خطبات

বিষয় ১২: প্রেরিতের বিশ্বাসসূত্রের বিশ্বাস

[11-26] <যাত্রাপুস্তক ২৬:১৫-৩০> সমাগম তাম্বুতে ব্যবহূত রৌপ্যের চুঙ্গির আত্মিক তাত্পর্য

<যাত্রাপুস্তক ২৬:১৫-৩০> 
“ পরে তুমি আবাসের জন্য শিটীম কাষ্ঠের দাঁড় করান তক্তা প্রস্তুত করিবে। প্রত্যেক তক্তা দীর্ঘে দশ হস্ত ও প্রস্থে দেড় হস্ত হইবে। প্রত্যেক তক্তার পরস্পর সংযুক্ত দুই দুই পায়া থাকিবে; এইরূপে আবাসের সকল তক্তা প্রস্তুত করিবে। আবাসের নিমিত্তে তক্তা প্রস্তুত করিবে, দক্ষিণদিকে দক্ষিণ পার্শ্বের নিমিত্তে বিংশতি তক্তা। আর সেই বিংশতি তক্তার নীচে চল্লিশ রৌপ্যের চুঙ্গি গড়িয়া দিবে; এক তক্তার নীচে তাহার দুই পায়ার নিমিত্তে দুই চুঙ্গি, এবং অন্য অন্য তক্তার নীচেও তাহাদের দুই দুই পায়ার নিমিত্তে দুই দুই চুঙ্গি হইবে। আর আবাসের দ্বিতীয় পার্শ্বের নিমিত্তে উত্তরদিকে বিংশতি তক্তা; আর সেইগুলির জন্য রৌপ্যের চল্লিশ চুঙ্গি; এক তক্তার নীচে দুই চুঙ্গি ও অন্য অন্য তক্তার নীচেও দুই দুই চুঙ্গি; আর আবাসের পশ্চিমদিকের পশ্চাদ্ভাগের নিমিত্তে ছয়খানি তক্তা করিবে। আর আবাসের সেই পশ্চাদ্ভাগের দুই কোণের জন্য দুইখানি তক্তা করিবে। সেই দুই তক্তার নীচে যোড় হইবে, এবং সেইরূপ মাথাতেও প্রথম কড়ার নিকটে যোড় হইবে; এইরূপ উভয়েতেই হইবে; তাহা দুই কোণের নিমিত্ত হইবে। তক্তা আটখানা হইবে, ও সেইগুলির রৌপ্যের চুঙ্গি ষোলটী হইবে; এক তক্তার নীচে দুই চুঙ্গি, ও অন্য তক্তার নীচে দুই চুঙ্গি থাকিবে। আর তুমি শিটীম কাষ্ঠের অর্গল প্রস্তুত করিবে, আবাসের এক পার্শ্বের তক্তাতে পাঁচ অর্গল, ও আবাসের অন্য পার্শ্বের তক্তাতে পাঁচ অর্গল, এবং আবাসের পশ্চিমদিকের পশ্চাদ্ভাগের তক্তাতে পাঁচ অর্গল দিবে। এবং মধ্যবর্ত্তী অর্গল তক্তাগুলির মধ্যস্থান দিয়া এক প্রান্ত অবধি অন্য প্রান্ত পর্য্যন্ত যাইবে। আর ঐ তক্তাগুলি স্বর্ণে মুড়িবে, এবং অর্গলের ঘর হইবার জন্য স্বর্ণকড়া গড়িবে, এবং অর্গল সকল স্বর্ণ দিয়া মুড়িবে। আবাসের যে আদর্শ পর্ব্বতে তোমাকে দেখান গেল, তদনুসারে তাহা স্থাপন করিবে।”
 
ঈশ্বরের সমাগম তাম্বুর তক্তাগুলো রৌপ্যের দ্বারা মোড়ানো ছিল৷ সমাগম তাম্বুর প্রত্যেকটি তক্তা দাঁড় করানো ছিল, ঈশ্বর মোশিকে দুটো রৌপ্যের চুঙ্গি তৈরী করতে বলেছিলেন৷ প্রত্যেকটি তক্তাগুলোর নিচে রৌপ্যের দুটি চুঙ্গি বসানোর আত্মিক অর্থ হচ্ছে অনুসরণ করা৷ বাইবেলে, সোনা বিশ্বাসকে নির্দেশ করে, যেটির সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় না৷ এইজন্য এই রৌপ্যের চুঙ্গিগুলো তক্তার নিচে বসানো হয়েছিল যাতে সোনার মোড়কের দ্বারা বুঝতে পারি যে, ঈশ্বর আমাদেরকে দুটি উপহার প্রদান করেছেন যাতে আমরা নিশ্চিত পাপের মুক্তি পাই৷ অন্যভাবে এটির মানে হল যীশু নিজে বাপ্তাইজিত হয়ে এবং রক্ত সেচনের মাধ্যমে আমাদেরকে পুরোপুরিভাবে পাপ থেকে মুক্তি দিলেন৷ 
খাঁটি সোনার মত বিশ্বাসকে গ্রহণ করার জন্য আসলে কোন জিনিসটা আমাদের বেশি প্রয়োজন যাতে আমরা ঈশ্বরের লোক বলে নিজেদেরকে দাবি করতে পারি এবং তাঁর ক্রুশের রক্ত ও বাপ্তিস্মের বিশ্বাসে বিশ্বাস করে তাঁর রাজ্যের অংশ হতে পারি৷ জল ও আত্মার সুসমাচার যার দ্বারা ঈশ্বর আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিলেন সেটি হল বিশ্বাসের উপহার যেটি আমাদের সবার অবশ্যই প্রয়োজন৷ আমরা নিজেদেরকে পাপের মুক্তি দিতে পারি না, কিন্তু পাপ প্রতিনিয়ত আমাদেরকে নরকের দায়ী করছে, আমাদের পাপসমূহকে আমরা কখনও আমাদের চেষ্টা, শক্তি ও ইচ্ছা দ্বারা দূর করতে পারি না৷ 
আমরা আমাদের পাপগুলোকে মুছে ফেলার জন্য আমাদের শক্তির উপর স্থির থাকার বদলে, আমাদেরকে অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করতে হবে এবং তারপরই আমরা আমাদের পাপসমূহ থেকে মুক্তি পেতে পারি৷ আমাদের জন্য এটিই সঠিক বিশ্বাস, যে বিশ্বাসে প্রভুকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়, কারণ প্রভু আমাদেরকে সত্যের জল ও আত্মার সুসমাচার উপহার দেওয়ার মাধ্যমে পাপের মুক্তি দিয়েছেন৷ যখনই আমরা সুসমাচারের উপাদান দুটিকে পাপের মুক্তির দানের উপহারস্বরূপ বিশ্বাস করি, আমাদের এগুলোর উপর বিশ্বাস দেখেই ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর নিজের সম্পূর্ণ মানুষরূপে গ্রহণ করেন৷ এইজন্য, যদি আপনার অন্তরে এখনও কোনো পাপ থেকে থাকে, তাহলে আপনাকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সম্পূর্ণভাবে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করতে হবে যেটা ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর মুক্তি পাওয়ার উপহারস্বরূপ দিয়েছেন৷
পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা নিজেদেরকে ঈশ্বরের লোক বলে দাবি করতে চায়৷ ঈশ্বরের লোক হতে হলে, আমাদেরকে প্রথমে ঈশ্বরের বাক্যের দ্বারা নিজেদেরকে আলোকিত করতে হবে এবং নিজেদেরকে ক্রমানুসারে পরীক্ষা করতে হবে৷ তারপরই আমরা আমাদেরকে খুঁজে পাব যে, আমরা সকলেই পাপী- যার তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কিছু নেই যদি আমরা আমাদের পাপসমূহের জন্য নিজেদেরকে দোষারোপ করতে পারি৷ আমরাই সেই ব্যক্তি যে নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত পাপ করি৷ আমাদের সত্যের জীবনটা এরকম যে আমরা নিজেদেরকে সাহায্য করতে পারি না কিন্তু আমাদের জীবনগুলোকে অধার্মিকতায় এবং পাপে বাস করায় আমাদের বিচার হওয়ার অপেক্ষায়৷ দেওয়া আছে এটা আমরা নিজেদেরকে ঈশ্বরের মানুষ করতে পারি? এজন্যই আমাদেরকে ঈশ্বরের লোক হওয়ার জন্য ঈশ্বরের দেওয়া দুটি মুক্তি লাভের উপহারগুলোকে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তাকে বুঝতে হবে৷ 
নীল, লাল, বেগুনি ও মিহি মসীনা বস্ত্রের হয়ে আমাদের প্রভু আমাদের পাপ ক্ষমা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের কাছে তিনি মুক্তিদাতা হয়েছেন৷ যীশু যে বাপ্তিস্ম যোহন বাপ্তাইজকের কাছে গ্রহণ করেছিলেন এবং ক্রুশের উপরে যে লাল রক্ত সেচন করেছিলেন, সেটি দিয়ে তিনি আমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তি দান করেছিলেন৷ মুক্তির জন্য এই দুটি উপাদানের গুরুত্ব অপরিহার্য৷ এই জন্য, এই সত্যে যে বিশ্বাস করবে না সে কোনো দিন ঈশ্বরের লোক হতে পারবে না৷
