শিক্ষা

বিষয় ১২: প্রেরিতের বিশ্বাসসূত্রের বিশ্বাস

[11-29] <যাত্রাপুস্তক ২৮:১-৪৩> প্রধান যাজকের পোশাকে আধ্যাত্মিক নিগূঢ়তত্ত্ব গুপ্ত রয়েছে

<যাত্রাপুস্তক ২৮:১-৪৩> 
“আর তুমি আমার যাজক হইবার জন্য ইস্রায়েল-সন্তানগণের মধ্য হইতে তোমার ভ্রাতা হারোণকে ও তাহার সঙ্গে তাহার পুত্রগণকে আপনার নিকটে উপস্থিত করিবে। হারোণ এবং হারোণের পুত্র নাদব, অবীহূ, ইলীয়াসর ও ঈথামরকে উপস্থিত করিবে। আর তোমার ভ্রাতা হারোণের জন্য, গৌরব ও শোভার নিমিত্তে তুমি পবিত্র বস্ত্র প্রস্তুত করিবে। আর আমি যাহাদিগকে বিজ্ঞতার আত্মায় পূর্ণ করিয়াছি, সেই সকল বিজ্ঞমনা লোকদিগকে বল; যেন আমার যাজনার্থে হারোণকে পবিত্র করিতে তাহারা তাহার বস্ত্র প্রস্তুত করে। এই সকল বস্ত্র তাহারা প্রস্তুত করিবে- বুকপাটা, এফোদ, পরিচ্ছদ, চিত্রিত অঙ্গ রক্ষক বস্ত্র, উষ্ণীষ ও কটিবন্ধন; তাহারা আমার যাজনার্থে তোমার ভ্রাতা হারোণের ও তাহার পুত্রগণের নিমিত্তে পবিত্র বস্ত্র প্রস্তুত করিবে। তাহারা স্বর্ণ এবং নীল, বেগুনে ও লাল এবং সাদা মসীনা সূত্র লইবে। আর তাহারা স্বর্ণ এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রে শিল্পকারের কর্ম দ্বারা এফোদ প্রস্তুত করিবে। তাহার দুই মুড়াতে পরস্পর সংযুক্ত দুই স্কন্ধপটি থাকিবে; এইরূপে তাহা যুক্ত হইবে; এবং তাহা বদ্ধ করিবার জন্য বুনানি করা যে পটুকা তাহার উপরে থাকিবে, তাহা তৎসহিত অখন্ড এবং সেই বস্ত্রের তুল্য হইবে; অর্থাৎ স্বর্ণে এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রে হইবে। পরে তুমি দুইটি গোমেদ মণি লইয়া তাহার উপরে ইস্রায়েলের পুত্রদের নাম খোদাই করিবে। তাহাদের জন্মক্রম অনুসারে ছয় নাম এক মণির উপরে ও অবশিষ্ট ছয় নাম অন্য মণির উপরে খুদিত হইবে। শিল্পকর্ম ও মুদ্রা খোদাই করিবার ন্যায় সেই দুইটি মণির উপরে ইস্রায়েলের পুত্রদের নাম খোদাই করিবে, এবং তাহা দুই স্বর্ণস্থালীতে বদ্ধ করিবে। আর ইস্রায়েল-সন্তানদের স্মরণার্থক মণিস্বরূপে তুমি সেই দুই মণি এফোদের দুই স্কন্ধপটিতে দিবে; তাহাতে হারোণ স্মরণ করাইবার নিমিত্তে সদাপ্রভুর সম্মুখে আপনার দুই স্কন্ধে তাহাদের নাম বহিবে। আর তুমি দুই স্বর্ণাস্থালী করিবে, এবং নির্মল স্বর্ণ দ্বারা পাকান দুইটি মাল্যবৎ শৃঙ্খল করিয়া সেই পাকান শৃঙ্খল সেই দুই স্থালীতে বদ্ধ করিবে। শিল্পকারের কর্মে বিচারার্থক বুকপাটা করিবে; এফোদের কর্মানুসারে করিবে; স্বর্ণ এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রের দ্বারা তাহা প্রস্তুত করিবে। তাহা চতুষ্কোণ ও দোহারা হইবে; তাহার দৈর্ঘ্য এক বিঘত ও প্রস্থ এক বিঘত হইবে। আর াতাহ চারি পংক্তি মণিতে খচিত করিবে; তাহার প্রথম পংক্তিতে চুণী, পীতমণি ও মরকত; দ্বিতীয় পংক্তিতে পদ্মরাগ, নীলকান্ত ও হীরক; তৃতীয় পংক্তিতে পেরোজ, যিস্ম ও কটাহেলা; এবং চতুর্থ পংক্তিতে বৈদূর্য, গোমেদক ও সূর্যকান্ত; এই সকল স্ব স্ব পংক্তিতে স্বর্ণে আঁটা হইবে। এই মণি ইস্রায়েলের পুত্রদের নাম অনুযায়ী হইবে; মুদ্রার ন্যায় খোদিত প্রত্যেক মণিতে ঐ দ্বাদশ বংশের জন্য এক এক পুত্রের নাম থাকিবে। আর তুমি নির্মল স্বর্ণ দিয়া বুকপাটার উপরে মাল্যবৎ পাকান দুই শৃঙ্খল নির্মাণ করিয়া দিবে। আর বুকপাটার উপরে স্বর্ণের দুই কড়া গড়িয়া দিবে, এবং বুকপাটার দুই প্রান্তে ঐ দুই কড়া বাঁধিবে। আর পাকান শৃঙ্খলের দুই মুড়া সেই দুই স্থালীতে বদ্ধ করিয়া এফোদের সম্মুখে দুই স্কন্ধপটির উপরে রাখিবে। তুমি স্বর্ণের দুই কড়া গড়িয়া বুকপাটার দুই প্রান্তে এফোদের সম্মুখস্থ ভিতরভাগে রাখিবে। আরও দুই স্বর্ণকড়া গড়িয়া এফোদের দুই স্কন্ধপটির নিচে তাহার সম্মুখভাগে যোড়স্থানে এফোদের বুনানি করা পটুকার উপরে তাহা রাখিবে। তাহাতে বুকপাটা যেন এফোদের বুনানি করা পটুকার উপরে থাকে, এফোদ হইতে খসিয়া না পড়ে, এই জন্য তাহারা কড়াতে নীলসূত্র দিয়া এফোদের কড়ার সহিত বুকপাটা বদ্ধ করিয়া রাখিবে। যে সময়ে হারোণ পবিত্র স্থানে প্রবেশ করিবে, তৎকালে সদাপ্রভুর সম্মুখে নিয়ত স্মরণ করাইবার জন্য সে বিচারার্থক বুকপাটাতে ইস্রায়েলের পুত্রদের নাম আপন হৃদয়ের উপরে বহন করিবে। আর সেই বিচারার্থক বুকপাটায় তুমি ঊরীম ও তুম্মীম [দীপ্তি ও সিদ্ধতা] দিবে; তাহাতে হারোণ যে সময়ে সদাপ্রভুর সম্মুখে প্রবেশ করিবে, তৎকালে হারোণের হৃদয়ের উপরে তাহা থাকিবে, এবং হারোণ সদাপ্রভুর সম্মুখে ইস্রায়েল-সন্তানদের বিচার নিয়ত আপন হৃদয়ের উপরে বহিবে। আর তুমি এফোদের সমুদয় পরিচ্ছদ নীলবর্ণ করিবে। তাহার মধ্যস্থলে শিরঃ প্রবেশার্থে একটি ছিদ্র থাকিবে; বর্মের গলার ন্যায় সেই ছিদ্রের চারিদিকে তন্তুবায়ের কৃত ধারি থাকিবে, তাহাতে তাহা ছিঁড়িবে না। আর তুমি তাহার আঁচলায় চারিদিকে নীল, বেগুনে ও লাল দাড়িম করিবে, এবং চারিদিকে তাহার মধ্যে মধ্যে স্বর্ণের কিঙ্কিণী থাকিবে। ঐ পরিচ্ছদের আঁচলায় চারিদিকে একটি স্বর্ণকিঙ্কিণী ও একটি দাড়িম এবং একটি স্বর্ণকিঙ্কিণী ও একটি দাড়িম থাকিবে। আর হারোণ পরিচর্যা করিবার নিমিত্তে তাহা পরিধান করিবে; তাহাতে সে যখন সদাপ্রভুর সম্মুখে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করিবে, ও সেই স্থান হইতে যখন বাহির হইবে, তখন কিঙ্কিণীর শব্দ শুনা যাইবে; তাহাতে সে মরিবে না। আর তুমি নির্মল স্বর্ণের এক পাত প্রস্তুত করিয়া মুদ্রার ন্যায় তাহার উপরে ‘সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র’ এই কথা খোদাই করিবে। তুমি তাহা নীল সূত্রে বদ্ধ করিয়া রাখিবে; তাহা উষ্ণীষের উপরে থাকিবে, উষ্ণীষের সম্মুখভাগেই থাকিবে। আর তাহা হারোণের কপালের উপরে থাকিবে, তাহাতে ইস্রায়েল সন্তানেরা আপনাদের সমস্ত পবিত্র দানে যে সকল দ্রব্য পবিত্র করিবে, হারোণ সেই সকল পবিত্র দ্রব্যের অপরাধ বহন করিবে, এবং তাহারা যেন সদাপ্রভুর কাছে গ্রাহ্য হয়, এই জন্য উহা নিয়ত তাহার কপালের উপরে থাকিবে। আর তুমি চিত্রিত সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা অঙ্গ রক্ষিণী বুনিবে, ও সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা উষ্ণীষ প্রস্তুত করিবে; এবং কটিবন্ধনটি সূচি দ্বারা শিল্পিত করিবে। আর হারোণের পুত্রগণের জন্য অঙ্গ রক্ষক বস্ত্র ও কটিবন্ধন প্রস্তুত করিবে, এবং গৌরব ও শোভার জন্য শিরোভূষণ করিয়া দিবে। আর তোমার ভ্রাতা হারোণের ও তাহার পুত্রগণের গাত্রে সেই সকল পরাইবে, এবং তাহাদের অভিষেক ও হস্তপূরণ করিয়া তাহাদিগকে পবিত্র করিবে, তাহাতে তাহারা আমার যাজনকর্ম করিবে। তুমি তাহাদের উলঙ্গতার আচ্ছাদনার্থে কটি অবধি জঙ্ঘা পর্যন্ত শুক্ল জাঙ্গিয়া প্রস্তুত করিবে। আর যখন হারোণ ও তাহার পুত্রগণ সমাগম-তাম্বুতে প্রবেশ করিবে, কিম্বা পবিত্র স্থানে পরিচর্যা করণার্থে বেদির নিকটবর্তী হইবে, তৎকালে যেন অপরাধ বহিয়া না মরে, এই জন্য তাহারা এই বস্ত্র পরিধান করিবে। ইহা হারোণ ও তাহার ভাবী বংশের পালনীয় চিরস্থায়ী বিধি।”
 
