শিক্ষা

বিষয় ৯: রোমীয় পুস্তক (রোমীয় পুস্তকের ভাষ্য)

[2-3] < রোমীয় ২:১৭-২৯ > হৃদয় যে ত্বক্‌ছেদ

< রোমীয় ২:১৭-২৯ >
 “তুমি হয়তো যিহূদী নামে আখ্যাত, ব্যবস্থার উপরে নির্ভর করিতেছ, ঈশ্বরের শ্লাঘা করিতেছ, ব্যবস্থা হইতে শিক্ষাপ্রাপ্ত হওয়াতে তাঁহার ইচ্ছা জ্ঞাত আছ, এবং যাহা যাহা ভিন্ন, সেই সকলের পরীক্ষা করিয়া থাক, নিশ্চয় বুঝিয়াছ যে, তুমিই অন্ধদের পথ-দর্শক, অন্ধকারবাসী-দের দীপ্তি, অবোধদের গুরু, শিশুদের শিক্ষক, ব্যবস্থায় জ্ঞানের ও সত্যের অবয়ব পাইয়াছ। ভাল, তুমি যে পরকে শিক্ষা দিতেছ, তুমি কি আপনাকে শিক্ষা দেও না? তুমি যে চুরি করিতে নাই বলিয়া প্রচার করিতেছ, তুমি কি চুরি করিতেছ? তুমি যে ব্যভিচার করিতে নাই বলিতেছ, তুমি কি ব্যভিচার করিতেছ? তুমি যে প্রতিমা ঘৃণা করিতেছ, তুমি কি দেবালয় লুট করিতেছ? তুমি যে ব্যবস্থার শ্লাঘা করিতেছ, তুমি কি ব্যবস্থালঙ্ঘন দ্বারা ঈশ্বরের অনাদর করিতেছ? কেননা যেমন লিখিত আছে, সেইরূপ ‘তোমাদের হইতে জাতিগণের মধ্যে ঈশ্বরের নাম নিন্দিত হইতেছে’। বাস্তবিক ত্বক্‌ছেদে লাভ আছে বটে, যদি তুমি ব্যবস্থা পালন কর; কিন্তু যদি ব্যবস্থা লঙ্ঘন কর, তবে তোমার ত্বক্‌ছেদ অত্বক্‌ছেদ হইয়া পড়িল। অতএব অচ্ছিন্নত্বক্‌ লোক যদি ব্যবস্থার বিধি সকল পালন করে, তবে তাহার অত্বক্‌ছেদ কি ত্বক্‌ছেদ বলিয়া গণিত হইবে না? আর স্বাভাবিক অচ্ছিন্নত্বক্‌ লোক যদি ব্যবস্থা পালন করে, তবে অক্ষর ও ত্বক্‌ছেদ সত্ত্বেও ব্যবস্থা লঙ্ঘন করিতেছ যে তুমি, সে কি তোমার বিচার করিবে না? কেননা বাহিরে যে যিহূদী সে যিহূদী নয়, এবং বাহিরে মাংসে কৃত যে ত্বক্‌ছেদ তাহা ত্বক্‌ছেদ নয়। কিন্তু আন্তরিক যে যিহূদী সেই যিহূদী, এবং হৃদয়ের যে ত্বক্‌ছেদ, যাহা অক্ষরে নয়, আত্মায়, তাহাই ত্বক্‌ছেদ, তাহার প্রশংসা মনুষ্য হইতে হয় না, কিন্তু ঈশ্বর হইতে হয়।
 