ঈশ্বর যে দুটি উপহার আমাদের মুক্তির জন্য দিয়েছেন এগুলোর মধ্যে দিয়ে আমরা তাঁর প্রকৃত লোক হতে পারি৷ আমরা যে ঈশ্বরের সন্তান হতে পেরেছি, এটা আসলেই আমাদের শক্তির বাহুবলে হয় নি৷ যার জন্য আমরা মুক্তিলাভ করেছিলাম এবং আমাদের মধ্য হতে সব পাপ দুরে সরে গিয়েছে এবং আমাদের উপরের সব পাপের নিন্দা দূর করা সম্ভব একমাত্র যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তসেচনের মাধ্যমে৷ অন্য কথায়, আমরা ঈশ্বরের সন্তান হতে পারি, যদি আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করি৷ ঈশ্বরের এই উপহারগুলো গ্রহণ করার মাধ্যমে আমাদের খাঁটি সোনার মত বিশ্বাস তৈরী হবে৷
সমাগম তাম্বু তৈরী করতে, ঈশ্বর দুটি রৌপ্যের চুঙ্গি প্রত্যেকটি তক্তার নিচে বসিয়ে দিয়েছিলেন৷ এই সত্য আমাদেরকে বলে যে, যীশু খ্রীষ্ট এই জগতে এসেছিলেন, যর্দন নদীতে যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা সমগ্র মানুষের পাপকে তুলে নেওয়ার জন্য এবং সমস্ত পাপের নিন্দা কাঁধে নিয়েছিলেন, এবং সমস্ত পাপ নিয়ে ক্রুশে আরোহন করে মৃত্যুবরণ করেছিলেন৷ যীশু যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং ক্রুশে যে রক্ত সেচন করেছিলেন এইগুলো পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রকৃত মাধ্যম৷
আপনি ও আমি, আমরা যারা এযুগে বসবাস করছি, আমাদের অবশ্যই নিজেদের পাপপূর্ণ জীবনকে দেখা উচিত৷ এবং ঈশ্বরকে জানার পূর্বে যারা নিজেদেরকে জানে, তারা অবশ্যই বুঝেছে যে, প্রভু এই জগতে এসেছিলেন, প্রভু যোহন বাপ্তাইজকের মাধ্যমে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে তাদের পাপ তুলে নিয়েছিলেন এবং ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তিনি তাদের সমস্ত পাপ ও দন্ডাজ্ঞা থেকে মুক্তি দিলেন৷ যখন আমরা মুক্তিলাভের উপর বিশ্বাস করি এবং আমাদের পাপ থেকে এভাবে মুক্তিলাভ করি তখনই আমরা পূর্বেই ঈশ্বরের সন্তান হই৷ এর কারণ হল প্রভুর ক্রুশে রক্ত ঝরানো এবং তাঁর বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের মুক্তি দিলেন এবং এভাবে আমরা এখনও পাপ থেকে মুক্তি পেয়েছি; যদি তিনি এরকম না করতেন, তাহলে আমরা কখনই সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হতে পারতাম না৷ সেই জন্য আমরা বিশ্বাস ও স্বীকার করি বা না করি, ১০০ ভাগই আমি ও আপনি ধার্মিক ও ঈশ্বরের লোক হয়েছি৷
সমাগম তাম্বুতে রৌপ্যের চুঙ্গি আমাদেরকে দেখায় যে, নীল, লাল ও বেগুনি মসীনা কাপড়ের সাথে ঈশ্বর আমাদেরকে মুক্তির আশীর্বাদ দিয়েছেন, যাতে আমরা বিশ্বাসে সম্পূর্ণরূপে মুক্তি লাভ করি৷ শুধুমাত্র সেইসব লোকেরা যারা আত্মিকভাবে দরিদ্র, তারা তাদের পাপের জন্য নরকের দায় এড়াতে না পেরে নরকের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তারাই উপযুক্ত নীল, লাল ও বেগুনি মসীনা বস্ত্রের মাধ্যমে মুক্তিলাভ করবে যা ঈশ্বর দিয়েছেন৷ যারা বিলাপ করে ও দুঃখিত হয় যে, তারা পূর্ব থেকেই নরকের জন্য দায়ী, তারাই ঈশ্বর কর্ত্তৃক প্রদত্ত মুক্তির উপহারটি গ্রহণ করতে পারে৷ যারা নীল, লাল, বেগুনি ও মিহি মসীনা বস্ত্র ও ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে যে জল ও আত্মার সুসমাচার দিয়েছেন, তাতে সুস্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে, তারা সম্পূর্ণরূপে পাপ থেকে মুক্তি লাভ করে ঈশ্বরের সন্তান হয়৷ শুধুমাত্র যারা প্রভু কর্ত্তৃক প্রদত্ত মুক্তির উপহার গ্রহণ করতে পারে, তারাই ঈশ্বরের আশীর্বাদে পরিপূর্ণ হতে পারে৷ এটি একটি যোগ্যতা, যা যারা জানে যে, তাদের পাপের জন্য নরক নির্ধারিত রয়েছে ও ঈশ্বরের কাছে দয়া চায়, শুধুমাত্র তাদের দ্বারাই এটি অর্জন করা যায়৷ 
আমরা যে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম তার একটিই কারণ, আর তা হল ঈশ্বর আমাদের জন্য মুক্তি উপহার দিয়েছেন৷ এই জন্য ইফিষীয় ২:৮ পদ বলে, “কেননা, অনুগ্রহেই, বিশ্বাস দ্বারা তোমরা পরিত্রাণ পাইয়াছ”৷ আমরা যে ঈশ্বরের সন্তান হয়েছি, এটির কারণও হল যে, আমরা এই মুক্তির উপহারে বিশ্বাস করেছি৷ এটি দেওয়া আছে, তাহলে আমাদের গর্বের বিষয়টি কোনটি? আমরা গর্ব না করে একমাত্র ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেব, এটা স্বীকার করব যে আমরা নই কিন্তু ঈশ্বরই আমাদের মুক্তি দিয়েছেন৷ 
প্রাণ খুলে বলব, আমরা কখনও আমাদের পাপ থেকে উদ্ধার পেতাম না, নীল, লাল, বেগুনি ও মিহি মসীনা বস্ত্রের দ্বারা ঈশ্বর যদি আমাদের মুক্তি না দিতেন৷ জল ও আত্মার সুসমাচারের শক্তি নীল, লাল, বেগুনি ও মিহি মসীনা বস্ত্রের মধ্যে এই সত্যটা জড়িয়ে রয়েছে৷ যীশু খ্রীষ্ট যে এই জগতে জন্ম নিয়ে এসেছিলেন এই সত্যের মুক্তিটা তাঁর দ্বারাই দৃষ্টিগোচর হয়, যর্দন নদীতে যীশু যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে সমগ্র মানবকুলের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন (মথি ৩:১৩-১৭)৷ ক্রুশে মৃত্যুবরণ করলেন এবং আবার মৃত্যু থেকে উত্থিত হলেন৷ কারণ আশীর্বাদের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর আমাদের উদ্ধার করলেন, যারা রক্ত-মাংসের পাপে পূর্ণ হয়েছে, তারাই বিশ্বাসের দ্বারা পাপ থেকে মুক্তিলাভ করতে পারে, স্বর্গরাজ্যের একজন স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে এবং তিনিই আমাদেরকে স্বর্গরাজ্যের প্রজা রূপে পরিবর্তিত করতে পারেন৷
 
 
যীশুতে বিশ্বাস করার পরেও কি আপনি এখনও জানেন না যে, আপনি প্রকৃতপক্ষে কে?
 
বর্তমান সময়ে শত শত টিভি চ্যানেলগুলো তার এবং কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে প্রদর্শিত হচ্ছে৷ এই চ্যানেলগুলো চব্বিশ ঘন্টা তাদের নিজেদের বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো আকর্ষণীয়ভাবে দর্শকদের কাছে প্রতিনিয়ত প্রদর্শিত করছে৷ এই চ্যানেলগুলোর মধ্যে বড় বিশেষ বিশেষ চ্যানেলগুলোই ব্যবসায়িকভাবে সফলতা অর্জন করছে৷ এই রকম অনেক বড় চ্যানেল আছে যেগুলো অন্যান্য চ্যানেলগুলোকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সাধারনভাবেই অশ্লীলতা বিষয় সম্প্রচার করে৷ এর ফলে, অনেক মানুষ এই অশ্লীলতার মধ্যে নিজেকে প্রশ্রয় দিচ্ছে৷ এইভাবেই কি মানুষেরা নিজেদেরকে অধিকতর মন্দের দিকে অগ্রসর করে নিজেদেরকে পাপী করছে না?