 
প্রধান যাজকের পোশাক 
 
আজকে আমরা প্রধান যাজকের পোশাকে গুপ্ত আধ্যাত্মিক নিগূঢ় তত্ত্বের প্রতি লক্ষ্য করব। হারোণ এবং তাঁর ছেলেরা এই পোশাক পরিধান করতেন। প্রধান যাজকের পোশাকের মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস সহকারে ঈশ্বরের সঙ্কল্পকে স্বীকার করব, যেটি আমাদেরকে সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করেছে। 
ঈশ্বর মোশীকে তাঁর ভাই হারোণ এবং হারোণের ছেলেদেরকে ঈশ্বরের সেবায় উৎসর্গ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেন তারা যাজক হয়ে ঈশ্বরের কাজ করতে পারে। ঈশ্বর মোশীকে যে নকশা দেখিয়ে দিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবে তাদের পোশাকগুলো তৈরি করতেও তিনি তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। 
৪ পদে লেখা আছে, ঈশ্বর বললেন, “এই সকল বস্ত্র তাহারা প্রস্তুত করিবে- বুকপাটা, এফোদ, পরিচ্ছদ, চিত্রিত অঙ্গ রক্ষক বস্ত্র, উষ্ণীষ ও কটিবন্ধন; তাহারা আমার যাজনার্থে তোমার ভ্রাতা হারোণের ও তাহার পুত্রগণের নিমিত্তে পবিত্র বস্ত্র প্রস্তুত করিবে।” 
সর্বপ্রথমে, প্রত্যেক যাজককে তাঁর উলঙ্গতা ঢাকার জন্য সেই পোশাক এবং ঢিলে পায়জামা পরিধান করতে হতো। এই পোশাকগুলোতে যেন সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে এবং তাকে যেন অতিরিক্ত ঘর্মাক্ত হতে না হয়, এজন্য সেগুলি সাদা মসীনা সূতা দ্বারা তৈরি ছিল। এটার আধ্যাত্মিক অর্থ হচ্ছে যে, প্রধান যাজক তাঁর মাংসিক ইচ্ছাগুলো পরিত্যাগ করে, ঈশ্বর তাঁকে যে অনুগ্রহ এবং বিশ্বাস দান করেছেন, সেভাবে সে শুধুমাত্র ঈশ্বরের সেবা করবে। অন্যদিকে, প্রধান যাজক যখন তাঁর মাংসিক চিন্তা-ভাবনা এবং ইচ্ছাগুলো পরিত্যাগ করে বিশ্বাসের দ্বারা ঈশ্বরের মাধ্যমে স্থাপিত বলি উৎসর্গের নিয়মানুসারে প্রায়শ্চিত্তের বলি উৎসর্গ করবে, কেবলমাত্র তখনই ঈশ্বরের ইচ্ছা পূর্ণ হবে। ঈশ্বর তাঁর সঙ্কল্প অনুসারে প্রধান যাজকের পোশাক-পরিচ্ছদ তৈরি করেছিলেন এবং তাকে এগুলি পরিধান করিয়েছিলেন। 
এই পোশাকগুলির উপরে ঈশ্বর প্রধান যাজককে একটি নীল গাউন পরিধান করিয়ে দিয়েছিলেন। আর সেই নীল গাউনের উপরে তিনি তার এফোদটি পরিধান করতেন, এবং এরপরে তিনি বুকপাটা পরিধান করতেন। প্রধান যাজকের বুকের উপরে স্থাপিত বুকপাটাটি দ্বিগুণ ভাজ করা একটি মোটা কাপড় দিয়ে এবং নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা সূতা দিয়ে সুচারুভাবে বোনা ছিল, এবং দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে উভয়দিকেই এর আকার ছিল এক বিঘত। এই বুকপাটাটির উপরে বারোটি মূল্যবান পাথর বসানো ছিল এবং এই পাথরগুলোতে ইস্রায়েলের বারো বংশের নাম খোদাই করা ছিল। 
তিনি সাদা মসীনা কাপড়ের তৈরি পাগড়ি পরতেন। খাঁটি সোনার পাতে এই কথাটি লেখা ছিল “সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র” এবং এটি পাগড়ির সামনের দিকে নীল সূতা দ্বারা বাঁধা ছিল। এগুলি হচ্ছে পোশাক-পরিচ্ছদ, সোনার পাত এবং পাগড়ির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা, যেগুলি প্রধান যাজক পরতেন। 
প্রধান যাজকের অধিকাংশ পোশাকই সোনালী, নীল, বেগুনে লাল এবং সাদা মসীনা সূতা দিয়ে তৈরি ছিল। এমনকি প্রধান যাজকের বুকপাটাটিও। আর এই বুকপাটার উপরে বারোটি মূল্যবান পাথর বসানো ছিল, এবং এই পাথরগুলোতে ইস্রায়েল জাতির বারো বংশের নাম খোদাই করা ছিল। 
প্রধান যাজকের উপরে দায়িত্বগুলি এভাবে অর্পণ করা ছিল : ইস্রায়েলের লোকদের মন্ডলী থেকে তাদের বলি উপহারগুলি তাঁকে গ্রহণ করতে হতো, তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বলি উপহারগুলির মাথায় হস্তার্পণের মাধ্যমে তাদের পাপগুলো সেগুলিতে অর্পন করতে হতো, সেটিকে হত্যা করতে হতো, এবং এই বলি প্রাণীর রক্ত ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করতে হতো। অন্যদিকে, ঈশ্বরের ব্যবস্থা অনুসারে বলি উৎসর্গ করে প্রধান যাজক তাঁর লোকদের পাপগুলো দূর করতেন। ইস্রায়েল জাতির পক্ষ হয়ে, প্রধান যাজক ঈশ্বরের সম্মুখে বলি উপহারটির মাথায় হস্তার্পণ করতেন, এটির গলা কেটে রক্তপাত করতেন, এবং হোম-বলি উৎসর্গের বেদীর শিংগুলিতে সেই রক্ত রাখতেন। তারপরে তিনি পবিত্রতম স্থান, অনুগ্রহ সিংহাসনের উপরে এবং সম্মুখে সেই রক্ত ছিটিয়ে দিতেন। সেই বলি উপহারটির মৃত মাংস সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে ফেলার জন্য তাবুর বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো (লেবীয়পুস্তক ১৬:৩-২৮)। আর এভাবেই প্রধান যাজক বলি উৎসর্গ করতেন। এভাবে, ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার জন্য বলি উৎসর্গ করার মাধ্যমে ঈশ্বরের ক্রোধ প্রশমিত করার জন্য প্রধান যাজক তাঁর ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করতেন। অন্যদিকে, প্রধান যাজক ঈশ্বর এবং তাঁর লোকদের মধ্যে মধ্যস্থকারীর ভূমিকা পালন করতেন। 
এভাবে, যীশু মশীহ্ স্বর্গরাজ্যের প্রধান যাজক, এবং ঈশ্বর মানবজাতির মধ্যে মধ্যস্থকারী হয়েছেন। যোহন বাপ্তাইজকের কাছে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করে মানবজাতির সমস্ত পাপ তাঁর দেহে তুলে নিয়েছিলেন, এবং ক্রুশের উপরে তাঁর দেহ দান করে উৎসর্গীকৃত হয়ে, মশীহ সমগ্র মানবজাতিকে পাপ এবং মৃত্যু থেকে উদ্ধার করেছেন। পুরাতন নিয়মের যুগে, প্রধান যাজক বলি উৎসর্গ করে তাঁর লোকদের পাপগুলো মোচন করতেন, কিন্তু নতুন নিয়মের যুগে, যীশু মশীহ্ সমগ্র মানবজাতির পাপগুলো দূর করে অনন্তকালীন প্রধান যাজকের কাজ সম্পন্ন করেছেন (ইব্রীয় ৭-৯ অধ্যায়)। 
আর এই নতুন নিয়মের যুগে, ঈশ্বর প্রধান যাজকের দায়িত্বগুলো ধার্মিকদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যারা নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা বস্ত্রে গুপ্ত সত্যের মাধ্যমে তাদের সমস্ত পাপ থেকে ধৌত হয়েছে। আর এজন্যই প্রধান যাজকের পাগড়ির সোনার পাতে এটা খোদাই করা ছিল যে, “সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র”। ঠিক সেভাবে, প্রধান যাজকের পোশাক-পরিচ্ছদগুলি সুস্পষ্টভাবে সুসমাচারের বিষয়ে প্রমাণ করে, যেটি সমগ্র মানবজাতির পাপগুলো ধৌত করেছে।
প্রধান যাজকের গাউন নীল সূতা দিয়ে বোনা ছিল। সর্বোপরি, এই নীল গাউন, যীশু যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, সেটির সাথে সম্পর্কযুক্ত। প্রধান যাজকের পোশাকগুলি যেমন নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা সূতা ও সোনালী সূতা দিয়ে বোনা ছিল, তেমনি সেই পোশাকগুলি ছিল জাকজকম এবং এর চারটি রংগুলি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। নীল গাউনটির নিম্নভাগে ডালিম ফল বোনা ছিল, এবং এগুলির ফাঁকে ফাঁকে সোনার ঘন্টা লাগানো ছিল। প্রধান অনুচ্ছেদের ৩৩ পদে লেখা আছে, “আর তুমি তাহার আঁচলায় চারিদিকে নীল, বেগুনে ও লাল দাড়িম করিবে, এবং চারিদিকে তাহার মধ্যে মধ্যে স্বর্ণের কিঙ্কিণী থাকিবে।” তাই, প্রধান যাজক যখন পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতেন এবং তার লোকদের জন্য বলি উৎসর্গ করতেন, তখন সেই ঘন্টাগুলোর শব্দ শুনে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ইস্রায়েলের লোকজন বুঝতে পারত যে, তিনি বলি উৎসর্গ করছেন। 
এই সবগুলিই নতুন নিয়মের জল ও আত্মার সুসমাচারের সত্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং এগুলি পরস্পরের সাথে মিলপূর্ণ। প্রধান যাজক লোকদের সমস্ত পাপ ধৌত করতেন, এবং আমাদেরকে ঈশ্বরের ইচ্ছা উপলব্ধি করাতে তিনি এই পোশাকগুলি পরতেন এবং এই দায়িত্বগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতেন। এই নতুন নিয়মের যুগে, ঈশ্বরের লোক যারা আজকের প্রচারক, তারা অন্যদেরকে তাদের পাপ থেকে ধৌত করতে কী করে? এই দায়িত্বগুলি পালন করতে, তাদেরকে প্রথমে নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা বস্ত্রের নিগূঢ়তত্ত্বে প্রকাশিত জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মাধ্যমে অবশ্যই পাপের ক্ষমা গ্রহণ করতে হবে। ঠিক সেভাবে, প্রধান যাজকের পোশাকগুলি আমাদেরকে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে, আমাদের সমস্ত পাপ সুসমাচার দ্বারা ধৌত হয়েছে। 
আর এই বর্তমান যুগে দ্বিতীয়তঃ, পাপের সম্বন্ধে লোকদের বিবেক পরিষ্কার করতে এবং তাদেরকে পবিত্র করতে, আমাদের মতো ধার্মিকদেরকে আমাদের যাজকীয় দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করতে হবে। আর এজন্যই প্রধান যাজকের লম্বা ঢিলা বহির্বাসের জন্য একটি সোনার পাত তৈরি করা হয়েছিল এবং এতে খোদাই করা ছিল যে, “সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র”। 
প্রধান যাজক মাথায় যে পাগড়িটি পরতেন, সেটির সাথে নীল দড়ি দিয়ে সোনার পাতটি সংযুক্ত ছিল, যেটিতে এটি খোদাই করা ছিল যে, “সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র”। লোকেরা প্রধান যাজকের মাথার দিকে তাকিয়ে সোনার পাতটি এবং নীল, বেগুনি, লাল এবং সাদা মসীনা সূতার তৈরি জমকালো বহির্বাসের সাথে সংযুক্ত নীল দড়িটি দেখতে পেত; যার ফলে তারা প্রথম দেখাতেই প্রধান যাজককে নির্ণয় করতে পারত। এটি আমাদেরকে দেখায় যে, প্রধান যাজক সবসময় নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা সূতার মাধ্যমে পাপ ধৌত করার কাজটি করতেন। 
 
