শিক্ষা

বিষয় ৩: জল ও আত্মার সুসমাচার

[3-12] (২ রাজাবলি ৫:১৫-১৯ পদ) নিজের চিন্তাকে অস্বীকার করুন

(২ রাজাবলি ৫:১৫-১৯ পদ)
 “পরে তিনি আপন সঙ্গী জনগণের সহিত ঈশ্বরের লোকের কাছে ফিরিয়া আসিয়া তাঁহার সম্মুখে দাঁড়াইলেন, আর বলিলেন, দেখুন, আমি এখন জানিতে পারিলাম, সমস্ত পৃথিবীতে আর কোথাও ঈশ্বর নাই, কেবল ইস্রায়েলের মধ্যে আছেন; অতএব বিনয় করি, আপনার এই দাসের নিকট হইতে উহার গ্রহণ করুন। কিন্তু তিনি কহিলেন, আমি যাঁহার সম্মুখে দন্ডায়মান, সেই জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্য, আমি কিছু গ্রহণ করিব না। নামান আগ্রহ করিয়া তাহা গ্রহণ করিতে বলিলেও তিনি অস্বীকার করিলেন। পরে নামান কহিলেন, তাহা যদি না হয়, তবে বিনয় করি, দুইটি অশ্বতরের ভারযোগ্য মৃত্তিকা আপনার এই দাসকে দেওয়া হউক; কেননা অদ্যাবধি আপনার এই দাস সদাপ্রভু ব্যতিরেকে অন্য দেবতার উদ্দেশে হোম কিম্বা বলিদান আর করিবে না। কেবল এই বিষয়ে সদাপ্রভু আপনার দাসকে ক্ষমা করুন; আমার প্রভু প্রণিপাত করিবার জন্য যখন রিম্মোণের মন্দিরে প্রবেশ করেন, এবং আমার হস্তে নির্ভর দেন, তখন যদি আমি রিম্মোণের মন্দিরে প্রণিপাত করি, তবে রিম্মোণের মন্দিরে প্রণিপাত করণ বিষয়ে সদাপ্রভু আপনার দাসকে যেন ক্ষমা করেন। ইলীশায় তাঁহাকে কহিলেন, কুশলে গমন করুন। পরে তিনি তাঁহার সম্মুখ হইতে প্রস্থান করিয়া কিছু দূর গমন করিলেন।” 
 
 
সেনাপতি নামানকে তাঁর নিজস্ব মাংসিক চিন্তা ত্যাগ করতে হয়েছিল
 
আজকে আমি আপনাদের বলব, বিশ্বাসের জীবন যাপন করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই কি জানতে হবে। এখানে, আজকের শাস্ত্রাংশটিতে লেখা আছে যে, সেনাপতি নামান ঈশ্বরের লোক ইলীশায়ের দ্বারা তাঁর কুষ্ঠরোগ থেকে সুস্থ হয়েছিলেন। নামান সিরিয়ার রাজার সেনাপতি ছিলেন এবং যদিও তিনি তাঁর রাজ্যের জন্য অনবদ্য অবদানের জন্য খুবই সম্মানীত ছিলেন, কিন্তু তিনি একজন কুষ্ঠরোগী ছিলেন। সে সময়ে তার কুষ্ঠরোগ এতই খারাপ অবস্থার দিকে গিয়েছিল যে, তিনি একটা সাধারণ বিবাহিত জীবনও ভোগ করতে পারছিলেন না অথবা তাঁর রাজ্যের  যত্নও নিতে পারছিলেন না। ঐ সময়ে তাঁর গৃহে ইস্রায়েলের এক ছোট মেয়ে ছিল, যাকে ইস্রায়েল থেকে বন্দি করে আনা হয়েছিল। এই ইব্রীয় মেয়েটি নামানের স্ত্রীকে বলল যে, যদি তার প্রভু একবার গিয়ে ইস্রায়েলের যে একজন ভাববাদী আছেন, তাঁর সাথে সাক্ষাত করতেন, তাহলে তাঁর কুষ্ঠ নিশ্চিতভাবেই ভাল হয়ে যেত। এই খবর শুনে তিনি ইস্রায়েলে গেলেন একটা শেষ চেষ্টা করার জন্য, সাথে তিনি রীতি অনুসারে ইস্রায়ের রাজার জন্য সিরিয়ার রাজার একটা ব্যক্তিগত চিঠি নিয়ে গেলেন। ইস্রায়েল রাজ নামানকে ঈশ্বরের লোক ইলীশায়ের কাছে পাঠালেন। 
নামান অনেক চিন্তা এবং আশা নিয়ে ইলীশায়ের কাছে গেলেন, তিনি ভাবলেন, “যদি এই লোকটি সতিই ঈশ্বরের একজন লোক হয়, তাহলে তিনি তৎক্ষণাৎ আমার শরীরে হাত দিয়ে প্রার্থনা করবেন এবং আমাকে সুস্থ করবেন। তিনি আমাকে অনেক সম্মান ও আতিথেয়তা দিবেন।” যাইহোক, তাঁর চিন্তার বিপরীতে, ইলীশায় ভাববাদী তাঁর এক দূতের মাধ্যমে নামানকে বলে পাঠালেন, “আপনি গিয়া যর্দন নদীতে সাত বার স্নান করুন।” সেনাপতি নামান এই ব্যবহারে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন এবং দূতের কাছে এই কথা শুনে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হলেন। রাগে এবং হতাশায় উত্তেজিত হয়ে নামান নিজের মনে মনে বলল, “এই ইলীশায় অত্যন্ত শক্তিশালী সৈন্যদলের সেনাপতিকে নিজে বের হয়ে এসে অভ্যর্থনা জানানোর প্রয়োজনও মনে করলেন না! তিনি আমাকে এবং আমার এই গুরুত্বপূর্ণ পদকে অসম্মান করলেন, আর এই দূতকে দিয়ে বলে পাঠালেন যেন আমি যর্দন নদীতে গিয়ে সাত বার স্নান করি। তিনি কি মনে করেন যে, সিরিয়ায় কোন নদী নেই বলে আমি এতটা পথ আসলাম এই ইস্রায়েলের নদীতে স্নান করার জন্যে? এটা কি জঘন্য ব্যবহার! দম্মেশকের অবানা ও পর্পর নদী এই নোংরা যর্দন নদী থেকে একশ গুণ উত্তম। যখন বন্যা থাকে শুধুমাত্র তখনই এই যর্দন নদী একটি সত্যিকারের নদীর মতো বয়ে চলে, অন্য সময় এটি একেবেঁকে চলা ছোট একটি নদী ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি কিভাবে আমাকে যর্দনের এই কর্দমাক্ত পানিতে স্নান করার দুঃসাহস দেখান! তিনি কি মনে করেন আমার স্নান করার জন্য আর কোন নদী নেই? এরকম নোংরা নদীতে স্নান করার কথা আমি চিন্তাই করতে পারি না! এটি কি জঘন্য এবং অসম্মানজনক ব্যবহার! চল, আমরা বাড়ী ফিরে যাই! আমরা সিরিয়ান সৈন্যদল নিয়ে ফিরে আসব এবং এই গোটা দেশকে একেবারে নিশ্চিন্ন করে দিব!”
