শিক্ষা

বিষয় ৩: জল ও আত্মার সুসমাচার

[3-15] < যোহন ১৫:১-৯ পদ > এই জগতকে জয়কারী বিশ্বাস

< যোহন ১৫:১-৯ পদ >
“আমি প্রকৃত দ্রাক্ষালতা এবং আমার পিতা কৃষক। আমাতে স্থিত যে কোন শাখায় ফল না ধরে, তাহা তিনি কাটিয়া ফেলিয়া দেন; এবং যে কোন শাখায় ফল ধরে, তাহা পরিষ্কার করেন, যেন তাহাতে আরও অধিক ফল ধরে। আমি তোমাদিগকে যে বাক্য বলিয়াছি, তৎপ্রযুক্ত তোমরা এখন পরিষ্কৃত আছ। আমাতে থাক, আর আমি তোমাদের মধ্যে থাকি; শাখা যেমন আপনা হইতে ফল ধরিতে পারে না, দ্রাক্ষালতায় না থাকিলে পারে না, তদ্রূপ আমাতে না থাকিলে তোমরাও পার না। আমি দ্রাক্ষালতা, তোমরা শাখা; যে আমাতে থাকে, এবং যাহাতে আমি থাকি, সেই ব্যক্তি প্রচুর ফলে ফলবান হয়; কেননা আমা ভিন্ন তোমরা কিছুই করিতে পার না। কেহ যদি আমাতে না থাকে, তাহা হইলে শাখার ন্যায় তাহাকে বাহিরে ফেলিয়া দেওয়া যায় ও সে শুকাইয়া যায়; এবং লোকে সেগুলি কুড়াইয়া আগুনে ফেলিয়া দেয়, আর সেই সকল পুড়িয়া যায়। তোমরা যদি আমাতে থাক, এবং আমার বাক্য যদি তোমাদের মধ্যে থাকে, তবে তোমাদের যাহা ইচ্ছা হয়, যাচ্ঞা করিও, তোমাদের জন্য তাহা করা যাইবে। ইহাতেই আমার পিতা মহিমান্বিত হন যে, তোমরা প্রচুর ফলে ফলবান হও; আর তোমরা আমার শিষ্য হইবে। পিতা যেমন আমাকে প্রেম করিয়াছেন, আমিও তেমনি তোমাদিগকে প্রেম করিয়াছি; তোমরা আমরা প্রেমে অবস্থিতি কর।”
 
 
কোন ধরণের বিশ্বাস জগতকে জয় করে?
 
আমাদের প্রভু তাঁর শিষ্যদের বলেন, “জগতে তোমরা ক্লেশ পাইতেছ; কিন্তু সাহস কর, আমিই জগৎকে জয় করিয়াছি” (যোহন ১৬:৩৩)। তিনি আমাদেরকে আরো বলেন যেন আমরা বিশ্বাসে চলি; তিনি বলেন, “তোমরা সর্পের ন্যায় সতর্ক এবং কপোতের ন্যায় অমায়িক হও” (মথি ১০:১৬)।
 
 
বিশ্বাসহীন গুপ্তচরেরা
 
পুরাতন নিয়মের গণনা পুস্তক পাঠ করলে আমরা দেখতে পাই যে, মিসর দেশ থেকে বের হয়ে আসার পর ইস্রায়েল জাতি কনান দেশে প্রবেশের জন্য যর্দন নদী পার হতে যাচ্ছিল। যাইহোক, কনান দেশে ইস্রায়েল জাতির প্রবেশের আগে মোশি কিছু গুপ্তচর পাঠালেন। প্রত্যেক বংশ থেকে এক এক জন করে মোট ১২ জন গুপ্তচর নিয়োগ করলেন। তারপর মোশি তাদের বললেন, “কনান দেশের মানচিত্র এঁকে আনবে এবং তোমরা যা যা দেখবে, এসে সবই আমাকে জানাবে।” সেই বারো গুপ্তচর কনান দেশে গেল, একটা মানচিত্র আঁকল, আর এক থলুয়া ফলযুক্ত দ্রাক্ষালতার এক শাখা আনল, যা বহন করতে দুই জন মানুষ লাগত। তখন তারা মোশিকে বিবরণ দিল যে, “কনান দেশের ভূমি খুবই উর্বর এবং এটা বাস করার জন্য খুবই ভাল একটা জায়গা। দ্রাক্ষাফলগুলো এত বড় বড় যে, এক থোকা দ্রাক্ষাফল বহন করতে দুইজন লোক লেগেছে। তাই, দেশটি দুগ্ধমধুপ্রবাহী বটে। কিন্তু, যদিও সেই দেশটি খুবই উর্বর, কিন্তু সেখানকার লোকেরা আমাদের থেকে অতিকায় এবং খুবই শক্তিশালী। তারা হলো হনোকের দৈত্যাকার বংশধর। যদিও কনান দেশ বসবাস করার জন্য খুবই ভাল একটা জায়গা, কিন্তু সেই দেশ-নিবাসীদের কাছে আমাদেরকে ফড়িং এর মতো লাগবে। তাই, যদি আমরা সে দেশে প্রবেশ করি, তাহলে সকলে মারা পড়ব। এইজন্য, আমাদের জন্য ভাল হবে, আমরা সবাই জিনিসপত্র গুছিয়ে মিসরে ফিরে যাই। যদি আমরা কনানে প্রবেশ করি, তাহলে এক্কেবারে নিশ্চিন্ন হয়ে যাব।” দশ জন গুপ্তচর এইরকম বিবরণ দিল। তাদের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করলেও তারা নেতিবাচক বিবরণ দিল, কারণ তারা বিশ্বাসহীন ছিল। 
এই বিবরণ শুনে সমস্ত ইস্রায়েল উচ্চৈঃস্বরে কলরব করল এবং মোশি ও প্রভু ঈশ্বরের বচসা করে বলল, “মিসর দেশে কি আমাদের কবর দেওয়ার মতো কোন জায়গা ছিল না, যে, ঈশ্বর আমাদেরকে এই কনান দেশে মারার জন্য এত লম্বা পথ আনলেন? ঈশ্বর কেন আমাদেরকে কেন এই দানবীয় লোকদের দেশে প্রবেশ করতে বলছেন? নিশ্চয়ই, এর অর্থ হল- ঈশ্বর আমাদেরকে মারতে চান!” ইস্রায়েল লোকেরা শুধু মোশি ও ঈশ্বরের বচসাই করল না, কিন্তু তাদের নেতা মোশিকে মেরে ফেলতেও চাইল। 
অবস্থার অবনতি হতে দেখে চরদের মধ্যে দুইজন- কালেব ও যিহোশূয় উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, না, ঈশ্বর আমাদেরকে মারতে চান না। তিনি কি আমাদের সঙ্গে সব সময়ই ছিলেন না? যখনই আমরা কোন বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, ঈশ্বর আমাদেরকে রক্ষা করেছেন; এমনকি তিনি আমাদের জন্য সূফ-সাগরকে দুই ভাগ করেছিলেন, যেন আমরা এর মধ্য দিয়ে হেঁটে আসতে পারি। তিনি ফরৌণকে দশ আঘাত দ্বারা আঘাত করলেন, এবং আমাদেরকে তার হাত থেকে, অন্ধকারের রাজত্ব থেকে বের করে আনলেন। এই ঈশ্বরই আমাদেরকে কনান দেশ দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। ঈশ্বর আমাদেরকে মরার জন্য কনান দেশে প্রবেশ করতে বলেননি। বরং, তিনি আমাদের বলেছেন যেন, আমরা কনান দেশে প্রবেশ করে এটা হস্তগত করি। সেখানের লোকেরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যদি ঈশ্বর আমাদের সাথে থাকেন, তাহলে আমরা তাদেরকে পরাজিত করতে পারব। তাই, আসো আমরা সাহসের সঙ্গে সেই দেশ আক্রমণ করি। তারা আমাদের শিকার।”
