শিক্ষা

বিষয় ৩: জল ও আত্মার সুসমাচার

[3-16] < যোহন ৬:১৬-২৯ পদ > ঈশ্বরের কার্যে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা

< যোহন ৬:১৬-২৯ পদ >
 “সন্ধ্যা হইলে তাঁহার শিষ্যেরা সমুদ্রতীরে নামিয়া গেলেন, এবং একখানি নৌকায় উঠিয়া সমুদ্রপারে কফরনাহূমের দিকে গমন করিতে লাগিলেন। সেই সময়ে অন্ধকার হইয়াছিল, এবং যীশু তখনও তাঁহাদের নিকটে আইসেন নাই। আর প্রবল বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় সমুদ্রে ঢেউ উঠিয়াছিল। এইরূপে দেড় বা দুই ক্রোশ বাহিয়া গেলে পর তাঁহারা যীশুকে দেখিতে পাইলেন, তিনি সমুদ্রের উপর দিয়া হাঁটিয়া নৌকার নিকটে আসিতেছেন; ইহাতে তাঁহারা ভয় পাইলেন। কিন্তু তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, এ আমি, ভয় করিও না। তখন তাঁহারা তাঁহাকে নৌকাতে গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক হইলেন; আর তাঁহারা যেখানে যাইতেছিলেন, নৌকা তৎক্ষণাৎ সেই স্থলে উপস্থিত হইল। পর দিন, যে জনসমূহ সমুদ্রের অন্য পারে দাঁড়াইয়াছিল, তাহারা দেখিয়াছিল যে, সেখানে একখানি বই আর নৌকা নাই, এবং যীশু শিষ্যদের সহিত সেই নৌকাতে উঠেন নাই, কেবল তাঁহার শিষ্যেরা প্রস্থান করিয়াছিলেন। কিন্তু তিবিরিয়া হইতে কয়েকখানি নৌকা, যেখানে প্রভু ধন্যবাদ করিলে লোকেরা রুটি খাইয়াছিল, সেই স্থানের নিকটে আসিয়াছিল। -অতএব লোকেরা যখন দেখিল, যীশু সেখানে নাই, তাঁহার শিষ্যেরাও নাই, তখন তাহারা সেই সকল নৌকায় চড়িয়া যীশুর অন্বেষণে কফরনাহূমে আসিল। আর সমুদ্রের পারে তাঁহাকে পাইয়া কহিল, রব্বি, আপনি এখানে কখন্ আসিয়াছেন? যীশু তাহাদিগকে উত্তর করিয়া কহিলেন, সত্য, সত্য, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তোমরা চিহ্ন-কার্য দেখিয়াছ বলিয়া আমার অন্বেষণ করিতেছ, তাহা নয়; কিন্তু সেই রুটি খাইয়াছিলে ও তৃপ্ত হইয়াছিলে বলিয়া। নশ্বর ভক্ষ্যের নিমিত্ত শ্রম করিও না, কিন্তু সেই ভক্ষ্যের জন্য শ্রম কর, যাহা অনন্ত জীবন পর্যন্ত থাকে, যাহা মনুষ্যপুত্র তোমাদিগকে দিবেন, কেননা পিতা-ঈশ্বর-তাঁহাকেই মুদ্রাঙ্কিত করিয়াছেন। তখন তাহারা তাঁহাকে কহিল, আমরা যেন ঈশ্বরের কার্য করিতে পারি, এ জন্য আমাদিগকে কি করিতে হইবে? যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাদিগকে কহিলেন, ঈশ্বরের কার্য এই, যেন তাঁহাতে তোমরা বিশ্বাস কর, যাঁহাকে তিনি প্রেরণ করিয়াছেন।”
 
 
আজকে আমরা যোহন লিখিত সুসমাচারের ৬:১৬-২৯ পদ পাঠ করলাম। যোহন ৬:২৮-২৯ পদে লেখা আছে, “তখন তাহারা তাঁহাকে কহিল, আমরা যেন ঈশ্বরের কার্য করিতে পারি, এ জন্য আমাদিগকে কি করিতে হইবে? যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাদিগকে কহিলেন, ঈশ্বরের কার্য এই, যেন তাঁহাতে তোমরা বিশ্বাস কর, যাঁহাকে তিনি প্রেরণ করিয়াছেন।” ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, যখন আমরা তাঁতে বিশ্বাস করি, তখন ঈশ্বরের হৃদয় উৎফুল্ল হয়। ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে এটাই চান এবং আজকে শাস্ত্রাংশটি আমাদেরকে এই শিক্ষায় দেয়। সেইজন্য, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। 
এর আগে, যীশু আশ্চর্যভাবে মাত্র পাঁচটি রুটি এবং দুইটি মাছ দিয়ে ৫,০০০ ক্ষুদার্ত লোককে খাইয়েছিলেন। এরপরে, আমাদের প্রভু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে গালীলের সমুদ্রের ওপারে কফরনাহূমে গেলেন; কিন্তু ইস্রায়েলের যে লোকেরা সেই পাঁচটি রুটি এবং দুইটি মাছ দিয়ে খেয়েছিল, তারা সেখানেও যীশুকে অনুসরণ করল। এখানে লেখা আছে যে, শিষ্যেরা যীশুকে ছাড়া একারাই নৌকাতে উঠল এবং গালীলের সমুদ্রের ওপারে কফরনাহূমে যাত্রা করল। যীশু অবশ্যই তাদেরকে তাঁর আগে যেতে বলেছিলেন, আর তিনি তাঁদেরকে অনুসরণ করবেন। তাই তারা একারাই নৌকায় করে যাচ্ছিল। যখন শিষ্যেরা সমুদ্রতীর থেকে দূরে ছিল, আনুমানিক তিন কি চার মাইল, তখন তারা এক বিরাট ঝড়ের কবলে পড়ল, তাদের নৌকা জলে ডুবে যেতে লাগল। 
যখন শিষ্যেরা জল থেকে রক্ষা পেতে প্রাণপণ চেষ্টা করছিল ভয়ে কাঁপছিল, তখন তারা হঠাৎ প্রভুকে তাদের দিকে আসতে দেখল, তিনি সেই উন্মত্ত ঢেউ ভেঙ্গে জলের উপর দিয়ে তাদের কাছে হেঁটে আসছিলেন। শিষ্যেরা খুব ভয়ে পেয়ে গিয়েছিল, কারণ তারা ভেবেছিল যে, তারা একটা ভূত দেখছে। যাইহোক, যীশু যখন কাছে আসলেন, তখন তিনি তাদেরকে বললেন, “এ আমি, ভয় করিও না।” যখন তারা বুঝতে পারল যে, ইনি যীশু, তখন তারা যীশুকে নিজেদের সাথে নৌকায় নিল; আর যীশু নৌকায় উঠার সাথে সাথেই হঠাৎ ঢেউ শান্ত হয়ে গেল। 
পর দিন, যে জনসমূহকে যীশু বিনামূল্যে খাইয়েছিলেন, তারা যখন যীশুকে এবং তাঁর শিষ্যদের কফরনাহূমে যেতে দেখল, তখন তাদের অনেকেই যীশুকে অনুসরণ করতে সমুদ্র পার হয়ে গেল। ঠিক কতজন লোক ছিল শাস্ত্রে তার উল্লেখ নেই। হাজারও হতে পারে অথবা ১০,০০০ এর বেশিও হতে পারে। কিন্ত এটা পরিষ্কার যে, একটা বিশাল জনসমুদ্রই যীশকে অনুসরণ করছিল। 
যখন যীশু জনসমূহকে দেখলেন যে, তারা কফরনাহূম পর্যন্ত তাঁকে অনুসরণ করেছে, তখন তাদেরকে বললেন, “আমি তোমাদেরকে সেই রুটি খাইয়েছিলাম বলে কি তোমরা এতটা রাস্তা আমাকে অনুসরণ করেছো, নাকি চিহ্ন-কার্য দেখেছো বলে আমার অনুসরণ করছো? যদি তোমরা চিহ্ন-কার্য দেখে আমাকে অনুসরণ করে থাকো এবং সেইজন্য আমাতে বিশ্বাস করে থাকো, তাহলে তোমরা ঠিক জায়গায়ই এসেছো। কিন্তু যদি তোমরা আমাকে আর কয়েকটি রুটির জন্য অনুসরণ করে থাকো, তাহলে তোমরা ভুল করেছো। তোমরা যে খাদ্যের অন্বেষণ করছো, তা তোমাদের ক্ষুধা দীর্ঘ সময়ের জন্য নিবারণ করতে পারে না। নশ্বর ভক্ষ্যের জন্য শ্রম কর না, কিন্তু সেই ভক্ষ্যের জন্য শ্রম কর, যাহা অনন্ত জীবন পর্যন্ত থাকে।”
তখন সেই জনসমুদ্র যীশুকে বলল, “আমরা যেন ঈশ্বরের কার্য করিতে পারি, এ জন্য আমাদিগকে কি করিতে হইবে?” যীশু উত্তর দিলেন, “ঈশ্বরের কার্য এই, যেন তাঁহাতে তোমরা বিশ্বাস কর, যাঁহাকে তিনি প্রেরণ করিয়াছেন।” এখানে আমাদের প্রভু যথেষ্ট পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ করা। পরিত্রাণ লাভের পর কিছু সময় আমরা ভাবি যে, ঈশ্বরের কাজ করার জন্য আমরা কি করব? আমরা ঠিক জানি না যে, ঈশ্বরের কাজ করতে হলে আমাদের কি করতে হবে এবং কিভাবে করতে হবে, তাই আমরা এই প্রশ্ন নিয়ে বেশ ভুগি।
 
