শিক্ষা

বিষয় ৩: জল ও আত্মার সুসমাচার

[3-11] (যোহন ৪:১-১৯ পদ) প্রকৃতরূপে নূতন জন্ম লাভের অর্থ কি?

(যোহন ৪:১-১৯ পদ)
“প্রভু যখন জানিলেন যে, ফরীশীরা শুনিয়াছে, যীশু যোহন হইতে অধিক শিষ্য করেন এবং বাপ্তাইজ করেন- কিন্তু যীশু নিজে বাপ্তাইজ করিতেন না, তাঁহার শিষ্যগণই করিতেন- তখন তিনি যিহূদিয়া ত্যাগ করিলেন, এবং পুনর্বার গালীলে চলিয়া গেলেন, আর শমরিয়ার মধ্য দিয়া তাঁহাকে যাইতে হইল। তাহাতে তিনি শুখর নামক শমরিয়ার এক নগরের নিকটে গেলেন; যাকোব আপন পুত্র যোষেফকে যে ভূমি দান করিয়াছিলেন, সেই নগর তাঁহার নিকটবর্তী। আর সেই স্থানে যাকোবের কূপ ছিল। তখন যীশু পথশ্রান্ত হওয়াতে অমনি সেই কূপের পার্শ্বে বসিলেন। বেলা তখন অনুমান ষষ্ঠ ঘটিকা। শমরিয়ার এক জন স্ত্রীলোক জল তুলিতে আসিল। যীশু তাহাকে বলিলেন, আমাকে পান করিবার জল দেও। কেননা তাঁহার শিষ্যেরা খাদ্য ক্রয় করিতে নগরে গিয়াছিলেন। তাহাতে শমরীয় স্ত্রীলোকটি বলিল, আপনি যিহূদী হইয়া কেমন করিয়া আমার কাছে পান করিবার জল চাহিতেছেন? আমি ত শমরীয় স্ত্রীলোক। -কেননা শমরীয়দের সহিত যিহূদীদের ব্যবহার নাই।– যীশু উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, তুমি যদি জানিতে, ঈশ্বরের দান কি, আর কে তোমাকে বলিতেছে, ‘আমাকে পান করিবার জল দেও’, তবে তাঁহারই নিকটে তুমি যাচ্ঞা করিতে এবং তিনি তোমাকে জীবন্ত জল দিতেন। স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, জল তুলিবার জন্য আপনার কাছে কিছুই নাই, কূপটিও গভীর; তবে সেই জীবন্ত জল কোথা হইতে পাইলেন? আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোব হইতে কি আপনি মহান? তিনিই আমাদিগকে এই কূপ দিয়াছেন, আর ইহার জল তিনি নিজে ও তাঁহার পুত্রগণ পান করিতেন, তাঁহার পশুপালও পান করিত। যীশু উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, যে কেহ এই জল পান করে, তাহার আবার পিপাসা হইবে; কিন্তু আমি যে জল দিব, তাহা যে কেহ পান করে, তাহার পিপাসা আর কখনও হইবে না; বরং আমি তাহাকে যে জল দিব, তাহা তাহার অন্তরে এমন জলের উনুই হইবে, যাহা অনন্ত জীবন পর্যন্ত উথলিয়া উঠিবে। স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, সেই জল আমাকে দিউন, যেন আমার পিপাসা না পায়, এবং জল তুলিবার জন্য এতটা পথ হাঁটিয়া আসিতে না হয়। যীশু তাহাকে বলিলেন, যাও, তোমার স্বামীকে এখানে ডাকিয়া লইয়া আইস। স্ত্রীলোকটি উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিল, আমার স্বামী নাই। যীশু তাহাকে বলিলেন, তুমি ভালই বলিয়াছ যে, আমার স্বামী নাই; কেননা তোমার পাঁচটি স্বামী হইয়া গিয়াছে, আর এখন তোমার যে আছে, সে তোমার স্বামী নয়; এই কথা সত্য বলিলে। স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, আমি দেখিতেছি যে, আপনি ভাববাদী।’”
 
 
 “প্রকৃতরূপে পূণর্জন্ম লাভের অর্থ কি?”- আজকের উদ্দীপনা সভায় এই প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনা করা হবে। আপনারা সবাই খুব ভালভাবেই জ্ঞাত আছে, “পূণর্জন্ম লাভ” এই কথাটি আজকাল রাজনীতি, অন্যান্য ধর্ম এবং এরকম আরো বিভিন্ন জায়গায় অনর্গল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আপনারা হয়তো রাজনীতিবিদদের বলতে শুনে থাকবেন যে, ঐ দলকে অবশ্যই পূণর্জন্ম লাভ করতে হবে। অথবা কাউকে বলতে শুনে থাকবেন যে, তার পরিবারকে অবশ্যই পূণর্জন্ম লাভ করতে হবে। মানুষ পূণর্জন্মের কথা ক্রমাগত বলেই চলে। কিন্তু এই পূণর্জন্ম বলতে প্রকৃতরূপে কি বোঝায়? পূণর্জন্ম বলতে বোঝায়- একটা নতুন জীবন নিয়ে জন্ম নেওয়া। কিন্তু আমি ভাবি, যে মানুষগুলো এই পূণর্জন্মের কথা বলে, তাদের মধ্যে আসলে কত জন এর প্রকৃত অর্থ জানে। অন্যথায় এটা শুধুমাত্র একটা কথার কথা। যতদূর সম্ভব, লোকেরা হয়ত বিষয়টি নিয়ে এভাবে ভাবে- তারা চিন্তা করে যে, শুধুমাত্র তাদের চিন্তা-ভাবনা এবং ব্যবহার পরিবর্তন করলেই তারা পূণর্জন্ম লাভ করতে পারবে। 
যাইহোক, পূণর্জন্মের প্রকৃত অর্থ হবে এইরকমঃ আপনার ভিতরের পুরাতন মানুষটি মারা যাবে এবং আপনি সম্পূর্ণ নতুন এক মানুষ হয়ে উঠবেন। এর পুরো কৃতিত্ত্বই ঈশ্বরের। অন্য কথায়, আপনি আর আপনার পূর্বের জীবন যাপন করবেন না, কিন্তু এখন আপনি সম্পূর্ণ নতুন এক মানুষ হয়েছেন। এখন আপনি ঈশ্বরের। আপনি সম্পূর্ণ নতুন এক মানুষ হয়ে যাবেন, ঠিক যেমন অব্রাম পরিবর্তিত হয়ে অব্রাহাম হয়েছিলেন এবং শৌল হয়েছিলেন পৌল। 
যখন আমরা বাইবেল দেখি, আমরা দেখতে পাই যে, শৌল প্রথমে ঈশ্বরের এবং ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের বিপক্ষতা করতেন। ব্লাডহাউন্ড কুকুরের মত প্রভুর বিশ্বাসীদেরকে হত্যা করাই ছিল তার কাজ। তাকে এ কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যীশুর সাক্ষাৎ লাভের আগে, সে ভাবত যে, এটাই সঠিক কাজ ছিল। যাইহোক, একবার প্রভুর সাক্ষাৎ লাভের পর শৌল প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করলেন। তাঁর নাম পরিবর্তিত হয়ে পৌল হয়ে গেল এবং তিনি সম্পূর্ণ নতুন এক মানুষ হয়ে গেলেন। 
যখন আমরা প্রভুর মাধ্যমে প্রকৃতরূপে পূণর্জন্ম লাভ করি, তখন আমরা তাঁর সদৃশ্য হয়ে যাই এবং আমাদের নাম পরিবর্তন করে ফেলি। আমরা ক্যাথলিকদের মত বাপ্তিস্মের নাম পাই না, কিন্তু আমাদের জীবন পরিবর্তিত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক জীবনে পরিণত হয়। এর অর্থ হলো- যখন আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ হতে ধৌত হই, তখন আমাদের জীবন এবং চিন্তাধারা মূলগতভাবেই পরিবর্তিত হয়ে যায়। আমরা নতুন পুরুষ ও স্ত্রীলোক হিসেবে পূণর্জন্ম লাভ করি। ঠিক যেমন শৌল আর পুরাতন শৌল ছিলেন না, কিন্তু পরিবর্তিত হয়ে পৌল হয়ে গেলেন, তেমনি আমরাও আর পুরাতন আমরা থাকব না- অর্থাৎ পবিত্র আত্মার সহায়তায় আমরা আমাদের ভিতরে উপলব্ধি করতে পারি যে, আমাদের মধ্যে এখন এক নতুন মানুষ তৈরী হয়েছে যে হচ্ছে ঈশ্বরের; ধন্যবাদ পবিত্র আত্মন। প্রকৃতরূপে পূণর্জন্ম লাভ বলতে এটাই বোঝায়।
যারা প্রকৃতরূপে পূণর্জন্ম লাভ করেনি, তারা বলতে পারে না যে, “জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারাই পূণর্জন্ম লাভ হয়।” এর পরিবর্তে তারা এই বিষয়টিকে তাদের জাগতিক ও মাংসিক চিন্তা-ধারা অনুসারে চিন্তা করে। তাই তাদের বাহ্যিক ব্যবহারে পূণর্জন্মের কোন চিহ্ন দেখা যায় না। কিন্তু আপনি এবং আমি জানি যে, পূণর্জন্ম মানে হল- জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা আমরা আমাদের সমস্ত পাপ হতে ধৌত হয়েছি এবং একজন পাপমুক্ত মানুষ হিসেবে পূণর্জন্ম লাভ করেছি। 
আজকে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি এটা বোঝার জন্য যে, পূণর্জন্ম বলতে আসলে কি বোঝায়? আজকের উদ্দীপনা সভার প্রচার বৃদ্ধির জন্যে যে প্যাম্ফলেট ছাপানো হয়েছে, সেখানে মূল শিরোনামের নিচে আপনারা ছোট ছোট অক্ষরে লেখা একটা উপশিরোনাম দেখতে পাবেন, “অনন্তকালীন ঝর্না যা আপনার তৃষ্ণা চিরকালের জন্য নিবারণ করবে।” এটা এইজন্য লেখা হয়েছে যে, যখন আপনি পূণর্জন্ম লাভ করবেন, আপনি আর কখনোই পিপাসিত হবেন না।
তাহলে, এখন, এই কথাটির প্রকৃত অর্থ কি? এর অর্থ হল-যখন আমরা জল ও আত্মার সুসমাচার খুঁজে পাই, এর সম্পর্কে জানতে পারি এবং এতে বিশ্বাস করি, তখন আমাদের আত্মার আত্মিক তৃষ্ণা মিটে যায়। এটা একটা তর্কাতীত বিষয় যে, এই পৃথিবীতে থাকাকালীন মানুষের জীবনে শুধু জাগতিক খাদ্যের প্রয়োজন নেই, কিন্তু আত্মিক খাদ্যেরও প্রয়োজন আছে। যখন একজন ব্যক্তি জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, তখন সে তার হৃদয়ে এই আত্মিক খাদ্য লাভ করতে পারে। পশুদের নেই, কিন্তু মানুষের আত্মিক বাসনা রয়েছে। তাই যখন এই আত্মিক বাসনাগুলো পূর্ণতা পায় না, তখন মানুষের মধ্যে এর জন্য পিপাসা তৈরী হয়। এই অবস্থাকে আমরা ‘আত্মার উপোস (খাদ্যসংকট)’ বলি। আত্মাকে এই উপোসের কষ্ট থেকে মুক্ত করার জন্য একজন মানুষকে অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্য লাভ করতে হবে যা হল আত্মিক খাদ্য। 
তাহলে, মানুষের আত্মার খাদ্য কি? এটা হল জল ও আত্মার সুসমাচারের বাক্য। পূণর্জন্ম প্রাপ্তরা সব সময় জল ও আত্মার সুসমাচারের বাক্য লাভ করে, যা তাদের হৃদয়ে আত্মিক খাদ্য তৈরী করে। আর তাই তারা যারা আত্মিকভাবে তৃষিত, তাদের তৃষ্ণা মিটাতে পারে। প্রভু যোহন ৪:১৪ পদে বলেছেন, “যে কেহ এই জল পান করে, তাহার আবার পিপাসা হইবে; কিন্তু আমি যে জল দিব, তাহা যে কেহ পান করে, তাহার পিপাসা আর কখনও হইবে না; বরং আমি তাহাকে যে জল দিব, তাহা তাহার অন্তরে এমন জলের উনুই হইবে, যাহা অনন্ত জীবন পর্যন্ত উথলিয়া উঠিবে।” এখানের কিছু মানুষ ইতোমধ্যেই তাদের হৃদয়ে এই বাক্যের পূর্ণতা লাভ করেছে, কিন্তু এখানের কিছু মানুষ তা লাভ করেনি, ফলে, তারা এখনো তৃষিত। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, প্রভু জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে আমাদের অন্বেষণে এসেছিলেন, আর তিনি আমাদেরকে পাপের ক্ষমা দান করেছেন। এখন, আমরা যারা পাপের ক্ষমা লাভ করেছি, তিনি আমাদের সাথে এখনো আছে পবিত্র আত্মার রূপ ধারণ করে। আর তিনিই জলের উনুই হয়েছেন, যা অনন্তজীবন পর্যন্ত উথলে উঠে। তাহলে, আমি যে বলছি- প্রভু আমাদের সঙ্গে আছে পবিত্র আত্মার রূপ ধারণ করে- এই কথাটির অর্থ কি? এর অর্থ হল- যদি আমরা বিশ্বাসে ঈশ্বরের বাক্য ভোজন করি, তাহলে এই বাক্য আমাদের আত্মার তৃষ্ণা নিবারণ করবে। বাক্যই হল উনুই, যা আত্মার তৃষ্ণা নিবারণ করে। এমনকি ঠিক এই মুহূর্তেও, আমরা যারা পাপের ক্ষমা লাভ করেছি, আমাদের হৃদয়ে এই উনুই এখনো উথলে উঠছে। অধিকন্তু, পবিত্র আত্মার যে উনুই আমাদের মধ্যে আছে, তা কখনোই শুকিয়ে যায় না। আমরা যেদিন পূণর্জন্ম লাভ করেছিলাম, সেদিন যতই পুরনো হোক না কেন, এবং আমরা যত বিরূপ পরিস্থিতিরই সম্মুখীন হই না কেন, আমাদের পবিত্র আত্মার এই উনুই কখনোই শুকিয়ে যাবে না। এর থেকে আমরা যাত জলই তুলি না কেন, এর তলা পর্যন্ত কখনোই পৌঁছতে পারব না। আমরা যখনই ভাবি যে, এখনই মনে হয় তলা দেখা যাবে, তখনই এটা উথলাতে শুরু করে। 
 
