেন। এই জল এবং ক্রুশে সেচিত তাঁর রক্তের দ্বারা তিনি আপনার এবং আমার সমস্ত পাপ মোচন করলেন। আর ফলোশ্রুতিতে, তিনি আমাদেরকে পবিত্র আত্মাকে দান করেছেন। প্রভুকে এই মহৎ কার্যের জন্য ধন্যবাদ, আমাদেরকে তিনি নতুন সৃষ্টি হিসেবে পূণর্জন্ম লাভ করার সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের শুধুমাত্র যা করতে হবে, তা হল- ঈশ্বরের বাক্যে ঠিক এর মতো করেই বিশ্বাস করা। আমরা কি নিজেদের ইচ্ছায় জন্মগ্রহণ করেছি? না, আমরা আমাদের ইচ্ছায় এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করি নাই। ঠিক একইভাবে, আমরা নিজেদের ইচ্ছায় পাপী হই নাই, আর আমরা নিজেদের চেষ্টায় ঈশ্বরের নিজের সন্তান হই নাই। আপনার পরিত্রাণে পৌঁছাতে হলে আপনাকে শুধুমাত্র এটাতে বিশ্বাস করতে হবে। বিশ্বাস করা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। প্রভু বলেন, “আর তোমরা সেই সত্য জানিবে, এবং সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে” (যোহন ৮:৩২ পদ)। পিতা ঈশ্বর তাদেরকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন যারা আত্মায় ও সত্যে তাঁর ভজনা করে। তিনি পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যে, যারা তাঁর ভজনা করে, “তাহাদিগকে অবশ্যই আত্মায় ও সত্যে ভজনা করিতে হইবে।”
যারা যীশুর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশে সেচিত তাঁর রক্তে বিশ্বাস করে, এবং যারা বিশ্বাস করে যে প্রভুই তাদের ত্রাণকর্তা, তারা যখন ঈশ্বরের কাছে আসে- তাদেরকে তিনি জল ও আত্মায় পূণর্জন্ম দান করেন। এই লোকেরা আত্মায় ও সত্যে ঈশ্বরের ভজনা করে। যারা যীশু প্রদত্ত জল ও আত্মায় পাপের ক্ষমা লাভ করে ঈশ্বরের ভজনা করে, তারাই সত্যিকার অর্থে ঈশ্বরের ভজনা করে। আর হৃদয়ে পবিত্র আত্মা এবং প্রকৃত বিশ্বাস নিয়ে  ঈশ্বরের ভজনা করাই হলো প্রকৃত ভজনা। আমাদের মধ্যে কিছু মানুষ আমরা সত্যে ঈশ্বরের ভজনা করি, কিন্তু কেউ কেউ সত্যে ভজনা করি না। আপনার বিষয়টা কেমন? 
আপনি কি সত্যে ও আত্মায় ঈশ্বরের ভজনা করেন? আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আপনি এমন ভজনাকারীই হবেন। যারা বিশ্বাস করে না যে, যখন যীশু বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তখন জগতের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল- তাদের হৃদয়ে এখনো পাপ রয়েছে, আর তাদের বিশ্বাস নেই। আমরা এখানে ভজনার ধরণ নিয়ে আলোচনা করছি না। আপনি যেখানে ইচ্ছা, সেখান থেকেই ঈশ্বরের ভজনা করতে পারেন। প্রভু বলেন, “কিন্তু এমন সময় আাসিতেছে, বরং এখনই উপস্থিত, যখন প্রকৃত ভজনাকারীরা আত্মায় ও সত্যে পিতার ভজনা করিবে; কারণ বাস্তবিক পিতা এইরূপ ভজনাকারীদেরই অন্বেষণ করেন” (যোহন ৪: ২৩ পদ)। আপনি এখানে নাকি ওখানে ঈশ্বরের ভজনা করবেন, এতে কি আসে যায়? যখন আপনি সত্যিকার অর্থেই পাপের ক্ষমা লাভ করেছেন, তখন কোথায় ভজনা করছেন, সেটা কোন বিষয়ই নয়। 