যাহোক, বাইবেল দেখিয়ে দেয় লম্পটতা, ব্যভিচার এবং অশোভনতা যেগুলো মানুষের মধ্য থেকে প্রকাশ পায়, সেগুলো সত্যিই পাপ (মার্ক ৭: ২১-২৩)৷ আমরা কি পাপে পূর্ণ নই? ঈশ্বর বারবার বলেছেন যে, আমাদের কাছে বিত্তশালী লোকেরা স্বাভাবিকভাবে পাপে পূর্ণ, কেননা পাপের বেতন মৃত্যু, এবং পাপ পূর্ণ হলেই মৃত্যু ডেকে নিয়ে আসে৷ কিন্তু আমরা কি এটা সত্যি স্বীকার করি? এটা কিভাবে? আমরা কি আমাদের পাপগুলো থেকে পালাতে পারি? যেগুলো আমাদের কাছে চোখ, কান বন্ধ করার মত স্বাভাবিক? আমরা আমাদের চিন্তা ও মনকে সাহায্য করতে না পেরে আমরা সব পাপগুলোকে বিশ্বাস করে নিজেদের কল্পনার ন্যায় বয়ে বেড়াচ্ছি৷
যাহোক, আমরা কতটুকু নিজেদেরকে বলেছি যে, আমাদেরকে এইরকম পাপ থেকে দুরে দাঁড়াতে হবে এবং কতজনই বা এরকম পাপ থেকে দুরে সরে যেতে চেষ্টা করে, এইগুলো সবই অনর্থক৷ তারপরেও আমাদের রক্ত-মাংস এমন যে, আমরা কখনও সঠিক ধার্মিক ব্যক্তি হতে পারি না, কারণ যে নিজের রক্ত-মাংসে পাপ করেনি বলে বিশ্বাস করে, কিন্তু আমরা পাপ থেকে দুরে সরে যাওয়ার যতই ইচ্ছা করি না কেন, তারপরেও আমাদের সঙ্গে পাপের গভীর সম্পর্ক থাকে৷ মানুষের শরীর ও হৃদয় অন্তর সর্বদাই পবিত্রতা থেকে দূরে থাকে, এবং এটা সত্যি যে, তারা শুধু পাপের কাছে নয়, কিন্তু তারা বড় ধরনের পাপের সাথে জড়িত হয়৷ 
আমাদের প্রত্যেকেই একেক জন পাপের ও অবিচারকারীর প্রদীপ৷ সেজন্য আমরা আমাদের মৌলিক অস্তিত্ব থেকে ক্ষয় পাচ্ছি৷ আমাদের মনের মধ্যে অশ্লীলতা অনেক দিন ধরে অত্যন্ত বেড়ে গেছে এবং দীর্ঘ সহকারীতা আমাদের মনকে বিরক্ত করে৷ এর কারণই হল যে,প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয় একটি অস্তিত্বের পাপের একটি করে স্থায়ী প্রদীপ৷ সে জন্য, আমাদেরকে অবশ্যই সততার সাথে আমাদের পাপের স্তুপ নিয়ে ঈশ্বরের সামনে উপস্থিত হওয়া উচিত৷ এবং এটাই আমাদের বুদ্ধির সাথে বোঝা উচিত যে, ঈশ্বরের ধার্মিকতার বিচারের মধ্যে দিয়ে নরকের দায়ী এবং তাঁকে আমাদের পাপের মুক্তির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারি৷ নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কি বলেন নি, “অসম্ভব কথাটি কি শুধুমাত্র অলস মস্তিস্কে পাওয়া যায় না ?” অনেক খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা আছে যারা তাদের ধার্মিকতাকে দেখাতে চায়, যদিও তারা নিজেদেরকে পাপ থেকে এড়াতে চাইছে৷ কিন্তু এটা ঈশ্বরের বিপক্ষে একটা বিশেষ প্রতিদ্বন্দী পাহাড়ের মত৷ এরকম অবাধ্যতার শাস্তি শয়তানের মত আটকে দেয় যেমনটি সে ঈশ্বরের ধার্মিকতা গ্রহণ থেকে বিতাড়িত হয়েছিল এবং এমনকি ঈশ্বর যে ভালবাসার মুক্তি আমাদের দিয়েছিলেন সেটিও সে প্রত্যাখ্যান করেছিল৷ 
আপনি কি নিজেকে ভাল বলে দাবি করেন? আপনি কি নিজের জন্য নিজে চিন্তা করেন যে, আপনার বিচার করার বুদ্ধি আছে যেটি যেকোনো অধার্মিক বিষয়কে সহ্য করতে পারে না, যেকোনো ঘটনা এবং অবস্থাতে? আপনি কি জানেন যে, ঈশ্বরের পূর্বেই আপনি কোনো একভাবে ধার্মিক, কারণ আপনি আপনার অন্তরে প্রতিনিয়ত ঈশ্বরের আদেশ পালন করছেন এবং সেগুলোকে মেনে নিয়ে আপনার জীবনে ব্যবহার করছেন? যদি কেউ ঈশ্বরের প্রদত্ত উপহারের সমন্ধে না জানে এবং তারপরেও যদি সে ধার্মিকভাবে আচরণ করে কিন্তু তার মনে পাপ থাকে৷ সে মানুষ হিসাবে ধার্মিকতাকে নিয়ে ধার্মিকতার ভান করে ধার্মিক সেজেছে৷ এ রকম সততার মানুষের জন্য ঈশ্বরের স্তম্ভ হওয়াটা তাদের জন্য অসম্ভব এবং তারা পাপের অব্যবহৃত প্রদীপ মাত্র৷
এশিয়ার পূর্ব দিকের দেশগুলোতে অনেকে জন্মগতভাবে “কনফুসিয়াস” শিক্ষায় দীক্ষিত হয় এবং তারা এটাকে শিখতে বহু চর্চা করে৷ অন্যদিকে পশ্চিম ক্যাথলিক অথবা প্রটেস্ট্যান্টগণের প্রাকৃতিক দৃশ্যের মত তাদের ধর্মের প্রতি প্রবল, সুতরাং পশ্চিমাঞ্চলের লোকেরা ঈশ্বরের নিয়ম পালনের জন্য বহু চেষ্টা করে৷ কিন্তু তারা বিবেচনা করে না পশ্চিম দিক থেকে, যখন তারা ঈশ্বরের সম্মুখীন হয় এবং নিজেদের মৌলিকতাকে প্রকাশ করে, উভয়ে যারা এই “কনফুসিয়াসের” শিক্ষা অনুসারে চলে এবং যারা ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারে চলার জন্য খোঁজ করেতারা সবাই পাপের স্তুপ এবং মন্দ লোকের মত৷ সমগ্র মানুষেরাই অধার্মিক, কলঙ্কে পূর্ণ এবং ধুলো ময়লার মত পাপে পূর্ণ৷ এমনকি অনেক ভালো মানুষ যারা ভালো কাজ করেছে তারা আন্তরিকভাবে হৃদয় থেকে বিবেচনা না করেই করেছে এবং যারা অস্বস্তিকরভাবে তাদের ভালো কাজের জন্য প্রশংসা পায়, তারা এই বিষয় থেকে মুক্তি পায় না, সে জন্য ঈশ্বরের সম্মুখে তাদের মৌলিক স্বভাব উন্মোচিত থাকে, তারাই হচ্ছে পাপে পূর্ণ স্তুপ এবং মন্দ লোকের আঁটি৷ কারণ মানুষের ন্যায়নিষ্টতা ঈশ্বরের সম্মুখে বড় মন্দতা, মানুষ নিজেদেরকে পাপ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে না, যতক্ষণ না তারা তাদের শাস্তিকে বুঝতে পারে এবং জল ও আত্মার সুসমাচারকে ঈশ্বরের ভালবাসা হিসাবে গ্রহণ করে৷ ঈশ্বরের সম্মুখে সমগ্র মানুষ শক্তি প্রয়োগ করেও নিজেদের উত্তমতাকে প্রকাশ করতে পারে না এবং মানবকুলের সব গুণই তাঁর সম্মুখে নোংরা বস্তু৷ প্রাকৃতিকভাবে মানুষের মৌলিকতা ময়লার কাঠ এবং পিত্তলের মত৷ মানুষেরা এক প্রকার কাঠের মত যেটি ঈশ্বরের গৃহে অভিভূত করা যায় না যতক্ষণ না তিনি প্রথমে সেগুলোকে সোনা দিয়ে লেপন না করছেন৷ এবং ঈশ্বরের দ্বারা প্রদত্ত মুক্তি ছাড়া তারা পিত্তল ছাড়া আর কিছু যতক্ষণ না তারা বিচারের দ্বারা নরকের সম্মুখীন হয়, আমরা যদি মুক্তির উপহারে বিশ্বাস না করি যে, যীশু খ্রীষ্ট মসীহ যে কারো হস্ত দিয়ে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং রক্তসেচনের মধ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তাহলে আমরাও নিজেদেরকে পাপী বলে দাবি করব৷ এমন যদি হয় যে, যারা জানে না যে, তারা পূর্ব থেকেই পাপী এবং যারা ঈশ্বরের উপহার গ্রহণ করে নি তারা মুক্তি পাবে ও সত্যিই দয়ার্দ্র হবে৷ 
ঈশ্বরের ধার্মিকতাকে জানার পূর্বেই আমাদের নিজেদের ধার্মিকতার জীবনটা উঁচু স্থানে দাঁড়িয়েছিল৷ আমারও ঠিক এভাবে হয়েছিল যখন আমি ঈশ্বরের মুক্তির উপহারটাকে জানতাম না এবং খাঁটি বিশ্বাসও ছিল না৷ প্রকৃতপক্ষে, আসলে আমার নিজের কোনো ধার্মিকতা ছিল না কিন্তু এখন নিজেকে উপযুক্ত হিসাবে চিন্তা করি৷ সুতরাং, আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন এমন অনেক সময় ছিল যখন আমি বিচার করে সহ্য করে চলতে পারতাম না এবং যার সাথে মিল হত না সে মানুষের সাথে লড়াই করতাম৷ আমার জীবনে ন্যায়সঙ্গতভাবে এবং ধার্মিকভাবে চলার দর্শন ছিল, যখন আমি একবার জন্মগ্রহণ করেছি তখন আমি একবার মরব৷ আমার চিন্তা ছিল যে, “মূল্যহীন জীবন অতিবাহিত না করার চেয়ে আমার মরাই ভালো, যখন খাওয়ারও কিছু নেই৷ যদি এটাই জীবনের সবকিছু হয় তাহলে ৫০ বছর বাঁচার চেয়ে মরে যাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্যই নেই৷ এইভাবে চলাটা বিরক্তিকর এবং ঘৃণাস্পদ৷ আশাহীন, উদ্দেশ্যহীন জীবন নিয়ে কখনও ধার্মিকতার কাজ করা যায় না বরং এটি নরক মনে হয়৷ সবশেষে, আসলে নরকটাই বা কি? মানুষই শুকরের মত শুধুমাত্র মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিদিন উদর পূর্ণ করার জন্য খাওয়া, পরা, নরককে অবমাননা করা৷” একইভাবে আমি ঈশ্বরের সম্মুখে দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিলাম৷ আমি পুরোপুরিভাবে নিজের ধার্মিকতায় পূর্ণ ছিলাম৷ সেজন্য আমি আমার জীবনকে অন্যদের তুলনায় ভালো মনে করি এবং সর্বদা ধার্মিকভাবে চলার চেষ্টা করি৷