সমস্ত ইস্রায়েল তখন এই দুই যুবকের বিশ্বাসের কথা শুনে শান্ত হল। তাঁরা বিশ্বাসের বাক্য বলেছিলেন, ইস্রায়েল-সন্তানদেরকে ঈশ্বরের উপর নির্ভর করতে বলেছিলেন, ইস্রায়েল দেশ আক্রমণ করে এটা হস্তগত করতে বলেছিলেন। এই ঘটনার কারণে, তখনকার সমস্ত লোকদের মধ্যে কেবল কালেব এবং যিহোশূয়কেই ঈশ্বর কনানে প্রবেশ করতে দিয়েছিলেন। অন্য দশ গুপ্তচরসহ অন্যান্য যে সমস্ত ইস্রায়েল লোকেরা ঈশ্বরের বচসা করেছিল, তারা প্রত্যেকেই সীনয়ের প্রান্তরে মারা পড়েছিল। ঈশ্বরের বচসা করার জন্য এবং তাঁতে বিশ্বাস না করার জন্য তাদের সকলের মৃত্যু হয়েছিল। 
আমরা মনে করতে পারি, বাস্তবিকই ঈশ্বর কনান দেশের সাত জাতিকে ধ্বংস করেছিলেন এবং ইস্রায়েলদেরকে সেই দেশে প্রবেশ করিয়েছিলেন। নিফিলিমরা যতই দৈত্যাকার ছিল না কেন, তারা ইস্রায়েলদেরকে জয় করতে পারে নাই। তাই তারা কনান দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছিল। যেহেতু ইস্রায়েল লোকেরা বিশ্বাস করেছিল যে, ঈশ্বর তাদের সহবর্তী ছিলেন, তাই তারা বিশ্বাসে সেই দেশ জয় করতে পেরেছিল। 
এটা সত্য যে, এই জগত দেখতে খুবই ভয়ানক এবং বিপদসংকুল। কিছু সময় মনে হয় যে, এই জগতের সমস্ত মানুষকে নিফিলিমদের মতো দৈত্যকার বলে মনে হয়। যাইহোক, যেহেতু যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সমস্ত পাপের প্রায়শ্চিত্তকারী হয়েছেন, তাই আমরা সাধুগণ, যারা প্রভুতে বিশ্বাস করি, আমরা ইতোমধ্যেই জগতের বিপক্ষে সমস্ত যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি। ঈশ্বর আমাদেরকে একটা বিজয়ী বিশ্বাস দান করেছেন এবং আমাদেরকে সকলকে আশীর্বাদ দান করেছেন। 
ইস্রায়েল-সন্তানেরা যখন যর্দন নদী পার হতে যাচ্ছিল, সেই মুহূর্ত থেকেই ঈশ্বর যিহোশূয়কে তাদের নেতা হিসেবে ব্যবহার করলেন। যিহোশূয়কে উঠিয়ে ঈশ্বর বললেন, “মোশির মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু বলবান হও ও সাহস কর, কারণ আমি তোমার সহবর্তী হব। আমি তোমার ঈশ্বর, তোমার সমস্ত জীবনকালে আমি তোমার সহবর্তী হইব, আমি তোমাকে রক্ষা করব, এবং আমি তোমার সহবর্তী হয়ে কাজ করব। তুমি শুধু বলবান হও ও সাহস কর।” এখানের প্রতিজ্ঞানুসারে, ঈশ্বর বাস্তবিকই ইস্রায়েলের নতুন নেতা যিহোশূয়ের সহবর্তী হয়েছিলেন। তাই, ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস করে যিহোশূয় লেবীয় যাজকগণকে নিয়ম-সিন্দুক বহন করে যর্দন নদীতে নামতে বললেন। আর যখন যাজকগণ যর্দন নদীতে নামলেন, তখন যর্দন নদী দুই ভাগ হয়ে গেল। ঈশ্বর যিহোশূয়কে যেমনটি বলেছিলেন, ঠিক তেমনটিই হল। আরেকবার, ইস্রায়েল-সন্তানেরা যখন যিরীহো নগর হস্তগত করার জন্য এর নিকটে অবস্থিতি করছিল, তখন ঈশ্বর যিহোশূয়কে বললেন যেন যাজকগণ সিন্দুকের আগে আগে মহাশব্দকারী সাত তূরী নিয়ে সেই নগর ছয়দিন এক বার করে প্রদক্ষিণ করে, এবং সপ্তম দিনে সাত বার প্রদক্ষিণ করে। প্রভু ঈশ্বর যিহোশূয়কে বললেন, “আর যাজকগণ উচ্চৈঃস্বরে মহাশব্দকারী শিঙ্গা বাজালে যখন তোমরা সেই তূরীধ্বনি শুনবে, তখন সমস্ত লোক অতি উচ্চৈঃস্বরে সিংহনাদ করে উঠবে, তাতে নগরের প্রাচীর স্বস্থানে পড়ে যাবে, এবং লোকেরা প্রত্যেক জন সম্মুখপথে উঠে গিয়ে সেই নগর হস্তগত করবে।” 
যিহোশূয় যখন এটা মান্য করলেন, তখন সুরক্ষার জন্য দু’টো প্রাচীর থাকা সত্ত্বেও যিরীহো নগর ইস্রায়েলের সম্মুখে পড়ে গেল। ঈশ্বর যিহোশূয় এবং ইস্রায়েল-সন্তানদের সহবর্তী ছিলেন। এইভাবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইস্রায়েল-সন্তানেরা যিহোশূয়ের সাথে ছিল, ততক্ষণ তারা কখনোই পরাজিত হয় নাই, কিন্তু একটার পর একটা যুদ্ধ জিতেছিল। সমস্ত জিনিসই যিহোশূয়কে করা ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞানুসারে সম্পন্ন হচ্ছিল। 
একইভাবে, আমাদের সাথে যীশু খ্রীষ্ট আছেন, তিনি আমাদের ধার্মিকতা। যিহোশূয় এবং যীশু নামের অর্থ এক। যীশু নামের অর্থ হল ত্রাণকর্তা। যিহোশূয় নামের অর্থও ত্রাণকর্তা। যেহেতু যীশু আমাদের ত্রাণকর্তা হলেন, তাই তিনি তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ একেবারে চিরকালের জন্য নিজে বহন করলেন এবং ক্রুশে হত হলেন। এইভাবে, যীশু আমাদের সকলের পরিত্রাণের প্রভু হলেন। যারা এই ত্রাণকর্তা প্রভুর ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে, তিনি তাদের ঈশ্বর হয়েছেন, এবং তাদেরকে তাদের সমস্ত পাপ থেকে পরিত্রাণ করলেন। যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, প্রভু তাদের পালক হয়েছেন। প্রভু হতে আসা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা আমরা আমাদের পাপের ক্ষমা লাভ করেছি, এবং এখন এই জগতে ধার্মিক মানুষ হিসেবে বাস করছি। তবুও, এই নিষ্ঠুর জগতে বাস করার সময়, কিছু সময় আমরা বুঝতে পারি না যে, কি করব এবং কিভাবে এই জগতের মানুষদেরকে জয় করব। যাইহোক, যতক্ষণ যীশুর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশে সেচিত তাঁর রক্তে আমাদের বিশ্বাস আছে, ততক্ষণ আমরা এই জগতকে জয় করতে পারব এবং আমাদের জীবনে ঈশ্বরের সমস্ত আশীর্বাদ লাভ করতে পারব। আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করব, আপনারা সকলে এতে বিশ্বাস করুন।
 