 
ঈশ্বরের দাসদের ন্যায়বিচারক আমাদের অবশ্যই মান্য করতে হবে 
 
প্রধান যাজক যখন পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁকে ন্যায়বিচারের বুকপাটার উপরে লেখা ইস্রায়েলের বারো বংশের নাম তাঁর হৃদয়ে বহন করতে হতো। ঠিক একইভাবে, এই জগতের পাপীদের মধ্যে যারা ঈশ্বরকে গ্রহণ করতে চায়, তাদের আত্মা আমাদের হৃদয়ে বহন করতে হবে, এবং তাদের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে। ঈশ্বর প্রধান যাজকের বুকপাটাতে মোশীকে ঊরীম ও তুম্মীম নামে দুটি মূল্যবান পাথরও বসাতে বলেছিলেন। আজকের অনুচ্ছেদের ৩০ পদে বলা আছে, “আর সেই বিচারার্থক বুকপাটায় তুমি ঊরীম ও তুম্মীম [দীপ্তি ও সিদ্ধতা] দিবে; তাহাতে হারোণ যে সময়ে সদাপ্রভুর সম্মুখে প্রবেশ করিবে, তৎকালে হারোণের হৃদয়ের উপরে তাহা থাকিবে, এবং হারোণ সদাপ্রবুর সম্মুখে ইস্রায়েল-সন্তানদের বিচার নিয়ত আপন হৃদয়ের উপরে বহিবে।” 
ঊরীম ও তুম্মীম নামে পাথর দু’টির আক্ষরিক অর্থ হল “দীপ্তি এবং সিদ্ধতা”। অন্যদিকে, ইস্রায়েলের লোকদেরকে ন্যায্য এবং সঠিকভাবে বিচার করার জন্য প্রধান যাজককে ঈশ্বর একটি প্রফুল্ল হৃদয় দিয়েছিলেন। প্রধান যাজক যেন ঈশ্বরের লোকদের জীবনের ভাল-মন্দ বিচার করতে পারেন, এজন্য ঈশ্বর তাকে সেই ক্ষমতা এবং জ্ঞান দিয়েছিলেন। তাছাড়া, প্রধান যাজককে ইস্রায়েলীয়দের আত্মিক জীবনের ভাল-মন্দ বিবেচনা করতে হতো। 
আবার এই বর্তমান যুগে, ঈশ্বর তাঁর প্রত্যেক দাসকে কারো ভাল-মন্দ এবং কেউ পাপের ক্ষমা গ্রহণ করেছে কি না, সেটা বিচার করার ক্ষমতা দেন। ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতার দ্বারা তাঁর দাসেরা প্রকৃত সুসমাচার কি, প্রকৃত পাপের ক্ষমা কি, ঈশ্বরের সন্তানদের কিভাবে ধার্মিকভাবে জীবন যাপন করা উচিত, এবং কেউ পুণরায় জন্ম গ্রহণ করেছে কি না সেটা নির্ভুলভাবে বিচার করে। যার ফলে, ঈশ্বরের প্রত্যেক লোককে তাঁর বিচার এবং নেতৃত্ব মান্য করতে হতো। তাদেরকে এটা উপলব্ধি করতে হতো। তাদেরকে এটা উপলব্ধি করতে হতো যে, ঈশ্বরের দাসদের ন্যায্য বিচার গ্রহণ করতে অস্বীকার করাটা হচ্ছে ঈশ্বরের সঙ্কল্পকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করা। সুতরাং, আজকের প্রধান যাজকদের মতো, ঈশ্বরের দাসদের বিচারের সম্মুখে ইস্রায়েলের লোকদেরকে আত্মসমর্পণ করতে হতো। 
ঠিক সেভাবে এই বর্তমান যুগে, ঈশ্বর তাঁর দাসদের কাছে “ভাল-মন্দ” বিচার করার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। অতএব, তাঁর মন্ডলীর নেতারা যা করছেন, সেটা আমাদেরকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে এবং তাদের কাজগুলির সাথে আমাদের হৃদয় একত্রিত করতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, আমাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে বিশ্বাস সহকারে তাদের ন্যায়বিচার এবং নেতৃত্ব অনুসরণ করাটাই আমাদের পক্ষে উপযুক্ত। আমাদের শুধুমাত্র এটাই চিন্তা করা উচিত না যে, “তিনি একজন প্রধান যাজক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বলে তিনি এরকম করছেন, কিন্তু তিনিও আমাদের মতোই এক।” কিছু লোক হয়তো এটা চিন্তা করতে পারে যে, “আমি আমাদের ধর্মযাজকের চরিত্র পছন্দ করি না! তার ব্যক্তিত্বটা সহ্যের অতিরিক্ত; তার সিদ্ধান্তগুলো স্বৈরাচারী। সুতরাং, যদিও আমি তার সুসমাচার প্রচারে বিশ্বাস করি, তবুও তার চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী গৃহীত সিদ্ধান্তে একমত হতে পারি না। তার থেকে আমারও তো একটি ভিন্ন পরিকল্পনা থাকতে পারে।” লোকেরা তাদের রক্ত-মাংসের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রধান যাজকদের প্রতি লক্ষ্য করলে তারা ভুল সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারে। কিন্তু, এধরণের অন্যায্য বিচার পরিহার করা উচিত। 
ঈশ্বরের দাস, যারা পরিত্রাণ হিসেবে নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা বস্ত্রে বিশ্বাস করেন, আমরা যেমন ঈশ্বরকে মান্য করি, তেমনি তাদেরকেও আমাদের অবশ্যই মান্য করা উচিত। কিন্তু, কেন? কারণ, তারা নিজেদের চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী বিচার করেন না, কিন্তু তারা তাদের বিশ্বাসের দ্বারা বিচার করেন, যেটি ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করে। অন্যভাবে বলতে গেলে, কারণ আজকের ধর্মযাজকেরা ঈশ্বরের দীপ্তি এবং সত্যে বিচার করেন, আর এটি ঈশ্বরের বিচার এবং তাঁর সিদ্ধান্ত। তারা যদি তাদের নিজেদের সংকীর্ণ চিন্তা-ভাবনা থেকে অন্যায্য প্রভাব ছাড়া সিদ্ধান্ত না গ্রহণ করে, ঈশ্বরের বাক্যের ভিত্তিতে এবং জল ও আত্মার সুসমাচারে তাদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাহলে তাদের কৃত বিচার নির্ভুল। ন্যায্য হয়। তাদের সিদ্ধান্তগুলো যদি ঈশ্বরের বাক্য এবং তাঁর সঙ্কল্প থেকে ভিন্ন না হয়, তবে আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, তাদের সিদ্ধান্তগুলোই ঈশ্বরের সিদ্ধান্ত। 