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমি ঈশ্বরের ধার্মিকতার সামনে মহা পাপী ছাড়া আর কিছুই ছিলাম না৷ ৬১৩ জন লোকের মধ্যে এমন সামাজিক পদমর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলাম না যে, আমি দশ আজ্ঞাকে পালন করতে পারি৷ বিষয়টি হল যে, অধার্মিকতা পূর্ণ অবস্থায় নিজেকে রেখে দশ আজ্ঞাগুলোকে ধারণ করার ইচ্ছা ছিল৷ কিন্তু ঈশ্বরের সম্মুখে বিশ্বাসে অর্পণ করেছিলাম৷” ঈশ্বরের সম্মুখে সমস্ত ধার্মিকতা মানুষের অধার্মিকতায় পরিবর্তিত হয়৷ সত্যটি হল এই যে মানুষ কখনও সাধারনভাবে ধার্মিক হয় না৷ এমনকি বর্তমান যুগই হচ্ছে সর্বশেষ যুগ যেটি এই সময় সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পাপের দ্বারা বঞ্চিত হচ্ছে এবং প্রবেশ করে বের হচ্ছে৷এর মানে হল যে আমাদের শরীরটা ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরের মত অপরিবর্তনীয় লম্পটতা, এবং পাপের দুশ্চরিত্র এবং আমরা আসলে এই পাপগুলোকে আমাদের জীবনের চলার পথে জিম্মায় রাখছি৷ তারপরও আমাদের শরীর সবসময় অবর্ণনীয় ময়লা দ্বারা আকর্ষনীয় হয় এবং এতে কখনও ভালো কিছু পাওয়া যাবে না৷ 
 
 
আমরা পাপে পূর্ণ হয়েছিলাম এবং অধার্মিকতায় পূর্ণ হয়েছিলাম কিন্তু প্রভু জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে আমাদেরকে উদ্ধার করে তাঁর নিজের লোক বানিয়েছেন
 
আমরা সকলেই অধার্মিক কিন্তু প্রভু আমাদেরকে মানুষ হিসাবে মুক্তির উপহার প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপের মুক্তি প্রদান করেছেন৷ পবিত্র স্থানের জায়গা, ঈশ্বরের গৃহের প্রত্যেকটির পরিমাপ হল ৪.৫ মিটার উচ্চতা এবং ৬৭৫ মি.মি প্রস্থ জুড়ে সোনা দিয়ে মোড়ানো ছিল এবং পবিত্র জায়গা হিসাবে উত্থিত হয়৷ প্রত্যেকটি তক্তার নিচে দুটি করে রূপার চুঙ্গি বসানো ছিল৷ রূপার চুঙ্গিগুলো এখানে বোঝায় যে, ঈশ্বর আপনাকে এবং আমাকে আজীবনের জন্য তাঁর মাধ্যমে মুক্তি প্রদান করেছেন৷ 
সত্যিটা হল যে, ঈশ্বর আমাদেরকে পাপের মুক্তি দিয়েছেন একমাত্র তাঁর ভালবাসায়৷ এই ভালবাসায়, যীশু খ্রীষ্ট জগতে এসেছিলেন এবং বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন যাতে আমাদের সব পাপ তুলে নিতে পারেন, তিনি ক্রুশে মৃত্যুবরণ করার মাধ্যমে আমাদের সব পাপ থেকে মুক্তি দিয়েছেন, আর এভাবেই আমাদের সব পাপ জগত থেকে তুলে নিলেন এবং দন্ডাজ্ঞা থেকে মুক্তি দিলেন৷ তিনি যে আমাদেরকে মুক্তির উপহার প্রদান করেছিলেন তাতে বিশ্বাস করেই আমরা আবার নুতন জীবন লাভ করেছি৷ এই যে মুক্তির উপহার ঈশ্বর আমাদের প্রদান করেছেন তা সোনার মত মূল্যবান এবং এটি আজীবনের জন্য অপরিবর্তনশীল৷
প্রভু যে মুক্তি আমাদের প্রদান করেছেন তা যীশুর রক্ত ও তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা প্রস্তুতিকৃত এবং এটি আত্মিকভাবে এবং পরিষ্কারভাবেই আমাদের সব পাপ ধুয়ে মুছে দিয়েছে৷ এইজন্যই প্রভু আমাদের সব পাপ থেকে মুক্তি দিলেন যাতে আপনি ও আমি পুরোপুরিভাবে আমাদের সব পাপ থেকে মুক্তি পেতে পারি, যাতে আমরা এখন রয়েছি, এবং মন দিয়ে, আমাদের চিন্তাশক্তি দ্বারা ও আমাদের প্রকৃত ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে অর্পণ করতে পারি মুক্তির উপহারে বিশ্বাস করার মধ্য দিয়ে ঈশ্বর আমাদেরকে হৃদয়ে যে মুক্তি দিয়েছেন যার জন্য আমরা তাঁর মূল্যবান বিশ্বাসী হতে পেরেছি৷ সমাগম তাম্বুর মধ্য দিয়ে, যার খুঁটি ও দেওয়াল উভয় দিয়ে ঈশ্বর আমাদেরকে জল ও আত্মার সুসমাচারের মধ্যে দিয়ে মুক্তির কথা বলেছেন৷ এবং তক্তার রুপার চুঙ্গিগুলোর মধ্য দিয়ে ঈশ্বর আমাদেরকে বলেছেন যে, ১০০ ভাগই তাঁর আশীর্বাদ এবং উপহারের মধ্য দিয়ে তাঁর সন্তান হতে পেরেছি৷
যদি আমরা আমাদের বিশ্বাসকে যীশুর রক্ত ও বাপ্তিস্ম থেকে দূর করি, তাহলে আমাদের মধ্যে কিছুই থাকে না৷ আর এভাবেই আমরা আমাদের পাপের জন্য দন্ডাজ্ঞা পেতে থাকি৷ আমরা মনুষ্য হিসাবে শুদ্ধ হচ্ছিলাম যিনি আমাদের হটাৎ মৃত্যু হওয়ার পূর্বেই পাপের বেতন মৃত্যু ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে সতর্ক করলেন এবং আমরা অনুভব করব এবং আমাদের জন্য নরকের বিচার অপেক্ষা করছে, সে বিষয়ে ধার্মিকতার বিলাপ করব৷ এইজন্যই আমরা কিছুই না, যদি আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস ছাড়া চলি৷ এইসময় আমরা যে যুগে বসবাস করছি তাতে আমরা পাপের মধ্যে প্রবেশ করেছি, আমরা কখনও ভুলব না যে, আমাদের মৃত্যুটা নরকের বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে৷ আমরা আসলে কি ছিলাম এবং এখন ঈশ্বর আমাদেরকে জল ও আত্মার সুসমাচারে সম্পূর্ণরূপে প্রদান করার মধ্য দিয়ে মুক্তি দান করেছেন৷ মসীহ এই জগতে এসেছিলেন, যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তাইজিত হলেন, রক্ত ঝরালেন এবং ক্রুশে মৃত্যুবরণ করলেন ও মৃত্যু থেকে আবার উত্থাপিত হলেন এবং এভাবেই তিনি আমাদেরকে আমাদের দন্ডাজ্ঞা, অধার্মিকতা এবং সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি দান করেছেন৷ এখন জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা আমরা সম্পূর্ণরূপে পাপ থেকে মুক্তিলাভ করেছি এবং আমরা এখন ঈশ্বরকে বিশ্বাসের দ্বারা ধন্যবাদ দিতে পারি৷
যদিও রক্ত মাংসে যথেষ্ট নয়, আমাদের কর্মী ও সহকর্মীগণ, ধর্মযাজক ও আমি সারা পৃথিবীতে জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করছি৷ যদিও এই যুগটি লম্পটতার যুগের মত, কারণ আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করি, আমরা পবিত্রতায় ঈশ্বরকে প্রচার করতে পারি, সব দুষ্টতা থেকে মুক্ত৷ এইজন্য, আমরা যে এই মনের অধিকারী হয়েছি তা শুধু আমাদের মনের ইচ্ছাশক্তি দ্বারা নয়৷ কিন্তু এর কারণ হল যে, ঈশ্বর আমাদেরকে মুক্তির আশীর্বাদ প্রদানের মাধ্যমে আমাদেরকে পবিত্রতার বস্ত্র পরিধান করিয়েছেন৷ এর কারণ হল ঈশ্বর আমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে আমাদের পাপ, দন্ডাজ্ঞা থেকে মুক্তি দিলেন যার জন্য ঈশ্বর আমাদেরকে পরিত্রাণের শক্তির বস্ত্র পরিধান করিয়েছেন এবং এই কারণেই আমরা ঈশ্বরকে প্রচার করতে পারছি৷ কারণ আমাদের প্রভু আমাদেরকে জল ও আত্মার সুসমাচারের দ্বারা পাপ থেকে মুক্তি প্রদান করেছেন৷ আমি বিশ্বাস করি আমাদের সন্তুষ্টতার মধ্য দিয়েও আমরা তাঁকে প্রচার করতে পারি, আমরা আমাদের দন্ডাজ্ঞা এবং দোষ-ত্রুটি এবং পাপে বেশিদিন আবদ্ধ থাকব না৷
প্রভুর আশীর্বাদ আমাদের উপরে না থাকলে আমরা সত্যি সারা জগতে সুসমাচার প্রচার করতে পারব না৷ প্রভুর ইচ্ছা, আশীর্বাদ না থাকলে জল ও আত্মার সুসমাচারকে সঠিকভাবে প্রচার করাও কখনও সম্ভব হবে না৷ ১০০ ভাগই ঈশ্বরের আশীর্বাদের মুক্তির দিয়ে আপনি এবং আমি আমরা বিশুদ্ধভাবে বিশ্বাসের দ্বারা বিশুদ্ধ সুসমাচার প্রচার করতে পারি৷ আমরা ঈশ্বরের রাজ্যের একজন স্তম্ভ এবং তাঁর লোক হয়েছি একমাত্র বিশ্বাসের দ্বারা৷ কারণ ঈশ্বর আমাদেরকে সোনার মত বিশ্বাস দিয়েছেন, এখন আমরা ঈশ্বরের গৃহে বাস করতে পারি৷ এই যুগে যখন পাপে সমস্ত পৃথিবী ভরে যাচ্ছে, যখন কোনো এলাকার লোক পাপে পতিত হচ্ছে, তখন তারা ঈশ্বরের নিন্দা করছে ও ভুলে যাচ্ছে৷ আমরা পরিস্কার জল দ্বারা ধৌত হয়েছি এবং আমরা শুচি, ফলে আমরা পরিস্কার জল পান করতে পারি এবং আত্মার শুচিকরণের দ্বারা প্রভুকে প্রচার করতে পারি৷ সুতরাং, মুখের কথায় বোঝানো সম্ভব নয় যে, আমি এই আশীর্বাদ পেয়ে কত আনন্দিত৷
