শিক্ষা

বিষয় ৮: পবিত্র আত্মা

[8-1] < প্রেরিত ১:8 - ৮ > ঈশ্বরের বাক্যের প্রতিজ্ঞার মধ্য দিয়ে পবিত্র আত্মা কাজ করেন

< প্রেরিত ১:8 - ৮ >
“আর তিনি তাহাদের সঙ্গে সমবেত হইয়া এই আজ্ঞা দিলেন,তোমরা যিরূশালেম হইতে প্রস্থান করিও না,কিন্তু পিতার অঙ্গিকৃত যে দানের কথা আমার কাছে শুনিয়াছ , তাহার অপেক্ষায় থাক। কেননা যোহন জলে বাপ্তাইজ করিতেন বটে, কিন্তু তোমরা পবিত্র আত্মায় বাপ্তাইজিত হইবে, বেশি দিন পরে নয়। অতএব, তাহারা একত্র হইয়া তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,প্রভু আপনি কি এই সময়ে ইস্রায়েলের হাতে রাজ্য ফিরাইয়া আনিবেন? তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, যে সকল সময় কি কাল পিতা নিজ কর্তৃত্বের অধীনে রাখিয়াছেন, তাহা তোমাদের জানিবার বিষয় নয়। কিন্তু পবিত্র আত্মা তোমাদের উপরে আসিলে তোমরা শক্তি প্রাপ্ত হইবে ; আর তোমরা যিরূশালেমে, সমুদয় যিহুদীয়া ও শমরিয়া দেশে এবং পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত আমার সাক্ষী হইবে।”
 
 
অন্তরে-বসবাসকারী পবিত্র
আত্মা কি ঈশ্বরের দান, অথবা এটা
কি কারো নিজের চেষ্টার
বিনিময়ে দেওয়া হয় ?
ইহা ব্যক্তি বিশেষকে প্রদত্ত দান যিনি
তার পাপের ক্ষমা পেয়েছেন, এবং ঈশ্বরের
প্রতিজ্ঞা পূর্ণর্তা সাধনে
নিযোজিত আছেন।
 
একদা আমি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পবিত্র আত্মার মত দেখতে অগ্নি শিখা গ্রহন করেছিলাম। কিন্তু এই অগ্নি শিখাগুলি বেশী সময় ছিল না, এবং শিঘ্র ইহা আমার পাপ মুখের সামনে থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। যাহোক, এখন আমি আপনাকে পবিত্র আত্মার সত্য দেখাতে চাই , যা অনন্তকাল ধরে আমাদের অন্তরে বাস করবে, পাপের দ্বারা কবলিত ভ্রান্ত আত্মা দ্বারা নয় কিন্তু সুসমাচারের সত্য দ্বারা। এখন আমি আপনাকে পবিত্র আত্মার সাথে পরিচিত করাবো , ইহা কোন বাণী নয়, যা আপনি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে গ্রহন করতে পারেন , কিন্তু জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে।
এই বইয়ের মাধ্যমে আমি আপনাকে অন্তরে-বসবাসকারী পবিত্র আত্মাকে পাবার পথ দেখাতে চাই। আপনি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারবেন যে,পবিত্র আত্মায় অনুপ্রাণিত হয়ে আপনি আপনাকে মুক্ত করছি। আমাদের জন্য ঈশ্বরের ইহা শর্তহীন আকাঙ্খা, আমরা অন্তরে - বসবাসকারী পবিত্র আত্মাকে এখনই গ্রহন করি। আপনি এর একটি বইয়ের মাধ্যমে অন্তরে-বসবাসকারী পবিত্র আত্মাকে গ্রহণের বিষয় শিক্ষ লাভ করতে পারেন।যদি এই বই আপনার জন্য যথেষ্ট না হয় , তবে ইতিপূর্বে আমার দ্বারা প্রকাশিত আরো দুটি বই পড়তে আমি আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছি। আপনি এই বইগুলির মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের উপরে পবিত্র বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবেন।
অনেক খ্রীষ্টিয়ান পবিত্র আত্মা গ্রহণ করতে চেষ্টা করছে, পঞ্চাশত্তমীর দিনে যীশুর শিষ্যদের উপরে তার অবতরণের মতো। অনেক লোক এই পদ্ধতিকে নিজের লাভের জন্য অবৈধভাবে খাটিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। তারা দাবী করে যে, মানবীয় কিছু কাজের মধ্য দিয়ে পবিত্র আত্মাকে পাওয়া যেতে পারে। তারা দর্শন অলৌকিক কাৰ্য্য সম্পাদন, যীশুর নিজের রব শোনা, যীশুর সাথে
 