এভাবে, প্রধান যাজকের কার্যালয় লোকদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। পুরাতন নিয়মের যুগের মতো এই বর্তমান যুগে, যিনি ঈশ্বরের লোকদেরকে পরিচালিত করেন, তিনি প্রধান যাজক ব্যতিরেকে আর কেউ নন। ইস্রায়েলের মধ্যে এমন কোন রাজা ছিল না, যিনি প্রধান যাজক থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে জাতিকে পরিচালনা করতে পেরেছিলেন। কারণ, ইস্রায়েলের রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি ছিল প্রকৃতপক্ষে ধর্মতাত্বিক এবং এর সমগ্র জনগণ প্রধান যাজক কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসরণ করত। এখন আধ্যাত্মিক কাজকর্মে, ঈশ্বরের লোকদেরকে তাঁর বাক্যানুসারে, তাঁর মন্ডলীতে ঈশ্বর কর্তৃক নিযুক্ত তাঁর দাসদের নির্দেশনাতে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে এবং সেগুলি অনুসরণ করতে হবে। অতএব, প্রধান যাজকদেরকে ঈশ্বরের বাক্য এবং তাঁর সংকল্পের ভিত্তিতে অবশ্যই তাঁর ইচ্ছানুসারে সবকিছুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। 
প্রকৃতপক্ষে, প্রধান যাজকের পোশাক-পরিচ্ছদগুলি আমাদের অনেক বিষয়ে শিক্ষা দেয়। আমাদেরকে প্রথমে অবশ্যই নীল, বেগুনি, লাল এবং সাদা মসীনা সূতার আধ্যাত্মিক অর্থ জানতে হবে যেগুলি দ্বারা প্রধান যাজকের পোশাক তৈরি ছিল। আমরা নীল, বেগুনি, লাল এবং সাদা মসীনা বস্ত্রের সত্য সম্পর্কে প্রায় শিখে ফেলেছি। প্রধান যাজকের পোশাকগুলির মাধ্যমেও ঈশ্বর আমাদেরকে বলতে চেয়েছেন যে, নীল, বেগুনি, লাল এবং সাদা মসীনা বস্ত্রে গুপ্ত সত্য এবং এতে বিশ্বাসকারী বিশ্বাস আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়। এই সূতাগুলোই হচ্ছে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল উপকরণ যেগুলি লোকদের পাপের ক্ষমা সম্পর্কে দেখায়। ঈশ্বর যে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং তাঁর রক্ত সেচন করেছিলেন, এটা প্রমাণ করে যে, কেবলমাত্র জল ও আত্মার সুসমাচারই এই পৃথিবীর প্রত্যেকের সমস্ত পাপ মোচন করেছেন। নীল এবং লাল সূতা যেমন আমাদেরকে শিখিয়েছে যে, জল ও আত্মার সুসমাচারই হচ্ছে সেই সত্য, যেটি আমাদের প্রকৃতরূপে প্রায়শ্চিত্ত করেছে, তাই এর নিগূঢ়তত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই পূর্ণজ্ঞান থাকতে হবে। আমরা যদি সত্যিকারভাবে সঠিকভাবে এটা জানি এবং এতে বিশ্বাস করি, তাহলে আমরা চিরতরে আমাদের পাপ থেকে ধৌত হব এবং অনন্ত জীবন পাব। যাহোক, আমাদের অবশ্যই সেই বিশ্বাস থাকতে হবে, যেটি জল ও আত্মা এবং রক্তের সুসমাচার দ্বারা সাধিত সত্যে বিশ্বাস করে।
 
 
আমাদেরকে অবশ্যই নীল, বেগুনে এবং লাল সূতাতে আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে 
 
নীল, বেগুনে এবং লাল সূতা সম্পর্কে যদি আমাদের প্রকৃত জ্ঞান না থাকে, আর আমরা যদি এতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস না করি, তাহলে আমরা প্রকৃত সুসমাচার প্রতিষ্ঠা করতে পারব না, এমনকি এই সুসমাচার বিকৃতও হতে পারে। সময়ানুক্রমে এই পৃথিবীর ধর্মগুলো বাদের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু প্রধান যাজকের পোশাকের রংগুলির মাধ্যমে ঈশ্বর নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার প্রকৃত অপরিবর্তনীয় সত্য আমাদেরকে দেখিয়েছেন। প্রধান যাজকের পোশাক পরিচ্ছদ, সমাগম-তাম্বুতে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং পবিত্র স্থানে বলি উৎসর্গের নমুনার মাধ্যমে ঈশ্বর আমাদের জন্য তাঁর ভালোবাসা এবং সংকল্পের প্রকৃত প্রমাণ দিয়েছেন। অতএব, আমাদেরকে অবশ্যই চিরন্তন সত্যে দৃঢ়ভাবে আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে, যেটি নীল, বেগুনে ও লাল সূতার সুসমাচার হিসেবে আমাদের মাঝে এসেছে। সময় যদিও পরিবর্তিত হয়, তবুও জল ও আত্মার সুসমাচার থেকে আমাদের বিশ্বাস কখনো পরিবর্তন করব না। এই বিশ্বাস হচ্ছে এমন একটি জিনিস, যেটি নীল, বেগুনি এবং লাল সূতাতে প্রকাশিত সত্য পরিত্রাণ বিশ্বাস করে। 
নীল, বেগুনি এবং লাল সূতার সুসমাচারে যে আমরা বিশ্বাস করি, সেটি আমরা কিভাবে পরিবর্তন হতে দিতে পারি? ঈশ্বর যদি আমাদেরকে বলেন যে, তিনি নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার সুসমাচারের দ্বারা তিনি আমাদেরকে রক্ষা করেছেন, তাহলে এটাই সত্যি। পুরাতন নিয়মে, ঈশ্বর হস্তার্পণ এবং রক্তপাত ঊভয়টির মাধ্যমে পাপীদের দোষ-ত্রুটিগুলো মোচন করতেন, কিন্তু আজকে এবং এই যুগেও, যোহন বাপ্তাইজকের কাছ থেকে যীশু যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, সেটি এবং তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যুর দ্বারা তিনি পাপের প্রকৃত ক্ষমা সম্পন্ন করেছেন। জল ও আত্মার সুসমাচারের দ্বারা, ঈশ্বর এই সমগ্র পৃথিবীর সমস্ত পাপীদের দোষ-ত্রুটিগুলো মোচন করেছেন। 
এটি কতটা নিশ্চিত! ঈশ্বর বাইবেলে ‘বিশ্বাস’ চিহ্নিত করেছেন। যাহোক, প্রধান যাজকের পোশাকগুলোতে ব্যবহৃত নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার পাশাপাশি সোনালী সূতা জল ও আত্মার সুসমাচারে আমাদের বিশ্বাসের অত্যাবশ্যকতাকে নির্দেশ করে। কারণ, ঈশ্বর এই পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেটি আমাদের সমস্ত পাপ দূর করে এবং এটা পরিবর্তন করার কোন নির্দেশ তিনি আমাদেরকে দেন নি, যদিও মাঝে মাঝে আমাদেরকে কিছু কঠিন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়, তবুও আমরা এখন শান্তিতে আছি। আর এটাতে নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার কারণেই যেটি ঈশ্বর আমাদেরকে দেখিয়েছেন। 
 