যাইহোক, নামানের দাসেরা কাছে এসে তাঁকে ইলীশায় ভাববাদীর কথা শোনার জন্য নিবেদন করে বলল, “সেনাপতি নামান, যদি ঈশ্বরের লোক আপনাকে এর চেয়ে কঠিন কোন কাজ করার জন্য আপনাকে বলতেন, আপনি কি সেটি করতেন না? যর্দন নদীতে স্নান করা তো তেমন কঠিন কোন কাজ নয়; ইলীশায় যখন আপনাকে এত সাধারণ একটি কাজ করতে বলছেন, আপনি কি সেটি করবেন না? নিজেকে সুস্থ করার জন্য আপনি কি ইলীশায়ের এর চেয়েও কোন কঠিন আজ্ঞা মানতেন না? তাই, ইলীশায় যেভাবে বলেন, দয়া করে আপনি সেভাবেই করেন। যদি কাজ না হয়, তখন আমরা আমাদের চিন্তা অনুসারে সিদ্ধান্ত নেব যে, আমরা কি আমাদের সৈন্যদল নিয়ে ফিরে এসে ইস্রায়েল আক্রমন করব কি করব না।” তাঁর দাসদের অনুরোধ শুনে নামান নিজের সিদ্ধান্ত পাল্টালেন এবং যর্দন নদীতে গিয়ে সাত বার ডুব দিলেন। ছয় বার ডুব দেওয়া পর্যন্ত তিনি কুষ্ঠরোগেই ভরা ছিলেন। যাইহোক, যখন সাত বারের মত ডুব দিলেন, তাঁর কুষ্ঠরোগ চলে গেল এবং তিনি সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে উঠলেন!
কুষ্ঠরোগে নামানের শরীর পঁচে যাচ্ছিল এবং তাঁর শরীরের চামড়াগুলো খসে খসে পড়ছিল। কিন্তু এখন তিনি সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে গেলেন এবং একটা ছোট বালকের তাঁর নূতন মাংস হল। যর্দন নদীতে কুষ্ঠরোগ থেকে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হওয়ার পর সেনাপতি নামান ইলীশায়ের কাছে গিয়ে বললেন, “শুধুমাত্র ইস্রায়েলের ঈশ্বরই সত্য ঈশ্বর। দয়া করে আমার কাছে থেকে উপহারস্বরূপ এই জিনিসগুলো গ্রহণ করুন।” কিন্তু ইলীশায় নিতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, “কোনমতেই না। আমি আপনার কাছ থেকে কিছুই গ্রহণ করব না।” নামান অনেক সাধ্যসাধনা করলেও ইলীশায় তাঁর কাছ থেকে কোন উপহার গ্রহণ করলেন না। তাই নামান ইলীশায়কে বললেন, “আমি আমার দেশে ফিরে যাব। আমার আপনার কাছে একটি অনুরোধ আছে। দয়া করে আমাকে এখান থেকে কিছু মাটি নিতে দেওয়া হোক। আমার দেশে যাওয়ার পর আমি সদাপ্রভু ঈশ্বর ব্যতিরেকে অন্য কোন দেবতার সেবা করব না।” ইলীশায় তাঁর অনুরোধ রাখলেন। নামান তাঁকে বললেন, “দয়া করে শুধুমাত্র এই একটি বিষয়ে ক্ষমা করবেন, দেখুন, আমার রাজা অন্য দেবতাদের সেবা করার জন্য রিম্মোণের মন্দিরে যান। যখন তিনি সেই দেবতাদের সামনে প্রণিপাত করেন, আমার তাঁকে সঙ্গ দিতে হয়, তাই তখন আমাকেও তাঁর সাথে প্রণিপাত করতেই হয়।” তখন ইলীশায় তাঁকে বললেন, “শান্তিতে ফিরে যান।” আর আমরা বাইবেলে লেখা দেখতে পাই, “পরে তিনি তাঁহার সম্মুখ হইতে প্রস্থান করিয়া কিছু দূর গমন করিলেন।” 
এভাবে সেনাপতি নামানের আত্মিক আশীর্বাদের সমাপ্তি ঘটেছিল। এই ঘটনা থেকে এটি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, নামান ঈশ্বরের লোক, ইলীশায়ের আজ্ঞা শুনে বাধ্য হওয়ার কারণে ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করলেন ও সুস্থ হলেন। কুষ্ঠরোগীদের জন্য, এই মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা থেকে আর কোন বড় অনুগ্রহ ঈশ্বরের কাছে নেই। এটা আপনার এবং আমার পাপ ক্ষমা লাভকেও নির্দেশ করে। এটা এই বিষয়টির প্রতীকস্বরূপ যে, যীশু খ্রীষ্টের ধার্মিকতা বিশ্বাসের দ্বারা আমরা একেবারে চিরকালের জন্য পাপের ক্ষমা লাভ করেছি। এই বাক্যটি আমাদের অবশ্যই একটু মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে, “পরে তিনি তাঁহার সম্মুখ হইতে প্রস্থান করিয়া কিছু দূর গমন করিলেন।” এই কথার অর্থ এই যে, নামান ইলীশায়ের কাছ থেকে একটু দূরে যেতে না যেতেই তাঁর বিশ্বাসের জীবন শেষ হয়ে গিয়েছিল। 
 
 
এর অর্থ এই যে, যখন আমাদের বিশ্বাসের জীবনের কথা আসে, তখন আমরা অবশ্যই আমাদের নিজস্ব চিন্তা ত্যাগ করব
 
আমাদেরকে অবশ্যই এই একটি বিষয় খুব ভালভাবে জানতে ও বুঝতে হবে যে, যখন আমাদের আত্মিক জীবন যাপনের কথা আসে, তণ আমাদেরকে আমাদের নিজেদের চিন্তা অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে। এখন যখন আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পাপের ক্ষমা লাভ করেছি, তখন আমাদের কোন বিষয়টির সর্বাধিক খেয়াল ও স্মরণ রাখতে হবে? সেই বিষয়টি হল এই, আমাদেরকে আমাদের মাংসিক চিন্তা-ভাবনা ত্যাগ করতে হবে এবং বিশ্বাসে ঈশ্বরের বাক্য অনুসরণ করতে হবে। এটা কি সত্য নয় যে, ঈশ্বরের ইচ্ছা থেকেও মাংসিক চিন্তা-ভাবনাই আমাদের মধ্যে বেশি জাগ্রত হয়? আমাদের সকলের মধ্যে মাংসিক কামুক চিন্তা-ভাবনা বাস করে। এটা কি সত্য নয় যে, আপনার মধ্যে ঈশ্বরের ইচ্ছার থেকেও বেশি মাংসিক জ্ঞান ও বুদ্ধি খেলা করে? আমাদের মাংসিক চিন্তা-ভাবনা অবিরতভাবে জাগ্রত হতে থাকে এবং আমাদেরকে ঈশ্বরের ইচ্ছার বিপরীতে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদেরকে অবশ্যই এই চিন্তা-ভাবনাগুলো পরাজিত করতে হবে এবং শুধুমাত্র ঈশ্বরের ধার্মিকতা অনুসরণ করতে হবে। মাংসিক চিন্তা-ভাবনাই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু, এটা আমাদের ধ্বংস বয়ে নিয়ে আসতে পারে। 