যারা জল ও আত্মার সুসমাচারের বিশ্বাসের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা পেয়েছে, সেই সব নূতন জন্মপ্রাপ্ত আত্মাতে পবিত্র আত্মা বাস করেন। কোন বিশ্বাসীর কাছে তিনি একবার এলে, চিরদিন অর্থাৎ যতদিন সেই বিশ্বাসী এই সুসমাচার পরিত্যাগ না করে, ততদিন পবিত্র আত্মা তার সাথে থাকেন। তিনি বিশ্বাসীদের হৃদয়ে চেতনা দেন, বাইবেলের মাধ্যমে ঈশ্বরের সংকল্প বুঝতে সাহায্য করেন,এই জগতের বিভিন্ন পরীক্ষা ও সমস্যা জয় করেন এবং প্রচুর রূপে আত্মার ফলে ফলবান করেন। অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মায় বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে ঈশ্বর বিশ্বাসীদের দেহকে পবিত্র আত্মার মন্দির হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন (প্রেরিত ২:৩৮-৩৯)(যোহন ১৪:১৬; ১৬:৮-১০) (১করিন্থীয় ৩:১৬,৬:১৯)
 
(গালাতীয় ৫:২২-২৩)।
কথা বলা , রোগের আরোগ্য সাধন এবং ভুত তাড়াতে চায়। যাহোক, তাদের পাপ তাদের অন্তরে থাকে এবং মন্দ আত্মার প্রভাবে চলে ( ইফিষীয় ২ : ১-২ )। এমনকি অনেক লোক ঐগুলি না জেনে মন্দ আত্মার শক্তির অধীনে বাস করছে। কেননা শয়তান বাস্তবিক সর্বপ্রকার তার পদ্ধতি ব্যবহার করে এরূপ অদ্ভুদ এবং অলৌকিক ঘটনার দ্বারা মায়াবলে লোকদের প্রলোভিত এবং প্রতারিত করছে।
যীশু তাঁর শিষ্যদের আদেশ করলেন “ যিরুশালেম থেকে প্রস্থান করো না , কিন্তু পিতার অঙ্গীকৃত দানের অপেক্ষায় থাক" ( প্রেরিত ১ : ৪ )। প্রেরিতদের কাৰ্য্য বিবরণীতে প্রকাশিত পবিত্র আত্মা পাওয়া যায় , তবে “অভিজ্ঞতা”, “ঈশ্বরভক্তি” , অথবা অনুতাপের প্রার্থনার। দ্বারা নয়,” কিন্তু ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা অনুসারে দত্ত পবিত্র আত্মার অপেক্ষায় থাকার মধ্য দিয়ে পাওয়া যায়। আমরা এই ক্ষুদ্র অংশ থেকে শিখলাম যে,অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মার বর্ষন বেপরোয়া প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ঘটেনা । ইহা ঈশ্বরের দান । যাহা কেবলমাত্র সুন্দর । সুসমাচারে বর্ণিত জল ও আত্মতে পরিপূর্ণ বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে পাওয়া যায়,যা পিতা ঈশ্বর এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্ট মানুষকে দিয়ে থাকেন। আমাদের অন্তরে বাসকারী সত্যের পবিত্র আত্মার বর্ষন সুসমাচারে বিশ্বাসের মাধ্যমে ঘটে থাকে যা যীশু খ্রীষ্ট আমাদিগকে দিয়েছেন। ঈশ্বর আমাদিগকে জল ও আত্মার সত্য দিয়েছেন , সুতরাং আমরা পবিত্র আত্মাকে আমাদের অন্তরে গ্রহণ করতে পারি
(যোহন ৩:৩ -৫)।
নূতন নিয়মে অনেকবার পবিত্র আত্মার প্রতিজ্ঞার কথা প্রকাশ করা হয়েছে। পঞ্চাশত্তমীর দিনে পিতর তার বক্তৃতায় ( প্রেরিত ২ : ৩৮ ৩৯) পবিত্র আত্মায় বাপ্তিস্মের কথা বলেন। “ ইহা পবিত্র আত্মা প্রদানের ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা , যিনি সুন্দর সুসমাচারে বিশ্বাস হেতু পাপের ক্ষমা পেয়েছেন।”
ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা পূর্ণতা সাধনে যারা তাদের পাপের ক্ষমা পেয়েছে , তাদেরকে অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মারূপ দান দত্ত হয়েছে। নূতন নিয়মে বর্ণিত পবিত্র আত্মা ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে। সন্ধির বিষয় হিসাবে থাকতে পারে না,কিন্তু ঈশ্বরের একটি প্রতিজ্ঞার দান হিসাবে থাকে। অতএব,প্রেরিতদের কাৰ্য্য বিবরণীতে প্রকাশিত অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মা অংশ বিশেষ নয়, যা প্রার্থনার মাধ্যমে। পাওয়া যেতে পারে ( প্রেরিত ৮:১৯ - ২০ )।
পবিত্র আত্মা কেবল মাত্র তার উপরেই আসেন , যিনি জয় ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেন, যা যীশু আমাদিগকে দিয়েছেন। যীশু তার শিষ্যদের কাছে পবিত্র আত্মা পাঠিয়ে দেবার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন , এই জন্য যে তারা অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মাকে পেয়েছিলেন। "কেননা যোহন জলে বাপ্তাইজ করিতেন বটে, কিন্ত তোমরা পবিত্র আত্মায় বাপ্তাইজিত হইবে , বেশী দিন পরে নয়। ” সুতরাং তাঁর শিষ্যরা ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা পূর্ণতার সাধনের জন্য অপেক্ষ করতে থাকলেন।
বাইবেলে বর্ণিত ঐ বিশ্বাস অনুসারে যিনি অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মকে গ্রহন করেছেন , আমরা সম্পূর্ণরূপে করি যে , ইহা তাদের চেষ্টার মধ্য দিয়ে ঘটে নাই কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারে হয়েছে। প্রেরিতদের কাৰ্য্য বিবরণীতে প্রেরিতদের উপরে অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মা নেমে এসেছিল তা মানবীয় চেষ্টা অথবা আধ্যাতিক কৃতিত্বের ফলে ঘটে নাই। পবিত্র আত্মা তাঁর শিষ্যদের উপরে নেমে এসেছিল , প্রেরিতদের কাৰ্য্য বিবরণীতে লিখিত অনুসারে সত্য ইহা শীঘ্র এসেছিল। যীশু যেমন বলেছিলেন , ইহা ছিল ঠিক সেরূপ “এখন থেকে বেশী দিন আগের কথা নয়” এটা ছিল প্রাচীন মন্ডলীতে প্রথম আশীর্বাদ। বাইবেল অনুসারে আমরা দেখতে পাই যে , উপবাস , প্রার্থনা অথবা বলিদান কোন কিছুই ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা পূণতা সাধন করতে পারে না, কিন্তু যীশুতে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে সম্ভব। যীশু খ্রীষ্টে স্বর্গাআরোহনর পর বিশ্বাসীগণ‌ পাপের ক্ষমা পেয়েছে এবং একই সময়ে অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মাকে পেয়েছে।
 
 
হঠাৎ স্বর্গ থেকে যীশুর শিষ্যদের উপরে পবিত্র আত্মা নেমে আসল !
 