 
আমাদের অবশ্যই হৃদয়ের ত্বক্‌ছেদ করতে হবে
 
 “হৃদয়ের ত্বক্‌ছেদ।” হৃদয় দিয়ে আমরা যখন বিশ্বাস করি, তখন আমরা পরিত্রাণ পাই। হৃদয়ে অর্থাৎ আত্মায় অবশ্যই আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে। ঈশ্বর বলেন, “কিন্তু আন্তরিক যে যিহূদী সেই যিহূদী, এবং হৃদয়ের যে ত্বক্‌ছেদ, যাহা অক্ষরে নয়, আত্মায়, তাহাই, ত্বক্‌ছেদ তাহার প্রশংসা মনুষ্য হইতে হয় না, কিন্তু ঈশ্বর হইতে হয়।”(রোমীয় ২:২৯)। আমাদের অবশ্যই হৃদয়ের পাপের ক্ষমা পেতে হবে। হৃদয়ের পাপের ক্ষমা না পেলে কোন লাভ নেই। প্রত্যেক মানুষের দুটি সত্ত্ব আছে, “ভিতরের আমি এবং বাহ্যিত আমি” এবং প্রত্যেককেই ভিতরের পাপের ক্ষমা পেতে হবে।
 প্রেরিত পৌল যিহূদীদের বলেন, “হৃদযয়ের যে ত্বক্‌ছেদ।” তাহলে যিহূদীরা কোন ত্বক্‌ছেদ করেছিল? তারা মাংসময় দেহের একটা অঙ্গের ত্বক্‌ছেদ করেছিল। কিন্তু প্রেরিত পৌল বলেন, “হৃদযয়ের যে ত্বক্‌ছেদ”। যিহূদীরা বাহ্যিক ভাবে ত্বক্‌ছেদ করেছিল, কিন্তু প্রেরিত পৌল আত্মিক ত্বকছেদের কথা বলেছিলেন। আমরা যখন তাঁর সন্তান হই, ঈশ্বর তখন আমাদের হৃদয়ে কথা বলেন। 
 প্রেরিত পৌল বাহ্যিক ত্বকছেদের কথা বলছেন না, কিন্তু হৃদয়ের ত্বক্‌ছেদ এবং পাপ ক্ষমার কথা বলছেন। সুতরাং যখন তিনি বলেন, “কেহ কেহ যদি অবিশ্বাসী হইয়া থাকে, তাহাতেই বা কি?”( রোমীয় ৩:৩ )। তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন, “যদি কেহ হৃদয়ে বিশ্বাস না করে।” তিনি বাহ্যিক বিশ্বাসের কথা বলছেন না, কিন্তু বলছেন, “হৃদয়ে বিশ্বাস কর।” প্রেরিত পৌল যা বুঝাতে চাচ্ছেন, এবং পাপ ক্ষমা কি, তা আমাদের অবশ্যই জানতে হবে। ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে কিভাবে আমরা পাপের ক্ষমা লাভ করতে পারি, তাও আমাদের শিখতে হবে।
 “কেহ কেহ যদি অবিশ্বাসী হইয়া থাকে তাহাতেই বা কি?” অর্থাৎ, “মাংসে অব্রাহামের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও, যিহূদীরা যদি যীশুকে ত্রাণকর্তা হিসাবে গ্রহণ না করে, তাতেই বা কি?” তাদের অবিশ্বাসের কারণে বংশধরদের পাপসহ জগতের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন, সেই সত্য কি নিষ্ফল হবে? কখনও না। পৌল বলছেন, যিহূদীরা মাংসে অব্রাহামের সন্তান হলেও, তারা যদি বিশ্বাস করে যে, ঈশ্বরের পুত্র যীশু খ্রীষ্টই একমাত্র ত্রাণকর্তা এবং বাপ্তিস্ম গ্রহণ ও ক্রুশীয় মৃত্যুর মাধ্যমে তিনি জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, তাহলে তারা পরিত্রাণ পাবে। তিনি আরও বলছেন যে, যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বরের পরিত্রাণ এবং অনুগ্রহ কখনও নিষ্ফল হতে পারে না। 
 রোমীয় ৩:৩-৪ পদে বলা হয়েছে, “ভাল কেহ কেহ যদি অবিশ্বাসী হইয়া থাকে, তাহাতেই বা কি? তাহা দূরে থাকুক, বরং ঈশ্বরকে সত্য বলিয়া স্বীকার করা যাউক, মনুষ্যমাত্র মিথ্যাবাদী হয় হউক; যেমন লেখা আছে, “তুমি যেন তোমার বাক্য ধর্ম্মময় প্রতিপন্ন হও, এবং তোমার বিচারকালে বিজয়ী হও।” প্রভু তাঁর বাক্যে প্রতিজ্ঞা করেছেন এবং সেই প্রতিজ্ঞা পূরণের মাধ্যমে বিশ্বাসীদের পবিত্র করেছেন। ঈশ্বর তাঁর ধার্মিকতা প্রকাশ করতে চান, বিচারিত হওয়ার দ্বারা যীশুর মাধ্যমে তিনি যে প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেছিলেন, তাতে আমরা যারা হৃদয়ের পাপের ক্ষমা পেয়েছি, আমরাও তাঁর বাক্য দ্বারা বিচারিত হতে চাই এবং বিচারিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর বাক্য দ্বারা আমরা বিজয়ী হতে চাই। 
 
 
প্রেরিত পৌল বাহ্যিক এবং ভিতরের সত্ত্বা সম্পর্কে বলছেন 
 
 প্রেরিত পৌল তাঁর “বাহিরের এবং ভিতরের সত্ত্বা” সম্পর্কে বলছেন। আমাদের বাইরের এবং ভিতরের সত্ত্বা বলতে যথাক্রমে মাংসিক দেহ এবং আত্মর কথা বলা হয়েছে। আমরাও তাঁর মত। প্রেরিত পৌল এখন এই বিষয়ে বলছেন। 
 রোমীয় ৩:৫ পদে বলা হয়েছে, “কিন্তু আমাদের ধার্মিকতা যদি ঈশ্বরের ধার্মিকতা সাব্যস্ত করে, তবে কি বলিব?” পৌল বলছেন না যে, “বাইরের আমি” পরিষ্কার থাকে। এর দ্বারা জগতের সব মানুষের কথা বুঝান হচ্ছে। যাহোক, ঈশ্বর যদি ঐ সব লোকদের। উদ্ধার করতেন, তবে কি তাঁর ধার্মিকতা প্রকাশিত হতো না? বাইরের সত্ত্বা “দেহ” দূর্বল হওয়া সত্ত্বেও ঈশ্বর যদি মানুষকে উদ্ধার করতেন, তাহলে কি তিনি ধার্মিক হতেন না? তাই পৌল বলেন, “ঈশ্বর, যিনি ক্রোধে প্রতিফল দেন, তিনি কি অন্যায়ী? আমি মানুষের মত কহিতেছি -তাহা দূরে থাকুক, কেননা তাহা হইলে ঈশ্বর কেমন করিয়া জগতের বিচার করিবেন?” (রোমীয় ৩:৫-৬)। পৌল বলছেন যে, আমাদের বাইরে সত্ত্বা যদি পরিষ্কার থাকে তাতে আমরা পরিত্রাণ পাই না। 
আমাদের বাইরের এবং ভিতরের সত্ত্বা রয়েছে। পৌল আমাদের হৃদয় রাজ্য সম্পর্কে আলোচনা করছেন, বলছেন, “যদি কেউ বিশ্বাস না করে, তাতে কি হবে? তাদের অবিশ্বাসের দ্বারা কি ঈশ্বরের বিশ্বাস্যতা কি নিষ্ফল হবে? হৃদয়ের যে ত্বক্‌ছেদ।” আমরা একবার ধার্মিক হলাম, আবার বাহ্যিক মাংসময় সত্ত্বার দুর্বলতা দ্বারা পর দিন পাপী হয়ে গেলাম, -এই বিশ্বাস সঠিক নয়। 
 