এটাই হলো প্রকৃত বিষয় আমরা কিভাবে বিশ্বাসের দ্বারা ধার্মিক হলাম৷ আমরা কিভাবে ধার্মিক হব? আমরা কিভাবে নিজেদের ধার্মিক বলে গণ্য করতে পারি, যখন আমাদের মধ্যে কোনো সাধুতা থাকে না? কিভাবে আপনি ও আমি, আমাদের মত পাপী ব্যক্তি নিস্পাপ বলে নিজেদের দাবি করতে পারি? আপনি কি রক্ত মাংসের শরীরে নিস্পাপ ও ধার্মিকতার মধ্যে দিয়ে ধার্মিক হতে পারেন? শরীরের চিন্তা, আপনার চেষ্টা এবং আপনার কাজ কর্ম এগুলোর কোনো একটি কি আপনাকে ধার্মিক ব্যক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে যার মধ্যে কোনো পাপ থাকবে না? আপনি কি জল ও আত্মার সুসমাচারে শুধুমাত্র বিশ্বাস করেই ধার্মিক হতে পারবেন? আপনি ঈশ্বরের প্রদত্ত লাল, বেগুনি, নীল ও মিহি মসীনা বস্ত্রের মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরের মুক্তির বিষয়কে বিশ্বাস করার মাধ্যমে ধার্মিক হতে পারেন? আপনি কি জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস না করেই ধার্মিক হতে পারেন, যেটি যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে পূর্ণ এবং ঈশ্বরের বাক্যে প্রকাশিত হয়েছিল? আপনি কখনই এমনটা হতে পারেন না৷ সংক্ষেপে উজ্বল লোহিত বস্ত্রের উপরে বিশ্বাস করে আপনি কখনও ধার্মিক হতে পারবেন না৷
কারণ যীশু খ্রীষ্ট আমাদের মুক্তিদাতা এবং মশীহ জগতের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা তিনি বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন৷ আমরা বিশ্বাসের মধ্য দিয়েই ধার্মিক হতে পেরেছি৷ যেমনটি পুরাতন নিয়মে যাজকেরা পাপীদের পাপমুক্ত করার জন্য প্রাণী উত্সর্গীকরণের মধ্য দিয়ে পাপীদের পাপ থেকে মুক্ত করতেন৷ নুতন নিয়মের সময়ে যীশু যোহন বাপ্তাইজকের মধ্য দিয়ে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মধ্য দিয়ে সমস্ত পাপ তুলে নিলেন৷ যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহনের মধ্য দিয়ে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিলেন (মথি ৩:১৫)৷ এবং যোহন বাপ্তাইজক দৃঢ়ভাবে চিত্কার করে এই বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন, “ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান। ” (যোহন ১:২৯)৷ বাপ্তিস্ম গ্রহণ করার মধ্য দিয়েই, যীশু আমাদেরকে পরিত্রাণ দেবার জন্য পরবর্তী তিন বছর বাস করেছিলেন, আমাদের সমস্ত পাপের কষ্ট, দন্ডাজ্ঞা, ক্রুশারোপনের মধ্য দিয়ে এবং নিজেকে ঈশ্বরের কাছে সমর্পনের মধ্যে দিয়ে যেমন একটি মেষ হত হওয়ার পূর্বে নম্র থাকে, একইভাবে যীশু আমাদেরকে নুতন জীবন দিয়েছেন৷
এর কারণ হল, যীশু খ্রীষ্ট যোহন বাপ্তাইজকের নিকটে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করার মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন, যাতে তিনি নিজেকে নম্রভাবে দিতে পারেন এবং তিনি রোমীয় সৈন্যদের দ্বারা হাতে ও পায়ে পেরেক গাঁথার মাধ্যমে ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন৷ ক্রুশে ঝুলন্ত অবস্থায়, যীশু হৃদয়ে রক্ত ঝরিয়েছিলেন, এবং আমাদের পাপের জন্য যীশু তাঁর শেষ কাজটিকেও আলিঙ্গন করেছিলেন, চিত্কার করে বলেছিলেন, “সমাপ্ত হইল” (যোহন ১৯:৩০)৷ এইভাবেই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন, তিনি তিন দিনের মধ্যে আবার মৃত্যু থেকে জীবিত হয়েছিলেন ও স্বর্গরাজ্যে গমন করেছিলেন এবং এভাবেই তিনি মুক্তিদাতা হয়ে অনন্ত জীবন দিয়েছেন৷ যোহন বাপ্তাইজকের মাধ্যমে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে যীশু জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিলেন ও ক্রুশারোপিত হয়ে, শেষ দিনে পুনরুত্থিত হলেন এবং স্বর্গে আরোহন করলেন৷ এইভাবেই যীশু আমাদের প্রকৃত মুক্তিদাতা হলেন৷ 
 
 
শুধুমাত্র যীশুর রক্তে বিশ্বাস করে এবং পবিত্রকরণের মতবাদের শিক্ষা গ্রহণ করলেই আপনি আপনার সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা পাবেন না
 
খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা যদি কেবল যীশুর ক্রুশের রক্তে বিশ্বাস করে তাহলে পুরোপুরিভাবে মুক্তি লাভ করতে পারবে না৷ কারণ, মানুষ তাদের চোখ, আচরণের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন পাপ করছে তারা কেউ নিজেদের পাপ থেকে মুক্তি পাবে না, যদি তারা কেবলমাত্র যীশুর রক্তে বিশ্বাস করে৷ মানুষের জীবনে বৃহৎ একটি পাপ করার বিষয়টি হচ্ছে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি নীতিহীন কাজ৷ এটি সমাজের মধ্যে স্পষ্ট এবং পৃথিবী যৌনতার অশ্লীলতায় ভরা৷ এই পাপটি আমাদের রক্ত মাংসের মধ্যেই আছে৷ বাইবেল আমাদের নির্দেশ দেয়, যেন আমরা ব্যভিচার না করি৷ কিন্তু আজকের বাস্তবতায় এই কাজটির ঘটনা চারিদিকে ঘটছে, এই পাপটি অনেকে না করতে চাইলেও, শেষ মুহুর্তে তারাই এই কাজে লিপ্ত হচ্ছে৷ ঈশ্বর বলেন যে, মনের মধ্যে অসৎ কামনা করার মনোভাব প্রকাশ করার মানে হচ্ছে নিজের ব্যভিচার করা এবং এখন আমাদের চোখ প্রতিনিয়ত যেটি দেখে, সেটিই অশ্লীল৷ সুতরাং, মানুষেরা প্রতি সেকেন্ডে এবং প্রতি মিনিটে এই রকম পাপ কাজে লিপ্ত হচ্ছে৷ যদি এটিই কারণ হয় তাহলে তারা কিভাবে ঈশ্বরের কাছে অনুতাপ করে পবিত্র স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে? তারা কিভাবে ধার্মিক হবে? তাদের হৃদয় কি ধার্মিক হয়, যখন তারা অনেক দিন ধরে শৃঙ্খলতায় বাস করে এবং কোনভাবে পবিত্র হয় যখন তখন তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়? তাদের চরিত্র কি নম্র হয়? তারা কি আরও ধৈর্য্যশীল হয়? অবশ্যই না! তাহলে এর বিপরীতে কি ঘটতে পারে৷ 
যখন মানুষ বয়ঃপ্রাপ্ত হয়, তারা খুব রুক্ষ স্বভাব বিশিষ্ট এবং অধৈর্য্যশীল হয়৷ আবার বয়সের সাথে সাথে হরমোনের পরিবর্তন আসে, তাদের কিছু ধৈর্য্যও থাকে, তখন তাদের পরাজয় এবং তাদের স্থিরতাকে খুঁজে পেতে খুব কষ্ট হয়৷ এবং অন্যদের চিন্তার চেয়ে নিজেদের বিষয়ে বেশী চিন্তাশীল হয়৷ যেমনটি তাদের শারীরিক প্রতঙ্গগুলো খারাপ হয়, তাদের নিজেদের উপরে আত্ম নির্ভরশীলতা আরো বেশী শক্তিশালী হয়৷ সুতরাং, আমরা যখন বয়ঃপ্রাপ্ত হই, তখন আমরা আরো বেশি শিশুর মত হয়ে উঠি৷ এভাবে যদি বলি, যখন শৈশব থাকে, তখন তাকে চারপায়ে, যুবক বয়সে দুই পায়ে এবং বৃদ্ধ বয়সে তিন পায়ে হাঁটে, এর চেয়ে মানবকুলের মধ্যে বিপরীত কিছু নেই এবং প্রত্যেকে ঠিক এভাবেই হয়৷
খ্রীষ্টিয়ান মতবাদের মধ্যে, একটি মতবাদ আছে, “পবিত্রতার বৃদ্ধির মতবাদ”৷ এই মতবাদ অনুসারে, যখন খ্রীষ্টিয়ানেরা অনেক দিন ধরে যীশুর ক্রুশে মৃত্যুবরণের ঘটনাতে বিশ্বাস করে, প্রার্থনা ও অনুতাপ করতে সহয়তা করে, এবং প্রতিদিন প্রভুকে প্রচার করে, তাহলে তারা ক্রমে ক্রমে পবিত্র হয়ে উঠে৷ এটা দাবি করে যে, আমরা যত যীশুতে বিশ্বাস করে চলতে থাকব, আমরা ততই কাউকে না কাউকে সাহায্য করতে পারব, যে পাপ ছাড়া কিছুই করতে পারে না এবং যার কাজকর্মগুলো ভালো ওই সময়ে মৃত্যুর দিকে সহজে যাওয়া যায়, তাহলেই আমরা পুরোপুরিভাবে পবিত্র হতে পারতাম এবং সম্পূর্ণভাবে নিস্পাপ হতে পারতাম৷ এবং এটিও শিক্ষা দেয় যে, এর কারণ হল আমরা সবসময় অনুতাপী হওয়ার জন্য প্রার্থনা করি, আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের পাপসমূহকে দূর করতে হবে, যেমন আমরা কাপড় পরিস্কার করি৷ এবং সেজন্য যখন আমরা করি, শেষ সময়ে আমরা তাহলে ঈশ্বরের একজন প্রকৃত ধার্মিক লোক হব৷ এরকম অনেক খ্রীষ্টিয়ানরা আছে৷ কিন্তু এটি চিন্তা করার কল্পনাপ্রসূত চিন্তাশীল মানুষ তৈরী করার মাধ্যম৷
