শিক্ষা

বিষয় ৯: রোমীয় পুস্তক (রোমীয় পুস্তকের ভাষ্য)

[8-1] রোমীয় পুস্তকের অষ্টম অধ্যায়ের উপস্থাপন

৮ অধ্যায়কে সম্ভবত রোমীয় পুস্তকের অধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে। এই অধ্যায়ের ভিন্ন ভিন্ন বিষয়বস্তু উপস্থাপনের মাধ্যমে পৌল আমাদেরকে দেখিয়েছেন যে, ঈশ্বরের ধার্মিকতার কাজ কত চকৎকার। 
 প্রথম বিষয়বস্তু হল: “অতএব এখন যাহারা খ্রীষ্ট যীশুতে আছে, তাহাদের প্রতি কোন দন্ডাজ্ঞা নাই” ( রোমীয় ৮:১ )। এর অর্থ হল আমরা কত সাধরণ এবং মূল্যহীন, সেদিকে না তাকিয়েই ঈশ্বরের ধার্মিকতা আমাদেরকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করেছেন।
 দ্বিতীয় বিষয় হল: “কারণ ব্যবস্থা মাংস দ্বারা দূর্বল হওয়াতে যাহা করিতে পারে নাই, ঈশ্বর তাহা করিয়াছেন, নিজ পুত্রকে পাপময় মাংসের সাদৃশে এবং পাপার্থক বলিরূপে পাঠাইয়া মাংসে পাপের দন্ডাজ্ঞা করিয়াছেন ( রোমীয় ৮:৩ )।” কারণ মাংস দ্বারা দূবল হওয়াতে তারা ঈশ্বরের ব্যবস্থা পালন করতে পারে না। যীশু খ্রীষ্ট তাদেরকে পাপ এবং দন্ড থেকে মুক্তি দিতে, তাঁর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় মৃতুর মাধ্যমে তাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন। এজন্যেই যারা এই সত্যে বিশ্বাস করে যে, যীশু এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং যোহনের বাপ্তিস্মের দ্বারা তৎক্ষনাৎ সমস্ত মানুষ জাতির পাপ তুলে নিয়েছিলেন, যেন তিনি ক্রুশারোপিত হয়ে পৃথিবীর সমস্ত পাপ ক্রুশের উপরে বহন করতে পারেন এবং মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়ে তাদেরকে পরিত্রাণ করতে পারেন। প্রভুর এই সমস্ত কাজের অর্থ হল, পিতা ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী পাপীদের তাদের পাপ থেকে পরিত্রাণ করে ঈশ্বরীয় ধার্মিকতার পূর্ণতা সাধন করা। 
 তৃতীয় বিষয়বস্তু হল: “কেননা যাহার মাংসের বশে আছে, তাহারা মাংসিক বিষয় ভাবে: কিন্তু যাহারা আত্মার বশে আছে তাহারা আত্মিক বিষয় ভাবে” ( রোমীয় ৮:৫ )। এর অর্থ হল, যখন আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে স্থির করি, আমাদের উচিত আমাদের নিজস্ব চিন্তা অনুসরণের দ্বারা না করে তাঁকে বিশ্বাস করা। কিন্তু ঈশ্বরের বাক্য অনুসরণের দ্বারা তাঁকে বিশ্বাস করা। 
 চতুর্থ বিষয়বস্তু হল: “কিন্তু তোমরা মাংসের অধীনে নও, আত্মার অধীনে রহিয়াছ, যদি বাস্তবিক ঈশ্বরের আত্মা তোমাদিগেতে বাস করেন। কিন্তু খ্রীষ্টের আত্মা যাহার নাই, সে খ্রীষ্টের নয়” ( রোমীয় ৮:৯ )। যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে তাদেরকে হৃদয় দিয়ে পবিত্র আত্মা গ্রহণ করতে হবে। ইহার আরো অর্থ হল, শুধু কষ্ট করে গীর্জায় উপস্থিত হলেই আপনি ঈশ্বরের সন্তান হতে পারবেন না।
