শিক্ষা

বিষয় ৬: প্রচলিত মতের বিরূদ্ধ বিশ্বাস

[6-1] < যিশাইয় ২৮: ১৩-১৪ > ভ্রান্ত খ্রীষ্টিয়ান এবং খ্রীষ্টধর্মের ভ্রান্তি

< যিশাইয় ২৮: ১৩-১৪ >
সেই জন্য তাহাদের প্রতি সদাপ্রভুর বাক্য ‘ বিধির উপরে বিধি, বিধির উপরে বিধি; পাঁতির উপরে পাঁতি, পাঁতির উপরে পাঁতি; এখানে এতটুকু, সেখানে এতটুকু’ হইবে; যেন তাহারা গিয়া পশ্চাতে পড়িয়া ভগ্ন হয়, ও ফাঁদে বদ্ধ হইয়া ধরা পড়ে৷ অতএব, যে নিদ্রাপ্রিয় লোকেরা যিরুশালেমেস্থ এই জাতির শাসনকর্তৃগণ, সদাপ্রভুর বাক্য শুন৷”
 
 
বাইবেলের ব্যাখ্যায় কপটতা
 
"কপট” শব্দটির সংজ্ঞা বাইবেলে
কিভাবে দেওয়া হয়েছে?
যীশুতে বিশ্বাস করার পরেও যার হৃদয়ে
পাপ থাকে, তাকে কপট বলা হয়৷

বর্তমান সময়ে অনেক সাংবাদিক আছেন যারা মিথ্যা সংবাদ লিখে থাকেন৷ বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে৷ তারা মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে কিন্তু প্রায়ই ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থলাভ করে থাকে৷ ঐ সব ব্যক্তিদের অপরাধ প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেয়৷ ভ্রান্ত বা ভন্ড শব্দটির মানে এমন কিছু যা বাইরে থেকে দেখে মনে হয় সত্যি, কিন্তু আসলে সত্যি নয়৷ অন্য কথায় সে ব্যক্তির ভিতরের চেহারা বাইরের চেহারার সম্পূর্ণ বিপরীত৷
“কপট” এবং “ভন্ড” শব্দ দুটি খ্রীষ্টীয় মন্ডলীতে প্রায় ব্যবহার করা হয়৷
কপটতা সমন্ধে পরিস্কার সংজ্ঞা দেওয়া আছে এবং ভ্রান্তি শব্দটিরও ব্যাখ্যা আছে, খুব বেশী ব্যক্তি নেই যারা এই দুটি সমন্ধে বাইবেল অনুসারে শিক্ষা দেয়৷
এই পরিস্থিতিতে, আমার এটা কর্তব্য মনে হয়েছে যেন কপটতা সম্পর্কে বাইবেলের আলোকে আলোচনা করি৷ প্রতিদিনের জীবনযাত্রা থেকে আমি কপটতার কিছু উদাহরণ দিতে চাই এবং সেই বিষয়ে একসাথে চিন্তা করতে চাই৷ ঈশ্বরে বিশ্বাসী যে কোনো ব্যক্তিকে জীবনে অন্ততঃ একবার কপটতা সম্পর্কে চিন্তা করতে হয়৷
তীত ৩: ১০-১১ পদে কপট ব্যক্তি সম্পর্কে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে যে, সে অবিরত পাপ করে এবং আত্মকেন্দ্রিক৷ কপট হল সেই ব্যক্তি যে নিজেকে পাপী হিসাবে প্রতিপন্ন করে৷ সুতরাং যারা যীশুতে বিশ্বাস করে, অথচ হৃদয়ে পাপ রয়েছে, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তারা কপট৷
যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন৷ কিন্তু কপটেরা সত্য সুসমাচার গ্রহণ করতে চায় না, যার দ্বারা পাপীর পরিত্রাণ হয়, এবং এইভাবে নিজেদেরকে পাপী প্রতিপন্ন করে৷
আপনি কি একজন কপট? এই বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে, যদি আমরা উন্নত ও সত্যিকারের বিশ্বস্ত জীবনযাপন করতে চাই৷
আপনি যীশুতে বিশ্বাস করেন অথচ জল ও আত্মার সুসামাচারের সমন্ধে শোনেননি, তাহলে আপনি কি নিজেকে কপট প্রতিপন্ন করছেন না? নিজেকে যদি আপনি পাপী হিসাবে প্রতিপন্ন করেন, তাহলে কি আপনি প্রকৃত পরিত্রাণ ও জল ও আত্মার সুসামাচার থেকে সরে গিয়ে যীশুর অগৌরব করছেন না?
ঈশ্বরের সাক্ষাতে নিজেকে পাপী হিসাবে ঘোষণা করার অর্থ এটা স্বীকার করা যে, সে ঈশ্বরের সন্তান নয়৷ যারা যীশুর কাছে স্বীকার করে, “ হে প্রভু, আমি একজন পাপী” তাদের নিজেদের বিশ্বাসকে ঝালাই করা উচিত৷
যীশু যখন জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন এবং আপনাকে অনন্ত দন্ড থেকে সম্পূর্ণ পরিত্রাণ করেছেন, তখন আপনি কিভাবে দাবি করেন যে, আপনি যীশুতে বিশ্বাস করার পরেও পাপী রয়েছেন? আপনি তাঁর বিনামূল্যের অনুগ্রহের পরিত্রাণে কিভাবে অস্বীকার করেন, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, এবং ক্রুশে সেই পাপের কারণে বিচারিত হয়েছেন, এটা জানার পরেও কিভাবে নিজেকে পাপী প্রতিপন্ন করতে পারেন?
এই ধরনের লোকেরা কপট, কারণ তারা ঈশ্বরের বাক্যের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে স্বেচ্ছায় পাপী প্রতিপন্ন করে৷ ঈশ্বরের সাক্ষাতে কপটতা পরিহার করতে হলে আপনাকে অবশ্যই জল ও আত্মার সুসামাচার জানতে হবে৷
যে কেউ যীশুতে বিশ্বাস করার পরেও নুতন জন্ম পায় নি, সে একজন কপট, কারণ তার হৃদয়ে পাপ রয়েছে৷
কারণ আমাদের নিজেদের পাপ সহ ঈশ্বর জগতের সমস্ত পাপভার তুলে নিয়েছেন, আমরা যদি এই আশীর্বাদের পরিত্রাণ অবহেলা করি, তবে আমরা কপট৷ কারণ ঈশ্বর পবিত্র৷ আমাদের হৃদয়ে যদি পাপ থাকে আমরা কপট৷ আমরা যদি সত্যিই ধার্মিক হতে চাই, তবে আমাদেরকে অবশ্যই যীশুর বাপ্তিস্ম এবং তাঁর ক্রুশের রক্তের সুসমাচারে বিশ্বাস করতে হবে৷
 

বাইবেলে কপটতার শুরু
 
একজন যাজকের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা কি?
তাকে নুতন জন্ম পেতে হবে৷
 
আসুন ১ রাজাবলি ১২: ২৫-২৬ পদ দেখি, “পরে যারবিয়াম পর্বতময় ইফ্রয়িম প্রদেশস্থ শিখিম নির্মান করিয়া তথায় বসতি করিলেন, এবং তথা হইতে যাত্রা করিয়া পনুয়েল নির্মান করিলেন৷ আর যারবিয়াম মনে বলিলেন, এখন রাজ্য দায়ুদ-কুলের হাতে ফিরিয়া যাইবে৷” যারবিয়াম শলোমনের অধীনস্ত ছিলেন৷ শলোমন যখন শেষ দিকে এসে দুর্নীতি পরায়ন হয়ে গিয়েছিলেন, তখন যারবিয়াম রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং শলোমনের ছেলে রাহাবিয়ামের সময়ে সে ইস্রায়েলের দশ বংশের রাজা হয়েছিল৷
যারবিয়াম রাজা হওয়ার পরে তার প্রথম চিন্তা ছিলযেখানে মন্দিরটি রয়েছে, প্রজাদের সেই যিহুদাতে ফিরিয়ে নিতে হবে৷
সুতরাং সে এমন এক ধারণা পোষণ করল যেন তা না ঘটে৷ সে বৈথেলে এবং দানে দুটি স্বর্ণের বাছুর নির্মান করল, এবং আদেশ করল যেন প্রজারা সেগুলি পূজা করে৷ ১ রাজাবলি ১২: ২৮ পদে আছে, “অতএব রাজা মন্ত্রণা করিয়া স্বর্ণময় দুই গোবত্স নির্মান করাইলেন৷” একটি বৈথেলে এবং অন্যটি দানে স্থাপন করলেন এবং প্রজাদের পূজা করতে আদেশ দিলেন, এটা যে ভয়ানক পাপ তা জানা স্বত্তেও৷ তিনি কয়েকজন যাজকদেরও নিয়োগ করলেন৷
“এই ঘটনার পরেও যারবিয়াম আপনার কুপথ হইতে ফিরিলেন না, কিন্তু পুনর্বার লোকসাধারণের পক্ষ হইতে লোকদিগকে উচ্চস্থলির যাজক নিযুক্ত করিলেন, যাহার ইচ্ছা হইত, তিনি তাহারই হস্ত পূরণ করিতেন, যেন সে উচ্চস্থলির যাজক হয়” (১ রাজাবলি ১৩:৩৩)৷ এখান থেকেই কপটতা শুরু৷
এমন কি এখনও যারা স্বেচ্ছায় ঈশ্বরের কাজ করতে চায়, তাদেরকে কপটেরা যাজকত্বের নিয়োগ দেয়৷ কেউ থিওলজিক্যাল সেমিনারী থেকে পাস করলেই তাকে পরিচর্যা কাজে, প্রচারক হিসাবে, মিশনারী ও প্রাচীন হিসাবে নিয়োগ করা হয়, যদিও সে জল ও আত্মায় নুতন জন্ম পায় না৷
নুতন জন্ম না পেলে কি করে পরিচর্যা কাজ করা যায়? এই ধরনের লোককে যদি যাজক হিসাবে নিয়োগ করা হয়, তবে সে মন্ডলী কপট তৈরীর কারখানায় পরিনত হবে৷
আসুন কপটতার শুরু সম্পর্কে আরো একটু দেখি৷ প্রথমত, যারবিয়াম তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য ঈশ্বরের পরিবর্তে স্বর্ণময় গোবত্স তৈরী করলেন৷ দ্বিতীয়ত, তিনি যে কোনো ব্যক্তিকে যাজক করার কাজে মনোযোগ দিলেন৷ অন্যকথায়, তিনি যেকোনো সাধারণ লোককে যাজক উপাধি দিলেন৷ বর্তমানেও এর প্রচলন রয়েছে৷
যারবিয়ামের পরেও কপটতার ইতিহাস রয়েছে৷ যারা জল ও আত্মার সুসামাচারে নুতন জন্ম পায় নি, তারা কখনো যাজক হওয়ার অনুমোদন পেতে পারে না৷
শুধু থিওলজিক্যাল সেমিনারি থেকে পাস করলেই কি কাউকে পরিচর্যাকারী অথবা প্রচারক করা যায়? এটা কি ঠিক যে ঈশ্বরের দ্বারা অনুমোদিত না হলেও তারা ঈশ্বরের সেবা করবে? কখনো না৷ যাদেরকে মুদ্রাঙ্কিত করা হয়েছে, কেবলমাত্র তারাই তাঁর দাস হতে পারে৷ ঈশ্বর কর্তৃক যারা মনোনীত তারা জল ও আত্মার সুসামাচারে নুতন জন্ম প্রাপ্ত৷
১ রাজাবলি ১২: ২৫-২৬ পদে লেখা আছে, এবং ১ রাজাবলি ১৩ অধ্যায়ে দেখা যায় যারবিয়াম ঈশ্বরের ক্রোধ সৃষ্টি করলেন৷ আমাদের প্রত্যেকেরই এই ঘটনা জানা উচিত, কেউ যদি এর সাথে পরিচিত না থাকে, তাহলে বাইবেল খুলে তাকে এই অংশ দেখা উচিত৷
আবার চিন্তা করুন আপনার কর্ম ক্ষেত্রে আপনি ঈশ্বরের পরিবর্তে স্বর্ণময় গোবত্স তৈরী করছেন কি না৷ আপনার অনুচরেরা জল ও আত্মার সুসামাচারে ফিরে না এলেও আপনি কি কোনক্রমে পার্থিব আশীর্বাদের দিকে জোর দিচ্ছেন?
আপনি কি আপনার অনুসারীদেরকে বলেন যে, যীশুতে বিশ্বাস করলে রোগ সুস্থ হয়ে যাবে? আপনি কি তাদের বলেন যে, তারা ধনসম্পত্তিতে আশীর্বাদযুক্ত হবে? যারা জল ও আত্মায় নুতন জন্ম প্রাপ্ত হয় নি, তাদেরকে কি আপনি আপনার চার্চের প্রচারক বা কর্মী হিসাবে নিয়োগ করেন? এবং দাবি করেন যে, আপনার ডিনোমিনেশন একমাত্র অর্থোডক্স? যদি তাই হয়, তবে আপনি যারবিয়ামের পাপ করছেন৷ এবং ঈশ্বরের ক্রোধের উদ্রেক করছেন৷
 