 
মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের দেহ পাপ করে 
 
 প্রেরিত পৌল তাঁর মাংসে কোন প্রত্যাশা করেন না। যাদের পাপ মুছে গেছে, তাদেরও বাইরে এবং ভিতরের সত্তা রয়েছে। বাইরের সত্ত্বার প্রতি তাকালে তাদের অনুভূতি কেমন হয়? তারা হতাশ না হয়ে পারে না। আসুন, আমরা আমাদের বাইরের সত্ত্বা ( মাংসিক দেহ )। কে দেখি। কখনও কখনও আমরা খুব ভাল, কিন্তু কোন কোন সময় প্রচন্ড ঘৃণার পাত্র হয়ে পড়ি। কিন্তু বাইবেল বলে যে, আমাদের দেহ খ্রীষ্টের সাথে ক্রুশারোপিত হয়েছে, এবং আমাদের দেহের সমস্ত পাপ ক্ষমা করেছেন। আমরা যারা পরিত্রাণ পেয়েছি, নিজেদের বাইরের সত্ত্বার দিকে তাকালে আমরা প্রায়ই হতাশ হয়ে পড়ি। দেহে যখন ভাল কাজ করি তখন আশান্বিত হই; কিন্তু যখন আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না, তখন হতাশ হয়ে পড়ি, তখন আমরা মনে করি যে, আমাদের বাহ্যিক সত্ত্বা খ্রীষ্টের সাথে ক্রুশারোপিত হয়ে গেছে। কিন্তু সেটা কি পাপ নয়? হ্যাঁ, তাই এটা একটা মৃত পাপ। কারণ, প্রভু তাঁর সাথে ক্রুশে সমস্ত পাপ নিয়ে গেছেন। মাংসময় দেহে যে পাপ করা হয়, তা খুব মারাত্বক নয়, কিন্তু প্রভুর সাক্ষাতে আমাদের হৃদয় যে, পবিত্র নয়, সেটাই মারাত্মক বিষয়।
 
 
আত্মায় আমাদের ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে হবে
 
 পাপের ক্ষমা লাভ করার পরে ধার্মিকদের পাপ আরও বেশী প্রকাশিত হয়। তাই আমাদের যে মাংসিক, মনুষ্য সর্বক্ষণ পাপ না করে পারে না, তাঁর উপরে নির্ভর করে আমরা যদি পরিত্রাণে বিশ্বাস করি, তাহলে ঈশ্বরের পরিত্রাণ মিথ্যা হয়ে যাবে। আব্রাহামের যে বিশ্বাস ছিল, আমরা মাংসের উপরে নির্ভর করে পরিত্রাণে বিশ্বাস করি, তাহলে আমাদের সেই বিশ্বাস, ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। অর্থাৎ আব্রাহামের যে বিশ্বাস ছিল আমরা সেই বিশ্বাস থেকে ভ্রষ্ট হয়ে যাব। 
 প্রেরিত পৌল বলেন, “হৃদয়ের যে ত্বক্‌ছেদ।” আমাদের বাহ্যিক মনুষ্যের মাধ্যমে নয়, কিন্তু আত্মায় বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা পবিত্র ও ধার্মিক হই। আমাদের বাহ্যিক মনুষ্য ঈশ্বরের বাক্যানুসারে চলে কি চলে না, তার উপরে পবিত্রতা নির্ভর করে না। আপনি কি এটা বুঝতে পারছেন? কিন্তু সমস্যা হল যে, আমাদের বাহ্যিক এবং আত্বিক সত্ত্বা রয়েছে, এবং তারা পরস্পর সহাবস্থান করে। তাই আমরা মাঝে মাঝে বাহ্যিক মনুষ্যের উপরে বেশি গুরুত্ব দেই। যখন আমাদের দেহ ভাল কাজ করে, তখন আমরা আত্মবিশ্বাস লাভ করি, কিন্তু যখন তা করে না, আমরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। পৌল বলেন, এই বিশ্বাস সঠিক নয়। 
 “ হৃদয়ের যে তুকছেদ।” প্রকৃত সত্য কি? কিভাবে আমরা হৃদয় দিয়ে জানতে এবং বিশ্বাস করতে পারি? মথি ১৬ অধ্যায়ে যীশু পিতরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তুমি কি বল আমি কে?” পিতর তাঁর বিশ্বাসের স্বীকৃতি স্বরূপ বললেন, “আপনি সেই খ্রীষ্ট, জীবন্ত ঈশ্বরের পুত্র।” এটা পিতরের হৃদয়ের বিশ্বাস ছিল। যীশু বললেন, “হে যোনার পুত্র শিমোন, ধন্য তুমি! কেননা রক্ত মাংস তোমার কাছে এটা প্রকাশ করেনি, কিন্তু আমার স্বর্গস্থ পিতা প্রকাশ করেছেন।” যীশু বললেন যে, পিতরের বিশ্বাস সঠিক ছিল। আব্রাহামের কোন পুত্র ছিল না। ঈশ্বর তাঁর বাক্যের মাধ্যমে তাকে চালনা দিয়েছিলেন, এবং বলেছিলেন যে, তিনি তাকে একটি পুত্র সন্তান দেবেন এবং তাকে অনেক জাতির পিতা করবেন। তিনি আরও বলেছিলেন যে, তিনিই অব্রাহাম এবং তাঁর বংশধরদের ঈশ্বর হবেন। আব্রাহামের সাথে ঈশ্বরের এই প্রতিজ্ঞান চিহ্ন স্বরূপ, ঈশ্বর আব্রাহামকে, তার পরিবার এবং বংশের সবাইকে ত্বক্‌ছেদকরতে বললেন। ঈশ্বর বললেন, “আমি যে তোমার ঈশ্বর তার প্রমান স্বরূপ চিহুরূপে ত্বক্‌ছেদ প্রথা অনুসরন করবে।” অব্রাহাম এই নিয়ম তার হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করলেন। অব্রাহাম, ঈশ্বরকে তাঁর ঈশ্বর রূপে বিশ্বাস করলেন এবং ধন্য হলেন। তিনি আরও বিশ্বাস করেন যে, ঈশ্বর তারপরেও তার পরবর্তী বংশধরদেরও ঈশ্বর হবেন। তিনি নিজেই ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেন।
 