আমরা প্রতিদিন এই সমস্যার সম্মুখীন হই যে, আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা অস্বীকার করা অতটা সহজ কাজ নয়। এর কারণ হল এই যে, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পাপের ক্ষমা লাভের আগে আমরা কখনোই আমাদের মাংসিক চিন্তা-ভাবনাকে অস্বীকার করি নাই, একটি বারের জন্যও নয়, এই অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। কিন্তু একবার পাপের ক্ষমা লাভের পর আমাদেরকে প্রত্যেক মুহূর্তে আমাদের মাংসিক চিন্তা-ভাবনাকে অস্বীকার করতে হবে। শুধুমাত্র যখনই আমরা আমাদের মাংসিক চিন্তা-ভাবনাগুলোকে অস্বীকার করতে পারব, তখনই আমরা আমাদের বিশ্বাসের জীবন যাপন করতে শুরু করতে পারব। যদি কেউ তার নিজস্ব মাংসিক চিন্তা-ভাবনা অনুসারে চলে, তাহলে সেনাপতি নামানের মতো তার এই বিশ্বাসের জীবন শেষ হয়ে যাবে। এইজন্য, যখনই আমরা বিপথে যাব, আমরা অবশ্যই ঈশ্বরের ধার্মিকতা ধ্যান করব এবং এর কাছে শীঘ্র ফিরে আসব। 
আমাদের গত উদ্দীপনা সভায় মিসেস. হং অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি আজকে আমাদের আরাধনা সার্ভিসে আছেন। পূর্বে মিসেস. হং একটা জাকজমকপূর্ণ চার্চে অংশগ্রহণ করেছিলেন যার নাম ছিল “উন্মুক্ত আরাধনা সার্ভিস,” যেখানে উপস্থিত সদস্যরা এই আরাধনার সময়ে জোরে জোরে শব্দ করে এবং নিজেদেরকে প্রকাশ করতে থাকে। তিনি আমাকে বলেন যে, আমাদের এই চার্চে ঈশ্বরের বাক্য খুব সুন্দরভাবে প্রচার করা হয়, এবং তিনি এখানে আসতে পেরে আনন্দিত। তিনি আমাকে আরো বলেন যে, বিগত বছরগুলোতে তিনি তাঁর বিশ্বাসের জীবনে যা ইচ্ছা তাই করেছেন, কিন্তু এখন তিনি বিষয়গুলোকে ভিন্নভাবে দেখেন যেখানে ঈশ্বরের মন্ডলীতে সাধুগণ, যারা পাপের ক্ষমা লাভ করেছেন, তারা একটা সুশৃঙ্খল উপায়ে ঈশ্বরের আরাধনা করেন। 
যীশুই সত্য ঈশ্বর। সত্য মানে এর মধ্যে কোন মিথ্যা নেই। সত্য সব সময় মিথ্যার উপরে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। যা মন্দ, তার থেকে সত্য সব সময়ই পৃথক। এজন্য যীশু বলেন, “আমিই পথ ও সত্য ও জীবন।” আমাদেরকে যীশুর এই কথা সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করতে হবে ও মান্য করতে হবে। তাহলে আমরা শয়তানের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে পারব, যা আমাদেরকে আগে বদ্ধ করে রেখেছিল। আর আমরা আমাদের জীবনে কখনোই দিয়াবলের এই শৃঙ্খলে বদ্ধ হবো না। যেহেতু এখন আমরা ঈশ্বরকে অনুসরণ করতে পারি এবং আমাদের জীবনে তাঁর আশীর্বাদ লাভ করতে পারি, তাই এখন এটা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে যে- আমরা আর শয়তানের দাসত্বে থাকব না। তাই, যেহেতু সত্য ঈশ্বর যে কোন মিথ্যার থেকেও অনেক বেশি শক্তিশালী, তাই যীশু চান আমরা যেন ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করি এবং বিশ্বাসে তা অনুসরণ করি। 
যখন এমন বিষয় আমাদের সামনে আসে যেটাতে সত্য ব্যহত হয় না, তখন আমরা এটা অনুসরণ করতে পারি, অথবা নাও করতে পারি। কিন্তু যখন এটা ঈশ্বরের সত্য বাক্যের বিষয় হয়, তখন আমাদেরকে ঠিক এর মতো করেই এতে বিশ্বাস করতে হবে ও তা অনুসরণ করতে হবে। ঈশ্বরের বাক্যই সত্য। ঈশ্বরের বাক্যই প্রকৃত জীবন এবং অপরিবর্তনীয় সত্য যা আমাদেরকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যায়। এজন্য, সত্য কখনোই পরাজিত হয় না। তাই, আপনার এবং আমার জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উপলব্ধি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, পাপ ক্ষমা লাভের পর আমর যে বিষয়টি নিযে সবচেয়ে বেশি ভুগি তা হল আমাদের মাংসিক চিন্তা-ভাবনা। আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ধারা, আমাদের নিজস্ব দূর্বলতা, আমাদের গর্ব- আমাদের “ইগো,”- এগুলো আমাদের বিশ্বাসের জীবনের কঠিন বাধা সৃষ্টি করে। 