কপটেরা স্বর্ণময় গোবত্সের পূজা করে থাকে
 
বর্তমানে এমন অনেকে রয়েছে যারা স্বর্ণের গোবত্সের পূজা করে৷ তারা বলে যে, শলোমনকে আশীর্বাদ করেছিলেন৷ ১ রাজাবলি ৩:৩-৫ পদে আছে “শলোমন সদাপ্রভুকে প্রেম করিতেন, আপন পিতা দায়ুদের বিধি অনুসারে চলিতেন, তথাপি উচ্চস্থলিতে বলিদান করিতেন ও ধুপ জ্বালাইতেন৷ একদা রাজা বলিদান করিবার জন্য গিবিয়োনে যান; কেননা সেই স্থান প্রধান উচ্চস্থলি ছিল; শলোমন তথাকার যজ্ঞবেদিতে এক সহস্র হোমবলি দান করিলেন৷গিবিয়োনে সদাপ্রভু রাত্রিকালে স্বপ্ন যোগে শলোমনকে দর্শন দিলেন৷ ঈশ্বর কহিলেন, যাচঞনা কর, আমি তোমাকে কি দিব৷”
তারা শলোমনের এক সহস্র হোমবলির প্রতিজ্ঞা দ্বারা তাদের অনুসারীদের কাছ থেকে বের করে নেয়৷ এসব বোকা অনুসরণকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে নেয়৷ এবং যারা স্বর্ণময় গোবত্সের পূজা করে তারা তাদের অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়৷ সেই অর্থ বড় বড় গীর্জা তৈরিতে ব্যবহার হয়৷ বড় গীর্জাঘর তৈরী করার কারণ এই নয় যে, তাদের গীর্জাঘর ছোট, কিন্তু আসলে তারা তাদের অনুসারীদের থেকে টাকা বের করতে চায়৷
মন্ডলীর আরাধনার উদ্দেশ্যে স্বর্ণময় গোবত্স নির্মান করার অজুহাত হল তারা তাদের অনুসারীদের অর্থ বের করে আনতে চায়৷ আমরা যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, আমাদের এরকম বিশ্বাস করা উচিত নয়৷ আপনি যদি স্বর্ণময় গোবত্সের পূজায় আপনার অর্থ দান করেন তা ঈশ্বরকে দেওয়া হবে না৷ কিন্তু তা যারবিয়ামের মত লোভী যাজকদের পকেটে যাবে৷ এই ধরনের কপটদের ফাঁদে কখনো পড়বেন না৷
তাহলে ঈশ্বর কেন শলোমনের এক হাজার বলিদানে খুশি হলেন? কারণ শলোমন তার নিজের পাপ জানতেন, তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, এ কারণে তাকে মরতে হবে, তাই নিজের বিশ্বাস অনুসারে বলিদান করেছিলেন৷ ঈশ্বরের পরিত্রাণের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তিনি এক হাজার হোমবলি উত্সর্গ করেছিলেন৷ শলোমন প্রতিদিন এক হাজার হোমবলি উত্সর্গ করতেন৷ জল ও আত্মার পরিত্রাণের কথা চিন্তা করে৷
এখন আপনাকে কপটতার প্রকৃত অর্থ স্মরণ করতে হবে যেন আপনি ভ্রান্ত যাজকদের মত প্রতারিত না হন৷
 
 
যারা নুতন জন্ম না পেয়ে পরিচর্যা কাজ করে তারা কপটী
 
নুতন জন্ম সমন্ধে কপটেরা
কি বলে?
তারা বলে যে, তারা দর্শন,
স্বপ্ন এবং বিভিন্ন আত্মিক অভিজ্ঞতায়
মুতন জন্ম প্রাপ্ত৷
 
এরা হল তারা, যারা নিজেরা নুতন জন্ম না পেয়ে অন্যদের পুনর্জন্মের কথা বলে৷এরা কপটী৷ তারা নিজেরা নুতন জন্ম লাভ করতে ব্যর্থ, অন্যকে নুতন জন্ম পেতে বলে, কারণ তারা জল ও আত্মার সুসমাচার জানে না৷ আমাদের শুধু হাসি পায়৷
ভ্রান্ত যাজকেরা মিথ্যা সুসমাচার প্রচার করে জল ও আত্মার সুসমাচার তুচ্ছ করে৷ তারা মানুষকে প্রতিদিনের পাপ ধুতে বলে৷
তারা বলে, “পাহাড়ে গিয়ে প্রার্থনা কর, উপবাস কর, ঈশ্বরের কাজে নিজেকে নিয়োজিত কর, ভোরবেলা প্রার্থনা কর, বাধ্য হও, গীর্জাঘর তৈরীর জন্য টাকা দাও, কিন্তু মনে রেখ যে, তুমি তোমার নিজের পাপের জন্য দায়ী৷”
একবার আমি একটি সাক্ষ্য শুনেছিলাম যে, সে নুতন জন্ম প্রাপ্ত৷ সে বলল সে একটি স্বপ্নে একটি লাইনে দাঁড়িয়েছিল, যখন তার পালা এল যীশু তার নাম ডাকলেন৷ সে বলে যে এটাই তার নুতন জন্ম পাওয়ার প্রমান৷ কিন্তু এটা কি সঠিক হল? যীশু তা বলেন নি৷
যোহন ৩ অধ্যায়ে তিনি বলেছেন, “ যদি কেহ জল ও আত্মা হতে জন্ম গ্রহণ না করে, সে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না৷” ঈশ্বর বলেন, যারা জল ও আত্মায় নুতন জন্ম প্রাপ্ত কেবল তারাই প্রকৃত যাজক হতে পারে৷ যদি কেউ বলে যে, সে স্বপ্ন, কল্পনা, আত্মিকভাবে বা অনুতাপের দ্বারা নুতন জন্ম পেয়েছে, সে কপটী৷
বর্তমান সময়ে, অনেকে ঈশ্বরের লিখিত বাক্যে বিশ্বাস করে না, বরং জল ও আত্মার সুসামাচারের পরিবর্তে নিজেদের সম্প্রদায়ের মতামতে বিশ্বাস করে৷ যারা নুতন জন্ম লাভের জল ও আত্মার সুসামাচার প্রচার করতে চায় না, তারা ভ্রান্ত খ্রীষ্টিয়ান ও কপটী৷
 

সংস্কারক এবং বর্তমান খ্রীষ্টধর্ম
 
কখন থেকে সত্য
 সুসমাচার অন্য ধর্মের সাথে
মিশে যেতে শুরু করল?
৩১৩ খ্রীষ্টাব্দে যখন রোমীয় শাসক
কনস্টানটাইন মিলান এডিক্ট ঘোষণা
করে, তখন থেকে৷
 
কখন থেকে খ্রীষ্টীয় জগতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছিল? কখন থেকে প্রেসবিটেরিয়ান, মেথডিস্ট, লুথারেন, ব্যাপ্টিস্ট, হোলিনেস এবং ফুলগসপেল চার্চের সৃষ্টি হল? মাত্র ৫০০ বছর পুর্ব থেকে সংস্কার শুরু হয়েছে৷
প্রাথমিক খ্রীষ্টিয়ান ছিল তারা, যারা যীশু এই জগতে থাকা কালীন, তাঁর অনুসরণ করেছিল৷ খ্রীষ্টিয়ান মানে খ্রীষ্টের অনুসারী৷
প্রথম খ্রীষ্টিয়ানেরা ছিল প্রেরিতেরা এবং তাদের শিষ্যেরা৷ ৩১৩ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রেরিতেরা এবং মন্ডলীর পালকের সত্য সুসমাচার অনুসরণ করেছিল৷ যাহোক মহান কনস্টানটাইনের মিলান এডিক্টের পর খ্রীষ্টিয়ানেরা এবং পরজাতীয়েরা পরস্পর মিশতে থাকল৷ এর ফলে এক হাজার বছর অন্ধকার যুগ ছিল৷
পরে ষোড়শ শতকের প্রথম দিকে মার্টিন লুথার সংস্কার ঘোষণা করলেন, বললেন, শুধুমাত্র ধার্মিকেরা বিশ্বাসে বাঁচবে৷ তার কিছু পরে ১৫০০-১৬০০ এর মধ্যে, জন ক্যালভিন এবং জন নক্স এর মত সংস্কারকেরা ক্যাথলিকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বেড়িয়ে এলেন৷ সংস্কার দ্বারা শুধু এইটুকু অর্জন করা হল৷
সংস্কার বলতে যা হল, তা হল রোমান ক্যাথলিক গীর্জা থেকে আলাদা হয়ে নতুন নতুন গীর্জা স্থাপিত হল৷ সংস্কারকেরা ক্যাথলিক মতবাদের কোনো মৌলিক পরিবর্তন আশা করেন নি৷
তাদের উদ্দেশ্য এটা ছিল না যে, জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের বিশ্বাসকে উন্নত করা, কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল, রোমান ক্যাথলিক চার্চের নুর্নীতি ও চাপ থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করা৷ রোমান ক্যাথলিকরা এই আন্দোলনকে প্রটেস্ট্যাটিসম নাম দিয়েছে৷ তার মানে প্রতিবাদকারীরা৷
এই সময়ে রোমান ক্যাথলিক চার্চ তাদের সদস্যদের অসংযমী করে তুলল, বলল যে, তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের স্বর্গে পাঠাতে পারে, এভাবে তারা অনেক অর্থ আদায় করে নিল৷ লুথার উপলব্ধি করতে পারেন নি যে, ক্যাথলিক মতবাদ মৌলিকভাবে ভুল ছিল৷ তিনি কেবল ক্যাথলিক চার্চকে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করা থেকে বিরত রাখতে চেয়েছিলেন, এবং সেই অর্থ দিয়ে তারা সেন্ট পিটারস ক্যাথিড্রাল নির্মান করতে চেয়েছিলেন৷
ফলে, বর্তমান প্রটেস্ট্যান্ট চার্চে ক্যাথলিক অনেক ছোট ছোট বিষয় দেখা যায়: শিশু বাপ্তিস্ম, অনুতাপের প্রার্থনা যা ক্যাথলিক চার্চের পাপ স্বীকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, পবিত্র পার্বন, যারা থিয়লজিক্যাল সেমিনারি থেকে পাস করে, কেবলমাত্র তাদেরকে পরিচর্যার কাজে অনুমোদন দেওয়া হয়৷ এগুলো সব রোমান ক্যাথলিক চার্চ থেকে এসেছে৷
প্রাথমিক ১৫০০ শতকের সংস্কার থেকে হিসাব করলে দেখা যায় যে, প্রটেস্ট্যাটিসমের বয়স প্রায় ৫০০ বছর৷ এ বছরটি সংস্কারের ৪৮১ তম বছর৷ আপনি হয়ত উপলব্ধি করতে পারবেন না যে, ৪৮১ বছর পূর্বে মার্টিন লুথার তার মাতৃমন্ডলীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন৷ প্রটেস্ট্যানটিসম তাই এককভাবে এর কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না৷ এখনো খ্রীষ্টধর্মের সংস্কার চলছে৷ এবং এটা চলতেই থাকবে৷
যাহোক, একটা বিষয় আমাদের মনে রাখা উচিত৷ আমরা যারা জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভ করেছি, একমাত্র সেই কারণে আমরা স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারি, এটা কখনই ভোলা উচিত না৷ আসুন আমরা তা প্রচার করি৷ আপনি কি যীশুর সুসমাচার, জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসমাচার প্রচার করেন? যদি না করেন, তাহলে আপনি ঈশ্বরের দাস নন৷ ঈশ্বর চান যেন আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে নুতন জন্ম লাভে বিশ্বাস করি৷ যোহন ৩ অধ্যায়ে যীশু নীকদীমকে এটাই শিক্ষা দিয়েছিলেন৷
বাইবেল কি শুধু জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসমাচারের কথা বলে, নাকি অন্যান্য বিষয়েও বলে, যেমন সমাজের কল্যাণ ও পবিত্র জীবনযাপন? পরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ৷ যাহোক জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের পরে আপনি তা করতে পারেন৷ ঈশ্বরের ইচ্ছা যেন আমরা এই সুসামাচারে বিশ্বাস করি৷
 