 
হৃদয় দিয়ে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করার মাধ্যমে আমরা ধার্মিক গণিত হই।
 
 ঈশ্বর আমাদের ঈশ্বর, তিনি আমাদের ত্রাণকর্তা-হৃদয়ে এই বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা ধার্মিক হই। হৃদয় দিয়ে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি। অন্য কোন কিছুর দ্বারা আমরা পরিত্রণ পাইনি। ঈশ্বর আমাদের ঈশ্বর, এবং তিনি যীশুর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন, -হৃদয় দিয়ে এই বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা ধার্মিক হয়েছি। আমাদের হৃদয়ের যে বিশ্বাস, তা-ই আমাদের পরিত্রাণ করে। তাই বাইবেল বলে, “কারণ লোকে হৃদয়ে বিশ্বাস, ধার্মিকতার জন্য, এবং মুখে স্বীকার করে, পরিত্রাণের জন্য” ( রোমীয় ১০:১০ )।
 এখন আমাদের যে বিষয় অবশ্য পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে তা হল এই যে, হৃদয়ের বিশ্বাস দ্বারা আমরা ধার্মিক গণিত হয়েছি, মাংসের শের সৎকর্মের দ্বারা নয়। যীশু যদি আমাদের মাংসিক দেহের সাথে সম্পর্কিত কোন শর্ত দ্বারা বলতেন, “একটা শর্তে আমি তোমাদের পাপ মুছে ফেলতে পারি। যদি তুমি পাপ করা ত্যাগ কর, তাহলে তুমি আমার সন্তান হবে। যদি তুমি তা করতে ব্যর্থ হও, তুমি আমার সন্তান হতে পারবে না”।
 হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করেছি বিধায়, আমরা ধার্মিক গণিত হয়েছি। আমাদের মাংসময় দেহের বিষয়ে ঈশ্বর যদি শর্ত আরোপ করেন, তাহলে কি আমরা পরিত্রাণ পেতাম ? যর্দ্দনে যীশুর বাপ্তিস্ম এবং আমাদের স্হলে ক্রুশীয়া মৃত্যুর দ্বারা বিচারিত হয়ে ঈশ্বর যে আমাদের পরিত্রাণ করেছেন, তা কি আপনি বিশ্বাস করেন ? কিভাবে তা বিশ্বাস করেন? হৃদয় দিয়ে কি বিশ্বাস করেন না ? ঈশ্বর যদি এই কথা বলতেন, “আমি তোমার ছোট ছোট পাপ ক্ষমা করব, কিন্তু বড় পাপ ক্ষমা করব না। তুমি যদি এই শর্ত পালন না করো তাহলে তোমার পরিত্রাণ বৃথা হয়ে যাবে” তাহলে আপনি কি যথাযথভাবে পরিত্রাণ পেতেন ?
 