 
প্রধান যাজকের কোমর-বন্ধনী 
 
প্রধান যাজকের পোশাকগুলির মধ্যে কোমর-বন্ধনী ছিল একটি। প্রধান যাজক তার এফোদের উপরে যে বন্ধনীটা পরতেন, সেটিও সোনালী, নীল, বেগুনে এবং লাল সূতা দিয়ে তৈরি ছিল। এফোদের বন্ধনীটা হচ্ছে শক্তির প্রতীক। বাইবেল যেমন বলে, “অতএব সত্যের কটিবন্ধনীতে বদ্ধকটি হইয়া, ধার্মিকতার বুকপাটা পরিয়া দাঁড়াইয়া থাক” (ইফিষীয় ৬:১৪)। প্রধান যাজকের কোমর-বন্ধনীটা সেই শক্তিকে নির্দেশ করে, যেটি সুসমাচারের সত্য থেকে এসেছে। অন্যদিকে, এটি আমাদেরকে বলে যে, নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা সূতার সত্যে বিশ্বাসী বিশ্বাস আমাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা পেতে আমাদের সক্ষম করে। অতএব, নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা সূতাতে প্রকাশিত সত্য থেকে বিচ্ছিন্ন কোন মিথ্যা সুসমাচারে বিশ্বাস করাটা বৃথা। 
যারা মাংসিকভাবে দূর্বল, তারাও ঈশ্বর প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা তাদের সমস্ত পাপ থেকে সম্পূর্ণভাবে ধৌত হতে পারেন, কারণ ঈশ্বর কর্তৃক সাধিত পাপক্ষমার সত্যের দ্বারা এই জগতের সমস্ত পাপ যীশু খ্রীষ্টেতে স্থানান্তরিত হয়েছে (মথি ৩:১৫; লেবীয়পুস্তক ১৬:১-২২)। যাহোক, যারা বিশ্বাস করে যে, নীল, বেগুনে এবং লাল সূতাতে প্রকাশিত যীশুর কাজগুলি তাদেরকে রক্ষা করেছে, তাহলে তাদের দেহ এবং ইচ্ছাশক্তি দূর্বল হওয়া সত্ত্বেও তারা পুণরায় বিশ্বাসী হতে পারেন। স্বর্গেল প্রধান যাজক, যীশু খ্রীষ্ট কর্তৃক আমাদেরকে প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমাচারে আমরা যখন থাকি, তখন খ্রীষ্টের ভালোবাসা থেকে কে আমাদেরকে পৃথক করতে পারে? আমরা যখন নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা সূতাতে প্রকাশিত সত্যে বিশ্বাস করব, তাঁর উত্তম পরিত্রাণ কেবলমাত্র তখনই আমাদের হতে পারে। 
যাজজদের পক্ষে তাদের যাজকীয় দায়িত্বগুলি পালন করার জন্য, পবিত্র স্থানে প্রদর্শিত বলি উৎসর্গের নিয়ম থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষের তৈরি কোন ধর্মীয় শিক্ষা তাদের অনুসরণ করা উচিত নয়। ঠিক সেভাবে, সত্য সুসমাচার থেকে ভিন্ন কোন সুসমাচার আজকের ঈশ্বরের দাসদের গ্রহণ করা উচিত নয় (গালাতীয় ১:৬-৯)। যারা এধরণের মিথ্যা সুসমাচার প্রচার করে, তারা যত ভালোভাবেই তাদের উপদেশ দিক না কেন সেটা কোন বিষয় না, যেহেতু তারা পবিত্র স্থানে প্রকাশিত জল ও আত্মার সুসমাচারে ঈশ্বরের প্রকৃত সাক্ষ্য বহন করে না, তাই তারা হারিয়ে যাওয়া আত্মাগুলোর জন্য কোন সাহায্য দিতে পারে না। তারা হচ্ছে প্রতারক এবং ভ্রান্ত উপদেশক। স্বর্গের প্রধান যাজক যীশু খ্রীষ্টকে আমরা যখন আমাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করি, তখন সমাগম-তাম্বুর নিয়মে প্রকাশিত হস্তার্পণ এবং রক্তসেচনের বলি উৎসর্গের নিয়মকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। আমাদেরকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, এই পৃথিবীতে অনেক মিথ্যা সুসমাচার আছে। তাছাড়া, কে সুসমাচার প্রচার করছে, সেটা কোন বিষয় না, কিন্তু ঈশ্বরের বাক্যের ভিত্তিতে কেউ যদি জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করে, তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই সেটা শুনতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে। 
আজকের খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায়ের যে অনেকগুলো সমস্যা রয়েছে, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, বর্তমানে এমন অনেক আধ্যাত্মিক প্রচারক রয়েছে, যারা জল ও আত্মার সুসমাচার ভালভাবে না জানা সত্ত্বেও তাদের যাজকীয় দায়িত্বগুলি সুষ্ঠুভাবে পালন করার দাবি করে। ঈশ্বরের সম্মুখে একজন ভাল যাজক হওয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে। কেবলমাত্র যাদের এই বিশ্বাস রয়েছে, তারাই ঈশ্বরের উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করতে পারেন। একইভাবে, যারা জল ও আত্মার সুসমাচার জানেন এবং এতে বিশ্বাস করেন, তারাই অন্যদেরকে প্রকৃতভাবে ভালবাসতে পারেন। ঈশ্বরের মন্ডলীর যে এখনও অস্তিত্ব রয়েছে, এ নিয়ে আপনি কি মনে করেন? আমি আপনাদেরকে বলতে পারি যে, পাপীদের কাছে জল ও আত্মার সুসমাচার ছড়িয়ে দিতে এখনো ঈশ্বরের মন্ডলীর অস্তিত্ব রয়েছে। 
আমরা যখন বাইবেলে প্রকাশিত নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার সত্যে সর্বান্তঃকরণে বিশ্বাস করব, আমাদের সমস্ত পাপ থেকে আমরা রক্ষা পাব এবং নিষ্কলঙ্ক হতে পারব। জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মাধ্যমে, আমাদের হৃদয়ে আমরা সত্যিকারের শান্তি খুঁজে পেতে পারি, এবং যেহেতু আমরা শান্তিতে বাস করি, তাই ঈশ্বরের কাছ থেকে আমরা কখনো বিচ্ছিন্ন হতে পারি না। আমরা প্রকৃত সুসমাচারে বিশ্বাস করি, বিশ্বাস সহকারে জীবন যাপন করি, এবং এরপরে আমরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করব এবং সেখানে বসবাস করব। যীশু আমাকে এবং এই পৃথিবীর সমস্ত লোককে শান্তিতে ঈশ্বরের পথে পরিচালিত করে, প্রধান যাজকের পাগড়ির সামনের দিকের সোনার পাতে যেমন খোদাই করা ছিল, “ঈশ্বরের উদ্দেশে পবিত্র”, তেমনি পাপ ক্ষমার সত্যের আলো দ্বারা তিনি তাদেরকে আলোকিত করেছেন। ঈশ্বর সেই কাজগুলির জন্য আমাদেরকে নিযুক্ত করেছেন। যেগুলি তাদের পাপ থেকে তাদেরকে পাপের ক্ষমা পেতেও সক্ষম করেছে। আমাদের মধ্যে যারা নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, ঈশ্বর তাদেরকে পুরাতন নিয়মের যাজকদের দায়িত্ব-কর্তব্যগুলির মতো একই দায়িত্বে নিযুক্ত করেছেন। 
ঈশ্বর তাঁর সত্যের আলোয় আমাদেরকে এধরণের মূল্যবান কাজে সমর্থন করার জন্য, আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি যখন ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রথমবার তাঁর বাক্য শুনেছিলাম, তখন আমি আনন্দে অভিভূত হয়েছিলাম। আর যখন আমি বাইবেল পড়লাম, তখন এই সুসমাচার আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে পড়ল। তখনই আমার আত্মিক চোখ খুলেছিল, এবং আমাতে অবস্থানকারী পবিত্র আত্মা আমাকে ঈশ্বরের বাক্য সম্পূর্ণভাবে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এরপরে আমি জানতে শুরু করলাম যে, বাইবেলের বাক্যগুলি স্পষ্টভাবে এই সাক্ষ্য বহন করে যে, জল ও আত্মার সুসমাচারই হচ্ছে সত্য সুসমাচার যা ঈশ্বর আমাদেরকে দিয়েছেন। পুরাতন নিয়মের যুগে, নীল, বেগুনে এবং লাল সূতা হিসেবে এই সুসমাচার প্রকাশিত হয়েছিল। আর নতুন নিয়মের যুগেও, প্রত্যেক প্রেরিত এবং বইবেল লেখকেরা আমাদেরকে বলেছেন যে, আমাদেরকে সমস্ত পাপ থেকে সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করার জন্য যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর রক্ত সেচন করেছিলেন। আমাদের পক্ষে পরিত্রাণের পোশাক পরিধান করার জন্য, আমাদেরকে অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করতে হবে; কারণ আমাদের অনুতাপের প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে পাপের ক্ষমা পেতে পারি না। কেবলমাত্র জল ও আত্মার সুসমাচারই হচ্ছে প্রকৃত এবং সত্য সুসমাচার। 
প্রধান যাজককে সেই পোশাকগুলি পরিধান করতে হতো, যেগুলি সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের আদেশানুসারে তৈরি ছিল। প্রধান যাজক যদি ঠান্ডাতে অতিষ্ট হয়ে এটা চিন্তা করতেন যে, ঈশ্বর তার জন্য যে পোশাক প্রস্তুত করেছেন, সেটা তার পরিধান করার কোন প্রয়োজন নেই, এবং সেই পোশাকের পরিবর্তে স্বেচ্ছাচারী হয়ে যদি অন্য কোন পোশাক পরিধান করতেন, তাহলে, তাকে অবিলম্বে মৃত্যুবরণ করতে হতো। প্রধান যাজক যদি নীল, বেগুনে, লাল এবং সাদা মসীনা সূতা দিয়ে তৈরি পোশাকটা শুধুমাত্র পরিধান করে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতেন, তাহলেও তাকে মৃত্যুবরণ করতে হতো। তাকে এর পাশাপাশি নীল গাউন এবং নীল, বেগুনে এবং লাল সূতা দিয়ে তৈরি এফোদটিও পরিধান করতে হতো। 
আমরা যখন ঈশ্বরের পরিকল্পিত পথকে প্রকৃতভাবে অনুসরণ করি, তখন ঈশ্বর আমাদের অগ্রে অগ্রে যান, আমাদেরকে পরিচালনা করেন এবং আমাদের জীবনের সবকিছুতে কাজ করেন। ঈশ্বর আমাদের মাঝে মসীহকে পাঠাতে সংকল্প করেছিলেন এবং আমাদের মাঝে তিনি এটা প্রকাশও করেছেন। আমরা যদি জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করি এবং ঈশ্বরের সঙ্কল্পকে অনুসরণ করি, তাহলে তিনি আমাদের জীবনে কাজ করবেন। আর এজন্যই কোন কাজকর্মের দ্বারা আমরা পাপের ক্ষমা পেতে পারি না, কিন্তু প্রধান যাজকের পোশাকে ব্যবহৃত সোনালী, নীল, বেগুনে এবং লাল মসীনা সূতায় প্রকাশিত ঈশ্বরের পরিত্রাণের সংকল্পে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা অবশ্যই আমাদের পাপের ক্ষমা পেতে পারি। 
ঈশ্বরের যাজক, আমাদেরকে অবশ্যই যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে, ঈশ্বর আমাদের জন্য যা সঙ্কল্প করেছেন, সেটাতে বিশ্বাস করা এবং তা অনুসরণ করা। আর এটাই হচ্ছে প্রকৃত বিশ্বাস। আমাদের নিজেদের জন্য ভালো ভালো পরিকল্পনা করে ঈশ্বরের সেবা করাই ঈশ্বরের প্রকৃত বিশ্বাস না। যখন সারা পৃথিবীতে জল ও আত্মার সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের উপরে পড়ে, তখন এটাও আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা এবং সঙ্কল্পের দ্বারা বিশেষ কোন কিছু করার মাধ্যমে অর্জিত হয় না, কিন্তু এটা তাঁর সাহায্যের দ্বারাই অর্জিত হয় যা তাঁর লোকদেরকে তাদের বিশ্বাসের মাধ্যমে দত্ত হয়। আর এটা ঈশ্বরের ইচ্ছা। আমরা যখন বিশ্বাস সহকারে কোন কিছু করি, তখন এর বাকি কাজগুলো ঈশ্বর সাধন করেন। আমরা যখন ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পর্কে জানি এবং জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করি, তখন যারা আমাদের বইগুলো পড়ে, তাদেরকে জাগিয়ে তোলে, তাদেরকে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করতে সাহায্য করে, এবং তারা যেন বিশ্বাস করতে পারে এজন্য তাদের দোষ-ত্রুটিগুলো সংশোধন করে, ঈশ্বর তাদের হৃদয়গুলো স্পর্শ করেন এবং এর পরিবর্তে, তারা জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচারের কাজে এগিয়ে আসে। 
 