 
কপটীদের শিক্ষা
 
কপটী কে?
যীশুতে বিশ্বাস করা স্বত্তেও
যে পাপী থেকে যায়
 
পৃথিবীতে কখন থেকে ভ্রান্ত খ্রীষ্টিয়ান কপট বিশ্বাসের শুরু হয়েছিল?
১ রাজাবলি ১২,১৩ অধ্যায় অনুযায়ী যখন যারবিয়ামের সময় ইস্রায়েল রাজ্য দুই অংশে বিভক্ত হয়ে গেল তখন থেকে৷ সেই সময় থেকে যীশু জগতে আসা পর্যন্ত এই কপট বিশ্বাস জগতে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ বর্তমান সময়ে অনেক কপট প্রথা চালু রয়েছে৷
যিশাইয় ২৮ এবং তীত ৩:১০-১১ পদে বাইবেল ভ্রান্ত খ্রীষ্টিয়ানদের সম্পর্কে বলেছে৷ বাইবেল বলে, তারাই কপটী, হৃদয়ে পাপ থাকা অবস্থায় যারা যীশুতে বিশ্বাস করে৷ যারা এরকম তারা কপটী৷
এবং তারা শিক্ষা দেয় যিশাইয় ২৮: ৯-১০ পদ অনুযায়ী, “ সে কাহাকে জ্ঞান শিক্ষা দিবে? কাহাকে বার্তা বুঝাইয়া দিবে? কি তাহাদিগকে, যাহারা দুধ ছাড়িয়াছে ও স্তন্যপানে নিবৃত্ত হইয়াছে? বিধির উপরে বিধি, বিধির উপরে বিধি; পাঁতির উপরে পাঁতি, পাঁতির উপরে পাঁতি; এখানে এতটুকু, সেখানে এতটুকু৷”
কপটীরা বিধির উপরে বিধি, লাইনের পর লাইন যোগ করে৷ তার মানে সাবধান হও, সাবধান হও, সাবধান হও তাদের থেকে যারা বলে যে, তারা যীশুতে বিশ্বাসের মাধ্যমে নুতন জন্ম লাভ করেছে৷ সে তোমাদের শুধু সাবধান হতে বলে৷ তারা শুনতে বলে না, যেতে বলে না, যেন আপনি কপটতায় ধরা পড়েন৷
যাহোক, তারা যদি তাদের বিশ্বাস সমন্ধে এতটা নিশ্চিত হয়, তবে যারা ঈশ্বরের বাক্য থেকে নিজেদের বিশ্বাস আলাদা বলে দাবি করে, তাদের প্রতিবাদ করে না কেন? এটা খুবই দুখঃজনক৷ তারা দাবী করে যে, তারা গোড়া খ্রীষ্টিয়ান কিন্তু তাদের কপটতা থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো ভাষা নেই৷ একজন সত্যিকারের খ্রীষ্টিয়ান ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা কপটীদের উপরে জয় লাভ করতে পারে৷
বর্তমানে গোড়া খ্রীষ্টিয়ান রয়েছে যারা নুতন জন্ম প্রাপ্তদের কপটী আখ্যা দেয়, কারণ তাদের বিশ্বাস ভিন্ন৷ আমরা যেহেতু জল ও আত্মার সুসামাচারে বিশ্বাস করি, তাই আমরা কিভাবে কপটী হতে পারি?
যারা কপটী নামে আখ্যাত তারা জল ও আত্মার সুসামাচার প্রচার করে, তবে তারা সত্যিকারের গোড়া খ্রীষ্টিয়ান৷ তেমনি ভাবে গজিয়ে উঠা গোড়া খ্রীষ্টিয়ানেরা যদি জল ও আত্মার সুসামাচার প্রচার না করে, তবে তারা কপটী৷
গোড়ামী এবং কপটী এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হল তারা জল ও আত্মার সুসামাচারে বিশ্বাস করে কি না এবং প্রচার করে কি না৷ তারা যীশুতে বিশ্বাস করে কি না এবং প্রচার করে কি না৷ তারা যদি ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করে, যদি জল ও আত্মার মাধ্যমে নুতন জন্ম পেয়ে থাকে, তবে কিভাবে কপটী হতে পারে?
যীশুর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস করা কি কপটতা? যার দ্বারা সমস্ত পাপ সম্পূর্ণভাবে ধৌত হয়েছে৷ জল ও আত্মার সুসামাচারে বিশ্বাস না করা কি গোড়ামী?
অনেক সম্প্রদায়ের লোক আছে যারা বাইবেল থেকে দুরে সরে গেছে, এবং তবুও নিজেদেরকে গোড়া খ্রীষ্টিয়ান হিসাবে দাবি করে৷ তারা নির্দিষ্টভাবে জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসামাচার থেকে সরে গেছে, কারণ তারা শুধু ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস করে, যীশুর বাপ্তিস্ম (জল) অস্বীকার করে৷
বর্তমানে রোমান ক্যাথলিক চার্চ এবং প্রটেস্ট্যান্ট চার্চের মধ্যে পার্থক্য কি? যেমন সংস্কারকেরা রোমান ক্যাথলিক চার্চের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল, তারা যেভাবে রোমান ক্যাথলিক চার্চ থেকে বেড়িয়ে এসেছিল এবং প্রটেস্ট্যান্টটিসম স্থাপন করেছিল, আমরাও তেমনি অন্ধ এবং ভ্রান্ত যাজকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি৷ তখনই কেবল আমরা সত্য সুসামাচারের প্রতি দৃষ্টি দিতে পারব, সত্যিকারের বিশ্বাস পাব জল ও আত্মার সুসামাচার দ্বারা সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হব৷
 
কপটী না হতে হলে আমাদের
করণীয় কি?
আমাদেরকে জল ও আত্মায় নুতন
জন্ম লাভ করতে হবে৷
 
বাইবেল আমাদের বলে যে, যারা যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশীয় মৃত্যুর সুসামাচারে বিশ্বাস করে, কেবলমাত্র তারাই সত্যিকারের বিশ্বাস অনুসরণ করে৷ যীশু নীকদীমকে যোহন ৩ :১-১২ পদে তাই বলেছিলেন৷
কপটীরা তাদের অনুসারীদেরকে সব সময়ে তাদের বিশ্বাসে দৃঢ় হতে বলে৷ তারা তাদেরকে ভোরে উঠে প্রার্থনা করতে বলে, কঠোর পরিশ্রম করতে বলে৷ এটা অনেকটা অন্ধ লোককে দৌড়াতে বলার মত৷
যতই প্রার্থনা করেন না কেন, জল ও আত্মা হতে নুতন জন্ম না পেলে কোনো লাভ নেই৷ যখন আমরা বলি যে, জল ও আত্মা দ্বারা নুতন জন্ম প্রাপ্ত সকলে ধার্মিক, তখন কপটীরা রোমীয় ৩:১০ পদ দেখিয়ে প্রতিবাদ করে, “ধার্মিক কেহ নাই, একজনও নাই৷” এই বাক্য দ্বারা বিশ্বাসীদেরকে কপটী বানাতে চায়৷
কিন্তু বাস্তবে তারাই কপটী৷ এ বাক্যটির অর্থ যেমন শোনা যায়, তেমন সহজ নয়৷ কপটীরা সম্পূর্ণ বাইবেল পড়েনি৷ প্রেরিত পৌল বলেছেন পৃথিবীতে একজনও ধার্মিক নাই৷ তিনি পুরাতন নিয়মের একটি বাক্য উল্লেখ করেছেন মাত্র, যেখানে বলা হয়েছে যে, যীশু খ্রীষ্ট এই পৃথিবীতে আসার পূর্বে এবং মানুষকে ঈশ্বরের পরিত্রাণ দ্বারা তাদের পাপ থেকে উদ্ধার করার পূর্বে একজনও ধার্মিক ছিল না৷ যাহোক যীশু যাদের পরিত্রাণ দিয়েছেন তারা ধার্মিক৷
সমস্ত অধ্যায়টা পড়লে আমরা প্রকৃত সত্যটাকে দেখতে পাব৷ কপটীরা তাদের অনুসারীদের সব সময় সাবধান করে, যেন তারা ভিন্ন বিশ্বাসীদের বিশ্বাস থেকে সতর্ক থাকে৷ তারা যে চার্চকে গোড়া মনে করে, সেই চার্চ ছাড়া অন্য কথাও উপাসনা করতে অনুসারীদেরকে নিষেধ করে৷ তাই যেসব চার্চে জল ও আত্মার সুসামাচার প্রচারিত হয়, তাদের সদস্যরা সেখানে যেতে সাহস করে না৷
সত্য সুসমাচার সম্পর্কে তারা কালা হয়ে যায়, এবং নুতন জন্ম লাভ করতে পারে না৷ এটা ভ্রান্ত নেতাদের শিক্ষা যারা আসলে তাদের পুত্র=কন্যাদের নরকে পাঠাচ্ছে৷ এই জন্য তারা ঈশ্বর কর্তৃক বিচারিত হবে৷ কপটীদের ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসতে হবে৷
কপটী করা? যারা জল ও রক্তের সুসামাচারে বিশ্বাস করে পাপমুক্ত হয়েছে, তারা, নাকি যারা বলে যে, যীশুতে বিশ্বাস করে অথচ জল ও আত্মা দ্বারা নুতন জন্ম পায় নি তারা?
তীত ৩:১১ পদে বলা হয়েছে যারা যীশুতে বিশ্বাস করে কিন্তু “আত্মকেন্দ্রিক” তারা কপটী৷
তারা তাদের অনুসারীদের জল ও আত্মার সুসামাচারের উদ্দীপনা সভায় যেতে নিষেধ করে, বলে সেটা বিপজ্জনক৷ গোড়ারা কি করে বিতর্কিত বিশ্বাস দ্বারা ভীত হয়? তারা ভয় পায় এই কারণে যে, তাদের নিজেদের সত্যিকারের বিশ্বাস নেই৷ “বিধির উপরে বিধি, বিধির উপরে বিধি” তৈরী করে৷ কপটীদের শিক্ষা এই রকম৷
কপটী যাজকেরা এই বই থেকে একটু, ঐ বই থেকে একটু, দর্শন শাস্ত্র থেকে একটু, সাহিত্য থেকে কিছুটা এবং সেই সাথে নিজেদের চিন্তাধারা যোগ করে সব কিছুতে আবেদন সৃষ্টি করে৷
তারা তাদের অনুসারীদেরকে অজ্ঞ মনে করে এবং তাদেরকে জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে৷ সত্যিকারের মন্ডলী ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করে এবং ঈশ্বরের বাক্যে শিক্ষিত করে৷ মানুষ জাগতিক উপায়ে শিক্ষিত হওয়ার উদ্দেশ্যে গীর্জায় আসে না৷ বরং তারা স্বর্গীয় কথা যা পৃথিবীতে শোনা যায় না, তাই শোনার জন্য চার্চে আসে৷ তারা যীশুর কথা শুনতে চার্চে আসে৷
মানুষ পাপী হিসাবে গীর্জায় আসে, কিন্তু পাপহীন ধার্মিক ব্যক্তি হিসাবে গীর্জা থেকে বের হতে চায়৷ কপট যাজকেরা তাদের কি শিক্ষা দেবে? তারা তাদের অনুসারীদের শিক্ষা দেয় যে, যেখানে সত্য সুসমাচার প্রচারিত হয়, সেখানে যেন তারা না যায়৷ তারা তাদের অনুসারীদের জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সত্য সুসমাচার থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে চায়৷
এটা খুবই বোকামী৷ তারা হয়ত তাদের অনুসারীদেরকে প্রতারণা করতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরকে প্রতারণা করতে পারে না৷
 
ভ্রান্ত যাজকেরা কি তাদের
অনুসারীদের জল ও আত্মার দ্বারা নুতন
জন্ম লাভে সাহায্য করতে পারে?
না, কেবলমাত্র নুতন জন্ম প্রাপ্তরাই নুতন
জন্ম লাভে সাহায্য করতে পারে৷
 
কপটীরা, যদি তোমরা ঈশ্বরের সত্যিকারের দাস হয়ে থাক, তাহলে কি বুঝতে পারছ না যে আত্মা তোমাদেরকে তিরস্কার করছেন৷ তোমাদের ফিরে আসতে হবে৷ তোমাদের অনুসারীদের সেইসব উদ্দীপনা সভায় যাওয়াতে বাধা দেওয়া বন্ধ করতে হবে, যেখানে ঈশ্বরের সন্তানগণ জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করেন৷
কপটীরা কেবল তাদের অনুসারীদেরকে ধর্মতত্ত্বে শিক্ষিত করে, তাই যখন অন্য মতবাদের সাথে বিতর্ক হয়, তখন তারা প্রহৃত হয়৷ এটা খুব দুখঃজনক৷ ভ্রান্ত যাজকেরা ঈশ্বরের বাক্য ছাড়াই ভাল প্রচার করতে পারে৷ তারা প্রচার করে, বা পরামর্শ দেয় ও পরিচর্যা করে, সব কিছুই তাদের বিপথগামী মতবাদের ভিত্তিতে করে৷ যারা ঈশ্বরের বাক্য ছাড়া পরিচর্যা করে বা প্রচার করে থাকে তারা কপটী এবং বেতনজীবি (যোহন ১০:১৩)৷
ভ্রান্ত পরিচর্যাকারীরা কপটী, কারণ তাদের বাইরের এবং ভিতরের চেহারা ভিন্ন৷ কোনো কোনো লোক, কিছু কিছু চার্চ, যেগুলো প্রতিষ্ঠিত৷ হয় নি, সেগুলোকে কপট চার্চ বলে৷ যাহোক, এই সমস্ত চার্চের কিছু কিছু বড় কোনো সম্প্রদায়যুক্ত থাকতে কাহ্য়, কারণ প্রায় অধিকাংশ চার্চই বাইবেলের বাক্যের থেকে অনেক দুরে রয়েছে৷
কপটীরা তাদের অনুসারীদেরকে পাপ থেকে মুক্ত হতে বলে, যদিও তারা তাদের পাপের সমস্যা কখনোই সমাধান করতে পারে না৷ তারা যারবিয়ামের পাপে পাপী৷ যদি এখনও এমন কেউ থাকে যে হৃদয়ে পাপ নিয়ে ঈশ্বরের কাজ করতে চায়, তাকে তার পাপ উপলব্ধি করতে হবে এবং সেই সাথে ঈশ্বরের পবিত্রতা বুঝতে হবে, কারণ এই দুটি বিষয় এক থাকতে পারে না৷ তাকে বুঝতে হবে যে, সে একজন কপটী৷
সেই জন্য যে প্রচার করে, অথবা চার্চের দায়িত্ব পালন করে, সে যদি পাপী হয়, তবে তাকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, সে একজন কপটী৷ সে কপটী এই কারণে যে, সে খ্রীষ্টের পরিত্রাণের সুসমাচার অর্থাৎ জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসমাচার জানে না৷ যদি কেউ কপটীদের কাছ থেকে বাইবেল শিক্ষা পায় এবং অন্যদেরকেও সেই শিক্ষা দেয়, তবে সেও একজন কপটী৷
আমরা ফল দ্বারা গাছ চিনতে পারি৷ যীশুর বাপ্তিস্ম এবং তাঁর রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে যারা ধার্মিক হয়েছে, তারাই ধার্মিকতার ফল বহন করে৷ “সেই প্রকারে প্রত্যেক ভালো গাছে ভাল ফল ধরে, কিন্তু মন্দ গাছে মন্দ ফল ধরে” (মথি ৭:১৭)৷
 
 
কপট যাজকেরা তাদের প্রচারে কি শিক্ষা দেয়?
 