অন্য কথায়, আমাদের সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ হলাম আমরাই, আমাদের নিজেদের অন্তঃকরণ এবং আমাদের বিশ্বাস। বাইবেল বলে, “আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়-জ্ঞান, অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণপ্রাপ্তি” (ইব্রীয় ১১:১ পদ)। প্রকৃতপক্ষে, আমরা আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনায় বিশ্বাস করি না, কিন্তু ঈশ্বরের বাক্যে, সত্যে বিশ্বাস করি। প্রত্যেক বিশ্বাসের একটা বিষয় থাকে। বিশ্বাস হল- কোন বিষয়ে নিশ্চয়-জ্ঞান করা এবং এটা মান্য করা। এখন আমরা যারা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস দ্বারা পাপের ক্ষমার লাভ করেছি, আমাদের যে বিষয়টির সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে, তা হল- আমাদের নিজস্ব মাংসিক চিন্তা-ভাবনা। বাইবেলে লেখা আছে, “পরে তিনি তাঁহার সম্মুখ হইতে প্রস্থান করিয়া কিছু দূর গমন করিলেন।” যাইহোক, শাস্ত্রে সেনাপতি নামানের বিষয়ে আর কোন লেখা নেই। এর অর্থ এই, তিনি কিছু সময় আগে যে সত্য বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন, তা হারিয়ে ফেলেছিলেন, ফলে, তিনি তাঁর জীবনও হারিয়ে ফেলেছিলেন। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, যখন আমরা ঈশ্বর হতে এবং জল ও আত্মার সুসমাচার হতে পৃথক হয়ে যাই, তখন প্রথমে আমরা খুব দূরে যাই না। অন্য কথায়, প্রথমে আমরা ঈশ্বরকে এবং জল ও আত্মার সুসমাচারকে পুরদস্তুরভাবে অমান্য করি না। বরং, যখন আমরা প্রথমে পৃথক যাই, আমরা আস্তে আস্তে দূরে যেতে থাকি। এভাবে, আস্তে আস্তে দূরে যেতে যেতে আমরা বুঝতেই পারি না যে, কখন আমরা ঈশ্বর থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি, আর তখন আমাদের আর কিছুই করার থাকে না। গ্রীক ভাষায় “পাপ” শব্দটির উচ্চারণ করা হয় এভাবে- “ἁμαρτία (হ্যামার্শিয়া)”- যার অর্থ “লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি।” অন্যভাবে বললে, পাপ হল একটি তীরের মতো যা একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ছাড়া হয়, কিন্তু এটা তার লক্ষ্যকে ভেদ করতে পারে না। তাহলে মানুষের পাপের অর্থ কি? এটা ঈশ্বরের সঙ্কল্পকে নষ্ট করে দেয়। 
আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে উদ্ধার করে এবং আমাদেরকে পাপমুক্ত করে ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর নিজের মানুষ তৈরী করেছেন। ঈশ্বর তাঁর রাজ্যে আমাদের সাথে অনন্তকাল থাকতে চান। এটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা। অন্য কথায়, ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো- আমরা যারা যীশু খ্রীষ্টের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করি, আমাদেরকে তাঁর নিজের সন্তান তৈরী করা। আর আমরা যারা তাঁর সন্তান হয়েছি, আমাদের উপরে তিনি স্বর্গের সমস্ত আশীর্বাদ বর্ষাতে চান। এজন্য, কাউকে এ সমস্ত আশীর্বাদ লাভ করতে হলে, তাকে যা করতে হবে তা হল- তাকে ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে হবে এবং যীশুর ধার্মিকতার কার্যে বিশ্বাস করতে হবে, যা তিনি এই পৃথিবীতে সম্পন্ন করেছিলেন। তথাপি, অনেক মানুষ মনে করে যে, তাদের ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করার কোন প্রয়োজন নেই। এটা নিশ্চিতভাবে একটি বড় ভুল। অনেক মানুষ মনে করে, “আমাকে শুধু একটা নৈতিক জীবন যাপন করতে হবে। আমি কি বিশ্বাস করি, এটা কোন বিষয় নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার নৈতিকতা ঠিক আছে, ততক্ষণ আমি বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাস করলেও আমি স্বর্গেই যাব। আপনার কথামতো, কেন আমাকে বিশেষভাবে যীশুর ধার্মিকতায় বিশ্বাস করতেই হবে?” যাইহোক, আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, আপনার নিজস্ব মানবীয় চিন্তানুসারে আপনার বিশ্বাসের জীবন যাপন করার ফল হল- আপনি সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের ইচ্ছা থেকে বিচ্যুত হবেন। বাইবেল পাপ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে এটাই বলে। আমাদের মানবীয় চিন্তা-ধারাই ঈশ্বরের বিপক্ষে পাপ সৃষ্টি করে। আমাদের নিজস্ব মানবীয় চিন্তা-ধারা বজায় রাখাই হলো ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় পাপ। 
এই কারণেই প্রভু বাইবেলে বলেছেন, “কেহ যদি আমার পশ্চাৎ আসিতে ইচ্ছা করে, তবে সে আপনাকে অস্বীকার করুক, আপন ক্রুশ তুলিয়া লউক, এবং আমার পশ্চাদ্গামী হউক” (মথি ১৬:২৪ পদ)। পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার পর যখন আমরা আমাদের বিশ্বাসের জীবন যাপন করি, তখন আমাদের নিজস্ব মাংসিক চিন্তাভাবনাগুলোকে অস্বীকার করা আমাদের জন্য আবশ্যক। 