 
অনন্তকালীন বুদ্বুদ তৈরী করা উনুই মূলত সাধারণ উনুই থেকে ভিন্নধর্মী
 
সাধারণ উনুই এক সময় শুকিয়ে যায়, কিন্তু অনন্তকালীন বুদ্বুদ তৈরী করা উনুই কখনোই শুকায় না, কারণ এর অনন্তকাল পানি সরবরাহ করার মত একটা উৎস রয়েছে। যেহেতু, এর পানি সরবরাহের এরকম একটা উৎস রয়েছে, তাই এটা অনবরত উথলে উঠে এবং বুদ্বুদ তৈরী করে। যখন আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পূণর্জন্ম লাভ করি, তখন আমাদের হৃদয়ে অনন্তকাল উথলে উঠে এমন উনুই দেখা দেয়। তাই, এই জল আমাদের হৃদয়ে উথলে উঠতেই থাকে, সাথে পাপ ক্ষমার বাক্যও উথলাতে থাকে। যতবার আমরা ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ করি, এই আত্মিক উনুই উথলাতে শুরু করে। যেহেতু প্রভু নিজেই এই পানির উৎস, তাই তিনি আমাদেরকে অনন্তকালীন জল দিবেন। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, প্রভু বলেছেন যে, তাঁর দেওয়ার মত জল আছে। তিনি আমাদেরকে জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে এই জল দিতে চান। আমরা যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা আমাদের পাপ হতে ধৌত হয়েছি এবং পূণর্জন্ম লাভ করেছি, আমরা অনন্তকালীন তৃষ্ণা নিবারণকারী জল পান করেছি। এইজন্য, আমরা আর কখনোই তৃষিত হব না। এটা সম্ভব কারণ পূণর্জন্ম লাভের বিষয়টি অদ্ভূত রহস্যময় এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভের বিষয়টিও অদ্ভূদ রহস্যময়, যা জল ও আত্মার সুসমাচারের মধ্যে গুপ্ত রয়েছে। আপনারা কি এখন দেখতে পাচ্ছেন, জল ও আত্মার সুসমাচার আমাদের জন্য কি অদ্ভূত আশীর্বাদ? আপনার কি জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস আছে? নাকি আপনি মনে করেন যে, আপনি বিশ্বাসের একটি ধার্মিক জীবন যাপন করেছেন বলে পূণর্জন্ম লাভ করেছেন? যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি প্রভুর সাক্ষাৎ লাভ করছেন যিনি জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে এসেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি কখনোই প্রকৃতরূপে পূণর্জন্ম লাভ করতে পারবেন না। এটাই সত্য, আর এটাই ঈশ্বরের অলৌকিক প্রেম। 
একবার জন্মগ্রহণ করলে মানুষকে মৃত্যুবরণ করতেই হবে। তাহলে, মানুষ কিভাবে তাদের সমস্ত পাপ হতে ধৌত হতে পারে এবং পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে? এই পৃথিবীতে যত মানুষ জন্মগ্রহণ করেছে, তাদেরকে কোন না কোন সময় মৃত্যুবরণ করতেই হবে, আর একবার মৃত্যু বরণ করলে তাদের এই জাগতিক জীবনের অবসান ঘটে, তাহলে একজন মানুষ কিভাবে জল ও আত্মার সুসমাচারের বিশ্বাসের দ্বারা পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে? মানুষের চিন্তা এটাকে অসম্ভবপর করে তুলেছে। যাইহোক, প্রভু জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে আমাদেরকে আমাদের পাপের ক্ষমা দান করেছেন। আর তিনি এই স্বর্গীয় সুসমাচারের মাধ্যমেই আমাদেরকে পূণর্জন্মের আশীর্বাদ দান করেছেন। এটা প্রভুর অদ্ভুত আশীর্বাদ। এই আশীর্বাদ প্রভু তাদেরকে দান করেছেন- যারা ঈশ্বরের আশীর্বাদের জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পরিত্রাণ লাভ করেছে। পূণর্জন্ম হল ঈশ্বরের বিশেষ প্রেম এবং পাপক্ষমার উপহার। এই সমস্ত আশীর্বাদ এবং পাপ ক্ষমার অনুগ্রহ ঈশ্বর প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমাচারে পাওয়া যায়। 
প্রত্যেকেই পাপ করেছে এবং ঈশ্বরবিহীন হয়েছে, আর তাই প্রত্যেককে অবশ্যই বিনষ্ট হতে হবে। আমরাও এই নিয়মের বাইরে ছিলাম না, কিন্তু যেহেতু আমরা ঈশ্বর-দত্ত পাপ ক্ষমার বাক্য শ্রবণ করেছি এবং এতে বিশ্বাস করেছি, তাই আমরা এই নতুন জীবন লাভ করেছি। যেহেতু ঈশ্বরের এই আশীর্বাদ জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা এসেছে, তাই শুধুমাত্র যারা এই সুসমাচারে বিশ্বাস করে, তারাই পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে। আর আমরা আমাদের জীবনে আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারব যে, আমরা যে জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে ঈশ্বর হতে নতুন জীবন লাভ করেছি- এটা কি মহৎ আশীর্বাদ। 
প্রভু আমাদেরকে বলেছেন, “‘অহো, তৃষিত লোক সকল, আমার কাছে আইস; বিনামূল্যে পান কর।” বস্তুত, প্রভু আমাদেরকে তাঁর অনন্তকালীন জল দিয়েছেন। আমরা আমাদের জীবনে এই অদ্ভূত আশীর্বাদ লাভ করেছি, সকল প্রশংসা প্রভুর। আমাদের আত্মা, যা আগে অনবরত তৃষিত হতো, এখন জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে নতুন জীবন লাভ করেছে, আর এই নতুন জীবনের কখনো পিপাসা পাবে না। এই উদ্দীপনা সভায়, আমি বাক্য থেকে বলব যে, কিভাবে একজন মানুষ পাপ থেকে ধৌত হতে পারে এবং প্রকৃতরূপে পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে। প্রভু আমাদেরকে এই অনুগ্রহ দান করেছেন বলে আমি খুবই কৃতজ্ঞ। আমি এই সময়ে প্রভুকে আরো একবার ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না। ধন্যবাদ প্রভু। 
 