কপট যাজকেরা তাদের
 প্রচারে কি শিক্ষা দেয়?
পার্থিব ধর্মতত্ত্ব ও মানবীয়
চিন্তাধারা
 
ভ্রান্ত যাজকেরা এটা- ওটার প্রতি মনোযোগ দেয়৷ তারা কেন এতটা সতর্ক? তারা সতর্ক এই কারণে যে, যেন তাদের মিথ্যা প্রকাশ না হয়, কারণ জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসামাচারে তাদের বিশ্বাস নেই৷
কপটীরা এখান থেকে কিছুটা, সেখান থেকে কিছুটা নেয়৷ তারা সুসামাচারের অর্থ না জেনে শিক্ষা দেয় এবং এইভাবে মানুষকে ঠকায়৷ “বিধির উপরে বিধি, বিধির উপরে বিধি; পাঁতির উপরে পাঁতি, পাঁতির উপরে পাঁতি; এখানে একটুকু, সেখানে একটুকু” (যিশাইয় ২৮: ১৩)৷
পাঁতির উপরে পাঁতি, তারা বলে, “ এই শব্দটির অর্থ তারা বলে গ্রীক ভাষায় এটা এবং হিব্রু ভাষায় অমুকটা৷ এবং এর উপরে এই- এই মতবাদ রয়েছে৷” পরিত্রাণ সম্পর্কে মতবাদ যথার্থ প্রকাশ পেলে- তারা এই ব্যাপারেও সতর্ক হতে বলে৷ তারা বলে, “মার্টিন লুথার এই বলেছেন, জন ক্যালভিন এটা বলেছেন, জন নক্স এটা বলেছেন সেটা, এবং আমাদের মনে হয় তারা সকলেই তাদের নিজেদের অনুভুতি থেকে বলেছেন৷”
তারা জানে না যে, কোন ব্যাপারে তারা কথা বলছে, তারা বিশ্বাসও করে না৷ যার বিশ্বাস সত্য সে দলিলসহ তা প্রকাশ করতে পারে৷ সত্য বিশ্বাসীরা নুতন জন্ম প্রাপ্ত ও যারা নুতন জন্ম পায় নি,- এই উভয়ের পার্থক্য স্পষ্টরূপে বলতে পারে৷ আমরা জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসমাচার পরিস্কারভাবে প্রচার করি৷
কিন্তু কপটীরা গোলযোগপূর্ণ পৃথিবীতে বাস করে৷ তাদের বিশ্বাস বাদুরের মত৷ যেমন বাদুর দিনের বেলায় অন্ধকার গুহায় থাকতে ভালবাসে, আর রাতের অন্ধকারে বাইরে বেড়িয়ে আসে, তেমনি কপটীরা এই মতবাদ ঐ মতবাদ পছন্দ করে ও বিশ্বাস করে৷ সত্য কি তারা কখনই জানে না৷ যখন কোনো কপট যাজক নরকে যায়, তার অনুসারীরাও তাকে অনুসরণ করে৷ সুতরাং ভ্রান্ত ভাববাদীতে বিশ্বাস করার জন্য অনেকেই নরকে যায়৷
আপনার প্রচারক কি জল ও আত্মা দ্বারা নুতন জন্ম প্রাপ্ত? সে কি বাইবেলের লিখিত বাক্য অনুযায়ী জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসমাচার প্রচার করে? যদি সে করে, তাহলে আপনি ভাগ্যবান, যদি না করে আপনি দুর্ভাগা৷ আপনি যদি নুতন জন্ম না পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে জল ও আত্মার সুসমাচার শুনতে হবে, এবং যে সব বইয়ে এর ব্যাখা আছে সেগুলো পড়ে নুতন জন্ম লাভ করতে হবে৷
কপটীরা জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসমাচার অপছন্দ করে৷তারা প্রচার করে যে, যীশু এই পৃথিবীতে পাপমোচন করতে এসেছিলেন এবং তিনি তা করেছেন৷ আজও তিনি আমাদের পাপ ধুয়ে দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও তিনি এমনি করতে থাকবেন৷ এটা কি করে সত্য হতে পারে? তারা নিজেদেরকে ধার্মিক বলে, অথচ পাপ করেই চলেছে৷ এক মুহুর্তে ধার্মিক হয়, পর মুহুর্তে পাপী হয়৷
এটা একটি ভ্রান্ত ধর্মতত্ত্ব৷ এটা অসত্য৷ এখন ধার্মিক, একটু পরে আবার পাপী,- এমন ব্যক্তি কপটী, ভ্রান্ত ভাববাদী৷ যে নিজেকে দোষী করে, সে নিজেকে কলুষিত করে৷
 
 
কপটীদের অনুসারীদের উপরে ঈশ্বরের অভিশাপ
 
কোন বিষয়ের উপরে
কপটীরা বেশী জোর দেয়?
কর্মের উপরে৷
 
কপটীরা স্থির নয়৷ তাই তারা তাদের অনুসারীদের জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের চালনা দিতে পারে না, যখন অনুসারীরা তাদের কাছে গিয়ে নুতন জন্ম লাভের উপায় জানতে চায়৷ বরং তারা অনুসারীদের নুতন জন্ম লাভের জন্য হাস্যকর ও কাল্পনিক পরামর্শ দেয় এবং তারা যেন নুতন জন্ম সমন্ধে এতটা সচেতন হয়, তারও প্রয়োজন নেই বলে পরামর্শ দেয়৷ এটা একটা হাস্যকর বিষয়!
যোহন ৩ অধ্যায়ে যীশু বলেছেন, “ জল ও আত্মা হইতে না জন্ম গ্রহণ না করিলে কেহই ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারে না৷” বর্তমানে নুতন জন্ম প্রাপ্ত ধার্মিকদের দুঃসাহসী কপটী বলা হয়৷
কপট যাজকেরা বলে যে, তারা নিজেদের ধার্মিক বলতে পারে না, কারণ তারা বিনয়ী৷ তারা তাদের অনুসারীদের বলে, “ যে উদ্দীপনা সভায় জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের প্রচার করা হয়, সেখানে যেও না৷ তুমি যদি নুতন জন্ম লাভ কর, তবে কপটী হয়ে যাবে৷ চার্চের দ্বারা অভিযুক্ত হয়ে পড়বে৷ তুমি আমাদের সাথে থাকতে চাও, পাপী হয়েই থাক, যখন সময় হবে তখন ঈশ্বর তোমাকে ধার্মিক করবেন৷” এই তারা বলে৷ তারা আসলে যা মানে করতে চায় তা হল, আপনি নুতন জন্ম লাভ করবেন কি না তা সম্পূর্ণরূপে আপনারই সিদ্ধান্তের ব্যাপার৷
কপটীরা তাদের অনুসারীদের বলে, “তোমাকে আমার সাথে থাকতে হবে, কিন্তু নুতন জন্ম লাভ করা তোমার নিজস্ব ব্যাপার৷ তাই তুমি নিজেই চেষ্টা কর৷ যেমন আছ তেমন থাক এবং ঈশ্বরের সাক্ষাতে উপস্থিত হও, সময় মত তুমি সত্য জানতে পারবে৷ আমি জানিনা তারপর কি হবে৷ কিন্তু এটা একটা গোড়া চার্চ, সুতরাং তোমাকে আমাদের সাথেই থাকতে হবে৷” আপনি কি মনে করেন এটা সত্য?
কপট যাজকেরা এখান থেকে একটু, ওখান থেকে একটু নিয়ে নিজের মতবাদ তৈরী করে৷ তারপরে তা তাদের জন্য একমাত্র সত্য হয়ে দাঁড়ায়৷ তারা জানেনা ঈশ্বরের বাক্য যেখানে জল ও আত্মার সুসামাচারের কথা বলা হয়েছে৷
নিজেদের চিন্তা অনুযায়ী কপটীরা বাইবেল ব্যাখ্যা করে৷ মৌলিকভাবে বাইবেলের ব্যাখ্যা হওয়া উচিত, কিন্তু তারা তাদের নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা করে৷ তাই খ্রীষ্ট সমাজে এত ধর্মতত্ত্ববিদ ও সম্প্রদায় রয়েছে৷
যেহেতু খ্রীষ্ট সমাজে এত বেশী কপট ধর্মতত্ত্ববিদ ও সম্প্রদায় রয়েছে, তাই এখানে এমন অনেক বইও রয়েছে যাতে ভুল ব্যাখা দেওয়া আছে৷ যখন প্রচার করে, ভ্রান্ত যাজকেরা এই বই থেকে একটু ঐ বই থেকে একটু নিয়ে জোড়াতালি দেয়৷ কিন্তু সত্য যাজকেরা বাইবেলের হুবহু ব্যাখ্যা করে৷
বিভিন্ন রকম চতুর উপায়ে কপটীরা তাদের অনুসারীদের কাছ থেকে পয়সা আদায় করে৷ এই পৃথিবীতে তারা আরাম আয়াসে জীবনযাপন করে, কিন্তু নুতন জন্ম না পাওয়াতে শেষ পর্যন্ত তারা নরকে যায়৷ ঈশ্বর তাদের জন্য এই চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণ করেছেন৷
প্রথমে ঈশ্বর তাদের বিষয়ে ধৈর্য্য ধরেন৷ কিন্তু যারা জল ও আত্মার আশীর্বাদপূর্ণ সুসমাচার গ্রহণ করতে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে, শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর তাদেরকে নরকে নিক্ষেপ করেন৷
ঈশ্বর কপটীদের বিচার করবেন৷ কপটীরা খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, গাদাগাদা বই, বাইবেলের পদ মুখস্ত করে এবং ধর্মতত্ত্বভিত্তিক কাজ করে৷ কিন্তু তারপর আস্তে আস্তে তারা মানুষের ধারণা থেকে প্রচার শুরু করে, যেন তাদের অনুসারীরা নুতন জন্ম না পায়৷
কপটীদের স্বভাব হল পার্থিব কাজের উপর বিশেষ জোর দেওয়া৷ যে প্রচারক জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসমাচার প্রচার করে না, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সে কপটী৷
তাদের অনুসারীদের তারা কোনদিকেই চালিত করে না৷ তারা তাদেরকে ৪০ দিন ব্যাপী রাত্রিকালীন প্রার্থনাসভায়, ১০০ ব্যাপী ভোরের প্রার্থনাসভায়, পাহাড়ের প্রার্থনায়, নিয়মিত উপবাস প্রার্থনায়, গীর্জায় দান ধ্যান করতে, হাজার হোমবলি উত্সর্গ করতে, উদ্দীপনা সভায় দান করতে উদ্বুদ্ধ করে, এবং তারা কোন বিশ্বাসী কতটা দান করল তারও একটা মাপকাঠি তৈরী করে৷ তাদের কাজের ফল দেখে আমরা বুঝতে পারি যে তারা কপটী৷
তাদের অনুসারীদের প্রতিও ঈশ্বরের অভিশাপ নেমে আসে৷ যে প্রচারকেরা জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসমাচার প্রচার করে না, তারা সবাই ঈশ্বরের অভিশাপের মধ্যে রয়েছে৷
 
 
কপটীরা তাদের অনুসারীদের মনোভাব পড়তে চেষ্টা করে
 
কেন কপটীরা তাদের
 অনুসারীদের মনোভাব
 পড়তে চেষ্টা করে?
কারণ তারা নুতন জন্ম প্রাপ্ত নয়,
তাদের প্রচারক আত্মায় পূর্ণ নয়,
বরং ভন্ডামিতে পূর্ণ৷
 
কপট যাজকেরা প্রতিদিন কাঁদে৷ তাদেরকে উর্দ্ধতন ডিকনদের, প্রাচীনদের, সাধারণ ডিকনদের, এমন কি সাধারণ সদস্যদেরকেও সন্তুষ্ট করতে হয়৷
প্রতিদিন তারা ভন্ডদের মত আচরণ করে৷”প-বি-ত্র” এবং “অ-ব-ঘ-য়-ভ-ত” ৷ তারা পাপে পরিপূর্ণ, কিন্তু সবসময় পবিত্রতার কথা বলে, সুতরাং এইভাবে তারা ক্রমান্বয়ে আরো বেশী ভন্ড হয়ে পড়ে৷
এক প্রচারক একবার বলেছিলেন, “ভিতরে আত্মা ছাড়া প্রচার করা অভিশাপের বিষয়৷” এর মানে হল এই যে, কপটীরা পাপমুক্তি না পেয়ে ঈশ্বরের কাজ করে, এটা অভিশপ্ত জীবন৷ আপনি যদি এমন একজন কপটী হয়ে থাকেন, তবে আপনাকে জল ও আত্মা দ্বারা নুতন জন্ম লাভ করতে হবে৷
যীশুতে বিশ্বাস করার পরেও যে নুতন জন্ম পায় নি, সে কপটী৷ সেই সাথে সাথে, প্রত্যেকেরই জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসমাচারের প্রতি ফিরে আসা উচিত৷ যারা জল ও আত্মা দ্বারা নুতন জন্ম পেয়ে ধার্মিক হয়েছে, কেবলমাত্র তারাই এই সুসমাচার অন্যের কাছে প্রচার করতে পারে৷
 
 
শান্তির জন্য চিত্কার করে
 
কপট যাজকেরা কিভাবে তাদের
অনুসারীদের সন্তুষ্ট করে?
তারা সবসময় শান্তির কথা বলে, তারা বলে যে,
পাপী হওয়া স্বত্তেও তাদের অনুসারীরা
 স্বর্গে প্রবেশ করতে পারবে৷
 