 
ঈশ্বরের কাজ হল- তিনি যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করা
 
অনেক খ্রীষ্টানই বুঝতে পারে না যে, ঈশ্বরের কাজ করতে হলে তাদেরকে কি করতে হবে। তাই তারা কয়েকটি রুটির জন্য প্রভুর পিছনে ঘুরে বেড়ানো লোকদের মতো নিজেদের মাংসিক প্রয়োজন মিটানোর জন্য প্রভুকে অনুসরণ করে। যাইহোক, আমাদের প্রভু আমাদেরকে নশ্বর ভক্ষ্যের জন্য শ্রম করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদেরকে বলেছেন, যদি আমরা ঈশ্বরের কাজ করতে চাই, তাহলে ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, আমাদেরকে অবশ্যই তাঁতে বিশ্বাস করতে হবে। ইনি হলেন যীশু খ্রীষ্ট। আমাদের প্রভু ঈশ্বর এই জগৎকে এমন প্রেম করলেন যে, তিনি তাঁর এক জাত পুত্রকে দান করলেন। পিতা কর্তৃক প্রেরিত এই ঈশ্বর পুত্রে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ করা। 
আমাদের প্রভু পিতা ঈশ্বরই যীশু খ্রীষ্টকে এই জগতে পাঠিয়েছেন। মনুষ্যপুত্রে পিতা ঈশ্বরের সীল দেওয়া হয়েছে, এর অর্থ হল- পিতা ঈশ্বর তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টকে মানবজাতির একমাত্র ত্রাণকর্তা হিসেবে এই জগতে পাঠিয়েছেন, যাতে তাঁর মাধ্যমে এই জগতের সমস্ত মানুষ তাদের পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে এবং তাঁর সন্তান হতে পারে। এর অর্থ হল- যীশু খ্রীষ্ট ছাড়া মানবজাতির আর কোন ত্রাণকর্তা নেই। কারণ বাইবেল বলে, আকাশমন্ডলের নিচে এমন আর কোন নাম নেই, যে নামে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি। 
পিতা ঈশ্বরই এই আকাশমন্ডল ও পৃথিবী, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মান্ড এবং তন্মধ্যস্থ সমস্ত কিছুই সৃষ্টি করেছেন। পিতা ঈশ্বরই তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টকে প্রেরণের দ্বারা আমাদেরকে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করলেন এবং আমাদেরকে স্বর্গে প্রবেশের আশীর্বাদ দান করলেন। এইজন্যই শাস্ত্র বলে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ করা। অন্যকথায়, যীশু খ্রীষ্টকে আপনার ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ। ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, শুধুমাত্র তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ। 
 
 
যীশু খ্রীষ্টে, ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত ত্রাণকর্তায় বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ
 
ঈশ্বরের কাজ করার জন্য আমরা সর্বান্তঃকরণে উদগ্রীব থাকি, এবং আমরা অনবরত চিন্তা করি যে, তাঁর কাজ করার জন্য আমরা কি করতে পারি। কিন্তু এই বিষয়টি আমরা যতটা ভাবি, ততটা জটিল নয়; বাইবেল বলে যে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁকে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ। যীশু খ্রীষ্টকে ঈশ্বর এই জগতে পাঠিয়েছেন। যীশু খ্রীষ্ট মানব দেহ ধারণ করে এই জগতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, এবং যীশু খ্রীষ্টই যর্দন নদীতে বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ নিজে বহন করেছিলেন। 
আমরা সকলেই মাংসিক এবং দূর্বল মানুষ, কারণ এখনো আমাদের দেহে মাংস আছে, আর আমাদের এই মাংস আমাদের মৃত্যু দিন পর্যন্ত  পাপ করে। তথাপি, যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সমস্ত পাপ বহন করলেন। বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা তিনি আমাদের সমস্ত পাপ নিজের দেহে নিয়ে নিলেন, এবং আমাদের জায়গায় নিজে ক্রুশারোপিত ও রক্ত সেচনের দ্বারা এই সমস্ত পাপের বিনাশ সাধন করলেন এবং আমাদেরকে পরিত্রাণ করলেন। মৃত্যু থেকে তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হয়ে এখন তিনি পিতা ঈশ্বরের সিংহাসনের দক্ষিণে বসে আছেন এবং তিনি সমগ্র মানবজাতির ত্রাণকর্তা হয়েছেন। এইজন্য, ঈশ্বরের কাজ করার অর্থ হল- ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, সর্বপ্রথমে সেই যীশু খ্রীষ্ট আমাদের ত্রাণকর্তাতে বিশ্বাস করা। যীশুই আমাদের পরিত্রাণ করেছেন, সমস্ত অন্তঃকরণে এটা বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ। এটাই হল ঈশ্বরের ইচ্ছা এবং সংকল্প ।
তাহলে, ঈশ্বরের কাজ করতে হলে আমাদেরকে কি করতে হবে? সর্বপ্রথমে যীশু খ্রীষ্টকে আমাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করতে হবে। যীশুতে সর্বান্তঃকরণে বিশ্বাস করার পরির্বতে আপনি কি কোনভাবে নিজের চেষ্টায় ঈশ্বরের কাজ করার চেষ্টা করছেন? আপনি ঈশ্বরের জন্য কিছু করছেন বলেই বিষয়টা এমন এটা নয় যে, আপনি তাঁর কাজ করছেন। বরং, ঈশ্বরের কাজ করার অর্থ হল- ঈশ্বরের আশ্চর্য কাজ এবং পরিত্রাণে বিশ্বাস করা, যা তিনি আমাদের সমস্ত পাপ মোচনের দ্বারা সাধন করেছেন। 
সুতরাং, আমরা বিশ্বাসীরা, যারা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস দ্বারা পাপের ক্ষমা লাভ করেছি, আমরা ঈশ্বরের কাজ করছি। প্রভুর কাজ করার জন্য আমি অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছি। অতীতে, আমি ভাবতাম যে, ঈশ্বরের কাজ করার জন্য আমাকে অনেক অর্থ উপার্জন করতে হবে। আমার মধ্যে এই ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে, আমি বিশ্ববিদ্যালয় কম্পাউন্ডের মতো অনেকগুলো বিল্ডিং নিয়ে একটা মস্ত গীর্জা কম্পাউন্ড তৈরী করব, যেখানে একটি বিল্ডিংয়ে আরাধনা, আরেকটিতে পড়াশোনা, অন্যটিতে বিনোদন- এভাবে প্রত্যেকটি  বিল্ডিং ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে। আমি যখন পাপী ছিলাম, তখনও এই স্বপ্ন দেখতাম। যাইহোক, বাইবেল বলে যে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ। ঈশ্বর কাকে পাঠিয়েছেন? তিনি কি যীশু খ্রীষ্ট, মানবজাতির একমাত্র ত্রাণকর্তা নন? পরিত্রাতা ঈশ্বরে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ করা। 
 
 
ঈশ্বরের কাজ করতে আমরা এরপর কিসে বিশ্বাস করব?
 