 
জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতে হলে, আমাদেরকে প্রথমে সর্বান্তঃকরণে এটাতে বিশ্বাস করতে হবে 
 
আমি বলেছি যে, সত্য সুসমাচার প্রচারের দায়িত্বটা কোনভাবে কিছু করে আমাদের দ্বারা অর্জিত হয় না, কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে মিলিতভাবে বিশ্বাস সহকারে আমরা যখন এটার ভক্তি করি, তখনই এটা অর্জিত হয়। আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টা কিংবা সাধনা দ্বারা আত্মাগুলো পরিবর্তিত হয় না, কিন্তু জল ও আত্মার সুসমাচার এবং ঈশ্বরের কাজগুলিতে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা যখন তাঁর ইচ্ছার অন্বেষণ করি, কেবলমাত্র তখনই ঈশ্বরের সঙ্কল্প সিদ্ধ হয়। আর এই বিশ্বাসের দ্বারাই আমাদেরকে অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচারের সেবা করা উচিত। এমনকি এই বর্তমান যুগেও, পুরাতন নিয়মের যুগের বিশ্বাসের মতো, আমাদেরও একই বিশ্বাস প্রয়োজন। তাছাড়া, এখন এই যুগে, ঈশ্বরের সন্তানদেরকে অবশ্যই নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার বিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে হবে। 
আমাদেরকে অবশ্যই লাল এবং বেগুনে সূতাতে বিশ্বাস করতে হবে এবং এটি ছড়িয়ে দিতে হবে, কিন্তু আমাদেরকে প্রথমে অবশ্যই জানতে হবে যে, নীল সূতাতে কি উল্লেখ করা হয়েছে- আর সেটা হচ্ছে বাপ্তিস্ম, যা যীশু মশীহ্ গ্রহণ করেছিলেন। আমরা যখন হারিয়ে যাওয়া আত্মাগুলির কাছে নীল সূতার সত্য ছড়িয়ে দিই, তখন আমরা দেখতে পাই যে, তারা খুব সহজে সত্যের সম্পূর্ণ চিত্র বুঝতে পারে এবং সাহসীভাবে এতে বিশ্বাস করতে পারে। কিন্তু কেন? কারণ, যীশু মশীহ্ বাপ্তাইজিত হয়ে সমগ্র মানবজাতির সমস্ত পাপ তাঁর দেহে তুলে নিয়েছিলেন। যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করার মাধ্যমে লোকেরা যখন জানতে পারে যে, যীশু তাদের সমস্ত পাপ ধুয়ে দিয়েছেন, তখন তারা অনিবার্যভাবে স্বীকার করে যে, তাদের পাপের মূল্য পরিশোধ করতে তিনি ক্রুশেও মৃত্যুবরণ করেছিলেন। অন্যদিকে, লোকেরা যখন বাপ্তিস্মের নিগূঢ়তত্ত্ব জানতে পারে এবং এতে বিশ্বাস করে, যা নীল সূতার মূল বিষয়বস্তু, যীশু মশীহ্, যোহন বাপ্তাইজকের কাছ থেকে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, তখন তারা লাল এবং বেগুনে সূতাতে বিশ্বাস করতে শুরু করে। তারা সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে শুরু করে যে, “হায়, তিনি বাপ্তাইজিত হয়ে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন। যীশু খ্রীষ্টই সমগ্র মানবজাতির সত্য ঈশ্বর এবং ত্রাণকর্তা। আর এটাই প্রকৃত সত্য।” 
অনেক লোকই খুব পরে বেগুনে সূতার বিশ্বাস উপলব্ধি করতে পারে যে, যীশুই স্বয়ং ঈশ্বর। যখন থেকে আমরা যীশুকে আমাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, তখন থেকেই আমরা স্বীকার করেছি যে, “যীশুই প্রকৃত ঈশ্বর,” এটা শুধুমাত্র একটি জটিল ধারণা ছিল। আর আমাদের হৃদয়ে দৃঢ় বিশ্বাস থাকার মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছিল। আমরা যখন যীশুর রক্ত এবং বাপ্তিস্মে বিশ্বাসের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা গ্রহণ করি, তখন আমাদের মধ্যে এধরণের বিশ্বাস জন্মাতে থাকে যে, যীশুই স্বয়ং ঈশ্বর, জীবন্ত একজন যিনি আমাদেরকে সাহায্য করেন এবং আমাদের জীবনের কাজ করেন, আর এভাবেই যীশুকে আমাদের বিশ্বাস ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। অতএব, লোকদের পক্ষে পাপের ক্ষমা পেতে, তাদেরকে ঈশ্বর কর্তৃক স্থাপিত নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার সুসমাচারে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। 
 
 
আজকের যাজকদেরকে কিসের সেবা করা উচিত? 
 