যিশাইয় ২৮ : ১৪-১৫ পদে বলা হয়েছে, “অতএব, হে নিন্দাপ্রিয় লোকেরা, যিরুশালেমেস্থ এই জাতির শাসনকর্তৃগণ, সদাপ্রভুর বাক্য শুন৷ তোমরা বলিয়াছ, ‘আমরা মৃত্যুর সহিত নিয়ম করিয়াছি, পাতালের সহিত সন্ধি স্থির করিয়াছি; জলপ্রলয়স্বরূপ কশা যখন উপস্থিত হইবে, তখন আমাদের কাছে আসিবে না, কেননা আমরা অলীকতাকে আমাদের আশ্রয় করিয়াছি, ও মিথ্যা ছলের আড়ালে লুকাইয়াছি৷”’
এখানে কারা নিন্দাপ্রিয় লোক? যারা নিজেদের ভুল বিশ্বাস ঈশ্বরের বাক্যের সাথে মিলিয়ে প্রচার করে, তারাই৷ একজন প্রচারকের চিন্তা যা-ই হোক না কেন, ধর্মতত্ত্ব যা-ই বলুক না কেন, তাকে বাইবেলের সঠিক ব্যাখ্যা করতে হবে৷ কিন্তু কপটীরা নিজেদের মত করে বাইবেল প্রচার করে৷ তারাই নিন্দাপ্রিয় লোক৷
“ আমরা মৃত্যুর সহিত নিয়ম করিয়াছি, পাতালের সহিত সন্ধি স্থির করিয়াছি; জলপ্রলয়স্বরূপ কশা যখন উপস্থিত হইবে, তখন আমাদের কাছে আসিবে না৷”
কপটীরা বলে যে, তাদের উপর দিয়ে যাতনা যাবে না৷ তারা লোকেদের বলে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই৷ তাদের জন্য ধ্বংস ও নরক অপেক্ষা করছে, কিন্তু তারা উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেয়, ধ্বংস ও নরক তাদের জন্য নয়৷ যদি বাঁচতে চান তাহলে অবশ্যই এসব কপটী থেকে দুরে থাকুন৷
কপট যাজকেরা লোকেদের সান্ত্বনা দেয় এই বলে যে, তারা যীশুতে বিশ্বাস করেছে ঠিক আছে, পাপী থাকা ঠিক আছে, তারা নরকে যাবে না৷
আপনি যদি পাপী থাকেন, তবে যীশু কি আপনার যত্ন নেবেন? পাপী কি স্বর্গে যেতে পারে? আপনি পাপী হলে কি নরকে যাওয়া এড়াতে পারবেন? বাইবেলে কি লেখা আছে যে, আপনার হৃদয়ে পাপ থাকা অবস্থায় যীশুতে বিশ্বাস করলে আপনি নরক এড়াতে পারবেন?
কপটীরা বলে যে, তারা মৃত্যুর সাথে নিয়ম করেছে, তাই মৃত্যু তাদের কাছে আসবে না৷ তারা বলে যে, একজন বিশ্বাসীর হৃদয়ে পাপ থাকলেও সে নরকে যাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে৷ আপনি কি মনে করেন এরকম ঘটতে পারে?
কপটীরা মানুষকে অনুপ্রানিত করে এই বলে যে, নরক ও মৃত্যু তাদের কাছে আসবে৷ কপট যাজকেরা তাদেরকে ডিকন, প্রাচীন, পরিচর্যাকারী হিসাবে নিয়োগ করে, যারা নুতন জন্ম পায় নি৷ কিন্তু তাদের এটা জানা উচিত যে, যেহেতু তারা জল ও আত্মার সুসামাচারে বিশ্বাস করে না, তারা সকলে তাই নরকে যাবে৷ তাদের যা করা উচিত তা হল, তাদের অনুসারীদের মধ্যে জল ও আত্মার সুসামাচারের বিশ্বাস রোপন করা৷
বিশ্বাসীরা পাপী থাকা অবস্থায়ও কি স্বর্গে যাওয়ার উপযুক্ত হতে পারে? পাপী কি স্বর্গে যেতে পারে? বাইবেল কি বলে যে, পাপীরা স্বর্গে যাবে? না৷ পাপসহ কি কোনো ধার্মিক থাকতে পারে? না৷ এগুলো কপটী এবং ভ্রান্ত ধর্মতত্বের শিক্ষা৷
বাইবেল বলে, “পাপের বেতন মৃত্যু” (রোমীয় ৬:২৩)৷ এটা ঈশ্বরের ব্যবস্থা৷ তিনি সমস্ত পাপীকে সরাসরি নরকে পাঠান৷ এই ভয়ানক অদৃষ্টের বিপরীতের, যারা জল ও আত্মার সুসামাচারে নুতন জন্ম লাভ করেছে, তারা স্বর্গরাজ্যে গ্রাহ্য৷
জলপ্রলয়স্বরূপ কশা যখন উপস্থিত হইবে, তখন আমাদের কাছে আসিবে না, কেননা আমরা অলীকতাকে আমাদের আশ্রয় করিয়াছি, ও মিথ্যা ছলের আড়ালে লুকাইয়াছি৷” কপট যাজকেরা দৃঢ়ভাবে কথা বলে এবং বিশ্বাস করে যে, হৃদয়ে পাপ থাকলেও তারা নরকে যাবে না৷ কারণ তারা মিথ্যা অসত্য থিওলজির আড়ালে নিজেদেরকে লুকিয়ে রেখেছে, ঈশ্বর তাদের সাহায্য করতে পারেন না৷ তারা শুধু থিওলজিতে বিশ্বাস করে৷ কারণ তারা ঈশ্বরের বাক্য বাদ দিয়ে, থিওলজিতে বিশ্বাস করে, তারা কপটী এবং নরকযোগ্য৷ এটা কি দুঃখের বিষয় যে, এই ধরনের অনেক লোক রয়েছে৷
 

কপটীরা টাকা পয়সার ব্যাপারে আগ্রহী
 
কপট যাজকদের
 আগ্রহ কিসে?
তাদের অনুসারীদের কাছ
 থেকে যত বেশী সম্ভব অর্থ
আদায় করা৷
 
কপটী এবং ভ্রান্ত যাজকেরা কেবলমাত্র টাকা পয়সার প্রতি আগ্রহী৷ এরা লোভী৷ “ আমাদের মন্ডলীতে এলে এই লোকটি কত টাকা দিতে পারবে?” তারা তার দশমাংশের পরিমান চিন্তা করে৷ এটাও স্বর্ণময় গোবত্সের আরাধনা করার মত৷ “ হে প্রভু, আমাকে সফল কর, আমাকে অনেক টাকার মালিক কর৷” ভ্রান্ত যাজকেরা এ রকম প্রার্থনা করতে শেখায়৷
তারা বলে, “যীশুতে বিশ্বাস করলে অনেক টাকার মালিক হবে, নিস্ফলা হলে ফলবান হবে, ব্যবসায় কৃতকার্য হবে৷”
এই ধরনের ভ্রান্ত যাজকদের দ্বারা অনেকে প্রতারিত হয়, এবং তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়, এবং এই সমস্যার জন্য তারা নরকে যায়৷ বিষয়টা কেমন অন্যায্য! কপটতার সম্মোহনে সম্মোহিত কোনো ব্যক্তি যদি তার জ্ঞান ফিরে পায়, তাহলে সে এটা দেখে আশ্চর্য হবে যে কত টাকা সে প্রতারকেদের দিয়েছে৷ নিজের বোকামির জন্য এবং কঠোর পরিশ্রমের জন্য সে নিজেকে গালি দেবে৷
কপটীরা যা বিশ্বাস করে তা কিন্তু প্রাণপণে অনুশীলন করে৷ তাদের অনুসারীরা নিজেদেরকে সকালের প্রার্থনায়, বিশেষ বিশেষ দান ধ্যানে, সাপ্তাহিক দানে, দশমাংশে নিয়োজিত করে৷ অনুসারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার অনেক পন্থা রয়েছে৷
তাদের অনুসারীরা কঠোর পরিশ্রম করে, তবুও তাদের হৃদয়ে পাপ থাকে৷ কারণ কেউ তাদের জল ও আত্মার সুসমাচার শিক্ষা দেয় নি৷ কেউ তাদের কাছে এই বিষয়ে প্রশ্ন করে সোজা উত্তর পায় নি৷ জল ও আত্মা দ্বারা নুতন জন্ম না হলে সে কপটী৷
 

কপটী এবং তাদের অনুসারীরা করুনার পাত্র
 
পৃথিবীতে করা সবচেয়ে
বেশী করুনার পাত্র?
যারা জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভ
না করে পরিচর্যার কাজ করে৷
 
ওহে, দুর্ভাগা কপটী! প্রথমে নিজের পাপমুক্তির জন্য সচেষ্ট হও৷ ভ্রান্ত বিশ্বাসের নমুনা হল যারবিয়ামের মত স্বর্ণময় গোবত্সের আরাধনা করা৷ পুরাতন নিয়মে প্রথম কপটীরা যা করেছিল তাহল মন্দির নির্মান করে সেখানে স্বর্ণময় গোবত্স রেখেছিল (১ রাজাবলি ১২:২৫-৩৩)৷
বর্তমান দিনে তারা বড় বড় গীর্জাঘর তৈরী করে এবং অনুসারীদের কাছে টাকা আদায় করে৷ তারা তাদের অনুসারীদের ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে বিরাট গীর্জাঘরের কাজে দান করতে বলে৷ তারা সদস্যদের আবেগ সৃষ্টি করে এবং দানের পাত্র চতুর্দিকে ঘুরিয়ে আনে৷ কপটীরা এইভাবে কাজ করে৷ প্রতিটি কপট গীর্জায় এইভাবে কাজ চলে৷
বাহ্যিকভাবে মনে হয় যেন তারা আত্মিক বিষয়ে খুবই আগ্রহী, কিন্তু তাদের আগ্রহের মূল কারণ অর্থ৷ আমি আপনাকে পরামর্শ দিই যেসব চার্চ টাকা সংগ্রহে ব্যস্ত, সেখান থেকে সরে আসুন৷ যে চার্চে ধনীদের কদর করা হয়, সেই চার্চে যাবেন না৷ প্রত্যেক সদস্যের দানের পরিমান জনসমক্ষে উল্লেখ করা উচিত নয়, কিন্তু আরো টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তারা তা করে৷
অনুসারীদের উদ্দেশ্যে কপটীরা লোভনীয় কথা বলে৷
“যীশুতে বিশ্বাস করলে তুমি আশীর্বাদ পাবে৷”
“ঈশ্বরের কাজে মনোনিবেশ কর, যত করবে তত আশীর্বাদ পাবে”৷
“তুমি যদি প্রাচীন হিসাবে দায়িত্ব পালন কর, বস্তুগতভাবে আশীর্বাদ পাবে”৷
ফলে, প্রাচীন হওয়ার জন্য সদস্যরা পরস্পরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে৷ কোনো লাভ না থাকলে কেই বা প্রাচীন হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে চায়? প্রাচীনদের কাছ থেকে আর্থিক অনুদানও আশা করা হয়৷
তারা সম্প্রদায়ের মতবাদে কত গভীরভাবে বিশ্বাস করে, সমাজে তাদের অবস্থান কত উঁচুতে এবং গীর্জাতে তারা কত টাকা দান করতে পারবে, এই সবের ভিত্তিতে কি তারা নির্বাচিত হয়? এটাই সত্য৷
কপটীরা শুধু টাকার চিন্তা করে৷ তারা বড় বড় ঘর নির্মান করতে আগ্রহী৷ তাদের অনুসারীরা যতদিন প্রচুর টাকা দান করে তত দিন তারা চিন্তা করে না, যে তারা নরকে যাচ্ছে কি না৷
যারা খাদ্যের জন্য কাজ করে তারা কপটী৷ সুন্দর সুন্দর উপাধি দিয়ে তারা মানুষকে আকৃষ্ট করে৷ ইচ্ছামত তাদের অনুসারীদেরকে বিভিন্ন উপাধি দেয় (যিহিস্কেল ১৩:১৭-১৯)৷ তার মানে তারা এদেরকে শক্ত করে চার্চের সাথে বাঁধে যেন সম্পদ বৃদ্ধি করতে পারে৷ কপটীরা জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করে না৷ তারা নিজেদেরকে ধনী করতে ব্যস্ত থাকে৷
কোনো ব্যক্তি যদি মাত্র কয়েক মাস চার্চে যোগ দেয়, সেও একজন ডিকন উপাধি পেতে পারে৷ তাছাড়া সে যদি মতবাদ সম্পর্কে ভালো জানে, যদি তার আর্থিক অবস্থা ভালো হয় তবে তাকে প্রাচীন করার চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে৷ এগুলো সব যারবিয়ামের লজ্জাজনক পাপ অর্থাৎ স্বর্ণময় গোবত্সের আরাধনার পর্যায়ে পড়ে৷
কপটীরা স্বর্ণময় গোবত্সের আরাধনা করে৷ তারা তাদের অনুসারীদেরকে নুতন জন্ম লাভে সাহায্য করে না৷ পার্থিব লাভের আশা দিয়ে তারা তাদের অনুসারীদের কাছ টাকা আদায় করে নেয়৷ যতদিন তাদের চার্চ শক্ত আর্থিক ভিত্তির উপরে থাকে ততদিন তারা চিন্তা করে না যে তাদের অনুসারীরা নরকে যাচ্ছে কিনা৷
 
 
কপটীদের প্রচারে দৃঢ়তার অভাব থাকে
 
কপটীরা “সম্ভবতঃ” অথবা “হয়তো” এই শব্দগুলো বারবার ব্যবহার করে, কারণ তারা তাদের বিশ্বাসে দৃঢ় নয়৷ ঈশ্বরের বাক্যে তাদের বিশ্বাস নেই, এবং যা তারা প্রচার করে, সত্যিকার অর্থে তা বিশ্বাস করে না৷ তাদের বিশ্বাসের প্রক্রিয়া ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়৷ তারা বলে, “এ রকম বলা যেতে পারে----” তারা কখনও পরিস্কারভাবে বা দৃঢ়তার সাথে কথা বলে না৷ অনুসারীদেরকে মিথ্যা শিক্ষা দেওয়ার চাইতে কোনো শিক্ষা না দেওয়া তাদের জন্য ভাল৷
কপটীরা অনুসারীদেরকে জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভে সাহায্য করতে পারে না৷ তারা শুধু আরো বেশী লোককে নরকের দিকে ঠেলে ফেলে দিতে পারে৷
 
 
কপটীরা ভ্রান্ত ভাববাদীর ভুমিকা পালন করে
 
আত্মার বিরুদ্ধে নিন্দা
কিভাবে হয়?
যীশুতে বিশ্বাস করেও তাঁর বাপ্তিস্মে
বিশ্বাস না করে পাপী হিসাবে
বেঁচে থাকা৷
 