আমরা বিশ্বাস করব যে, এই জগতের সমস্ত পাপ যীশু খ্রীষ্টের উপরে অর্পন করার জন্য পিতা ঈশ্বর যোহন বাপ্তাইজকে এই জগতে পাঠিয়েছেন। যখন আমরা যোহন লিখিত সুসমাচারের ১ম অধ্যায় দেখি, আমরা দেখতে পাব বাইবেল বলছে, “এক জন মনুষ্য উপস্থিত হইলেন, তিনি ঈশ্বর হইতে প্রেরিত হইয়াছিলেন, তাঁহার নাম যোহন। তিনি সাক্ষ্যের জন্য আসিয়াছিলেন, যেন সেই জ্যোতির বিষয়ে সাক্ষ্য দেন, যেন সকলে তাঁহার দ্বারা বিশ্বাস করে” (যোহন ১:৬-৭)। এই অনুচ্ছেদের মানুষটি হলেন যোহন বাপ্তাইজক, যিনি যীশুর বারো জন শিষ্যের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অনুচ্ছেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটি হলেন, অবশ্যই, যীশু খ্রীষ্ট। আর পরের জন হলেন যোহন বাপ্তাইজক। এর পরে গুরুত্বপূর্ণ হলেন যীশুর বারো জন শিষ্য এবং পুরাতন নিয়মে ঈশ্বরের সমস্ত দাস এবং লোকেরা। 
বাইবেল বলে যে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁকে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ। তাহলে, চলুন আমরা যোহন লিখিত সুসমাচারের ১ম অধ্যায় পাঠ করি এবং দেখি যে, সত্যি সত্যিই যোহন বাপ্তাইজক ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত হয়েছিলেন কিনা? যোহন ১:৫-১২ পদে লেখা আছে, “আর সেই জ্যোতি অন্ধকারের মধ্যে দীপ্তি দিতেছে, আর অন্ধকার তাহা গ্রহণ করিল না। এক জন মনুষ্য উপস্থিত হইলেন, তিনি ঈশ্বর হইতে প্রেরিত হইয়াছিলেন, তাঁহার নাম যোহন। তিনি সাক্ষ্যের জন্য আসিয়াছিলেন, যেন সেই জ্যোতির বিষয়ে সাক্ষ্য দেন, যেন সকলে তাঁহার দ্বারা বিশ্বাস করে। তিনি সেই জ্যোতি ছিলেন না, কিন্তু আসিলেন, যেন সেই জ্যোতির বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। প্রকৃত জ্যোতি ছিলেন, যিনি সকল মনুষ্যকে দীপ্তি দেন, তিনি জগতে আসিতেছিলেন। তিনি জগতে ছিলেন, এবং জগৎ তাঁহার দ্বারা হইয়াছিল, আর জগৎ তাঁহাকে চিনিল না। তিনি নিজ অধিকারে আসিলেন, আর যাহারা তাঁহার নিজের, তাহারা তাঁহাকে গ্রহণ করিল না। কিন্তু যত লোক তাঁহাকে গ্রহণ করিল, সেই সকলকে, যাহারা তাঁহার নামে বিশ্বাস করে তাহাদিগকে, তিনি ঈশ্বরের সন্তান হইবার ক্ষমতা দিলেন।”  
এই অনুচ্ছেদটি এখানে যীশু খ্রীষ্ট এবং যোহন বাপ্তাইজকের বিষয়ে বলছে। ৬ ও ৭ পদে কি লেখা নেই, “এক জন মনুষ্য উপস্থিত হইলেন, তিনি ঈশ্বর হইতে প্রেরিত হইয়াছিলেন, তাঁহার নাম যোহন। তিনি সাক্ষ্যের জন্য আসিয়াছিলেন, যেন সেই জ্যোতির বিষয়ে সাক্ষ্য দেন, যেন সকলে তাঁহার দ্বারা বিশ্বাস করে”?  তাহলে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ। আর এখানে ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত মানুষ হলেন যোহন বাপ্তাইজক। আর তিনি হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যাঁকে ঈশ্বর বিশেষভাবে প্রেরণ করেছিলেন।  
ঈশ্বরের কাজ করব বলে আমরা প্রত্যেকেই দৌঁড়াদৌড়ি করতে পারি এবং ব্যস্ত সময় কাটাতে পারি। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে এটা চান না। ঈশ্বর চান, তিনি যাঁকে পাঠিয়েছেন, আমরা যেন তাঁতে বিশ্বাস করি। এটাই হল ঈশ্বরের কার্য, আর ঈশ্বর এটাই চান। ঈশ্বরের ইচ্ছা না বুঝেই নিজেদের চেষ্টায় তাঁর কার্য করার চেয়ে আমাদের উচিত হবে তাঁর ইচ্ছা বোঝা এবং তিনি যাঁকে পাঠিয়েছেন তাঁতে বিশ্বাস করা। 
ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন যোহন বাপ্তাইজক, কারণ বাইবেল বলে, “এক জন মনুষ্য উপস্থিত হইলেন, তিনি ঈশ্বর হইতে প্রেরিত হইয়াছিলেন, তাঁহার নাম যোহন। তিনি সাক্ষ্যের জন্য আসিয়াছিলেন, যেন সেই জ্যোতির বিষয়ে সাক্ষ্য দেন, যেন সকলে তাঁহার দ্বারা বিশ্বাস করে” (যোহন ১:৬-৭)। এখানে ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত ব্যক্তিটি কে? তিনি হলেন যোহন বাপ্তাইজক।
আপনারা কি এখন বিশ্বাস করছেন যে, ঈশ্বর কর্তৃক একজন মানুষ প্রেরিত হয়েছিলেন, আর তিনি হলেন যোহন বাপ্তাইজক? যোহন বাপ্তাইজক প্রভুর বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। আর তিনি সমস্ত মানবজাতির প্রতিনিধি এবং শেষ ভাববাদী হিসেবে এসেছিলেন। নারীর গর্ভে জাত প্রত্যেকের মধ্যে তিনিই সর্বশেষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি যীশুকে যর্দন নদীতে বাপ্তাইজিত করেছিলেন এবং আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পন করেছিলেন। আর তিনি যীশুকে আমাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে প্রচার করেছিলেন, তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, “ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান!”
যোহন বাপ্তাইজক এইরকম সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যেন, যীশু খ্রীষ্টকে তিনি যে বাপ্তিস্ম দিয়েছিলেন, সেই বাপ্তিস্মের সাক্ষ্য দ্বারা অনেকেই তাঁতে বিশ্বাস করে। বাইবেল বলে যে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ করা। যীশু ছাড়াও ঈশ্বর যোহন বাপ্তাইজককেও পাঠিয়েছিলেন। এটা এই বিষয়কে নির্দেশ করে যে, যীশু এবং যোহন বাপ্তাইজক উভয়ে যে কার্য করেছিলেন, তাতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। 
অন্যকথায়, যোহন বাপ্তাইজকের কার্যে বিশ্বাস করা হল ঈশ্বরের কার্য করা। আজকের অনেক খ্রীষ্টানই শুধুমাত্র যীশুর ক্রশীয় রক্তে বিশ্বাস করে, কিন্তু তারা যোহন বাপ্তাইজকের কার্যকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু বাইবেল অনুসারে এটি ঠিক বিশ্বাস নয়। এটাকে ঈশ্বরের কার্য করা বলে না। যখন আমরা সুসমাচার প্রচার করি, তখন যদি আমরা যোহন বাপ্তাইজকের কার্য সম্পর্কে প্রচার না করি, ঈশ্বর তাঁকে কিভাবে পাঠিয়েছেন এবং ঈশ্বর কিভাবে তাঁর মাধ্যমে মানবজাতির সমস্ত পাপ যীশুর উপরে অর্পন করলেন-এটা প্রচার না করি, তাহলে আমরা ঈশ্বরের কার্য করছি না। যে কেউই দাবী করতে পারে যে, তারা জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করছে। কিন্তু যখন আমরা যীশু এবং যোহন বাপ্তাইজকের কার্য সম্পর্কে প্রচার করি, শুধুমাত্র তখনই বলতে পারি যে, আমরা জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করছি। 
যীশু এবং যোহন বাপ্তাইজকের কার্য, অর্থাৎ যোহন বাপ্তাইজকের নিকট নেওয়া বাপ্তিস্মের দ্বারা যীশু কিভাবে জগতের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিলেন এবং প্রায়শ্চিত্ত কার্য সম্পন্ন করলেন- যতক্ষণ আমরা এই বিষয়টি প্রচার না করছি, ততক্ষণ আমরা ঈশ্বরের কার্য করছি না; আমরা যীশুকে যতই বিশ্বাস এবং প্রচার করি না কেন, আমরা ঈশ্বরের কার্য করছি না। এইজন্য আমরা যখনই জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করি, তখন আমরা অবশ্যই যীশু খ্রীষ্ট এবং যোহন বাপ্তাইজকের কার্য সম্পর্কে একসাথে প্রচার করব, কারণ ঈশ্বর তাঁদের উভয়কেই এই জগতে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁদের মাধ্যমেই ঈশ্বর আমাদেরকে আমাদের সমস্ত পাপ হতে পরিত্রাণ করেছেন। 
 
 
ঈশ্বরের কার্য করার ক্ষেত্রে তৃতীয় করণীয়টি কি? 
 