 
আমাদের ভিতরের মনুষ্য এবং বাইরের মনুষ্য আলাদা করতে হবে
 
 আমাদের মাংসময় দেহ, অর্থাৎ আমাদের বাহ্যিক মনুষ্য সব সময় দূর্বল, নিজে নিজে ঈশ্বরের ধার্মিকতা অর্জন করতে পারে না। ঈশ্বরের সাক্ষাতে হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করে আমরা ধার্মিক গণিত হয়েছি, কারণ যারা হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করে, তিনি তাদের উদ্ধার করার প্রতিজ্ঞা করেছেন। ঈশ্বর যা সাধন করেছেন, তাতে আমাদের বিশ্বাস দেখে এবং যীশু যে আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন, হৃদয় দিয়ে তা বিশ্বাস করলে, ঈশ্বর আমাদের তার ধার্মিক সন্তান করেন। এটা ঈশ্বরেরই নিয়ম, তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষা করার মাধ্যমে আমাদেরকে উদ্ধার করেন। 
 ঈশ্বর বলেন যে, যখন তিনি আমাদের হৃদয়ে বিশ্বাস দেখতে পান, তখন আমাদের তাঁর প্রজা করেন। আমাদেরকে অবশ্যই বাইরের মনুষ্য থেকে ভিতরের মনুষ্যকে আলাদা করতে হবে। বাইরের মনুষ্যের মাপ কাঠিতে অর্থাৎ কর্মের ভিত্তিতে যদি পনিত্রাণ দেয়া হয়, তাহলে পৃথিবীর কেউই রক্ষা পায় না। হৃদয়ের যে ত্বক্‌ছেদ হৃদয় দিয়ে যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি। আপনি কি এ কথা বুঝতে পারছেন? “কারণ লোকে হৃদয়ে বিশ্বাস ধার্মিকতার জন্য, এবং মুখে স্বীকার করে, পরিত্রাণেরর জন্য” (রোমীয় ১০: ১০)। প্রেরিত পৌল স্পষ্টভাবে বাইরের মনুষ্য থেকে ভিতরের মনুষ্যকে আলাদা করেছেন।
 আমাদের বাইরের মনুষ্য কুকুরের বিষ্ঠার চেয়েও নোংরা। এটা কোন কাজের নয়। অব্রাহামকে দৃষ্টান্ত হিসাবে ব্যবহার করার প্রয়োজন আমাদের নেই। নিজে দেখুন আর আপনার অকর্মা দেহের দিকে তাকান, সামাজিক উচ্চ আসন পাওয়ার জন্য এবং প্রভাবশালী হওয়ার জন্য আমাদের মাংস প্রতারণার আশ্রয় নেয় । দেহ কি মাংসিক সুখাভিলাষ ছাড়া আর কিছু চায়? চিন্তা-ভাবনা এবং কাজের ভিত্তিতে যদি মাংসময় দেহের বিচার করতে হয়। মাংস ঈশ্বর বিরোধী।
 সৌভাগ্যবশতঃ ঈশ্বর আমাদের, কিন্তু তিনি আমাদের ভিতরের মনুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। যখন তিনি দেখতে পান যে, যীশুকে আমরা হৃদয় দিয়ে ত্রাণকর্তা হিসাবে গ্রহণ করেছি, তখন তিনি আমাদের উদ্ধার করেন। তিনি বলেন যে, তিনি আমাদের সমস্ত পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন।
 