 
যারা আত্মিক শমরীয় হয়েছে
 
আজকের শাস্ত্রাংশটিতে আমরা দেখি, প্রভু গালীলে যাচ্ছেন। যাওয়ার পথে তিনি একটি শহরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে শহরটি শমরিয়ার মধ্যে ছিল। শমরিয়ার ইতিহাস বর্ণনা করার জন্য আমি একটু সময় নিব। ঐ সময়ে শমরিয়া ছিল ইস্রায়েলের উত্তরাঞ্চলের রাজ্য। যখন ইস্রায়েলের উত্তরাঞ্চলের এই রাজ্যটি দূর্নীতিগ্রস্থ এবং আত্মিক অধঃপতনে পড়ল, তখ সারগন ২, অসরিয়-রাজ শালমনীসির উত্তরাধিকারী এটাকে আক্রমণ করে জিতে নেন। ঐ সময়ে, রাজা সারগন ইস্রায়েলের উত্তরাঞ্চলের রাজ্যটির সকল পুরুষদেরকে নির্বাসিত করলেন এবং তাদেরকে দাস বানালেন। আর এই জায়গাতে তার নিজের লোকদের এনে রাখলেন। ইস্রায়েলে উত্তরের রাজ্যটিতে যে স্ত্রীলোকেরা ছিল, অসরিয়ানরা তাদেরকে তাদের স্ত্রী বানাল। ফলে, নিজেদের পুরুষদের নির্বাসন এবং অন্য লোকেরা এসে বাস করাতে, অন্য জাতিদের সাথে যে বিয়ে হতে লাগল- এর ফলে শমরিয়ার অধিবাসীরা একটা মিশ্র জাতিতে পরিণত হল। অন্য কথায়, পরজাতীয়দের সহিত ইস্রায়েলীয়দের জোরপূর্বক বিয়ে হতে লাগল। এই কারণে যিহুদীরা শমরীয়দেরকে ঘৃণার চোখে দেখত। 
আজকের শাস্ত্রাংশটিতে আমরা দেখি, প্রভু এই শমরিয়াতে একটি স্ত্রীলোকের সাথে কথা বলছেন। প্রভু যখন স্ত্রীলোকটিকে জল চাইলেন, স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, “আপনি যিহুদী হয়ে কি করে আমার কাছে পান করার চাচ্ছেন? আমি তো শমরীয় স্ত্রীলোক।” প্রথমদিকে যেমন বলা হয়েছে, যিহুদীরা শমরীয়দেরকে খুব ঘৃণার চোখে দেখত এবং তাদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করত। যদিও তারা উভয়েই ইস্রায়েল ছিল, কিন্তু যিহুদীরা শমরীয়দের সাথে কিছুই করত না। আমরা সহজেই দেখতে পাচ্ছি, শমরীয়রা ব্যক্তিগত এবং আত্মিক উভয় জায়গায় কেমন অবজ্ঞার শিকার হয়েছিল। তাই, যীশু যখন শমরীয়া স্ত্রীলোকটিকে জল চাইলেন, তখন শমরীয়া স্ত্রীলোকটির জন্য অবাক হওয়া খুব অদ্ভূত বিষয় ছিল না। বিষয়টি হল, যীশু, একজন যিহুদী নিজ উদ্যোগে একজন শমরীয়র সাথে কথা বলছেন, এটা তখনকার দিনে খুবই বিস্ময়কর ব্যাপার ছিল। কিন্তু এই ঘটনাটিতে, আমাদের প্রভু শমরীয় স্ত্রীলোকটির সাথে শুধ কথাই বলেন নাই, কিন্তু তিনি শমরিয়াতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে ছিলেন। শমরিয়াতে যাওয়াতে প্রভুর গভীর প্রেম প্রকাশ পায়। যারা নিজেদের অপরাধ বুঝতে পেরেছিল, প্রভু তাদেরকে তাঁর জীবন্ত জল দিতে চেয়েছিলেন। 
আজকের শাস্ত্রাংশটিতে আমরা দেখতে পাই, প্রভু যিহূদিয়া ত্যাগ করে শমরিয়াতে গেলেন। আসুন আমরা প্রথমে আমাদের প্রভুর বাহ্যিক দৃষ্টিগোচরতা নিয়ে চিন্তা করি। আমাদের প্রভু যোষেফ, নাসরতের একজন কাঠমিস্ত্রীর সন্তান হিসেবে এই পৃথিবীতে খুব নিম্ন মর্যাদা নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেন। তাঁর বাহ্যিক দৃষ্টিগোচরতা ছিল নোংরা, আর তাঁর চেহারা নিয়ে দম্ভ করার মত কিছু ছিল না। হয়তো, এই কারণেই আমরা বাইবেলে যিহুদীদের দ্বারা যীশুকে খুব অবজ্ঞাত হতে দেখি। এই যুগে এটা যেমন সত্য, সেই যুগের জন্যও বিষয়টি একই রকম ছিল, অনেক মানুষ যীশু খ্রীষ্টকে উপেক্ষা করেছিল এবং তাঁর বিপক্ষে গিয়েছিল। এই লোকদের ত্যাগ করে প্রভু শমরিয়ার দিকে গেলেন। শমরিয়ার অধিবাসীদের দম্ভ করার মত কিছুই ছিল না, কিন্তু ছিল শুধু লজ্জা। তাদের অনেক দোষ ছিল, ব্যক্তিগত এবং ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই। 
শমরীয়দের এই সাদাসিধাভাব ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। শলোমন রাজা সম্পর্কে আপনারা সবাই খুব ভাল করেই জানেন। তাঁর একজন ভৃত্য ছিল, যার নাম ছিল যারবিয়াম। শলোমন প্রথমদিকে ঈশ্বরকে বিশ্বস্থভাবে সেবা করেছেন, কিন্তু পরে তিনি আত্মিকভাবে কলুষিত হয়ে পড়েন। আর যখন এমনটা ঘটল, ঈশ্বর শলোমনকে বললেন যে, তিনি ইস্রায়েলের অর্ধেক রাজ্য যারবিয়ামকে দিবেন। আর শলোমনের মৃত্যুর পর, যারবিয়াম ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা অনুসারে ইস্রায়েলের উত্তর দিকের রাজ্যের রাজা হলেন। যাইহোক, ইস্রায়েলের উত্তর দিকের রাজ্যের সিংহাসন লাভের পর যারবিয়াম খুব উদ্বিগ্ন হলেন। সামান্য একজন ভৃত্য থেকে, তিনি একদিনেই রাজা হলেন। আর তাই, তিনি এই রাজ্য ধরে রাখতে পারবেন না বলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। তাই, তার রাজকীয় ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তিনি সেই অঞ্চলের কোথাও একটা জায়গায় একটা মন্দির প্রতিষ্ঠা করলেন। যিরূশালেম ইতোমধ্যেই একটা প্রতিষ্ঠিত মন্দির ছিল। কিন্তু যেহেতু সেটা যিহূদার দক্ষিণ দিকের রাজ্যের মধ্যে ছিল, তাই যারবিয়াম নিজের এলাকার মধ্যে আর একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করল। 
সমস্যা আরো জটিল হয়ে পড়ল। তিনি ইস্রায়েলের প্রায়শ্চিত্ত দিন পরিবর্তন করলেন। প্রায়শ্চিত্ত দিন পালনের দিন ছিল সপ্তম মাসের দশম দিন, কিন্তু তিনি এই দিন ঠিক করলেন অষ্টম মাসের পঞ্চদশ দিন, আর তার প্রজাদেরকে নতুন দিনে প্রায়শ্চিত্ত উৎসব পালন করতে জোর করলেন। শুধু তাই নয়, তিনি প্রতিমা নির্মাণ করলেন, এবং সেগুলোকে ঈশ্বরের মন্দিরের মধ্যে রাখলেন সেগুলোর আরাধনা করার জন্য। তিনি সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করলেন। 
খ্রিষ্টধর্মে, সত্যিকারের খারাপ লোকদের বিষয়ে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, তারা যারবিয়ামের পথে পতিত হয়েছে অথবা তার পাপ অনুসরণ করছে। যারবিয়ামের পাপ এতটাই গুরুতর ছিল। শমরীয়দেরকে যারবিয়ামের বংশধর বলা হয়ে থাকে যারা তার ভ্রষ্ট বিশ্বাসের উত্তরাধিকারী ছিল। তাই, বিশ্বাস নিয়ে শমরীয়দের গর্ব করার মত কিছুই ছিল না।
আসুন আমরা এখানে একটু থেমে এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করি। মানুষের পক্ষে নিজেকে প্রকৃতরূপে জানাটা খুবই কঠিন। মানুষ নিজেকে জানে না বলেই একটা বিখ্যাত উক্তি আছে, “নিজেকে জান।” আসলেই আমরা কারা- আমাদের পক্ষে এটা জানাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আমরা নিজেদেরকে “উত্তম” খ্রীষ্টান দাবী করে বলি, “ঐ মানুষটি অনেক পাপ করেছে, তাই অবশ্যই নরকে যাবে। কিন্তু আমি ঐ মানুষ থেকে আলাদা।” কিন্তু মানুষ এটা বলে কারণ তারা নিজেদেরকে খুব ভাল করে জানে না। একবার যখন ঈশ্বরের বাক্যে তাদের বিশ্বাস গাঢ় হয়ে যায়, তখন তারা নিজেদেরকে প্রকৃতরূপে চিনতে পারে। তখন তারা উপলব্ধি করতে পারে যে, যে লোকদের বিষয়ে তারা সমালোচনা করছিল, তাদের থেকে নিজেরা ভিন্ন নয়। 
আমাদের সকলকে বুঝতে হবে যে, আমাদের কত অযোগ্যতা রয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তেও আমাদের প্রভু শমরীয়দেরকে খুঁজছেন। তিনি এই পৃথিবীতে তাদের কাছে এসেছেন যারা শমরীয়দের মতো উপলব্ধি করেছে এবং জানে যে তারা খুব নগণ্য এবং অযোগ্যতায়পূর্ণ। এই বিষয়টি আজকের শাস্ত্রাংশটিতে দেখানো হয়েছে- আমাদের প্রভু শমরিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেন, একজন স্ত্রীলোকের দেখা পেলেন এবং তাকে উদ্ধার করলেন। 
শমরিয়াতে যদি গর্ব করার মতো একটা জিনিসও থাকত যা যিহূদীরা উপহাস করত, তা হল যাকোবের কূপ। বাইবেল বলে যে, যাকোবের পিতৃপুরুষ অব্রাহাম যেখানেই গেছেন, সেখানেই কূপ খনন করেছেন। এমনকি আজকেও, মধ্যপ্রাচ্যে কূপ-খনন একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা। যেহেতু সেই অঞ্চলে মরুভূমির আধিপত্য, তাই সেখানে পানি তেলের চেয়েও দামী। এইজন্য, কূপ-খনন করে সেখানে পানি পেতে হয়। 
অবশ্যই, আজকের শাস্ত্রাংশের এই কূপটি শুধুমাত্র সত্যিকারের পানির উৎস হিসেবে আক্ষরিক অর্থ বহন করছে না। আত্মিকভাবে বললে, যাকোবের কূপ হল ঈশ্বরের মন্ডলী গঠণের প্রতীক। অন্যকথায়, যাকোবের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম যেখানেই গেছেন সেখানেই কূপ খনন করেছেন, এর অর্থ হল- তিনি যেখানেই গেছেন, সেখানেই মন্ডলী গঠন করেছেন। আর আমরা সকলেই খুব ভালভাবেই জানি যে, অব্রাহামের নাতী যাকোব নিজের যোগ্যতায় আশীর্বাদ লাভ করে নাই। কিন্তু, তিনি তাঁর মা রিবিকার সাহায্যে ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন। সহজ করে বললে, যাকোব একজন খুব চতুর ব্যক্তি ছিলেন, যিনি শমরীয়দের মতো নিজের চেষ্টায় ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করেন নাই। কিন্তু তিনি তাঁর মায়ের সাহায্যে ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। আত্মিকভাবে বললে, এখানে তাঁর মা মন্ডলীর প্রতীক। 
আসুন আমরা আজকের শাস্ত্রাংশে ফিরে যাই। এখানে লেখা আছে যে, একজন শমরীয় স্ত্রীলোক যাকোবের কূপে আসল পানি তোলার জন্য। আসুন আমরা চিন্তা করি এর অর্থ কি। শমরীয়রা এই কূপটি পেয়েছিল তাদের বিশ্বাসের আদিপিতার উত্তরাধিকারসূত্রে। যাইহোক, তারা শুধুমাত্র কূপটিই পেয়েছিল, কিন্তু তারা যাকোবের বিশ্বাস লাভ করতে পারে নাই। যদিও শমরীয়দের নগরে যাকোবের কূপ ছিল, কিন্তু তারা আত্মিকভাবে পতিত হয়েছিল, আর তাই তারা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রকৃত বিশ্বাস লাভ না করে একটা ভ্রান্ত বিশ্বাস লাভ করেছিল। যাকোবের কূপ থেকে পান করার পানি উত্তোলন করলেও তারা একবারের জন্যও তাদের তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে নাই। শমরীয়রা যাকোবের কূপ থেকেই পানি পেত, কিন্তু তবুও তারা তৃষ্ণার্ত থাকত। যদি তারা যাকোবের কূপের বিষয়ে আত্মিকভাবে জানত, তাহলে তারা পাপের ক্ষমা লাভ করত। উত্তরাধিকারসূত্রে যাকোবের বিশ্বাস না পেয়ে তারা শুধুমাত্র ভ্রান্ত শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রথা লাভ করেছিল।
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, যেকোন চার্চ এই রকম ধর্মীয় আচার-প্রথা লাভ করেছে, তারা শুধুমাত্র অন্ধ বিশ্বাস লাভ করেছে। আমরা এখানে অন্ধ বিশ্বাসের বিষয়ে কথা বলছি, কারণ ইস্রায়েলের মতো হয়ত আর কোন দেশেই ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস এত গভীর ও দৃঢ় নয়। যিহূদীরা খুবই ব্যবস্থা-নির্ভর এবং সঙ্কীর্ণচিত্ত ছিল। বর্তমান সময়ে, যিহূদীদের অন্ধ বিশ্বাস ব্যবস্থা অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। মাঝে-মধ্যে আমরা টেলিভিশনে দেখি যে, ইস্রায়েলী স্ত্রীলোকেরা খুবই আধুনিকভাবে জীবন যাপন করছে। আগের ব্যবস্থা-নির্ভর যিহূদীদের কাছে এটা একদম অকল্পনীয় ছিল। যিহূদীরা তাদের অন্ধ বিশ্বাসকে ভেঙ্গে খন্ডিত খন্ডিত হতে দেখেছে, কিন্তু তারা এখনো যে জিনিসিটি নিয়ে গর্ব করতে পারে, তা হল- তারা এখনো খ্রীষ্টানই আছে। তাদের শুধুমাত্র এই একটি জিনিসই আছে। আমি তাদের বিশ্বাসকে অবজ্ঞা করছি না। বরং, আমি যে বিষয়টি বলতে চাচ্ছি, তা হল- প্রকৃত বিশ্বাসের মূল বিষয়টি তাদের কাছে এখনো অজ্ঞাত, প্রকৃত বিশ্বাস হল- যীশু খ্রীষ্টকে তাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করা। 
বিশ্বাস ও অন্ধবিশ্বাস-এই দুইয়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার জন্য ধর্মতত্ত্বের কিছু প্রাথমিক আলোচনা আবশ্যক। তাই আমি এগুলো আলোচনা করার জন্য কিছু সময় নিব। বর্তমান সময়ে, ধর্মতত্ত্বের দু’টি বৈশ্বিক ভাগ রয়েছে। প্রথমটি হল- রক্ষণশীল ধর্মতত্ত্ব, এবং অন্যটি হল-উদার (বা স্বাধীন) ধর্মতত্ত্ব। উদার ধর্মতত্ত্বকে আবার- জটিল ধর্মতত্ত্ব এবং প্রগতিশীল ধর্মতত্ত্ব- এই দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। নাম দেখেই বোঝা যায়, জটিল ধর্মতত্ত্ব শাস্ত্রকে একটি জটিল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। কোরিয়াতে জটিল ধর্মতত্ত্বের কিছু ধর্মতাত্ত্বিক আছে। যীশু যে জলের উপর দিয়ে হেটেছিলেন- এরা এই বিষয়টি অস্বীকার করে। আর যীশু যে মাত্র পাঁচটি রুটি ও দু’টি মাছ দিয়ে ৫,০০০ লোককে অলৌকিকভাবে আহার দিয়েছিলেন- তারা এই বিষয়টিও অস্বীকার করে। 
যারা প্রগতিশীল ধর্মতত্ত্ব অনুসরণ করে, তারা বিশ্বাসে সমাজ পরিবর্তনের বিষয়ে বলে। তারা বলে, “যারা রাজনীতির কারণে অন্যায়ের শিকার হচ্ছে, তাদেরকে মুক্ত করতে হবে। আমরা অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই রুখে দাঁড়াব এবং স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনব। ইস্রায়েল জাতি যেমন মিশরে তাদের বন্দিদশা থেকে পালিয়ে মুক্ত হয়েছিল, তদ্রুপ আমরা খ্রীষ্টানরাও অবশ্যই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনবো। আমরা যেকোন অত্যাচারী সরকারের বিরুদ্ধে অবশ্যই রুখে দাঁড়াব।” তারা এই সমস্ত মনোগ্রাহী কথাবার্তা বলে। তাদেরকে প্রায়ই প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। এই প্রগতিশীল ধর্মতাত্ত্বিকরা বাইবেলকে এর মত করে বিশ্বাস করে না, কিন্তু তারা নিজেদের প্রগতিশীল মনোভাবের সাথে যায় শুধুমাত্র এরকম কিছু অংশ বাইবেল থেকে গ্রহণ করে। অন্যকথায়, স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে তারা শুধুমাত্র বাক্যের এমন কিছু নির্দিষ্ট লেখা বিশ্বাস করে যা জাগতিক বিষয় নিয়ে কথা বলে। তাই, তাদের বিশ্বাস প্রকৃত বিশ্বাস নয়, কারণ তারা সামাজিক ন্যায় এবং সাম্যতা নিয়ে কথা বলে। 
উদাহরণস্বরূপ, অনেক প্রগতিশীল খ্রীষ্টান দল অনধিকার ভোগ এবং বর্ধমান অসাম্যতার বিষয়ে খুবই কঠোর। তারা এই সমস্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজ পূণর্গঠণের ডাক দেন। তারা ভাবে যে, এটা তাদের দেশের খুব ভাল করবে, আর তারা এটা নিয়ে নিজেরা গর্ব বোধ করে । খ্রীষ্টানরা তাদের দেশকে প্রেম করবে এবং এর জন্য প্রার্থনা করবে, এটা অবশ্যই ঠিক কাজ, এটা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। যাইহোক, যদি তারা তাদের দেশকে সত্যিই প্রেম করে থাকে, তাহলে তাদের অবশ্যই এই বিষযে বলা উচিত যে, কিভাবে প্রত্যেক মানুষ পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে। সমাজের উন্নতি করতে হলে প্রথমে একজন মানুষের নিজের উন্নতি করতে হবে; আর যখনই একজন মানুষ তার পাপের ক্ষমা লাভ করবে এবং ঈশ্বরের একজন নিষ্কলঙ্ক মানুষ হবে, শুধুমাত্র তখনই একটা জাতি মুহূর্তেই উন্নত হয়ে যাবে। 
উদার ধর্মতত্ত্বের বিপরীতদিকে আপনি রক্ষণশীল ধর্মতত্ত্ব দেখতে পাবেন, আর আমরা এই ধর্মতত্ত্বই অনুসরণ করি। এই রক্ষণশীল ধর্মতত্ত্ব শুধু ঈশ্বরের বাক্যে ঠিক এর মতো করেই বিশ্বাস করতে বলে। যাইহোক, ঈশ্বরের বাক্যকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করাতে একটা সমস্যার উৎপত্তি হয়েছে। কিছু মানুষের ঈশ্বর কথিত জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস, ব্যবস্থাভিত্তিক বিশ্বাসের সাথে এক হয়ে গেছে। যারা ব্যবস্থার উপর জোর দেয়, তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস না করে তাদের অন্ধ বিশ্বাস নিয়েই থাকে। রক্ষণশীল ধর্মতত্ত্ব প্রকৃতরূপে খারাপ না। এটা ঈশ্বরের বাক্যকে ঠিক এর মতো করেই বিশ্বাস করতে বলে। যাইহোক, এটাকে এখন এমন রূপ দেওয়া হয়েছে, এটা এখন অন্ধবিশ্বাসে বিশ্বাস স্থাপন করতে বলে। 
ঈশ্বরের মন্ডলীর প্রকৃত দায়িত্ব হল- বিশ্বাসীদেরকে সঠিক জীবন যাপনে সাহায্য করা এবং জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে তাদের হৃদয়ের ক্ষত সকল সুস্থ করা। কিন্তু আধুনিক খ্রীষ্টধর্ম এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। আজকের শাস্ত্রাংশের যাকোবের কূপ এবং শমরিয়া ঠিক এই মন্ডলীকেই নির্দেশ করে। যে মন্ডলী জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে না- যা প্রকৃত বিশ্বাস, সেই মন্ডলী যত দৃঢ় বিশ্বাসই করুক না কেন, তারা তাদের সদস্যদের আত্মিক তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে না। কারণ তাদের বিশ্বাস খালি কূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। 
শমরীয়দের যাকোবের কূপ ছিল। কিন্তু সেখানে প্রকৃত খাদ্য ছিল না। একইভাবে, যদিও আমাদের সময়ে এখন অনেক মন্ডলী আছে, কিন্তু তাদের মধ্যে খুব অল্প কিছুরই ঈশ্বরীয় মন্ডলীর মত জল ও আত্মার প্রকৃত সুসমাচার আছে। যিশাইয় ২৮:৯-১০ পদে লেখা আছে, “সে কাহাকে জ্ঞান শিক্ষা দিবে? কাহাকে বার্তা বুঝাইয়া দিবে? কি তাহাদিগকে, যাহারা দুধ ছাড়িয়াছে ও স্তন্যপানে নিবৃত্ত হইয়াছে? কেননা বিধির উপরে বিধি, বিধির উপরে বিধি; পাঁতির উপরে পাঁতি, পাঁতির উপরে পাঁতি; এখানে একটুকু, সেখানে একটুকু।” যেমনটি বাইবেল বলছে, এই রকম ভ্রান্ত মন্ডলীর পাস্টররা এই বই থেকে একটু, ঐ বই থেকে একটু, বাক্য থেকে একটু- এভাবে নিয়ে তাদের উপদেশ তৈরী করে। কিন্তু, বাস্তবিকই কি দরকার, তা তারা দেখে না। তারা প্রকৃত জিনিসটাই এড়িয়ে যায়। জল ও আত্মার সুসমাচারই হল বাক্যের প্রকৃত রূপ। আজকের প্রচারকদের তাদের উপদেশ তৈরী করতে একটা কঠিন সময় পার করতে হয়, কারণ তাদের নিজেদেরই প্রকৃত বিশ্বাস নেই, আর তারা পাপের ক্ষমাও লাভ করে নাই। তাই তারা সব সময় অন্যদের উপদেশ চুরি করে। 
মনে হচ্ছে আমি আসল বিষয় থেকে একটু সরে গেছি। যাইহোক, শমরিয়ার যাকোবের খনন করা একটা কূপ ছিল। কিন্তু সেখানের লোকেরা এই কূপের জল দিয়ে তাদের আত্মিক তৃষ্ণা মিটাতে পারতো না। এর কারণ হল- শমরিয়া ইতোমধ্যেই আত্মিকভাবে অবিশুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। যারবিয়ামের সময় থেকেই তারা ব্যবস্থা অনুসারে এবং যথাযথ বিশ্বাস অনুসারে প্রভুর ভজনা করে নাই। প্রতিমাই তাদের ঈশ্বর হয়েছিল, আর তাদের আত্মিক ধ্বংস সাধিত হয়েছিল। 
 