আমরা সকলেই মনে করতে পারছি, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। ঈশ্বরের লোকেরাও ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত। এর অর্থ হল- ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করাটাও হল ঈশ্বরের কার্য করা। 
পুরাতন নিয়মে ঈশ্বর তাঁর অনেক লোকদের প্রেরণ করেছিলেন, মোশি থেকে শুরু করে অব্রাহাম, যাকোব, যিহিষ্কেল, দানিয়েল, মালাখি, হবক্কূক, নহিমিয়, যিরমিয় এবং আরো অনেককেই প্রেরণ করেছিলেন। নূতন নিয়মে ছিলেন যীশুর বারো জন শিষ্য এবং তাঁদের পৈরিতিক তত্ত্বাবধানের মধ্যে আরো অনেক ঈশ্বরের লোক। ঈশ্বরের প্রথম প্রেরিত যীশু খ্রীষ্ট যাঁদেরকে প্ররণ করেছিলেন, তাঁদেরকে বিশ্বাস করাটাই ঈশ্বরের কার্য। তাঁরা যা বলেন, তাতে অন্ধভাবে বিশ্বাস করাই শুধু নয়, কিন্তু তাঁরা যে ঈশ্বরের লোক, এটা বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। বাইবেল বলে যে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। 
আপনি যদি ঈশ্বরের লোকদের চিনতে না পারেন, তাহলে আপনি ঈশ্বরের কার্য করছেন না। আর আপনি সত্যিকারে ঈশ্বরে বিশ্বাসও করছেন না। আমি খুবই কৃতজ্ঞ যে, আপনারা আমাকে ঈশ্বরের একজন লোক হিসেবে বিশ্বাস করেন। ব্যক্তিগতভাবে, আমি এটা কল্পনাতেও ভাবি না যে, আমি আপনাদেরকে আমার নিজের উপরে বিশ্বাস করতে বলব। কিন্তু অনেক ভাক্ত ভাববাদী আছে, যারা খুবই জঘন্য দাবী করে, আর কিছু তো নিজেদেরকে যীশু বলেই দাবী করে। 
আমি আপনাদেরকে কোনভাবেই আমার নিজের উপরে বিশ্বাস করতে বলতে পারি না। বরঞ্চ, আমি আর যে কারো মতো স্বার্থপর এবং অযোগ্য, তাই আমি একটি সৎ বিবেক নিয়ে আপনাদের বলতে পারি না যে, আপনারা আমাতে বিশ্বাস করুন। আমি আপনাদেরকে বলতে পারি না যে, অন্যদের চেয়ে যেহেতু আমি একটু ভাল, তাই আপনারা আমাতে বিশ্বাস করুন। যাইহোক, আমি যদি আপনাদেরকে কিছু বলতে পারি, তা হল- আমাকে ঈশ্বরের লোক বলে বিশ্বাস করতে পারেন। অন্যকথায়, যদিও আমি ভুল-ত্রুটি নিয়ে একজন অযোগ্য মানুষ, কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার যে, ঈশ্বরের প্রেরিত অন্য ঈশ্বরের লোকদের মতোই আমি সত্যে বিশ্বাস করি এবং সত্য প্রচার করি। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যদি আপনারা আমার প্রচার করা জল ও আত্মার সুসমাচারে এবং ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনারা শুধু অনন্ত জীবন এবং পাপের ক্ষমাই লাভ করবেন না, কিন্তু আপনারা জাগতিকভাবেও উন্নতি লাভ করবেন। 
এই বিষয়টি আমাকে খুব উদ্বুদ্ধ করে। যদিও আমি প্রচার করি, কিন্তু আমি এটি নিজের বিষয়ে প্রচার করি না, কিন্তু ঈশ্বরের বাক্যই প্রচার করি। যেহেতু আমি যীশু খ্রীষ্টের ধার্মিকতায়, তাঁর প্রজ্ঞায়, তাঁর জ্ঞানে এবং তাঁর ইচ্ছায় বিশ্বাস করি, তাই আমি আপনাদেরকে বলব- আপনারা ঈশ্বরের প্রেরিত লোকদের বিশ্বাস করবেন। ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। 
 
 
আপনি একটি বিশ্বাসের জীবন শুধুমাত্র তখনই যাপন করতে পারবেন, যখন আপনি ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করবেন
 