পবিত্র স্থানে প্রধান যাজকেরা কি করতেন? বলি উৎসর্গের নিয়ম দ্বারা তারা কি প্রকাশ করতেন? তারা এই সত্য প্রকাশ করতেন যে, নীল, বেগুনে এবং লাল সূতা দ্বারা মশীহ্ আমাদের সমস্ত পাপ মোচন করবেন। এই যুগেও, ঈশ্বরের দাসদেরকে এই ধরণের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতে হবে। তারা জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে লোকদের পাপগুলো দূর করছেন। 
অগণিত লোক তাদের নিজেদের রচিত সুসমাচার ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করে। এধরণের সুসমাচারে বাইবেলের অন্তর্গত কোন বাক্যও থাকে না এবং কাউকে রক্ষাও করতে পারে না। তারা যেখান সেখান থেকে মানুষের তৈরি ধর্মীয় উপদেশগুলো সংগ্রহ করে, সেগুলিকে জোড়া তালি দিলে দক্ষ থাকে। কিন্তু, জল ও আত্মার সুসমাচার এমন কিছু নয়, যেটি বিভিন্ন খ্রীষ্টিয়ানের উপদেশগুলোর ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। 
জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মাধ্যমে লোকেরা নিঃসন্দেহে পাপের ক্ষমা পেতে পারে। অন্যদিকে, ঈশ্বরে বাক্য হচ্ছে পরিত্রাণের একমাত্র দলিল। ঈশ্বর কর্তৃক স্থাপিত নির্ধারক বিধির মাধ্যমেই কেবলমাত্র লোকদের পাপ ধৌত করার দায়িত্ব অর্জিত হয়। আর এই নির্ধারক মানদন্ড হচ্ছে জল ও আত্মার সুসমাচার। পরিত্রাণের সত্য সুসমাচার ব্যতিরেকে কেউ তার পাপ থেকে পাপ থেকে রক্ষা পেতে পারে না এবং পবিত্রতা গ্রহণ করতে পারে না। কেবলমাত্র যীশু, যিনি যর্দ্দন নদীতে বাপ্তিস্ম এবং আমাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে ক্রুশীয় রক্তের মাধ্যমে এসেছেন, তাঁকে বিশ্বাস করার মাধ্যমে ঈশ্বরের সম্মুখে সমস্ত পাপ ধৌত হওয়া এবং পবিত্রতা গ্রহণ করা সম্ভব। লোকদের পক্ষে তাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, তাদেরকে যীশু খ্রীষ্টেতে বিশ্বাস করতে হবে, যিনি নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে আমাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে এসেছেন। তাছাড়া, পারে ক্ষমা পেতে তাদের জন্য আর অন্য কোন উপায় নেই। 
অতএব, ঈশ্বরের দাস যারা তাঁর যাজক হয়েছেন, তাদেরকে প্রধান যাজকের পোশাকগুলিতে ব্যবহৃত সোনালী, বেগুনে, নীল এবং লাল সূতা দ্বারা গঠিত প্রকৃত সুসমাচারে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। আর তারা যদি এই সত্যে বিশ্বাস না করেন, তাহলে তারা তাঁর দাস হিসেবে যোগ্য হবেন না। তারা কেবলমাত্র এই জগতের ধর্মবিদ। এই পৃথিবীর অগণিত ধর্মগুলির মধ্যে তারা শুধুমাত্র যীশুর নাম বহন করে, নিজেদের ধর্মগুলো পালন করে। ঈশ্বরের প্রকৃত দাসদের অবশ্যই এই বিশ্বাস থাকতে হবে, যেটি যীশু খ্রীষ্টেতে বিশ্বাস করে, যিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে জল ও আত্মা, এবং রক্তের মাধ্যমে এসেছেন। যাহোক, তাদের বিশ্বাস সঠিকভাবে প্রকাশ করতে এবং সুস্পষ্টভাবে ঈশ্বরের সত্যের আলো জ্বালাতে তাদেরকে তাঁর বাপ্তিস্মের সাক্ষ্য বহন করতে হবে। শুধুমাত্র যারা এরকম করে, তারাই ঈশ্বরের দাস এবং তারা ঈশ্বরের সম্মুখে রক্ষা পেয়েছে। 
যারা যীশুর বাপ্তিস্ম, তাঁর ক্রুশ, কিংবা যীশুই যে স্বয়ং ঈশ্বর, এই বিষয়টিকে গণনার অন্তর্ভূক্ত করে না, এবং এগুলিকে কোন তাত্ত্বিক বিষয় হিসেবে ভেবে বিশ্বাস ব্যতিরেকে এধরণের জ্ঞান প্রচার করে, তারা হচ্ছে শয়তানের দাস, যাদের সাথে ঈশ্বরের কোন সম্পর্ক নেই। 
বর্তমানে, এই পৃথিবীতে অগণিত “তথা-কথিত প্রচারক” রয়েছেন। তারা দাবি করেন যে, যারা যীশুতে বিশ্বাস করে, তারা বিশ্বাস দ্বারা তাদের সমস্ত পাপ থেকে ধৌত হতে পারে, এবং এভাবে নিঙ্কলঙ্ক হতে পারে। প্রথম দিকে আমি ভেবেছিলাম যে, তারাও হয়তো নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার সত্য প্রচার করছে, কিন্তু সময়ানুক্রমে আমি উপলব্ধি করতে পারি যে, বিষয়টা আসলে তেমন নয়। তারা জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করছে না, তারা এটা মনে করত এবং বিশ্বাস করত যে, তাদের নিজেদের চিন্তা-ভাবনা দ্বারা তৈরি শিক্ষাই সত্য সুসমাচার। যদিও তারা নিজেদেরকে “ধর্মপ্রচারক” বলে ভাবে, তারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ এবং জাগতিক উন্নতির জন্য অনুধাবন করে, যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেদের কামনা-বাসনাগুলো পূর্ণ করা। 
এই পৃথিবীতে এমনকি এখনো তথা-কথিত ধর্মপ্রচারক রয়েছে। কিন্তু তারা সত্য সুসমাচার গ্রহণ করতে কেন অস্বীকার করে, যেটি তাদেরকে প্রকৃতভাবে পবিত্র হতে সক্ষম করে? এই পৃথিবী সম্পকে তাদের জ্ঞান নিয়ে মৌলবাদীরা গর্বিত। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে যে, এখনো অনেক লোকেরাই প্রকৃতভাবে রক্ষণশীল নয়। বাইবেলের বাক্য যখন স্পষ্টভাবে জল ও আত্মার সুসমাচার সম্পর্কে ব্যক্ত করে, তাহলে কেন তাদের বিশ্বাস থেকে তারা যীশুর বাপ্তিস্মকে গণনা থেকে বাদ দেয়? স্মরণ করুন যে, নাদব এবং অবীহূ যখন ঈশ্বরের সম্মুখে মারা গিয়েছিল। যখন এই দুইজন যাজক তাদের জন্য ঈশ্বর কর্তৃক স্থাপিত নিয়মানুসারে বলি উৎসর্গ করে নি, তখন ঈশ্বরের আগুন বের হয়ে তাদেরকে পুড়িয়ে মেরেছিল (গণনাপুস্তক ২৬:৬১)। 
প্রধান যাজক যদি ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত তার পোশাক-পরিচ্ছদও না পরতেন, তাহলে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে (৪৩ পদ)। পাপীরা যে কত পরিশ্রম করে তাদের বলি প্রাণীর রক্ত সমাগম-তাম্বুতে আনতেন, সেটা কোন বিষয় নয়, কিন্তু তারা যদি বলি প্রাণীর মাথায় হস্তার্পণ না করত, এতে কোন লাভ হতো না। যে বিশ্বাস হস্তার্পণে বিশ্বাস করে, যার মাধ্যমে তারা তাদের সমস্ত দোষ-ত্রুটি স্বীকার করে তাদের বলি উপহারে অর্পণ করেছে, সেই বিশ্বাস ব্যতিরেকে, তারা যত বেশী এর রক্তে বিশ্বাস করেছে, তার থেকেও তাদের বিশ্বাস বৃথা। প্রধান যাজকেরা যে বারবার রক্ত বহন করেন, আবরণটা তোলেন, পবিত্র স্থানে প্রবেশ করেন, এবং রক্তটি এর অনুগ্রহ সিংহাসনে ছিটিয়ে দেন, সেটা কোন বিষয় নয়, কিন্তু তারা যদি ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত “নীল” পরিচ্ছদ পরিধান না করে ভেতরে প্রবেশ করেন, তাহলে তাদেরকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। যাহোক, প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের বিশ্বাসের পুরাতন পদ্ধতি ত্যাগ করে অবশ্যই সত্য সুসমাচারের প্রতি ফিরতে হবে, যেটি তাদেরকে “দীপ্তি এবং সিদ্ধতা”য় পরিচালিত করতে পারে, যেটি হচ্ছে “ঊরীম এবং তাম্মীম” (যাত্রাপুস্তক ২৮:৩০)। 