 
আমরা বাস্তবের দিকে সোজাসুজি দৃষ্টিপাত করব
 
আমরা অবশ্যই, কোন প্রকার সন্দের না করেই জল ও আত্মার সুসমাচারের উপর নির্ভর করব, যা ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যে নিহিত আছে। আমরা অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচারের বিষয়ে জানবো। কিন্তু, এই যুগের খ্রীষ্টানরা ঈশ্বরের বাক্য যথাযথভাবে দেখে না এবং জল ও আত্মার সুসমাচার সম্পর্কেও জানে না। কোরিয়াতে প্রথম যখন খ্রীষ্টধর্মের আগমন হয়, তখন অনেক বিশ্বাসীই ঈশ্বরের বাক্য যথাযথভাবে গ্রহণ করেছিল। প্রকৃত বিশ্বাস থেকেই অনেকের অনুতাপ তৈরী হয়েছিল। যাইহোক, কোরিয়ান খ্রীষ্টানদের এরকম বিশ্বাসও নেই। যখন তাদের কাছে বাক্য প্রচার করা হয়, তারা এতে বিশ্বাস করে না। 
ফলে, দিন দিন তারা আবগপূর্ণ বিশ্বাসের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তারা যখন ঈশ্বরের আরাধনা করে, তখন তারা সব ধরণের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সম্পূর্ণ হৃদয় খুলে দিয়ে গান করে। তখন তারা এমন অনুভব করে যেন, তাদের হৃদয়ের গভীরে আত্মিক কিছু জেগে উঠছে। তাই তারা ভাবে যে, তাদের উচ্চস্বরের এবং আবেগপূর্ণ প্রশংসাতে ঈশ্বর খুশি হচ্ছেন। যাইহোক, এটা মানবীয় চিন্তা-ভাবনা ছাড়া আর কিছুই নয়। নিজেদের চেষ্টায় তাদের যে আবেগ তৈরী হয়, তারা এটা দিয়ে ঈশ্বরকে খুশি করতে চায়। কিন্তু ঈশ্বর তাদের এই প্রংশাতে সন্তুষ্ট হন না। 
শুধু এগুলোই নয়, আজকের দিনে আমরা এমন অনেক মানুষ দেখতে পাই যারা নিজেরাই নিজেদেরকে ভাববাদী বলে দাবি করে। উদাহরণস্বরূপ, এই রকম ভ্র্রান্ত ভাববাদীদের প্রতিনিধিদের একটা সংগঠন আছে, যেটি অক্টোবর ২৮ তারিখে আগমন হবে বলে দাবী করে। কিছুক্ষণ আগে আমি গ্যানওন দৈনিক-এর এক সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করেছিলাম, তাকে খুব অবাক দেখাল যখন আমি তাকে বললাম যে, কোরিয়ান অনেক পাস্টর ‘অক্টোবর ২৮ তারিখে আগমন হবে’- এটাকে সমর্থন করে। কিন্তু এটাই চরম বাস্তবতা। অক্টোবর ২৮ তারিখের ধর্মতত্ত্ব ব্যবহার করে তারা অনেক অনুসারী তৈরী করে, যাদেরকে খুব সহজেই ভোলানো যায়। আপনি হয়তো জানেন না, এই বিষয়গুলো কতটা বিভ্রান্তিকর।  এমনকি ইউরোপেও যখন খ্রীষ্টান ধর্ম প্রসারিত হচ্ছিল, তখন খ্রীষ্টানদের বিশ্বাসের দোলনা দুলছিল, তখন এরকম বিস্ময়কর বিশ্বাসের ছুটাছুটি চলছিল ।
আজকের অনেক মন্ডলী শমরীয়দের মত। তাদের বিশ্বাস একটা ফাঁকা খোলসের চেয়ে একটু বেশি। প্রথমে তারা নীতিগত বিশ্বাস নিয়ে শুরু করল। কিন্তু এই মতবাদের সাথে তাদের বিশ্বাস খাপ খাচ্ছিল না। তাই তারা ধ্যানের দিকে ঝুঁকল, তারা ভাবল যে মন ও ইন্দ্রিয়নিরপেক্ষভাবে ধ্যান করলে ঈশ্বরের সন্ধান পাওয়া যায়, কিন্তু তাদের এই বিশ্বাসও যথেষ্ঠ ছিল না। তাই তারা এখন মানুষের আবেগকে আকর্ষণ করল। আবেগের উপর প্রতিষ্ঠিত যে কোন বিশ্বাস সম্পর্ণরূপে ত্রুটিযুক্ত। 
কিছু দেশে সঙ্গীত পাস্টর থাকেন। এই পাস্টরগণ সঙ্গীত নিয়ে পেশাদারভাবে পড়াশোনা করেছেন এবং তাদের মিনিষ্ট্রি এই সঙ্গীতের মধ্য দিয়েই। কোরিয়াতেও বিগত কিছু বছর ধরে এইরকম সঙ্গীত পাস্টরদের দেখা যাচ্ছে। সঙ্গীতের মাধ্যমে সুসমাচার প্রচারের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই রয়েছে। যাইহোক, যদি এটির ব্যবহার ভুলভাবে হয়, তাহলে এটা শুধুমাত্র মানুষের আবেগকেই জাগিয়ে তুলবে, যা একটি সমস্যা। এটা কিছুই করে না, শুধু উপস্থিত জনতার আবেগকে উসকে দেয়। আপনি যত ভালভাবেই লোকদের অনুভূতিকে ঈশ্বরের প্রতি পরিচালিত করেন না কেন এবং আপনি খ্রীষ্ট তত্ত্ব যত ভালভাবেই শিক্ষা দেন না কেন, এগুলো সবই নিষ্ফল। এই কারণেই, যাদের এই রকম বিশ্বাস আছে- অর্থাৎ যারা এই জল পান করে- তারা আত্মিকভাবে আরো পিপাসিত হতে বাধ্য। মানুষ যদি যতগুলে খ্রীষ্টান ধর্মতত্ত্ব আছে, তার সবগুলোই চুরি করে, শেখে, মনে রাখে এবং বিশ্বাস করে, কিন্তু জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস না করে, তাহলে আত্মিক তৃষ্ণা রয়েই যাবে। আর শুধু আত্মিক তৃষ্ণাই থাকবে না, কিন্তু এই তৃষ্ণা এবং তাদের পাপের কারণে তারা পরিণামে অনন্তকালীন অভিশাপের সম্মুখীন হবে। 
যদিও আজকের অনেক ডিনোমিনেশনের দেওয়া খ্রীষ্টান ধর্মতত্ত্বের শিক্ষা এবং সাক্ষ্য দেখে মনে হয় যে, এগুলো মানুষের মধ্যে বিশ্বাস তৈরী করছে এবং তাদেরকে পুনরায় নিশ্চয়তা দিচ্ছে। যাইহোক, সময়ের পরিক্রমায় দেখা যায়, আত্মিক বাতাস দূষিত হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ আর বেঁচে থাকার জন্য নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। যেহেতু, কোন খ্রীষ্টান মতবাদই সম্পূর্ণ সঠিক নয়, তাই তাদের অনুসারীরা যন্ত্রণা ভোগ করে এবং পরিশেষে বিনষ্ট হয়। 
আবেগের বিশ্বাসও এই রকম। প্রথমে, মানুষ তাদের আবেগের কারণে মনে করে তাদের ভিত্তি খুব ভাল। যাইহোক, একবার যখন তারা তাদের পাপে পতিত হয় এবং এতে আটকে পড়ে, তারা এই জায়গা থেকে আর বেরোতে পারে না। ফলে, শেষে তাদেরকে তাদের এই পাপের জন্য বিনষ্ট হতে হয়। আজকের খ্রীষ্টানরা যখন পাপ করে, তখন শয়তান তাদেরকে দোষারোপ দিতেই থাকে যে তারা পাপ করেছে, আর যেহেতু তারা এই অপরাধবোধ থেকে বেরোতে পারে না, তখন তারা অনিবার্যভাবে মৃত্যুবরণ করে। প্রত্যেকেই পাপ করে। এই পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার একটাই উপায়, তা হল- জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করা। আর কোন উপায় নাই। যদি আপনি জল ও আত্মার এই সুসমাচারে বিশ্বাস না করেন, তাহলে আপনার শরীর ও আত্মা উভয়ই বিনষ্ট হবে। প্রথম দিকে সবকিছু ঠিকই মনে হবে, কিন্তু যতই সামনে এগোবেন ততই শয়তান আপনাকে বশ করে ফেলবে এবং আপনি আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। 
তাই, যারা তাদের পুরাতন ঐতিহ্য নিয়েই পড়ে থাকে, তাদের নিজেদের মতবাদ নিয়েই পড়ে থাকে, এবং শুধু আবেগ নিয়ে পড়ে থাকে- তারা শমরীয় স্ত্রীলোকটির মত। এই রকম খ্রীষ্টান ধর্মতত্ত্ব জল তুলতে আসা শমরীয় এই স্ত্রীলোকটির আত্মিক তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে না। এই জল তার তৃষ্ণা কয়েক ঘন্টার জন্য হয়তো নিবারিত করতে পারে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তার আবার পিপাসা পাবে। বস্তুত, যতক্ষণ না আপনি জল ও আত্মার সুসমাচার বাক্যের মাধ্যমে আপনার পাপের ক্ষমা লাভ না করছেন, ততক্ষণ আপনার আত্মিক পিপাসা মিটবে না। আমাদের প্রভু বলেন, “কিন্তু আমি যে জল দিব, তাহা যে কেহ পান করে, তাহার পিপাসা আর কখনও হইবে না; বরং আমি তাহাকে যে জল দিব, তাহা তাহার অন্তরে এমন জলের উনুই হইবে, যাহা অনন্ত জীবন পর্যন্ত উথলিয়া উঠিবে।” যেমনটি বাইবেল বলছে, যদি আমরা একটু গভীরভাবে জল ও আত্মার সুসমাচার, প্রভুর বাক্য একটিবারের জন্যও শুনি এবং বিশ্বাস করি, তাহলে আমরা পাপের ক্ষমা লাভ করব এবং আর কখনোই পিপাসিত হব না। আর প্রভু বাক্য এবং তাঁর আশীর্বাদ আমাদের মধ্যে প্রবাহিত হতেই থাকবে। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, যদি আপনারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পাপের ক্ষমা লাভ করেন, তাহলে আপনারা জগতের পাপ থেকে অনন্তকালের জন্য মুক্ত হতে পারবেন এবং অনন্তকালীন ধার্মিক হতে পারবেন। প্রভু যা দেন, তাই অনন্তকালস্থায়ী। বিপরীতদিক, মানুষ যা দেয়, তার কিছুই অনন্তকালস্থায়ী নয়। অন্য কথায়, প্রভু যখন জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা দান করছেন, তখন এটা চিরস্থায়ী। অন্যদিকে, মানুষ যা দেয়, সেটা স্বল্পস্থায়ী। উদাহরণস্বরূপ, মনে করেন যে, আপনি একটি উদ্দীপনা সভায় অংশগ্রহণ করলেন এবং আপনার একটি সমস্যার সমাধান পেলেন। কিন্তু এই সমাধান যদি জল ও আত্মার সুসমাচার হতে না হয়ে থাকে, তাহলে সবই বৃথা। জল ও আত্মার সুসমাচার বহির্ভূত যা কিছু, তার সবই শুধুমাত্র শয়তানের আত্মার কাজ, আর এর কোন অর্থই আমাদের জীবনে নেই। 
উদ্দীপনা সভার কিছু বক্তা তাদের উপদেশে বলে থাকেন যে, “আগুন গ্রহণ করুন! আমরা ঈশ্বরের মানুষ হয়ে গেছি!” মানুষজন তখন ক্ষণিকের জন্য বিশ্বাস করে যে, তারা ঈশ্বরের মানুষ হয়েছে। কিন্তু তারা এরকম বিশ্বাস করলেও যতই সময় যাবে, তারা আত্মিক তৃষ্ণায় যন্ত্রণাভোগ করতে বাধ্য। 