শুধুমাত্র যখনই আপনি ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করবেন, তখনই আপনি তাঁদের প্রচার করা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করতে পারবেন, পাপের ক্ষমা লাভ করতে পারবেন, তাঁদের নির্দেশনানুসারে আপনার প্রাত্যহিক জীবন যাপন করতে পারবেন এবং যথাযথভাবে আপনার বিশ্বাসের জীবন যাপন করতে পারবেন। 
যখন আমরা ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র তখনই আমরা এভাবে বিশ্বাস ও জীবন যাপন করতে পারি। আর আমরা অগণিত আশীর্বাদ লাভ করতে পারি। যদি আপনি এবং আমি ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস না করি, যদি এখানের পাস্টর এবং যাজকদের ঈশ্বরের প্রকৃত লোক হিসেবে বিশ্বাস না করি, তাহলে কি ঘটবে? এর ফল হবে- আমরা এমনকি ঈশ্বরেও বিশ্বাস করতে পারব না। 
এমনটি কেন হবে? এমনটি হবে কারণ- যদিও ঈশ্বর নিজেই বাক্য, কিন্তু তিনি তাঁর লোকদের ছাড়া কোন কাজ করতে পারেন না। এটি তিনি আমোষ ভাববাদীকে বলেছিলেন। অন্যকথায়, পরিত্রাণ থেকে শুরু করে বিশ্বাসে জীবন যাপন, প্রজ্ঞা, অনন্ত জীবন, সমস্ত আশীর্বাদ লাভের উপায়- এ সমস্ত বিষয়ই ঈশ্বর প্রথমে তাঁর লোকদের শিক্ষা দেন; অতঃপর তাঁদের দ্বারা ঈশ্বর সমস্ত বিশ্বাসীদের কাছে এ সমস্ত বিষয়ে শিক্ষা দেন। 
এইজন্যই আমাদেরকে ঈশ্বরের লোকদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। তাহলে আপনাদের বিষয়টি কেমন? আপনারা কি ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করেন? ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বর যাঁদের পাঠিয়েছেন, তাঁদের বিশ্বাস করা; আর এটাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। পরিত্রাণ লাভের পরও কিছু মানুষ ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করে না। তারা বলে যে, ঈশ্বরের লোকদের ছাড়াও তারা কোন ধরণের সমস্যা ছাড়াই তাদের বিশ্বাসের জীবন যাপন করতে পারে। যাইহোক, এটা কোনভাবেই ঠিক নয়। 
যদি আপনারা মন্ডলীতে না আসেন, ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস না করেন এবং তাঁদের কথা না শোনেন, তাহলে আপনি আপনার বিশ্বাসের জীবন যথাযথভাবে যাপন করতে পারবেন না। যদি আপনারা প্রতিদিন চেয়ারে বসে শুধু টিভিই দেখতে থাকেন, অর্থহীন কাজ করেন, এবং মাংসিক বিষয়েই ধ্যান-মগ্ন থাকেন, তাহলে আপনারা যতই পরিত্রাণ প্রাপ্ত হন না কেন, আপনারা নিরবচ্ছিন্ন বাঁধার এবং কষ্টের সম্মুখীন হবেন। শুধুমাত্র যখনই আপনারা ঈশ্বর-নিযুক্ত লোকদের দ্বারা বাক্য শ্রবণ করেন, তখন আপনারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে পারেন। আর ঈশ্বরের বাক্যে এই বিশ্বাসের দ্বারা তাঁর কার্য করতে পারেন। 
আমার জন্যই বিষয়টি একই। যদি আমি অযোগ্য মানুষ হতাম, তাহলে আমারও এমন লোক দরকার যে আমার কাছে বাক্য প্রচার করবে।  কেউ যদি আমার কাছে বাক্য প্রচার না করত, তাহলে আমি আমার বিশ্বাসের জীবন যাপন করতে পারতাম না। আমি আমার জীবনে সমস্ত ধরণের বিষয় চেষ্টা করেছি। একদা আমি অজ্ঞ লোক ছিলাম, পরিত্রাণ লাভের পরও আমি সমস্ত ধরণের কাজ করেছি। এমন কোন কাজ নেই, যা আমি করি নাই; যা যা করা যায়, আমি প্রায় সমস্ত ধরণের কাজই করেছি। তাই আমি জানি আপনারা কেমন অনুভব করেন। প্রভুর আরাধনা করতে হবে, এই বিষয়ে আপনাদের যে অনুভূতি, তা আমি খুব ভাল করেই জানি।
ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করার অর্থ হল- এটা বিশ্বাস করা যে, তাঁরা ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত এবং নিযুক্ত। তাহলে, ঈশ্বর কাদের জন্য তাঁর এই লোকদের প্রেরণ করেছেন? আপনার এবং আমার, আমাদের জন্যই তিনি তাঁদেরকে পেরণ করেছেন এবং এটা বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। 
যদি আমরা ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস না করতে পারি, তাহলে আমরা কিভাবে আমাদের বিশ্বাসের জীবন যাপন করতে পারব? যদি আমরা ঈশ্বরের এই লোকদের বিশ্বাস না করতে পারি, তাহরে আমরা পিতা ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত যীশু খ্রীষ্ট এবং যোহন বাপ্তাইজকেও বিশ্বাস করতে পারব না। যদি আমরা ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস না করতে পারি, তাহলে পরিত্রাণ লাভের পরও আমরা কিভাবে আমাদের জীবনে বিশ্বাস ও আশীর্বাদ লাভ করতে পারব? আমরা কিভাবে কোন নির্দেশনা লাভ করতে পারব? আমরা ঈশ্বর-নিযুক্ত লোকদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করব।  
তথাপি, কিছু মানুষ এখনো ঈশ্বর নিযুক্ত লোকদের বিশ্বাস করে না। যদি আপনারা এমনটা করেন, তাহলে আপনাদের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাবে। এটা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এখনো চারপাশে এমন মানুষ আছে। তারা শুধুমাত্র ঈশ্বরের লোকদের বিরোধীতাই করে না, কিন্তু তারা উল্টো বলে যে, ঈশ্বরের লোকদেরই তাদের কথা শুনতে হবে। কিন্তু ঈশ্বরের লোকেরা কি তাদের কথা শুনবেন? এটা এমন হল যে, ছাত্র শিক্ষককে বলছে যে, তারা উভয়েই শিক্ষকতা করবে। তাহলে বিদ্যালয়ের কোন প্রয়োজন হতো না। যদি কোন ছাত্রই না থাকে, তাহলে বিদ্যালয় থাকার মানে কি? যদি মন্ডলীর প্রত্যেকেই শিক্ষাগুরু এবং ঈশ্বর-নিযুক্ত লোক হতো, তাহলে বাক্য শোনার মতো কোন মানুষই অবশিষ্ট থাকতো না। তাহলে মন্ডলীরও কোন প্রয়োজনীয়তা থাকতো না। আমরাও সকলেই বাড়ী চলে যেতাম। তথাপি, দুঃখের বিষয়, কম মানুষই এভাবে চিন্তা করে। 
তাই, মন্ডলী আসতে না চেয়ে তারা ঈশ্বরের লোকদের বিপক্ষেই যায়, তারা বলে, “শুধুমাত্র আপনিই ঈশ্বরের লোক নন, কিন্তু আমিও ঈশ্বরের লোক!” আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, শুধুমাত্র বেপোরোয়া লোকেরাই এই কথা বলতে পারে। কারণ বাইবেলে লেখা আছে, যখন যীশুকে জিজ্ঞেস করা হল যে, ঈশ্বরের কাজ করতে হলে তাদেরকে কি করতে হবে, তখন তিনি তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বললেন যে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। ঈশ্বরের লোকদের না চেনা এবং তাঁদের অবিশ্বাস করাটা হল শাস্ত্রের এই শিক্ষার বিপরীত, আর এটা অবশ্যই নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে। 
 
 
সত্যের বাক্যে বিশ্বাস থেকেই বিশ্বাসের প্রকৃত কার্য আসে
 
যখন লোকেরা পরিত্রাণ লাভ করে, তখন তারা প্রথমে ঈশ্বরের বাক্য শোনে এবং আত্মার খাদ্য সঞ্চয় করে। তাই তারা বলবান হয় এবং অগণিত রোগ-শোক থেকে আরোগ্য লাভ করে। যখন আপনারা পাপের ক্ষমার লাভ করেন, তখন এটাই শেষ নয়। যখন লোকেরা তাদের হৃদয়ের সমস্ত পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভ করে, তখন তারা সমস্ত ধরণের রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে। বাস্তবিকভাবে, এটাই ঘটে থাকে। যাদের স্বাস্থ্য খারাপ, তারা ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। ভাল স্বাস্থ্য লাভ করে কিছু মানুষ চিন্তা করতে শুরু করে, “এখন যেহেতু আমি সুস্বাস্থ্য ফিরে পেয়েছি, তাহলে আমার মন্ডলীতে যাওয়ার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। আমি জগতে ফিরে যাব এবং ধনবান হব।” আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, এটা সম্পূর্ণরূপে ভুল ধারণা।
এই রকম লোকদের চেয়ে বেপোরোয়া আর কোন মানুষ হতে পারে না। তথাপি, এখনো এমন মানুষ আছে, যারা জেঁদ ধরে এবং ঈশ্বরের লোকদের কথা শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাবে। আপনার বিশ্বাস যতই ভাল হোক না কেন, এবং আপনি যত বুদ্ধিমানই হোন না কেন, ঈশ্বর তাঁর এই লোকদের তুলেছেন যেন আপনি এঁদের দ্বারা তাঁর বাক্যের তত্ত্বাবধান লাভ করতে পারেন ও নির্দেশনা পেতে পারেন। যদি আপনি ঈশ্বরের লোকদের অগ্রাহ্য করেন এবং নিজের চেষ্টায় ঈশ্বরের কার্য করার চেষ্টা করেন, তাহলে আপনি শুধু ব্যর্থই হবেন এবং নিজের কার্য করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেন না। আপনার নিজস্ব প্রাণপণ এবং ধার্মিকতা ঈশ্বরের কার্য নয়। আপনি মন্ডলীতে লক্ষ লক্ষ ডলার দান করতে পারেন, কিন্তু তথাপি আপনি ঈশ্বরের কাজ করছেন না। আপনি নিজের কার্যে নিজেই আটকে পড়বেন। 
ভিন্নভাবে বললে, পরিত্রাণ লাভের পরও আপনি ব্যবস্থার মধ্যেই পড়ে যাবেন। বাইবেল বলে যে, কর্ম বিহীন বিশ্বাস মৃত। কিন্তু এই কথার সঠিক ব্যখ্যা হল এটাঃ ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা, আর সেইজন্য যখন আমরা ঈশ্বরের প্রেরিত ব্যক্তিতে বিশ্বাস করি, তখন আমরা পরিত্রাণ লাভ করি, তাঁর দ্বারা পরিচালিত হই এবং তাঁর দ্বারা আশীর্বাদযুক্ত হই। আমরা বিশ্বাসের কারণেই আশীর্বাদ লাভ করি; বিশ্বাসের কারণেই আমরা পরিচালনা লাভ করি, এবং বিশ্বাসের কারণেই আমাদের কার্য উৎপন্ন হয়। অন্যকথায়, ঈশ্বরের বাক্যে এবং তাঁর লোকদের বিশ্বাস করি বলেই আমরা তাঁর বাক্য অনুসরণ করতে পারি। এখান থেকেই আমাদের কার্যের উৎপত্তি হয়। 
কর্ম বিহীন বিশ্বাস মৃত- এই কথার দ্বারা বাইবেল এই বিষয়টিই বোঝাতে চেয়েছে। কিন্তু যারা ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করে না, তারা তাঁদের কথা শোনে না। ঈশ্বরের লোকেরার তাদেরকে যতই ঈশ্বরের বাক্য বলেন না কেন, তারা মনে মনে বলে, “হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। আপনি আমাকে বোকা বানাতে পারবেন না; আমি আপনার সমস্তই বুঝতে পারছি।” এটা ঠিক নয়। বাইবেল পরিষ্কারভাবে বলে যে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ। ঈশ্বরের কাজ আর কিছুই নয়। শুধুমাত্র ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত ব্যক্তিতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কাজ। যদি আপনি অব্রাহামের মতো ঈশ্বর কর্তৃক পরিচালিত হতে চান এবং আপনার সমগ্র জীবনে অগণিত আশীর্বাদ লাভ করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করতে হবে। ঈশ্বর আর এক দল লোককে পাঠিয়েছেন। পাপীদের কাছে ঈশ্বর তাঁর শিষ্যদের পাঠিয়েছেন। তিনি যীশু খ্রীষ্টের সাক্ষী, তাঁর শিষ্যদের পাঠিয়েছেন। 
 