মথি ৭ অধ্যায়ে তাদের কথা বলা হয়েছে, যারা যীশুতে বিশ্বাস করার পরেও নরকে যাবার যোগ্য৷ শেষ দিনে কপটীরা ঈশ্বরের সাক্ষাতে প্রতিবাদ করবে৷ বাইবেলে যেমন লেখা আছে, “সেই দিন আমাকে অনেকে বলিবে, হে প্রভু, হে প্রভু, আপনার নামেই কি আমরা ভাববাণী বলি নাই? তখন আমি তাহাদিগকে স্পষ্টই বলিব, আমি কখনও তোমাদিগকে জানি নাই; হে অধর্মচারীরা আমার নিকট হইতে দূর হও” (মথি ৭:২২-২৩)৷
তারা ব্যবস্থাবিহীনতা পালন করে৷ তার মানে কি? তার মানে হল হৃদয়ে পাপ থাকা অবস্থায় তারা মানুষকে যীশুতে বিশ্বাস করতে বলে৷ আপনি হয়ত অবাক হবেন কত বড় ভুল এটা, কিন্তু ঈশ্বরের বিরুদ্ধে এটা একটা মারাত্মক পাপ৷
যখন কোনো পাপী, মানুষের কাছে যীশুতে বিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তা প্রচার করে, সে তাদেরকে নুতন জন্মের প্রতি চালিত করতে পারে না, কারণ সে নিজেই জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভ করে নি৷ কাজেই কপটীরা শুধু এমন পাপীর সৃষ্টি করে যারা যীশুতে বিশ্বাস করে৷ ব্যবস্থাবিহীনতায় চলা আত্মার বিরুদ্ধে পাপ৷
কপটীরা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করে না, লিখিত সুসমাচার প্রচারও করে না৷ তারা অনুসারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে জানে, তারা যীশুতে বিশ্বাস করলেও পাপী রয়ে গেছে৷ তারা নিজেরাই নুতন জন্ম পায় নি, অথচ অন্যদের নেতৃত্ব দিতে চায়৷ এভাবেই ব্যবস্থাবিহীনতায় চলে৷
 
 
কপটীরা ধার্মিকদের বিবর্ণ মুখোশ ছাড়া আর কিছুই নয়
              
যারা নুতন জন্ম
 পায় নি এবং যারা পেয়েছে, এই
দুই পক্ষের মধ্যে কিভাবে
পার্থক্য করতে পারি?
তাদের পাপ আছে কি নেই,
সেই মাপকাঠিতে পার্থক্য
করা যায়৷
 
যারা নিজেদেরকে পাপী বলে সেইসব প্রচারকদের দ্বারা প্রতারিত হবেন না৷ তাদেরকে আপনার অর্থ দান করবেন না৷ সেইসব পাপীদেরকে আপনার কষ্টার্জিত অর্থ দেবেন না৷
কেন তাদেরকে আপনার টাকা দেবেন, যারা আপনার পাপের সমন্ধে কিছুই করতে পারবে না? যদি আপনি কোনো চার্চে টাকা দিতে চান, অন্তত অপেক্ষা করুন ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা আপনার পাপ ধৌত হয়ে যায়৷
শিল্পে যেমন কৃত্রিমতা আছে, জীবনের ক্ষেত্রেও তেমনি আছে৷ উদাহরণ স্বরূপ, এমন কৃত্রিম ধর্ম আছে, যার দ্বারা পাপ ধৌত করা যায় না৷ কৃত্রিম ধর্ম কি করে চিনতে পারবেন? কৃত্রিমতা এমন একটি বিষয় যা বাইরে থেকে আসল মনে হয়, কিন্তু প্রকৃত অর্থে আসল থেকে তা সম্পূর্ণ বিপরীত৷
নিজের সিধান্ত আপনাকেই নিতে হবে৷ করা সত্যিকার প্রচারক? করা কপটী? কোনটি সঠিক বিশ্বাস? যীশুতে এবং তাঁর প্রায়শ্চিত্তের ক্ষমতায় সঠিক বিশ্বাস৷ তাদের হৃদয়ে কোনো পাপ নেই৷ কিন্তু কপটীদের হৃদয়ে পাপ রয়েছে৷
সব মানুষই কি এমন কপটীদের মত? এমন হওয়া ভাল ছিল৷ যাহোক, আসুন আমরা বাইবেল দেখি৷ নুতন জন্ম না পেয়ে যীশুতে যে বিশ্বাস করে সে একজন কপটী৷ এটা পরিস্কার যে, নুতন জন্ম প্রাপ্তরাই আসল৷ সুতরাং যারা নুতন জন্ম প্রাপ্ত নয় তারা কপটী৷ কপটী তারা, যারা যীশুতে বিশ্বাস করে অথচ হৃদয়ে পাপ রয়েছে৷
কপটীরা ধার্মিকদেরই বিবর্ণ প্রতিকৃতি৷ তারা জানতে পারে যে, যীশুতে বিশ্বাস করার মাধ্যমে পবিত্র হওয়া যায়, কিন্তু দুঃখের বিষয় তাদের হৃদয়ে পাপ থাকে৷ তারা নিজেদেরকে পাপী হিসাবে জানে৷ তারা দাবি করে যে, তারা স্বর্গে যাবে৷ কারন তারা ঈশ্বরের আরাধনা করে৷ শুনতে মনে হয় তারা ধার্মিক, কিন্তু আমরা যেন কৃত্রিমতা দ্বারা প্রতারিত না হই৷
 
 
কপটীদের জন্য ঈশ্বরের বিচার অপেক্ষা করছে
 
কেন প্রকৃত সুসমাচার
পরিবর্তিত হয়েছে?
কারণ ভ্রান্ত যাজক এবং কপটীরা তাদের
ভ্রান্ত বিশ্বাসকে সত্য সুসামাচারের
সাথে গুলিয়ে ফেলেছে৷
 
“এই জন্য প্রভু, বাহিনীগণের সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের এক বীর কহেন, আহা, আপন বিপক্ষদিগকে [দন্ড দিয়া] শান্তি পাইব, ও আমার শত্রুদিগকে প্রতিশোধ দিব৷ আর তোমার প্রতি আপন হস্ত ফিরাইব, ক্ষার দ্বারা তোমার খাদ উড়াইয়া দিব, ও তোমার সমস্ত সীসা দূর করিব৷ আর পূর্বে যেমন ছিল, তেমনি পুর্ববার তোমাকে বিচারকর্তৃগণ দিব; প্রথমে যেমন ছিল, তেমনি মন্ত্রীগণ দিব; তত্পরে তুমি ধার্মিকতার পুরী, সতী নগরী নামে আখ্যাত হইবে৷ সিয়োন ন্যায়বিচার দ্বারা ও তাহার যে লোকেরা ফিরিয়া আইসে, তাহারা ধার্মিকতা দ্বারা মুক্তি পাইবে৷ কিন্তু অধর্মচারী ও পাপী সকলের বিনাশ একসঙ্গে ঘটিবে, ও যাহার সদাপ্রভুকে ত্যাগ করে, তাহারা বিনষ্ট হইবে৷ বস্তুতঃ লোকেরা তোমাদের অভিষ্ট এলা বৃক্ষ সকলের বিষয়ে লজ্জা পাইবে, এবং তোমরা আপনাদের মনোনীত উদ্যান সকলের বিষয়ে হতাশ হইবে৷ কেননা তোমরা শুস্কপত্র এলা বৃক্ষের ও নির্জল উদ্যানের ন্যায় হইবে৷ আর বিক্রমী ব্যক্তি কোষ্টাপাটের ন্যায় ও তাহার কার্য অগ্নিকনার ন্যায় হইবে; উভয়েই একসঙ্গে প্রজ্বলিত হইবে, কেহ নির্বাণ করিবে না” (যিশাইয় ১ : ২৪-৩১)৷
ঈশ্বর বলেন, আমরা যদি মানুষে নির্ভর করি তবে মানুষের কারণেই লজ্জিত হব৷ তিনি বলেন যে, আমরা নিজেরা যে চার্চ মনোনীত করেছি, সেই জন্য লজ্জিত হব, এবং সেই লজ্জা হবে সেরকম গাছের মত যার পাতাগুলো নির্জলা বাগানের মত৷
তিনি আমাদের বলেন যে, ভ্রান্ত যাজক এবং তাদের অনুসারীরা ঈশ্বরের বাক্যের চেয়ে মানুষের উপরে বেশী নির্ভর করে৷ তাদের কাজ উড়ে যাবে৷ উভয়েই নরকে জ্বলবে৷ ভন্ড কপটীরা এবং প্রচারকেরা যারা পাপ থেকে মুক্ত হয় নি, ধার্মিকের শত্রু, তারা অগ্নি দ্বারা বিচারিত হবে৷
থিওলজির ভিত্তিতে নির্মিত চার্চ বাইরে থেকে সুন্দর দেখালেও ভিতরে কিছু নেই৷ যেসব চার্চ ঈশ্বরের বাক্যের ভিত্তিতে এবং জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসামাচারের ভিত্তিতে প্রতিষ্টিত হয় নি, সেগুলো নির্জলা বাগানের মত৷
হতে পারে একটা গাছ, কিন্তু মৃত গাছ যাতে ফল ধরতে পারে না৷ যখন কোনো কূপে জল না থাকে সেটা আর কূপ থাকে না৷
“আর বিক্রমী ব্যক্তি কোষ্টাপাটের ন্যায় ও তাহার কার্য অগ্নিকনার ন্যায় হইবে; উভয়েই একসঙ্গে প্রজ্বলিত হইবে, কেহ নির্বাণ করিবে না”৷ যাদের মধ্যে আত্মা নেই, দেখতে শক্তিশালী হলেও ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তারা এমন গাছের তুল্য যা পুড়িয়ে ফেলার যোগ্য৷
প্রভু জিজ্ঞাসা করছেন, “প্রহরী রাত্রি কত?” (যিশাইয় ২১ : ১১)৷
যেসব ধার্মিকের অনন্তজীবন রয়েছে রাতের অন্ধকারেও তাদের জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করা উচিত৷
ঈশ্বর জ্যোতি এবং শয়তান অন্ধকার৷ ঈশ্বর মানুষকে ধার্মিকতার দিকে নিয়ে যান, কিন্তু শয়তান মানুষকে মিথ্যা গোলযোগপূর্ণ মন্দির ও মিথ্যা থিওলজির দিকে চালিত করে৷
যিশাইয়-এর সময়ে মানুষের বিশ্বাস বর্তমান অবস্থার মত ছিল৷ তারা ঈশ্বরের বাক্যকে থিওলজি এবং মানুষের চিন্তাধারার সাথে গুলিয়ে ফেলেছিল৷ ইস্রায়েলীয়দেরকে তারা মানবীয় গোলযোগের মধ্যে এতটাই ফেলে দিয়েছিল যে, ঈশ্বর তাদেরকে ছেড়ে দিতে চাইলেন৷
“আর তোমার প্রতি আপন হস্ত ফিরাইব, ক্ষার দ্বারা তোমার খাদ উড়াইয়া দিব, ও তোমার সমস্ত সীসা দূর করিব৷ আর পূর্বে যেমন ছিল, তেমনি পুর্ববার তোমাকে বিচারকর্তৃগণ দিব; প্রথমে যেমন ছিল, তেমনি মন্ত্রীগণ দিব;” যে বলি কখনই ঈশ্বর কর্তৃক গ্রাহ্য হবে না তা খাদের মত, ঈশ্বরের বাক্য এবং মানুষের চিন্তাধারা মিশ্রিত৷
ঈশ্বর এই সমস্ত মিশ্রিত বলি গ্রহন করেন না৷ হয়ত মানুষের চোখে দেখতে খাঁটি মনে হয়, কিন্তু সেগুলো যদি মানুষের ভ্রান্ত চিন্তাধারার সাথে মেশে, সেগুলো ভেজাল হয়ে যায়৷ যা ঈশ্বর কর্তৃক গ্রাহ্য নয়৷
ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দেরকে তিরস্কার করলেন, বিশেষত কপটীদের, ভ্রান্ত যাজকদের ও পাপীদের৷
আমরা যদি যাত্রাপুস্তক বা গণনাপুস্তক পড়ি, তাহলে দেখতে পাই যে, ঈশ্বর প্রথমে তাদের তিরস্কার করেন নি৷ ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দেরকে আশীর্বাদ করেছেন এবং সাহায্য করেছেন৷ কিন্তু যিহোশূয়র মৃত্যুর পর থেকে, বিচারকর্তৃগণ থেকে ইস্রায়েলীয়দেরা আক্রান্ত হয়েছে৷
যাহোক, তারা পাপের পথ বেছে নিয়েছে৷ সেই সময় ঈশ্বর যিরমিয় ভাববাদিকে পাঠালেন এবং ইস্রায়েলকে বাবিলের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বললেন৷
যিরমিয় তাদেরকে বাবিলের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বললেন৷ এর একটা আত্মিক অর্থ আছে৷ ধার্মিকেরা কপটীদেরকে জল ও আত্মার সুসামাচারের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলে৷
 