 
প্রভু আমাদেরকে বলেন, “আমি তোমাদিগকে যে বাক্য বলিয়াছি, তৎপ্রযুক্ত তোমরা এখন পরিষ্কৃত আছ। আমাতে থাক।”
 
আমরা বিশ্বাস করি যে, প্রভুই আমাদের প্রায়শ্চিত্তকারী হয়েছেন। আর আমরা জানি যে, আমারা যারা বিশ্বাস করি যে, প্রভু আমাদের সমস্ত পাপ একেবারে চিরকালের জন্য মোচন করেছেন, আমাদের সকলকে প্রভু সেই বিশ্বাস দান করেছেন, যার দ্বারা আমরা এই জগতকে জয় করতে পারি। আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের প্রভুই আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন; আমাদের সমস্ত মোচনের জন্য তিনিই আমাদের প্রায়শ্চিত্তকারী হয়েছেন, আর এইজন্য তিনি আমাদের সমস্ত পাপ গ্রহণ করলেন এবং এই পাপগুলোর জন্য দন্ড ভোগ করলেন। অন্যকথায়, আমরা প্রকৃতরূপেই বিশ্বাস করি যে, যোহন বাপ্তাইজের নিকট নেওয়া বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ নিজে গ্রহণ করলেন, আমাদের জায়গায় নিজে ক্রুশে হত হলেন এবং মৃত্যু হতে পুনরুত্থিত হলেন। যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, তাদের সকলকে পিতা ঈশ্বর এই বিশ্বাস দান করেছেন, যা দ্বারা তারা জগৎকে জয় করতে পারে।
আপনার বিষয়টি তাহলে কেমন? আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, যীশু খ্রীষ্টই আপনার প্রকৃত ত্রাণকর্তা এবং আপনার ঈশ্বর? আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, যীশু আপনার প্রভু ও ত্রাণকর্তা হয়েছেন? যীশু খ্রীষ্টে এবং জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করাটা আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল এটাই যে, আপনি বিশ্বাস করেন কি না যে, আপনার পাপ মোচনের জন্য যীশু নিজেই প্রায়শ্চিত্তকারী বলি হয়েছেন, আপনার পাপ বহনের জন্য যজ্ঞীয় মেষ হয়েছেন, আপনার জায়গায় নিজে মরেছেন এবং এভাবে আপনার পরিত্রাণের প্রভু হয়েছেন? আপনার মধ্যে যদি এই বিশ্বাস থেকে থাকে, তাহলে আপনি ইতোমধ্যেই আপনার প্রায়শ্চিত্তকারী যীশু খ্রীষ্টের সাথে মরেছেন এবং তাঁর সাথে পুনরুত্থিতও হয়েছেন। যীশু খ্রীষ্ট যখন যোহন বাপ্তাইজক কর্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তখন আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল, এবং এই পাপ গ্রহণ করে তাঁকে ক্রুশারোপিত হয়ে হত হতে হয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই, আমাদের মধ্যকার পুরাতন মানুষ মারা গিয়েছিল এবং আমাদের মধ্যে নতুন মানুষ পুনরুত্থিত হয়েছিল।
যেহেতু আমাদের মধ্যকার পুরাতন মানুষ ইতোমধ্যেই মারা গিয়েছিল, তাই এখন আমাদের জীবন জীবন্ত ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্ট কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। খ্রীষ্ট আমাদের যা করতে বলেন, আমরা তাই করিঃ তিনি আমাদের যেখানে যেতে বলেন, আমরা সেখানেই যাই; যখন আমাদের এগিয়ে যেতে বলেন, আমরা এগিয়ে যাই; এবং যেখানে থামতে বলেন, আমরা সেখানেই থেমে যাই। আমাদের শুধুমাত্র যেটি করতে হবে, তা হল- আমাদেরকে ঈশ্বরের বাক্যানুসারে চলতে হবে, এবং বিশ্বাসে আমাদের নেতা ও পালক যীশু খ্রীষ্টকে এবং তাঁর ধার্মিকতাকে অনুসরণ করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত, আমরা আমাদের সর্বাধিনায়ক যীশু খ্রীষ্টের বাক্যানুসারে বিশ্বাসে ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করব এবং তা বিশ্বাসে অনুসরণ করব, ততক্ষণ পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক মতো চলবে। ঈশ্বরের মন্ডলীতে আমরা শাস্ত্র শুনে থাকি। এই শাস্ত্রের বাক্যানুসারে যদি আমরা ঈশ্বরের বাক্যে ও সত্যে আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করি, তাহলে আমরা এই নিষ্ঠুর জগতেও আমাদের জীবন সহজেই যাপন করতে পারব। যদি আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারের বিশ্বাস দ্বারা যুদ্ধ করি, তাহলে আমরা সহজেই শয়তানকে এবং এই জগৎকে জয় করতে পারব। যোহন বাপ্তাইজকের নিকট বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা এবং ক্রুশে সেচিত তাঁর রক্ত দ্বারা আমাদের প্রভু আমাদের পরিত্রাণ কার্য সম্পন্ন করেছেন। আর এই পরিত্রাণে বিশ্বাস দ্বারা আমরা জগৎকে জয় করেছি। 
যীশু স্বয়ং আমাদের পালক ও ত্রাণকর্তা হয়েছেন। প্রভু জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ একেবারে ধৌত করে আমাদেরকে তুষারের মত সাদা করে দিয়েছেন। আমাদের প্রভু জল ও রক্ত দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ মোচন করেছেন। যর্দন নদীতে যোহন বাপ্তাইজক কর্তৃক বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা তিনি আমাদের সমস্ত পাপ একেবারে তুলে নিয়েছেন। তারপর, তিনি, আমাদের সমস্ত পাপের দন্ড ভোগের ক্রুশে হত হতে হলেন; মৃত্যু থেকে তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হলেন এবং এভাবে যারা তাঁতে বিশ্বাস করে, তাদের ত্রাণকর্তা হলেন। আমাদের প্রভু আমাদের পালক হয়েছেন। তিনি আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, যুগান্ত পর্যন্ত তিনি আমাদের সাথে সাথেই থাকবেন। আর এই প্রতিজ্ঞা অনুসারে, তিনি এখন পবিত্র আত্মার বেশ ধরে আমাদের হৃদয়ে বাস করছেন। এই জগতের ভ্রান্ত জিনিস নিয়ে ভীত হওয়ার কোন দরকার নেই। যদিও এগুলো আমাদের দৃষ্টিতে ভীতিকর মনে হতে পারে, কিন্তু প্রভুর ধার্মিকতায় যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের বিশ্বাস স্থির আছে, সেগুলো আমাদের কাছে কিছুই নয়। 
 
 
যখন আমরা প্রভুর ধার্মিকতায় থাকি, তখন আমরা এই জগৎকে জয় করতে পারি 
 
আজকের এই শাস্ত্রাংশটিতে যীশু বলেছেন, “আমাতে থাক, আর আমি তোমাদের মধ্যে থাকি; শাখা যেমন আপনা হইতে ফল ধরিতে পারে না, দ্রাক্ষালতায় না থাকিলে পারে না, তদ্রূপ আমাতে না থাকিলে তোমরাও পার না” (যোহন ১৫:৪)। যদি আমরা বিশ্বাসে প্রভুর ধার্মিকতায় এবং ঈশ্বরের মন্ডলীতে থাকি, তাহলে আমরা এই জগৎকে সব সময় জয় করতে পারব। তাই, আমাদের নিজেদেরকে যথাযথভাবে পরীক্ষা করাটা খুবই গুরত্বপূর্ণ। আমাদের নিজেদেরকে যাচাই করতে হবে যে, আমরা প্রভুর মধ্যে আছি কি না? এখানে, যোহন ১৫ অধ্যায়ে প্রভু বলেছেন যে, যদি আমরা তাঁর মধ্যে থাকি, তাহলে আমরা প্রচুর ফলে ফলবান হব।