এমনকি আজকেও আমার নিজস্ব অনেক চিন্তা রয়েছে, যা আমাকে অবশ্যই অস্বীকার করতে হবে। তাই, আমাকে বারংবার প্রত্যেক মুহূর্তে নিজেকে অস্বীকার করতে হবে। অনেক সময় আমার চিন্তা-ধারা ঈশ্বরের বাক্যের সাথে মিল খায় না। যদি আমি তখনও আমার মাংসিক চিন্তানুসারে চলি, তাহলে আমি ঈশ্বরের ইচ্ছার বিপরীতে চলি। তাই, যখন আমার চিন্তা-ধারা ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে খাপ খায় না, তখন আমাকে এগুলো অবশ্যই অস্বীকার করতে হবে। আমি আমার নিজস্ব চিন্তায় অটুট থাকব না। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, আমি বিশ্বাস করি যে, আপনারা সকলে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পাপের ক্ষমা লাভ করেছেন। তাহলে, আপনি ও আমি আমাদের বাকী জীবনে কোন বিষয়টির খেয়াল রাখবো? আমাদেরকে নিজেদেরকে ঈশ্বরের সাক্ষাতে অস্বীকার করতে হবে। বিশ্বাসের জীবন হল- প্রভুর পুনরাগমন দিন পর্যন্ত নিজেকে ঈশ্বরের বাক্যের সম্মুখে অস্বীকার করা। গত সপ্তাহের শিষ্যত্ব প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আমরা প্রভুর বাক্য দ্বারা প্রচুর আশীর্বাদ লাভ করেছিলাম, কিন্তু তথাপি, এত কিছুর পরও আমাদের মাংসিক চিন্তা আসতেই আছে। এমনকি ঠিক এই মুহূর্তেও, অসংখ্য মাংসিক চিন্তা আমাদের অন্তঃকরণে উঁকি দিচ্ছে। আপনি এবং আমি ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছি এবং এর স্বাদ আস্বাদন করেছি। কিন্তু যদি আমরা এই অনুগ্রহ আরো আস্বাদন করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে কি করে প্রতিদিন প্রতি মিনিটে নিজের মানবীয় চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করতে হয়। আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো চিন্তা করছেন যে, আপনারা ইতোমধ্যেই যে অনুগ্রহ লাভ করেছেন, আপনারা ততটুকুতেই পরিতৃপ্ত। কিন্তু, এই রকম আত্ম-তৃপ্ত মনোভাব নিয়ে প্রভুর অনুসরণ করা কঠিন। শুধুমাত্র যখনই আমরা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নিজেদেরকে অস্বীকার করতে পারব, তখনই ঈশ্বরের অনুগ্রহ আমাদের হৃদয় পরিপূর্ণ করতে পারবে এবং আমরা তাঁকে অনুসরণ করতে পারব। শুধুমাত্র তখনই আমরা ঈশ্বর আমাদেরকে যে সমস্ত আশীর্বাদ দিতে চান, সে সমস্ত আশীর্বাদ লাভ করতে পারব। 
 
 
আজকের শাস্ত্রাংশ পাঠের শিক্ষা
 
আজকের শাস্ত্রাংশ পাঠ আমাদেরকে এবং ঈশ্বরের সমস্ত লোকদের যে শিক্ষা দেয় তা হল- যদি আমরা নিজেদেরকে অস্বীকার করি, শুধুমাত্র তাহলেই আমরা প্রভুর পুনরাগমন দিন পর্যন্ত তাঁকে অনুসরণ করতে পারব। আপনাকে এবং আমাকে নিজেদেরকে অস্বীকার করতেই হবে। আপনি কি এর আগে এমনটা করেছেন? যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে না, তারা তাদের সমগ্র জীবনে কখনোই তাদের মাংসিক চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করে নাই। কোরিয়াতে একটা পুরাতন প্রবাদ আছে, “অতিরিক্ত প্রশ্রয় পাওয়া শিশু দাদার দাড়ি তুলে ফেলবে।” এর অর্থ হল- যদি আপনি আপনার সন্তানকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেন, তাহলে সে এত নষ্ট ও স্বেচ্ছাচারী হয়ে যাবে যে, সে কারো কথা গ্রাহ্য করবে না। তাই একটা আদর্শ পরিবার, তার সন্তানদেরকে একটা কঠোর এবং নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে গড়ে তোলে। 
একইভাবে, আমরা, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসীরাও যদি আমাদের মাংসিক চিন্তানুসারে সমস্ত কিছু করি, তাহলে আমরা ঈশ্বরের ইচ্ছা অমান্য করব। যদিও আমরা এখনো ঈশ্বরের সন্তান, কিন্তু যদি আমরা নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ না করি, তাহলে আমরা ঈশ্বরের সন্তানদের যেভাবে চলা উচিত, সেভাবে চলতে পারব না। অব্রাহাম ইস্মায়েল ও ইসহাক উভয়ের জন্ম দিয়েছিলেন। তথাপি, যদিও ইস্মায়েল অব্রাহামের সন্তান ছিল, কিন্তু তাকে পরিবার থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, কারণ তার জন্ম হয়েছিল অবাধ্যতায়। তাই, ঈশ্বর ইসহাককে, যিনি তাঁর বাক্যানুসারে জাত হয়েছিলেন, তাঁকে অব্রাহামের বৈধ উত্তরাধিকারী বলে স্বীকৃতি দিলেন। 