 
ঈশ্বরের সত্য বাক্যই হল অবিনশ্বর খাদ্য
 
এই পাপীদেরকে অবশ্যই ঈশ্বরের লোকদের উপরে বিশ্বাস করতে হবে। তাদেরকে অবশ্যই ধার্মিকদের উপরে বিশ্বাস করতে হবে। ধার্মিকগণ যা বলছে, তাতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। পাপীরা যখন ঈশ্বরের লোকদের কথা এবং তাঁদের প্রচার করা সুসমাচার শোনে, তখন তারা অনন্ত জীবন লাভ করে, যেমনটি যীশু বলেছেন, “নশ্বর ভক্ষ্যের নিমিত্ত শ্রম করিও না, কিন্তু সেই ভক্ষ্যের জন্য শ্রম কর, যাহা অনন্ত জীবন পর্যন্ত থাকে” (যোহন ৬:২৭)। তারা অনন্ত জীবন লাভ করবে, যা কখনোই শেষ হবে না
আমার মনে হচ্ছে, আমি আমার আজকের উপদেশটা খুব হাল্কা করে দিচ্ছি। আমি ঘন ঘন ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি, আমি ঠিক নিশ্চিত নই যে, আমি এটাকে আরো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করব কিনা; আমার ভয় হচ্ছে, যে একবার এটাকে ব্যাখ্যা করা শুরু করলে আমি না আবার খুব বেশি সময় নিয়ে নিই। কিন্তু আমি আপনাদেরকে সকলকে অনুরোধ করতে চাই যে, আপনারা সবাই বেড়ে উঠুন। যখন আপনারা প্রথম পরিত্রাণ লাভ করেছিলেন, তখন আপনারা ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত যীশু খ্রীষ্টের পরিত্রাণ কার্য এবং যোহন বাপ্তাইজকের কার্যে বিশ্বাস দ্বারা পরিত্রাণ লাভ করেছিলেন। এর পরের ধাপ হল ঈশ্বর-নিযুক্ত লোকদের বিশ্বাস করা। এই লোকেরা পদস্খলিত হবে নাকি উঠে দাঁড়াবে তা পুরোপুরি ঈশ্বরের উপরে নির্ভর করে। 
দায়ূদ রাজার সময়ে, যখন নিয়ম-সিন্দুক পলেষ্টীয়দের দেশ থেকে যিরূশালেমে আনা হচ্ছিল, তখন উষ নামে একজন ব্যক্তি সেই নিয়ম-সিন্দুক স্পর্শ করায় ঈশ্বর তাকে মেরে ফেলেছিলেন। যে শকটে নিয়ম-সিন্দুকটি রাখা হয়েছিল, উষ সেই শকটটি চালাচ্ছিলেন। আর যখন বলদ দুইটি পিছলে পড়ল, তখন তিনি নিজের হাত বাড়িয়ে সেই নিয়ম-সিন্দুকটি ধরেন, যেন তা পড়ে না যায়। এই কারণে, ঈশ্বর তাকে আঘাত করেন এবং তিনি মারা যান। 
আমাদের মানবীয় চিন্তানুসারে মনে হতে পারে যে, যখন নিয়ম-সিন্দুকটি পড়তে যাচ্ছিল, তখন এটাকে সোজা করে ধরে রাখার মধ্যে খারাপ কি ছিল। যদি খারাপ কিছু না থাকত, তাহলে নিয়ম-সিন্দুকটি দৃঢ় করে ধরে রাখার জন্য উষ প্রশংসিত হতেন। নিয়ম-সিন্দুক পড়ে যাচ্ছে, আর কিছু করব না, এটা কি করে হয়? যাইহোক, ঈশ্বর এইভাবে চিন্তা করেন না। ঈশ্বরের কার্য কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। পিতা ঈশ্বর আমাদেরকে তৈরী করেছেন, আর তিনি আমাদেরকে তাঁর নিজের মানুষে রূপান্তর করেছেন, তিনি তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টকে পাঠিয়েছেন। তিনি যোহন বাপ্তাইজককেও পাঠিয়েছিলেন। তাঁর দুই জন একসাথে কার্য করলেন। একজন জগতের সমস্ত পাপ অন্যজনের উপরে তুলে দিলেন, এবং অন্যজন এ সমস্ত পাপ বহন করলেন এবং এর দন্ড ভোগ করলেন। ঈশ্বর আমাদেরকে এইভাবেই পরিত্রাণ করেছেন। 
 
 
ঈশ্বরের লোকেরা তাঁর আজ্ঞার অধীন
 
ঈশ্বর নিজে যা সংকল্প করেছেন এবং যা করছেন, ধার্মিকগণ তাতে তাদের নাক গলাতে পারেন না, এমনকি এটা নিয়ে তারা ঈশ্বর-নিযুক্ত লোকদের সাথেও অনধিকারচর্চা করতে পারেন না। আপনাদের কাছে যদি আমি সম্পূর্ণরূপে সৎ হই, তাহলে বলব যে, যখন আমার নিজের মতের বিষয়ে কথা উঠে, তখন আমি নিজেও অন্য কারোর থেকে আলাদা নই। আমি নিজের মতানুসারে অনেক কিছুই করি। আমি আমার নিজের মতানুসারে কাজ করতে পছন্দ করি, আর আমি সব সময়ই আমার মত পরিবর্তন করি। যাইহোক, আমার নিজের মতানুসারে কাজ করারও একটা সীমা আছে। এমনকি ঈশ্বরের লোকেরাও তাঁদের ইচ্ছানুসারে কিছু করতে পারেন না। এর কারণ হল- তাঁরা ঈশ্বরের আজ্ঞার অধীন। যখন তাঁরা এমন কিছু করেন যা ঈশ্বরের ইচ্ছার বিপরীত, তখন পবিত্র আত্মা তাঁদের হৃদয়ে কথা বলেন এবং তাঁদের হৃদয়েকে দোষারোপ করেন, যেন তাঁরা পরিবর্তিত হয়ে ফিরে আসেন। তিনি তাঁদেরকে পরিষ্কারভাবে জানান যে, তারা যেটা করছে, তিনি তাতে সন্তুষ্ট না। 
একবার পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের লোকদের হৃদয়ে অনুশোচনা দান করলে তাঁরা তাঁদের পথ থেকে ফিরে আসেন। এমনকি ঈশ্বরের লোকেরাও নিজেদের ইচ্ছানুসারে সবকিছু করতে পারেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি জানেন যে, ঈশ্বরের লোকেরা তাঁর আজ্ঞার অধীন, আপনি তাঁদেরকে বিশ্বাস করতে পারেন। ঈশ্বরের লোকেরা ঈশ্বরের আজ্ঞা থেকে স্বাধীন এবং তাঁরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন, এমনটা চিন্তা করা একটা মন্ত ভুল। নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হলেও তাঁরা ইচ্ছামতো তাঁদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না। যীশু যে শতপতির দাসকে দাসকে সুস্থ করেছিলেন, সেই শতপতির মতো তাঁরা নিজেদেরকে বাক্যের কাছে নত করেন। কারণ বাক্য তাঁদের মধ্যে আছেন এবং পবিত্র আত্মা তাঁদের হৃদয়ে বাস করেন। একমাত্র ঈশ্বরই সম্পূর্ণ। ঈশ্বর যা কিছু বলেন, তার সমস্তই তাঁর বাক্যানুসারে পূর্ণ হয়। ঈশ্বরের অনুমতি না পেলে ঈশ্বরের লোকেরাও তাঁদের পথে চলতে পারে না। এটা বোঝা আপনাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
আমি এই বিষয়টি শুধুমাত্র তখনই বুঝতে পেরেছি, যখন আমি নিজে ঈশ্বরের লোক হয়েছি। আমি যা ইচ্ছা করি, তাই করতে পারি না। আপনারাও নিজেদের ইচ্ছামত সমস্তকিছু করতে পারেন না। এটি একবারেই অসম্ভব। আমি এটি খুব ভালভাবেই জানি। এখন আপনারা পাপের ক্ষমা লাভ করেছেন, এবং আপনাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা আছেন। যেহেতু আপনাদের মধ্যে পবিত্র আত্মা আছেন, তাই আপনারা বলতে পারেন যে, আপনাদের মধ্যে কোন পাপ নেই। আর আপনারা বাস্তবিকই পাপমুক্ত। পবিত্র আত্মাই আপনাদের হৃদয়ে এই সাক্ষ্য দেন। তাই, যখনই আপনারা ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ করেন, আপনারা আনন্দিত হন, সম্পূর্ণচিত্তে এতে বিশ্বাস করেন, এবং এটা অনুসরণ করার জন্য প্রাণপণ করেন। বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। এর কারণ হল- আপনাদের মধ্যে পবিত্র আত্মা আছেন। আপনারা হয়তো এখনো ভাবেছেন যে, আপনারা নিজেদের ইচ্ছামত সমস্ত কিছুই করতে পারেন। তাহলে একটা চেষ্টা করেই দেখুন না যে, নিজেদের ইচ্ছামত সব কিছু করতে পারেন কিনা, দেখবেন, পারছেন না। পবিত্র আত্মা আপনাদের হৃদয়কে দোষারোপ করবেন, আর আপনারা অস্বস্তি, অস্থির, নিদারুণ যন্ত্রণা ও ব্যথা অনুভব করবেন। আপনারা দেখবেন, আপনাদের হৃদয় অবর্ণনীয় যন্ত্রণায় ক্লিষ্ট হচ্ছে। যদি আপনারা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস না করেন এবং তা অনুসরণ না করেন, তাহলে আপনাদের হৃদয় নিদারুণ যন্ত্রণায় এতটাই অস্থির হয়ে উঠবে যে, জীবনটাই দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। 
তাই আপনাদের আর কোন উপায় নাই, কিন্তু আপনাদেরকে ঈশ্বরের বাক্য অনুসরণ করতেই হবে। ঈশ্বর ঠিক এই কারণেই আপনাদেরকে মন্ডলীতে রেখেছেন, যেন আপনারা বাক্য অনুসরণ করতে পারেন। তিনি তাঁর লোকদের মাধমে আপনাদেরকে তাঁর বাক্য শ্রবণ করান। আপনারা কি সত্যিই একটা উত্তম জীবন যাপন করতে চান? আপনারা কি ঈশ্বরের কার্য করতে চান? তাহলে ঈশ্বর যাঁদেরকে পাঠিয়েছেন, তাঁদেরকে বিশ্বাস করুন। এটাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। ঈশ্বর যাঁদেরকে পাঠিয়েছেন, তাঁদের বিশ্বাস না করে শুধুমাত্র নিজের উদ্দীপনায় নির্ভর করে ঈশ্বরের জন্য কিছু করাটা ঈশ্বরের কার্য নয়। 
 