আজকের সাম্প্রদায়িক আন্দোলন ক্ষেত্রেও এই একই কথা প্রযোজ্য। বর্তমানে সাম্প্রদায়িক জীবন-যাপন কিছু খ্রীষ্টানদের জন্য ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। এই সাম্প্রদায়িক গতিশীলতার প্রবক্তা বলেন, “আমাদের সকলকে সহ-বিশ্বাসীদের মত মিলেমিশে থাকতে হবে। অন্যান্য কিছু ধর্মীয় গতিশীলতা যেমন করেছে, আসুন আমরাও তেমনি আমাদের নিজস্ব সমাজ গড়ে তুলি। আমরা সবাই একটা সহজ, সুন্দর জীবন কাটাতে পারব। আমাদের এই জীবন অনেকের কাছে দৃষ্টান্তমূলক হবে, এবং এর ফলে অন্যরা যীশুতে বিশ্বাস করবে।” তারা ক্যাথলিকদের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়, কিন্তু ক্যাথলিকদের নিজের জীবনই এই আন্দোলনের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। যদিও অনেক খ্রীষ্টান খুব আগ্রহসহকারে এই জীবনে অংশগ্রহণ করছে, কিন্তু এর একটা শেষও আছে। কারণ এই জীবনের অথবা এর বিশ্বাসের কোনটিরই অনন্তকাল স্থায়ীত্ব নেই। 
অন্য কোথাও আমাদের আত্মিক তৃষ্ণা নিবারণের চেষ্টা করার চেয়ে, আমাদের উচিত হবে শুধু প্রভুর বাক্য শোনা। আমাদের নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করতে হবে, “আমাদের প্রভু আমাদেরকে কি বলেছেন? এই বাক্যের নিগূঢ় অর্থ কি?” প্রভুর বাক্যে অনন্তকালস্থায়ী জীবন আছে, এর মধ্যে আছে সেই কূপ যা কখনো শুকিয়ে যায় না, এর মধ্যে অনন্তকালীন ক্ষমা আছে এবং অনন্তকালীন ধার্মিক হওয়ার উপায় আছে। তথাপি, যারা ঈশ্বরের বাক্য যথাযথভাবে বোঝে না এবং যারা ঈশ্বর প্রদত্ত জল পান করে নাই, তারা এই বাক্যকে নিজেদের বানানো নৈতিক মানদন্ডানুসারে বিচার করে। তারা বলে, “আসুন আমরা বিশ্বাস করি যে, যে কেউ যীশুতে শুধু বিশ্বাস করে, সে উদ্ধারপ্রাপ্ত।” এরপর তারা জোরে জোরে প্রভুর নাম তিন বার উচ্চারণ করে, এবং বিশ্বাস করে যে, তারা ঈশ্বরের মানুষ হয়েছে। 
তাদের এই রকম একটা সাক্ষ্য আছে, “প্রভুই আমার মালিক। আমি বৌদ্ধধর্ম এবং প্রতিমাপূজা ত্যাগ করেছি। শুধু ঈশ্বরই আমার ঈশ্বর। আমি এটাই বিশ্বাস করি!” কিন্তু, আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, যীশুতে বিশ্বাস করা কি বাস্তবিকই এরকম? না, অবশ্যই না। এটা শুধুমাত্র ধর্ম পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই নয়। এই লোকেরা যখন আজকের এই শাস্ত্রাংশটুকু পড়বে, তখন কেমন চিন্তা করবে” তারা চিন্তা করবে, “আমরা এই শমরীয় স্ত্রীলোকটিকে প্রায়ই এই কূপে জল তুলতে যেতে দেখি। তাই আমরাও জল তোলার জন্য এই কূপে যাবো। এই স্ত্রীলোকটি জিল তোলার জন্য কূপে যেত, এটা আর বাক্য শোনার জন্য প্রায়ই গীর্জায় যাওয়া একই ব্যাপার। যেহেতু আমাদের বেঁচে থাকার জন্য বাক্য দরকার, তাই আমরা ঘন ঘন গীর্জায় যাবো। ভোরের প্রার্থনা, সন্ধ্যার প্রার্থনা অথবা উদ্দীপনা সভা- যাই হোক না কেন আমরা গীর্জায় সম্মিলিত হওয়া ত্যাগ করব না।” এভাবে, তারা এই জগতের নৈতিকতা অনুসারে নিজেদের মানবীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাক্যকে ব্যাখ্যা করে। কিন্তু এই বাক্যের অর্থ এত সহজ নয়। 
কোরিয়ায় একটি সংগঠন আছে যার নাম “নৈতিকতা অনুশীলনের খ্রীষ্টান কমিটি।” এই সংগঠনটি খ্রীষ্টানদেরকে ভাল হতে এবং নৈতিক ও ধার্মিক জীবন যাপন করতে উপদেশ দেয়। অগণিত ধর্মতাত্ত্বিক, পাস্টর এবং সাধারণ রোক এতে অংশগ্রহণ করে থাকে। তারা বলে, “প্রত্যেক খ্রীষ্টানের ভাল হওয়া উচিত।” কিন্তু এই কথাটি ভুল। বিষয়টি এমন নয় যে, প্রত্যেক খ্রীষ্টানকে ভাল হতে হবে। কিন্তু এই কথাটি ভুল। বিষয়টি এমন নয় যে, প্রত্যেক খ্রীষ্টানকে ভাল হতে হবে। যদি একজন মানুষ প্রকৃত খ্রীষ্টান হয়, তবে সেই মানুষটি কোন চেষ্টা ছাড়াই মুহূর্তেই ভাল মানুষ হয়ে যাবে। 
মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতির কারণে, তারা ভুল-ভ্রান্তিতে পূর্ণ। নৈতিকতা অনুশীলনের খ্রীষ্টান কমিটি পাপ ক্ষমা লাভ ছাড়া যতই নৈতিক জীবন যাপন করার জন্য খ্রীষ্টানদের আহ্বান জানাক না কেন, সেটা শুধু কপটতাই হবে। কপট ফরীশীদের দেখে যীশু বলেন, “হে কালসর্পের বংশধর, মন ফিরাও!” কোনমতে যীশুতে বিশ্বাস করলেই কেউ ঈশ্বরের সন্তান হতে পারে না। বাইবেল পরিষ্কারভাবে বলে যে, ঈশ্বরের ধার্মিক মানুষ হতে হলে- তাদেরকে অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা লাভ করতে হবে। এর অর্থ হল- আপনার উত্তমতা এবং ভাল কাজ আপনার এই দুর্দশার সমাধান হতে পারে না। পরিত্রাণ লাভের জন্য আপনি নিজে নিজে কিছুই করতে পারবেন না। আজকের শাস্ত্রাংশটিতে, এই শমরীয় স্ত্রীলোকটি প্রথমে যীশুকে চিনতে ব্যর্থ হয়েছিল, যদিও সে প্রতিদিন এই কূপে জল তুলতে আসতো। অন্যকথায়, সে জল ও আত্মার প্রকৃত সুসমাচার চিনতে পারে নাই। তখন যীশু তাকে বললেন, “তুমি যদি জানতে কে তোমাকে জল চাচ্ছে, তবে তাঁরই কাছে তুমি জীবন জল চাইতে।”
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, বর্তমানে অগণিত চার্চ জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার না করে শুধু নিষ্ফল খ্রীষ্টান ধর্মতত্ত্ব প্রচার করে তাদের সদস্যদেরকে প্রতারিত করছে। তারা ঢালাওভাবে বলে যায় যে, যদি লোকেরা শুধু যীশুকে তাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করে, তাহলে তারা ঈশ্বরের লোক হবে এবং পূণর্জন্ম লাভ করবে। তারা বলে যে, আপনি ঘুমন্ত অবস্থায় অথবা প্রার্থনার সময়ই পূণর্জন্ম লাভ করতে পারেন। যাইহোক, যারা এরকম ভ্রান্ত ধর্মতত্ত্বে ও ভ্রান্ত উপায়ে বিশ্বাস করে, আমাদের প্রভু তাদের কাছে আসেন না। যারা নিজেদেরকে গর্হিত পাপী বলে জানে, আমাদের প্রভু তাদের কাছেই আসেন। আজকের শমরীয় স্ত্রীলোকটির মত লোকদের কাছেই আমাদের প্রভু জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে আসেন। 
মানুষের মধ্যে এক সাথে অনেক জিনিসের অস্তিত্ব থাকে- মাংস থেকে শুরু করে হৃদয়, পাপ, পরিত্রাণের ব্যবস্থা, মানবীয় বিবেক বুদ্ধি এবং ঈশ্বরীয় ব্যবস্থা। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও মানুষ প্রকৃতপক্ষে একটা জিনিসই চায়। আর তা হল- বিবেকের স্বাধীনতা। অন্যকথায়, মানুষ চায় তাদের আত্মা প্রকৃতরূপে মুক্ত হোক। খ্রীষ্টান ধর্মতত্ত্ব সম্বন্ধে আপনার যত নিখুঁত জ্ঞানই থাকুক না কেন, আপনি পাপে জড়িয়ে পড়বেনই এবং পাপের দাসে পরিণত হবেন। আর ঈশ্বর বলেন, তিনি এই লোকদের কাছে আসবেন যারা পাপে পতিত হয়েছে এবং তাদের আত্মার মুক্তির জন্য ক্রন্দন করছে। 
প্রথম মানব আদম যেমন ডুমুর পাতায় নিজেকে ঢেকেছিল, তেমন করে যারা নিজেদের পাপ ঢাকে, প্রভু তাদের কাছে আসেন না। অন্যভাবে বললে, যারা নিজেদেরকে বিভিন্ন খ্রীষ্টান ধর্মতত্ত্ব দিয়ে আবৃত করে রাখে, প্রভু তাদের কাছে আসেন না। যদি প্রভুর আসেনও, তিনি এই বলে চলে যাবেন যে, “তুমি খুব ধার্মিক।” আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, আপনারা অবশ্যই এই নিষ্ফল ধর্মতত্ত্ব ছুড়ে ফেলে দিবেন। আর আপনাদেরকে ঈশ্বরের সাক্ষাতে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, আপনি বাস্তবে কে। আপনার আত্মায় যে সমস্ত পাপ আছে, আপনাকে এই সমস্ত পাপের প্রতি সরাসরি দৃষ্টিপাত করতে হবে, ঈশ্বরের সাক্ষাতে এই পাপের সমস্যা আনতে হবে, এবং তাঁর সাহায্য চাইতে হবে। তাহলে, ঈশ্বর আপনার কাছে আসবেন এবং আপনার সমস্যার সমাধান করবেন। 
বিপরীতদিকে, পাপ করার পরে আপনি যদি নিজেকে আদম ও হবার মতো ডুমুর পাতায় আবৃত করেন, আর নিজেকে লুকিয়ে রাখেন, তাহলে প্রভু আপনাকে খুঁজতে আসলেও আপনি তাঁর দেখা পাবেন না। এটা হল এমন ব্যাপার- প্রভু আপনাকে নতুন বস্ত্রে জড়াতে চাচ্ছেন, আর আপনি তা প্রত্যাখ্যান করে বলছেন যে, “আমি এই কাপড় পছন্দ করি না। আমার নিজের ধর্মতত্ত্বের কাপড়ই পছন্দ।” তাহলে আপনি ঈশ্বর প্রদত্ত পাপ ক্ষমার বাক্য প্রত্যাখ্যান করবেন। বাহ্যিকভাবে ধর্মতত্ত্বগুলো নিখুঁত দেখায়, চকচক করে এবং চোখের দেখায় সুখকর। বৃষ্টি আসলেও এগুলো ভেজে না এবং বৃষ্টি পড়লেও এগুলো পচে না। কিন্তু দেখতে নিখুঁত এই ধর্মতত্ত্বগুলোর মধ্যে একটা মারাত্মক ত্রুটি আছেঃ এগুলো ঈশ্বরের বাক্যকে আসতে বাধা দেয়।
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, আপনারা যদি ধর্মতত্ত্বের বস্ত্র পরিধান করে থাকেন, তাহলে আপনাদের এটা খুলে ফেলতেই হবে। আপনি ধর্মতত্ত্বে যতই অভিজ্ঞ হন না কেন, যদি আপনার হৃদয়ে পাপ থাকে, তাহলে আপনি একজন পাপী। আপনার যতই বাইবেলের জ্ঞান থাকুক না কেন, যদি আপনি এখনো যথাযথভাবে প্রভুর সাক্ষাত না লাভ করে থাকেন এবং আপনার হৃদয়ে এখনো পাপ থাকে, তাহলে আপনি একজন পাপী। এজন্য, এখন আপনাকে আপনার হৃদয় অবশ্যই খুলতে হবে, আপনার পাপের সমস্যা প্রকাশ করতে হবে এবং শুধুমাত্র প্রভুর বাক্যে নির্ভর করে আপনার পাপের সমস্যা সমাধান করতে হবে। শুধুমাত্র তাহলেই আপনি পাপের ক্ষমা লাভ করতে পারেন।  
 