ডিনোমিনেশনগুলোও সব অর্থহীন। এতসব খ্রীষ্টান যখন মাত্র ৩০০ বছর অথবা এরকম কিছু বছর পিছনে তাকিয়ে তাদের ডিনোমিনেশনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে দম্ভ করে, তখন এটা খুবই হাস্যকর। প্রথমে, যখন আমি ঠিকমতো জানতাম না, আমি ভাবতাম যে, এই ডিনোমিনেশনগুলো হয়তো হাজার বছরের পুরনো। আমি ভাবতাম, “যেহেতু যীশু যেহেতু প্রায় ২,০০০ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই এই ডিনোমিনেশনগুলোর বয়স কমপক্ষে ১,০০০ বছর তো হবেই।” কিন্তু যখন আমি প্রকৃত ইতিহাস দেখলাম, আমি দেখলাম যে ডিনোমিনেশগুলোর আবির্ভাব মাত্র ১৮শতকে আরম্ভ হয়েছে। প্রেজবিটিরিয়ান চার্চের আবির্ভাব আরো দেরিতে হয়েছে। প্রেজবিটিরিয়ান চার্চ কোরিয়াতে খুব শক্তিশালী হলেও সব জায়গায় চিত্রটা কিন্তু একই রকম নয়; উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকাতে ব্যাপ্টিস্ট চার্চ অনেক বেশি প্রভাবশালী।
এখানে বিষয়টি হল- ভজনার রীতি-নীতি এবং ডিনোমিনেশনগুলোর পার্থক্যগুলো প্রকৃতপক্ষে একটুও গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেটা বাস্তবিকই গুরুত্বপূর্ণ তা হল- জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারাই আমরা পাপের ক্ষমা লাভ করি। আর তারপরই এই প্রকৃত বিশ্বাস নিয়ে আমরা ঈশ্বরের ভজনা করি। আত্মায় ও সত্যে ঈশ্বরের ভজনা বলতে এটাই বোঝান হয়েছে। আর একবার জল ও আত্মা হতে পূণর্জন্ম লাভ করলে আমরা এইভাবেই ঈশ্বরের ভজনা করি। সর্বপ্রথম  ঈশ্বর চান সর্বপ্রথম আপনি এবং আমি যেন জল ও আত্মা হতে পূণর্জন্ম লাভ করি। ঈশ্বর এটাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। আর জল ও আত্মা হতে পূণর্জন্ম লাভের পরেই যেন আমরা ঈশ্বরের ভজনা করি; ঈশ্বর এটাই চান। ঈশ্বর আমাদের কাছে এই প্রকার ভজনাই চান। 
আমি এখানেই আমার উপদেশের ইতি টানতে চাই, কারণ এখন খুব দেরী হয়ে গেছে আর আপনারাও অনেকেই ক্লান্ত। আমি নিশ্চিত, আপনারা আজকের বক্তৃতার মূল বার্তাটি বুঝতে পেরেছেন। আমরা সত্যে ও আত্মায় ঈশ্বরের ভজনা করতে পারি, এজন্য সমস্ত প্রশংসা যীশুর । আমাদের সকলকে সত্যে ও আত্মায় তাঁর ভজনা করতে সক্ষম করেছেন বলে আমি আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি খুবই কৃতজ্ঞ যে, এই জগতে আমরা আমাদের মাংস দিয়ে যে সমস্ত পাপ করি, যীশু আমাদের সেই সমস্ত পাপ তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন। আমাদের অক্ষমতায় আমরা যে সমস্ত পাপ করি, সে সমস্ত পাপ যীশুর উপরে অর্পিত হয়েছিল। ফলে, এখন আমাদের আর কোন পাপ নেই। আমরা প্রকৃত অর্থেই ধার্মিক হয়েছি। যদিও আমাদের ভুল-ত্রটি আছে, তবুও আমরা পাপ মুক্ত। আমাদেরকে এই রকম ধার্মিক মানুষ করেছেন বলে আমি সমস্ত কৃতজ্ঞতা ঈশ্বরকে উৎসর্গ করি।