“পরে পঞ্চাশত্তমীর দিন উপস্থিত হইলে তাঁহারা সকলে একস্থানে সমবেত ছিলেন” (প্রেরিত ২: ১)। যীশুর শিষ্যগণ এক জায়গায় একত্রে জমায়েত হয়ে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত পবিত্র আত্মায় পূর্ণতা সাধনের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে পবিত্র আত্মা তাদের উপর নেমে আসলেন।
“আর হঠাৎ আকাশ হইতে প্রচন্ড বায়ুর বেগের শব্দবৎ একটি শব্দ আসিল, এবং যে গৃহে তাঁহার বসিয়াছিলেন , সেই গৃহের সর্বত্র ব্যাপ্ত হইল। আর অংশ অংশ হইয়া পড়িতেছে , এমন অনেক অগ্নিবৎ জিহবা তাদের দৃষ্টি গোচর হইল ; এবং তাঁহাদের প্রত্যেক জনের উপরে বসিল। তাহাতে তাঁহারা সকলে পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হইলেন , এবং আত্মা তাঁহাদিগকে যেরূপ বক্ততা দান করিলেন, তদনুসারে অন্য অন্য ভাষায় কথা কহিতে লাগিলেন” (প্রেরিত ২ : ২- ৪)।
পবিত্র আত্মা তাঁদের উপর “ হঠাৎ আকাশ হতে” নেমে আসল। এখানে হঠাৎ শব্দের অর্থ এটা মানুষের ইচ্ছানুযায়ী ছিল না । তাছাড়া “ আকাশ হতে ” শব্দগুচ্ছ দ্বারা পবিত্র আত্মা কোথা থেকে এসেছে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে , এবং অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মা মানুষের ইচ্ছা অথবা চেষ্টার মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে এটা এর বিপরীত ধারনা । “আকাশ হতে” শব্দগুচ্ছ দ্বারা দেখানো হচ্ছে যে , পবিত্র আত্মা প্রার্থনার মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে এটা একটা প্রতারনামূলক দাবী।
অন্য কথায় পবিত্র আত্মা হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসার অর্থ। এই যে , অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মার অবতরণ পার্থিব অর্থে এমনকি জিহবা দ্বারা উচ্চারিত শব্দে কিংবা নিজেকে উৎসর্গ করার মাধ্যমে ঘটে নাই। যীশুর শিষ্যরা প্রথমেই সর্বজাতির কাছে এই সুন্দর সুসমাচার জিহবা দ্বারা প্রচার করেছিলেন। এই কারন তাদেরকে পবিত্র আত্মার সাহায্যে বিদেশী ভাষায় যিহূদীদের নিজেদের ভাষায় সুসমাচার প্রচার করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক জাতি থেকে আগত লোকেরা তাদের নিজ নিজ ভাষায় শিষ্যদের কথা বলতে শুনেছিল, যদিও অধিকাংশ শিষ্যই ছিলেন গালীলীয়।
“আর অংশ অংশ হইয়া পড়িতেছে, এমন অনেক অগ্নিবৎ জিহবা তাদের দৃষ্টি গোচর হইল; এবং তাঁহাদের প্রত্যেক জনের উপরে বসিল । তাহাতে তাহারা সকলে পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হইলেন” (প্রেরিত ২:৩-৪)। এখানে আমাদের পবিত্র আত্মা “তাঁদের প্রত্যেক জানের উপর বসিল” এই শব্দ গুচ্ছের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া আবশ্যক । শিষ্যের এক জায়গায় পবিত্র আত্মার আগমনের অপেক্ষা করতেছিলেন, ইতিমধ্যে তাঁর জল এবং আত্মা হতে পূনর্জন্মের সুসমাচারে বিশ্বাস করেছিলেন।
আজকাল অনেক খ্রীষ্টিয়ান এই ঘটনার ভুল অর্থ করছে বিশ্বাস করছে যে, তাদের প্রার্থনার সময় পবিত্র আত্মার অবতরণ প্রচন্ড বায়ুর বেগের শব্দের ন্যায় ঘটবে। যাহোক,পবিত্র আত্মা সম্পর্কে এই ভুল বোঝাবুঝির অজ্ঞতা এক বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে উত্থিত হয়েছে।পবিত্র আত্মা কি এরূপ শব্দ সৃষ্টি করে যখন সে মানুষের উপর নেমে আসে ? না , সে করে তা না।
লোকেরা শয়তানের সৃষ্ট এমন শব্দ তাদের কর্নে শোনে যখন সে লোকদের আত্মা একেবারে গ্রাস করে ফেলে। সে এই শব্দগুলি তৈরী করে যখন সে মায়া , অনুকরণীয় স্বর এবং মিথ্যা অলৌকিক ঘটনা জোর করে কারো মধ্যে প্রবেশ করিয়ে বিশৃঙ্খল অবস্থা করে পবিত্র আত্মার মত ভান করে। লোকেরা পবিত্র আত্মার বর্ষণ সম্পর্কে ভুল সাক্ষ্য দেয়। লোকেরা ভাবে যে, পবিত্র প্রবল বায়ুর বেগের মত “ শো শো ” - শব্দে আসে। তারা দিয়াবল দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে। পবিত্র আত্বার অবতরণের বিষয় প্রেরিতদের কাৰ্য্য বিবরণীতে যেভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে তা সুন্দর সুসমাচারের মাধ্যমে সাফল্যের সহিত সম্পাদিত হয়েছিল ।
 
 
পিতরের বিশ্বাস ( ১পিতর ৩ : ২১ ) ছিল নিষ্কলঙ্ক অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ করার জন্য যথেষ্ট
 