 
প্রভু তাদের কাছে আসেন যারা পাপে কষ্ট পাচ্ছে এবং পূণর্জন্ম লাভের জন্য আর্তনাদ করছে
 
এর অর্থ কি? এর অর্থ হল এই যে, আমাদের প্রভু তাদের কাছেই আসেন যারা অনন্তকালীন জল পাওয়ার জন্য গভীরভাবে আর্তনাদ করে, যাতে তারা আর তৃষ্ণার্ত না হয়। আর এর অর্থ হল- প্রভু জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা এরকম লোকদের পাপের সমস্যার সমাধান করেন এবং তাদেরকে পরিত্রাণ দান করেন। 
আসুন আমরা আজকের শাস্ত্রাংশে ফিরে আসি। যখন শমরীয় স্ত্রীলোকটি জল তোলার জন্য কূপের কাছে আসল, যীশু তাকে জল চাইলেন। এই স্ত্রীলোকটির মতো সমস্ত শমরীয়দেরই প্রতিদিন জল তুলতে হতো। এর অর্থ কি? উপদেশের প্রথমেই আমি বলেছি যে, শমরিয়ার এই এই কূপটি একটি মন্ডলীকে নির্দেশ করে যার মধ্যে কিছুই নেই, শুধু খালি খোলক। তাই এটা এই বিষয়টি নির্দেশ করে যে, বর্তমানে অনেক খ্রীষ্টানেই তাদের নিজেদের উদ্দীপনায় সমস্ত ধরনের অনুষ্ঠানে এবং সভায় অংশগ্রহণ করছে। অন্যকথায়, যদিও প্রভুর সত্য বাক্য তাদের সামনেই আছে, তারা এটা দেখতে পাচ্ছে না, কারণ তারা নিজেদের নিষ্ফল কাজগুলো করতে খুবই ব্যস্ত। তারা এতই ব্যস্ত যে, তাদের প্রভুর বাক্য যথাযথভাবে শোনার সময়টুকুও নেই। 
আজকের এই শাস্ত্রাংশের শমরীয় স্ত্রীলোকটি সেই সমস্ত লোকদের মধ্যে অন্যতম যারা প্রতিদিন কূপে জল তুলতে আসতো। অন্যদের থেকে সে নৈতিকভাবে অথবা বিশ্বাসে উত্তম ছিল না। তাই, প্রভু যখন তাকে জল চাইলেন, প্রভুকে দেওয়ার মত জল তার কাছে ছিল না। যখন আমরা এই শমরীয় স্ত্রীলোকটির সম্মুখের এই পরিস্থিতির দিকে তাকাই, তখন আমরা বর্তমান খ্রীষ্টধর্মের একটা ধারণা পেয়ে যাই। বর্তমান-দিনে খ্রীষ্টানরা এই শমরীয় স্ত্রীলোকটির মতো তাদের হৃদয়ে পাপের সাথে লড়াই করছে। যদি তারা নিজেদের মন্ডলীর ধর্মতত্ত্ব অথবা ঐতিহ্য নিয়ে পড়ে থাকে, তাহলে তাদের হৃদয়ে পাপের সাথে যে যুদ্ধ হচ্ছে, এটা থেকে তারা মুক্তি পাবে না। এই স্থান থেকে মুক্তি লাভের জন্য তাদের দরকার ব্যতিক্রমী শক্তিশালী সাহসের। 
আজকের খ্রীষ্টানদের প্রতিনিধিত্বকারী শমরীয় স্ত্রীলোকটি কেমন ছিল? সে ছিল সাহসী, সৎ এবং স্পষ্টভাষী। যখন প্রভু তাকে বললেন, “যদি তুমি জানতে কে তোমাকে পান করার জল চাচ্ছে, তাহলে তুমি তাঁরই কাছে জল চাইতে, আর তিনি তোমাকে জীবন্ত জল দিতেন।” সেই স্ত্রীলোকটি কোন ধরণের দ্বিধা না করেই বলল, “প্রভু, আমাকে সেই জল দিন!” তার শরীর তৃষ্ণার্ত ছিল না, কিন্তু তার আত্মা তৃষ্ণার্ত ছিল। এইজন্যই সে প্রভুর বাক্য সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করল এবং তাঁকে জীবন্ত জল চাইল। এইরকম সাহস থাকার কারণে শমরীয় স্ত্রীলোকটি যীশু খ্রীষ্ট থেকে জীবন্ত জল লাভ করল। সে সেখানেই মশীহের সাক্ষাত লাভ করল। আর আমাদের দেখার অপেক্ষা রাখে না যে, এই স্ত্রীলোকটির আত্মা মুক্ত হওয়াতে সে কত খুশিই না হয়েছিল। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগন, এই যুগে আমাদের শমরীয় স্ত্রীলোকটির মত সাহস থাকতে হবে। একবার আমি একজন লোককে বলতে শুনেছিলাম যে, সে যখন একটা “মৌলবাদী” চার্চে বাক্য প্রচার শুনছিল, তখন সে খুব ভীত-সন্ত্রস্ত ছিল। তাই, কপটতায় প্রকৃত সত্য পাওয়া যায়, এটা ভেবে সে কপটতায় আচ্ছন্ন অন্য আরেকটা চার্চে চলে গেল। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয়, এই মানুষটি বলল যে, এই কপটতায় আচ্ছন্ন মন্ডলীতে গিয়ে সে পাপের প্রকৃত ক্ষমা লাভ করেছে। এভাবে, আমি একটি সাক্ষ্য শুনেছিলাম যে, মৌলবাদে প্রকৃত সত্য পাওয়া যায় না, বরং কপটতায় পাওয়া যায়। পবিত্র আত্মার পূণর্জন্ম ও নূতনীকরনের বিষয়ে প্রভু তীত ৩ অধ্যায়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি দলভেদী, তাহাকে দুই একবার চেতনা দিবার পর অগ্রাহ্য কর; জানিও, এইরূপ ব্যক্তি বিগড়াইয়া গিয়াছে, এবং সে পাপ করে, আপনি আপনাকেই দোষী করে।”  এই পদ অনুযায়ী, যারা নিজেদেরকে তারপরও পাপী বলে স্বীকার করে, তারা বাস্তবিকই কপট। এবং যারা বলে যে, ‘তাদের হৃদয়ে পাপ থাকার পরও তারা যীশুতে বিশ্বাস করে নূতন জন্ম লাভ করেছে,’ তারাও কপট। তাই, হয়তোবা এই সমস্ত তথাকথিত “মৌলবাদী” চার্চই ভ্রান্ত।
চলুন আমরা আজকের শাস্ত্রাংশটি আরেকবার পাঠ করি। এখানে যোহন ৪:১১-১২ পদে লেখা আছে, “স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, জল তুলিবার জন্য আপনার কাছে কিছুই নাই, কূপটিও গভীর; তবে সেই জীবন্ত জল কোথা হইতে পাইলেন? আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোব হইতে কি আপনি মহান? তিনিই আমাদিগকে এই কূপ দিয়াছেন, আর ইহার জল তিনি নিজে ও তাঁহার পুত্রগণ পান করিতেন, তাঁহার পশুপালও পান করিত।” এখানে শমরীয় স্ত্রীলোকটি প্রভুর ক্ষমতাকে সন্দেহ করছিল, তাই বলল, “আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোব হইতে কি আপনি মহান? তিনিই এই কূপ খনন করেছেন।” তার দিনের অনেক লোকের মতো, এবং এখনকার দিনের অনেক লোকদের মতো এই শমরীয় স্ত্রীলোকটি যীশুকে তাঁর বাহ্যিক রুপ দেখে প্রশ্ন করছিল। সে যীশুকে জিজ্ঞেস করল, “আমি কি করে আপনার নিকট থেকে জল পেতে পারি, যখন আপনার কাছে জল তোলার মত কিছুই নেই? আর কূপটিও গভীর। আপনি কি সত্যিই আমাকে জীবন্ত জল দিতে পারবেন? আমি যাকে চিনি, আপনি কি তাঁর থেকেও মহান? আপনাকে দেখে তা মনে হয় না। আপনি কি সকল পাস্টরদের থেকে মহান? আপনি কি সকল ডিনোমিনেশন এবং ধর্মতাত্ত্বিকদের থেকেও মহান? আপনি কি যাকোব থেকেও মহান?”
শমরীয় স্ত্রীলোকটি প্রভুকে এরকম প্রশ্ন করেছিল, যা এটা নির্দেশ করে যে, সে উপলব্ধি করতে পারে নাই যে, যীশু ঐতিহ্য বা ধর্মতত্ত্ব থেকে কত মহান। তাহলে সত্য কি? যীশুই হলেন সৃষ্টিকর্তা, যিনি এই বিশ্বব্রহ্মান্ড তৈরী করেছেন। তিনি জীবন্ত ঈশ্বরের পুত্র, সমস্ত কিছুর মালিক এবং রক্ষাপ্রাপ্তদের প্রভু। যীশুই যাকোবকে অনুগ্রদান করেছিলেন। এইজন্য, অকাট্য সত্য এই যে, প্রভু যাকোব থেকেও অনেক মহান ও সম্মানীয়। 
যাইহোক, আজকের দিনেও এমন লোক আছে যারা এই সত্য উপলব্ধি করতে না পেরে আজকের শাস্ত্রাংশের এই শমরীয় স্ত্রীলোকটির মতো বোকার মত প্রশ্ন করে, তারা বলে, “আপনার চার্চ খুব ছোট। এরকম জায়গা থেকে আমি কি লাভ করতে পারি? আমার চার্চের পুরোহিতের চেয়েও আপনার বাহ্যিক উপস্থিতি কম, তাহলে আপনি কিভাবে আমাকে জীবন্ত জল দিতে পারেন আমি আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবো না? আপনি কোন প্রশিক্ষণ কলেজে অংশগ্রহন করেছিলেন? আপনি কত বছর ধর্মতত্ত্ব পড়াশোনা করেছেন?” যারা জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচারকদের এই রকম কথা বলে, তারা এখনো যথেষ্ট তৃষ্ণার্ত নয়। তারা নরকের যন্ত্রণা জানে না। তারা পাপের ব্যাথার যন্ত্রণা জানে না। তারা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছে না যে তারা কিভাবে তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছে, আর তারা যতই জল পান করুক না কেন, তাদের এই তৃষ্ণা কখনোই মিটবে না। এমন এক রোগীর কথা ভাবুন যার অ্যাপেনডিক্স কেবল ফেটে গেছে, সে ডাক্তারকে বলছে, “আপনি কত বছর চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করছেন? আপনার বিশেষজ্ঞতার কোন প্রমাণ রয়েছে? আপনার শল্যবিদের ছুরি কি উন্নত মানের?” যে রোগীর অ্যাপেনডিক্স কেবল ফেটে গেছে, সে এরকম গুরুতর অবস্থায় কিভাবে এমন কথা বলতে পারে? 
সম্প্রতি আমি একটি কমেডি সিনেমা দেখেছি, যার নাম- ফেরারি। সিনেমাটিতে একটি দৃশ্য আছে, যেখানে নায়কের গায়ে গুলি লাগে, আর নায়ক সেই গুলি বের করার জন্য একজন পশুচিকিৎসকের কাছে যায়। কিন্তু সেই পশুচিকিৎসকের ব্যাথানাশক কোন ওষুধ ছিল না। তাই সে নায়ককে কুকুরের একটা হাড়ে কামড় দিতে বলল, যাতে সে বুলেট সরানোর সময় ব্যাথায় চিৎকার না করতে পারে। এভাবে, আপনি যদি গুলির ক্ষততে ব্যাথায় মরে যেতে বসেন, তাহলে আপনার ক্ষতের যত্ন নেওয়া লোকটি একজন পশুচিকিৎসক নাকি একজন কসাই, তাতে আপনার কিছু যায় আসবে না। কে আপনার যত্ন নিচ্ছে তা নিয়ে আপনি চিন্তাই করবেন না। এমতাবস্থায়, আপনি সুশিক্ষিত নার্সবাহিনী আছে এমন ভাল মেডিকেল ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়ার জেদ করবেন না। 
বিশ্বাসের জীবনেও এই একই নীতি প্রযোজ্য। যারা সুসমাচার প্রচার করে এবং তাদের ডিনোমিনেশনের জন্য উপদেশ প্রচার করে- তাদের পড়াশোনার যোগ্যতা কত, এটা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। মানুষ এইসব নিষ্ফল বিষয় নিয়ে জেদ ধরে, কারণ তারা জানে না তাদের অবস্থা কি ভয়াবহ। তারা যে নরকে যাবে, এটা নিয়ে তারা চিন্তিত নয়। কিন্তু, যদি তারা জানতে পারে যে, অল্প কয়েক বছর পরেই তাদের নরকে নিক্ষেপ করা হবে, তাহলে যে মুহূর্তে তারা এটা উপলব্ধি করবে, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই কি তারা এই নরক এড়ানোর জন্য তাদের যাবতীয় চেষ্টা করবে না? যে রোগীর অবস্থা খুবই শোচনীয়, তার চিকিৎসক সুদক্ষ না হলেও চলে, কারণ সেই মুহূর্তে তার প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুই খুব প্রয়োজনীয়, যা অল্প দক্ষ চিকিৎসকও দিতে পারেন। একইভাবে, সুসমাচার প্রচারের ক্ষেত্রেও পাস্টর খুব উচ্চশিক্ষিত কি না, না কি সে একজন পাদুকা প্রস্তুতকারক, সেটা কোন বিষয়ই না। আপনারা সবাই কি এই বিষয়ে একমত না? যদি লোকেরা জানতে পারে যে, আর অল্প কয়েক বছরের মধ্যে তাদেরকে নরকে নিক্ষেপ করা হবে, তাহলে তারা সবাই এসে এখানে একটা মস্ত ভিড় করবে। এখানে এসে তারা মস্তক নত করবে এবং আমাদেরকে পূণর্জন্মের শিক্ষা দিতে অনুরোধ করবে। আমি নিশ্চিত, আমরা এরকম অনেক লোক দেখতে পাবো।
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, বোকারা জানে না যে, তাদের আত্মা পাপে মরে যাচ্ছে। শুধু এটাই নয়, তারা এমনকি এটাও উপলব্ধি করতে পারে না যে, তাদের কি দরকার। তাই আমাদের পাপের সমস্যার সমাধান প্রাপ্তির জন্য এবং আমাদের পাপের মোচন প্রাপ্তির জন্য আমাদেরকে ঈশ্বরের সামনে নত হতে হবে। পূণর্জন্ম লাভ করার জন্য এবং জীবন্ত জল প্রাপ্তির জন্য যাতে আপনি আর কখনো তৃষ্ণার্ত না হন, এজন্য আপনাকে অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচার সম্পর্কে জানতে হবে এবং এতে বিশ্বাস করতে হবে। যদি আপনি পূণর্জন্ম লাভ করে থাকেন, তাহলে আপনি এখন এবং যখন ঈশ্বরের রাজ্যে যাবেন, তখনও জীবন্ত জল পান করবেন, যাতে আপনি আর কখনো তৃষিত না হন। আপনি জানবে যে, জল ও আত্মার সুসমাচার শুধুমাত্র এই জগতেই কার্যকরী নয়, কিন্তু ঈশ্বরের রাজ্যেও কার্যকরী। 
যখন কেউ আপনার কাছে জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করবে, তখন আপনি কি করবেন? আপনি এই সুসমাচারে বিশ্বাস করবেন এবং এটাকে সম্পূর্ণ হৃদয়ে গ্রহণ করবেন। কিন্তু, এটা করার আগে, আপনাকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, জল ও আত্মার সুসমাচার শুধু খ্রীষ্টধর্মের  একটি ধর্মতত্ত্বই নয়। যখন আপনি কাউকে বাক্য প্রচার করতে দেখবেন, আপনি নিজেকে প্রশ্ন করবেন, “এই ব্যক্তি কি সত্যিই যীশুর একজন শিষ্য? এর ব্যক্তির নিজের মধ্যে কি জল ও আত্মার সুসমাচার আছে? সে কি সত্যিই ঈশ্বরের জীবন্ত বাক্য প্রচার করছে না কি কিছু ব্যর্থ খ্রীষ্টান মতবাদ প্রচার করছে?” আপনাকে এই সমস্ত বিষয় যাচাই করতে পারতেই হবে। এমন লোকদেরকে কিভাবে যাচাই করতে হয়, আপনি যদি তা নিশ্চিত না হন, তাহলে এই লোকদেরকে যাচাই করার একটা উপায় আছে। তা হলো- আপনি যাচাই করে দেখবেন যে, এই লোকেরা যে বাক্য প্রচার করছে তা জল ও আত্মার সুসমাচারের উপরে কথিত ঈশ্বরের বাক্য কি না। যদি তারা মানুষের বাক্য প্রচার করে, তাহলে তারা ঈশ্বরের লোক নয়। কিন্তু যদি তারা জল ও আত্মার সুসমাচারের উপর ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করে, তাহলে তারা ঈশ্বরের লোক। যদি কেউ ঈশ্বরের সত্যিকারের লোক হয় যে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, তাহলে এই লোক প্রভুর বাক্য ও পূণর্জন্ম প্রচার করবে, তার নিজের ডিনোমিনেশন অথবা ধর্মমত নিয়ে দম্ভ করবে না। 
যেরকমটি আমি প্রথমেই বলেছি, আজকের শাস্ত্রাংশের এই শমরীয়রা মিশ্র রক্তের জাতি ছিল। তাই তাদের বিশ্বাস ছিল অশুদ্ধ। এর অর্থ এই নয় যে, যিহূদিরা সঠিক ছিল। যদি যিহূদিরা অনন্তকাল পর্যন্ত উথলিয়া উঠে এমন জলের অধিকারী হতো, তাহলে আমরা তাদের ঐতিহ্য ও ধর্মমত পালন করতাম। কিন্তু তাদের জীবন্ত জল নেই, যা অনন্তকাল উথলে উঠে। যীশু যিহূদিয়া ত্যাগ করে শমরিয়াতে গেছেন। এইজন্য আমরা এই যীশু খ্রীষ্টকেই অনুসরণ করব। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, মানুষ খুবই বোকা এবং অক্ষম। যদিও প্রভু অনন্ত জীবন দেওয়ার জন্য অনেকবার আমাদের কাছে এসেছেন, কিন্তু অনেক মানুষ ডিনোমিনেশনের এবং বিভিন্ন ধর্মমতের বাধায় তাঁকে বাধাগ্রস্থ করেছে। ফলে, তারা তাদের সমগ্র জীবনে মাত্র কয়েকবার আসা এই সুযোগ হারিয়েছে। যদি আপনার মধ্যে পাপ থাকে, তাহলে প্রভুর সামনে আপনার হৃদয় খুলে দেন এবং যীশু খ্রীষ্টকে ও তাঁর বাক্যকে আপনার হৃদয়ে গ্রহণ করুন। বাক্যের সামনে আপনার অক্ষমতাগুলো খোলামেলাভাবে প্রকাশ করুন, আপনার পাপের সমস্যার সমাধান লাভ করুন এবং পূণর্জন্ম ও অনন্ত জীবন লাভ করুন। 
 