তাহলে, প্রভুর মধ্যে থাকা বলতে কি বোঝায়? জল ও আত্মার সুসমাচার, যা ঈশ্বরের ধার্মিকতা সাধন করে, তাতে আমাদের যে বিশ্বাস- সেই বিশ্বাস অনুসারে চলাই হল প্রভুতে থাকা। অন্যকথায়, যখন আপনি জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেন এবং ঈশ্বরের মন্ডলী সাথে এক থাকেন, এর অর্থ হল- আপনি প্রভুতে আছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রভুর ধার্মিকতায় আপনার বিশ্বাস আছে, আপনি প্রভুতে আছেন। প্রভু আমাদের বলেন যে, তিনি হলেন দ্রাক্ষালতা, আর আমরা শাখা। যদি আমরা তাঁর বাক্যে বিশ্বাস করি, তাহলে আমরা প্রভুতে আছি, এবং তিনি আমাদের মধ্যে আছেন। আর প্রভু বলেন যে, তখন আমরা প্রচুর ফলে ফলবান হব। এমন নয় যে, আমাদের নিজস্ব ভাল কিছু গুণ আছে বলে আমরা আত্মিক ফলে ফলবান হচ্ছি। কিন্তু আমাদের প্রভু আমাদেরকে শক্তি দেন বলে, এবং আমরা তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাস করি বলেই আমরা ধার্মিকতার ফলে ফলবান হচ্ছি। প্রভুই আমাদেরকে প্রজ্ঞা, বুদ্ধি, ক্ষমতা এবং সমস্ত আশীর্বাদ দান করেন; আমাদের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করার এবং তাদেরকে জয় করার শক্তি, আমাদেরকে আমাদের প্রভুই দান করেন; এবং আমাদের পক্ষে আমাদের প্রভুই তাদেরকে জয় করেন। অন্যকথায়, আমাদের প্রভুই আমাদেরকে শক্তি দেন, যাতে আমরা সমস্ত ধরণের বাধা-বিপত্তি জয় করতে পারি। যেহেতু প্রভুই আমাদেরকে এই সমস্ত জিনিস দান করেন, তাই ঈশ্বর-প্রদত্ত এই শক্তি দ্বারাই আমরা জগৎকে জয় করতে পারি। যেহেতু প্রভুই আমাদেরকে বলবান করেন এবং সমস্ত ক্ষমতা প্রদান করেন, তাই আমাদের প্রভুর ধার্মিকতায় বিশ্বাস স্থাপনের দ্বারাই আমরা এই জগৎকে জয় করতে পারি এবং এর উপরে রাজত্ব করতে পারি। 
এই জগতে যখন আমরা প্রথম পরীক্ষার সম্মুখীন হই, তখন আমাদের নিজেদেরকে পরাজিত মনে হয়। বাস্তবিকই, এমন অনেক জিনিস এবং জায়গা আছে, যা আমরা আগে কখনোই দেখি নাই বা এর সম্মুখীন হই নাই। তাই যখন আমরা নতুন পরীক্ষার সম্মুখীন হই, তখন আমাদের নিজেদেরকে পরাজিত এবং অসহায় মনে হয়। কিন্তু আমাদের ভয় করার কোন কারণ নেই, কারণ আপনি এবং আমি সর্বশক্তিমান প্রভুতে বিশ্বাস করি। যখন আমরা নতুন কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হই, যার সম্মুখীন আগে কখনো হই নাই, তখন যদি আমরা বিশ্বাসে উঠে দাঁড়িয়ে এর মোকাবিলা করি, তাহলে আমাদের প্রভু আমাদেরকে সে সমস্ত জয় করার শক্তি দান করবেন। যেহেতু আমরা যীশুর ধার্মিকতায় বিশ্বাস করি, যিনি আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন, সেহেতু আমরা প্রভুতে আছি; আর যেহেতু প্রভু পবিত্র আত্মার বেশে আমাদের মধ্যে বাস করেন এবং আমাদের সাথে সাথে চলেন, তাই আমরা এই জগৎকে জয় করতে পারি। যখন আমরা পরীক্ষার সম্মুখীন হই, আমাদের মনে হতে পারে যে, আমরা একা; কিন্তু বাস্তবে, আমাদের সমস্ত খুঁটিনাটি পরীক্ষায় প্রভু আমাদের সাথে আছেন। এইজন্যই আমরা জগৎকে জয় করতে পারি এবং এর উপরে রাজত্ব করতে পারি। যতক্ষণ আমরা প্রভুতে থাকি এবং ঈশ্বরের মন্ডলীতে এক থাকি, ততক্ষণ আমরা সবাই এই জগৎকে জয় করতে পারব। 
যখন ইস্রায়েল-সন্তানেরা কনান দেশে প্রবেশ করল, তারা কনানের সাতটি জাতিকেই পরাজিত করল এবং তাড়িয়ে দিল; আর তারা সেই গোটা দেশটাই হস্তগত করল। একইভাবে, যে কেউ জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, সে সমস্ত পরীক্ষা জয় করতে পারে। যদি আমরা, ঈশ্বরের পূণর্জন্ম-প্রাপ্ত লোকেরা ঈশ্বরের ধার্মিকতার জন্য এই জগতের কোন জিনিস নিয়ন্ত্রণ করতে চাই, তাহলে সেটা বাস্তবিকই সত্য হবে। এইজন্য, প্রভুতে থাকতে হলে আমাদের অবশ্যই প্রভুর বাক্যে বিশ্বাস থাকতে হবে। নিজেদের শক্তিতে বিশ্বাস করলে আমরা প্রভুতে থাকতে পারব না। 
প্রভুতে বিশ্বাস করুন, তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবেই এই জগৎকে জয় করতে পারবেন। প্রভু আমাদেরকে ইতোমধ্যেই পরিত্রাণ করেছেন এবং এই জগৎকে জয় করার বিশ্বাস দান করেছেন। এখন থেকে, আমাদের সকলেরই উচিৎ ঈশ্বরের মন্ডলীতে এক থাকা, ঈশ্বরের বাক্য শোনা এবং এই বাক্যে বিশ্বাস স্থাপন করে এর মতো করে চলা। প্রভুর বাক্যে বিশ্বাস করাই হল প্রভুতে থাকা। এটাই হল- যীশু খ্রীষ্টেতে থাকা। বাক্যে বিশ্বাস দ্বারাই আমরা ঈশ্বরের মধ্যে থাকি; এবং এই বিশ্বাস দ্বারাই আমরা আমাদের জীবন যাপন করি। আমরা শুধুমাত্র এই একটি উপায়েই এই জগৎকে জয় করতে পারি। আর তা হল- প্রভুর এই বাক্যে বিশ্বাস করা যে, তিনি ইতোমধ্যেই আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন। প্রভুতে এবং তাঁর বাক্যে চলাই হল বিশ্বাস। প্রভুর প্রতিটি বাক্যে বিশ্বাস দ্বারাই আমরা এই জগতে আমাদের জীবন যাপন করতে পারি। প্রভু সর্বদাই আমাদের সাথে আছেন, তিনি আমাদের সাথে সাথে চলেন এবং আমাদের সাহায্য করেন- এই বিশ্বাসই আমাদেরকে এই জগৎকে জয় করতে শক্তি দেয়। এই বিশ্বাস দ্বারাই আমরা এই নিষ্ঠুর জগতে বিজয়ীরূপে জীবন যাপন করতে পারি। ঈশ্বরের মন্ডলী, ঈশ্বরের সমস্ত দাস এবং সন্তানদেরকে বিশ্বাস ও আত্মিক তত্ত্বাবধান দান করে। 
ঈশ্বর মন্ডলীকে শক্তিশালী করেন। ঈশ্বর তাঁর মন্ডলীর মাধ্যমে তাঁর দাস এবং সন্তানদের সাথে কথা বলেন; আর এভাবে তিনি আমাদের সকলকে প্রভুতে থাকতে সাহায্য করেন। জল ও আত্মার বাক্য, যা প্রভু ইতোমধ্যেই আমাদেরকে দিয়েছেন, এর মাধ্যমে তিনি আমাদের অন্তঃকরণ পরিষ্কার করেছেন এবং আমাদেরকে এই জগতের উপরে বিজয়ী করেছেন। আমাদের প্রভু আমাদেরকে আরো আশীর্বাদ দান করেছেন যেন, আমরা এই জগতে প্রচুর আত্মিক ফল উৎপন্ন ও সঞ্চয় করতে পারি। এইজন্য, সমস্ত ধার্মিক ব্যক্তিদের ঈশ্বরের মধ্যে থাকতে হবে, তাঁর নিজের মানুষ হিসেবে। আর আমাদের সকলের অবশ্যই প্রভুতে বিশ্বাস থাকতে হবে, সত্যিকারভাবে বিশ্বাসে চলতে হবে, এবং ঈশ্বরের মন্ডলীতে এক থাকতে হবে। ঈশ্বরের মন্ডলীতে এক থাকা এবং ঈশ্বরে থাকা একই কথা। যখন আমরা ঈশ্বরের মন্ডলীতে থাকি, তখন আমরা তাঁর বাক্য শুনতে পাই; এবং এইভাবে, বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরে থাকতে পারি। 
ইতোমধ্যেই আমরা জগৎকে জয় করেছি। আমাদের পুরাতন মনুষ্য ইতোমধ্যেই মারা গেছে। এখন আমরা নতুন সৃষ্টি। এখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস দ্বারা এই জগৎকে জয় করছি। প্রভু আমাদেরকে যে বাক্য, শক্তি এবং বিশ্বাস দান করেছেন, সেইজন্য প্রভুকে ধন্যবাদ। ঈশ্বরের লিখিত বাক্যে বিশ্বাস দ্বারাই আমরা এই জগৎকে জয় করতে পারি। আমাদের করণীয় এই একটাই। অন্যকথায়, আমাদের একমাত্র করণীয় কাজ হল- সত্য দ্বারা, অর্থাৎ জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচারের দ্বারা এই জগতের লোকদেরকে জয় করা এবং তাদের উপরে আধিপত্য বিস্তার করা। আমরা, পূণর্জন্ম প্রাপ্তরা যদি আমাদের বিশ্বাস প্রয়োগ করি এবং ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করি, যা আমরা তাঁর মন্ডলীতে শুনেছি, তাহলে আমরা কখনোই এই জগতে পতিত হব না, কিন্তু এর উপরে সর্বদাই রাজত্ব করব। 
 