 
ঈশ্বরের কার্যে বিশ্বাস করাই হল তাঁর কাজ করা
 
ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করাই হল তাঁর কার্য করা। যদিও আমরা সকলেই চিন্তা করি যে, আমরা ঈশ্বরের ধার্মিকতা খুব ভালভাবেই জানি। কিন্তু আজকের এই শাস্ত্রাংশটি সম্পর্কে আমাদের খুব পরিষ্কার একটা ধারণা থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ, আমাদেরকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁতে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। আমি বিশ্বাস করি, যারা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করেন এবং এই জগতে যাঁরা ঈশ্বরের লোক, তাদেরকে ঈশ্বর বৃদ্ধি দান করেছেন। আমি এটিও বিশ্বাস করি যে, যারা বাক্যে বিশ্বাস করে, তারা সেই খাদ্য লাভ করবে, যা অনন্ত জীবন পর্যন্ত থাকে। 
খ্রীষ্টানরা যখন যীশুর কথা বলে, তখন তাদের অধিকাংশই শুধুমাত্র তাঁর মানব রূপ ধারণ এবং তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যু সম্পর্কেই বলে। তারা বিশ্বাস করে যে, যীশু যখন এই জগতে এসেছিলেন, তখন তিনি ক্রুশে হত হওয়ার দ্বারা আমাদেরকে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে পরিত্রাণ করেছিলেন। অনেক মানুষ আছে যারা এভাবে সুসমাচার প্রচার করে। কিন্তু এই ধরণের বিশ্বাস নিয়ে তারা অনন্ত জীবন লাভ করতে পারবে না। তারা নিজেদের ইচ্ছানুসারে এভাবে বিশ্বাস করতে পারে; কিন্তু তারা যত ব্যাকুলভাবেই বিশ্বাস করুক না কেন, তারা পাপীই থেকে যাবে এবং তারা ব্যবস্থার অধীনই থেকে যাবে। ঈশ্বর আমাদেরকে পালন করার জন্য ব্যবস্থা দান করেন নাই। বরং তিনি আমাদের এই কারণে ব্যবস্থা দিয়েছিলেন, যেন আমরা এর দ্বারা আমাদের পাপ উপলব্ধি করি, ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত মানবজাতির ত্রাণকর্তা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করি, এবং এভাবে আমাদের পাপের ক্ষমা লাভ করি। অন্যভাবে বিশ্বাস করা হল ব্যবস্থার অধীনে পড়া। 
পথভ্রষ্ট খ্রীষ্টানরা, যারা জল ও আত্মার সুসমাচার শোনার পরও ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত ব্যক্তিগণে বিশ্বাস করে না, তারা মনে করে যে, শুধুমাত্র যীশুর ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস দ্বারাই পরিত্রাণ লাভ করা যায়। তারা মন্ডলীতে গিয়ে এইরকম ভ্রান্ত শিক্ষা দান করে। তারা এই রকম ভ্রান্ত শিক্ষার বৃদ্ধি করে এবং নিজেদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, এটাকে ঈশ্বরের কার্য করা বলে না। যদি আমরা কিছু না করে শুধমাত্র খেলে বেড়াই, বিশ্রাম নিই অথবা শুধু বসে থাকি, কিন্তু আমাদের অন্তঃকরণ দিয়ে ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করি, তাহলে আমরা ঈশ্বরের কার্য করছি। ঈশ্বর যাঁদের পাঠিয়েছেন তাঁদের বিশ্বাস করা- অর্থাৎ, ঈশ্বরের লোকদের বিশ্বাস করা, যোহন বাপ্তাইজকের কার্যে বিশ্বাস করা এবং যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। 
সুতরাং, আমরা আমাদের বিশ্বাস দ্বারা কার্য করি, নিজেদের কাজ দ্বারা নয়। যদিও, পরিত্রাণ লাভের পর আমাদের কোন কার্য করার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা, বিষয়টি তর্কসাপেক্ষ। কিন্তু আমরা আমাদের কার্য করি, কারণ আমরা বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি বলেই আমাদের কার্য প্রকাশ পায়। আমরা বিশ্বাস করি বলেই আমরা মন্ডলীতে আসি। আর আমরা বিশ্বাস করি বলেই প্রভুর সুসমাচার প্রচার করি। 
 