রোমীয় ৫:১৯ পদ বলে যে, “কারণ যেমন সেই এক মনুষ্যের অনাজ্ঞাবহতা দ্বারা অনেককে পাপী বলিয়া ধরা হইল, তেমনি সেই আর এক ব্যক্তির আজ্ঞাবহতা দ্বারা অনেককে ধার্ম্মিক বলিয়া ধরা হইবে।” এই অনুচ্ছেদ আমাদের বলে যে, একজনের বাধ্যতার মধ্য দিয়ে আমরা পাপমুক্ত হয়েছি৷ আপনি ও আমি যা গ্রহণ করতে পারতাম না, তিনি যীশু খ্রীষ্ট নিজে স্বয়ং এই জগতে এসে গ্রহণ করলেন৷ আপনি ও আমি যে কখনও নিজেরা নিজেদের পাপ থেকে মুক্তি পাব না, তা যীশু জানতেন বলে আমাদের পাপসমূহ তুলে নিলেন, যা আমি ও আপনি কেউ করতে পারতাম না৷ তিনি জগতে এসে, বাপ্তিস্মের দ্বারা, ক্রুশারোপনের এবং মৃত্যু থেকে পুনরায় জীবিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আপনাকে ও আমাকে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি দিয়েছেন৷ 
পিতা ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার মধ্য দিয়ে যীশু খ্রীষ্ট আমাদেরকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে মুক্তি দিয়ে পরিপূর্ণ করতে পারেন, যেটিকে আমরা পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার মাধ্যম হিসাবে জানি৷ মশীহ পিতা ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার মধ্য দিয়ে যীশু খ্রীষ্ট বাপ্তিস্ম গ্রহণ, ক্রুশে মৃত্যুবরণ এবং পুনরুত্থানের দ্বারা মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে আমাদেরকে আশীর্বাদ করেন৷ এভাবে আমাদেরকে পাপের মুক্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে যীশু পাপের সম্পূর্ণ মুক্তি দিলেন৷ এবং আমরা এখন বিশ্বাসের দ্বারা পরিত্রাণের মধ্য দিয়ে পরিত্রাণের বস্ত্র পরিধান করেছি৷ প্রভু আমাদের সম্পূর্ণরূপে পাপ থেকে মুক্তি দিলেন যেটি আমাদের নিজের কাজ ও শক্তি দিয়ে অর্জন করতে পারতাম না৷
অনেক মানুষ এখনও বিশ্বাস করে না যে, যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু বিকল্পভাবে তারা বিশ্বাস করে তিনি যে ক্রুশে রক্ত ঝরিয়েছিলেন এবং তারা তাদের নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে পবিত্র হতে চায়৷ অন্যভাবে বলা যায়, যীশু যদিও যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহনের মাধ্যমে সমস্ত মানুষের পাপ তুলে নিলেন, কিন্তু অনেক মানুষ এই সত্যে বিশ্বাস করে না৷ মথি ৩ অধ্যায় বলে যে, যীশু মানুষের জীবনের জন্য যে কাজটি প্রথমে করেছিলেন তা হল তিনি যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহন করেছিলেন৷ এটা অস্বীকার করা যায় না, কারণ এ বিষয়ে চারটি সুসমাচারে লেখা আছে৷
যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহনের মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন৷ সমগ্র মানুষের প্রতিনিধিত্বের বিষয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তারা মাতৃগর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে এবং এখনও অনেক মানুষ আছে যারা এ বিষয় অজ্ঞ এবং এ বিষয়টিকে বিশ্বাস করে না৷ এরকম মানুষেরা যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস ছাড়াই যীশুতে বিশ্বাস করে এবং তিনি যে ক্রুশে রক্ত ঢেলেছিলেন এ বিষয়ে তারা আগ্রহের সাথে প্রশংসা করে৷ যীশুর ক্রুশের উপরে মৃত্যু হওয়ার বিষয়ে তারা সহানুভুতি প্রকাশ করে, তারা তাদের ইচ্ছাকে জাগিয়ে, এবং তাদের প্রশংসায় তারা সব ধরণের হৈহুল্লোর করে এবং তাদের মুখে গানের আওয়াজ শোনা যায়,
Òআছে বল, বল, অদ্ভুত কার্য বল
হত মেষের শোণিতে বল;
আছে বল, বল, অদ্ভুত কার্য বল
হত মেষের শোণিতে বল৷” তারা ঈশ্বরের সাথে গমনাগমন করতে চেষ্টা করে৷ অন্যকথায়, তাদের ইচ্ছাতেই শক্তি জোগার, দৈহিক শক্তি এবং শক্তি জোগার করে৷ কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে যে, তারা যতই চেষ্টা করে, তারা পরিশেষে অনেক পাপ করে এবং তারা আরো বেশি কপটাচারী হয়৷
যখন যীশুতে বিশ্বাস আসে তখন যীশুর মহৎ দুটি কাজের গুরুত্বটি অবশ্যই আমাদের মনে আসে, সেগুলো কি? প্রথমটি হল এমন যে, যীশু বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিলেন এবং অন্যটি হল তিনি ক্রুশারোপিত এবং ক্রুশে সমস্ত মানুষের পাপ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে পাপের বেতন গ্রহণ করলেন৷ আর যাই হোক এই যে দুটি মহৎ কার্যে যে বিশ্বাস করবে, সে অবশ্যই ধার্মিক হতে পারবে৷ আমাদেরকে তাঁর ক্রুশের রক্ত ও যীশুর বাপ্তিস্ম উভয়ের বিশ্বাস, এবং তাঁর এই মুক্তির উপহার আমাদেরকে ঈশ্বরের গৃহের সদস্য করে তোলে৷ ঈশ্বরের অনুগ্রহের শক্তির দ্বারা আমরা নিস্কলঙ্ক মানুষ হিসাবে গঠিত হই৷ যীশু যে জল ও আত্মার সুসমাচার দিয়েছিলেন সেটি কখনও পরিবর্তিত হবে না যেমনটি সোনার উপরে খাঁটি বিশ্বাস থাকে৷ লাল, বেগুনি, নীল ও মিহি মসীনা বস্ত্রের মধ্যে দিয়ে জল ও আত্মার সুসমাচারের বিশ্বাস ও মৃত্যু দিয়ে আমরা সম্পূর্ণ পাপ থেকে মুক্তি পেয়ে তাঁর বিশ্বাসী হতে পেরেছি৷
 
 
ধর্মতত্ত্বের যুগ বনাম জল ও আত্মার সুসমাচারের যুগ
 
৩১৩ খ্রীষ্টাব্দে মন্ডলী শুরু হওয়ার সময়ে রোমীয় ঘোষণাপত্রে বলা হয় যে, খ্রীষ্টীয় ধর্ম সম্প্রসারণ হয়েছিল শুধুমাত্র যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ ছাড়াই ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন এই সুসমাচারটি ৩১৩ খ্রীষ্টাব্দে মন্ডলীর আরম্ভেই বলা হয় যে, খ্রীষ্ট ধর্মের অবনতির পূর্বে ধর্ম বিশ্বাস হারিয়েছিল, জল ও আত্মার সুসমাচার বিষয়ে বলিষ্ঠভাবে প্রচার করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে রোমীয় ধর্মাবলম্বীরা এসে পৃথিবীর পশ্চিম দিকে এই ধর্মের বিষয়ে শাসন শুরু করে৷ তারপর থেকে ১৪ শতাব্দী আরম্ভ করে , সমাজের মানুষের চিন্তার মধ্যে এই বিষয়ে সবকিছু প্রবেশ করে এবং ইতালীয় মানুষেরা মনুষ্যত্ব থেকে এই বিষয়ে প্রকাশ পেতে শুরু করে৷ এটাকেই রেঁনেসার যুগ বলা হয়৷
১৬ শতাব্দী থেকে ইতালির মানুষ সমাজ থেকে পৃথিবীর পশ্চিম দিক থেকে সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং মানবতান্ত্রিক পড়াশোনা করে, সেসব মানুষেরাই ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ে অনুসন্ধান করে বেড়াত, তারাই তাদের ব্যক্তিগত যুক্তি এবং একসার মধ্যে দিয়ে বাইবেল ব্যাখ্যা করে, তারা খ্রীষ্টীয় মতবাদ শুরু করে৷ কিন্তু এই কারণে তারা সত্যকে জানত না, এবং প্রতিনিয়ত বাইবেল বুঝত না৷ বাইবেলের মধ্যে এমন কঠিন অনুচ্ছেদ আছে এবং এর ফলে এরা নিজেদের ব্যক্তিগত মানবতান্ত্রিক বুদ্ধি দিয়ে খ্রীষ্টীয় মতবাদের মধ্যে দিয়ে বাইবেলকে ব্যাখ্যা করে৷ এইভাবেই ধর্মীয় মতবাদ, সৈনিক মতবাদ, মৌলবাদ, উদারনীতির ধর্মতত্ত্ব এমনকি ঈশ্বরের মৃত্যু সম্পর্কে উপনীত হয়৷
খ্রীষ্টীয় মন্ডলীর ইতিহাসটি অনেক বছর ধরে দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি বেশি দুরে ছিল না৷ তিনশ বছর থেকেই বাইবেল সম্পর্কে মান্ডলীক ভাবেই শিখতে থাকে৷ কিন্তু শীঘ্রই মধ্যযুগে এই বিষয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন খ্রীষ্টীয় যুগ অনুসরণ করা হয়৷ মুঘল যুগে বাইবেল পড়ার শাস্তি ছিল শিরচ্ছেদ এর দ্বারা মৃত্যু৷ এটি ১৭০০ বছর পর্যন্ত ধর্মতত্ত্বটি প্রচার শুরু করে এবং খ্রীষ্ট ধর্ম ১৮০০ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে এবং ধর্মতত্ত্ব রোমাঞ্চকর এবং কার্যকরভাবে শুরু হয় কিন্তু তখন থেকে অনেক মানুষ তাদের বিশ্বাসের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক শক্তির মধ্যে ধারনায় লিপ্ত হয়, তারা নিজেদের ব্যক্তিত্বে ঈশ্বরের ভিত্তিতে বিশ্বাস করে৷ 