 
এখন আপনারা যারা ধার্মিক মানুষ হয়েছেন, ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করুন
 
আপনারা ঈশ্বরের মন্ডলী থেকে তাঁর ধার্মিকতার বাক্য শুনেছেন। এখন, ঈশ্বরের এই বাক্যে বিশ্বাস করুন। যখন আপনি প্রভুর বাক্য শোনেন এবং এতে স্থির থাকেন, তখন আপনি প্রভুতে আছেন। যীশু তাঁর ত্যাগস্বীকারের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই আমাদেরকে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে ধৌত করেছেন, আর আমরা বিশ্বাসে এই সমস্ত পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভ করেছি। এখন থেকে, আমাদের সকলের উচিত প্রভুর প্রতিটি বাক্যে বিশ্বাস করে সে অনুসারে চলা। যখন আমরা প্রভুর বাক্যে বিশ্বাস করি, তখন আমরা প্রভুতে থাকি এবং বিশ্বাসে এই জগতে বিজয়ী জীবন যাপন করি। তাই আমি আপনাদের সকলকে বলব, আপনারা প্রভুর বাক্যে বিশ্বাস করুন এবং বিশ্বাসে জীবন যাপন করুন। আমি আপনাদেরকে প্রভুতে থাকতে বলব। বিশ্বাসে জীবন যাপন করাই হল প্রভুতে থাকার একমাত্র উপায়। আর যখনই আপনি বিশ্বাসে জীবন যাপন করবেন, তখনই সফল হবে। আপনার বিশ্বাসই আপনাকে আপনার সমস্ত শত্রুদের উপরে বিজয় দান করে। আর এই বিশ্বাসই আপনাকে আশীর্বাদযুক্ত করে। আপনি আপনার নিজের চেষ্টায় অথবা যোগ্যতায় কোন আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন না। ঈশ্বরের আশীর্বাদ এতই প্রচুর এবং অসীম যে, এটা আপনার কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যাবে। এই আশীর্বাদ শুধু স্বয়ং ঈশ্বর থেকেই পাওয়া যায়, যদি আমরা তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাস করি। আপনি আপনার নিজের চেষ্টায় এই আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন না। 
তাই, ঈশ্বরের ধার্মিকতায় আমাদের যে বিশ্বাস, সেটার ব্যবহার করতে পারাটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদেরকে অবশ্যই ঈশ্বরের ধার্মিকতায় স্থিত এই বিশ্বাস দ্বারা চলতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই এই একই বিশ্বাস দ্বারা, প্রভুর বাক্যে করা বিশ্বাস দ্বারা আমাদের আত্মিক যুদ্ধ মোকাবিলা করতে হবে। যখন আপনি ঈশ্বরের বাক্য শুনেন এবং এতে বিশ্বস্থভাবে বিশ্বাস করেন, এটা আপনার সুখের, নিরাপত্তার এবং প্রত্যেক আশীর্বাদের চাবিকাঠি হবে। যখন আপনি ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করেন, তখন তাঁর আশীর্বাদ আপনার উপরে আসতে শুরু করে। শুধুমাত্র পাপের ক্ষমা লাভ করলেই সব শেষ হয়ে যায় না। কিন্তু, আপনার জন্য আরো অনেক আশীর্বাদ অপেক্ষা করছে। আর আপনি এই আশীর্বাদ লাভ করবেন, যেন, একটা আশীর্বাদের জীবন যাপন করতে পারেন। যদি ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করেন, শুধুমাত্র তাহলেই আপনি এই আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন। আমরা তাঁর বাক্যে বিশ্বাস করি বলেই ঈশ্বর আমাদেরকে আশীর্বাদ করেন, পরিচালনা দান করেন, রক্ষা করেন এবং আমাদের জীবনে কাজ করেন। 
প্রভু আমাদেরকে ইতোমধ্যেই ঈশ্বরের নিজের মানুষ তৈরী করেছেন। আর ঈশ্বর এখন আমাদেরকে জিজ্ঞেস করছেন, “তোমরা পরিত্রাণ লাভ করেছো, কিন্তু তোমরা কি সত্যিকারে আমার ধার্মিকতায় বিশ্বাস দ্বারা জীবন যাপন করছো?” আমরা কি আমাদের নিজেদের শক্তির উপর নির্ভর করে চলছি, নাকি ঈশ্বরের উপর বিশ্বাসে চলছি- আমাদের এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই ঈশ্বর আমাদেরকে আশীর্বাদ দান করেন। আমাদের বিশ্বাস যদি সরিষা দানার মত ছোট হয়, তবুও আমাদেরকে অবশ্যই প্রভুর বাক্যে বিশ্বাস দ্বারা চলতে হবে। অন্যকথায়, আমাদের সকলের অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্যের উপর বিশ্বাস থাকতে হবে, এবং স্বীকার করতে হবে যে, “প্রভু, আমি তোমাতে বিশ্বাস করি! আমি যদিও তোমাকে আমার মাংসিক চোখে দেখতে পাচ্ছি না, তবুও আমি তোমার মন্ডলীতে বলা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করছি। তুমি আমার ত্রাণকর্তা এবং আমার ঈশ্বর, কারণ, আমি তোমাতে বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি, তুমি আমাকে যেরূপ বলেছো, ঠিক সেভাবেই সমস্ত কিছু সাধন করবে। আমি বিশ্বাস করি যে, তুমি আমাকে আশীর্বাদ করবে। আর আমি এটাও বিশ্বাস করি যে, তুমি সব সময় আমার সঙ্গে সঙ্গেই আছো।” ঈশ্বরের বাক্যকে ঠিক এর মতো করেই বিশ্বাস করাটা আপনার জন্য অপরিহার্য। ঈশ্বরের মন্ডলীতে শোনা ঈশ্বরের প্রতিটি বাক্যের উপর যে বিশ্বাস, এই বিশ্বাস আপনাকে সমস্ত আশীর্বাদ এনে দেয়। এইজন্য, আপনার এবং আমার, আমাদের প্রত্যেকের ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস অবশ্যই থাকতে হবে। ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস দ্বারাই আমরা এই জগতে আমাদের জীবন যাপন করতে পারি। কারণ, ঈশ্বর-প্রদত্ত এই বিশ্বাস আমাদেরকে বিশ্বাসে চলতে সক্ষম করে। এইজন্য, আমরা সকলেই ঈশ্বরের লিখিত বাক্যে বিশ্বাস করব। শুধুমাত্র ঈশ্বরের বাক্য জানাই যথেষ্ট নয়; আমাদের এটা শুধুমাত্র বুঝলেই চলবে না, কিন্তু এতে সত্যিকারে বিশ্বাসও করতে হবে। যখন আমরা ঈশ্বরের বিশ্বাস করি, তখন আমরা একটা আত্মিক জীবন যাপন করতে পারি। 
আদিতে, যখন ঈশ্বর আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর এবং এদন উদ্যানের সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি আদমকে বললেন, “তুমি সদসদ্-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খাবে না, কারণ যে দিন তুমি এটা খাবে, সেই দিন মরবেই মরবে।” আদম বাগানের যেকোন গাছের ফল খেতে পারতেন, কিন্তু ঈশ্বর কেবলমাত্র এই একটি ফল খেতেই তাঁকে নিষেধ করেছিলেন। যদি আদমের ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস থাকত, তাহলে তিনি সদসদ্-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেতেন না। কিন্তু ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস ছিল না বলেই আদম লোভে পড়ে সদসদ্-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেলেন, আর অবর্ণনীয় যন্ত্রণার মধ্যে পড়লেন। যদি আপনি আদমের মতো ঈশ্বরের বাক্যে অবিশ্বাস না করেন, তাহলে তিনি আপনাকে আশীর্বাদ করবেন।জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা আমরা সকলেই পরিত্রান লাভ করতে পারি। যাইহোক, এরপরে, আমরা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করছি কি করছি না, এর উপরেই নির্ভর করে আমরা ঈশ্বর থেকে আশীর্বাদ পাব না অভিশাপ পাব। যদি আমরা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করি, তাহলে আশীর্বাদযুক্ত হব; কিন্তু যদি ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস না করি, তাহলে অভিশপ্ত হব। জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা পাপের ক্ষমা লাভের পরও কিছু মানুষ ঈশ্বরের মন্ডলী ত্যাগ করে চলে যায়, এই বিষয়টি আমাকে খুব গভীরভাবে দুঃখ দেয়। এই লোকেরা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করে না। তাদের কাছে প্রচার করলেও তারা এই বাক্যে বিশ্বাস করে না। আর যেহেতু তারা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করে না, তাই তারা ঈশ্বরের অভিশাপের মধ্যে পড়বে। 
অন্যদিকে, যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় এবং তাঁর প্রতিটি বাক্যে বিশ্বাস করে, তারা মাংসিকভাবে যতই ক্ষমতাহীন এবং দূর্বল হোক না কেন, অথবা মাংসিকভাবে যতই কষ্ট ভোগ করুক না কেন, তারা ঈশ্বরের আশীর্বাদের মধ্যেই থাকে। কারণ তারা ঈশ্বরের মন্ডলীতে বলা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করে। যদিও তারা তাদের অন্তঃকরণ দিয়ে শুধুমাত্র ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করেছে, তারা ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করবে। আপনি ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করেন কি করেন না, এর উপরে নির্ভর করে আপনি এই আশীর্বাদ পাবেন কি পাবেন না। অন্যকথায়, আপনি বুদ্ধিমান কিনা অথবা আপনি সৎ জীবন যাপন করছেন কিনা, এর উপরে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নির্ভর করে না। পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভ করা যায়, ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস দ্বারা; কিন্তু ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করা যায়, ঈশ্বরের প্রতিটি বাক্যে বিশ্বাস দ্বারা। এইজন্য, ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করাটা আমাদের সকলের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঈশ্বর তাঁর মন্ডলীর মাধ্যমে যে সত্যের বাক্য বলেন, তা শোনাটা আমাদের জন্য অপরিহার্য। আর যখন আপনি এই বাক্য শোনেন, তখন আপনার কত জ্ঞান আছে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়; কিন্তু যা গুরুত্বপূর্ণ তা হল- আপনি যে বাক্য শুনছেন, তাতে আপনি কতটা বিশ্বাস করছেন। যখন আপনি কোন প্রচার শুনেন, তখন যেটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা হল- প্রচারে যেভাবে বলা হচ্ছে, আপনি ঈশ্বরের বাক্য সেভাবে কতটা বিশ্বাস করছেন। জ্ঞান-চর্চার জন্য প্রচার শোনাটা অর্থহীন। 