 
যারা জীবন্ত জলের জন্য পিপাসিত
 
আজকে এখানে আপনারা যারা বসে আছেন, আপনারা ইতোমধ্যেই জীবন্ত জল পান করেছেন যেন আর কখনো পিপাসিত না হন। কিন্তু, আজকের এই সভা হল তাদের জন্য যারা এই জীবন্ত জল পান করার জন্য ব্যাকুল। অন্যকথায়, এটা শুধু একটা সাধারণ উদ্দীপনা সভা নয়, বরং এটা হল- হারানো আত্মাদের একটা সমাবেশ। যদিও এতদিন আমরা ঈশ্বর-কথিত জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচারের জন্য খুব কঠোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু অনেক মানুষ এই সুসমাচার প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ খ্রীষ্টধর্মের ভ্রান্ত মতবাদ দিয়ে তাদের কান ও হৃদয় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যাইহোক, এই উদ্দীপনা সভার মাধ্যমে আমরা আরো একবার প্রভুর জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করব। আমরা এটা বিরতিহীনভাবে প্রচার করে যাব। প্রভু বলেন, “দেখ, আমি দ্বারে দাঁড়াইয়া আছি ও আঘাত করিতেছি” (প্রকাশিত বাক্য ৩:২০ পদ)। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের প্রভু তাদের সাথে সরাসরি সাক্ষাত করবেন ও নিজেই তাদের হৃদয় দরজায় আঘাত করবেন। কিন্তু তিনি আমাদের মাধ্যমে, যারা আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করি, তাদের মাধমে তাদের সাথে দেখা করবেন। 
যোহন ৪:১৩-১৪ পদে লেখা আছে, “যীশু উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, যে কেহ এই জল পান করে, তাহার আবার পিপাসা হইবে; কিন্তু আমি যে জল দিব, তাহা যে কেহ পান করে, তাহার পিপাসা আর কখনও হইবে না; বরং আমি তাহাকে যে জল দিব, তাহা তাহার অন্তরে এমন জলের উনুই হইবে, যাহা অনন্ত জীবন পর্যন্ত উথলিয়া উঠিবে।’” যারা জল ও আত্মার সুসমাচার অগ্রাহ্য করে এবং এতে বিশ্বাস করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের হৃদয়ে পাপ লেগেই থাকবে এবং তাদের মধ্যে যে অল্পেকটু শান্তি আছে, তাও মুহূর্তেই উধাও হয়ে যাবে। যারা ইতোমধ্যেই প্রভুর বাক্যে প্রতিপালিত হয়েছে এবং অনন্ত জীবন লাভ করেছে, তাদের বিষয়টি কেমন? পবিত্র আত্মা জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে তাদের হৃদয়ে কাজ করেন। আর পবিত্র আত্মা তাদের সেই জীবন্ত জল দেন, যা তাদের হৃদয়ে অনন্তকাল পর্যন্ত উথলে উঠে। এই লোকেরা সেই অবস্থায় পৌঁছে গেছে, যেখানে তাদের তৃষ্ণা অনন্তকালের জন্য মিটে গেছে, এবং তারা আর কখনো পিপাসিত হবে না। এটা শুধুমাত্র তারাই জানে, যারা বিশ্বাসে জল ও আত্মার সুসমাচার পরোখ করে দেখেছে।
আসুন আমরা যোহন ৪:১৫-১৯ পদ দেখি। এখানে লেখা আছে, “স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, সেই জল আমাকে দিউন, যেন আমার পিপাসা না পায়, এবং জল তুলিবার জন্য এতটা পথ হাঁটিয়া আসিতে না হয়। যীশু তাহাকে বলিলেন, যাও, তোমার স্বামীকে এখানে ডাকিয়া লইয়া আইস। স্ত্রীলোকটি উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিল, আমার স্বামী নাই। যীশু তাহাকে বলিলেন, তুমি ভালই বলিয়াছ যে, আমার স্বামী নাই; কেননা তোমার পাঁচটি স্বামী হইয়া গিয়াছে, আর এখন তোমার যে আছে, সে তোমার স্বামী নয়; এই কথা সত্য বলিলে। স্ত্রীলোকটি তাঁহাকে বলিল, মহাশয়, আমি দেখিতেছি যে, আপনি ভাববাদী।’” এখানে আমরা দেখতে পাই, শমরীয় স্ত্রীলোকটি প্রভুর কাছে তার পাপ স্বীকার করছে এবং সৎভাবে তাঁর সাক্ষাতে স্বীকার করছে যে, তার জীবনে কোন তৃপ্তি নেই। যদিও তার পাঁচটি স্বামী হয়ে গিয়েছে, তারা কেউ তাকে সুখ দিতে পারেনি, এবং এখন যার সাথে সে আছে, সেও তার স্বামী নয়। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, যদি আমরা সত্যিকারে পূণর্জন্ম লাভ করতে চাই এবং প্রভুর কাছ থেকে জীবন্ত জল পেতে চাই যাতে আর কখনো পিপাসিত না হই, তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই এই শমরীয় স্ত্রীলোকটির মতো কাজ করতে হবে। অন্যভাবে বললে, আমরা অবশ্যই প্রভুর সাক্ষাতে আমাদের পাপ স্বীকার করব এবং প্রভুর বাক্য, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা এই পাপ থেকে মুক্ত হবো। একই সাথে, আমাদের এটাও উপলব্ধি করতে হবে যে, আমাদের আগের যে ধর্মীয় জীবন ছিল, সেই জীবনে আমাদের কোন সন্তুষ্টি ছিল না। শুধুমাত্র তাহলেই আমরা প্রকৃত সন্তুষ্টি লাভ করব, কারণ প্রভু আমাদের সম্পর্কে সমস্তই জানেন। প্রভুর সন্তান, যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা তাদের পাপের ক্ষমা লাভ করেছে, আর যারা প্রভুর ইচ্ছা পালন করছে, তারাও সমস্ত পাপীদের পাপের সমস্যার সমাধান করতে পারে। 
পূণর্জন্ম সম্পর্কে আরেকটু গভীরভাবে জানতে আসুন আমরা যোহন ৩:৩ পদ পাঠ করি। এখানে লেখা আছে, “সত্য সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, নূতন জন্ম না হইলে কেহ ঈশ্বরের রাজ্য দেখিতে পায় না।” যেরকমটি বাইবেল বলছে, যারা পূণর্জন্ম লাভ না করে, তারা জাগতিক মন্ডলী থেকে ঈশ্বরের মন্ডলী পৃথক করতে পারে না। তারা জানে না যে, তারা পূণর্জন্ম লাভ করেছে কি না, অথবা অন্যরা পূণর্জন্ম লাভ করেছে কি না। যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে না, এটা তাদের সহজাত বৈশিষ্ট্য। এজন্য, তারা পূণর্জন্ম লাভ করে নাই। প্রভু বলেন, এই লোকেরা ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পাবে না। অন্য কথায়, তারা ঈশ্বরের মন্ডলী চিনতে পারে না। এই বাক্যটির অর্থ হলো, “যদি কেউ জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা প্রকৃতরূপে পূণর্জন্ম লাভ করে, তাহলে তারা ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পাবে।” যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পূণর্জন্ম লাভ করেছে, তারা এটা সঠিকভাবে জানে যে, তারা পূণর্জন্ম লাভ করেছে কি না। যেমনটি বাইবেল বলে, পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের সমস্ত আনন্দ জানেন, তাই পূণর্জন্ম লাভের পর যাদের উপরে পবিত্র আত্মা নেমে এসেছেন, তারা ঈশ্বরের মন্ডলী ও তাঁর রাজ্য চিনতে পারে। 
মানুষ মনে করে যে, যীশুকে তাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করা এবং পূণর্জন্ম লাভ করা- দু’টো ভিন্ন বিষয়। সারা পৃথিবীর খ্রীষ্টানদের কাছে এই বিষয়টি সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর। তারা মনে করে যে, যদি তারা যীশুকে তাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করে, তাহলে তারা যেকোনভাবে এক ঘন্টার মধ্যেই পূণর্জন্ম লাভ করবে। যাইহোক, বাইবেল বলে যে, এই দু’টো বিষয় সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন। প্রভু বলেন, “যদি কেউ জল ও আত্মা হতে পূণর্জন্ম লাভ না করে, তাহলে সে ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পাবে না, এবং এতে প্রবেশ করতেও পারবে না।” প্রভুর এই বাক্য যথাযথভাবে বোঝা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
কিছু মানুষ দশ বছর ধরে যীশুতে বিশ্বাস করার পরে জল ও আত্মার সুসমাচার গ্রহণ করে। অন্যরা ৫০ বছর ধরে যীশুতে বিশ্বাস করার পরে জল ও আত্মায় বিশ্বাস দ্বারা পূণর্জন্ম লাভ করে। তবুও, এমন অনেক মানুষ আছে, যারা সারা জীবন প্রভুতে বিশ্বাসের পরও পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে না, কারণ তারা জল ও আত্মার সুসমাচার পায় নাই। পূণর্জন্ম লাভ না করার কারণে, ঠিক মরার আগ মুহূর্তে তারা বলে, “প্রভু, দয়া করে এই পাপীকে ক্ষমা কর।” তাহলে, এই লোকেরা কোথায় যাবে? আমরা এই বিষয়ে কথা না বলি। এটা সত্যিই শোচনীয় ফলাফল। যখন আমরা এই লোকদের দিকে তাকাই, মনে হয় যে, তারা ঈশ্বরের সন্ধানে একটা বিশ্বাসের জীবন যাপন করছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা আত্মিকভাবে একটা শোচনীয় ও অভিশপ্ত জীবন যাপন করছে। এই লোকদের হৃদয়ে ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে কোন নিশ্চয়তা নেই। তারা হয়তো ভাবে, “যদিও ঠিক শেষ মুহূর্তে আমি প্রতিমাপূজা ত্যাগ করেছি এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস করেছি, তিনি নিশ্চয়ই আমাকে ক্ষমা দান করবেন।” 
আপনারা কি জানেন, যীশুর প্রকৃত রূপ কেমন? যখন আমরা প্রকাশিত পুস্তক ২১ অধ্যায় পাঠ করি, আমরা দেখতে পাই, এখানে বাইবেল শেষকালীন বিচারের বিষয়ে বলে। এখানে লেখা আছে, যার যার নাম জীবন পুস্তকে পাওয়া যাবে, তারাই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করবে, কিন্তু যে কারো নাম জীবন পুস্তকে পাওয়া যাবে না, তাদেরকে আগুন ও গন্ধকে প্রজ্বলিত হ্রদে নিক্ষেপ করা হবে। যদি কেউ পূণর্জন্ম লাভ না করে থাকে, তাহলে সে যতই যীশুতে বিশ্বাস করুক না কেন এবং তাঁর নামে যতই ভাববাণী বলুক না কেন, প্রভু তার বিষয়ে কোন ছাড় দিবেন না। যীশুই হলেন প্রকৃত সত্য। সত্য কখনো মিথ্যা দ্বারা ঢাকা যায় না। 
যোহন ৩ অধ্যায়ে, আমরা নীকদীম নামে একজন ফরীশীকে দেখতে পাই। যদিও এই লোকটি যীশুতে বিশ্বাস করেছিল, কিন্তু পূণর্জন্ম লাভ করে নাই। যোহন ৩:৫ পদে আমাদের প্রভু নীকদীমকে বলছেন, “সত্য সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, যদি কেহ জল ও আত্মা হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারিবে না।” যীশু এখানে কি বললেন? একজন মানুষ কি শুধুমাত্র জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারাই প্রকৃতরূপে পূণর্জন্ম লাভ করে? না কি, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস না করে শুধুমাত্র যীশুতে বিশ্বাসের দ্বারাই সে পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে? বাইবেল পরিষ্কারভাবে বলে যে, একজন শুধু জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারাই প্রকৃতরূপে পূণর্জন্ম লাভ করেন। যে জিনিসটি মানুষকে পূণর্জন্ম লাভ করতে সাহায্য করে, তা হল অবশ্যই জল ও আত্মা। অন্যকথায়, একজন শুধুমাত্র তখনই পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে, যদি সে জল ও আত্মার সুসমাচার সম্পর্কে জানে ও এতে বিশ্বাস করে। শাস্ত্র বলে যে, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পূণর্জন্ম লাভ এবং শুধুমাত্র যীশুতে বিশ্বাস- সম্পূর্ণ দু’টো ভিন্ন বিষয়। এখানে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, শুধুমাত্র জল ও আত্মা দ্বারাই পূণর্জন্ম লাভ সম্ভব। যীশুতে বিশ্বাস করার পরে হঠাৎ একদিন আপনি পূণর্জন্ম লাভ করলেন অথবা প্রার্থনার সময় কোন দর্শন দেখে আপনি পূণর্জন্ম লাভ করলেন- বিষয়টি এমন নয়। 
যোহন ৩:৮ পদে যীশু বলেন, “বায়ু যে দিকে ইচ্ছা করে, সেই দিকে বহে, এবং তুমি তাহার শব্দ শুনিতে পাও; কিন্তু কোথা হইতে আইসে, আর কোথায় চলিয়া যায়, তাহা জান না; পবিত্র আত্মা হইতে জাত প্রত্যেক জন সেইরূপ।” এর অর্থ হল- যখন জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসী লোকেরা সত্য কথা বলে, যারা পূণর্জন্ম লাভ করে নাই, তারা এটা বুঝতে পারে না। আমাদের প্রভু আমাদেরকে পূণর্জন্ম লাভের সত্য দেখিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারাই পূণর্জন্ম লাভ করা যায়, কিন্তু তৎসত্ত্বেও, অনেক লোক প্রভুর বাক্য যথাযথভাবে বুঝতে পারছে না। 
 