কিন্তু এটাই কি সত্যি? আপনি কখন এতে বিশ্বাস করলেন, আপনার পাপসমূহ কি মুছে ফেলা হয়েছে? আপনি প্রতিদিন পাপ করেন৷ আপনি কি শুধু যীশুর ক্রুশে রক্তসেচনে বিশ্বাস করে এই সব পাপ থেকে মুক্তি পেতে পারেন? এটিই সত্য যে, যীশু আমাদের সমস্ত পাপ নিজের কাঁধে তুলে নিলেন এবং বাপ্তিস্মের দ্বারাই পাপমুক্ত করলেন৷ এখনও এমন অনেক লোক রয়েছে যারা মনে করে যে, প্রার্থনার মধ্যে অনুতাপ ও যীশুর ক্রুশের রক্তে বিশ্বাস করলেই তারা পাপ থেকে মুক্তি পায়৷ অনুতাপের মধ্যে দিয়ে প্রার্থনা করলেই কি আপনার হৃদয় ও বিবেকের পাপসমূহ মুছে যাবে? এটা অসম্ভব৷
আপনি যদি খ্রীষ্টিয়ান হন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই এই পরিত্রাণের সত্যটি জানতে হবে যে, যীশু খ্রীষ্ট জগতে এসেছিলেন যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করার মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নেওয়ার জন্য৷ আপনার সামনে এই সাক্ষ্যটি প্রমাণিত দেখানো হলেও আপনি কি এখনও এই সত্যটি অগ্রাহ্য করবেন? নাকি জানতে চেষ্টা করবেন, নাকি এতে বিশ্বাস করবেন? যদি তাই হয়, আপনি সত্যিকারভাবে বিশ্বাস করে বলতে পারবেন না যে, যীশু আপনার মুক্তিদাতা৷ যদি এটাই কারণ হয়, তাহলে আপনি যীশুকে পাপের জন্য উপহাস, তাঁর নাম নিয়ে অবজ্ঞা এবং নীচু করছেন৷ অন্যদিকে আপনি নিজের ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ঈশ্বরকে উপহাস, এবং পাপে সংযুক্ত হয়ে যীশুর নাম নিয়ে ঠাট্টা করছেন৷ যীশু জগতে এসেছিলেন আমাদের পাপগুলোকে মুছে দেবার জন্য এবং তাঁর এই আসার উদ্দেশ্য অনুসারেই আমাদের সমস্ত পাপ নিয়ে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি ক্রুশারোপিত ও পাপ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপের জন্য ক্রুশারোপিত হলেন৷
এটি স্বর্গীয়ভাবে সত্য হলেও, অনেক মানুষ এখনও বিশ্বাস করে না যে, যীশু খ্রীষ্টই পরিত্রাণ দাতা এবং এর ফলে ঈশ্বর আমাদের ক্ষমাহীন পাপ তুলে নিলেন৷ যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করার মধ্যে দিয়েই মুক্তির উপায়টি পাওয়া যায় যা যীশু খ্রীষ্ট এ জগতে এসে পূর্ণ করেছিলেন এবং তাঁর এই উপায়ে যে তাঁকে বিশ্বাস করবে না সে কখনও পরিত্রাণের বস্ত্র পরিধান করতে পারবে না৷ এখনও অনেক খ্রীষ্টিয়ান আছে যারা এই সত্যগুলোতে বাস্তবে বিশ্বাস করে না, শুধু তারা নামে নামেই যীশুতে বিশ্বাস করে যে, যীশু তাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, কিন্তু যদিও তারা নিজেদের চিন্তাধারা অনুসারে চলে এবং তারা এই দুই ধরনের সত্যে যে কোনো ভাবে বিশ্বাস করে৷ বর্তমান সময়ে, মানুষ তাদের ভুল মতবাদে বিশ্বাস করে তাদের হৃদয়কে আড়াল করে, তারা বিশ্বাস করে যে, তাদের সমস্ত পাপগুলো মুছে যাবে শুধুমাত্র যীশুর ক্রুশের রক্তে বিশ্বাস করলে৷
কিন্তু ঈশ্বরের মুক্তি দেওয়ার উত্তরে যেমনটি অনুসরণ করা হয়: যীশুর বাপ্তিস্ম, ক্রুশ এবং তাঁর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করেই পাপ থেকে অনন্তকালীন মুক্তি পাওয়া যায়৷ এখনও অল্প সংখ্যক মানুষকে পাওয়া যায়, যারা বিশ্বাস করে যে, যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছেন, যা তিনি পরিত্রাণের এই সত্যটি গ্রহণ করতে পারেন, নীচের এই সত্য সমীকরণের ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল বিশ্বাস হয়: “যীশুতে বিশ্বাস (ক্রুশ এবং তাঁর পুনরুত্থান) + অনুতাপের প্রার্থনা+ গুনাবলী কার্যাবলী = পবিত্রীকরণের দ্বারা পরিত্রাণ লাভ হয়৷” যারা এইভাবে এই বিষয়টিতে তাদের কথায় বিশ্বাস করে যে, তারা তাদের পাপ থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে, কিন্তু সত্যটি হল এটাই যে, তাদের অন্তঃকরণটি পাপের স্তুপে ভরা, যার জন্য এখনও তাদের হৃদয় পাপ থেকে ক্ষমাহীন৷
যারা যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশে শুধুমাত্র বিশ্বাস করে পরিশেষে তারা আরো বেশী পাপে পূর্ণ হয়৷ আপনি কেন এই সত্যে বিশ্বাস করেন না, যেমনটি বলা আছে যে, যীশু যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে আপনার সমস্ত পাপ মুছে ফেলেছেন; কিন্তু আপনি এর পরিবর্তে মানুষের মিথ্যা মতবাদে বিশ্বাস করেছেন, তারপরেও কি আপনি এমন অবস্থায় যীশুকে বিশ্বাস করবেন? আপনাকে অবশ্যই সে বিষয়ে বুঝতে হবে যে, সমাগম তাম্বুর প্রত্যেকটি শিটীম কাঠের তক্তা যাতে দুটি ফাঁকের মধ্যে বসানো যায়, এবং তক্তাগুলোর আসল জায়গায় দুটি রুপার চুঙ্গির নীচে বসানো যায়৷ জল ও আত্মার সুসমাচারটি আসলে সত্য (যীশুর ক্রুশের রক্ত এবং যীশু যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন)৷
যখন আমরা সমাগম তাম্বুর দরজা খুলি, এবং এর ফটকের মধ্যে দিয়ে যদি হেঁটে যাই, তবে প্রথমেই আমরা হোমবলির বেদী এবং তারপরে পিত্তলের প্রক্ষালনপাত্র দেখতে পাব৷ এ হোমবলির বেদীটির জায়গা কেমন? এ জায়গাটি এমন যেখানে হোমবলি দেওয়া হয়৷ এ জায়গাটি এমন যেখানে ইস্রায়েল জাতিরা পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পশু উত্সর্গ করত৷ এই পরিবর্তন করার জায়গাটি কেমন? এই জায়গাটি এমন যেখানে শরীর সমূহকে ধোয়া ও পরিস্কার করা হয়৷ অন্যকথায়, এই জায়গাটি সেই স্থান যেখানে পাপে পূর্ণ হৃদয়কে পরিস্কার করা হয়৷ একমাত্র বিশ্বাসের মাধ্যমে যখন আমরা এই অবস্থায় চলি তখন আমরা সমাগম তাম্বুর পর্দাটি খুলতে পারি এবং ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করতে পারি, এর পূর্বে নয়৷
সমাগম তাম্বুর দরজার পর্দাগুলো নীল, লাল, বেগুনি ও মিহি মসীনা বস্ত্রের দ্বারা তৈরী৷ এগুলো উত্তম পাকানো মসীনা কাপড়৷ নীল, লাল, বেগুনি সুতা দিয়ে নকশা করা হয়েছিল৷ ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে গেলে আমাদেরকে অবশ্যই এই সত্যে বিশ্বাস করতে হবে৷ আমরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারব, যখন আমাদের নীল, লাল, বেগুনি সুতা যেটি যীশু নিজের কাজের সাথে তুলনা করেছেন, সেটিতে আমরা বিশ্বাস করব৷ যীশু এই জগতে এসেছিলেন যাতে নীল, লাল, বেগুনি বস্ত্রের তাত্পর্য সিদ্ধিলাভ করে৷ নীল সুতাটির তাত্পর্য হল যীশু যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছেন এবং বেগুনী সুতাটির মধ্য দিয়ে বোঝায় যে যীশুই ঈশ্বর৷ লাল সুতার মানেটি আমাদের বোঝায় যে, যীশু আমাদের সমস্ত পাপের জন্য ক্রুশে রক্তসেচনের মধ্যে দিয়ে দোষী হয়েছেন৷
আপনার অন্তরে কি এখনও অক্ষত পাপ রয়েছে? অন্যকথায়, আপনার অন্তরের মধ্যে কি পাপ আছে? যদিও আপনি যীশুতে বিশ্বাস করেছেন, তারপরেও কি আপনার হৃদয়ে পাপ রয়েছে, তাহলে পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায় যে, আপনার মধ্যে বিশ্বাস নিয়ে সমস্যা রয়েছে৷ এজন্যই আপনি যীশুতে বিশ্বাস করেছেন, কারণ এটি একটি ধর্ম যার জন্য আপনার বিবেক পরিস্কার নেই এবং আপনার মধ্যে এখনও পাপ রয়েছে৷ কিন্তু আপনি আপনার বিবেক থেকে পরিস্কার হতে পারেন যদি নীল, লাল, বেগুনি ও মিহি মসীনা বস্ত্রের ঈশ্বরের সত্যে বিশ্বাস করেন৷