এইজন্যই ঈশ্বর আপনার জীবনে কাজ করেন। তিনি কেন এমনটা করেন? তিনি এটা করেন যেন আপনার অহম ভেঙ্গে যায়। অন্যভাবে বললেন, ঈশ্বর আপনার মাংসিক ইচ্ছাশক্তি এবং কাঠিন্যতা ভেঙ্গে দেন, যেন আপনি ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করেন। তিনি আপনাকে পরিচালনা দেন, যেন আপনি তাঁতে আপনার বিশ্বাস স্থাপন করেন। নিজের জন্য কোন কিছু চেষ্টা করতে গিয়ে জীবনে যখন আপনি অজেয় কোন বাধার সম্মুখীন হন, তখন আপনি নিজেকে পরীক্ষা করে দেখবেন যে, ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস ব্যতীত নিজের চেষ্টায় আপনি এই বাধা অতিক্রম করতে সত্যিই সক্ষম কিনা। যখন আপনি জীবনে কোন বিপদে পড়েন, তখন বিষয়টি এমন নয় যে, ঈশ্বর আপনাকে সাহায্য করছেন না বলে আপনি এই বিপদে পড়েছেন। কিন্তু, ঈশ্বর এটা অনুমোদন করেন, কারণ আপনি শুধুমাত্র আপনার মাংসিক শক্তির উপরে নির্ভর করছেন। তাই আপনাকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, এই সমস্ত পরীক্ষার দ্বারা ঈশ্বর আপনাকে শিক্ষা দিচ্ছেন, যেন আপনি নিজের শক্তিতে নির্ভর না করে, তাঁর বাক্যে বিশ্বাস দ্বারা আপনার জীবন যাপন করেন। 
একবার পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভের পর যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হল- বিশ্বাসে জীবন যাপন। যদিও প্রথমে, ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করা এবং না করার মধ্যে পার্থক্যটা খুব স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান নাও হতে পারে, কিন্তু এদের পার্থক্যটা খুব বিশাল। বিশ্বাস করা এবং না করার মধ্যে পার্থক্যটা পরে খুব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এইজন্য, আমরা সকলে আমাদের সমস্ত অন্তঃকরণ দিয়ে ঈশ্বরের বাক্যে অবশ্যই বিশ্বাস করব। যদি আমরা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করি, তাহলে আমরা শুধু জগৎকে জয়ই করব না, কিন্তু এর উপরে রাজত্বও করব; আর আমরা শুধু ঈশ্বরের পরিত্রাণই লাভ করব না, কিন্তু তাঁর আশীর্বাদও লাভ করব। ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস দ্বারাই আমরা বিজয়ী হতে পারি এবং ঈশ্বর থেকে মহিমা লাভ করতে পারি। এইজন্য, ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করাটা আমাদের সকলের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ। 
বিশ্বাস হল- ঈশ্বরের লিখিত বাক্য জানা, এতে “হ্যাঁ,” সম্মতি প্রদান করা, আর এই বাক্যে এর মত করেই বিশ্বাস করা। প্রকৃত বিশ্বাস হল, ঈশ্বরের বাক্যে এইভাবে নির্ভর করা যে, “আমি নিশ্চিত, বাক্যে যেভাবে লেখা আছে, ঠিক সেভাবেই সবকিছু সাধিত হবে।” অতীতে, ঈশ্বরের বাক্যে পূর্ণ বিশ্বাস পেতে আপনাদের হয়তো একটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছিল, কিন্তু তাড়াতাড়ি হোক বা একটু দেরীতে, এই বিশ্বাস আপনাদের মধ্যে আসবে। যদি আপনি খুব সামান্যতম বিশ্বাসও করেন, তাহলে প্রকৃত বিশ্বাস আপনার অন্তরে কাজ করতে আরম্ভ করবে। উদাহরণস্বরূপ, ধরা যাক, আমি এই পুলপিটের উপরে একটা লাঠি দাঁড় করালাম এবং এর উপরে আমার তর্জনী দিয়ে চেপে ধরে রাখলাম। কিন্তু, কি হবে যদি এর উপর থেকে আমি আমার আঙ্গুল সরিয়ে নিই? এই লাঠি তৎক্ষণাৎ পড়ে যাবে এবং এখানেই পড়ে থাকবে। বিশ্বাসও এই রকম। তাই বাইবেল বলে, “এবং বৃক্ষ যখন দক্ষিণে কিম্বা উত্তরে পড়ে, তখন সেই বৃক্ষ যে দিকে পড়ে, সে সেই দিকে থাকে” (উপদেশক ১১:৩)। বিশ্বাস হল, ঈশ্বরের বাক্যে নিজের অন্তঃকরণ প্রতিষ্ঠা করা, এই বলে যে, “প্রভু, তুমি সঠিক। আমি বিশ্বাস করি যে, সমস্ত কিছু তোমার বাক্যানুসারেই হবে। তুমি যা বল, তার সবই ঠিক; এবং আমি তোমার প্রতিটি বাক্যে বিশ্বাস করি।”
আমরা ঈশ্বরের যে সমস্ত বাক্য শুনেছি, তার প্রত্যেকটিই সঠিক। ঈশ্বর-নিশ্বঃসিত প্রতিটি বাক্যই সম্পূর্ণরূপে ত্রুটিমুক্ত। আমি নিশ্চিত যে, ঈশ্বরের প্রতিটি বাক্য এর মতো করেই পূর্ণ হবে, কারণ এটা ঈশ্বর বলেছেন। যখন স্বর্গদূতের মাধ্যমে কুমারী মরিয়মের কাছে ঈশ্বরের বাক্য বলা হল, মরিয়ম বললেন, “দেখুন, আমি প্রভুর দাসী; আপনার বাক্যানুসারে আমার প্রতি ঘটুক” (লূক ১:৩৮)। আর বচন অনুসারেই ঈশ্বরের এই বাক্য পূর্ণ হল। এইটাই হল বিশ্বাস। বিশ্বাস হল- কোন কিছু আপাতঃদৃষ্টিতে দেখতে অসম্ভব মনে হলেও ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস রাখা এবং বলা যে, “প্রভু, যেহেতু তুমি আমার কাছে এই প্রতিজ্ঞা করেছো, তাই আমি বিশ্বাস করি যে, তোমার প্রতিজ্ঞানুসারেই সবকিছু সাধিত হবে। আমি তোমার বাক্যে বিশ্বাস করি।” যেহেতু ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তিনি আমাদের সহবর্তী থাকবেন, তাই আমরা বিশ্বাস করি যে, তিনি বাস্তবিকই আমাদের সাথে আছেন। আর আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে, ঈশ্বর আমাদেরকে আশীর্বাদ করবেন, কারণ তিনি আমাদেরকে আশীর্বাদ দান করার প্রতিজ্ঞা করেছেন। সংক্ষেপে, ঈশ্বরের প্রতিটি বাক্যে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরে প্রকৃত বিশ্বাস। আমরা ঈশ্বরের সমস্ত আশীর্বাদযুক্ত কার্যে বিশ্বাস করি। আর এটাই হল বিশ্বাস। 
আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, আমি নিশ্চিত, এই জগতে জীবনে চলতে চলতে আপনারা অনেক নতুন বাধার এবং কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হবেন। এই রকম মুহূর্তে, সমস্ত কিছুর উর্ধ্বে ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে আপনারা প্রভুতে থাকবেন। আপনারা এই বিশ্বাসে স্থির থাকবেন যে, প্রভু-কথিত জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা আপনারা ইতোমধ্যেই পাপের পূর্ণ পরিত্রাণ লাভ করেছেন। আর প্রভুর এই বাক্যে বিশ্বাস দ্বারা আপনারা অবশ্যই ঈশ্বরের ধার্মিকতায় থাকবেন। ঈশ্বর-কথিত প্রতিটি বাক্যে বিশ্বাস দ্বারাই আপনি প্রভুকে তাঁর কার্য সম্পন্ন করার জন্য এবং তাঁর সাহায্য প্রদানের জন্য আহ্বান করতে পারেন। যদি আপনার এই ধরণের বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরের কার্য আহ্বান করেন, তাহলে প্রভু আপনাদের সমস্ত কাজ পূর্ণ করবেন, আপনাদেরকে রক্ষা করবেন এবং প্রচুররূপে আশীর্বাদ করবেন। অন্যভাবে বললে, ঈশ্বর আপনাদেরকে আশীর্বাদ এবং বলবান করবেন, যেন আপনারা আপনাদের প্রতিটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। 
আমি আপনাদের সকলকে এই রকম বিশ্বাস ধারণ করতে বলব। এবং আমি আপনাদেরকে বিশ্বাস করতে বলব যে, প্রভু আপনার জীবনকে পরিচালিত করছেন যেন এটা আরও উন্নত এবং আশীর্বাদপূর্ণ হয়। বিশ্বাস আমাদেরকে শুধুমাত্র পরিত্রাণই দান করে না, কিন্তু অনন্ত জীবন ও সুখও দান করে। এইজন্যই, ঈশ্বরে এবং তাঁর বাক্যে বিশ্বাস অপরিহার্য। ঈশ্বর তাঁর মন্ডলী ও দাসদের দ্বারা তাঁর সন্তানদেরকে তাঁর বাক্য দিয়ে থাকেন। ঈশ্বরের সত্য জানা এবং তাঁর বাক্যে বিশ্বাস করাটা আপনাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জন্য ঈশ্বরের যে ইচ্ছা এবং সংকল্প, তা ঈশ্বর তাঁর দাসদের মাধ্যমে আমাদের কাছে প্রকাশ করে থাকেন। আর তাঁর প্রতিটি বাক্যে বিশ্বাস করাই হল প্রকৃত বিশ্বাস। ঈশ্বর তাঁর মন্ডলীর মাধ্যমে আমাদের কাছে যা বলছেন, তাতে বিশ্বাস করাই হল প্রকৃত বিশ্বাস।
 