ঈশ্বর তাদের উপরে সন্তুষ্ট হন, যারা দূর্বল হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বাক্য এবং তাঁর ইচ্ছাতে বিশ্বাস করে এবং এটি অনুসরণ করে। আর এজন্যই, আমরা যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করি, ঈশ্বর আমাদেরকে আহ্বান করেছেন। আবার, জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা ঈশ্বর আমাদেরকে নিযুক্ত করেছেন। আমরা যখন সকলে মিলে একত্র হই এবং বিশ্বাস সহকারে সুসমাচার প্রচার করি, তখন প্রতিনিয়ত আশ্চর্য কাজ করতে ঈশ্বর আমাদেরকে সাহায্য করেন। 
আমরা বিশ্বাস করি যে, খুব শীঘ্রই ঈশ্বরের সঙ্কল্পগুলো সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ হবে। সত্যিকার অর্থে, ঈশ্বরের সম্মুখে আমরা প্রকৃতভাবে সুখী। এই রক্ত মাংসের শরীরে, আমাদের অনেক দোষ-ত্রুটি রয়েছে। আমি মনে করি, আমিই সবার চেয়ে খারাপ। আমি যদি আপনার কাছে আমার সবকিছু সরলভাবে স্বীকার করি, আমার মানবিক দিকগুলোতে অসংখ্য দোষ-ত্রুটির কারণে, আমার মুখমন্ডল লজ্জাতে লাল হয়ে যাবে। আমার দূর্বলতাগুলো জাগতিক নয়। সময় যতই গড়িয়ে যায়, আমি আরো বেশি সুসমাচারের সেবা করি, আমি আরো বেশী করে উপলব্ধি করি যে, ঈশ্বরের সম্মুখে আমি কত দূর্বল। আর আমাদের সহ-কার্যকারীদের দিকে তাকিয়ে আমি দেখতে পাই যে, তারাও আমার মতই দূর্বল, কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ থেকে আমরা প্রত্যেকেই এখনো সুসমাচারের সেবা করি। ঈশ্বর আমাদেরকে বিশ্বাস করিয়েছেন যে, তিনি আমাদের মধ্যে কাজ করেন, যেন ঈশ্বরের সুসমাচার এবং তাঁর পরিকল্পনাতে বিশ্বাসের দ্বারা আমরা তাঁর সেবা করতে পারি এবং তাঁকে অনুসরণ করতে পারি। 
আমরা যারা দূর্বল, ঈশ্বর আমাদের দ্বারা গৌরবান্বিত হন। আমরা যত বেশী দূর্বল, জল ও আত্মার সুসমাচার তত বেশী করে আমাদের হৃদয় আলোকিত করেন-আর এভাবেই ঈশ্বর গৌরবান্বিত হন। আমরা যখন নিজেদেরকে নির্দোষ বলে দাবি করি এবং আরো গর্বিত হই, ঈশ্বর তখন অস্বস্তি বোধ করেন। আর এটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা, যিনি আমাদের মত দূর্বলদের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে চান। 
আমি এবং আপনি খুব দূর্বল। আমরা আসলে কতটা দূর্বল? একেবারে বর্ণনাতীত! যাহোক, তেমনি প্রত্যেকে তার দূর্বলতাগুলোকে ভিন্নভাবে অনুভব করে, (নদী কিংবা সাগরের গভীরতা থেকে ওয়াশ-বেসিনের গভীরতা যেমন ভিন্ন)। যারা সত্যিকার অর্থে জানে যে, তারা অপরিমেয়ভাবে দূর্বল, ঈশ্বরকে তারা বেশি ভালবাসে, কারণ তারা জানে যে, ঈশ্বরের কাছে তারা বিশালভাবে ঋণী। যারা তাদের দূর্বলতা সম্পর্কে সচেতন এবং বিশ্বাস করে যে, তাদের বিশাল ঋণ গণনা করা হয় নি, ঈশ্বরকে আরো বেশি করে ভালোবাসতে তারা বাধ্য। আর এজন্যই, ঈশ্বরের সুসমাচার নিয়ে গর্ব করে এবং এটা অনুসরণ করা সত্ত্বেও, তারা ঈশ্বরের সুসমাচার ধারণ করে। কিন্তু যারা নিজেদের দূর্বলতাগুলো সম্পর্কে জানেই না, তারা ঈশ্বরকে অল্প ভালবাসে, কারণ তারা চিন্তা করে যে, তারা শধুমাত্র তাদের ছোট ঋণ থেকে রক্ষা পেয়েছে, এবং তাদের অল্প ঋণ গণনা না করার পরিবর্তে ঈশ্বর তাদের কাছ থেকে আরো বেশি প্রত্যাশা করেন। 
যে সকল লোকেরা তাদের দূর্বলতা সম্পর্কে খুব কম জানে। তারা কিভাবে উপলব্ধি করতে পারে যে, প্রকৃতপক্ষে তাদের দূর্বলতাগুলো কত বিশাল? এটা তাদের উপরে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু, এটাকে ঈশ্বরের ইচ্ছা হিসেবে বিশ্বাস করে, যেহেতু তারা সুসমাচারের সেবা করে, অতএব দূর্বল হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে এটার সেবা করা উচিত, ফলে সময়ানুক্রমে তাদের দোষ-ত্রুটিগুলো প্রকাশিত হবে, এবং সেগুলি যত প্রকাশ পাবে, ঈশ্বরের প্রতি তাদের ভালোবাসা আরো গভীর হবে। 
শুধুমাত্র ধর্মতাত্বিকভাবে আমাদের দূর্বলতাগুলো জেনে আমাদের কোন কাজে আসবে না। প্রকৃতভাবে সুসমাচারের সেবা করার সময়ে আমরা যখন কঠিন সময়ের সম্মুখীন হব, তখনই আমাদের দূর্বলতাগুলো আমরা বুঝতে পারব। আর একারণেই, আমরা যত বেশী ঈশ্বরের সেবা করি, তিনি আমাদের কাছে তত মূল্যবান হয়ে উঠেন। ঈশ্বরের দ্বারাই আমরা সাহসী এবং গৌরবান্বিত হতে পারি। ঈশ্বরের দ্বারা আমরা বিশ্বাসে জীবন যাপন করতে পারি এবং আশীর্বাদপূর্ণ কাজগুলিতে নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে পারি। ঈশ্বর ব্যতিরেকে, আমি এবং আপনি কিছুই নই। 
যোহন বাপ্তাইজক বলেছেন, “উঁহাকে বৃদ্ধি পাইতে হইবে, কিন্তু আমাকে হ্রাস পাইতে হইবে” (যোহন ৩:৩০)। ঈশ্বর আমাদেরকে পাপের ক্ষমা এবং সুসমাচারের সেবা করায় আশীর্বাদপূর্ণ সুযোগ দিয়েছেন। সুসমাচার প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় আমাদের অস্তিত্ব, এবং ঈশ্বরই হচ্ছেন প্রশংসা পাওয়ার একমাত্র ব্যক্তি। আর ঈশ্বর যে আমাদেরকে এধরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন, এজন্য আমাদেরকে চরমভাবে তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। 
প্রধান যাজকের দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে আমাদেরকে এই আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য আমরা ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ হই। ঈশ্বর আমাদের স্বর্গীয় প্রধান যাজক এবং মহৎ মেষপালক। আর তাঁর দাসেরা হলেন ক্ষুদ্র মেষপালক। আমি ও আপনারা ক্ষুদ্র মেষপালক হয়েছি, যারা ঈশ্বর আমাদের জন্য যা করেছেন, সেটা অনুসরণ করে। আমাকে এবং আপনাদেরকে অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্যে প্রকৃতভাবে বিশ্বাস করতে হবে, বাক্য অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং যেভাবে এটা লেখা আছে ঠিক সেভাবে অনুসরণ করতে হবে। ঈশ্বর যা করেছেন, আমাদেরকে অবশ্যই সেগুলির সেবা করতে হবে। ঈশ্বর যা করেছেন, আমাদেরকে অবশ্যই সেগুলি প্রকৃতভাবে অনুসরণ করতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে এবং তাঁকে সে অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে। যে কাজটা আমাদেরকে অবশ্যই করতে হবে তা হচ্ছে, তিনি আমাদেরকে যেভাবে আদেশ করেছেন এবং আমাদের জন্য যে সকল সঙ্কল্প করেছেন, সেগুলিতে বিশ্বাস করতে হবে এবং সেগুলি অনুসরণ করতে হবে, এবং জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতে হবে। সঠিকভাবে ঈশ্বরে বাক্য গ্রহণ করা এবং জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা এটি প্রচার করাই ঈশ্বরের সম্মুখে প্রকৃত বিশ্বাস। 
আমাদের হৃদয়ের সকল ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আমাদের ঈশ্বরকে দিই, যিনি আমাদের প্রধান যাজক হয়েছেন।