যখন ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস দ্বারা তাদের মানবীয় চিন্তা-ভাবনাগুলোকে ত্যাগ করে এবং প্রভুকে অনুসরণ করে, আমরা তাদেরকে বিশ্বাস-বীর বলে থাকি। তাই, আমাদেরকে ঈশ্বরের প্রকৃত কার্য্যকারী হতে হলে, প্রথমে আমাদের মাংসিক চিন্তা-ভাবনাগুলোকে অবশ্যই অস্বীকার করতে হবে। এখন, আমরা যারা পাপের ক্ষমা লাভ করেছি, আমরা যদি ঈশ্বরের ধার্মিকতা অনুসরণ করতে চাই এবং আমাদের জীবনে তাঁর সমস্ত আশীর্বাদ লাভ করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের নিজস্ব মানবীয় চিন্তা-ধারা অস্বীকার করতে হবে। শুধুমাত্র যখনই আমরা আমাদের মানবীয় চিন্তা-ভাবনাগুলোকে অস্বীকার করতে পারব, তখনই আমরা বিশ্বাসের একটা যথাযথ জীবন যাপন করতে পারব। পাপ ক্ষমা লাভের পর সর্বপ্রথমে আমাদের যে কঠিন কাজটি করতে হবে, তা হল- আমাদের মানবীয় চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করতে হবে। প্রভুকে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হলে আমাদেরকে আমাদের মাংসিক চিন্তাগুলোকে অবশ্যই অস্বীকার করতে হবে। এটাই প্রভুর আজ্ঞা। যেহেতু এটা প্রভুর আজ্ঞা, তাই সেখানে মানবীয় চিন্তার কোন চিহ্নই থাকবে না। ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমাদের মানবীয় চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করা এবং শুধুমাত্র তাঁর ধার্মিকতা মান্য করাই হলো সঠিক এবং প্রকৃত বিশ্বাস। তাই, এটা উপলব্ধি করার পর আসুন আমরা সবাই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিজেদেরকে অস্বীকার করি এবং বিশ্বস্থভাবে আমাদের বিশ্বাসের জীবন যাপন করি। 
আজকে আমি আমার উপদেশ ছোট করব যাতে আপনাদের ধৈর্য্যচ্যুতি না ঘটে। গত সপ্তাহের শিষ্যত্ব প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আমি ভ্রাতা বায়ুংকি আনকে সুসমাচারের ক্লাস নিতে বলেছিলাম, কিন্তু তিনি অনিচ্ছুক ছিলেন। নতুনদের নিয়ে তাঁকে যে অনেকগুলো আত্মিক যুদ্ধ করতে হয়েছিল, এতে তাঁকে অনেক ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। আরোগ্য লাভ করতে তাঁর প্রায় আরো এক সপ্তাহের মতো লাগবে। ভ্রাতা যেইমুন হা, যিনি কিছুক্ষণ আগেই তার পরিত্রাণের সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি আর ঈশ্বরের মন্ডলীতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। কারণ, তিনি তার মানবীয় চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করতে পারছেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই তাকে ফিরে আসতে হবে এবং ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করতে হবে ও তা অনুসরণ করতে হবে। যে ঈশ্বরের মন্ডলীতে থেকে ঈশ্বরকে জেনেছে, তার পাপের ক্ষমা লাভ করেছে এবং ঈশ্বরের ধার্মিক লোকদের সাক্ষাত লাভ করেছে, সে এই মন্ডলী ত্যাগ করার পরও কি ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করতে পারবে? না, অবশ্যই না! এই রকম লোকেরা ধার্মিক লোকদের সঙ্গ থেকে আরো বেশি করে বিচ্যুত হতে আরম্ভ করবে। কিন্তু কি হতো যদি তারা নিজেদের মানবীয় চিন্তাগুলোকে ঈশ্বরের সাক্ষাতে অস্বীকার করত? যারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে তাদের মানবীয় চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করে এবং তাঁকে অনুসরণ করে, তারা প্রত্যেকেই তাঁর কাছ থেকে প্রচুর আশীর্বাদ লাভ করবে। 
যারা তাদের মানবীয় চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করে, তারা ঈশ্বরের অনুগ্রহ প্রচুররুপে লাভ করবে, কিন্তু যারা তাদের মানবীয় চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানাবে, তারা ঈশ্বরের কোন আশীর্বাদ লাভ করতে পারবে না। যারা একটা ধার্মিক জীবন যাপন করতে চায়, ঈশ্বর তাদের জন্য বিশেষভাবে স্বর্গীয় আশীর্বাদ জমা করে রেখেছেন। কাদের উপরে এই সমস্ত আশীর্বাদ নেমে আসে? যারা নিজেদের মাংসিক চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করে এবং প্রভুর বাধ্য হয়ে চলে, এই সমস্ত আশীর্বাদ তাদের উপরেই নেমে আসে। স্বর্গরাজ্যের সমস্ত গুচ্ছিত সম্পদ তাদের জন্য যারা নিজেদেরকে অস্বীকার করে। 
আপনি পাপের ক্ষমা লাভ করেছেন, ঠিক? তাহলে নিজেকে অস্বীকার করুন। সুসমাচার শোনার পরও কেন অসংখ্য মানুষ পাপের ক্ষমা লাভ করতে পারছে না? এর কারণ হল- তারা তাদের মানবীয় চিন্তা-ধারায় পূর্ণ এবং তারা নিজেদেরকে অস্বীকার করে না। যদি তারা শুধুমাত্র তাদের এই মানবীয় চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করতো, তাহলে তারা ঠিকই পাপের ক্ষমা লাভ করতো। কিন্তু নিজেকে অস্বীকার করা এত সহজ নয়। তাই, ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করাও এত সহজ নয়। যীশু বলেন, “যে কেউ আমার পশ্চাদ্গামী হতে চায়, সে নিজেকে অস্বীকার করুক।” নিজেদেরকে অস্বীকার করা মানে হল- নিজেদের ইচ্ছাগুলোকে, নিজেদের মানবীয় চিন্তাগুলোকে, নিজেদের পরিকল্পনাগুলোকে এবং এরকম আরো অন্যান্য বিষয়গুলোকে অস্বীকার করা। 