 
কেউ একা ঈশ্বরের কাজ করতে পারে না
 
এই জগতে আমরা একা চলছি না, এবং একা কিছু করছি না। কিন্তু আমরা বিশ্বাসে ঈশ্বরের সাথে সাথে চলি এবং তাঁতে বিশ্বাস করে তাঁর সাথেই কাজ করি। প্রভুতে বিশ্বাস স্থাপন করে ঈশ্বরের সাথে কাজ বলতে এটাই বোঝায়। আপনি এবং আমি শুধু একা চলছি না। আমরা প্রভুর সাথেই চলছি। অতীতে, আমরা একারা একারা পরিশ্রম করেছি, কিন্তু এখন, যেহেতু আমি এবং আমি পাপের ক্ষমা লাভ করেছি, তাই ঈশ্বর সব সময় আমাদের সাথেই আছেন। যীশু এখন আপনার এবং আমার মধ্যে আছেন। এখন আপনি একা নন, কারণ প্রভু আপনার সহবর্তী আছেন। যেহেতু আপনি ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করেন, তাই আপনি আর কখনোই একা নন। যীশু নিজেই আপনার প্রায়শ্চিত্তকারী হয়েছেন; যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা তিনি আপনার সমস্ত পাপ নিজে বহন করেছেন এবং ক্রুশে এই পাপের দন্ড ভোগ করেছেন; যীশু আপনার ত্রাণকর্তা হয়েছেন; আপনি পাপের ক্ষমা লাভ করেছেন; এবং আপনার সমস্ত পাপ সম্পূর্ণরূপে মোচিত হয়েছে- যতক্ষণ আপনি এগুলো বিশ্বাস করছেন, ততক্ষণ আপনি একা নন, কিন্তু প্রভু আপনার সহবর্তী আছেন। প্রভু আপনার মধ্যে আছেন এবং আপনি প্রভুতে আছেন, আর এভাবে আপনি প্রভুর সাথে এক হয়েছেন। যদিও আপনার মধ্যে অহম আছে, তথাপি আপনার মধ্যে প্রভু বাস করছেন, আর এইজন্য, আপনি প্রভুর সাথে এক। প্রত্যেক পূণর্জন্ম প্রাপ্ত পবিত্র ব্যক্তির মধ্যে পবিত্র আত্মা বাস করেন। 
পবিত্র আত্মা তার হৃদয়েই আসেন, যে পাপের ক্ষমা লাভ করেছে। সুতরাং, তিনি আমাদের সকলের সহবর্তী আছেন। যখন আমরা আমাদের সমস্ত অন্তঃকরণ দিয়ে প্রভুতে বিশ্বাস করি, তখন প্রভু আমাদের জীবনে কাজ করেন; এবং যখন আমরা প্রভুতে নির্ভর করি, তখন তিনি আমাদের সুরক্ষা করেন। যখন আমরা প্রভুতে নির্ভর করি, তখন তিনি আমাদের ভার বহনের জন্য তাঁর কাঁধ পেতে দেন; আর যখন আমরা প্রভুর ধার্মিকতায় নির্ভর করি, তখন তিনি আমাদের পালক হন। আর যখন আমরা আমাদের প্রভুতে বিশ্বাস করি, তখন তিনি আমাদের বিশ্বাস অনুসারে আমাদের জীবনে কাজ করেন। সুতরাং, ঈশ্বরে বিশ্বাসে স্থির থাকাটা আমাদের জন্য অপরিহার্য। যদি আপনার ঈশ্বরে বিশ্বাস না থাকে, তাহলে এখনই এই বিশ্বাস আপনাকে অবশ্যই লাভ করতে হবে। আপনার শুধুমাত্র যা প্রয়োজন, তা হল- বিশ্বাস, এমনকি সেটি যদি সরিষা দানার মতো ছোট হয় তবুও। আর প্রভুকে বলবেন, “প্রভু, আমি তোমাতে বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি যে, তুমি আমাকে পরিত্রাণ করেছো। আমি বিশ্বাস করি, তুমিই আমার পালক হয়েছো। আর আমি বিশ্বাস করি, তুমি আমার সহবর্তী আছো।” আপনার এই ধরণের বিশ্বাস থাকতে হবে।
অন্যদিকে, নিজের হৃদয়ে প্রভুকে গ্রহণের পরও যদি আপনি তাঁকে ত্যাগ করে দেন, এবং তাঁর সাথে পরামর্শ না করে নিজেই সবকিছু করেন, তাহলে প্রভু দুঃখার্ত হবেন। যদিও আপনার সাধ্যের মধ্যে স্থিত সমস্ত কাজই আপনি করবেন, কিন্তু যেটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হল- আপনি এটা প্রভুর ইচ্ছানুসারে করবেন। প্রভুর ধার্মিকতায় বিশ্বাস দ্বারা আপনাকে অবশ্যই প্রভুতে নির্ভর করতে হবে। এটা অপরিহার্য। ঈশ্বর তখন আপনাকে প্রচুররূপে আশীর্বাদ দান করবেন। যদি আপনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনি প্রচুর আত্মিক ফলে ফলবান হবেন। এটা যেন অবশ্যই সাধিত হয়, ঈশ্বর তা নিশ্চিত করবেন। আর যখন আপনি ঈশ্বরে বিশ্বাস দ্বারা প্রচুর ফলে ফলবান হবেন, তখন শুধু পিতাই মহিমান্বিত হবেন না, কিন্তু আপনিও মহিমান্বিত হবেন। এটাই হল বিশ্বাসের ফল। 
 
 
এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে জীবন যাপনকালে আপনাদেরকে প্রভুর ধার্মিকতায় বিশ্বাস করতে হবে
 