 
নিজেদের ধারনা বা চিন্তা ভাবনা দ্বারা আমরা কখনই উদ্ধার পেতে পারি না 
 
 আসুন, আমরা আমাদের চিন্তা ভাবনাগুলো আলোচনা করি। আমরা মনে করি আমাদের ধারনার মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস করতে পারি। এরকম মনে করে আমরা মাংসিক চিন্তা থেকে বিশ্বাস করতে পারি, “ ঈশ্বর উদ্ধার করেছেন বলে আমি উদ্ধার পেয়েছি।” কিন্তু আমরা আমাদের চিন্তা দ্বারা উদ্ধার পেতে পারি না । আমাদের পার্থিব মন সব সময় পরিবর্তিত হয় এবং সব সময় মন্দ চিন্তা করে। তা কি সত্য? কামনার বশবর্তী হয়ে আমাদের পার্থিব মন এটা তৈরী করার চিন্তা করে।
 মনে করুন, কেউ তার হীন চিন্তা-ধারা থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেছে। যখন তার পূর্ববর্তী ধারনার সাথে এই চিন্তা মিলে যাবে যে, “যর্দ্দন নদীতে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন,” তখন পরিত্রাণ সম্বন্ধে তার আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হবে। যাহোক, যেহেতু মাংসিক চিন্তা সুস্থির নয়; তাই পরিত্রাণ সম্বন্ধে তার মনে সামান্যতম সন্দেহ জাগলেই সে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। মাংসিক চিন্তার উপরে প্রতিষ্ঠিত ভুল ভাবে তৈরী বিশ্বাস সামান্যতম সন্দেহের কারণে ভেঙ্গে যায়।
 নিজেদের চিন্তা ভাবনার ভিত্তিতে বিশ্বাস করলে আমরা তাঁতে বা তাঁর সত্যে সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করতে পারি না। এ ধরনের বিশ্বাস বালুচরে তৈরী ঘরের মত। “পরে বৃষ্টি নামিল, বন্যা আসিল, বায়ু বহিল, এবং সেই গৃহে আঘাত করিল, তাহাতে তাহা পড়িয়া গেল, ও তাহার পতন ঘোরতর হইল” (মথি ৭ : ২৭)।
 তাই মানুষের নিজের চিন্তা-ধারা প্রযুক্ত বিশ্বাসের সাথে ঈশ্বরের,বাক্য বিশ্বাসের অনেক তফাৎ। ঈশ্বর বলেন, “তাহা দুরে থাকুক,বরং ঈশ্বরকে সত্য বলিয়া স্বীকার করা যাউক, মনুষ্যমাত্র মিথ্যাবাদী হয় হউক; যেমন লেখা আছে, “তুমি যেন তোমার বাক্যে ধর্মময় প্রতিপন্ন হও, এবং তোমার বিচারকালে বিজয়ী হও”” (রোমীয় ৩:৪)। তাঁর বাক্যের ভিত্তিতে আমাদের পরিত্রাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। বাক্য মাংসে মুর্ত্তিমান হলেন, আমাদের মাঝে বাস করলেন, এবং ঈশ্বরই সেই বাক্য। মানুষের বেশে বাক্য এই পৃথিবীতে এলেন। যীশু আমাদের পরিত্রাণ ছিলেন এবং ৩৩ বছর বয়স শেষে তাঁকে তুলে নেওয়া হল। তিনি তাঁর শিষ্যদের দ্বারা তাঁর প্রতিজ্ঞা লিপিবদ্ধ করলেন, পুরাতন নিয়মে ঈশ্বর তাঁর দাসদের কাছে যে সব প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ঈশ্বর যা বলেছিলেন তাই লিখলেন এবং বাইবেলে তাই লিপিবন্ধ হল। ঈশ্বর বাক্যের মাধ্যমে মুৰ্ত্তিমান হলেন। বাক্য দ্বারা কথা বললেন, এবং বাক্য দ্বারা আমাদের উদ্ধার করলেন।
 মাঝে মাঝে মনে হয় আমি পরিত্রাণ পেয়েছি, আবার মাঝে মাঝে প্রভুর পরিত্রাণে আমি বিশ্বাস ধরে রাখতে পারি না। এই রকম চিন্তা করলে এবং ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস না করলে, নিজেদের চিন্তা ভাবনা দ্বারা আমরা প্রকৃতভাবে পাপ থেকে মুক্ত হতে পারতাম না। নিজেদের চিন্তা-ভাবনা দ্বারা উদ্ধার পেতে পারি না, কারণ আমাদের চিন্তা-ভাবনা সব সময় পরিবর্তিত হয় এবং অনেক সময় তা সত্যও হয় না । সুতরাং প্রেরিত পৌল বলেন যে, হৃদয়ের যে ত্বক্‌ছেদ এবং হৃদয় দিয়ে তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাস করি। যখন আমাদের হৃদয় তাঁর বাক্যে বিশ্বাস করে, তখন পরিষ্কারভাবে সাক্ষ্য দেয় যে পুরাতন নিয়মে ঈশ্বর যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তিনি তা পূর্ণ করেছেন। একইভাবে বাক্য দ্বারা নূতন নিয়মে তিনি আমাদের উদ্ধার করেছেন। হৃদয় দিয়ে তাঁর বাক্য বিশ্বাসের মাধ্যমেই আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি এবং তাঁর সন্তান হয়েছে।
 
 
হৃদয় দিয়ে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করার মাধ্যমে আমরা পাপ থেকে উদ্ধার পেয়েছি 
 