 
বাক্যে বিশ্বাস করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা
 
চতুর্থত, আমরা যখন ঈশ্বরের প্রতিটি লিখিত বাক্যে বিশ্বাস করি, তখন আমরা ঈশ্বরের কার্য করি। ঈশ্বর এই জগতে আপনাকে এবং আমাকে তাঁর বাক্য দান করেছেন। এই বাক্যে বিশ্বাস করা হল ঈশ্বরের কার্য করা। যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করি, তখন তাঁর কার্য উন্মোচিত হয়। ঈশ্বর তখনই আনন্দিত হন। ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করাই হল তাঁর কার্য করা। আপনারা কি মনে করেন যে, এর চেয়েও উত্তম কিছু করার আছে যাতে আমরা ঈশ্বরের কার্য করতে পারি? আপনারা কি মনে করেন, পাপ না করে শুধুমাত্র একটা পবিত্র ও ধার্মিক জীবন যাপন করাই হল ঈশ্বরের কার্য করা? না, বিষয়টি একদম তা নয়!
এটা একটা বড় সমস্যা, যা আজকের অনেক খ্রীষ্টানদের পীড়া দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কোরিয়াতে এখন প্রায়ই উগ্র খ্রীষ্টানদের, সাধারণত মধ্যবয়সী নারীদের দেখা যায়, যারা পাতালপথে অথবা বাস স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে, আর তারা মাইক্রোফোন নিয়ে অন্ধভাবে চিৎকার করতে করতে লোকদেরকে যীশুতে বিশ্বাস করতে বলে। কোরিয়াতে এখন এটা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের কোন পরিষ্কার বার্তা নেই। তারা এই তালপাকানো মন্ত্রটা বারংবার আওড়াতে থাকে, যারা তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যায়, তাদেরকে যীশুতে বিশ্বাস করতে বলে। এটাকে যীশুর বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া বলে না। এটা অন্যদের মনে এই ধারণা দৃঢ় করে গেঁথে দেয় যে, খ্রীষ্টানরা একদল পাগল মানুষ! আর তাদের এই কাজ এই সমস্ত নন-খ্রীষ্টান লোকদেরকে খ্রীষ্টের কাছে থেকে আরো দূরে ঠেলে দেয়। আমার একবার সুযোগ হয়েছিল, তাদের একজনের কথা শোনার। এমনকি আমি তাদের কাছ থেকে তাদের বই চেয়ে নিয়েছিলাম। আমি এটা পড়লাম, কিন্তু সেই বইটিতে- ঈশ্বর আমাদেরকে কতটা প্রেম করেন এবং যদি আমরা যীশতে বিশ্বাস করি, তাহলে আমরা কিভাবে পরিত্রাণ লাভ করব- এই বিষয়ে বাইবেলের কয়েকটি পদ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সেগুলোর কোন ব্যাখ্যাও ছিল না। 
এই পথভ্রষ্ট খ্রীষ্টানরা চিন্তা করে যে, তারা ঈশ্বরের কার্য করছে, কিন্তু তারা প্রকৃতপক্ষে সুসমাচারের বিকৃতি ঘটাচ্ছে। এটাকে ঈশ্বরের কার্য করা বলে না। ঈশ্বরের কার্য হল- ঈশ্বর যাঁদের পাঠিয়েছেন, তাদেরকে বিশ্বাস করা। ঈশ্বর যাঁদের পাঠিয়েছেন, তাঁরা হলেন- যীশু খ্রীষ্ট, যোহন বাপ্তাইজক, ঈশ্বর নিয়োজিত ঈশ্বরের লোক এবং তাঁর বাক্য। সুতরাং, যখন আমরা ঈশ্বরের বাক্য পাঠ করি এবং এতে বিশ্বাস করি, তখন আমরা ঈশ্বরের কার্য করি। আর আমরা এই সময়ে বাস্তবিকই ঈশ্বরের কার্য করছি। 
যখন আমরা ঈশ্বরের লোকদের কথা বিশ্বাস করি, তখন আমরা ঈশ্বরের কার্য বিশ্বাস করি। ঈশ্বর যাঁদের পাঠিয়েছেন, যখন আমরা তাঁদের বিশ্বাস করি, অর্থাৎ- যখন আমরা যোহন বাপ্তাইজকের ভূমিকায় বিশ্বাস করি এবং বিশ্বাস করি যে, আমাদের সমস্ত পাপ বহন করে এবং সেগুলোর জন্য দন্ড ভোগ করে যীশু খ্রীষ্ট আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন, তখন আমরা ঈশ্বরের কার্য করছি। এইজন্য, শাস্ত্র পাঠ করাটা আমাদের জন্য অপরিহার্য। আমরা অবশ্যই বাক্য পাঠ করব, এবং বাক্যে অবশ্যই বিশ্বাস করব। যেমনটি বাইবেল বলে, “অতএব বিশ্বাস শ্রবণ হইতে এবং শ্রবণ খ্রীষ্টের বাক্য দ্বারা হয়” (রোমীয় ১০:১৭), আমরা যখন বাক্য শ্রবণ করি, তখন আমাদের মধ্যে বিশ্বাস উৎপন্ন হয়। আর যখন আমরা ঈশ্বরের এই বাক্যে বিশ্বাস করি, তখন আমরা তাঁর কার্য করি। 
ঈশ্বরে বিশ্বাস করা মানে হল তাঁর সাক্ষাতে তাঁর কার্য করা। তাহলে আপনাদের বিষয়টি কেমন? আপনারা কি বিশ্বাসে পরিত্রাণ লাভ করেছেন? যদি আপনারা বাস্তবিকই বিশ্বাস দ্বারা পরিত্রাণ লাভ করে থাকেন, তাহলে আমি আপনাদেরকে বলব, আপনারা ঈশ্বরের মন্ডলীতে বিশ্বাস করুন এবং এতে এক থাকুন। ঈশ্বরের এই মন্ডলীতে এক হতে হলে আপনাদেরকে অবশ্যই ঈশ্বর নিয়োজিত লোকদের সাথে এক হতে হবে। ঈশ্বরের লোকেরা কি বলছে, আপনাদের অবশ্যই তাতে বিশ্বাস করতে হবে। আপনাকে তাঁদের সাথে এক হতেই হবে। আপনাদেরকে ঈশ্বরের লোকদের মাধ্যমে বাক্যের তত্ত্বাবধান লাভ করতেই হবে। আপনাদেরকে ধার্মিকগণের সাথে সহভাগিতা করতেই হবে। আপনাদেরকে ঈশ্বরের বাক্য পালন করতেই হবে। আপনাদেরকে এটা অনুসরণ করতেই হবে। এটাই হল ঈশ্বরের কার্য করা। 
সুতরাং, আমার সহ-বিশ্বাসীগণ, ঈশ্বরের কার্য করার জন্য আমাদের যারপর নাই আনন্দ করা উচিৎ। যদি আমরা সত্যিকারভাবেই ঈশ্বরের কার্য করতে চাই, তাহলে আমাদের তাঁদের বিশ্বাস করতে হবে, যাঁদেরকে ঈশ্বর প্রেরণ করেছেন। নিজেদের উপায়ে ঈশ্বরের কার্য করার চেষ্টা না করে, আমাদের উচিৎ ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত ব্যক্তিদের বিশ্বাস করা। এভাবেই আমরা অনন্ত জীবন লাভ করতে পারি, ঈশ্বরকে অনুসরণ করতে পারি এবং তাঁর অপরিসীম আশীর্বাদ লাভ করতে পারি। 
ঈশ্বর আমাদেরকে বলেছেন- তাঁতে বিশ্বাস করা এবং তাঁর বাক্যে বিশ্বাস করাই হল তাঁর কার্য করা। এই সুন্দর শিক্ষার জন্য আমি ঈশ্বরের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। ঈশ্বর আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি যাঁদেরকে পাঠিয়েছেন, তাঁদের নিয়ে আনন্দ করা এবং তাঁদের বিশ্বাস করাই হল তাঁর কার্য করা। আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। ঈশ্বর যাঁদের পাঠিয়েছেন, আমরা তাঁদের বিশ্বাস করি। আমরা বাক্যে বিশ্বাস করি। আমরা ধার্মিকগণে বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি যে, ঈশ্বর আমাদের জন্যই তাঁর লোকদের উঠিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি যে, সাধু মানুষরা হলেন ধার্মিক ব্যক্তি। আর আমরা বিশ্বাস করি যে, আমরা সকলেই ঈশ্বরের নিজের মানুষ। 
সংক্ষেপে, আমরা ঈশ্বরের কার্য করছি। যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, তাই আমরা ঈশ্বরে থাকতে পারি, একটা সুন্দর জীবন যাপন করতে পারি এবং তাঁর আশীর্বাদ লাভ করতে পারি। কোন জিনিসটি এই সমস্ত বিষয়গুলোকে সম্ভবপর করে তুলেছে? এটা হল আমাদের বিশ্বাস। ঈশ্বরের সমস্ত বাক্যে বিশ্বাস করে, তাঁর লোকদের বিশ্বাস করে, যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করে এবং যোহন বাপ্তাইজকের কার্যে বিশ্বাস করে আমরা ঈশ্বরের কার্য করছি। যদি আপনারা বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনাদের সমস্ত রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করবেন। যদি আপনারা বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনাদের পাপের ক্ষমা লাভ করবেন। যদি আপনারা বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনারা অব্রাহামের মতো ঈশ্বরের লোক হবেন। যদি আপনারা ঈশ্বরের বাক্যে, তাঁর মন্ডলীতে এবং তাঁর লোকদেরকে বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনারা সমস্ত বিষয়ে সমৃদ্ধি লাভ করবেন। হাল্লিলূয়া!