আপনারা কি জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারাই পাপের ক্ষমা লাভ করেন নাই? আপনারা কি ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস দ্বারাই আজকের এই দিনে তাঁর মন্ডলীতে আসেন নাই? আর এই বিশ্বাসের ফলেই কি আপনারা এখন পর্যন্ত ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করেন নাই? হ্যাঁ বাস্তবিকই তাই, এটা আপনার বিশ্বাসের কারণেই হয়েছে, যার দ্বারা আপনি এই পর্যন্ত জীবন যাপন করে এসেছেন। তাহলে, এখন আপনাকে ঈশ্বরে বিশ্বাসটা অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। আসুন, আমরা সবাই বিশ্বাসে চলি। যদি আমরা বিশ্বাসে চলি, তাহলে আমরা আশীর্বাদ প্রাপ্ত হব। যেহেতু এই জগৎ আগামী বছরগুলোতে আরো নিষ্ঠুর হবে, তাই আমাদেরকে অবশ্যই আরো বেশি করে ঈশ্বরে নির্ভর এবং তাঁতে বিশ্বাস করতে হবে। আমরা অবশ্যই আরো বেশি করি ঈশ্বরের বাক্য শুনবো এবং এতে বিশ্বাস করব। 
যারা এখনো পাপের ক্ষমা লাভ করেনি, পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য তাদেরকে অবশ্যই সুসমাচার শুনতে হতে হবে। প্রত্যেককে অবশ্যই সত্য জানতে হবে। যেহেতু বাইবেল বলে যে, শ্রবণ থেকেই বিশ্বাস আসে, তাই যতটা সম্ভব আপনাকে ঈশ্বরের বাক্য অবশ্যই শুনতে হবে। শুধু নিজে নিজে বাইবেল পাঠ না করে, আপনার উচিত হবে মন্ডলীতে গিয়ে ঈশ্বরের বাক্য শোনা। এর অর্থ এই নয় যে, নিজে নিজে বাইবেল পাঠ করা ঠিক নয়, কিন্তু নিজে নিজে বাইবেল পাঠ করার পরও আপনাকে মন্ডলীতে গিয়ে ঈশ্বরের বাক্য শুনতে হবে। ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণের দ্বারাই আপনি উর্ধ্ব থেকে প্রাপ্ত ঈশ্বরের সমস্ত আশীর্বাদ লাভ করবেন এবং বিশ্বাসে সমৃদ্ধ হবেন। লেখা আছে, 
“তাহা মস্তকে নিষিক্ত উৎকৃষ্ট তৈল-সদৃশ, 
যাহা দাড়িতে, 
হারোণের দাড়িতে ক্ষরিয়া পড়িল, 
তাঁহার বস্ত্রের গলায় ক্ষরিয়া পড়িল” (গীতসংহিতা ১৩৩:২)।
মন্ডলীতে ঈশ্বরের লোক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আপনার পূর্বসূরীদের কাছ থেকে এই আশীর্বাদ আপনার কাছে বয়ে আসে। যেহেতু ঈশ্বরের এই লোকদের বিশ্বাস মন্ডলীর প্রত্যেকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি সবচেয়ে নবীন বিশ্বাসীর কাছেও ছড়িয়ে পড়ে, তাই মন্ডলীর প্রত্যেকে একই আশীর্বাদ লাভ করে। 
জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা আমরা ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করি। আর ঈশ্বরে এবং তাঁর বাক্যে বিশ্বাস দ্বারা আমরা এই জগৎকে জয় করতে পারি। আমি এইজন্য খুবই কৃতজ্ঞ। তাই আমি আপনাদেরকে বলব, আপনারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করুন, ঈশ্বরের মন্ডলীতে শোনা তাঁর প্রতিটি বাক্যে বিশ্বাস করুন, এর উপর নির্ভর করুন এবং এই বিশ্বাস অনুশীলন করুন। নিজে যাচাই করে দেখুন, বিশ্বাসে চললে আপনাদের প্রতি কি ঘটে। আপনারা দেখতে পাবেন যে, বাস্তবিকই ঈশ্বর আপনাদের সহবর্তী আছেন, এবং আপনাদের জীবন ঈশ্বরের আশীর্বাদে পরিপূর্ণ। আপনার বিশ্বাস যদি ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সরিষা দানার মতো ক্ষুদ্রও হও, তবুও তিনি আপনার এই বিশ্বাসকে তত্ত্বাবধান করবেন এবং বৃদ্ধি দান করবেন; কারণ, তিনি আপনাকে আশীর্বাদ করতে চান। তাই আমি আপনাদেরকে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে বলব। আমার পিছনে পিছনে বলুন, “আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। ঈশ্বর আমাকে যে সমস্ত বাক্য বলেছেন, আমি তার প্রত্যেকটিই বিশ্বাস করি।” ঈশ্বরের যে সমস্ত বাক্য শুনেছেন, আপনি কি তার প্রত্যেকটিতে বিশ্বাস করেন? এটাই হল বিশ্বাস। 
কেউ নিজে নিজে বিশ্বাস লাভ করতে পারে না, কারণ বাইবেল বলে যে, বিশ্বাস আসে শ্রবণ থেকে। যখন আপনি ঈশ্বরের বাক্য শুনেন, তখন আপনার হৃদয়ে বিশ্বাস আসে। আপনার নিজের চেষ্টায় আপনি কখনোই বিশ্বাস লাভ করতে পারবেন না; যদি আপনি আপনার সমগ্র জীবন ধরে চেষ্টা করেন, তবুও না। ঈশ্বরের লোকেরা যে সমস্ত ঈশ্বরের বাক্য বলেন, তা শোনা এবং রোমন্থন করাটা আপনার জন্য অপরিহার্য; কারণ, শুধুমাত্র এরপরই আপনি ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করতে পারেন। শুধুমাত্র এরপরই আপনি পাপের ক্ষমা লাভ করতে পারেন এবং উপলব্ধি করতে পারেন যে, আপনার সমস্ত পাপ ধৌত হয়েছে। যখন আপনি ঈশ্বরের লোকদের প্রচার করা ঈশ্বরের বাক্য শুনবেন এবং বিশ্বাস করবেন যে, ঈশ্বরের বাক্য যেমন তাঁদের জীবনে পূর্ণ হয়েছে, আপনার জীবনেও তেমনি পূর্ণ হবে, তখন আপনার বিশ্বাস ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বাস সর্বদা ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ থেকেই তৈরী হয়। কারণ লেখা আছে, “অতএব বিশ্বাস শ্রবণ হইতে এবং শ্রবণ খ্রীষ্টের বাক্য দ্বারা হয়” (রোমীয় ১০:১৭)। এইজন্যই ঈশ্বরের মন্ডলী আপনার জন্য অপরিহার্য। এই জগতে বাসের সময় যদিও আমরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হই, কিন্তু যেহেতু আমরা ঈশ্বরের মানুষ, তাই আমরা অবশ্যই সর্বদা বিশ্বাসে চলব। আর যেহেতু আমরা ঈশ্বরের মানুষ, তাই আমরা সর্বদা ঈশ্বরের মন্ডলীতে এক থাকব। এখানে যে বিষয়টি আপনাকে অবশ্যই স্মরণে রাখতে হবে, তা হল- আপনি কখনো একা হবেন না। 
আজকের শাস্ত্রাংশটিতে আমাদের প্রভু বলছেন যে, তিনি দ্রাক্ষালতা এবং আমরা শাখা। দ্রাক্ষালতা থেকে কোন শাখা বিচ্ছিন্ন হলে, তা শুকিয়ে যায়। এখানে, দ্রাক্ষালতা বলতে যীশুকে বোঝানো হয়েছে। যীশুই হলে মন্ডলীর মস্তক এবং এর প্রভু। প্রত্যেক শাখারই দ্রাক্ষালতার সাথে এক থাকা উচিৎ, এর অর্থ হল- যেহেতু আপনি প্রভুতে বিশ্বাসের দ্বারা পাপের ক্ষমা লাভ করেছেন, তাই আপনাকে ঈশ্বরের মন্ডলীতে অবশ্যই এক থাকতে হবে। এইজন্য, আপনি কখনোই নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিবেন না, কিন্তু মন্ডলীর সাথে পরামর্শ করবেন, মন্ডলীর সাথে আপনার বিষয়গুলো আলোচনা করবেন, তাদের প্রার্থনা চাইবেন এবং তাদের নির্দেশ মান্য করবেন। শুধুমাত্র তখনই বিশ্বাস উৎপন্ন হবে এবং শুধুমাত্র তখনই সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলবে। 
এইজন্যই বিশ্বাসের অধিকারী লোকেরা মন্ডলীর সাথে এক থাকে। তারা সমস্ত কিছুতে মন্ডলীর সাথে পরামর্শ করে। বিশ্বাসের অধিকারী কোন লোকই নিজে নিজে তার বিশ্বাস অনুশীলন করে না। সে কোন বিষয়েই নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেয় না। বিশ্বাসের অধিকারী এই লোকেরা যখনই কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়, তারা মন্ডলীর সাথে পরামর্শ করে, একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করে, মন্ডলীর পরামর্শে বিশ্বাস করে, এবং এর নির্দেশনা অনুসরণ করে। যদিও এই লোকদেরও নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা আছে, তবুও তারা মন্ডলীর সাথে পরামর্শ করে এবং দেখে যে, ঈশ্বরের বাক্য কি বলছে। এই লোকেরা মন্ডলীর দ্বারা এবং ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাসের দ্বারা তাদের শত্রুদের জয় করে, আশীর্বাদ লাভ করে, সঠিক পথে চলে এবং এই জগৎকে জয় করে। এইজন্যই, যারা বিশ্বাসে চলে, তারা প্রত্যেকেই মন্ডলীর সাথে এক থাকে। 
অন্যদিকে, যে মন্ডলীর সাথে এক থাকে না, সে তার বিশ্বাস রক্ষা করতে পারে না। এই রকম লোকেরা নিশ্চিতভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়। আজকের শাস্ত্রাংশটিতে আমাদের প্রভু কি বলছেন, দ্রাক্ষালতার সাথে এক না থাকলে, সেই শাখার কি দশা হয়? তিনি বলেন, এটা নিচে পতিত হবে এবং শুকিয়ে যাবে, যা পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হবে। এটাই হল ঈশ্বর-কথিত সত্য। একজন মানুষ যতই বরপ্রাপ্ত এবং বলবান হোক না কেন, যদি সে দ্রাক্ষালতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে সে নিশ্চয়ই বিনষ্ট হবে। যারা দ্রাক্ষালতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাদের এই বিচ্ছিন্নতার কারণ হল, তাদের মধ্যে কোন বিশ্বাস নেই। 
একবার পাপের ক্ষমা লাভ করলে এবং আত্মিকভাবে পরিপক্ক হলে আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন যে, ঈশ্বরের মন্ডলীতে আসা এবং তাঁর বাক্য শোনাটা কতটা আশীর্বাদের বিষয়। সমস্ত আশীর্বাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ হল- ঈশ্বরের মন্ডলীতে আসা, তাঁর লোকদের সাথে এক থাকা, এবং তাঁর লোকদের মুখ দ্বারা বলা ঈশ্বরের বাক্যতে বিশ্বাস করা। আত্মিকভাবে পরিপক্ক হলে আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন যে, ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণের দ্বারাই আপনাদের আত্মা প্রাণবন্ত হয় এবং আপনাদের জীবন সমৃদ্ধ হয়। 
তাই, আপনারা কখনোই নিজেদেরকে দ্রাক্ষালতা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দিবেন না। যদি সমস্ত ধার্মিক লোকদের মধ্য থেকেও আপনার মধ্যেই শ্রেষ্ঠ বিশ্বাস থাকে এবং আপনার মধ্যে প্রভুর জন্য নিজের জীবন দেওয়ার তীব্র আকাঙ্খা থাকে, কিন্তু আপনি মন্ডলী ত্যাগ করে দেন এবং এর সহভাগিতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন, তাহলে আপনি অবশ্যই বিপথগামী হয়ে যাবেন এবং ঠিক এক কি দুই বছরের মধ্যেই পিশাচে পরিণত হবেন। মন্ডলী হল দেহের সমরূপ। মন্ডলীর প্রত্যেকেই এক অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সুতরাং, যদি আপনি নিজেকে মন্ডলী থেকে সরিয়ে নেন, তাহলে আপনি প্রয়োজনীয় আত্মিক তত্ত্বাবধান পাবেন না, ফলোশ্রুতিতে, বিনষ্ট হয়ে যাবেন। এইজন্যই, আমরা আমাদের কার্য্যকারীদেরকে খুব লম্বা সময়ের জন্য মিশন ফিল্ডে পাঠাই না। আমরা নিশ্চিত করি যে, আমাদের সমস্ত কার্য্যকারীরা নিয়মিতভাবে বাড়িতে ফিরে আসছে, যাতে তারা সহভাগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং বিপথগামী না হয়ে যায়। যদি আপনি খুব লম্বা সময়ের জন্য মন্ডলী ত্যাগ করেন, তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবেই বিনষ্ট হয়ে যাবেন। 
সুতরাং, আমরা সকলে ঈশ্বরে এবং মন্ডলীতে শোনা তাঁর বাক্যে অবশ্যই বিশ্বাস করব। শুধুমাত্র তাহলেই, আমরা বিশ্বাসের দূর্গম পথে চলতে পারব। আপনি নিজে নিজেই বিশ্বাস তৈরী করতে পারেন না। বিশ্বাস তৈরী হয় ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণের দ্বারা। সুতরাং, আমি আপনাদেরকে বলব, আপনারা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করুন, যা আপনারা আজকের এই দিনে শ্রবণ করেছেন, এবং আপনাদের বিশ্বাসের জীবন যাপন করুন। আমি আপনাদেরকে বলব, আপনারা ঈশ্বরের বাক্য শোনা চালিয়ে যান এবং এই বাক্যে বিশ্বাস দ্বারা আপনাদের জীবন যাপন করুন। তাহলে, আপনারা নিশ্চিতভাবেই সমৃদ্ধি লাভ করবেন। 
ঈশ্বরে বিশ্বাস দ্বারা চলুন। যেহেতু আপনি নিজে খুব দূর্বল, তাই আপনাকে অবশ্যই ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে হবে এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য আমরা সকলে ঈশ্বরের কাছে অবশ্যই প্রার্থনা করব। আমরা প্রভুকে অনুরোধ করব, যেন তিনি আমাদের জীবনে কার্য করেন, এবং ঈশ্বরে আমাদের যে বিশ্বাস, সেই বিশ্বাস অনুসারে আমাদেরকে আশীর্বাদ করেন; আর তাঁকে অনুরোধ করব, যেন তিনি আমাদেরকে বিশ্বাস দান করেন, যাতে আমরা বিশ্বাসে অটলভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি। অতএব আসুন আমরা সকলে বিশ্বাসে চলি এবং ঈশ্বরের অপরিসীম আশীর্বাদ লাভ করি।