কিন্তু এই সমস্ত বিষয়গুলোকেই আমরা বেশি প্রাধান্য দিই এবং আমাদের অন্তরে গেঁথে রাখি, তাই নিজেদেরকে অস্বীকার করা আমাদের জন্য খুব কঠিন, এটা বিস্ময়কর কোন বিষয় নয়। নিজেকে অস্বীকার করা হল নিজের জীবনকে উৎসর্গ করার সামিল। এইজন্যই যীশু বলেছেন, “যে কেউ আমার পশ্চাদ্গামী হতে চায়, সে নিজেকে অস্বীকার করুক, এমনকি নিজের জীবনকে পরিত্যাগ করুক, এবং আমার পশ্চাদ্গমী হোক।” সহজভাবে বললে, নিজেকে অস্বীকার করা খুবই কঠিন একটি কাজ। এর অর্থ হল- প্রভুকে অনুসরণ করার জন্য নিজের জীবনকে বিসর্জন দেয়া। শুধুমাত্র এরকম লোকেরাই প্রভুকে অনুসরণ করতে পারে। তাই, পাপের ক্ষমা লাভের পর যে ভাই-বোনদের নতুন বিশ্বাস জন্মেছে, তারা প্রভুকে ভালভাবে অনুসরণ করতে পারে। কিন্তু যারার কেবলই তাদের পাপের ক্ষমা লাভ করেছে, তারা যখন এই বাক্য শোনে, তখন তাদের খুব কষ্ট হয়, তাদের মনে অনেক প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরী হয়। আর তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া হয়- বিরোধীতা করা। 
এজন্যই, নতুন বিশ্বাসীদেরকে পাপ ক্ষমা এবং পূণর্জন্ম লাভের পর অবশ্যই নিয়মিতভাবে পরিচর্য্যা করতে হয়। যারা আত্মিকভাবে শিশু, তাদেরকে অবশ্যই ঘন ঘন আত্মিক দুধ দ্বারা পরিচর্য্যা করা উচিত। কিন্তু কি হবে, যদি তারা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গীর্জাতেই না আসে? তারা অবশ্যই তাদের মানবীয় চিন্তাভাবনাতে আটকে পড়বে এবং তারা বাক্য ভুলে যাবে, যা তারা কিছু সময় আগেই শুনেছিল। বাক্য শোনার জন্য তারা হয়তো সপ্তাহে একবার গীর্জাতে আসবে, কিন্তু যখন বাড়ি ফিরে যাবে, সারা সপ্তাহের জন্য তারা এটা ভুলে যাবে। তাই, নতুন বিশ্বাসীদের জন্য প্রথম বছরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক বছর বয়স হওয়ার পর শিশুরা হাঁটতে আরম্ভ করে। তখন তারা অনেক কাজ করতে পারে, যা তারা জন্মের পর করতে পারতো না। এখন তারা শক্ত খাবার খেতে পারে, তারা জিনিসপাতি তুলতে পারে, তারা আরো খাবার চাইতে পারে, আর তারা রাগে এমনকি জিনিসপাতিও ছুঁড়তে পারে। তাই যখন আপনি নিজেকে দেখবেন, তখন নিজেকে প্রশ্ন করবেন যে, আত্মিকভাবে আপনি পরিপক্ক হয়ছেন কি না।
আপনার জানা উচিত আপনাকে ঘন ঘন পরিচর্যার প্রয়োজন আছে কি না, এবং আপনার নিজেকে অস্বীকার করার প্রয়োজন আছে কি না। যারা এইসব চিন্তা করে এবং যারা করে না, তাদের ফলাফল ভিন্ন। তাই, আমি আপনাদের সকলকে এই বিষয়টি উপলব্ধি করার উপদেশ দিব। একবার যদি আপনি নিজেকে অস্বীকার করেন এবং কয়েক বছরের জন্য প্রভুকে অনুসরণ করেন, তাহলে অনেক সুন্দর সুন্দর জিনিস আপনার জীবনে ঘটতে শুরু করবে এবং আপনার বিশ্বাস এমনভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে যে, সেটা অনেকের কাছে উদাহরণস্বরূপ হবে। যদিও প্রথমদিকে প্রভুকে অনুসরণ করা কঠিন, কিন্তু কয়েক বছর এটা করার পর এটা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। যেহেতু আপনি নিজেকে অস্বীকার করার অভ্যাস বানিয়ে ফেলবেন, তাই এটি আপনাকে নতুন মানুষে পরিণত করে ফেলবে। 
আপনার বিশ্বাসের পূর্বসূরীরা কিছু সময় আপনাকে ভিন্ন কিছু করতে বলে। যখন আপনি আপনার মন্ডলীর নেতাদের চিন্তা-ধারার সাথে আপনার চিন্তা-ধারা তুলনা করবেন, আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে, আপনার চিন্তা-ধারা তাদের চিন্তা-ধারা থেকে অনেক খর্ব। যখন আপনি একা, তখন আপনি এক নম্বর। কিন্তু যখন মন্ডলীর নেতারা অন্তর্ভূক্ত হন, তখন আপনি সবথেকে শেষের জন হয়ে পড়েন। এটা মন্ডলীর নেতাদের ক্ষেত্রেও সত্য। তারাও হয়তো নিজেদেরকে এক নম্বর বলে ভাবেন, কিন্তু যখন তাঁরা নিজেদেরকে প্রভুর বাক্যের সাথে তুলনা করেন, তখন তাঁরা সবচেয়ে শেষের জন হয়ে পড়েন। তাই আমাদের আর কোন উপায় নেই, আমাদের নিজেদেরকে অস্বীকার করতেই হবে। জ্ঞানীরা নিজেদেরকে অস্বীকার করেন, তাই নয় কি? কিন্তু আপনি হয়তো এখানে নিজের সম্পর্কে চিন্তা করছেন, “পাস্টর জং আমাকে নিজেকে অস্বীকার করতে বলছেন, কিন্তু আমি কিভাবে এমনটি করতে পারি, যখন আমি অনুভব করি যে, আমি সঠিক?” যদি আপনার নিজেকে খুব দক্ষ এবং ভাল মনে হয়, তাহলে ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করার চেষ্টা করুন এবং আপনার ভাই ও বোনেরা আপনাকে কি বলে সেটা শোনার চেষ্টা করুন। তারপর আপনার চিন্তা এবং তাদের উপদেশ মনোযোগ সহকারে তুলনা করে দেখুন