 বিশ্বাস আমরা উদ্ধার পেয়েছি। কারণ আমাদের হৃদয় ঈশ্বরকে স্বীকার করে; কিন্তু আমদের জাগতিক মনের চিন্তা তাঁকে স্বীকার নাও পারে। হৃদয় দিয়ে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সন্তান হই, কিন্তু বাইরের মনুষ্যের চিন্তা বা কর্ম দ্বারা নয়। এটা পরিষ্কার যে, হৃদয় দিয়ে তাঁর বাক্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সন্তান হই। আপনি কি হৃদয়ে বিশ্বাস করেন? আপনি কি হৃদয়ে ত্বক্‌ছেদ প্রাপ্ত? আপনি কি হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করেন যে, যীশু আপনার ত্রাণকর্তা। ঈশ্ববের পুত্রে যে বিশ্বাস করে, তার হৃদয়ে সেই সাক্ষ্য রয়েছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সাক্ষ্য নয়, কিন্তু যীশু যে আপনাকে প্রকৃতই উদ্ধার করেছেন, বাক্যের সেই সাক্ষ্য কি আপনার আছে? হৃদয়ে কি ঈশ্বরের বাক্য আছে? যে বাক্যের মাধ্যমে আপনি পাপের ক্ষমা পেয়েছেন, সেই বাক্য কি আপনার আছে? সত্যিকারের বিশ্বাস অর্জন করতে হলে বিশ্বাসে পরিত্রাণ পেতে হবে। 
 হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা পরিত্রাণ পাই। কিন্তু বাহ্যিক মনুষ্যের দূর্বলতার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে আমরা প্রায়ই হতাশ হয়ে পড়ি। এবং এখন আমরা সাময়িকভাবে ঈশ্বরের বাক্যে থেকে সরেপড়ি। সত্য সম্বন্ধে যার পরিপূর্ণ ধারণা নেই, সে ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। অধিকাংশ খ্রীষ্টিয়ানেরা কর্মের উপরে তাদের বিশ্বাসের মাপকাঠি নির্ধারন করে। এটা একটা বিরাট ভুল। নিজেদের চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে আমাদের বিশ্বাসের পরিমাপ করা উচিত নয়। বাইরের মাংসে নির্ভর করে আমাদের বিশ্বাস করা উচিত নয়, কারণ মাংস মূল্যহীন। পুরাতন নিয়ম ও নূতন নিয়ম আমাদের বলে যে, হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করলে ধার্মিক হওয়া যায়। চিন্তা-ভাবনা বা কাৰ্য্যদ্বারা আমরা পরিত্রাণ পাই নাই, কিন্তু বিশ্বাসে পেয়েছি। মাংসের কাৰ্য্যদ্বারা আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি না। ঈশ্বর বা তাঁর গৌরবের জন্য আমাদের পাপ বা ভালকাজ কিছুই করতে পারে না।
 সুতরাং সত্যিকার বিশ্বাস মানে, হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরের বাক্যের প্রকৃত পরিত্রাণে বিশ্বাসের মাধ্যমে পাপ থেকে মুক্ত হওয়া। হৃদয় যদি পাপ ভরা থাকে, তাহলে আমাদের বিশ্বাস ভুল হবে, আর হৃদয় যদি সঠিকভাবে বিশ্বাস করে তাহলে আমাদের বিশ্বাস সঠিক হবে। সঠিক বিশ্বাস থেকে সঠিক আচরণের জন্ম হয়। হৃদয়ের দূর্বলতার কারণে ভুল আচারণ হতে পারে। কিন্তু আসল বিষয় হল ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। তিনি আমাদের হৃদয় দেখেন এবং অনুসন্ধান করেন। হৃদয়ের বিশ্বাস ঠিক আছে কিনা ঈশ্বর তাই দেখেন। আপনি কি বিষয়টি বুঝতে পারছেন? ঈশ্বর আমাদের অন্তঃকরণ অনুসন্ধান করেন, তা কি আপনি জানেন? তিনি যখন আমাদের হৃদয়ে দৃষ্টিপাত করেন, তিনি দেখতে চান যীশু খ্রীষ্টে আমাদের বিশ্বাস আছে কিনা। আপনি কি হৃদয়ে দিয়ে বিশ্বাস করেন?
তিনি যখন আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, তিনি দেখতে চান, আমরা হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করছি কিনা, তিনি আমাদের হৃদয় অনুসন্ধান করেন। ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমাদের হৃদয়কে পরীক্ষা করা উচিত। হৃদয়ে যে ত্বক্‌ছেদ আপনি কি হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করেন? ঈশ্বর হৃদয় দেখেন। আমরা হৃদয় দিয়ে প্রকৃত ভাবে করছি কিনা, তাই তিনি দেখেন। তিনি জানতে চান, আমরা প্রকৃত সত্য জানি কিনা, বা সত্যের অনুসন্ধান করি কিনা। আমাদের হৃদয়ে বিশ্বাস আছে কিনা, আমরা তাঁকে অনুসন্ধান করছি কিনা, এবং তাঁর বাক্যে বিশ্বাস করছি কিনা তাই তিনি দেখতে চান। 
 
 
একটা ধর্মীয় দেহ আছে, যা নূতন জন্ম গ্রহণের প্রকৃত সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেয় 
 
 যীশু খ্রীষ্ট যা সাধন করেছেন, সেই সম্বন্ধে প্রকৃত জ্ঞান থাকা এবং হৃদয় দিয়ে তা বিশ্বাস করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা ধর্মীয় দেহ আছে, যা আমাদের মন্ডলীর ভাই-বোনদের বলে দেয় যে, তারা পরিত্রাণ পায়নি। সেই ধর্মীয় দেহের আত্মাগুলোর জন্য আমার কষ্ট হয়। আমি চাই তারা যেন আমাকে বুঝতে পারে এবং তাদের কাছে আমি জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতে চাই। আপনার কি পাপ মোচন হয়ে গেছে? - আমেন। তা কি আপনি হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করেন ? 
 কিন্ত অনেকে আছে যারা বলে যে, আমাদের বিশ্বাস সঠিক নয়, তারা বলে যে, আমরা যেন অবশ্যই, যেমন আছে তেমনি লিখিত বাক্যের উপরে বিশ্বাস না করে, এবং কেবলমাত্র বিজ্ঞানের প্রমাণসহ যেন বিশ্বাস করি। তারা বলে, সেটাই প্রকৃত পরিত্রাণ এবং প্রকৃত বিশ্বাস। তারা বলে, নূতন জন্ম প্রাপ্ত ব্যক্তিকে তার নূতন জন্মের সঠিক সময় ( ঘন্টা, দিন, মাস ) জানতে হবে। ভ্রাতা হং যখন এই প্রকার একজন ব্যক্তির দেখা পেলেন, সেই ব্যক্তি এখন তাঁর নূতন জন্মের সময় জানতে চাইল। তখন ভ্রাতা হং উত্তর দিলেন যে, সঠিক সময় তিনি জানেন না, কিন্তু জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মাধ্যমে গত বছরের কোন এক সময় তিনি নূতন জন্ম লাভ করেছিলেন। তখন সেই ব্যক্তি বলল যে, ভ্রাতা হং পরিত্রাণ পায়নি। কখন আমরা নূতন জন্ম লাভ করেছিলাম, যদি অতীতে সঠিকভাবে অনুসন্ধান করি, তাহলে আমরা অবশ্যই তার প্রকৃত সময় অর্থাৎ ঘন্টা, দিন, মাস বলতে পারব। সকালে কি বিকালে দুপুরে কি সন্ধ্যায়, তাও আমরা বলতে পারব। যাহোক, হৃদয়ের বিশ্বাসের উপরে পরিত্রাণ নির্ভর করে। প্রকৃত সময় মনে না থাকলে কোন অসুবিধা নাই। 
 