 
ঈশ্বর কপটীদের তিরস্কার করেন৷
 
কেন ঈশ্বর কপটীদের
 তিরস্কার করেন?
কারণ তারা ঈশ্বরকে বাদ দিয়ে
 প্রতিমার পূজা করে
 
ঈশ্বরের দাস কেন ইস্রায়েলের লোকেদের তিরস্কার করলেন? কারণ তারা বলিদান প্রথা পরিবর্তন করেছিল, সাধারণ লোককে যাজকত্ব দিয়েছিল ও বলিদানের দিনক্ষণ পরিবর্তন করেছিল৷
প্রায়শ্চিত্ত দিনের তারিখটি তারা সপ্তম মাসের দশম দিন থেকে পরিবর্তন করে অষ্টম মাসের পঞ্চম দিনে নিয়েছিল, লেবীয় বংশের বাইরে থেকে যাজক নিয়োগ করেছিল৷ এইভাবে তারা নুতন জন্মের পথ রুদ্ধ করেছিল৷
ভ্রান্ত প্রচারকদের ঈশ্বর তিরস্কার করলেন৷ যারা ঈশ্বরের পরিবর্তে গোবত্সের আরাধনা করল, তারা কপট যাজক প্রতিপন্ন হল৷
আসলে শুধু মূর্তি পূজার কারণে ঈশ্বর তাদেরকে তিরস্কার করেছেন, তা নয়৷ আমরাও কি কখনো কখনো মূর্তি পূজা করি না? আমরা প্রায়ই পাপ করি, কিন্তু আমাদের অধর্ম এতটা গভীরভাবে বিবেচনা করা হয় না, কারন আমরা ঈশ্বরের অনুগ্রহের মধ্যে রয়েছি৷ কিন্তু ঈশ্বরের বদলে গোবত্সকে বসানো ক্ষমার অযোগ্য৷ বলিদান প্রথা পরিবর্তন করা এবং সাধারণ লোককে যাজক নিয়োগ করাও একই বিষয়৷
কি মারাত্মক পাপ এইগুলো! এই গুলো সবচেয়ে মারাত্মক পাপ৷ ঈশ্বরের স্থলে স্বর্ণময় প্রতিমাকে স্থান দিলে কিভাবে ক্ষমা পাওয়া যাবে? বাইবেলে লেখা আছে যে, এটা যারবিয়ামের পাপ যার কারণে ঈশ্বরের ক্রোধ নেমে এসেছিল৷
যেমন পুরাতন নিয়মে ঈশ্বর তাঁর ক্রোধ প্রকাশ করেছিলেন তেমনি বর্তমান সময়েও যারা তাঁর বিরুদ্ধে তাদেরকে তিনি ধ্বংস করবেন৷ ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দেরকে বলেছিলেন যে, যারা স্বর্ণময় গোবত্সের পূজা থেকে না ফিরবে, তিনি তাদের অভিশাপ দেবেন৷
 
 
কপটীরা ব্যবস্থাবহির্ভূত বলি উত্সর্গ করে
 
ঈশ্বরের কাজ করতে গেলে
আমাদের কি করতে হবে?
আমাদের সমস্ত পাপ ধৌত
 হতে হবে৷
 
ইস্রায়েলের রাজারা এবং ভ্রান্ত যাজকেরা ঈশ্বরের বিপক্ষে ছিল, এবং তারা এমন লোকদের যাজকত্বের নিয়োগ করেছিল যারা বলিদান প্রথার পরিবর্তন করেছিল৷ যারবিয়াম, যার হৃদয় পাপে পরিপূর্ণ ছিল সে এমন একজনকে যাজকের দায়িত্ব দিল, যে লেবীয় ছিল না৷
যারা লেবীর বংশ থেকে তারাই কেবল যাজকত্ব করতে পারত এবং সমাগম-তাম্বুর কাজ করতে পারত৷ মোট কথা, হারোনের বংশ থেকেই যাজক হওয়ার কথা ছিল৷ এটা ঈশ্বরের অনন্তকালীয় নিয়ম ছিল৷ কিন্তু যারবিয়াম লেবীর বংশের বাইরের লোককে যাজক নিয়োগ করল৷ এবং স্বর্ণের বাছুরের কাছে যজ্ঞ উত্সর্গ করেছিল৷ আমাদের জানা উচিত এর দ্বারা ঈশ্বরের ক্রোধ নেমে এল৷
এমন কি আজও, যারা নুতন জন্ম পায় নি, তারা চার্চে বড় বড় দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে৷ এর দ্বারা ঈশ্বরের ব্যবস্থার বিরোধিতা করা হচ্ছে, এবং তাঁর ক্রোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ ব্যবস্থাবিহীন নৈবেদ্যে কি ঈশ্বর প্রীত হন? কপটীদের তাদের স্বর্ণময় প্রতিমা ধ্বংস করতে হবে৷ ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসতে হবে এবং নুতন জন্ম পেতে হবে৷
যিশাইয় ১: ১০-১৭ পদে আছে, “ সদোমের শাসনকর্তারা, সদাপ্রভুর বাক্য শ্রবণ কর; ঘমোরার প্রজাগণ, আমাদের ঈশ্বরের ব্যবস্থায় কর্ণপাত কর৷ সদাপ্রভু কহিতেছেন, তোমাদের বলিদান বাহুল্যে আমার প্রয়োজন কি? মেষের, হোমবলিতে ও পুষ্টপশুর মেদে আমার রুচি নাই; বৃষের কি মেষের কি ছাগের রক্তে আমার কিছু সন্তোষ নাই৷ তোমরা যে আমার সাক্ষাতে উপস্থিত হইয়া আমার প্রাঙ্গন সকল পদতলে দলিত কর, ইহা তোমাদের কাছে কে চাহিয়াছে? অসার নৈবেদ্য আর আনিও না; ধুপদাহ আমার ঘৃণিত; অমাবস্যা, বিশ্রামবার, সভার ঘোষণা – আমি অধর্মযুক্ত পর্বসভা সহিতে পারি না৷ আমার প্রাণ তোমাদের অমাবস্যা ও নিরুপিত উত্সব সকল ঘৃনা করে; সে সকল আমার পক্ষে ক্লেশকর, আমি সে সকল বহনে পরিশ্রান্ত হইয়াছি৷ তোমরা অঞ্জলি প্রসারণ করিলে আমি তোমাদের হইতে আমার চক্ষু আচ্ছাদন করিব; যদ্যপি অনেক প্রার্থনা কর, তথাপি শুনিব না; তোমাদের হস্ত রক্তে পরিপূর্ণ৷ তোমরা আপনাদিগকে ধৌত কর, বিশুদ্ধ কর, আমার নয়নগোচর হইতে তোমাদের ক্রিয়ার দুষ্টতা দূর কর; কদাচরণ ত্যাগ কর, সদাচরণ শিক্ষা কর, ন্যায়বিচার অনুশীলন কর, উপদ্রবী লোককে শাসন কর, পিতৃহীন লোকের বিচার নিস্পত্তি কর, বিধবার পক্ষ সমর্থন কর৷”
এই অংশটি সতর্কতার সাথে পড়লে দেখতে পাই যে, ইস্রায়েলের নেতারা খুব উদ্ধত ছিল৷ তারা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, কারণ তারা ভুল বলি উত্সর্গ করেছিল এবং ঈশ্বরের ব্যবস্থা লঙ্ঘন করেছিল৷
আমরা দেখতে পাই যে, যখন তারা বলি উত্সর্গ করেছে, তখন ঈশ্বরের বাক্য পালন করে নি, বা তাঁর ব্যবস্থায় মনোযোগও করে নি৷ তারা এতই নিবেদিত ছিল যে, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে অসংখ্য বলি উত্সর্গ করেছিল৷ বাইবেল বলে যে, সমাগম-তাম্বুর ভিতরে নদীর স্রোতের মত রক্ত প্রবাহিত হত৷
যাহোক, যখন ঈশ্বর তাদের কাজ দেখলেন, তিনি বললেন, তাদের পাপ ঘোমরার মত৷ তিনি দেখলেন যে, তারা তাঁর উদ্দেশে নৈবেদ্য উত্সর্গ করছে ঠিকই, কিন্তু আসলে তারা পাপ করছে৷ তাই তিনি বললেন এর চেয়ে বলিদান না করা আরো ভাল৷ তিনি এগুলো গ্রহণ করতে চাইলেন না৷
যেহেতু তারা স্বর্ণময় প্রতিমার কাছে বলি উত্সর্গ করেছিল, তাই ঈশ্বর তাদের পাপ ক্ষমা করতে পারলেন না৷ তিনি আর সহ্য করতে পারলেন না৷ তিনি বললেন যে, তাঁর আজ্ঞা অনুসারে তাদের নৈবেদ্য উত্সর্গ করা উচিত৷ যদি না হয়, তাহলে তাদের নৈবেদ্য না আনাই ভাল৷
তাদের নৈবেদ্য সঠিক উপায়ে ঈশ্বরের কাছে উত্সর্গ করা হয় নি৷ ফলে যাজকেরা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করল৷ আপনার জানা উচিত যে, পাপ ধৌত না হলে, ঈশ্বরের কাজ করা, তাঁর সেবা করা, তাঁর দৃষ্টিতে মারাত্মক পাপ৷
 
 
কপটীরা স্কুল শিক্ষকদের মত
 
কপটীরা কি শিক্ষা দেয়?
তারা নৈতিকতা শিক্ষা দেয়, নুতন
জন্ম লাভের উপায় নয়৷
 
বাইরে থেকে কপটীদের পবিত্র মনে হয়৷ যখন তারা পুলপিটে ওঠে, তখন তাদের সুন্দর চেহারা দেখে অনেকে প্রতারিত হয়৷ তাদের কথা বার্তা যুক্তিযুক্ত মনে হয়৷ এবং সব সময়েই তারা বক্তৃতার শেষে মানুষকে সন্তুষ্ট করতে চায়৷ স্কুল শিক্ষক ও তাদের বক্তৃতার মধ্যে পার্থক্য কি?
ঈশ্বরের মন্ডলী এমন স্থান যেখানে নুতন জন্ম প্রাপ্ত সকলে একসঙ্গে ঈশ্বরের আরাধনা করে৷ এই ধরনের চার্চই প্রকৃত চার্চ৷ ঈশ্বরের প্রকৃত মন্ডলী কখনও এই শিক্ষা দেয় না, ঈশ্বরের সম্মুখে কেমন আচরণ করতে হয়৷ প্রকৃত মন্ডলীর প্রচারকেরা জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করে৷ আপনি যত দুর্বল হোন না কেন, জানবেন যে, ঈশ্বর আপনার সমস্ত পাপ ধুয়ে দিয়েছেন৷
কপট প্রচারকেরা তাদের অনুসারীদের বলে, “এটা কর ওটা কর” তাদের উপরে ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয়, অথচ নিজেরা আঙ্গুল দিয়ে তা নাড়াতে চায় না৷
একজন কপট প্রচারক তার সন্তানদের জন্য মূল্যবান বেহালা কিনে দেয় এবং লেখাপড়ার জন্য সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়৷ একজন যাজকের এগুলো করার সামর্থ্য কিভাবে হয়? সে কোথা থেকে টাকা পায়? তার যদি এতই টাকা থাকে, তাহলে তা কি সুসমাচার প্রচারে ব্যয় করা উচিত নয়? একজন প্রচারক কি দামী গাড়ি চালাতে পারে? নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য কি বিলাসিতাপূর্ণ গাড়ি ব্যবহার করতে পারে? যে প্রচারক দামী গাড়ি ব্যবহার করে, সে একজন চোর৷ যখন তার অনুসারীরা সাধারণ গাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখে না, কিভাবে তার পক্ষে বিলাস বহুল গাড়ি চড়া শোভা পায়? আমরা কাজ দেখে কপটী প্রচারক চিনতে পারি৷
কপট প্রচারকেরা মোটা টাকা চায়৷ কোন কোন চার্চের পালককে ১০০০০ ডলারের বেশী বেতন দেওয়া হয়৷ এটা কেবলমাত্র অফিসিয়াল বেতন৷ তাদেরকে শিক্ষার ভাতা, বইপত্রের ভাতা, ছেলে মেয়ের ভাতা, যাতায়াত ভাতা ইত্যাদি দেওয়া হয়৷
এরপরেও অনেকে অভিযোগ করে যে তার বেতন যথেষ্ট নয়৷ মাসে ১০০০০ ডলার পেয়েও তারা আশা করে৷ ১০০০০ ডলার কি কম বেতন? একজন প্রচারকের চলার মত পয়সা পেলে সন্তুষ্ট থাকা উচিত, কারন সে জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করে৷
সত্যিকারের প্রচারক ঈশ্বরের কাছ থেকে শান্তি ও সান্ত্বনা পায়৷ কিন্তু কপট প্রচারকেরা শান্তি তো পায়ই না, বরং আরো টাকা আশা করে৷ এই ধরনের প্রচারকেরা আসলে স্বর্ণময় গোবত্সের আরাধনা করে৷
ঈশ্বরের মন্ডলীকে কখনও কখনও সিয়োন বলা হয়৷ সিয়োনের মত সুন্দর মন্ডলী আর নেই৷ ঈশ্বরের মন্ডলী হল সেই স্থান যেখানে জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করা হয়৷
যিশাইয় ১: ২১ পদে আছে, “সতী নগরী কেমন বেশ্যা হইয়াছে৷ সে ত ন্যায়বিচারে পূর্না ছিল৷ ধার্মিকতা তাহাতে বাস করিত, কিন্তু এখন হত্যাকারী লোকেরা থাকে৷” যিশাইয় এইভাবে মন্ডলীর বর্ণনা দিয়েছেন, “সে ত ন্যায়বিচারে পূর্না ছিল৷”
ঈশ্বর ন্যায়বান ও ন্যায়বিচারক৷ আমরা অসম্পূর্ণ, কারণ আমরা আদমের বংশজাত, এবং জন্মগতভাবে পাপী৷ যীশু এই জগতে এসেছিলেন জল ও আত্মা দ্বারা আমাদের পাপ সকল ধৌত করার উদ্দেশ্যে৷ঈশ্বর এইরকম ন্যায়বিচারক৷
পুরাতন নিয়মের সময়ে লোকেরা যখন বুঝতে পারত যে তারা অসম্পূর্ণ, তখন তারা ঈশ্বরের কাছে আসত এবং যজ্ঞ উত্সর্গ করত৷ “আমি এইভাবে ভুল করেছি৷ আমার দোষ হয়েছে৷” তারপর তাদের প্রতিদিনের পাপ ক্ষমা হত এবং সারাবছরের পাপও প্রায়শ্চিত্তের দিনে একেবারে ক্ষমা হত৷
একইভাবে নুতন নিয়মে যীশু এই পৃথিবীতে এসে, মানুষের পাপ একেবারে চিরতরে তুলে নেবার জন্য বাপ্তাইজিত হলেন ও ক্রুশে বিদ্ধ হলেন৷
কিন্তু নববর্ষের উপাসনায় অনেকে অনুতাপের প্রার্থনা করে বলে, “ হে প্রভু, দয়া করে আমার গত বছরের পাপ সকল ক্ষমা কর৷ এই নুতন বছরে আমাকে আশীর্বাদ কর৷” এই লোকেরা কপটী৷
তাহলে, জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সত্য কি? ২০০০ বছর আগে যীশু এই জগতে এসেছিলেন, এবং একেবারে চিরকালের জন্য মানুষের সব পাপ তুলে নিয়েছিলেন এবং এইভাবে আমাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করেছেন৷ জল ও রক্ত দ্বারা তিনি জগতের সমস্ত পাপ থেকে আমাদের উদ্ধার করেছেন৷ কিন্তু আমরা যদি প্রতিদিন ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করি, তবে তিনি কি বলবেন?
“সতী নগরী কেমন বেশ্যা হইয়াছে৷ সে ত ন্যায়বিচারে পূর্না ছিল৷ ধার্মিকতা তাহাতে বাস করিত, কিন্তু এখন হত্যাকারী লোকেরা থাকে৷” যে নিজেকে পাপী বলে সে কপটী৷
 