যে, কোনটি সঠিক। যদি আপনার নিজের মানবীয় চিন্তাগুলোকে সঠিক বলে মনেও হয়, তবুও আপনি নিজেকে অবশ্যেই অস্বীকার করবেন। যেহেতু আপনি আত্মিক বিষয়গুলো পুরোপুরিভাবে আত্মস্থ করতে পারেননি, তাই আপনার নিজেকে সঠিক বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে, বিষয়টি এমন নয়। আমি যথেষ্ট ব্যাখ্যা করে বলতে পারছি না যে, আপনার পক্ষে নিজেকে অস্বীকার করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যখন আপনি আত্মিকভাবে অপরিপক্ক থাকেন, তখন নিজের চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করার মতো যথেষ্ট কারণ আপনার কাছে থাকে না। এর কারণ হল এই, যখন আপনি বিশ্বাসে খুবই তরুণ থাকেন, তখন আপনার বিশ্বাসের পূর্বসূরীরা আপনাকে আপনার মানবীয় চিন্তা অস্বীকার করার জন্য খুব একটা চাপ দেন না। তাঁরা এটা করেন তখন, যখন আপনি একটা পরিপক্ক ধাপে এসে পৌঁছান। আর তাঁরা যখন সময়মতো এমনটি করেন, এর কারণ এই যে, তাঁরা আপনাকে আরো বেশি কিছু দিতে চান। 
তাই, একবার পাপের ক্ষমা লাভ করলে আমরা আমাদের বিশ্বাসের জীবনে প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে অবশ্যই অস্বীকার করব। সম্পূর্ণ অন্তঃকরণের সহিত এই শিক্ষা নেয়া, এটা মনে রাখা এবং এই শিক্ষা অনুসারে চলাটা আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই শিক্ষাটা শুধুমাত্র আমাদের ধার্মিকদের প্রতি দেয়া হয় নাই, কিন্তু আমাদের সমস্ত নেতা ও যাজকদেরও দেয়া হয়েছে। যখন মানুষ কোন বিষয়ে ভাল করে, তখন সেই জিনিসটির সাথে লেগে থাকার একটা প্রবণতা তার মধ্যে দেখা যায়। আর যখন তাদের হৃদয় উদ্ধত হয়ে যায়, তখন তারা নিজেদেরকে এক নম্বর বলে ভাবতে শুরু করে। অন্যরা যাই বলুক না কেন, তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। তাই তারা তাদের নেতাদের কথাও শোনে না। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, আমরা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে এক নম্বর নই। এই জন্যই ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর মন্ডলী ও তাঁর লোকদেরকে দিয়েছেন। ঈশ্বরের মন্ডলীতে অপরিমিত জ্ঞান এবং সীমাহীন আশীর্বাদ লাভ করা যায়। বাইবেল বলে, যারাই বিশ্বাসে ঈশ্বরের বাক্য গ্রহণ করে এবং তাঁর ধার্মিকতা গ্রহণ করে, মন্ডলীর এই সমস্ত আশীর্বাদ তাদের জন্য। আমাদের বিশ্বাসের জীবনে যে অবস্থাই আসুক না কেন, আমাদের নিজেদেরকে অস্বীকার করতেই হবে। এই জ্ঞান নিয়ে আপনার বিশ্বাসের জীবন যাপন করাটা আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার পিছনে পিছনে বলুনঃ “নিজেকে অস্বীকার করাটাই হল আমার বিশ্বাসের জীবন।” একবার পাপের ক্ষমা লাভের পর আমাদের যে জিনিসটা সর্বপ্রথমে অবশ্যই করতে হবে তা হল- নিজেদেরকে অস্বীকার করতে শুরু করা। কতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেদের মানবীয় চিন্তাগুলোকে অবশ্যই অস্বীকার করতে থাকবো? আমাদেরকে প্রভুর পুনরাগমন দিন পর্যন্ত নিজেদেরকে অবশ্যই অস্বীকার করতে হবে।
আজকের শাস্ত্রাংশ পাঠ করে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটিই লাভ করলাম। যদি নামান নিজেকে অস্বীকার করে ইলীশায়কে অনুসরণ করতেন, তাহলে তাঁর বিশ্বাসের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো শাস্ত্রে অবশ্যই লিপিবদ্ধ থাকত। যদি নামান ইলীশায়ের নির্দেশনা অনুসারে ঈশ্বরকে অনুসরণ করতেন, তাহলে বাইবেল তাঁকে শুধু একটি জাতির সৈন্যদলের সেনাপতি হিসেবেই লিপিবদ্ধ করত না, কিন্তু ঈশ্বরের রাজ্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে লিপিবদ্ধ করত। কিন্তু, তা না করে সেনাপতি নামান তাঁর নিজস্ব চিন্তা অনুসরণ করে তাঁর পূর্বের পেশায় চলে গেলেন। আর এটাই ছিল তার শেষ। খুব বড় কোন ঘটনা থেকে অবিশ্বাসের উৎপত্তি হয় না। বরং, ছোটখাটো বিষয়গুলোতেই যখন কেউ নিজেকে অস্বীকার করতে ব্যর্থ হয়, তখনই অবিশ্বাসের উৎপত্তি হয়। আর এভাবেই পরিশেষে মানুষ ঈশ্বরকে সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করে। অন্য কথায়, প্রথমে যদিও আপনি ঈশ্বরকে ত্যাগ করে আপনার নিজস্ব মানবীয় চিন্তানুসারে শুধুমাত্র কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবেন, কিন্তু পরিশেষে আপনি অনতিক্রম্য কষ্টের সম্মুখীন হবেন। এই জ্ঞান নিয়ে আসুন আমরা মন্ডলীর নির্দেশনানুসারে ছোটখাটো বিষয়েও নিজেদেরকে নত করি, নিজেদের মানবীয় চিন্তাগুলোকে অস্বীকার করি, অনবরত প্রার্থনা করি এবং এই সঠিক উপায়ে আমাদের বিশ্বাসের জীবন যাপন করি।