প্রেরিত২ অধ্যায়ে বর্ণিত প্রথম পঞ্চাশত্তমী দিনের ঘটনা ঈশ্বর তাঁদের উপর পবিত্র আত্মা অবতরণের সত্য প্রকাশ করেছেন, কারণ ইতিপূর্বে তাঁরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেছিল, কিন্তু লোকেরা সাধারণত মনে করে যে “পঞ্চাশ‌ওমীর" সময় পবিত্র আত্মা কিছু অলৌকিক চিহ্ন দ্বারা প্রচন্ড শব্দে স্বর্গ হতে নেমে এসেছিল। কেননা আজকাল পুনরুজ্জীবন সভাতে ইহা বিশ্বাস করা হয় যে কেউ উত্তেজিত প্রার্থনা, উপবাস অথবা হয় বিস্তারের মাধ্যমে পবিত্র আত্মা পেতে পারে। বিস্ময়কর বিষয় “যেমন দিয়াবলের অধিকার, অচেতন হয়ে পড়া, কয়েকদিনের জন্য সম্মোহে পড়া অথবা ভয়ে অদম্য পবিত্র আত্মার কাজ নয়”।
পবিত্র আত্মা বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন এবং মানুষের ব্যক্তিত্বকে অগ্রাহ্য করে না। সে লোকের প্রতি অপমানজনক আচরণ করে না , সে ব্যক্তি ঈশ্বর , যিনি জ্ঞানের অধিকারী। প্রবল অনুভুতি এবং ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন। সে লোকের উপরে আসে, যখন তারা জাল ও আত্মার সুসমাচারের বাক্যে বিশ্বাস করে (প্রেরিত২:৩৮)
পিতর সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করলেন যে, যোয়েল ভাববাদীর ভবিষ্যৎ বাণী অনুসারে শিষ্যদের উপরে পবিত্র আত্মার বর্ষণ হয়েছিল। এটা ছিল ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার পূর্ণতা সাধন ,যারা বলে যে পবিত্র আত্মা ওদের উপরে বর্ষিত হয়, যারা তাদের পাপের ক্ষমা পেয়েছে। অন্য কথায় , অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মা ওদেরকে দেওয়া হয়েছে , যারা যোহনের দ্বারা যীশু বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন -এই সত্য বিশ্বাস করে এবং ক্রুশীয় মৃত্যু দ্বারা সকল মানুষকে তাদের পাপ থেকে উদ্বার করেছেন। পিতরের বক্তৃতা যোয়েলের ভাববণীর মত , আমাদেরকে দেখাচ্ছে যে, আমাদের জানা প্রযোজন যীশু কেন বাপ্তাইজিত হলেন এবং কেন আমরা ইহাতে বিশ্বাস করি। এই সত্য জানাতে পবিত্র আত্মা খ্রীষ্টিয়ানদের পরিচালনা দিচ্ছে।
আপনি কি সুন্দর সুসমাচারে বিশ্বাস করেন যাহা পিতর সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন ? (১ পিতর ৩:২১) অথবা আপনি কি এখন জানেন যে, অপ্রয়োজনীয় এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাস সুন্দর সুসমাচারে অপ্রাসঙ্গিক? আপনি কি নিজের কর্মের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের পরিকম্পিত পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ করতে অমনোযোগী হতে চেষ্টা করছেন ? এমন কি যদি কেহ ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এবং তাদের পাপ ধৌত করতে অনুতাপের প্রার্থনা নিবেদন করে , তাহলে অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ করতে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস ছাড়া উপায় নেই।
আপনি কি জল ও আত্মার সুসমাচার সম্পর্কে কোন জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মার জন্য এখনো অপেক্ষা
করছেন ? আপনি কি যীশুর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় রক্তের অর্থ যথার্থ জানেন, যার কারণে পবিত্র আত্মা আপনার অন্তরে বাস করতে পারেন? আপনি জানবেন যে, অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মা পাওয়া সম্ভব, যখন আপনি জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করবেন। অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মা যথার্থ অনুমোদিত হতে পারে, কেবল মাত্র যারা জল ও আত্মার সুন্দর সুসমাচারে বিশ্বাস করেন। আমরা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিচ্ছি আমাদিগকে জল ও আত্মার সুসমাচার দেওয়ার জন্য আমাদিগকে অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মাকে গ্রহণের অনুমতি দেওয়ার জন্য।