গভীর বিষয় হল আপনি এখনও নিজের সম্পর্কে পাপী হিসাবে বুঝতে পারেন৷ চরম দুর্ভাগ্যবশতঃ যীশুর সম্পর্কে আপনার ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে৷ কেন? কারণ যারা সত্যিই অনুভব করতে পারবে যে, তাদের মধ্যে এখনও পাপ রয়েছে এবং পাপের জন্য তারা নরকের দায়ী হয়েছে এবং পরিশেষে যখন তারা আত্মাতে দীনহীন হয় এবং তাহলেই তাদের মধ্যে মুক্তি পাওয়ার শব্দটি শোনা যাবে৷
যদি এখন আপনি সত্যিই ঈশ্বরের কাছ থেকে পাপের মুক্তি গ্রহণ করতে চান তাহলে আপনার হৃদয়কে অবশ্যই প্রস্তুত করতে হবে৷ এইরকম যাদের হৃদয় ঈশ্বরের সম্মুখে প্রস্তুত রয়েছে, তারা এইরকম বলে, “আমি অনেক দিন পর যীশুতে বিশ্বাস করেছি, কিন্তু এখনও আমার হৃদয়ে পাপ রয়েছে৷ যেহেতু পাপের বেতন মৃত্যু আমি নরকে না যেতে চাইলেও নরকেই নিক্ষিপ্ত হব৷ ঈশ্বরে আমি পাপের মুক্তি পেতে চাই৷” এইভাবে তারা ঈশ্বরের সম্মুখে নিজেদেরকে পাপে পূর্ণ ব্যক্তিরূপে বুঝতে পারে৷ যারা ঈশ্বরের বাক্য বুঝতে পারে, তারা বিশ্বাস করে যে, ঈশ্বর অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে বলেছেন – যাদের হৃদয় পরিস্কার তাদের ছাড়া ঈশ্বর কাউকে পরিপূর্ণতা দেবেন না৷ এইরকম মানুষেরা এই বাক্য শুনতে পাবে, নিজেদের চোখ দিয়ে বাক্যকে দেখে এবং নিশ্চিত করে এবং এটা করে তারা বুঝতে পারবে “আহা! আমি ভুলবশতঃ ঐ সময়গুলোতে বিশ্বাস করেছি৷ এবং অল্পসংখ্যক মানুষেরা একই ভুল করেছে৷” এবং জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করার মাধ্যমে,অন্যেরা বিবেচনা না করে বলুক না কেন, তারা তাদের পাপের ক্ষমা পেতে অসমর্থ হয়৷
আমি যখন চিন্তা করি পৃথিবীতে তখন কতজনই বা সন্দেহজনকভাবে বিশ্বাস করে এবং আমার হৃদয় খুব ব্যথা পায় যে, কত মানুষই ভুল পথে যাচ্ছে৷ ভাই ও বোনেরা, যে সুসমাচারের মধ্য দিয়ে প্রভু আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করেছেন সেটি যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ করার মাধ্যমে পূর্ণ করেছিলেন৷ যীশু বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ নিজের কাঁধে নিয়ে মুক্ত করলেন, এবং ক্রুশে রক্তসেচনের মধ্যে দিয়ে আমাদের সমস্ত নিন্দা দূর করলেন এবং এভাবেই তিনি সমস্ত পাপ থেকে পরিত্রাণ দিলেন৷ এখন থেকে আমরা অবশ্যই স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করব যে, প্রভু আমাদেরকে মুক্ত করলেন যাতে নীল, লাল, বেগুনি ও মিহি মসীনা বস্ত্রের মধ্যে দিয়ে আমরা সত্যে বিশ্বাস করি৷ আমি ব্যক্তিগতভাবে যীশু খ্রীষ্টের কাছে কৃতজ্ঞ হচ্ছি যে, তিনি আপনাকে ও আমাকে এইভাবে মুক্তি প্রদান করেছেন৷ আপনি ও আমি যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেছি আর এজন্যই আমরা সবসময় শান্তিতে থাকি এবং আমাদের হৃদয় কখনও ভেঙ্গে পড়ে না৷
 
 
যারা তাদের পাপ থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে, তাদের বিশ্বাসের মধ্যে দিয়ে অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচারে নির্ভর করতে হবে
 
এই পৃথিবীটা মন্দ মতবাদে ভরা, এমনকি পুনর্জন্মপ্রাপ্তদের হৃদয়ও প্রলোভিত ও কলুষিত হতে পারে৷ সেজন্য যীশু বলেছেন, “পরে তিনি তাঁহাদিগকে আজ্ঞা করিলেন, সাবধান, তোমরা ফরীশীদের তাড়ীর বিষয়ে ও হেরোদের তাড়ীর বিষয়ে সাবধান থাকিও।” (মার্ক ৮:১৫)৷ এমনকি আমরা কখনো গণনা করে বলতে পারব না যে, কতগুলো অবনত ঘটনা রূয়েছে, কলুষিত মানুষের মনগুলো একবার শোনা মাত্রই অবনতি ঘটে৷ আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে, পৃথিবীটি কি করে যৌন দুশ্চরিত্রতায় ভেসে রয়েছে৷ আমরা যারা বিশ্বাস করি আমাদেরকে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে জানতে হবে আমরা কোন ধরণের যুগে বসবাস করছি, আমাদের হৃদয়টি অনতিক্রমে যার জন্য প্রভু আমাদেরকে সেই সত্যটি দিয়েছেন৷ প্রমানপত্রের মানেটি হল জল ও আত্মার সুসমাচারের অপরিবর্তিত মুক্তি নিয়ে আসে৷ আমাদের অবশ্যই সত্যে বিশ্বাস করতে হবে জগতের মধ্যে কম্পন সৃষ্টি করেছে তা না হলে এটি পরিত্যাগ করুন৷ 
এই পৃথিবীটি সত্যের নয়৷ যদিও এখানে শয়তানের গহ্বরে ভরা৷ তারপরেও ঈশ্বর আমাদেরকে বলেছেন ধার্মিকতা পৃথিবীতে আসবে৷ এটি তাদের অপরিবর্তনশীল সত্যের সুসমাচারের বিশ্বাস করার মধ্যে দিয়ে শয়তানের কুকর্মকে এড়িয়ে পৃথিবীতে ধার্মিকতা বজায় রাখতে হয়৷ আমাদের শরীর চিন্তা ও হৃদয় কখনও ঈশ্বরের গৃহে অপ্রত্যয়ভাবে বাস করছে, এবং এখনও মুক্তির সুসমাচারের মধ্যে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি যার মাধ্যমে প্রভু আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি দিয়েছেন৷ 
সমাগম তাম্বুর দেওয়াল এবং স্তম্ভকে গঠনের সহয়তা করার জন্য উভয় ক্ষেত্রে শিটীম গাছের তক্তা ব্যবহার করা হয়েছিল যার উপরিভাগ সম্পূর্ণ সোনা দিয়ে মোড়ানো ছিল৷ এই কারণে রুপার চুঙ্গি দিয়ে তক্তাগুলোকে দাঁড় করানো হয়েছিল বলে সেইগুলি স্থায়ীভাবে আটকে ছিল এবং তা কখনও পড়ে যায় নি৷ আমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস দ্বারা জল ও আত্মার সুসমাচারে পুনর্জন্ম পেয়েছে যা অপরিবর্তনশীল তারাও সেই রকমই, যেমনটি শিটীম কাঠের তক্তার উপরে সোনার ছাচ ঢেলে দেওয়ার পর পরিবর্তন আসে নি, তেমনি কি আমাদের বিশ্বাস খাঁটি সোনার মত পরিবর্তন হবে না, আপনার এবং আমার জন্য শিটীম কাঠের আগুনে পুড়লেও পুড়ে যায় না, এইভাবেই আমরা সম্পূর্ণরূপে মুক্তি লাভ করেছি৷
এই কারণে আমরা ঈশ্বরের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ৷ আর যাই ঘটুক না কেন পাপ পৃথিবীতে উপচে উপচে পড়ছে৷ তারপরেও আমাদের ধার্মিকতার উপরে পরিস্কার বিবেক রয়েছে এবং আমাদের হৃদয়ে বিশ্বাসটি সোনার মত জ্বলজ্বল করবে৷ আমাদের ধার্মিকতা পৃথিবীতে বিশ্বাসের মধ্যে দিয়ে সমুদয় পৃথিবীতে পরিচালিত হবে৷ যত দিন না প্রভুর দিন ফিরে আসছে, এমনকি আমরা যখন তাঁর রাজ্যে প্রবেশ করব, তরপর আমাদের বিশ্বাসের মধ্যে দিয়ে তাঁকে প্রশংসা করব৷ আমরা সারা জীবন সেই প্রভুকে প্রশংসা করব যে প্রভু আমাদের পাপ থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ঈশ্বরের প্রশংসা করব যিনি এই বিশ্বাস আমাদেরকে দিয়েছেন৷
আমাদের সত্যপরায়ণ বিশ্বাসটি কখনও কোনো অবস্থাতে ভেঙ্গে পড়বে না কারণ এটি পাথরের উপর তৈরী৷ অতএব, আমরা এই পৃথিবীতে যত দিনই থাকি না কেন কোনো কিছুই আমাদেরকে ভেঙ্গে ফেলতে পারবে না যতদিন না আমরা প্রভুর কাছে যাচ্ছি, আমরা হৃদয় দিয়ে বিশ্বাসে নির্ভর করব৷ এমনকি পৃথিবীর সবকিছু গেলেও, এমনকি পৃথিবী পাপে ডুবে ধ্বংস হয়ে গেলেও আমরা এই পৃথিবীকে অনুসরণ করব না, কিন্তু আমরা ঈশ্বরের উপর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রাখব, আমরা তাঁর ধার্মিকতাকে অর্জন করব এবং আমরা যীশুর মহৎ দুটি মুক্তির কাজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে থাকব (যীশুর ক্রুশের উপর মৃত্যু এবং বাপ্তিস্ম), ঈশ্বরের সত্য অনুগ্রহ৷
আমি সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের অনুগ্রহে খুবই আশান্বিত যে, আমরা কিভাবে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেছি, আমি শুধু নিরতিশয়ভাবে কৃতজ্ঞ হতে পেরেছি যে, আমরা কিভাবে এই সুসমাচারকে জানতে পারলাম এবং বিশ্বাস করলাম এবং কিভাবে ঈশ্বরের সত্কর্ম করা শুরু করলাম৷ ঈশ্বর যেমন জল ও আত্মার সুসমাচারকে আমাদের জন্য সম্পূর্ণ মুক্তভাবে প্রদান করলেন, আমরা আমাদের প্রভুকে আমাদের বিশ্বাসের মধ্যে দিয়ে সকলেই তাঁকে ধন্যবাদ দিতে পারি এবং তিনি যতদিন না আসছেন আমরা এই সত্যকে প্রচার করতে থাকব৷
আমি ঈশ্বরকে এই সত্য দেওয়ায় জন্য ধন্যবাদ দিই৷