 
কপট যাজকেরা জল ও আত্মার নুতন জন্ম লাভের সুসমাচার প্রচার করতে পারে না
 
ঈশ্বর কি পাপীদের
প্রার্থনা শোনেন?
না৷ তিনি তা শুনতে পারেন না,
কারণ তাদের পাপ তাদেরকে তাঁর
কাছ থেকে বিছিন্ন করেছে৷
 
যারা তাঁতে বিশ্বাস করে এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চায়, ঈশ্বর তাদেরকে আহ্বান করেন৷ যেহেতু তারা ক্ষমা চায়, এবং নিজেদেরকে পাপী বলে, তাহলে কি তারা যীশুকে আবার পৃথিবীতে এসে মৃত্যুবরণ করার প্রত্যাশা করে? যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশ পরিত্রাণের বাস্তবতা৷
১ পিতর ৩: ২১ পদে বলা হয়েছে যে, যীশুর বাপ্তিস্ম আমাদের পরিত্রাণের প্রতিরূপ৷ যীশু মানুষকে পাপ থেকে উদ্ধার করার জন্য একেবারেই ক্রুশে মরেছেন৷ তিনি একেবারে চিরকালের জন্য মানুষের সমস্ত পাপ ধৌত করেছেন, এবং তৃতীয় দিনে পুনরুত্থান করেছেন৷ এখন তিনি ঈশ্বরের দক্ষিনে বসে আছেন৷
যীশু খ্রীষ্ট একবার বাপ্তাইজিত হয়েছেন এবং একবার ক্রুশে মরেছেন, যেন মানুষ চিরদিনের জন্য পাপের ক্ষমা পায়৷ যোহন বাপ্তাইজক দ্বারা তিনি ৩০ বছর বয়সে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন৷ জগতের পাপভার থেকে আমাদের মুক্ত করার জন্য তিনি একবারই মৃত্যবরণ করেছেন৷ তার মানে কি এই দাঁড়ায় না যে, সর্বকালের জন্য বিচার নিস্পত্তি হয়ে গেছে?
কপটীরা যদি বলে যে, তারা এখনো পাপী রয়েছে, তার মানে তারা চায় যেন, যীশু দ্বিতীয়বার এসে আবার ক্রুশে বিদ্ধ হন৷ প্রকৃতপক্ষে যারা যতবার ক্ষমা চাইবে, ততবারই তাহলে তাঁকে মৃত্যুবরণ করতে হবে৷
যারা জল ও আত্মার সুসমাচার হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করে, তারা চিরকালের জন্য পাপ থেকে মুক্ত হয়েছে, ধার্মিক হয়েছে, ঈশ্বরের আশীর্বাদের জন্য অনন্ত জীবনে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করবে৷ ধার্মিকদের সাথে যার দেখা হোক, সেই জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা পরিত্রাণ পেতে পারে এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদের সন্তান হতে পারে৷ ঈশ্বরের সাক্ষাতে যারা ধর্মময় পরিত্রাণের জন্য বিনতী করে, ঈশ্বরে তাদের আশীর্বাদ করবেন৷
আসুন যিশাইয় ১: ১৮-২০ পদ পড়ি, “সদাপ্রভু কহিতেছেন, আইস, আমরা উত্তর প্রত্যুত্তর করি; তোমাদের পাপসকল সিন্দুরবর্ণ হইলেও হিমের ন্যায় শুক্লবর্ণ হইবে; লাক্ষার ন্যায় রাঙা হইলেও মেষলোমের ন্যায় হইবে৷ তোমার যদি সম্মত ও আজ্ঞাবহ হও, তবে দেশের উত্তম উত্তম ফল ভোগ করিবে৷ কিন্তু যদি অসম্মত ও বিরুদ্ধাচারী হও, তবে খড়গযুক্ত হইবে; কেননা সদাপ্রভুর মুখ এই কথা বলিয়াছে৷”
ঈশ্বর আমাদের বলেছেন যে, যদি আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বাধ্য হই, আমরা দেশের উত্তম উত্তম ফল ভোগ করব৷ যদি অস্বীকার করি ও বিদ্রোহ করি, তবে খড়গ দ্বারা আক্রান্ত হব৷
আমাদের ঈশ্বর বলেন, “এখন আস, আমরা বাদানুবাদ করি৷ আস কথা বলি৷ তুমি কি অসম্পূর্ণ? তুমি কি অধার্মিক? নিজেকে কি তুমি খুব ভালবাস? তুমি কি আজ্ঞানুসারে চলতে পারো না? তুমি কি ব্যবস্থা পালন করতে পারো না? তুমি জানো, কিন্তু রক্ষা করতে পারো না? তাহলে আমার কাছে আস৷ তোমার লালবর্ণের পাপ ছিড়ে ফেল, সেগুলো তুষারের মত সাদা হবে; সেগুলো লাক্ষার মত লাল হলেও মেষলোমের মত হয়ে যাবে৷” এর মানে এই যে, ঈশ্বর পাপীদেরকে যথার্থ উপায়ে পরিত্রাণ করেছেন এবং ধার্মিক করেছেন৷
আদম ও হবাকে যখন ঈশ্বর সৃষ্টি করেছিলেন, তখন কোনো পাপ ছিল না৷ কিন্তু শয়তান আবির্ভূত হল৷ সে তাদেরকে ঈশ্বরের অবাধ্য হতে প্রলুব্ধ করল৷ এবং এইভাবে তাদের পাপের দ্বারা সমস্ত মানবজাতিকে পাপী প্রতিপন্ন করল৷ শয়তানই মানুষের পতনের কারণ৷ আদিতে, আদম হবা ঈশ্বরের সাক্ষাতে পাপী ছিলেন না৷ তাঁরা ঈশ্বরের সাথে এদোন বাগানে ছিলেন৷ কিন্তু তারা পাপী হলেন৷ সুতরাং এখন ঈশ্বর আমাদেরকে আহ্বান করছেন৷ আস আমরা আলাপ আলোচনা করি৷ আস উত্তর প্রত্যুত্তর করি৷
“এই পৃথিবীতে তুমি কত পাপ করেছ? মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তুমি কত পাপ করবে?”
“হে ঈশ্বর পাপ না করা অসম্ভব৷ যতবারই চেষ্টা করি না কেন আমরা পবিত্র হতে পারি না৷”
“ভালো, তাহলে এখন পর্যন্ত তুমি কত পাপ করেছ?”
“প্রভু, সব গুলো তো মনে করতে পারছি না৷ কয়েকটা মনের মাঝে স্থায়ী হয়ে আছে৷ তুমি কি সেই সময়টা মনে করতে পারছ? তুমি জান আমি কোন সময়ের কথা বলছি-------- এবং ঐ অন্য সময়ে------- তুমি জান-----”
তখন ঈশ্বর বলেন, “বলে যাও৷ তুমি কি মনে কর এগুলোই সব? এগুলো ছাড়া আর কতগুলো জান? যাহোক, যত পাপ তোমার মনে পড়ে, যত পাপ ভুলে গেছ, এবং ভবিষ্যতে যত পাপ করবে, আমি সেগুলো সব চিরতরে ক্ষমা করে দিয়েছি৷ শুধু তোমার নয়, কিন্তু তোমার সন্তানদের, তাদের সন্তানদের, তোমার সমস্ত বংশধরদের পাপ৷ আমি ধার্মিক ঈশ্বর৷ আমি তোমার সব পাপ চিরকালের জন্য একবারে ক্ষমা করেছি৷”
ঈশ্বর আদম থেকে শুরু করে, পৃথিবীর শেষ মানুষটা পর্যন্ত, সকলের পাপ ধৌত করেছেন, তিনি আলফা ও ওমেগা, প্রথম ও শেষ৷
“ আমি ত্রাণকর্তা এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বর৷”
“আমি যিহোবা, অনুগ্রহের ঈশ্বর৷”
“যারা অনুগ্রহ চায় তাদের উপর আমি অনুগ্রহ বর্ষণ করি, যারা দয়া চায়, তাদেরকে দয়া করি৷”
যদি আমরা তাঁর দয়া চাই, এবং খোলাখুলিভাবে তাঁকে বলি, তবে আমরা ঈশ্বরের দয়া পাব৷ আমাদের স্বর্গীয় পিতা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করতে চান৷ তিনি আমাদের সকলকে ধার্মিক করতে চান৷ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে, আমাদের সকলকে তাঁর ধার্মিক সন্তান করতে চান৷
 
নুতন জন্ম পাওয়ার পরে ঈশ্বর
আমাদের কাছে কি প্রত্যাশা করেন?
তিনি আশা করেন আমরা যেন সারা
পৃথিবীতে সুসমাচার প্রচার করি৷
 
তিনি আমাদেরকে তুষারের মত সাদা করতে চান৷ যীশু তাঁর বাপ্তিস্ম এবং তাঁর রক্তের দ্বারা একেবারে চিরকালের জন্য সমস্ত মানুষের পাপ ধুয়ে দিয়েছেন৷ কোনো মন্ডলী যদি বিশ্বাসীর পাপের এবং জীবনের সমস্যা সমাধান না করতে পারে, তাকে ঈশ্বরের সত্য মন্ডলী বলা যায় না৷
লোকেরা যাজকের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করে, “আমার পাপ রয়েছে, আমি কি করব? আমি অনুতাপ করি এবং এতবার অনুতাপ করেছি, তবুও আমার পাপ আমাকে ছেড়ে যায় নি৷ আমি আর পারছি না৷ আমার মনে হয় না যে আমি ধর্মিক জীবন যাপন করতে পারব৷” যদি যাজক এসময় উপযুক্ত উত্তর দিতে না পারে , তবে সে একজন কপটী৷ সে বলতে পারে, “এটা তোমার ব্যাপার৷ পাহাড়ে গিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা কর৷ ৪০ দিন উপবাস থাক৷”
কপট যাজকেরা অথবা ধর্মীয় নেতারা অধর্মে এত পরিপূর্ণ যে, তারা জল ও আত্মার সুসমাচার জানে না৷ তারা জানেনা তাদের আত্মা স্বর্গে যাবে নাকি নরকে যাবে৷
তারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে সঠিক নয়৷ তারা ভ্রান্ত খ্রীষ্টিয়ান এবং কপটী৷ বাইরে থেকে মনে হয় তারা যেন যীশুতে বিশ্বাস করে কিন্তু তাদের হৃদয় পাপে পরিপূর্ণ৷ তাদের পাপ ধৌত হয় নি৷ যে জল ও আত্মার সুসমাচার তাদের পাপ ধৌত করতে পারে, তাতে তারা বিশ্বাস করে না৷ আমরা যেন তাদের দ্বারা প্রতারিত না হই৷
তীত ৩:১০-১১ পদে কপটীদের সমন্ধে বলা হয়েছে, “ যে ব্যক্তি দলভেদী তাহাকে দুই একবার চেতনা দিবার পর অগ্রাহ্য কর; জানিও, এরূপ ব্যক্তি বিগড়াইয়া গিয়াছে, এবং সে পাপ করে, আপনি আপনাকেই দোষী করে৷” আকরণ তারা যীশুতে বিশ্বাস করে, কিন্তু নুতন জন্মে বিশ্বাস করে না৷ নিজেদেরকে পাপী বলে৷ তারা জল ও আত্মার সুসমাচারকে অবহেলা করে ও খাটো করে,- এই বলে যে, তারা পাপী এবং নরকগামী৷
এরা খ্রীষ্ট সমাজের কপটী৷ যীশুতে বিশ্বাস করার পর যার পাপ থাকে সে কপটী৷ কপটীরা ঈশ্বরের বিপরীত৷ ঈশ্বর পবিত্র৷ কিন্তু তারা পবিত্র নয়৷ যারা জল ও আত্মার সুসমাচার বিশ্বাস করে, তাদের পাপ ধৌত হয়ে গিয়েছে৷ সুতরাং যে ব্যক্তি যীশুতে বিশ্বাস করলেও হৃদয়ে পাপ থাকে সে একজন কপটী৷ সেই সব লোক থেকে আমাদের দুরে থাকা উচিত, যারা বলে তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, অথচ পাপী৷
আসুন আমরা তাদের কাছে, সুসমাচার প্রচার করি যারা এখনও শোনে নি, এবং যারা বিশ্বাস করতে চায় অথচ সুসমাচার সম্পর্কে জানে না৷ আসুন আমরা তাদেরকে নুতন জন্ম লাভে সাহায্য করি৷ যারা জল ও আত্মার সুসমাচারের পথে বাঁধা সৃষ্টি করে, আসুন তাদেরকে দূর করে দিই৷
সারা পৃথিবীতে আমাদের অবশ্যই জল ও আত্মায় নুতন জন্ম লাভের সুসমাচার প্রচার করতে হবে৷ আমেন!