 
হৃদয়ের যে ত্বক্‌ছেদ
 
 যর্দ্দন নদীতে প্রভু আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নিলেন এবং ক্রুশীয় মৃত্যু দ্বারা আমাদের পাপের জন্য আমাদের স্থলে বিচারিত হয়েছেন। আমাদের পাপের জন্য তিনি ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন, এবং অধর্মের জন্য বিদ্ধ হয়েছেন। আমাদের ভিতরে এবং বাইরের মনুষ্যের সমস্ত পাপ তিনি তুলে নিয়েছেন। আমাদের আত্মা মৃত্যু থেকে পুনর্জাগরিত হয়েছে এবং প্রভুর ইচ্ছা অনুসারে আমরা তাঁর অনুসরন করতে পারি, যদিও অনেকেই উল্টোভাবে বলতে পারে যে, আমরা পরিত্রাণ পাইনি। 
 বাইরের মনুষ্য সম্বন্ধে বাইবেল কি বলে? পাপের ক্ষমা লাভ করার পরে আরো সুক্ষভাবে আমরা আমাদের অধর্মগুলো দেখতে পাই। আমাদের সব দূর্বলতা এখনও প্রকাশিত হয়নি, আমাদের অসম্পূর্ণতা আরো প্রকাশিত হবে। তবে আমরা যদি হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করি যে, ঈশ্বর আমাদের ঈশ্বর এবং যীশু খ্রীষ্ট যর্দ্দন নদীতে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন এবং ক্রুশ বিদ্ধ হয়েছেন, তাহলে আমরা মুক্তি পাই। 
 নূতন জন্মের প্রকৃত সময়ের প্রতি যারা গুরুত্ব দেয় এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের উপর বিশ্বাস করে, তাদের সাথে তুলনা করা আমাদের উচিত নয়। স্পষ্টতঃ তারা উদ্ধার পায়নি। ধার্মিক হওয়ার জন্য আমরা হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করি, যীশু খ্রীষ্ট আমাদের ত্রাণকর্তা, তাঁকে আপনি বিশ্বাস করেন? -আমেন।-এখান থেকেই বিশ্বাসের জন্ম এবং সেই সময় থেকে প্রভু আমাদের হৃদয়ের চালনা দেন। প্রভু বলেন যে, আমরা তাঁর ধার্মিক সন্তান এবং আমাদের বিশ্বাস সত্য, তিনি আমাদের হৃদয়কে আশীর্বাদ করেন, যেন আমরা তাঁকে বিশ্বাসে অনুসরন করতে পারি। ঈশ্বর আমাদের চালনা দেন এবং হৃদয় দিয়ে বিশ্বাসের মাধ্যমে তাঁকে অনুসরন করার জন্য আশীর্বাদ করেন।
 “ হৃদয়ের যে ত্বক্‌ছেদ।” হৃদয় দিয়ে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি। পৃথিবীর অনেকে বলে যে, হৃদয় দিয়ে সুসমাচারে বিশ্বাস করে তাঁরা পরিত্রাণ পেয়েছে। যাহোক, বিশ্বাসের সাথে তাঁরা তাদের কাজকে যোগ করে। তারা বলে যে, জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে পরিত্রাণ পাওয়া যায় না, কারণ তারা হৃদয়ের বিশ্বাস এবং সৎ কর্মের উপরে নির্ভর করে। 
 ফলে, বাইরের মনুষ্য কেমন আচরণ করছে, এবং অনুতাপের প্রার্থনার জন্য তারা বেশী উদ্বিগ্ন থাকে। তারা মনে করে যে তারা পরিত্রাণ পেয়েছে। কিন্তু আসলে তারা পরিত্রাণ থেকে অনেক দূরে। 
 
 
ঈশ্বর অন্তঃকরণের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন
 
 আমরা বিশ্বাস করি, হৃদয়ে বিশ্বাসের মাধ্যমে ধার্মিক হওয়া যায়। বাইরের মাংসময় দেহ থেকে তা সম্পূর্ণ পৃথক এবং কর্ম এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারে না। পরিত্রাণের সাথে কর্মফলের কোন যোগ সূত্র নেই। যখন আপনি জানতে পারলেন যে, আপনার সমস্ত পাপ মুছে গেছে, তখন কি নিজেকে সতেজ মনে হয় নি? আপনি কি আনন্দের সাথে প্রভুর সেবা করতে চান? তার এ সুন্দর কাজে কি নিজেকে নিযুক্ত করতে চান? আমাদের হৃদয় কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত। হয় , যখন আমরা হৃদয় দিয়ে বুঝতে পারি যে, ঈশ্বর আমাদের বিশ্বাস গ্রহণ করেছে। সুতরাং ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমাদের হৃদয় বা আত্মা খুব গুরুত্বপূর্ণ।