 
যাদের মধ্যে ঈশ্বরের আত্মা নেই
 
যাদের মধ্যে ঈশ্বরের আত্মা নেই, তারা যত ভালভাবেই ক্রুশ প্রচার করুক না কেন, তাদের শ্রোতারা পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে না। এই শ্রোতাদের পূণর্জন্ম লাভের সম্ভাবনা শূন্য। এইজন্যই আমাদের প্রভু সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন যে, একজন মানুষকে জল ও আত্মা হতেই পূণর্জন্ম লাভ করতে হবে। যাদের মধ্যে নম্র আত্মা আছে, তারা যখন জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসী লোকদের কাছে ঈশ্বরের বাক্যের প্রচার শোনে, অথবা পূণর্জন্ম প্রাপ্ত লোকের লেখা বই পড়ে, তখন তারা যথাযথভাবে বুঝতে পারে। এটা অবশ্যই প্রতারণা নয়। এটা সম্ভব কারণ যারা ইতোমধ্যেই জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেছে, তারা তাদের হৃদয়ে আসা এই সত্য সুসমাচার যথাযথভাবে অন্যদের বোঝাতে পারে। 
প্রেরিতদের যুগ থেকে চলে আসা জল ও আত্মার সুসমাচার পবিত্র আত্মায় আবিষ্ট পূণর্জন্ম প্রাপ্তদের দ্বারাই লেখা ও প্রচারিত হয়েছে। তাই, যাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা নেই, তারা এর গভীর অর্থ কখনোই বুঝতে পারে না। পিতর বলেন, “আর এখন উহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম- তাহাই যীশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা তোমাদিগকে পরিত্রাণ করে” (১ পিতর ৩:২১ পদ)। বাইবেল যে জলের বিষয়ে বলে, তা হল যীশুর বাপ্তিস্ম। অন্যকথায়, জল দ্বারা পূর্ণজন্ম লাভ করতে হবে, এর অর্থ হল- যর্দন নদীতে নেয়া যীশুর বাপ্তিস্মের দ্বারা পূণর্জন্ম লাভ করতে হবে। যীশুর এই বাপ্তিস্মের দ্বারাই প্রত্যেক মানুষকে অবশ্যই তাদের পাপ থেকে ধৌত হতে হবে। তথাপি, অগণিত খ্রীষ্টান যীশুকে তাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করলেও পূণর্জন্ম লাভ করতে ব্যর্থ হয়েছে, এর কারণ হল- তারা বাপ্তিস্মের সত্যকে বোঝতে পারে না, তারা এটাকে শুধুমাত্র একটা ধর্মীয় রীতি বলে মনে করে। তারা শুধু অন্ধভাবে বলে যায় যে, তারা প্রভুতে বিশ্বাস করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, তাদের মধ্যে যীশুর বাপ্তিস্মকে ক্রুশের সাথে যোগ করার জ্ঞানটুকুও নেই। 
প্রভু আমাদের কাছে জল ও আত্মার সুসমাচারের বাক্য বলেছেন। যাইহোক, যতক্ষণ না মানুষ এই বাক্যের উদ্দেশ্য বুঝতে পারছে না, ততক্ষণ তারা কখনোই পূণর্জন্ম লাভ করতে পারবে না। নিছক প্রেম পত্র লেখার ক্ষেত্রেই সত্য কিন্তু এটাই। ধরা যাক, আপনি আপনার স্ত্রীকে বললেন, “গোলাপগুলো প্রস্ফুটিত হচ্ছে এবং পাখিগুলো গান গাচ্ছে।” যদি সে আপনাকে বলে, “অবশ্যই তাই, কারণ এটা বসন্তকাল। এটা কে জানে না?” তাহলে আপনার স্ত্রী জানে না আপনার হৃদয়ে কি আছে। যদি আপনি আপনার স্ত্রীকে বলেন, “আজ রাতে চাঁদ খুব আলো দিচ্ছে,” আর যদি সে বলে, “এটা এতো আলো দিচ্ছে, কারণ এটা জ্যোৎস্না রাত।” তাহলে সে এবারেও আপনার গভীর অনুভূতি উপলব্ধি করতে পারে নাই। চাঁদ অতি উজ্জ্বল এটা বলার কারণ হল- আপনি তাকে বোঝাতে চাচ্ছেন যে, আপনার হৃদয় তার জন্য এই চাঁদের মতো আলো ছড়াচ্ছে। আর, পাখিরা গান গাচ্ছে, এই কথাটি তাকে বলার কারণ হল- আপনি তাকে বোঝাতে চাচ্ছেন যে, পৃথিবী এত সুন্দর, কারণ আপনি তার প্রেমে পড়েছেন। এভাবে, যদি অন্য মানুষটি আপনার উদ্দেশ্য অথবা প্রকৃত অনুভূতি বুঝতে না পারে, তাহলে আপনি কখনোই তার সাথে একটা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন না। এইজন্যই, আমাদেরও ঈশ্বর-কথিত জল ও আত্মার সুসমাচার সম্পর্কে অবশ্যই যথাযথ জ্ঞান থাকতে হবে। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, আমাদের প্রভু আমাদেরকে বলেছেন যে, আমাদেরকে জল ও আত্মা হতে অবশ্যই পূণর্জন্ম লাভ করতে হবে। এখানে জল ও আত্মা “জল ও আত্মার সুসমাচার”-কে নির্দেশ করছে। এইজন্য, যদি আপনি ঈশ্বর-কথিত জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পূণর্জন্ম লাভকে অগ্রাহ্য করেন, তাহলে আপনি যীশুকে পরিহাস করছেন। এই লোকেরা সব সময় কলুষিত থাকে এবং তাদের হৃদয়ে সব সময় পিপাসা থাকে। ফলে, তারা কিছু অস্বাভাবিক দর্শন দেখে, ধ্যান করে, এবং এমন ধর্মীয় দলে প্রবেশ করে যা মানবীয় অনুভূতির উপরে জোর দেয়। যেহেতু সব কিছুরই একটা কারণ এবং ফলাফল থাকে, তাই যেহেতু প্রভু আমাদেরকে জল ও আত্মার সুসমাচার দান করেছেন, তাই যারা এতে বিশ্বাস করবে, তারা তাদের পাপ হতে ধৌত হতে পারবে এবং পূণর্জন্ম লাভ করতে পারবে। তাই, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসী মানুষদের বিশ্বাসের ফল হল পাপের ক্ষমা লাভ এবং ঈশ্বরের সন্তান হওয়া।
আসুন আমরা যোহন ৩:৬-৭ পদ পাঠ করি। আমার ধর্মপদেশের এটাই সারসংক্ষেপ। এখানে লেখা আছে, “মাংস হইতে যাহা জাত, তাহা মাংসই; আর আত্মা হইতে যাহা জাত, তাহা আত্মাই। আমি যে তোমাকে বলিলাম, তোমাদের নূতন জন্ম হওয়া আবশ্যক, ইহাতে আশ্চর্য জ্ঞান করিও না।” আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, যদি কোন মানুষ জগতের অন্যান্য সব ধর্মের মতো শুধুমাত্র যীশুতে বিশ্বাস করে, তাহলে এই মানুষ হলো মাংস থেকে জাত। কিছু মানুষ যীশুকে তাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে এইজন্য বিশ্বাস করে যে, তাদেরকে বলা হয়েছে- যে কোন প্রতিমার থেকে যীশুর ক্ষমতা বেশি। তাই তারা দশ আজ্ঞা এবং প্রভুর প্রার্থনা মনে রাখে, বিশ্বস্থভাবে তাদের দশমাংস দেয় এবং প্রতি ভোরের সভায় ও যেকোন উদ্দীপনা সভায় যোগদান করার জন্য প্রাণপণ করে। এইসব মানুষও মাংস থেকে জাত। জাগতিক একটি ধর্মীয় বিশ্বাস ছাড়া তাদের বিশ্বাস আর কিছুই নয়। প্রভু বলেন, যাহা মাংস থেকে জাত, তা মাংসই; এবং যাহা আত্মা থেকে জাত, তা আত্মাই। 
যখন আমাদের বিশ্বাসের কথা আসে, তখন আমাদেরকে অবশ্যই আত্মা থেকে মাংসকে স্পষ্টভাবে পৃথক করতে হবে। বিশ্বাস হল জল ও আত্মার সুসমাচার, অন্যদিকে মাংস শুধু মাংসিক বিষয়ই উৎপন্ন হয়। পাপ ক্ষমা লাভের পর প্রভু ঈশ্বরকে অনুসরণ করা হল আত্মিক, কিন্তু পাপ ক্ষমা লাভ না করেই যীশুকে বিশ্বাস করা হল মাংসিক বিশ্বাস। যারা হৃদয়ে পাপ থাকার পরও দাবি করে যে, তারা যীশুকে তাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করে, তারা মাংসের, এবং তাদের পূণর্জন্ম হয়নি। যেহেতু তাদের হৃদয়ে পাপ লেগেই আছে, তাই তাদেরকে দন্ডভোগ করতেই হবে। জল ও আত্মাতে বিশ্বাস না করে শুধুমাত্র যীশুতে তারা যতই বিশ্বাস করুক না কেন, তারা পূণর্জন্ম লাভ করতে পারবে না, কারণ যা মাংস হতে জাত, তা মাংসই। তারা এখনো পাপীই। অন্যদিকে যারা ঈশ্বরের কাছে নিজেদেরকে পাপী বলে স্বীকার করে এবং উপলব্ধি করতে পারে যে, তাদের পাপের জন্য তাদেরকে নরকে যেতেই হবে, আর তারা জল ও আত্মার সুসমাচার হতে জাত সত্য পরিত্রাণে বিশ্বাস করে, তারা আত্মা থেকে জাত। অন্যকথায়, যারা জল ও আত্মা থেকে পূণর্জন্ম লাভ করেছে, তারাই আত্মিক মানুষ। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, যারা তাদের পাপ নত-নম্রভাবে ঈশ্বরের সাক্ষাতে স্বীকার করে এবং তাদের পাপের ক্ষমা লাভের জন্য ঈশ্বরের বাক্যের সাক্ষাতে নত হয়, এবং বিশ্বাসে তাদের পাপের ক্ষমা লাভ করতে চেষ্টা করে, তারা ঈশ্বরের খুব কাছের মানুষ। এভাবে, যে নিজেকে ঈশ্বরের বাক্যের সাক্ষাতে প্রকাশ করে, সে জল ও আত্মা থেকে পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে। শুধুমাত্র এইরকম মানুষই জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা প্রকৃতরূপে পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে। 
আমাদের মধ্যে অনেকেই আগে খুব ভাল খ্রীষ্টান থাকলেও আমাদের হৃদয়ে পাপ ছিলই। আমরা যতই যীশুকে সন্তুষ্ট করার জন্য চেষ্টা করতাম না কেন, অথবা তাঁর সাক্ষাতে যা মন্দ, তাই করতাম না কেন, আমাদের মধ্যে পাপ ছিলই। কিন্তু এখন, আমাদেরকে জল ও আত্মার সুসমাচার সম্পর্কে খুব ভাল করে শুনতে হবে। আমাদেরকে প্রভুর জীবন্ত বাক্যের সাক্ষাতে আমাদের হৃদয় খুলে দিতে হবে। প্রভুর এই বাক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাইবেল প্রভুর এই বাক্যকে জীবনের বাক্য বলে ব্যাখ্যা করে।
যদি লোকেরা আত্মার বাক্যে অর্থাৎ জীবন্ত জল ও আত্মার সুসমাচারের বাক্যে বিশ্বাস দ্বারা পূণর্জন্ম লাভ করে, তাহলে তারা তাদের পাপ থেকে অবশ্যই ধৌত হবে। তাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা নেমে আসবেন। আর পবিত্র আত্মা তাদের হৃদয়ে এমন জলের উনুই হবেন, যা পবিত্রদের হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণ করে। এই বিষয়গুলো কিভাবে সম্ভব? এটা নিশ্চিতভাবে সম্ভব, কারণ তাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা রয়েছেন।
আরো বলা যায়, যেহেতু পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়ই জানেন, তাই যারা পাপের ক্ষমা লাভ করেছে এবং পবিত্র আত্মাকে লাভ করেছে, তারা অন্যদের কাছে পরিত্রাণের সত্য প্রচার করতে পারে। আপনি হয়তো চিন্তা করছেন, “আমার হৃদয়ে পাপ নেই, কিন্তু কিভাবে আমি আমার পাপের ক্ষমা লাভ করেছি? এমনকি, আমি কখনো স্বর্গে যাওয়ার কথা চিন্তা করি নাই, কিন্তু আমি কি করে স্বর্গে প্রবেশ করতে পারি?” উত্তরটি খুবই সহজঃ এটা সম্ভব হয়েছে, কারণ আপনি জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেছেন এবং আপনার পাপের ক্ষমা লাভ করেছেন। আর এখন, আপনি এবং আমি যে পাপের ক্ষমা লাভ করেছি, আমরা কখনো হতাশ হবো না, কিন্তু শেষদিন পর্যন্ত জল ও আত্মার এই সুসমাচার প্রচার করে যাবো। 
আমরা যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেছি, আমাদের প্রভু আমাদেরকে পবিত্র আত্মাকে দান করেছেন। আর তিনি আমাদেরকে জীবন্ত জল দিয়েছেন। আর তিনি আমাদেরকে এমন জলের উনুই দিয়েছেন যা অনন্তকাল উথলে উঠে, কারণ তিনি বলেছেন, “যে কেহ এই জল পান করে, তাহার আবার পিপাসা হইবে; কিন্তু আমি যে জল দিব, তাহা যে কেহ পান করে, তাহার পিপাসা আর কখনও হইবে না; বরং আমি তাহাকে যে জল দিব, তাহা তাহার অন্তরে এমন জলের উনুই হইবে, যাহা অনন্ত জীবন পর্যন্ত উথলিয়া উঠিবে।”
আমি আবারো বলতে চাইঃ যারা প্রভুর বাক্যে বিশ্বাস দ্বার তাদের পাপের ক্ষমা লাভ করেছে এবং তাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মাকে লাভ করেছে, তারা ঈশ্বরের বাক্য হতে পূণর্জন্ম প্রাপ্ত এবং তারা সেই জীবন্ত জল পেয়েছে, যা পান করলে তাদের আর কখনোই পিপাসা পাবে না। শুধুমাত্র যারা জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বার পূণর্জন্ম লাভ করেছে, তারাই ঈশ্বরের এই বাক্য প্রচার করতে পারে। অন্যদিকে, যে নিজেই পূণর্জন্ম লাভ করেনি, সে অন্যকে জীবন্ত জল দিতে পারে না। তাই পূণর্জন্ম না পাওয়া প্রচারকের প্রচার যারা শোনে, তাদেরও একই অবস্থা হয়। তারা পূণর্জন্ম লাভ করতে পারে না, তা সে তারা যত মনোযোগ সহকারেই এই রকম পাস্টরদের প্রচার শুনুক না কেন। আমার পূর্ব জীবনে, দশ বছর ধরে অসংখ্য নেতাদের, যারা পূণর্জন্ম লাভ করে নাই, এমন প্রচারকদের অগণিত প্রচার শুনেও পূণর্জন্ম লাভ করতে পারি নাই। এত লম্বা সময় ধরে তাদের উপদেশ শোনার পরও আমি পূণর্জন্ম লাভ করতে পারি নাই। 
আজকের খ্রীষ্টান সমাজে অনেক নেতা আছে, যারা পূণর্জন্ম লাভ করে নাই। যারা পূণর্জন্ম লাভ করতে চায়, তাদের জন্য এই লোকদের প্রচার সম্পর্ণ বৃথা। এর কারণ হল- একজন মানুষ শুধু ঈশ্বরের সত্য বাক্য, জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারাই পূণর্জন্ম লাভ করে। এজন্য আপনি শুধুমাত্র তখনই পূণর্জন্ম লাভ করতে পারবেন, যখন আপনি এমন মানুষের প্রচার শুনবেন যারা ইতোমধ্যেই জল ও আত্মার সুসমাচার বিশ্বাস করেছে। যার অন্তরে পবিত্র আত্মা নাই, এমন লোকের প্রচার আপনি যতই শোনেন না কেন, আপনি কখনোই পূণর্জন্ম লাভ করতে পারবেন না। এটা পরিষ্কারভাবে মনে রাখবেন। 
প্রভু যোহন ৩:৫ পদে স্পষ্টভাবে বলেছেন, “সত্য সত্য, আমি তোমাকে বলিতেছি, যদি কেহ জল ও আত্মা হইতে না জন্মে, তবে সে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারে না।” এটা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের বাক্য। আপনি কি এখনো বিশ্বাস করেন যে, আপনি আপনার নিজস্ব চেষ্টায় পূণর্জন্ম লাভ করতে পারবেন? যদি তাই হতো, তাহলে এই জগতে পূণর্জন্ম প্রাপ্তদের কোন প্রয়োজন পড়তো না, আমাদেরও জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচারের কোন দরকার ছিল না। যদি আপনি মনে করেন যে, যথেষ্ট চেষ্টা করলে আপনি একদিন পূণর্জন্ম লাভ করতে পারবেন, তাহলে আপনার কাউকেই প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু, আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, আমি আরেকবার বলতে চাই যে, আপনি কখনো আপনার চেষ্টাই পূণর্জন্ম লাভ করতে পরবেন না। আপনার নিজের চেষ্টায়, আপনি কখনো জল ও আত্মার সুসমাচার বুঝতে পারবেন না। 
আমি আমার উপদেশ এখানেই শেষ করতে চাই। যারা পূণর্জন্ম লাভ করতে চায়, তাদের জন্য আমার হৃদয়ের দ্বার সব সময়ই খোলা। যদি আপনি ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করতে চান, আমি আপনার সাথে পড়তে আনন্দই লাভ করব; যদি আপনি জল ও আত্মার দ্বারা পূণর্জন্ম লাভ করতে চান, অথবা আপনি সেই জীবন্ত জলের জন্য ব্যাকুল হন, যা আপনার তৃষ্ণা অনন্তকালের জন্য নিবারণ করবে, তাহলে আমি আপনার সাহায্য করার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত। আমি এখন এই সময়ে আপনাকে বলছি, শুধুমাত্র জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারাই আপনি পূণর্জন্ম লাভ করতে পারবেন। শমরীয় স্ত্রীলোকটি যেমন প্রভুর সাক্ষাত লাভের পর পূণর্জন্ম লাভ করেছিল, তেমনি আপনিও যীশুকে, যিনি জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা এসেছেন, তাঁকে আপনার ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করলে পূণর্জন্ম লাভ করবেন।