 পঞ্চম বিষয়বস্তু হল; “অতএব, হে ভ্রাতৃগণ, আমরা ঋনী, কিন্তু মাংসের কাছে নয় যে, মাংসের বশে জীবন যাপন করিব” (রোমীয় ৮:১২)। এই বিষয়টি আমাদের বলে যে, যারা প্রভুর সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা তাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়েছে, যা ঈশ্বরের ধার্মিকতার পূর্ণতা সাধন করেছে, তারা মাংসের এবং এর দাসত্বের কাছে ঋনী নয়। 
 ষষ্ঠ বিষয়বস্তু হল: “বস্তুত তোমরা দাসত্বের আত্মা পাও নাই যে, আবার ভয় করিবে; কিস্তু দত্তকপুত্রতার আত্মা পাইয়াছ, যে আত্মাতে আমরা আব্বা, পিতা বলিয়া ডাকিয়া উঠি।” কারণ যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এবং পবিত্র আত্মা গ্রহণ করেছে, তারা এখন ঈশ্বরকে “আব্বা, পিতা” বলে ডাকে।
 সপ্তম বিষয়বস্তু হল; “আর আপনিও আমাদের আত্মার সহিত সাক্ষ্য দিতেছেন যে, আমার ঈশ্বরের সন্তান। আর যখন সন্তান, তখন দায়াদ, ঈশ্বরের দায়দ ও খ্রীষ্টের সহদায়াদ- যদি বাস্তবিক আমরা তাঁহার সহিত দুঃখভোগ করি,যেন তাঁহার সহিত প্রতাপান্বিতও হই।”(রোমীয় ৮:১৬-১৭।) যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে, তারা পবিত্র আত্মা গ্রহণ করে, আর যারা পবিত্র আত্মা গ্রহণ করে তারা খ্রীষ্টে সহদায়াদ এবং তাঁর স্বর্গ-রাজ্যের অধিকারী। 
 অষ্টম বিষয়বস্তু হল: “কারণ আমরা জানি, সমস্ত সৃষ্টি এখন পর্যন্ত একসঙ্গে আর্ত্তস্বর করিতেছে, ও একসঙ্গে ব্যথা খাইতেছে”(রোমীয় ৮:২২)। ইহা আমাদের বলে যে, এমনকি সম্পূর্ণ পৃথিবীর ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাসীরা সমস্ত সৃষ্টির সাথে একসঙ্গে ব্যথা খাইতেছে, কিন্তু ইহা আমাদেরকে আরও বলিতেছে, তাদের পরবর্তী পৃথিবীতে, যেখানে না আছে দুর্ভিক্ষ, না আছে যন্ত্রনা।
 নবম বিষয়বস্তু হল: “আর তিনি যাহাদিগকে পূর্বে নিরূপন করিলেনদ তাহাদিগকে আহবানও করিলেন; আর যাহাদিগকে আহবান করিলেন, তাহাদিগকে ধার্মিক গণিতও করিলেন; আর যাহাদিগকে ধার্মিক গণিত করিলেন, তাহাদিগকে প্রতাপান্বিতও করিলেন” (রোমীয় ৮:৩০) ইহা আমাদের বলে যে, ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে সমস্ত পাপীদের আহবান করলেন; এবং সেই আহবান তৎক্ষনাৎ তাদেরকে তাঁর ধার্মিকতায় সমস্ত পাপ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর সন্তান করলেন। 
 চুড়ান্তভাবে, দশম এবং শেষ বিষয়বস্তু হল: “ঈশ্বরের মনোনীতদের বিপক্ষে কে অভিযোগ করিবে? ঈশ্বর ত তাহাদিগকে ধার্মিক করিবেন; কে দোষী করিবে?” (রোমীয় ৮:৩৩)। ঈশ্বরের সন্তানদের তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাসের দ্বারা পাপ মোচনের দানস্বরূপ পবিত্র আত্মা রয়েছে, কেউ ঈশ্বরের তাদের বিচার করতে পারবে না। 
 তাহলে এই দশটি বিষয়বস্তু হল রোমীয় ৮ অধ্যায়ের মূল খসড়া। এখন এখন আমরা বিস্তারিতভাবে আমাদের মূল আলোচনায় তাদেরকে নিরীক্ষা করব।